কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
অসিত-পক্ষের শশী যেন দিনে দেখি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ মাথুর বিরহ ]
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি  ;---
॥ সিন্ধুড়া॥

অসিত-পক্ষের শশী যেন দিনে দেখি।
শ্রাবণের ধারা যেন ঝরে দুই আঁখি॥
ধরণী শয়নে অঙ্গ ধূলায় ধূসর।
উঠিতে বসিতে নারে কাঁপে কলেবর॥
কোকিলের গান যেন কুলিশ সমান।
জৈমিনি জৈমিনি বলি মুন্দে দু নয়ান॥
ফুকরি কান্দিতে তার নাহিক শকতি।
তোমা বিনে জীবন-সংশয় রসবতী॥
বলরাম বলে যদি দেখিবে রাধারে।
অবিলম্বে আগুসার কর ব্রজ-পুরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ সিন্ধুড়া॥

অসিত পক্ষের শশী যেন দিনে দেখি।
শ্রাবণের ধারা যেন ঝরে দুই আঁখি ॥
ধরণী শয়নে অঙ্গ ধূলায় ধূসর।
উঠিতে বসিতে নারে কাঁপে কলেবর॥
কোকিলের গান যেন কুলিশ সমান।
জৈমিনি জৈমিনি বলি মুন্দে দুনয়ান॥
ফুকরি কান্দিতে তার নাহিক শকতি।
তোমা বিনে জীবন সংশয় রসবতী॥
বলরাম বলে যদি দেখিবে রাধারে।
অবিলম্বে ব্রজপুরে কর আগুসারে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

অসিত-পক্ষের শশী যেন দিনে দেখি।
শ্রাবণের ধারা যেন ঝরে দুই আঁখি ॥
ধরণী শয়নে অঙ্গ ধূলায় ধূসর।
উঠিতে বসিতে নারে কাঁপে কলেবর॥
কোকিলের গান যেন কুলিশ সমান।
জৈমিনি জৈমিনি বলি মুন্দে দু-নয়ান॥
ফুকরি কান্দিতে তার নাহিক শকতি।
তোমা বিনে জীবন-সংশয় রসবতী॥
বলরাম বলে যদি দেখিবে রাধারে।
অবিলম্বে আগুসার কর ব্রজ-পুরে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাহার লাগিঞা হাম সব তেয়াগিল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৭৭১ সালে দীনবন্ধু দাস দ্বারা সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ
বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৫৮-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যাহার লাগিঞা হাম সব তেয়াগিল।
সে যদি নিঠুর হঞা মথুরা রহিল॥
মরিব মরিব সখি নিশ্চত্র মরিব।
কাহ্ন হেন গুণনিধি কারে দিঞা যাব॥
পুন যদি চান্দমুখ দেখিতে না পাব।
বিরহ আনল জালি তনু তেয়াগিব॥
কহে বলরাম দাস বিরমহ রাই।
চান্দমুখ না দেখিলে মরিব সভাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিঞা হাম সব তেয়াগিল।
সে যদি নিঠুর হঞা মথুরা রহিল॥
মরিব মরিব সখি নিশ্চয় মরিব।
কানু হেন গুণনিধি কারে দিঞা যাব॥
পুন যদি চান্দমুখ দেখিতে না পাব।
বিরহ আনল জালি তনু তেয়াগিব॥
কহে বলরাম দাস বিরমহ রাই।
চান্দমুখ না দেখিলে মরিব সভাই॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

যাহার লাগিঞা হাম সব তেয়াগিল।
সে যদি নিঠুর হঞা মথুরা রহিল॥
মরিব মরিব সখি নিশ্চত্র মরিব।
কাহ্ন হেন গুণনিধি কারে দিঞা যাব॥
পুন যদি চান্দমুখ দেখিতে না পাব ।
বিরহ আনল জালি তনু তেয়াগিব॥
কহে বলরাম দাস বিরমহ রাই।
চান্দমুখ না দেখিলে মরিব সভাই॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ নব-যৌবন নব নব প্রেম
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  

[ শ্রীরাধা-কৃষ্ণের কুঞ্জে মিলন ]-

॥ শ্রীরাগ॥

দুহুঁ নব-যৌবন নব নব প্রেম।
সজল জলদ কানু রাই কাঁচা হেম॥
দুহুঁ মুখ হেরইতে দোহারি আনন্দ।
কানু মুখ পঙ্কজ রাই মুখ চন্দ॥
কত রস আমোদে নব নব রঙ্গ।
ঢল ঢল লোচন পুলকল অঙ্গ॥
মন্দ পবন বহে রসময় কুঞ্জ।
কুসুমিত কাননে মধুকর গুঞ্জ॥
কত সুখ কেলি-কলপ-তরু-মূল।
রতন-সিংহাসনে কালিন্দি-কূল॥
চৌদিগে রঙ্গিণি সঙ্গিনি ধায়।
বলরাম দাস হেরি আনন্দে গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পূর্ব্বরাগের পর মিলন
॥ শ্রীরাগ॥

দুহুঁ নবযৌবন নব নব প্রেম।
সজল জলদ কানু রাই কাঁচা হেম॥
দুহুঁ মুখ হেরইতে দোহাঁরি আনন্দ।
কানুমুখ পঙ্কজ রাইমুখ চন্দ॥
কত রস আমোদে নব নব রঙ্গ।
ঢল ঢল লোচন পুলকল অঙ্গ॥
মন্দ পবন বহে রসময় কুঞ্জ।
কুসুমিত কাননে মধুকর গুঞ্জ॥
কত সুখ কেলিকলপ তরুমূল।
রতন সিংহাসনে কালিন্দিকূল॥
চৌদিগে রঙ্গিণি সঙ্গিনি ধায়।
বলরাম দাস হেরি আনন্দে গায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

দুহুঁ নব-যৌবন নব নব প্রেম।
সজল-জলদ কানু রাই কাঁচা হেম॥
দুহুঁ-মুখ হেরইতে দোহারি আনন্দ।
কানু-মুখ পঙ্কজ রাই-মুখ চন্দ॥
কত রস-আমোদে নব নব রঙ্গ।
ঢল ঢল লোচন পুলকল অঙ্গ॥
মন্দ পবন বহে রসময় কুঞ্জ।
কুসুমিত কাননে মধুকর গুঞ্জ॥
কত সুখ কেলি-কলপ-তরু-মূল।
রতন সিংহাসনে কালিন্দি-কূল॥
চৌদিগে রঙ্গিণি সঙ্গিনি ধায়।
বলরাম দাস হেরি আনন্দে গায়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নানা প্রকারে প্রভু মায়েরে বুঝায়
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ধানশী॥

নানা প্রকারে প্রভু মায়েরে বুঝায়।
অদ্বৈত ঘরণি সীতা শচীরে বৈসায়॥
শান্তিপুর ভরিয়া উঠিল জয়ধ্বনি।
অদ্বৈত আঙ্গিনায় নাচে গৌর গুণমণি॥
প্রেমে টলমল প্রভু স্থির নাহি চিতে।
নিতাই নাচিয়া ফিরে শ্রীচৈতন্য ভিতে॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফেরে কাছে কাছে।
আছাড় খাইয়া প্রভু ভূমে পড়ে পাছে॥
চতুর্দ্দিকে ভক্তগণ বোলে হরি হরি।
শান্তিপুর হইলা যেন নবদ্বীপপুরি॥
পুত্রের সন্ন্যাসী বেশ দেখি শচীমায়।
নয়নের জলে কিবা হিয়া ভাসি যায়॥
বুঝিয়া শচীর মন অবধূত রায়।
সংকীর্ত্তন সমাপিয়া প্রভুরে বৈসায়॥
এইরূপে দশদিন অদ্বৈতের ঘরে।
বিলাস ভোজন প্রভু আনন্দ অন্তরে॥
বলরাম দাস কহে কাতর হইয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দেই ছাড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নানা প্রকারে প্রভু মায়েরে বুঝায়।
অদ্বৈত ঘরণি সীতা শচীরে বৈসায়॥
শান্তিপুর ভরিয়া উঠিল জয়ধ্বনি।
অদ্বৈত আগিনায় নাচে গৌর গুণমণি॥
প্রেমে টলমল প্রভু স্থির নহে চিত।
নিতাই ধরিয়া নাচে নিমাই পণ্ডিত॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফেরে কাছে কাছে।
আছাড় খাইয়া প্রভু ভূমে পড়ে পাছে॥
চতুদিকে ভকতগণ বোলে হরি হরি।
শান্তিপুর হইলা যেন নবদ্বীপ পুরি॥
প্রভু অদ্বৈত দুটি চন্দ্র জিনিঞা অভাষ।
ডোর কোপিন তাহে প্রেমের প্রকাশ॥
হেন রূপে বেশ দেখিয়া শচীমায়।
বাহিরে স্থিত অতি আনন্দ হৃদয়॥
বুঝিয়া শচীর মন অবধূত রায়।
সংকীর্ত্তন সমাপিয়া প্রভুরে বৈসায়॥
এইরূপে দশদিন অদ্বৈত ঘরে।
বিলাস ভোজন প্রভু আনন্দ অন্তরে॥
বলরাম দাস কহে কাতর হইয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দেই ছাড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটি তিনি সাহিত্যপরিষদের ৯৬৯সংখ্যক পুথিতে পেয়েছিলেন। এই পদটি
গৌরপদতরঙ্গিণীতে “বাসুদেব ঘোষ” ভণিতায় রয়েছে।

নানা প্রকারে প্রভু মায়েরে বুঝায়।
অদ্বৈতঘরণী সীতা শচীরে বৈসায়॥
শান্তিপুর ভরিয়া উঠিল জয়ধ্বনি।
অদ্বৈত অঙ্গনে নাচে গোরা গুণমণি॥
প্রেমে টলমল প্রভু স্থির নহে চিত।
নিতাই ধরিয়া নাচে নিমাঞি পণ্ডিত॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফেরে কাছে কাছে।
আছাড় খাইয়া প্রভু ভূমি পড়ে পাছে॥
চতুদিকে ভকতগণ বোলে হরি হরি।
শান্তিপুর হইলা যেন নবদ্বীপপুরী॥
প্রভু অঙ্গ কোটি চন্দ্র জিনিয়া আভাষ।
এ ডোর কৌপীন তাহে প্রেমের প্রকাশ॥
হেন ভাব রূপ বেশ দেখি শচীমায়।
বাহিরে দুখিত অতি আনন্দ হৃদয়॥
বুঝিয়া শচীর মন অবধৌত রায়।
সংকীর্ত্তন সমাপিয়া প্রভুরে বৈসায়॥
এইরূপে দিন দিন অদ্বৈতের ঘরে।
বিলাস ভোজন প্রভুর আনন্দ অন্তরে॥
বলরাম দাস কহে কাতর হইয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥

ব্যাখ্যা -
ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য এই পদটি এই ভণিতাতেই পাইয়াছেন ; গৌরপদতরঙ্গিণীতে ধৃত
ভণিতার কোন সঙ্গত অর্থ হয় না।
বাসুদেব ঘোষ কয় চরণে ধরিয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥
বাসুঘোষ প্রভুর চরণে ধরিয়া কখনো বলিতে পারেন না যে প্রভু অদ্বৈত এই আশা
করিতেছেন যে তোমাকে আর শান্তিপুর হইতে ছাড়িয়া দেওয়া হইবে না। এরূপ বলার
মানে হয়, প্রভু তুমি শীঘ্র চলিয়া যাও। এ ধরণের উক্তি অন্ততঃ শচীমাতার মুখ চাহিয়া
বাসুঘোষ করিতে পারেন না। এরূপ বলা শুধু নিষ্ঠুরতা নহে, অন্যান্য ভক্তদের প্রতি
বিশ্বাসঘাতকতা করা। দ্বিতীয় পদটির একাদশ চরণে শচীমাতা প্রভুর প্রধান প্রধান দাসের
মধ্যে বাসুর নাম করিয়াছেন ; ঐ বাসু সম্ভবতঃ বাসুদেব দত্ত নহেন। বাসু ঘোষ নিজে পদ
লিখিলে ঐভাবে নিজের সঙ্গে প্রভুর অন্তরঙ্গতার বিজ্ঞাপন দিতেন না। সুতরাং
সিদ্ধান্ত করা যাইতেছে যে পদ তিনটি বলরাম দাসেরই রচনা। তবে পরবর্ত্তীকালে কোন
কোন কীর্ত্তন-গায়ক ভাবিয়াছিলেন যে বলরাম তো গোবিন্দদাস কবিরাজের পরবর্ত্তী লোক,
তাঁহার পক্ষে এ লীলা দেখিয়া লেখা সম্ভব নহে ; আর বাসুঘোষের নিমাই-সন্ন্যাসের পালা
সুপ্রসিদ্ধ, অতএব তাঁহারা ভণিতা বদলাইয়া বাসুঘোষের নাম বলাইয়া দিয়াছেন।

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “করজোড় করি আগে
মায়ের চরণ যুগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ, “বল্লভ দাস” ভণিতায় এবং গৌরপদতরঙ্গিণীতে
বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় রয়েছে। এই পদটি “নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে” শিরোনামে একটি
স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও দেওয়া হোলো।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ শ্রীগান্ধার॥

নিতাই করিয়া আগে                    যায় শচী অনুরাগে
সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে।
মুড়াইয়া মাথার কেশ                ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥
নদিয়ার ভোগ ছাড়ি                   মায়েরে অনাথা করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
ইহার লাগিয়া কত                      পড়াইলাম ভাগবত
এ কথা কহিব কার পাশ॥
কর জোড় করি আগে                    মায়ের চরণ জুগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই হাত তুলি বুকে                       চুম্ব দিলা চাঁদমুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিয়া।
এ ডোর কৌপীন পরি                   কি লাগিয়া দণ্ডধারি
ঘরে ঘরে খাও ভিক্ষা মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়                   ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হইলা বৈরাগি॥
গোরা চান্দের বৈরাগে                    ধরণি বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরাম দাস                          গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
জগভরি রহল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৬১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ শ্রীগান্ধার॥

নিতাই করিয়া আগে                   যায় শচী অনুরাগে
সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে।
মুড়াইয়া মাথার কেশ              ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥
নদিয়ার ভোগ ছাড়ি                  মায়েরে অনথি করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
কর জোড় করি আগে                   মায়ের চরণ জুগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই হাত তুলি বুকে                    চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিয়া।
ইহার লাগিয়া কত                     পড়াইলাম ভাগবত
এ কথা কহিব আমি কায়॥
এ ডোর কপিনি পরি                কি লাগিয়া দণ্ডধারি
ঘরে ঘরে খাওয়ে মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়                  ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হইল্যা বৈরাগি॥
গোরা চান্দের বৈরাগে                   ধরণি বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরাম দাস                       গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
জগভরি রহল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি সাহিত্যপরিষদের
৯৬৯সংখ্যক পুথিতে পেয়েছিলেন। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “নিতাই করিয়া আগে যায়
শচী অনুরাগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ “বল্লভ দাস” ভণিতায় রয়েছে।


করজোর করি১ আগে                        মায়ের চরণ যুগে
পড়িলেন দণ্ডবত হৈঞা।
দুহাতে তুলি বুকে                        চুম্ব দিলা চান্দ মুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিঞা॥
ইহার লাগিয়া যত                        ২পড়াইনু ভাগবত
৩একথা কহিব আমি কায়।
৪হাপুতি করিয়া মোরে                 যাবে বাছা দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপিন পরি                     কি লাগিয়া দণ্ড ধরি
ঘরে ঘরে যাবে ভিক্ষা মাগি।
জীয়ন্তে থাকিতে মায়                      ইহা নাহি সহা যায়
কার বোলে হইলা বৈরাগি॥
গোরাচান্দের বৈরাগ্য                       ধরণী বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
৫কহে বলরামদাস                        গোরাচান্দের সন্ন্যাস
জগভরি রহিল ঘোষণা॥

পদকল্পতরু ও গৌরপদতরঙ্গিণীতে পাঠান্তর -
১ করজোড়ি অনুরাগে        দাঁড়াল মায়ের আগে, ২ পড়াইলাম, ৩ এ দুখ,
৪ অনাথিনী করি মোরে (অনাথিনী শব্দের অর্থ, যাহার নাথ নাই, সুতরাং ‘হাপুতি করিয়া মোরে’ পাঠই
ঠিক)


কহে বাসুদেব ঘোষে                        গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ ---গৌরপদতরঙ্গিণী
কহয়ে বল্লভদাস                            গোরাচাঁদের বৈরাগ
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥---পদকল্পতরু

দাসের সঙ্গে বৈরাগ শব্দের মিল হয় না, সুতরাং এই ভণিতা ভুল।
ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্যের সংস্করণে (৪) চিহ্নিত ত্রিপদী নাই।
---বিমান বিহারী মজুমদার, “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
করজোড় করি আগে মায়ের চরণ যুগে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি সাহিত্যপরিষদের
৯৬৯সংখ্যক পুথিতে পেয়েছিলেন। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “নিতাই করিয়া আগে যায়
শচী অনুরাগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ, “বল্লভ দাস” ভণিতায় এবং গৌরপদতরঙ্গিণীতে বাসুদেব
ঘোষ ভণিতায় রয়েছে। এই পদটি “নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদ
হিসেবেও দেওয়া হোলো।


করজোর করি আগে                        মায়ের চরণ যুগে
পড়িলেন দণ্ডবত হৈঞা।
দুহাতে তুলি বুকে                        চুম্ব দিলা চান্দ মুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিঞা॥
ইহার লাগিয়া যত                           পড়াইনু ভাগবত
একথা কহিব আমি কায়।
হাপুতি করিয়া মোরে                   যাবে বাছা দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপিন পরি                     কি লাগিয়া দণ্ড ধরি
ঘরে ঘরে যাবে ভিক্ষা মাগি।
জীয়ন্তে থাকিতে মায়                       ইহা নাহি সহা যায়
কার বোলে হইলা বৈরাগি॥
গোরাচান্দের বৈরাগ্য                        ধরণী বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরামদাস                           গোরাচান্দের সন্ন্যাস
জগভরি রহিল ঘোষণা॥

পদকল্পতরু ও গৌরপদতরঙ্গিণীতে পাঠান্তর -
১ করজোড়ি অনুরাগে        দাঁড়াল মায়ের আগে, ২ পড়াইলাম, ৩ এ দুখ,
৪ অনাথিনী করি মোরে (অনাথিনী শব্দের অর্থ, যাহার নাথ নাই, সুতরাং ‘হাপুতি করিয়া মোরে’ পাঠই
ঠিক)


কহে বাসুদেব ঘোষে                     গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ ---গৌরপদতরঙ্গিণী
কহয়ে বল্লভদাস                        গোরাচাঁদের বৈরাগ
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥---পদকল্পতরু

দাসের সঙ্গে বৈরাগ শব্দের মিল হয় না, সুতরাং এই ভণিতা ভুল।
ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্যের সংস্করণে (৪) চিহ্নিত ত্রিপদী নাই।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ শ্রীগান্ধার॥

নিতাই করিয়া আগে                   যায় শচী অনুরাগে
সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে।
মুড়াইয়া মাথার কেশ                ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥
নদিয়ার ভোগ ছাড়ি                   মায়েরে অনাথা করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
ইহার লাগিয়া কত                       পড়াইলাম ভাগবত
এ কথা কহিব কার পাশ॥
কর জোড় করি আগে                    মায়ের চরণ জুগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই হাত তুলি বুকে                       চুম্ব দিলা চাঁদমুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিয়া।
এ ডোর কৌপীন পরি                  কি লাগিয়া দণ্ডধারি
ঘরে ঘরে খাও ভিক্ষা মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়                  ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হইলা বৈরাগি॥
গোরা চান্দের বৈরাগে                   ধরণি বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরাম দাস                        গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
জগভরি রহল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৬১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ শ্রীগান্ধার॥

নিতাই করিয়া আগে                  যায় শচী অনুরাগে
সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে।
মুড়াইয়া মাথার কেশ              ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥
নদিয়ার ভোগ ছাড়ি                  মায়েরে অনথি করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
কর জোড় করি আগে                   মায়ের চরণ জুগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই হাত তুলি বুকে                   চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিয়া।
ইহার লাগিয়া কত                    পড়াইলাম ভাগবত
এ কথা কহিব আমি কায়॥
এ ডোর কপিনি পরি                কি লাগিয়া দণ্ডধারি
ঘরে ঘরে খাওয়ে মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়                ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হইল্যা বৈরাগি॥
গোরা চান্দের বৈরাগে                ধরণি বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরাম দাস                     গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
জগভরি রহল ঘোষণা॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীবাস হরিদাস আদি যত ভক্তগণ
শ্রীনিবাস হরিদাস যত ভক্তগণ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ললিত॥

শ্রীবাস হরিদাস আদি যত ভক্তগণ।
তা সভার লইয়া করো গিয়া সংকীর্ত্তন॥
মুরারি মুকুন্দ রাম আর যত দাস।
এ সব ছাড়ি কেনে লইলা সন্ন্যাস॥
যে করিলা সে করিলা চলরে ফিরিয়া।
পুন যজ্ঞসূত্র দিব ব্রাহ্মণ লইয়া॥
বলরাম দাস কহে হেন দিন হবো।
শ্রীবাস মন্দিরে আর কীর্ত্তন করিবো॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

শ্রীনিবাস হরিদাস যত ভক্তগণ।
তা সভার লইয়া বাছা করো গিয়া কীর্ত্তন॥
মুরারি মুকুন্দ রামআর যত দাস।
এ সব ছাড়িয়া কেনে হইল্যা সন্ন্যাস॥
যে করিলা সে করিলা চলরে ফিরিয়া।
পুণ্য জোগগ সূত্র দিব ব্রাহ্মণ লইয়া॥
বলরাম দাস কহে হেন দিন হবো।
শ্রীবাস মন্দিরে আর কীর্ত্তন করিবো॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কত নাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী
কত লাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী
নাস বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার,
৬৮৬ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৬১ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর
পুথির ১৩|৫৩ সংখ্যক পদ।

॥ ভাটিয়ারি॥

কত নাস-বেশ করি                        পরায় পাটের শাড়ী
সাধে সাধে সমুখে হাটায়।
দেখিয়া হাটন মোর                        হইয়া আনন্দে ভোর
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে                        হেরিয়া ঝুরিয়া মরে
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ ধ্রু॥
অতিরসে গড়াগড়ি                            কাঁপে পহু থরহরি
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে                                  নিবিড় আলিঙ্গনে
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়                              দেয় বসনের বায়
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে                      কত না মুখানি মোছে
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর ধন প্রাণ                        তোমা বিনে নাহি আন
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরিতি তার                        জগতে কি আছে আর
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নাস বেশ করি, পরায় পাটের শাড়ী, সাধে সাধে সমুখে হাটায়।
দেখিয়া হাটন মোর, হইয়া আনন্দে ভোর, দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে, হেরিয়া ঝরিয়া মরে, সেই যোড় হাথে মোর আগে॥
অতিরসে গড়গড়ি, কাঁপে পহু থরহরি, আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে, নিবিড় আলিঙ্গনে, ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়, দেয় বসনের বায়, নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে, কত না মূখানি মোছে, হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর প্রাণ        ধন, তোমা বিনে নাহি আন, কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরীতি তার, জগতে কে আছে আর, কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৫-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নাস বেশ করি,                                পরায় পাটের শাড়ী,
সাধে সাধে সমুখে হাটায়।
দেখিয়া হাটন মোর,                          হইয়া আনন্দে ভোর,
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে,                          হেরিয়া ঝরিয়া মরে,
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥
অতিরসে গড়গড়ি,                             কাঁপে পহুঁ থরহরি,
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে,                                   নিবিড় আলিঙ্গনে,
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়,                              দেয় বসনের বায়,
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে,                      কত না মুখানি মোছে,
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর প্রাণ ধন,                        তোমা বিনে নাহি আন,
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরীতি তার,                        জগতে ক আছে আর,
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

নাস বেশ করি, পরায় পাটের শাড়ী,
সাধে সাধে সমুখে হাটায়।
দেখিয়া হাটন মোর, হইয়া আনন্দে ভোর
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে, হেরিয়া ঝরিয়া মরে,
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥
অতিরসে গরগরি, কাঁপে পহুঁ থরহরি,
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে, নিবিড় আলিঙ্গনে,
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়, দেয় বসনের বায়,
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে, কত না মুখানি মোছে
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর প্রাণধন, তোমা বিনে নাহি আন
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরীতি তার, জগতের কি আছে আর
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ভাটিয়ারি - একতালা॥

কত নাস বেশ করি                        পরায় পাটের শাড়ী
সাধে সাধে সমুখে হাটায়।
দেখিয়া হাটন মোর                        হইয়া আনন্দে ভোর
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে                        হেরিয়া ঝুরিয়া মরে
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ ধ্রু॥
অতিরসে গড়াগড়ি                           কাঁপে পহু থরহরি
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে                                  নিবিড় আলিঙ্গনে
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়                             দেয় বসনের বায়
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে,                      কত না মুখানি মোছে
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর ধন প্রাণ                        তোমা বিনে নাহি আন
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরিতি তার                        জগতে কি আছে আর
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

কত লাস বেশ করি                পরায় পাটের শাড়ী
সাধে সাধে সমুখে হাঁটায়।
দেখিয়া হাঁটন মোর                 হইয়া আনন্দে ভোর
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে                হেরিয়া ঝুরিয়া মরে
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥
অতিরসে গরগরি                    কাঁপে পহু থরথরি
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে                           নিবিড় আলিঙ্গনে
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়                     দেয় বসনের বায়
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে             কত না মুখানি মোছে
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর ধন প্রাণ              তোমা বিনে নাহি আন
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরীতি তার             জগতে কি আছে আর
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

কত নাস-বেশ করি                পরায় পাটের শাড়ী
সাধে সাধে সমুখে হাটায়।
দেখিয়া হাটন মোর                 হইয়া আনন্দে ভোর
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে                 হেরিয়া ঝুরিয়া মরে
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥
অতিরসে গরগরি                     কাঁপে পহু থরথরি
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে                            নিবিড় আলিঙ্গনে
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়                      দেয় বসনের বায়
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে              কত না মুখানি মোছে
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর ধন প্রাণ             তোমা বিনে নাহি আন
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরিতি তার             জগতে কি আছে আর
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ১৯০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


কত লাস-বেশ করি                        পরায় পাটের শাড়ী
সাধে সাধে সমুখে হাঁটায়।
দেখিয়া হাটন মোর                        হইয়া আনন্দে ভোর
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে                        হেরিয়া ঝুরিয়া মরে
সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥
অতিরসে গড়াগড়ি                           কাঁপে পহু থরথরি
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে                                নিবিড় আলিঙ্গনে
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চান্দন মাখায় গায়                            দেয় বসনের বায়
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে                      কত না মুখানি মুছে
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
তুমি মোর ধন প্রাণ                      তোমা বিনে নাহি আন
কহে পিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরিতি তার                    জগতে কি আছে আর
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখিলা যতেক দুখ কহিয় বন্ধুরে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৮ম পল্লব, বর্ষা-কালোচিত বিরহ, ১৭৩৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ৯৬২ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

দেখিলা যতেক দুখ কহিয় বন্ধুরে।
পুছিয় তাহারে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবা দুখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিয় কহিয় সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখি করল পয়ান।
আওল মধুপুরি বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

দেখিল যতেক দুখ কহিও বন্ধুরে।
পুছিয় তাহারে মোরে মনে নাহি করে॥
কহিবা দুখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিয় কহিয় সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখি করল পয়ান।
আওল মধুপুরি বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখিলা যতেক দুখ কহিও বন্ধুরে।
পুছিও তাহারে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবা দুখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিও কহিও সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখি করল পয়ান।
আওল মধুপুরি বলরাম গান॥

ব্যাখ্যা -
তার কাছে যাও। তাকে আমার দুঃখের কথা বলো। জিজ্ঞাসা করো তাকে, আমার কথা
তার মনে পড়ে কি না। তাকে একটু একলা পেলে আমার কথা বোলো, সুযোগ পেলে তার
পায়ে ধোরো, বোলো তার বিহনে আমি জীবনের আশা ছেড়েছি।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকোঁ
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত
পদামৃত সমুদ্র সংকলনের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণে ১২৮৫ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ), ৪১৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাধামোহন ঠাকুরের পরবর্তী কবি বৈষ্ণবদাস সংকলিত
পদকল্পতরুর “
মরম কহিলুঁ মো পুনঃ ঠেকুলুঁ” পদটি এই “বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া
থাকোঁ” পদের প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিলে হুবহু অবশিষ্ট পদের সঙ্গে মিলে যায়, সামান্য
স্বাভাবিক বিবর্তন সহ! পদাবলীর এ রকম বিবর্তনের বিষয়ে, বিশেষজ্ঞদের ভাবার
অবকাশ রয়েছে।

॥ সুহই রাগ নন্দন তালাভ্যাং॥

বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকোঁ তভু মোরে সদাই হারায়।
বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমারে থুইবারে চায়॥
মরম কহিলুঁ মো পুনি ঠেকিনু সে জন পিরিতি ফান্দে।
রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারেসে পরাণ কান্দে॥
হার নহোঁ পিয়া গলায়ে পরয়ে চন্দন নহোঁ মাখে গায়।
অনেক যতনে রতন পাইয়া কি করিবে সোয়াথ নাপায়॥
সাজাইয়া কাছাইয়া বসন পরাইয়া আদরে বৈসায় কোরে।
দিপ নিয়া হাতে দেখিতে দেখিতে তিতিঁল আঁখির জলে॥
বসন লইয়া মুখানি মোছাইয়া আলুআইয়া বান্ধো কেশ।
কহে বলরাম ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর