কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
দেখিয়া আয়লুঁ গোরাচাঁদে
দেখিয়া আইনু গোরাচাঁদে
দেখিয়া আলুঁ গোরাচাঁদে
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দেখিয়া আয়লুঁ গোরাচাঁদে।        সেই হৈতে প্রাণ মোর কাঁদে॥
মন মোর করে ছন ছন।           না দেখিলে ও চাঁদ বদন॥
গৃহকাজে নাহি রহে চিত।         না দেখিয়া গৌরচরিত॥
অনুপম গৌরাঙ্গ-মহিমা।          বাসুদেব না পায়েন সীমা॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখিয়া আইনু গোরাচাঁদে।
সেই হৈতে প্রাণ মোর কান্দে॥
মন মোর করে ছন ছন।
না দেখিয়া ও চাঁদ বদন॥
গৃহ কাজে স্থির নহে চিত।
না দেখিয়া গোরার চরিত॥
অনুপম গোরার মহিমা।
বাসুদেব না পাইল সীমা॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

দেখিয়া আলুঁ গোরাচাঁদে।
সেই হৈতে প্রাণ মোর কাঁদে॥
মোন মোর করে ছল ছল।
না দেখিলে বদন কমল॥
গ্রিহ কাজে স্থির নহে চিত।
না দেখিলে গৌর চরিত॥
অনুপম গৌর মহিমা।
বাসুদেব না পাওল সীমা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিশি শেষে ছিনু ঘুমের ঘোরে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

নিশি শেষে ছিনু ঘুমের ঘোরে।
গৌর নাগর পরিরম্ভিল মোরে॥
গণ্ডে কয়ল সোই চুম্বন দান।
কয়ল অধরে অধররস পান॥
ভাঙ্গল নিদ নাগর চলি গেল।
অচেতনে ছিনু চেতনা ভেল॥
লাজে তেয়াগিনু শয়নগেহ।
বাসু কহে তুয়া কপট লেহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ বিভাস॥

নিশি শেষে ছিনু ঘুমের ঘোরে।
গৌর নাগর পরিরম্ভিল মোরে॥
গণ্ডে কয়ল সোই চুম্বন দান।
কয়ল অধরে অধররস পান॥
ভাঙ্গল নিদ নাগর চলি গেল।
অচেতনে ছিনু চেতনা ভেল॥
লাজে তেয়াগিনু শয়নগেহ।
বাসু কহে তুয়া কপট লেহ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ বিভাস॥

নিশি শেষে ছিনু ঘুমের ঘোরে।
গৌর নাগর পরিরম্ভিল মোরে॥
গণ্ডে কয়ল সোই চুম্বন দান।
কয়ল অধরে অধররস পান॥
ভাঙ্গল নিদ নাগর চলি গেল।
অচেতনে ছিনু চেতনা ভেল॥
লাজে তেয়াগিনু শয়ন গেহ।
বাসু কহে তুয়া কপট লেহ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শয়ন-মন্দিরে আজু শুতিয়া আছিলু
শয়নমন্দিরে হাম শুতিয়া আছিলা
শয়নমন্দিরে হাম শুতিয়া আছিলুঁ
শয়ন মন্দিরে সঞি শুতিয়া আছিনু
ভণিতা বাসু ঘোষ / বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত
ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনঃ স্পষ্টমাহ - (বিভাষ)

শয়ন-মন্দিরে আজু শুতিয়া আছিলু। নিশির স্বপনে গৌরাচাঁদেরে দেখিনু॥
সেই হৈতে প্রাণ পোড়ে শুন গো সজনি! গোরারূপ পড়ে মনে দিবস-রজনী॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল অন্তরে। বসন তিতিল মোর নয়নের নারে॥
আবেশে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়। গোরাভাব মনে গুণি বাসুদেব গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

শয়নমন্দিরে হাম শুতিয়া আছিলা।
নিশির স্বপনে আজি গৌরাঙ্গ দেখিলা॥
সেই হৈতে প্রাণ পোড়ে শুন গো সজনি।
গোরারূপ মনে পড়ে দিবস রজনী॥
গোরা গোরা করি কি হৈল অন্তরে।
বসন ভিজিল মোর নয়নের লোরে॥
অলসে অবশ গা ধরণে না যায়।
গোরাভাব মনে করি বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ভূপাল॥

শয়নমন্দিরে হাম শুতিয়া আছিলুঁ।
নিশির স্বপনে আজি গৌরাঙ্গ দেখিলুঁ॥
সেই হৈতে প্রাণ পোড়ে শুন গো সজনি।
গোরারূপ মনে পড়ে দিবস রজনী॥
গোরা গোরা করি সখি কি হৈল অন্তরে।
বসন ভিজিল মোর নয়নের লোরে॥
আলসে অবশ গা ধরণে না যায়।
গোরাভাব মনে করি বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শয়ন মন্দিরে সঞি শুতিয়া আছিনু।
.                নিশির স্বপনে আজি
.                        গোরারে দেখিনু॥
সেইহৈতে প্রাণ কান্দে শুনগো সজনি।
গোরারূপ পড়ে এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত
“প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শমনে দিবস রজনী॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল অন্তরে।
বসন তিতিয়া গেল নয়নের জলে॥
আলসে অলস গা---
.                ধরণে না জায়।
গোরাভাব মনে গুনি বাসুদেব গায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

শয়নমন্দিরে আজু শুতিয়া আছিলু।
নিশির স্বপনে গোরাচাঁদেরে দেখিনু॥
সেই হৈতে প্রাণ পোড়ে শুন গো সজনি।
গোরারূপ পড়ে মনে দিবস রজনী॥
গোরা গোরা করি কি হৈল অন্তরে।
বসন তিতিল মোর নয়ানের নীরে॥
আবেশে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
গোরাভাব মনে গুণি বাসুদেব গায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজুক প্রেম কহনে নাহি যায়
আজুক প্রেম কহনে নাহি জায়
আজুক প্রেম কহনে না জায়
ভণিতা বাসুদেব / বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

আজুক প্রেম কহনে নাহি যায়।
শুতি রহুল হাম শেজ বিছায়॥
রুনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু নূপুর পায়।
পেখলু গৌরাঙ্গ বর নটরায়॥
আঁচলে রাখনু আঁচল ছাপাই।
বিদগধ নাগর চৌদিকে চাই॥
বহু সুখ পায়ল গোরা নটরায়।
বাসুদেব কহে রস কহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

আজুক প্রেম কহনে নাহি যায়।
শুতি রহুল হাম শেজ বিছায়॥
রুনু ঝুনু ঝুনু ঝুনু নূপুর পায়।
পেখলুঁ গৌরাঙ্গ বর নটরায়॥
চঞ্চলে রাখনু অঞ্চল ছাপাই।
বিদগধ নাগর চৌদিকে চাই॥
বহু সুখ পায়লুঁ পাই গোরা রায়।
বাসুদেব কহে রস কহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজুক প্রেম কহনে না জায়।
শুতি রহুল হাম সেজ বিছায়॥
রুনু ঝুনু রুণু ঝুনু নূপুর পায়।
আঁচরে রাখিনু আপনা ছাপায়॥
বিদগধ নাগর চৌদিকে চাই।
চমকি চমকি বৈঠল মধু গেই॥
কোমল কর দেওল মঝু দেহা।
চোর চোর করি ফুকুরনু তাহা॥
বাসুদেব ঘোষ কহে রস কহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলিরাগ॥

আজুক প্রেম কহনে নাহি জায়।
শুতি রহুল হাম সেজ বিছায়॥
রুনু ঝুনু রুনু ঝুনু নূপুর পায়।
পেখলু গৌরাঙ্গ বর নটরায়॥
চমকি বৈঠল হাম গৌরকি ঠায়।
কোমল কর দেল মঝু গায়॥
চৌর চৌর বলি ফুকারল তায়।
বাসুদেব ঘোষ কয় এমন রস কহনে না জায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বসিলা গৌরাঙ্গচাঁদ রত্নসিংহাসনে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী-দশকুশি॥

বসিলা গৌরাঙ্গচাঁদ রত্নসিংহাসনে।
শ্রীবাস পণ্ডিত অঙ্গে লেপয়ে চন্দনে॥
গদাধর দিল গলে মালতীর মালা।
রূপের ছটায় দশদিক্ হৈল আলা॥
বহু উপহার যত মিষ্টান্ন পকান্ন।
নিত্যানন্দ সহ বসি করিলা ভোজন॥
তাম্বুল ভক্ষণ করি বসিলা আসনে।
শচীদেবী আইলেন মালিনীর সনে॥
পঞ্চদীপ জ্বালি তেঁহ আরতি করিলা।
নীরাজন করি শিরে ধান্য দূর্ব্বা দিলা॥
ভক্তগণ করি সবে পুষ্প বরিষণ।
অদ্বৈত আচার্য্য দেই তুলসী চন্দন॥
দেখিতে আইসে দেবনরে একসঙ্গে।
নিত্যানন্দ ডাহিনে বসিয়া দেখে রঙ্গে॥
গোরা-অভিষেক এই অপরূপ লীলা।
গোবিন্দ মাধব বাসু প্রেমেতে ভাসিলা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
জয় জয় ধ্বনি উঠে নদীয়ানগরে
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জয় জয় ধ্বনি উঠে নদীয়ানগরে।
গোরা-অভিষেক আজি পণ্ডিতের ঘরে॥
“এনেছি, এনেছি” বলে অদ্বৈত গোসাঞী।
মহা হুহুঙ্কার ছাড়ে বাহ্যজ্ঞান নাই॥
বাহু তুলি নাচে “নাড়া” তাধিয়া তাধিয়া।
পাছে পাছে হরিদাস ফিরেন নাচিয়া॥
শ্রীবাস শ্রীপতি আর শ্রীনিধি শ্রীরাম।
হর্ষভরে নৃত্য করে নয়নাভিরাম॥
জয় রে গৌরাঙ্গ জয় অদ্বৈত নিতাই।
বলি ভক্তগণ আসে করি ধাওয়াধাই॥
কেহ প্রেমে নাচে গায় কেহ প্রেমে হাসে।
গোরা-অভিষেক-লীলা গায় বাসুঘোষে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক

জয় জয় ধ্বনি উঠে নদীয়া নগরে।
গোরা অভিষেক আজি পণ্ডিতের ঘরে॥
এনেছি এনেছি বলে অদ্বৈত গোসাঞী।
মহা হুহুঙ্কার ছাড়ে বাহ্যজ্ঞান নাই॥
বাহু তুলে নাচে নাড়া তাধিয়া তাধিয়া।
পাছে পাছে হরিদাস ফিরেন নাচিয়া॥
শ্রীবাস শ্রীপতি আর শ্রীনিধি শ্রীরাম।
হর্ষভরে নৃত্য করে নয়নাভিরাম॥
জয় রে গৌরাঙ্গ জয় অদ্বৈত নিতাই।
বলি ভক্তগণ আসে করি ধাওয়াধাই॥
কেহ প্রেমে নাচে গায় কেহ প্রেমে হাসে।
গোরা অভিষেকলীলা গায় বাসুঘোষে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জয় জয় ধ্বনি উঠে নদীয়ানগরে।
গোরা অভিষেক আজি পণ্ডিতের ঘরে॥
‘এনেছি, এনেছি’ বলে অদ্বৈত গোসাঞী।
মহা হুহুঙ্কার ছাড়ে বাহ্যজ্ঞান নাই॥
বাহু তুলি নাচে ‘নাড়া’ তাধিয়া তাধিয়া।
পাছে পাছে হরিদাস ফিরেন নাচিয়া॥
শ্রীবাস শ্রীপতি আর শ্রীনিধি শ্রীরাম।
হর্ষভরে নৃত্য করে নয়নাভিরাম॥
জয় রে গৌরাঙ্গ জয় অদ্বৈত নিতাই।
বলি ভক্তগণ আসে করি ধাওয়াধাই॥
কেহ প্রেমে নাচে গায় কেহ প্রেমে হাসে।
গোরা অভিষেকলীলা গায় বাসু ঘোষে॥

মন্তব্য -
গৌরাঙ্গের অভিষেক অবলম্বন করে যে কয়জন প্রত্যক্ষদর্শী কবি পদ রচনা করেছেন তার
মধ্যে বাসুদেব ঘোষই সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় পদ লিখেছেন। আলোচ্য পদটিতে  
গৌরাঙ্গের প্রিয় সহচর এবং ভক্তরা তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠানের আনন্দে কেমন বিভোর
হয়ে নৃত্য করেছিলেন কবি তারই উজ্জ্বল চিত্র রচনা করেছেন। এঁদের মধ্যে অদ্বৈত আচার্য
বার বার বলেছিলেন যে তিনিই তাঁর ভক্তির জোরে কৃষ্ণকে গৌরাঙ্গের অবয়বে নবদ্বীপে
এনেছেন। বস্তুত বেশীরভাগ ভক্তই এর সত্যতা স্বীকার করতেন।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা অভিষেক কথা অদ্ভুত কথন
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গোরা অভিষেক কথা অদ্ভুত কথন।
শুনিয়া পণ্ডিত ঘরে ধায় ভক্তগণ॥
ধাওয়াধাই করি আসি নাচি কুতূহলে।
দুবাহু তুলিয়া জয় গোরাচাঁদ বলে॥
চাঁদ নাচে সুর্য্য নাচে নাচে তারাগণ।
ব্রহ্মা নাচে বায়ু নাচে সহস্রলোচন॥
অরুণ বরুণ নাচে সব সুরগণ।
পাতালে বাসুকি নাচে নাচে নাগগণ॥
স্বর্গ নাচে মর্ত্ত্য নাচে নাচয়ে পাতাল।
পরম আনন্দে নাচে দশ দিক্পাল॥
আনন্দে ভকতগণ করে হুহুঙ্কার ৷
এ বাসু ঘোষের মনে আনন্দ অপার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক
॥ ধানশী॥

গোরা অভিষেক কথা অদ্ভুত কথন।
শুনিয়া পণ্ডিত ঘরে ধায় ভক্তগণ॥
ধাওয়াধাই করি আসি নাচি কুতূহলে।
দুবাহু তুলিয়া জয় গোরাচাঁদ বলে॥
চাঁদ নাচে সুর্য্য নাচে নাচে তারাগণ।
ব্রহ্মা নাচে বায়ু নাচে সহস্রলোচন॥
অরুণ বরুণ নাচে সব সুরগণ।
পাতালে বাসুকি নাচে নাচে নাগগণ॥
স্বর্গ নাচে মর্ত্ত্য নাচে নাচয়ে পাতাল।
পরম আনন্দে নাচে দশ দিক্পাল॥
আনন্দে ভকতগণ করয়ে হুঙ্কার ৷
এ বাসু ঘোষের মনে আনন্দ অপার॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গোরা অভিষেক কথা অদ্ভুত কথন।
শুনিয়া পণ্ডিত ঘরে ধায় ভক্তগণ॥
ধাওয়াধাই করি আসি নাচি কুতুহলে।
দুবাহু তুলিয়া জয় গোরাচাঁদ বলে॥
চাঁদ নাচে সুর্য্য নাচে নাচে তারাগণ।
ব্রহ্মা নাচে বায়ু নাচে সহস্রলোচন॥
অরুণ বরুণ নাচে সব সুরগণ।
পাতালে বাসুকী নাচে নাচে নাগগণ॥
স্বর্গ নাচে মর্ত্ত্য নাচে নাচয়ে পাতাল।
পরম আনন্দে নাচে দশ দিক্পাল॥
আনন্দে ভকতগণ করে হুহুঙ্কার ৷
এ বাসু ঘোষের মনে আনন্দ অপার॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অগোর চন্দন লেপিয়া গোরা গায়
অগুরু চন্দন লেপিয়া গোরাগায়
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের পুথি
(সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অগোর চন্দন লেপিয়া গোরা গায়।
প্রিয় পারিষদগণ চামর ঢুলায়॥
অনিট সলিল কেহ ধরি নিজ করে।
মোনের মানসে ঢালে গৌরকলেবরে॥
চান্দ জিনিঞা মুখ অধিক বিরাজে।
মালতী ফুলের মালা গোরা অঙ্গে সাজে॥
অরুণ বসন সাজে নানা অভরণে।
বাসুদেব গোরারূপ করে নিরিক্ষণে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

অগুরু চন্দন লেপিয়া গোরাগায়।
প্রিয় পারিষদগণ চামর ঢুলায়॥
আনি সলিল কেহ ধরি নিজকরে।
মনের মানসে ঢালে গৌরাঙ্গ উপরে॥
চাঁদ জিনিয়া মুখ অধিক করি মাজে।
মালতী ফুলের মালা গোরা-অঙ্গে সাজে॥
অরুণ বসন সাজে নানা আভরণে।
বাসুদেব ওই রূপ করে নিরিখনে॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অগোর চন্দন লেপিয়া গোরা গায়।
প্রিয় পারিষদগণ গোরা গুণ গায়॥
আনি চামর কেহ ধরি নিজ করে।
মনের মানসে ঢুলায় গোরার উপরে॥
মালতী ফুলের মালা গোরা অঙ্গে সাজে॥
চাঁদ জিনিঞা মুখ করি রাজে।
অরুণ বসন সাজে নানা আভরণে।
বাসুদেব গোরারূপ করে নিরীক্ষণে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ ওড়ি॥

অগোর চন্দন লেপিয়া গোরা গায়।
প্রিয় পারিষদগণ চামর ঢুলায়॥
অনিট চামর কেহ ধরি নিজ করে।
মোনের মানসে ঢালে গৌরকলেবরে॥
চান্দ জিনিঞা মুখ অধিক বিরাজে।
মালতী ফুলের মালা গোরা অঙ্গে সাজে॥
অরুণ বসন সাজে নানা অভরণে।
বাসুদেব গোরারূপ করে নিরক্ষণে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ভাবাবেশে গৌরকিশোর
দেখ দেখ ভাবাবেশে গৌর কিশোর
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - দশকুশী॥

ভাবাবেশে গৌরকিশোর।
স্বরূপের মুখে শুনি                মানলীলা দ্বিজমণি
ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥
রাধাকুণ্ড রাধাকুণ্ড                বলি নাচে ভূজদণ্ড
প্রেমধারা বহে দুনয়নে।
না বুঝি ভাবের গতি          ধীরে ধীরে করে গতি
গজরাজ জিনিয়া গমনে॥
যাইয়া যমুনাতটে                   বসি জলসন্নিকটে
ভাবনা করয়ে মনে মনে।
সে ভাবতরঙ্গ হেরি             কিছুই বুঝিতে নারি
রহিয়াছে হেট শ্রীবদনে॥
বাসুদেব ঘোষ ভণে                অনুভব যার মনে
রসিকে জানয়ে রসমর্ম্ম।
অনুভব নাহি যার                বেদ্য নাহি হয় তার
বৃথা তার হইল এ জন্ম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৭৩-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - দশকুশী॥

ভাবাবেশে গৌরকিশোর।
স্বরূপের মুখে শুনি                মান লীলা দ্বিজমণি
ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥
মুখে বলে রাধাকুণ্ড                নাচে তুলি ভূজদণ্ড
প্রেমধারা বহে দুনয়নে।
না বুঝি ভাবের গতি            ধীরে ধীরে করে গতি
গজরাজ জিনিয়া গমনে॥
যাইয়া যমুনাতটে                    বসি জলসন্নিকটে
ভাবনা করয়ে মনে মনে।
সে ভাবতরঙ্গ হেরি               কিছুই বুঝিতে নারি
রহিয়াছে হেঁট শ্রীবদনে॥
বাসুদেব ঘোষ ভণে                অনুভব যার মনে
রসিকে জানয়ে রস-ধর্ম্ম।
অনুভব নাহি যার                বেদ্য নাহি হয় তার
বৃথা তার হইল এ জন্ম॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ রাধাকুণ্ড-মিলন।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ধানশী - দশকুশী॥

দেখ দেখ ভাবাবেশে গৌর কিশোর।
স্বরূপের মুখে শুনি,                   মান-লীলা দ্বিজমণি,
ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥
রাধাকুণ্ড রাধাকুণ্ড বলি,              নাচে ভূজদণ্ড তুলি,
প্রেম ধারা বহে দুনয়নে।
না বুঝি ভাবের গতি,              ধীরে ধীরে করে গতি,
গজরাজ জিনিয়া গমনে॥
যাইয়া সুরধুনী তটে,                  বসি জল সন্নিকটে,
ভাবনা করয়ে মনে মনে।
সে ভাব তরঙ্গ হেরি,                কিছুই বুঝিতে নারি,
রহিয়াছে হেট বদনে॥
বাসুদেব ঘোষ ভণে,                  অনুভব যার মনে,
রসিকে জানয়ে রস-মর্ম্ম।
অনুভব নাহি যার,                 বোধ নাহি হয় তার,
বৃথা তার হইল এ জন্ম॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী  
সংকলন, ৭৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ ধানশী - দশকুশী॥

ভাবাবেশে গৌরকিশোর।
স্বরূপের মুখে শুনি                মানলীলা দ্বিজমণি
ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥
রাধাকুণ্ড রাধাকুণ্ড                বলি নাচে ভূজদণ্ড
প্রেমধারা বহে দু’নয়নে।
না বুঝি ভাবের গতি           ধীরে ধীরে করে গতি
গজরাজ জিনিয়া গমনে॥
যাইয়া যমুনাতটে                   বসি জলসন্নিকটে
ভাবনা করয়ে মনে মনে।
সে ভাব তরঙ্গ হেরি             কিছুই বুঝিতে নারি
রহিয়াছে শ্রীহেট বদনে॥
বাসুদেব ঘোষ ভণে                অনুভব যার মনে
রসিকে জানয়ে রসমর্ম্ম।
অনুভব নাহি যার                বেদ্য নাহি হয় তার
বৃথা তার হইল এ জন্ম॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরীদাস সঙ্গে কৃষ্ণকথারঙ্গে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী - দশকুশী॥

গৌরীদাস সঙ্গে, কৃষ্ণকথারঙ্গে, বসিলা গৌরহরি।
ভাবে হিয়া ভোর, ঘন দেয় কোর, দোহে গলা ধরাধরি॥
ভাব সম্বরিয়া, প্রভুরে বসাঞা গৌরীদাস গৃহ হৈতে।
চম্পকের মাল, আনিয়া তৎকাল, গলে দিল আচম্বিতে॥
চম্পকের হার, চাহে বারে বার, আমার গৌররায়।
রাধার বরণ, হইল স্মরণ, প্রেমধারা বহে গায়॥
প্রভু কহে বাস, গুন গৌরীদাস, মনেতে পড়িল রাধা।
বাসু ঘোষ কয়, রাই রসময়, দেখিতে হইল সাধা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সুবলমিলন
গৌরচন্দ্র
॥ রাগিণী ধানশ্রী - তাল একতালী॥

গৌরীদাস সঙ্গে, কৃষ্ণকথা রঙ্গে, বসিলেন গৌরহরি। ভাবে
হৈয়া ভোর, ঘন দিছে কোর, দোহে গলা ধরাধরি॥ ভাব সম্বরিয়া,
প্রভুরে বসাঞা, গৌরীদাস গৃহ হৈতে। চম্পকের মাল, আনিয়া
তৎকাল, গলে দিলা আচম্বিতে॥ চম্পকেরি হার, চাহে বারে বার,
আমার গৌরাঙ্গ রায়। রাধার বরণ, হইল স্মরণ, প্রেমধারা বহে
গায়॥ প্রভু কহে ভাষ, গুন গৌরীদাস, মনেতে পড়িল রাধা।
বাসু ঘোষ কয়, রাই রসময়, দেখিতে হইল সাধা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে
॥ ধানশ্রী - দশকুশী॥

গৌরীদাস সঙ্গে                        কৃষ্ণকথারঙ্গে
বসিলা গৌরহরি।
ভাবে হিয়া ভোর                   ঘন দেয় কোর
দোহে গলা ধরাধরি॥
ভাব সম্বরিয়া                       প্রভুরে বসাঞা
গৌরীদাস গৃহ হৈতে।
চম্পকের মাল                    আনিয়া তৎকাল
গলে দিল আচম্বিতে॥
চম্পকের হার                     চাহে বারে বার
আমার গৌর রায়।
রাধার বরণ                            হইল স্মরণ
প্রেমধারা বহি যায়॥
প্রভু কহে ভাষ                       শুন গৌরীদাস
মনেতে পড়িল রাধা।
বাসু ঘোষ কয়                         রাই রসময়
দেখিতে হইল সাধা॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী - দশকুশী॥

গৌরীদাস সঙ্গে                        কৃষ্ণকথা রঙ্গে
বসিলা গৌরহরি।
ভাবে হিয়া ভোর                     ঘন দেয় কোর
দোহে গলা ধরাধরি॥
ভাব সম্বরিয়া                        প্রভুরে বসাঞা
গৌরীদাস গৃহ হৈতে।
চম্পকের মাল                     আনিয়া তৎকাল
গলে দিল আচম্বিতে॥
চম্পকের হার                       চাহে বারে বার
আমার গৌররায়।
রাধার বরণ                              হইল স্মরণ
প্রেমধারা বয়ে গায়॥
প্রভু কহে ভাষ                        শুন গৌরীদাস
মনেতে পড়িল রাধা।
বাসু ঘোষ কয়                          রাই রসময়
দেখিতে হইল সাধা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর