| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “করজোড় করি আগে মায়ের চরণ যুগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ, “বল্লভ দাস” ভণিতায় এবং গৌরপদতরঙ্গিণীতে বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় রয়েছে। এই পদটি “নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও দেওয়া হোলো। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে। মুড়াইয়া মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥ নদিয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনাথা করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। ইহার লাগিয়া কত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব কার পাশ॥ কর জোড় করি আগে মায়ের চরণ জুগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদমুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া। এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারি ঘরে ঘরে খাও ভিক্ষা মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগি॥ গোরা চান্দের বৈরাগে ধরণি বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরাম দাস গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস জগভরি রহল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে। মুড়াইয়া মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥ নদিয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনথি করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। কর জোড় করি আগে মায়ের চরণ জুগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া। ইহার লাগিয়া কত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব আমি কায়॥ এ ডোর কপিনি পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারি ঘরে ঘরে খাওয়ে মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইল্যা বৈরাগি॥ গোরা চান্দের বৈরাগে ধরণি বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরাম দাস গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস জগভরি রহল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি সাহিত্যপরিষদের ৯৬৯সংখ্যক পুথিতে পেয়েছিলেন। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ “বল্লভ দাস” ভণিতায় রয়েছে। করজোর করি১ আগে মায়ের চরণ যুগে পড়িলেন দণ্ডবত হৈঞা। দুহাতে তুলি বুকে চুম্ব দিলা চান্দ মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিঞা॥ ইহার লাগিয়া যত ২পড়াইনু ভাগবত ৩একথা কহিব আমি কায়। ৪হাপুতি করিয়া মোরে যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপিন পরি কি লাগিয়া দণ্ড ধরি ঘরে ঘরে যাবে ভিক্ষা মাগি। জীয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাহি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগি॥ গোরাচান্দের বৈরাগ্য ধরণী বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। ৫কহে বলরামদাস গোরাচান্দের সন্ন্যাস জগভরি রহিল ঘোষণা॥ পদকল্পতরু ও গৌরপদতরঙ্গিণীতে পাঠান্তর - ১ করজোড়ি অনুরাগে দাঁড়াল মায়ের আগে, ২ পড়াইলাম, ৩ এ দুখ, ৪ অনাথিনী করি মোরে (অনাথিনী শব্দের অর্থ, যাহার নাথ নাই, সুতরাং ‘হাপুতি করিয়া মোরে’ পাঠই ঠিক) ৫ কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ ---গৌরপদতরঙ্গিণী কহয়ে বল্লভদাস গোরাচাঁদের বৈরাগ ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥---পদকল্পতরু দাসের সঙ্গে বৈরাগ শব্দের মিল হয় না, সুতরাং এই ভণিতা ভুল। ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্যের সংস্করণে (৪) চিহ্নিত ত্রিপদী নাই। ---বিমান বিহারী মজুমদার, “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| করজোড় করি আগে মায়ের চরণ যুগে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি সাহিত্যপরিষদের ৯৬৯সংখ্যক পুথিতে পেয়েছিলেন। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ, “বল্লভ দাস” ভণিতায় এবং গৌরপদতরঙ্গিণীতে বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় রয়েছে। এই পদটি “নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে” শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও দেওয়া হোলো। করজোর করি আগে মায়ের চরণ যুগে পড়িলেন দণ্ডবত হৈঞা। দুহাতে তুলি বুকে চুম্ব দিলা চান্দ মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিঞা॥ ইহার লাগিয়া যত পড়াইনু ভাগবত একথা কহিব আমি কায়। হাপুতি করিয়া মোরে যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপিন পরি কি লাগিয়া দণ্ড ধরি ঘরে ঘরে যাবে ভিক্ষা মাগি। জীয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাহি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগি॥ গোরাচান্দের বৈরাগ্য ধরণী বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরামদাস গোরাচান্দের সন্ন্যাস জগভরি রহিল ঘোষণা॥ পদকল্পতরু ও গৌরপদতরঙ্গিণীতে পাঠান্তর - ১ করজোড়ি অনুরাগে দাঁড়াল মায়ের আগে, ২ পড়াইলাম, ৩ এ দুখ, ৪ অনাথিনী করি মোরে (অনাথিনী শব্দের অর্থ, যাহার নাথ নাই, সুতরাং ‘হাপুতি করিয়া মোরে’ পাঠই ঠিক) ৫ কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ ---গৌরপদতরঙ্গিণী কহয়ে বল্লভদাস গোরাচাঁদের বৈরাগ ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥---পদকল্পতরু দাসের সঙ্গে বৈরাগ শব্দের মিল হয় না, সুতরাং এই ভণিতা ভুল। ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্যের সংস্করণে (৪) চিহ্নিত ত্রিপদী নাই। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে। মুড়াইয়া মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥ নদিয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনাথা করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। ইহার লাগিয়া কত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব কার পাশ॥ কর জোড় করি আগে মায়ের চরণ জুগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদমুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া। এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারি ঘরে ঘরে খাও ভিক্ষা মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগি॥ গোরা চান্দের বৈরাগে ধরণি বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরাম দাস গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস জগভরি রহল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে। মুড়াইয়া মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥ নদিয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনথি করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। কর জোড় করি আগে মায়ের চরণ জুগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া। ইহার লাগিয়া কত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব আমি কায়॥ এ ডোর কপিনি পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারি ঘরে ঘরে খাওয়ে মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইল্যা বৈরাগি॥ গোরা চান্দের বৈরাগে ধরণি বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরাম দাস গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস জগভরি রহল ঘোষণা॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কত নাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী কত লাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী নাস বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৬৮৬ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৬১ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৩|৫৩ সংখ্যক পদ। ॥ ভাটিয়ারি॥ কত নাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী সাধে সাধে সমুখে হাটায়। দেখিয়া হাটন মোর হইয়া আনন্দে ভোর দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে হেরিয়া ঝুরিয়া মরে সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ ধ্রু॥ অতিরসে গড়াগড়ি কাঁপে পহু থরহরি আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে নিবিড় আলিঙ্গনে ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায় দেয় বসনের বায় নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে কত না মুখানি মোছে হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর ধন প্রাণ তোমা বিনে নাহি আন কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরিতি তার জগতে কি আছে আর কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ নাস বেশ করি, পরায় পাটের শাড়ী, সাধে সাধে সমুখে হাটায়। দেখিয়া হাটন মোর, হইয়া আনন্দে ভোর, দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে, হেরিয়া ঝরিয়া মরে, সেই যোড় হাথে মোর আগে॥ অতিরসে গড়গড়ি, কাঁপে পহু থরহরি, আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে, নিবিড় আলিঙ্গনে, ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায়, দেয় বসনের বায়, নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে, কত না মূখানি মোছে, হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর প্রাণ ধন, তোমা বিনে নাহি আন, কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরীতি তার, জগতে কে আছে আর, কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ নাস বেশ করি, পরায় পাটের শাড়ী, সাধে সাধে সমুখে হাটায়। দেখিয়া হাটন মোর, হইয়া আনন্দে ভোর, দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে, হেরিয়া ঝরিয়া মরে, সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ অতিরসে গড়গড়ি, কাঁপে পহুঁ থরহরি, আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে, নিবিড় আলিঙ্গনে, ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায়, দেয় বসনের বায়, নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে, কত না মুখানি মোছে, হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর প্রাণ ধন, তোমা বিনে নাহি আন, কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরীতি তার, জগতে ক আছে আর, কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ নাস বেশ করি, পরায় পাটের শাড়ী, সাধে সাধে সমুখে হাটায়। দেখিয়া হাটন মোর, হইয়া আনন্দে ভোর দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে, হেরিয়া ঝরিয়া মরে, সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ অতিরসে গরগরি, কাঁপে পহুঁ থরহরি, আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে, নিবিড় আলিঙ্গনে, ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায়, দেয় বসনের বায়, নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে, কত না মুখানি মোছে হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর প্রাণধন, তোমা বিনে নাহি আন কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরীতি তার, জগতের কি আছে আর কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ ভাটিয়ারি - একতালা॥ কত নাস বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী সাধে সাধে সমুখে হাটায়। দেখিয়া হাটন মোর হইয়া আনন্দে ভোর দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে হেরিয়া ঝুরিয়া মরে সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ ধ্রু॥ অতিরসে গড়াগড়ি কাঁপে পহু থরহরি আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে নিবিড় আলিঙ্গনে ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায় দেয় বসনের বায় নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে, কত না মুখানি মোছে হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর ধন প্রাণ তোমা বিনে নাহি আন কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরিতি তার জগতে কি আছে আর কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ কত লাস বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী সাধে সাধে সমুখে হাঁটায়। দেখিয়া হাঁটন মোর হইয়া আনন্দে ভোর দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে হেরিয়া ঝুরিয়া মরে সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ অতিরসে গরগরি কাঁপে পহু থরথরি আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে নিবিড় আলিঙ্গনে ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায় দেয় বসনের বায় নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে কত না মুখানি মোছে হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর ধন প্রাণ তোমা বিনে নাহি আন কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরীতি তার জগতে কি আছে আর কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ কত নাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী সাধে সাধে সমুখে হাটায়। দেখিয়া হাটন মোর হইয়া আনন্দে ভোর দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে হেরিয়া ঝুরিয়া মরে সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ অতিরসে গরগরি কাঁপে পহু থরথরি আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে নিবিড় আলিঙ্গনে ডুবাইল রসের সাগরে॥ চন্দন মাখায় গায় দেয় বসনের বায় নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে কত না মুখানি মোছে হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর ধন প্রাণ তোমা বিনে নাহি আন কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরিতি তার জগতে কি আছে আর কি বলিবে বলরাম দাসে॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ১৯০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কত লাস-বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী সাধে সাধে সমুখে হাঁটায়। দেখিয়া হাটন মোর হইয়া আনন্দে ভোর দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥ সই তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে। কত কুলবতী যারে হেরিয়া ঝুরিয়া মরে সেহ যোড় হাথে মোর আগে॥ অতিরসে গড়াগড়ি কাঁপে পহু থরথরি আরতি করিয়া কোলে করে। ঘন ঘন চুম্বনে নিবিড় আলিঙ্গনে ডুবাইল রসের সাগরে॥ চান্দন মাখায় গায় দেয় বসনের বায় নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়। বিনি কাজে কত পুছে কত না মুখানি মুছে হেন বাসে দেখিতে হারায়॥ তুমি মোর ধন প্রাণ তোমা বিনে নাহি আন কহে পিয়া গদগদ ভাষে। যতেক পিরিতি তার জগতে কি আছে আর কি বলিবে বলরাম দাসে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |