| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| সুন্দরি বুঝিলুঁ তোমার ভাব সুন্দরি বুঝিনু মনের ভাব ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ৪০১-পৃষ্ঠা। শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ। ॥ পুনঃ শ্রীরাগ॥ সুন্দরি! বুঝিলু তোমার ভাব। প্রেম রতন গোপতে পাইয়া ভাড়িলে কি হবে লাভ॥ ধ্রু॥ আনছলে কহ আনের কথা বেকত পিরীতি রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢর ঢর রঙ্গিত রসতরঙ্গ॥ ভাবের ভরে চলিতে না পারো বচন হইলা হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ-ভবনে রঙ্গেতে হৈয়াছ ভোরা॥ পুছিলে মনের মরম না কহ এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিব ভাবেতে মজিল চীত॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৬৭৪ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৪৯ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৩।১৫ সংখ্যক পদ। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিলুঁ তোমার ভাব। প্রেম-রতন গোপতে পাইয়া ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ ধ্রু॥ আন ছলে কহ আনের কথা বেকত পিরিতি-রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢল ঢল রঙ্গিত প্রেম-তরঙ্গ॥ ভাবের ভরে চলিতে না পার বচন হইল হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ-বনে রঙ্গেত হইয়াছ ভোরা॥ পুছিলে না কহ মনের মরম এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিবে ভাবেতে মজিল চীত॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, রসোদগার, ৯১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিলুঁ তোমার ভাব। প্রেমরতন, গোপতে পাইয়া, ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ আনছলে কহ, আনের কথা, বেকত পিরীতি রঙ্গ। রসের বিলাসে, অঙ্গ ঢল ঢল, রঙ্গিত প্রেমতরঙ্গ॥ ভাবের ভরে, চলিতে না পার, চরণ হইল হারা। কানুর সনে, নিকুঞ্জ বনে, রঙ্গেতে হইয়াছ ভোরা॥ পুছিলে না কহ, মনের মরম, এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে, কি আর বলিবে, ভাবেতে মজিল চিত॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিল তোমার ভাব। প্রেমরতন গোপতে পাইয়া, ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ আন ছলে কহ আনের কথা, বেকত পিরীতি রঙ্গ। রসের বিলাসে, অঙ্গ ঢল ঢল, রঙ্গিত প্রেম তরঙ্গ॥ ভাবের ভরেতে, চলিতে না পার, চরণ হইল হারা। কানুর সনে, নিকুঞ্জ-বনে, রঙ্গেতে হৈয়াছ ভোরা॥ পুছিলে না কহ, মনের মরম, এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে, কি আর বলিবে, ভাবেতে মজিল চিত॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিল তোমার ভাব। প্রেম-রতন গোপতে পাইয়া, ভাড়িলে কি হবে লাভ॥ আন ছলে কহ, আনের কথা, বেকত পিরীত রঙ্গ। রসের বিলাসে, অঙ্গ ঢল ঢল, রতি প্রেম তরঙ্গ॥ ভাবের ভরেতে, চলিতে না পারে, চরণ হইল হারা। কানুর সনে, নিকুঞ্জ-বনে, রঙ্গেতে হইয়াছে ভোরা॥ পুছিলে না কহ, মনের মরম, এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে, কি আর বলিবে, ভাবেতে মজিল চিত॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিল তোমার ভাব। প্রেম রতন গোপতে পাইয়া ভাড়িলে কি হবে লাভ॥ আন ছলে কহ আনের কথা বেকত পিরীত রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢল ঢল রঙ্গিত প্রেম তরঙ্গ॥ ভাবের ভরে চলিতে না পারে চরণ হইল হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ বনে রঙ্গেতে হইয়াছ ভোরা॥ পুছিলে না কহ মনের মরম এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিবে ভাবেতে মজিত চিত॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখ্যুক্তি ॥ রাগিণী সুহই - তাল একতালী॥ সুন্দরী বুঝিনু তোমার ভাব। প্রেমরতন, গোপতে পাইয়া, ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ আন্ ছলে কহ, আনের কথা, বেকত পিরীত রঙ্গ। রসের বিলাসে, অঙ্গ ঢল ঢল, রঙ্গিত প্রেমতরঙ্গ॥ ভাবের ভরেতে, চলিতে না পার, চরণ হইল হারা। কানুর সনে, নিকুঞ্জবনে, রঙ্গেতে হৈয়াছ ভোরা॥ পুছিলে না কহ, মনের মরম, সব ভেল বিপরীত। বলরাম কহে, কি আর বলিবে, ভাবেতে মজিল চিত॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ জয়জয়ন্তী মল্লার - মধ্যম দুঠুকী॥ সুন্দরি বুঝিলুঁ তোমার ভাব। প্রেম রতন গোপতে পাইয়া ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ ধ্রু॥ আন ছলে কহ আনের কথা বেকত পিরিতি রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢল ঢল রঙ্গিত প্রেম তরঙ্গ॥ ভাবের ভরে চলিতে না পারে বচন হইলা হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ বনে রঙ্গেতে হৈয়াছ ভোরা॥ পুছিলে না কহ মনের মরম এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিবে ভাবেতে মজিল চীত॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিনু মনের ভাব। প্রেম রতন গোপতে পাইয়া ভাড়িলে কি হবে লাভ॥ আন ছলে কহ আনের কথা বেকত পিরীত রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢল ঢল রতি প্রেম তরঙ্গ॥ ভাবের ভরেতে চলিতে না পাব চরণ হইল হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ বনে রঙ্গেতে হইয়াছে ভোরা॥ পুছিলে না কহ মনের মরম এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিবে ভাবেতে মজিত চিত॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিলুঁ তোমার ভাব। প্রেমরতন গোপতে পাইয়া ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ আন ছলে কহ আনের কথা বেকত পিরীতি-রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢল ঢল রঙ্গিত প্রেম-তরঙ্গ॥ ভাবের ভরে চলিতে না পার বচন হইলা হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ-বনে রঙ্গেত হৈয়াছ ভোরা॥ পুছিলে মনের মনের না কহ এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিবে ভাবেতে মজিল চীত॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সুন্দরি বুঝিলুঁ তোমার ভাব। প্রেম-রতন গোপতে পাইয়া ভাঁড়িলে কি হবে লাভ॥ আন ছলে কহ আনের কথা বেকত পিরিতি-রঙ্গ। রসের বিলাসে অঙ্গ ঢল ঢল রঙ্গিতে প্রেম-তরঙ্গ॥ ভাবের ভরে চলিতে না পারে বচন হইলা হারা। কানুর সনে নিকুঞ্জ-বনে রঙ্গেত হৈয়াছে ভোরা॥ পুছিলে মনের মনের না কহ এবে ভেল বিপরীত। বলরাম কহে কি আর বলিবে ভাবেতে মজিল চীত॥ . **************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মরম কহিলুঁ মো পুনঃ ঠেকুলুঁ মরম কহিনু মো পুন ঠেকিনু ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৬৭৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৪৯ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৩।১৫ সংখ্যক পদ। বৈষ্ণবদাস পূর্বের কবি রাধামোহন ঠাকুর সংকলিত পদামৃতসমুদ্রের “বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকোঁ” পদটির প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিলে বাকি পদটি হুবহু এই “মরম কহিলুঁ মো পুনঃ ঠেকুলুঁ” পদের সঙ্গে মিলে যায়, সামান্য স্বাভাবিক বিবর্তন সহ! পদাবলীর এ রকম বিবর্তনের বিষয়ে, বিশেষজ্ঞদের ভাবার অবকাশ রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ মরম কহিলুঁ মো পুন ঠেকিলুঁ সে জনার পিরিতি-ফান্দে। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকে তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমারে রাখিতে চায়॥ হার নহোঁ পিয়া গলায় পরয়ে চন্দন নহোঁ মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া থুইতে সোয়াস্ত না পায়॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা বসন পরাঞা আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে মুখ নিরখিতে তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই আউলায়্যা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥ টীকা - ৯ - ১২। “হার” ইত্যাদি। (আমি) হার নহি, (তথাপি) প্রিয়তম (আমাকে যেন) গলায় পরিধান করে ; (অর্থাৎ আমার ভুজ-লতাদ্বয় তাঁহার কণ্ঠে সংলগ্ন করাইয়া রাখে) ; আমি চন্দন নহি, (তথাপি) সে আমাকে (যেন) গায় মাখে ; (অর্থাৎ সুদৃঢ় আলিঙ্গনে আমার অঙ্গের সহিত অঙ্গ মিশাইয়া রহে) ; (যেন দরিদ্র) বহু চেষ্টায় রত্ন পাইয়া উহাকে কোন স্থানে রাখিয়া শান্তি পাইতেছে না। তুলনা করুন,--- “সই কি না সে বন্ধুর প্রেম। আখি পালটিতে নহে পরতীত যেন দরিদ্রের হেম॥” -জ্ঞানদাস, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু, ৬৭৮সংখ্যক পদ। ---সতীশচন্দ্র রায়, সম্পাদক, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ মরম কহিলুঁ, মো পুনঃ ঠেকিলুঁ, সে জনার পিরীতি ফান্দে। রাতি দিন চিতে, ভাবিতে ভাবিতে, তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে, চোখে লাগি থাকে, তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া, হিয়ার মাঝারে, আমায় রাখিতে চায়॥ হার নহোঁপিয়া, গলায় পরয়ে, চন্দন নহোঁ মাখে গায়। অনেক যতনে, রতন পাইয়া, থুইতে সোয়াস্ত না পায়॥ কর্পূর তাম্বুল, আপনি সাজিয়া, মোর মুখে ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া, চিবুক ধরিয়া, মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা, বসন পরাঞা, আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে, মুখ নিরখিতে, তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া, যাবক রচই, আলাঞা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে, ভাবিতে ভাবিতে, পাঁজর হইল শেষ॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ মরম কহিনু, মো পুন ঠেকিনু, সে জনার পিরীতি ফান্দে। রাতি দিন চিতে, ভাবিতে ভাবিতে, তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে, চোখে লাগি থাকে, তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া, হিয়ার মাঝারে, সদাই রাখিতে চায়॥ হার নহে পিয়া, গলায় পরয়ে, চন্দন নহে মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া, সোয়াস্ত নাহিক পায়॥ কর্পূর তাম্বুল, আপনি সাজিয়া, মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া, চিবুক ধরিয়া, মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা, বসন পরাঞা, আবেশে লইয়া কোরে। লৈয়া হাতে, মুখ নিরখিতে, তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া, যাবক রচই, আলাঞা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে, ভাবিতে ভাবিতে, পাঁজর হইল শেষ॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। মরম কহিনু, মো পুনঃ ঠেকিনু, সে জনার পিরীতি ফান্দে। রাতি দিন চিতে, ভাবিতে ভাবিতে, তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে, চোখে লাগি থাকে, তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া, হিয়ার মাঝারে, আমায় রাখিতে চায়॥ হার-নহে পিয়া, গলায় পড়য়ে, চন্দন নহে মাখে গায়। অনেক যতনে, রতন পাইয়া, সোয়াস্ত নাহিক পায়॥ কর্পূর তাম্বূল আপনি সাজিয়া, মোর মুখে ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া, চিবুক ধরিয়া, মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা, বসন পরাঞা, আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে, মুখ নিরখিয়ে, তিতিল নয়ান-লোরে॥ চরণে ধরিয়া, যাবক রচই, আলাঞা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে, ভাবিতে ভাবিতে, পাঁজর হইল শেষ॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ মরম কহিনু মো পুনঃ ঠেকিনু সে জনার পিরীতি ফান্দে। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে চোখে লাগি থাকে তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমায় রাখিতে চায়॥ হার নহে পিয়া গলায় পরয়ে চন্দন নাহি মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া সোয়াথ নাহিক পায়॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা বসন পরাঞা আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে মুখ নিরখিতে তিতিল১ নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই এলাঞা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঞ্জর হইল শেষ॥ ১। তিতিল = ভিজিল। এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মরম কহিনু মো পুন ঠেকিনু সে জনার পিরীতি ফান্দ। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে চোখে লাগি থাকে তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমায় রাখিতে চায়॥ হার নহে পিয়া গলায় পরয়ে চন্দন নাহি মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া সোয়াস্ত নাহিক পায়॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা বসন পরাঞা আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে মুখ নিরখিতে তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই আলাঞা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ গান্ধার - মধ্যম একতালা॥ মরম কহিলুঁ মো পুন ঠেকিলুঁ সে জনার পিরিতি ফান্দে। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকে তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমারে রাখিতে চায়॥ হার নহোঁ পিয়া গলায় পরয়ে১ চন্দন নহোঁ মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া থুইতে সোয়াস্ত না পায়২॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা বসন পরাঞা আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে মুখ নিরখিতে তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই আউলায়্যা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥ টীকা - ১। (আমাকে কোথায় রাখিবে, ভাবিয়া পায় না) আমি হার নই যে আমাকে গলায় পরিবে! (বন্ধুর ইচ্ছা যেন আমাকে হার করিয়া গলায় পরে!) ২। দরিগ্র মহামূল্য রত্ন পাইলে যেমন কোথাও রাখিয়া সোয়াস্তি পায় না, সেইরূপ আমার বন্ধু কোথাও আমাকে রাখিয়া স্থির হইতে পারে না। ---নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র, শ্রীপদামৃতমাধুরী ২য় খণ্ড॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ মরম কহিনু মো পুন ঠেকিনু সে জনার পিরীতি ফান্দে। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে চোখে লাগি থাকে তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমারে রাখিতে চায়॥ হার নাহি পিয়া গলায় পরয়ে চন্দন না মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া সোয়াস্ত নাহিক পায়॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া, চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লয়॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই আলাঞা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ মরম কহিলু মো পুন ঠেকিলু সে জনার পিরীতিফান্দে। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকে তমু সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমারে রাখিতে চায়॥ হার নহোঁ পিয়া গলায় পরয়ে চন্দন নহোঁ মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া থুইতে সোয়াস্ত না পায়॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া, চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লেয়॥ সাজাঞা কাচাঞা বসন পরাঞা আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে মুখ নিরখিতে তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই আউলায়্যা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ মরম কহিলু মো পুন ঠেকিলু সে জনার পিরিতি-ফান্দে। রাতি দিন চিতে ভাবিতে ভাবিতে তারে সে পরাণ কান্দে॥ বুকে বুকে মুখে চৌখে লাগিয়া থাকে তবু মোরে সতত হারায়। ও বুক চিরিয়া হিয়ার মাঝারে আমারে রাখিতে চায়॥ হার নহোঁ পিয়া গলায় পরয়ে চন্দন নহোঁ মাখে গায়। অনেক যতনে রতন পাইয়া থুইতে সোয়াস্ত না পায়॥ কর্পূর তাম্বুল আপনি সাজিয়া মোর মুখ ভরি দেয়। হাসিয়া হাসিয়া, চিবুক ধরিয়া মুখে মুখ দেই লৈয়॥ সাজাঞা কাচাঞা বসন পরাঞা আবেশে লইয়া কোরে। দীপ লৈয়া হাতে মুখ নিরখিতে তিতিল নয়ান লোরে॥ চরণে ধরিয়া যাবক রচই আউলায়্যা বান্ধয়ে কেশ। বলরাম চিতে ভাবিতে ভাবিতে পাঁজর হইল শেষ॥ . **************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাতি দিন চৌখে চৌখে বসিয়া সদাই দেখে রাতি দিন চোখে চোখে বসিয়া সদাই দেখে রাতি দিনে চোখে চোখে বসিয়া সদাই দেখে ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৬৮২ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৫৭ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৩।৫৪ সংখ্যক পদ। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চৌখে চৌখে বসিয়া সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায় সোয়াস্ত নাহিক পায় কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়া আছে মনে। যারে বিদগধ-রায় বলিয়া জগতে গায় মোর আগে কিছুই না জানে॥ ধ্রু॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি জাগিয়া পোহায় রাতি নিঁদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে খেণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ খেণে বুকে খেণে পিঠে খেণে রাখে দিঠে দিঠে হিয়া হৈতে শেজে না ছোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে কখন ধরয়ে মাথে খেণে ধরে হিয়ার উপরে। খেণে পুলকিত হয় খেণে আঁখি মুদি রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী” , ১৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চোখে চোখে, বসিয়া সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায়, সোয়াস্ত নাহিক পায় কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সোই ও দুখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায়, বলিয়া জগতে গায় মোর আগে কিছুই না জানে॥ ধ্রু জ্বলিয়া উজ্জ্বল বাতি, জাগি পোহাল রাতি নিদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে, ক্ষণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে, ক্ষণে রাখে দিঠে দিঠে হিয়া হৈতে শেজে না শোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন, রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে, কখন ধরয়ে মাথে ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয়, ক্ষণে আঁখি মুদি রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চোখে চোখে, বসিয়া সদাই দেখে, ঘন ঘন মুখ খানি মাজে। উলটি পালটি চায়, সোয়াস্ত নাহিক পায়, কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ! ও দুঃখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায়, বলিয়া জগতে গায়, মোর আগে কিছুই না জানে॥ ধ্রু॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি, জাগিয়া পোহায় রাতি, নিন্দ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে, খেনে করে উতরোলে, তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে, ক্ষণে রাখে দিঠে দিঠে, হিয়া হইতে শেজে না ছোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন, রাখিতে না পায় স্থান, অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে, কখন ধরয়ে মাথে, ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয়, ক্ষণে আঁখি মুদি রয়, বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চোখে চোখে, বসিয়া সদাই দেখে, ঘন ঘন মুখ খানি মাজে। উলটি পালটি চায়, সোয়াস্ত নাহিক পায়, কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায়, বলিয়া জগতে গায়, মোর আগে কিছুই না জানে॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি, জাগি পোহাইল রাতি, নিঁদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে, ক্ষণে করে উতরোলে, তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে, ক্ষণে রাখে দিঠে দিঠে, হিয়া হইতে শেজে না শোয়ায়। দরিদ্রের ধন হেন, রাখিতে না পায় স্থান, অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে, কখন ধরয়ে মাথে, ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয়, ক্ষণে আঁখি মুদি রয়, বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চোখে চোখে, বসিয়া সদাই দেখে, ঘন ঘন মুখ খানি মাজে। উলটি পালটি চায়, সোয়াস্ত নাহিক পায়, কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায়, বলিয়া জগতে গায়, মোর আগে কিছুই না জানে॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি, জাগিয়া পোহাইল রাতি, নিদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে, খেনে করে উতরোলে, তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে, ক্ষণে রাখে দিঠে দিঠে, হিয়া হৈতে শেজে না শোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন, রাখিতে না পায় স্থান, অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে, কখন ধরয়ে মাথে, ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয়, ক্ষণে আঁখি মুদি রয়, বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতিদিনে চৌখে চৌখে, বসিয়া সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায়, সোয়াস্ত নাহিক পায়, কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায়, বলিয়া জগতে গায়, মোর আগে কিছুই না জানে॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি, জাগি পোহাইল রাতি নিদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে, ক্ষণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে, ক্ষণে রাখে দিঠেদিঠে হিয়া হৈতে শেজে না শোয়ায়। দরিদ্রের ধন হেন, রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে, কখন ধরয়ে মাথে, ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয়, ক্ষণে আঁখি মুদি রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ ধানশী - বৃহৎ একতালা॥ রাতি দিন চৌখে চৌখে বসিয়া সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায় সোয়াস্ত নাহিক পায় কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়া আছে মনে। যারে বিদগধ রায় বলিয়া জগতে গায় মোর আগে কিছুই না জানে॥ ধ্রু॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি জাগিয়া পোহায় রাতি নিঁদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে খেণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ খেণে বুকে খেণে পিঠে খেণে রাখে দিঠে দিঠে হিয়া হৈতে শেজে না ছোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে কখন ধরয়ে মাথে খেণে ধরে হিয়ার উপরে। খেণে পুলকিত হয় খেণে আঁখি মুদে রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চৌখে চৌখে বসিয়া সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায় সোয়াস্ত নাহিক পায় কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই এই দুখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায় বলিয়া জগতে গায় মোর আগে কিছুই না জানে॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি জাগিয়া পোহায় রাতি নিদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন কর কোলে ক্ষণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে ক্ষণে রাখে দিঠে দিঠে হিয়া হৈতে শেজে না শোয়ায়। দরিদ্রের ধন হেন রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে কখন ধয়য়ে মাথে ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয় ক্ষণে আঁখি মুদি রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাতি দিন চৌখে চৌখে বসিয়া সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায় সোয়াস্ত নাহিক পায় কত বা আরতি হিয়ার মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়াছে মনে। যারে বিদগধ রায় বলিয়া জগতে গায় মোর আগে কিছুই না জানে॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি জাগিয়া পোহায় রাতি নিদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন কর কোলে ক্ষণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ ক্ষণে বুকে ক্ষণে পিঠে ক্ষণে রাখে দিঠে দিঠে হিয়া হৈতে শেজে না শোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে কখন ধয়য়ে মাথে ক্ষণে ধরে হিয়ার উপরে। ক্ষণে পুলকিত হয় ক্ষণে আঁখি মুদি রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ১৮৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। রাতি দিন চোখে চোখে বসাই সদাই দেখে ঘন ঘন মুখখানি মাজে। উলটি পালটি চায় সোয়াস্ত নাহিক পায় কত বা আরতি হিয়া মাঝে॥ সই ও দুখ লাগিয়া আছে মনে। যারে বিদগধ রায় বলিয়া জগতে গায় মোর আগে কিছুই না জানে॥ জ্বালিয়া উজ্জ্বল বাতি জাগিয়া পোহায় রাতি নিঁদ নাহি যায় পিয়া ঘুমে। ঘন ঘন করে কোলে খেণে করে উতরোলে তিলে শতবার মুখ চুমে॥ খেণে বুকে খেণে পিঠে খেণে রাখে দিঠে দিঠে হিয়া হৈতে শেজে না শোয়ায়। দারিদ্রের ধন হেন রাখিতে না পায় স্থান অঙ্গে অঙ্গে সদাই ফিরায়॥ ধরিয়া দুখানি হাতে কখন ধরয়ে মাথে খেণে ধরে হিয়ার উপরে। খেণে পুলকিত হয় খেণে আঁখি মুদি রয় বলরাম কি কহিতে পারে॥ . **************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৬৮৩ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৫৪ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৩|৫৫ সংখ্যক পদ। ॥ তুড়ী॥ নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি কিবা সে পিরিতি জীতে কি পাসরিতে পারি॥ ধ্রু॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গুণে পরমাদে কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মো মরোঁ বলিয়া আপনা দিয়া কত কি নিছে॥ না জানি কি সুখে দাড়াঞা সমুখে যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ নয়ানে নয়ানে, থাকে রাতি দিনে, দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া, মুখানি তুলিয়া, দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই ! কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি, কিবা সে পিরীতি, জীতে কি পাসরিতে পারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে, গুণে পরমাদ, কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া, মো মরোঁ বলিয়া, আপনা দিয়া কত নিছে॥ না জানি কি সুখে, দাড়াঞা সমুখে, যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে, কে যাবে প্রতীতে, বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ নয়ানে নয়ানে, থাকে রাতি দিনে, দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া, মুখানি তুলিয়া, দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি, কিবা সে পিরীতি, জীতে কি পাসরিতে পারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে, গুণে পরমাদে, কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া, মো মরিব বলিয়া, আপনা দিয়া কত নিছে॥ না জানি কি সুখে, দাড়াঞা সমুখে, যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে, কে যাবে প্রতীতে, বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ নয়ানে নয়ানে, থাকে রাতি দিনে, দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া, মুখানি তুলিয়া, দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি, কিবা সে পিরীতি, জীতে কি পাসরিতে পারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে, গুণে পরমাদে, কাতর হইয়ে পুছে। বালাই লইয়া, মরিব বলিয়া, আপনা দিয়া কত নিছে॥ না জানি কি সুখে, দাড়াঞা সমুখে, যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে, কে যাবে প্রতীতে, বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি, কিবা সে পিরীতি জীতে কি পাসরিতে পারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গুণে পরমাদে কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মরিব বলিয়া আপনা দিয়া কত নিছে॥ না জানি কি সুখে দাড়াঞা সমুখে যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥ নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি কিবা সে পিরিতি জীতে কি পাসরিতে পারি॥ ধ্রু॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গুণে পরমাদে কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মো মরোঁ বলিয়া আপনা দিয়া কত নিছে॥ না জানি কি সুখে দাড়াঞা সমুখে যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি কিবা সে পিরীতি জীতে কি পাসরিতে পারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গণে পরমাদে কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মরিব বলিয়া আপনা দিয়া কত নিছে॥ না জানি কি সুখে দাঁড়াঞা সমুখে যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি কিবা সে পিরীতি জীতে কি পাসরিতে নারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গুণে পরমাদে কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মো মরোঁ বলিয়া মোর পরসাদ যাচে॥ না জানি কি সুখে দাড়াঞা সমুখে যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি কিবা সে পিরীতি জীতে কি পাসরিতে পারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গুণে পরমাদ কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মো মরোঁ বলিয়া আপনা দিয়া কত কি নিছে॥ না জানি কি সুখে দাড়াঞা সমুখে যোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নয়ানে নয়ানে থাকে রাতি দিনে দেখিতে দেখিতে ধান্দে। চিবুক ধরিয়া মুখানি তুলিয়া দেখিয়া দেখিয়া কান্দে॥ সই কি ছার পরাণ ধরি। কি তার আরতি কিবা সে পিরীতি জীতে পাসরিতে নারি॥ নিশ্বাস ছাড়িতে গুণে পরমাদে কাতর হইয়া পুছে। বালাই লইয়া মো মরোঁ বলিয়া মোর পরসাদ যাচে॥ না জানি কি সুখে দাড়াঞা সমুখে জোড় হাতে কিবা মাগে। যে করয়ে চিতে কে যাবে প্রতীতে বলরাম চিতে জাগে॥ ব্যাখ্যা - রাধা বলছেন কানুর ভালবাসার কথা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। সে প্রেম-তরঙ্গ-লীলা কারো বিশ্বাস হবে না নয়নের মাঝখানে রেখেও তার তৃপ্তি নেই। আমার দীর্ঘনিশ্বাসে সে প্রমাদ গণনা করে। আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে যুক্তকরে সে যেন সদা-সর্বদাই কী যাচ্ঞা করে। তার আর্তি, তার প্রেম দুইই আমার পক্ষে ভোলা অসম্ভব।---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥ . **************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কিবা সে কহিব বন্ধুর পিরীতি ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৬৮৪ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৫৪ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৩।৫৫ সংখ্যক পদ। ॥ বিভাষ॥ কিবা সে কহিব বঁধুর পিরিতি তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া মুখ নিরখয়ে পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পান সাজাইয়া মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া আদর করিয়া মুখে মুখ দিয়া নেয়॥ মরোঁ মরোঁ সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে আছয়ে এখনে মোরে কাছে না দেখিয়া॥ করতলে ঘন বদন মাজই বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ সকলি সোঁপিলুঁ ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল নানা সুখ দিয়া বচন ঠেলিতে নারি। যখন যেমতি করে অনুমতি তখন তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি কথাটি কহিতে সোয়াস্ত ন পাঙ হিয়া। বলরাম কহে মরি যাই হেন পিরিতি বালাই লৈয়া॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কিবা সে কহিব, বন্ধুর পিরীতি, তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া, মুখ নিরখিয়া, পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পাণ সাজাইয়া, মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া, আদর করিয়া, মুখে মুখ দিয়া লেয়॥ মরোঁ মরোঁ সই! বন্ধুর বালাই লৈয়া না জানি কেমনে, আছয়ে বন্ধুয়া, মোরে কাছে না দেখিয়া॥ ধ্রু॥ করতলে ঘন, বদন মাজই, বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ, সকলি সোঁপিলুঁ, ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল, নানা সুখ দিয়া, বচন ঠেলিতে নারি। যখন যেমতি, করে অনুমতি, তখনি তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি, কথাটি কহিতে, সোয়াস্ত না পাঙ হিয়া। বলরাম কহে, মরি যাই হেন, পিরীতি বালাই লৈয়া॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ কি বা সে কহিব, বঁধুর পিরীতি, তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া, মুখ নিরখিয়া, পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে, পাণ সাজাইয়া, মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া, আদর করিয়া, মুখে মুখ দিয়া নেয়॥ মরি মরি সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে, আছয়ে এখনে, মোরে কাছে না দেখিয়া॥ করতলে ঘন, বদন মাজই, বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ, সকলি সোঁপিনু, ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল, নানা সুখ দিয়া, বচন ঠেলিতে নারি। যখনে যেমতি, করে অনুমতি, তখনে তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি, কথাটি কহিতে, সোয়াস্ত না পাঙ হিয়া। বলরাম কহে, মরি যাই হেন, পিরীতি বালাই লৈয়া॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কিবা সে কহিব, বঁধুর পিরীতি, তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া, মুখ নিরখিয়া, পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পাণ সাজাইয়া, মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া, আদর করিয়া, মুখে মুখ দিয়া নেয়॥ মরি মরি সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে, আছয়ে এখনে, মোরে কাছে না দেখিয়া॥ করতলে ঘন, বদন মাজই, বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ, সকলি সোঁপিনু, ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল, নানা সুখ দিয়া, বচন ঠেলিতে নারি। যখনে যেমতি, করে অনুমতি, তখনে তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি, কথাটি কহিতে, সোয়াস্ত না পাঙ হিয়া। বলরাম কহে, মরি যাই হেন, পিরীতি বালাই লৈয়া॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৬- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কিবা সে কহিব বঁধুর পিরীতি তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া মুখ নিরখিয়া পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পাণ সাজাইয়া মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া আদর করিয়া মুখেমুখ দিয়া নেয়॥ মরি মরি সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে আছয়ে এখনে মোরে কাছে না দেখিয়া॥ করতলে ঘন বদন মাজই বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ সকলি সোঁপিনু ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল নানা সুখ দিয়া বচন ঠেলিতে নারি। যখন যেমতি করে অনুমতি তখন তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি কথাটি কহিতে সোয়াস্ত ন পাঙ হিয়া। বলরাম কহে মরি যাই হেন পিরীতি বালাই লৈয়া॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥ কিবা সে কহিব বঁধুর পিরিতি তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া মুখ নিরখয়ে পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পান সাজাইয়া মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া আদর করিয়া মুখে মুখ দিয়া নেয়॥ মরোঁ মরোঁ সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে আছয়ে এখনে মোরে কাছে না দেখিয়া॥ ধ্রু॥ করতলে ঘন বদন মাজই বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ সকলি সোঁপিলুঁ ধৈরজ পাওল চুর১॥ মরম বান্ধল নানা সুখ দিয়া বচন ঠেলিতে নারি২। যখন যেমতি করে অনুমতি তখন তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি কথাটি কহিতে সোয়াস্ত ন পাঙ হিয়া৩। বলরাম কহে মরি যাই হেন পিরিতি বালাই লৈয়া॥ টীকা - ১। বন্ধু বলে যে তোমার অঙ্গস্পর্শ করিবার অধিকার লাভ করিতে আমি সমস্ত অর্পণ করিলাম। এই সকল কথায় আমার ধৈর্য্য চুরমার হইল। ২। এইরূপ নানা সুখ দিয়া আমার মনকে এমন বাঁধিয়া ফেলিয়াছে যে, আমি আর তাহার কথা রক্ষা না করিয়া পারি না। ৩। সখি! এই যে তোমার সঙ্গে অল্পক্ষণের জন্য কথা কহিতেছি, ইহাতেও সোয়াস্তি পাইতেছি না। সর্ব্বদাই মনে উত্কণ্ঠা যে বন্ধু আমার এতক্ষণ আমাকে না দেখিয়া কি যেন করিতেছেন! এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ কিবা সে কহিব বঁধুর পিরীতি তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া মুখ নিরখয়ে পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পাণ সাজাইয়া মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া আদর করিয়া মুখে মুখ দিয়া নেয়॥ মরোঁ মরোঁ সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে আছয়ে এখনে মোরে কাছে না দেখিয়া॥ করতলে ঘন বদন মাজই বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ সকলি সোঁপিলুঁ ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল নানা সুখ দিয়া বচন ঠেলিতে নারি। যখন যেমতি করে অনুমতি তখনি তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি কথাটি কহিতে সোয়াস্ত ন পাঙ হিয়া। বলরাম কহে মরি যাই হেন পিরীতি বালাই লৈয়া॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কিবা সে কহিব বঁধুর পিরিতি তুলনা দিব যে কিসে। সমুখে রাখিয়া মুখ নিরখিয়ে পরাণ অধিক বাসে॥ আপনার হাতে পাণ সাজাইয়া মোর মুখ ভরি দেয়। মোর মুখে দিয়া, আদর করিয়া মুখে মুখ দিয়া নেয়॥ মরোঁ মরোঁ সই বঁধুর বালাই লৈয়া। না জানি কেমনে আছয়ে এখনে মোরে কাছে না দেখিয়া॥ করতলে ঘন বদন মাজই বসন করয়ে দূর। পরশিতে অঙ্গ সকলি সোঁপিলুঁ ধৈরজ পাওল চূর॥ মরম বান্ধল নানা সুখ দিয়া বচন ঠেলিতে নারি। যখন যেমতি করে অনুমতি তখনি তেমতি করি॥ তোর সঞে সখি কথাটি কহিতে সোয়াস্ত ন পাঙ হিয়া। বলরাম কহে মরি যাই হেন পিরিতি বালাই লৈয়া॥ . **************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |