| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| ভাবাবেশে গৌরকিশোর দেখ দেখ ভাবাবেশে গৌর কিশোর ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী - দশকুশী॥ ভাবাবেশে গৌরকিশোর। স্বরূপের মুখে শুনি মানলীলা দ্বিজমণি ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥ রাধাকুণ্ড রাধাকুণ্ড বলি নাচে ভূজদণ্ড প্রেমধারা বহে দুনয়নে। না বুঝি ভাবের গতি ধীরে ধীরে করে গতি গজরাজ জিনিয়া গমনে॥ যাইয়া যমুনাতটে বসি জলসন্নিকটে ভাবনা করয়ে মনে মনে। সে ভাবতরঙ্গ হেরি কিছুই বুঝিতে নারি রহিয়াছে হেট শ্রীবদনে॥ বাসুদেব ঘোষ ভণে অনুভব যার মনে রসিকে জানয়ে রসমর্ম্ম। অনুভব নাহি যার বেদ্য নাহি হয় তার বৃথা তার হইল এ জন্ম॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭৩-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী - দশকুশী॥ ভাবাবেশে গৌরকিশোর। স্বরূপের মুখে শুনি মান লীলা দ্বিজমণি ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥ মুখে বলে রাধাকুণ্ড নাচে তুলি ভূজদণ্ড প্রেমধারা বহে দুনয়নে। না বুঝি ভাবের গতি ধীরে ধীরে করে গতি গজরাজ জিনিয়া গমনে॥ যাইয়া যমুনাতটে বসি জলসন্নিকটে ভাবনা করয়ে মনে মনে। সে ভাবতরঙ্গ হেরি কিছুই বুঝিতে নারি রহিয়াছে হেঁট শ্রীবদনে॥ বাসুদেব ঘোষ ভণে অনুভব যার মনে রসিকে জানয়ে রস-ধর্ম্ম। অনুভব নাহি যার বেদ্য নাহি হয় তার বৃথা তার হইল এ জন্ম॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ রাধাকুণ্ড-মিলন। শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ ধানশী - দশকুশী॥ দেখ দেখ ভাবাবেশে গৌর কিশোর। স্বরূপের মুখে শুনি, মান-লীলা দ্বিজমণি, ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥ রাধাকুণ্ড রাধাকুণ্ড বলি, নাচে ভূজদণ্ড তুলি, প্রেম ধারা বহে দুনয়নে। না বুঝি ভাবের গতি, ধীরে ধীরে করে গতি, গজরাজ জিনিয়া গমনে॥ যাইয়া সুরধুনী তটে, বসি জল সন্নিকটে, ভাবনা করয়ে মনে মনে। সে ভাব তরঙ্গ হেরি, কিছুই বুঝিতে নারি, রহিয়াছে হেট বদনে॥ বাসুদেব ঘোষ ভণে, অনুভব যার মনে, রসিকে জানয়ে রস-মর্ম্ম। অনুভব নাহি যার, বোধ নাহি হয় তার, বৃথা তার হইল এ জন্ম॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন। ॥ ধানশী - দশকুশী॥ ভাবাবেশে গৌরকিশোর। স্বরূপের মুখে শুনি মানলীলা দ্বিজমণি ভাবিনীর ভাবেতে বিভোর॥ ধ্রু॥ রাধাকুণ্ড রাধাকুণ্ড বলি নাচে ভূজদণ্ড প্রেমধারা বহে দু’নয়নে। না বুঝি ভাবের গতি ধীরে ধীরে করে গতি গজরাজ জিনিয়া গমনে॥ যাইয়া যমুনাতটে বসি জলসন্নিকটে ভাবনা করয়ে মনে মনে। সে ভাব তরঙ্গ হেরি কিছুই বুঝিতে নারি রহিয়াছে শ্রীহেট বদনে॥ বাসুদেব ঘোষ ভণে অনুভব যার মনে রসিকে জানয়ে রসমর্ম্ম। অনুভব নাহি যার বেদ্য নাহি হয় তার বৃথা তার হইল এ জন্ম॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌরীদাস সঙ্গে কৃষ্ণকথারঙ্গে ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশ্রী - দশকুশী॥ গৌরীদাস সঙ্গে, কৃষ্ণকথারঙ্গে, বসিলা গৌরহরি। ভাবে হিয়া ভোর, ঘন দেয় কোর, দোহে গলা ধরাধরি॥ ভাব সম্বরিয়া, প্রভুরে বসাঞা গৌরীদাস গৃহ হৈতে। চম্পকের মাল, আনিয়া তৎকাল, গলে দিল আচম্বিতে॥ চম্পকের হার, চাহে বারে বার, আমার গৌররায়। রাধার বরণ, হইল স্মরণ, প্রেমধারা বহে গায়॥ প্রভু কহে বাস, গুন গৌরীদাস, মনেতে পড়িল রাধা। বাসু ঘোষ কয়, রাই রসময়, দেখিতে হইল সাধা॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ সুবলমিলন গৌরচন্দ্র ॥ রাগিণী ধানশ্রী - তাল একতালী॥ গৌরীদাস সঙ্গে, কৃষ্ণকথা রঙ্গে, বসিলেন গৌরহরি। ভাবে হৈয়া ভোর, ঘন দিছে কোর, দোহে গলা ধরাধরি॥ ভাব সম্বরিয়া, প্রভুরে বসাঞা, গৌরীদাস গৃহ হৈতে। চম্পকের মাল, আনিয়া তৎকাল, গলে দিলা আচম্বিতে॥ চম্পকেরি হার, চাহে বারে বার, আমার গৌরাঙ্গ রায়। রাধার বরণ, হইল স্মরণ, প্রেমধারা বহে গায়॥ প্রভু কহে ভাষ, গুন গৌরীদাস, মনেতে পড়িল রাধা। বাসু ঘোষ কয়, রাই রসময়, দেখিতে হইল সাধা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে ॥ ধানশ্রী - দশকুশী॥ গৌরীদাস সঙ্গে কৃষ্ণকথারঙ্গে বসিলা গৌরহরি। ভাবে হিয়া ভোর ঘন দেয় কোর দোহে গলা ধরাধরি॥ ভাব সম্বরিয়া প্রভুরে বসাঞা গৌরীদাস গৃহ হৈতে। চম্পকের মাল আনিয়া তৎকাল গলে দিল আচম্বিতে॥ চম্পকের হার চাহে বারে বার আমার গৌর রায়। রাধার বরণ হইল স্মরণ প্রেমধারা বহি যায়॥ প্রভু কহে ভাষ শুন গৌরীদাস মনেতে পড়িল রাধা। বাসু ঘোষ কয় রাই রসময় দেখিতে হইল সাধা॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশ্রী - দশকুশী॥ গৌরীদাস সঙ্গে কৃষ্ণকথা রঙ্গে বসিলা গৌরহরি। ভাবে হিয়া ভোর ঘন দেয় কোর দোহে গলা ধরাধরি॥ ভাব সম্বরিয়া প্রভুরে বসাঞা গৌরীদাস গৃহ হৈতে। চম্পকের মাল আনিয়া তৎকাল গলে দিল আচম্বিতে॥ চম্পকের হার চাহে বারে বার আমার গৌররায়। রাধার বরণ হইল স্মরণ প্রেমধারা বয়ে গায়॥ প্রভু কহে ভাষ শুন গৌরীদাস মনেতে পড়িল রাধা। বাসু ঘোষ কয় রাই রসময় দেখিতে হইল সাধা॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |