| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| নদীয়া-আকাশে আসি উদিল গৌরাঙ্গশশী ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে গৌরাঙ্গের জন্ম-কালে ঘটে যাওয়া চন্দ্র গহণের কথা আছে, যা NASA-র রেকর্ডে সত্য বলে প্রমাণিত। ॥ কল্যাণ॥ নদীয়া-আকাশে আসি উদিল গৌরাঙ্গশশী ভাসিল সকলে কুতূহলে। লাজেতে গগনশশী মাখিল বদনে মসি কাল পেয়ে গ্রহণের ছলে॥ বামাগণ উচ্চস্বরে জয় জয় ধ্বনি করে ঘরে ঘরে বাজে ঘণ্টা শাক। দামামা দগড় কাঁসি সানা ভেউড় বাঁশী তুরী ভেরী আর জয়ঢাক॥ মিশ্র জগন্নাথ মন মহানন্দে নিমগণ শচীর সুখের সীমা নাই। দেখিয়া নিমাই-মুখ ভুলিলা প্রসবদুখ অনিমিখে পুত্র-মুখ চাই॥ গ্রহণের অন্ধকারে কেহ না চিহ্নয়ে কারে দেব-নরে হৈল মিশামিশি। নদীয়া-নাগরী সঙ্গে দেবনারী আসি রঙ্গে হেরিছে গৌরাঙ্গ-রূপরাশি॥ পুত্রের বদন দেখি জগন্নাথ মহাসুখী করে দান দরিদ্র সকলে। ভুবন আনন্দময় গৌরবিধু সমুদয় বাসু কহে জীব-ভাগ্যফলে॥ এই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর - তেওট॥ নদীয়া আকাশে আসি, উদিল গৌরাঙ্গ শশী, ভাসিল সকলে কুতূহলে। লাজেতে গগন শশী, মাখিল বদনে মসী, কাল পেয়ে গ্রহণের ছলে॥ বামাগণ উচ্চস্বরে, জয় জয় ধ্বনি করে, ঘরে ঘরে বাজে ঘণ্টা শাক। দামামা দগড় কাঁসি, সানাই ভেঁউড় বাঁশী, তুরী ভেরী আর জয় ঢাক॥ মিশ্র জগন্নাথ মন, মহানন্দে নিমগণ, শচীর সুখের সীমা নাই। দেখিয়া নিমাইর মুখ, ভুলিলা প্রসব দুখ, অনিমিখে পুত্রমুখ চাই॥ গ্রহণের অন্ধকারে, কেহনা চিহ্নয়ে কারে, দেব নরে হৈল মিশা মিশি। নদীয়া নাগরী সঙ্গে, দেবনারী আসি রঙ্গে, হেরিছে গৌরাঙ্গ রূপরাশি॥ পুত্রের বদন দেখি, জগন্নাথ মহা সুখী, করে দান দরিদ্র সকলে। ভুবন আনন্দময়, গৌরবিধু সমুদয়, বাসু কহে জীব ভাগ্য ফলে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাব ॥ কল্যাণ॥ নদীয়া আকাশে আসি উদিল গৌরাঙ্গশশী ভাসিল সকলে কুতূহলে। লাজেতে গগনশশী মাখিল বদনে মসী কাল পেয়ে গ্রহণের ছলে॥ বামাগণ উচ্চস্বরে জয় জয় ধ্বনি করে ঘরে ঘরে বাজে ঘণ্টা শাঁখ। দামামা দগড় কাঁসি সানা ভেঁউড় বাঁশী তুরী ভেরী আর জয়ঢাক॥ মিশ্র জগন্নাথ মন মহানন্দে নিমগণ শচীর সুখের সীমা নাই। দেখিয়া নিমাইমুখ ভুলিলা প্রসব দুখ অনিমিখে পুত্রমুখ চাই॥ গ্রহণের অন্ধকারে কেহ না চিহ্নয়ে কারে দেব নরে হৈল মিশামিশি। নদীয়া নাগরী সঙ্গে দেবনারী আসি রঙ্গে হেরিছে গৌরাঙ্গ রূপরাশি॥ পুত্রের বদন দেখি জগন্নাথ মহাসুখী করে দান দরিদ্র সকলে। ভুবন আনন্দময় গৌরবিধু সমুদয় বাসু কহে জীবভাগ্যফলে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণ॥ নদীয়া আকাশে আসি উদিল গৌরাঙ্গশশী ভাসিল সকলে কুতূহলে। লাজেতে গগনশশী মাখিল বদনে মসী কাল পেয়ে গ্রহণের ছলে॥ বামাগণ উচ্চস্বরে জয় জয় ধ্বনি করে ঘরে ঘরে বাজে ঘণ্টা শাঁক। দামামা দগড় কাঁসি সানাই ভেঁউড় বাঁশী তুরী ভেরী আর জয়ঢাক॥ মিশ্র জগন্নাথ মন মহানন্দে নিমগণ শচীর সুখের সীমা নাই। দেখিয়া নিমাই মুখ ভুলিলা প্রসবদুখ অনিমিখে পুত্র মুখ চাই॥ গ্রহণের অন্ধকারে কেহ না চিহ্নয়ে কারে দেব নরে হৈল মিশামিশি। নদীয়া-নাগরী সঙ্গে দেবনারী আসি রঙ্গে হেরিছে গৌরাঙ্গ রূপরাশি॥ পুত্রের বদন দেখি জগন্নাথ মহাসুখী করে দান দরিদ্র সকলে। ভুবন আনন্দময় গৌরবিধু সমুদয় বাসু কহে জীবভাগ্যফলে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিশিপরভাতে বসি আঙ্গিনাতে বিরস বদনখানি ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ নিশি পরভাতে বসি আঙ্গিনাতে বিরস বদন খানি। গৌরাঙ্গ চাঁদের হেন ব্যবহার এমতি কভু না জানি॥ সই এমতি করিল কে। গোরা গুণনিধি বিধির অবধি তাহারে পাইল সে॥ ধ্রু॥ কস্তুরি চন্দন করি ঘরিষণ গাথিয়া ফুলের মালা। বিচিত্র পালঙ্কে, শেজ বিছাইনু শুইবে শচির বালা॥ হেদে গো সজনী সকল রজনী জাগিয়া পোহাল বসি। তিলে তিনবার দণ্ডে শতবার মন্দিরে বাহিরে আসি॥ বাসু ঘোষ বলে গৌরাঙ্গ আইলে এখনি কহিব তারে। হেথা না আয়ল রজনী বঞ্চল আছিল কাহার ঘরে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস-দশকুশি॥ নিশিপরভাতে, বসি আঙ্গিনাতে, বিরস বদনখানি। গৌরাঙ্গচাঁদের হেন ব্যবহার, এমতি কভু না জানি॥ সই এমতি করিল কে? গোরা গুণনিধি, বিধির অবিধি, তাহারে পাইল সে॥ ধ্রু॥ কস্তুরি চন্দন, করি বরিষণ, গাঁথিয়া ফুলের মালা। বিচিত্র পালঙ্কে, শেজ বিছাইনু, শুইবে শচীর বালা॥ হে দে গো সজনি, সকল রজনী, জাগিয়া পোহাল বসি। তিলে তিনবার, দণ্ডে শতবার, মন্দির বাহিরে আসি॥ বাসু ঘোষ বলে, গৌরাঙ্গ আইলে, এখনি কহিব তাহে। হেথা না আয়ল, রজনী বঞ্চল, আছিল কাহার ঘরে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। খণ্ডিতা ॥ বিভাস-দশকোশি॥ নিশিপরভাতে বসি আঙ্গিনাতে বিরস বদনখানি। গৌরাঙ্গচাঁদের হেন ব্যবহার এমতি কভু না জানি॥ সই এমতি করিল কে। গোরা গুণনিধি বিধির অবিধি তাহারে পাইল সে॥ ধ্রু॥ কস্তুরি চন্দন করি বরিষণ গাঁথিয়া ফুলের মালা। বিচিত্র পালঙ্কে শেজ বিছাইনু শুইবে শচীর বালা॥ হে দে গো সজনি সকল রজনী জাগিয়া পোহালুঁ বসি। তিলে তিনবার দণ্ডে শতবার মন্দির বাহিরে আসি॥ বাসু ঘোষ বলে গৌরাঙ্গ আইলে এখনি কহিব তারে। হেথা না আয়ল রজনী বঞ্চল আছিল কাহার ঘরে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস - দশকুশি॥ নিশি পরভাতে বসি আঙ্গিনাতে বিরস বদন খানি। গৌরাঙ্গচাঁদের হেন ব্যবহার এমতি কভু না জানি॥ সই এমতি করিল কে? গোরা গুণনিধি বিধির অবধি তাহারে পাইল সে॥ ধ্রু॥ কস্তুরি চন্দন করি বরিষণ গাঁথিয়া ফুলের মালা। বিচিত্র পালঙ্কে শেজ বিছাইনু শুইবে শচীর বালা॥ হেদেগো সজনি সকল রজনী জাগিয়া পোহাল বসি। তিলে তিনবার দণ্ডে শতবার মন্দির বাহিরে আসি॥ বাসু ঘোষ বলে গৌরাঙ্গ আইলে এখনি কহিব তাহে। হেথা না আয়ল রজনী বঞ্চল আছিল কাহার ঘরে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সো বহুবল্লভ গোরা জগতের মনচোরা সে বহুবল্লভ গোরা জগতের মনচোরা ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ সো বহুবল্লভ গোরা জগতের মনচোরা। তবে কেন আমার করিতে চাই একা। হেন ধন অন্যে দিতে পারে বল কার চিতে ভাগাভাগি নাহি যায় দেখা॥ সজনি লো মনের মরম কই তোরে। না হেরি গৌরাঙ্গ-মুখ বিদরিয়া যায় বুক কে চুরি করিল মনচোরে॥ ধ্রু॥ লও কুল লও মান লও শীল লও প্রাণ লও মোর জীবন যৌবন। দেও মোরে গোরানিধি যাহে চাহি নিরবধি সেই মোর সরবস ধন॥ ন তু সুরধুনীনীরে পশিয়া তেজিব প্রাণ পরাণের পরাণ মোর গোরা। বাসুদেব ঘোষে কয় সে ধন দিবার নয় দণ্ডে দণ্ডে তিলে হই হারা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ বিভাস॥ সে বহুবল্লভ গোরা জগতের মনচোরা আমার করিতে চাই একা। হেন ধন অন্যে দিতে পারে বল কার চিতে ভাগাভাগি নাহি যায় দেখা॥ সজনি লো মনের মরম কই তোরে। না হেরি গৌরাঙ্গমুখ বিদরিয়া যায় বুক কে চুরি করিল মনচোরে॥ ধ্রু॥ লও কুল লও মান লও শীল লও প্রাণ লও মোর জীবন যৌবন। দেও মোরে গোরানিধি যাহে চাহি নিরবধি সেই মোর সরবস ধন॥ ন তু সুরধুনীনীরে পশিয়া তেজিব প্রাণ পরাণের পরাণ মোর গোরা। বাসুদেব ঘোষে কয় সে ধন দিবার নয় দণ্ডে দণ্ডে তিলে হই হারা॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন । ॥ বিভাস॥ সো বহুবল্লভ গোরা জগতের মনচোরা। তবে কেন আমার করিতে চাই একা। হেন ধন অন্যে দিতে পারে বল কার চিতে ভাগাভাগি নাহি যায় দেখা॥ সজনি লো মনের মরম কই তোরে। না হেরি গৌরাঙ্গ-মুখ বিদরিয়া যায় বুক কে চুরি করিল মনচোরে॥ ধ্রু॥ লও কুল লও মান লও শীল লও প্রাণ লও মোর জীবন যৌবন। দেও মোরে গোরানিধি যাহে চাহি নিরবধি সেই মোর সরবস ধন॥ নতু সুরধুনীতিরে পশিয়া তেজিব প্রাণ পরাণের পরাণ মোর গোরা। বাসুদেব ঘোষে কয় সে ধন দিবার নয় দণ্ডে দণ্ডে তিলে হই হারা॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |