কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
প্রভু কহে নিজগুণে দেওত সন্ন্যাস
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

প্রভু কহে নিজগুণে দেওত সন্ন্যাস।
হৈয় না সন্ন্যাসী নিমাই না মুড়াও কেশ॥
কাঞ্চননগরের লোক সব মানা করে।
সন্ন্যাস না কর বাছা ফিরা যাও ঘরে॥
পঞ্চাশের ঊর্দ্ধ হৈলে রাগের নিবৃত্তি।
তবে ত সন্ন্যাস দিতে শাস্ত্রে অনুমতি॥
এবোল শুনিয়া প্রভু বলে এই বাণী।
তোমার সাক্ষাতে গুরু কি বলিতে জানি॥
পঞ্চাশ হইতে যদি হয়ত মরণ।
তবে আর সাধু সঙ্গ হইবে কখন॥
এ বোল শুনিয়া কহে ভারতী গোসাঞী।
সন্ন্যাস দিব রে তোরে শুন রে নিমাই॥
এ কথা শুনিয়া প্রভুর আনন্দ উল্লাস।
নাপিত ডাকাইল তবে মুড়াইতে কেশ॥
নাপিত বলয়ে প্রভো করি নিবেদন।
এরূপ মনুষ্য নাহি এ তিন ভূবন॥
তব শিরে হাত দিয়া ছোব কার পায়।
যে বোল সে বোল প্রভো কাঁপে মোর কায়॥
কার পায় হাত দিয়া কামাইব নিতি।
অধম নাপিত জাতি মোর এই রীতি॥
এ বোল শুনিয়া কহে বিশ্বম্ভর রায়।
না করিও নিজবৃত্তি ঠাকুর কহয়॥
কৃষ্ণের প্রসাদে জন্ম গোয়াইবা সুখে।
অন্তকালেতে গতি হবে বিষ্ণুলোকে॥
কাঞ্চন নগরের লোক সদয় হৃদয়।
বাসু ঘোষ জোড়হাতে ভারতীরে কয়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

প্রভু কহে নিজগুণে দেওত সন্ন্যাস।
হৈয় না সন্ন্যাসী নিমাই না মুড়াও কেশ॥
কাঞ্চননগরের লোক সব মানা করে।
সন্ন্যাস না কর বাছা ফিরা যাও ঘরে॥
পঞ্চাশের উর্দ্ধ হইলে রাগের নিবৃত্তি।
তবে ত সন্ন্যাস দিতে শাস্ত্রে অনুমতি॥
এবোল শুনিয়া প্রভু বলে এই বাণী।
তোমার সাক্ষাতে গুরু কি বলিতে জানি॥
পঞ্চাশ হইতে যদি হয়ত মরণ।
তবে আর সাধু সঙ্গ হইবে কখন॥
এ বোল শুনিয়া কহে ভারতী গোসাঞী।
সন্ন্যাস দিব রে তোরে শুন রে নিমাই॥
এ কথা শুনিয়া প্রভুর আনন্দ উল্লাস।
নাপিত ডাকাইল তবে মুড়াইতে কেশ॥
নাপিত বলয়ে প্রভো করি নিবেদন।
এরূপ মনুষ্য নাহি এ তিন ভূবন॥
তব শিরে হাত দিয়া ছোব কার পায়।
যে বোল সে বোল প্রভো কাঁপে মোর কায়॥
কার পায় হাত দিয়া কামাইব নিতি।
অধম নাপিত জাতি মোর এই রীতি॥
এ বোল শুনিয়া কহে বিশ্বম্ভর রায়।
না করিও নিজবৃত্তি ঠাকুর কহয়॥
কৃষ্ণের প্রসাদে জন্ম গোয়াইবা সুখে।
অন্তকালেতে গতি হবে বিষ্ণুলোকে॥
কাঞ্চননগরের লোক সদয় হৃদয়।
বাসুঘোষ জোড়হাতে ভারতীরে কয়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মধুশীল বলে গোসাঞী না ভাঁড়াও মোরে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

মধুশীল বলে গোসাঞী না ভাঁড়াও মোরে।
তুমি ব্রহ্মা তুমি বিষ্ণু জানিনু অন্তরে॥
পুরাব তোমার ইচ্ছা তুমি ইচ্ছাময়।
পালিব তোমার আজ্ঞা নাহিক সংশয়॥
বলিতেছ কৃষ্ণের প্রসাদে রব সুখে।
মরণের পরে গতি হবে বিষ্ণুলোকে॥
যে কৃষ্ণ রাখিবে সুখে সেই কৃষ্ণ তুমি।
তব পদ বিষ্ণুলোক কিবা জানি আমি॥
মুড়াব চাঁচর কেশ হাত দিব মাথে।
কিন্তু প্রভু শ্রীচরণ দেও 'আগে মাথে॥
মধুর বচনে প্রভু দিলা শিরে পদ।
বাসু কহে যার কাছে তুচ্ছ ব্রহ্মপদ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

মধুশীল বলে গোসাঞী না ভাঁড়াও মোরে।
তুমি ব্রহ্মা তুমি বিষ্ণু জানিনু অন্তরে॥
পুরাব তোমার ইচ্ছা তুমি ইচ্ছাময়।
পালিব তোমার আজ্ঞা নাহিক সংশয়॥
বলিতেছ কৃষ্ণের প্রসাদে রব সুখে।
মরণের পরে গতি হবে বিষ্ণুলোকে॥
যে কৃষ্ণ রাখিবে সুখে সেই কৃষ্ণ তুমি।
তব পদ বিষ্ণুলোক কিবা জানি আমি॥
মুড়াব চাঁচর কেশ হাত দিব মাথে।
কিন্তু প্রভু শ্রীচরণ দেও 'আগে মাথে॥
মধুর বচনে প্রভু দিলা শিরে পদ।
বাসু কহে যার কাছে তুচ্ছ ব্রহ্মপদ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
প্রভুর মুণ্ডন দেখি কান্দে যত পশু পাখী
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

প্রভুর মুণ্ডন দেখি                কান্দে যত পশু পাখী
আর কান্দে যত শ্রীনিবাসী।
বৎস নাহি দুগ্ধ খায়                তৃণ দন্তে গাভী ধায়
নেহালে গৌরাঙ্গ মুখ আসি॥
আছে লোক দাঁড়াইয়া            গৌরাঙ্গ মুখ চাহিয়া
কারো মুখে নাহি সরে বাণী।
দুনয়নে জল সরে                 গৌরাঙ্গের মুখ হেরে
বৃক্ষবৎ হৈল সব প্রাণী॥
ডোর কৌপীন পরি                 মস্তকে মুণ্ডন ডুরি
মায়া ছাড়ি হৈল উদাসীন।
বৈসে ডগমগি হৈয়া                করেতে দণ্ড লইয়া
প্রভু কহে আমি দীন হীন।
তোমরা বৈষ্ণববর                এই আশীর্বাদ কর
দুই হাত দিয়া মোর মাথে।
করিলাম সন্ন্যাস                    নহে যেন উপহাস
ব্রজে গেলে পাই ব্রজনাথে॥
এত বলি গোরা রায়              প্রেমে ঊর্দ্ধমুখে ধায়
কোথা বৃন্দাবন বলি কাঁদে।
ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে             নিত্যানন্দ তান পাশে
বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ পাহিড়া॥

প্রভুর মুণ্ডন দেখি                কান্দে যত পশু পাখী
আর কান্দে যতেক নিবাসী।
বৎস নাহি দুগ্ধ খায়                তৃণ দন্তে গাভী ধায়
নেহালে গৌরাঙ্গ মুখ আসি॥
আছে লোক দাঁড়াইয়া             গৌরাঙ্গ মুখ চাহিয়া
কারো মুখে নাহি সরে বাণী।
দুনয়নে জল ঝরে                 গৌরাঙ্গের মুখ হেরে
বৃক্ষবৎ হৈল সব প্রাণী॥
ডোর কৌপীন পরি                  মস্তকে মুণ্ডন করি
মায়া ছাড়ি হৈলা উদাসীন।
বৈসে ডগমগি হৈয়া               করেতে করঙ্গ লইয়া
প্রভু কহে আমি দীন হীন।
তোমরা বৈষ্ণব বর                এই আশীর্ব্বাদ কর
দুই হাত দিয়া মোর মাথে।
করিলাম সন্ন্যাস                       নহে যেন উপহাস
ব্রজে গিয়া পাই ব্রজনাথে॥
এত বলি গোরা রায়                প্রেমে ঊর্দ্ধ্বমুখে ধায়
কোথা বৃন্দাবন বলি কাঁদে।
ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে                নিত্যানন্দ তান পাশে
বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৬৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

প্রভুর মুণ্ডন দেখি                কান্দে যত পশু-পাখী
আর কান্দে যত শ্রীনিবাসী।
বৎস নাহি দুগ্ধ খায়               তৃণ দন্তে গাভী ধায়
নেহালে গৌরাঙ্গ মুখ আসি॥
আছে লোক দাঁড়াইয়া             গৌরাঙ্গ মুখ চাহিয়া
কারো মুখে নাহি সরে বাণী।
দু’নয়নে জল সরে                গৌরাঙ্গের মুখ হেরে
বৃক্ষবৎ হৈল সব প্রাণী॥
ডোর কৌপীন পরি                  মস্তকে মুণ্ডন ডুরি
মায়া ছাড়ি হৈলা উদাসীন।
বৈসে ডগমগি হৈয়া                 করেতে দণ্ড লইয়া
প্রভু কহে আমি দীন হীন।
তোমরা বৈষ্ণববর                 এই আশীর্ব্বাদ কর
দুই হাত দিয়া মোর মাথে।
করিলাম সন্ন্যাস                     নহে জেন উপহাস
ব্রজে গেলে পাই ব্রজনাথে॥
এত বলি গোরারায়                প্রেমে উর্দ্ধ্বমুখে ধায়
কোথা বৃন্দাবন বলি কান্দে।
ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে              নিত্যানন্দ তাঁর পাশে
বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কাঁন্দে॥

সূত্র -
ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪০।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬১৩৪।
গ। বৈষ্ণব পদাবলী, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পৃ - ১৭৯।
ঘ। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পদ - ৮৫।
ট। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১২৫।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গে সন্ন্যাস দিয়া ভারতী কাঁদিলা
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গে সন্ন্যাস দিয়া ভারতী কাঁদিলা।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম নিমাইয়েরে দিলা॥
পহুঁ কহে গুরু মোর পূরাহ মন-সাধ।
কৃষ্ণে মতি হউক এই দেও আশীর্ব্বাদ॥
ভারতী কাঁদিয়া বোলে মোর গুরু তুমি।
আশীর্ব্বাদ কি করিব কৃষ্ণ দেখি আমি॥
ভুবন ভুলাও তুমি সব নাটের গুরু।
রাখিতে লৌকিক মান মোরে কহ গুরু॥
আমার সন্ন্যাস আজি হইল সফল।
বাসু কহে দেখিলাম চরণকমল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
     
॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গে সন্ন্যাস দিয়া ভারতী কাঁদিলা।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম নিমাইয়েরে দিলা॥
পহুঁ কহে গুরু মোর পূরাহ মনসাধ।
কৃষ্ণে মতি হউক এই দেও আশীর্ব্বাদ॥
ভারতী কাঁদিয়া বোলে মোর গুরু তুমি।
আশীর্ব্বাদ কি করিব কৃষ্ণ দেখি আমি॥
ভুবন ভুলাও তুমি সব নাটের গুরু।
রাখিতে লৌকিক মান মোরে কহ গুরু॥
আমার সন্ন্যাস আজি হইল সফল।
বাসু কহে দেখিলাম চরণকমল॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গে সন্ন্যাস দিয়া ভারতী কাঁদিলা।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম নিমাইয়েরে দিলা॥
পহুঁ কহে গুরু মোর পূরাহ মন-সাধ।
কৃষ্ণে মতি হোক এই দেও আশীর্ব্বাদ॥
ভারতী কাঁদিয়া বোলে মোর গুরু তুমি।
আশীর্ব্বাদ কি করিব কৃষ্ণ দেখি আমি॥
ভুবন ভুলাও তুমি সব নাটের গুরু।
রাখিতে লৌকিক মান মোরে কহ গুরু॥
আমার সন্ন্যাস আজি হইল সফল।
বাসু কহে দেখিলাম চরণ কমল॥

সূত্র -
ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪০।
খ। বৈষ্ণব পদাবলী, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পৃ - ১৭৯।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পৃ - ৮৭।
ঘ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১২৬।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পড়িয়া ধরণীতলে শোকে শচী কাঁদি বলে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষে
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ॥

পড়িয়া ধরণীতলে             শোকে শচী কাঁদি বলে
লাগিল দারুণ বিধি বাদে।
অমুল্য রতন ছিল                কোন্‌ বিধি হরি নিল
পরাণ-পুতলী গোরাচাঁদে।
অঙ্গের অঙ্গদবালা              গোরাচাঁদের কণ্ঠমালা
খাট পাট সোনার দুলিচা।
সে সব রহিল পড়ি            গৌর মোরে গেল ছাড়ি
আমি প্রাণ ধরি আছি মিছা॥
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল              নদীয়া আঁধার ভেল
ছটফটি করে মোর হিয়া।
যোগিনী হইয়া যাব                গৌরাঙ্গ যথায় পাব
কাঁদিব তার গলা ধরিয়া॥
যে মোরে গৌরাঙ্গ দিব             বিনামূলে বিকাইব
হৈব তার দাসের অনুদাসী।
বাসুদেব ঘোষে ভণে              কাঁদ শচী কি কারণে
জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা
॥ করুণ॥

পড়িয়া ধরণীতলে               শোকে শচী কাঁদি বলে
লাগিল দারুণ বিধি বাদে।
অমুল্য রতন ছিল                কোন্‌ বিধি হরি নিল
পরাণ পুতলী গোরাচাঁদে।
অঙ্গের অঙ্গদবালা              গোরাচাঁদের কণ্ঠমালা
খাট পাট সোনার দুলিচা।
সে সব রহিল পড়ি             গৌর মোরে গেল ছাড়ি
আমি প্রাণ ধরি আছি মিছা॥
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল              নদীয়া আঁধার ভেল
ছটফট করে মোর হিয়া।
যোগিনী হইয়া যাব               গৌরাঙ্গ যথায় পাব
কাঁদিব তার গলায় ধরিয়া॥
যে মোরে গৌরাঙ্গ দিব             বিনামূলে বিকাইব
হৈব তার দাসের অনুদাসী।
বাসুদেব ঘোষে ভণে             কাঁদ শচী কি কারণে
জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পড়িয়া ধরণী তলে                 
শোকে শচী দেবী বলে             
লাগিল দারুণ বিধি বাদে।         
অমুল্য রতন ছিল                 
কোন ছলে কে রাখিল।            
সোণার পুতলী গোরাচাঁদে।        
অমূল্য রতন ছিল                 
কোন ছলে কে রাখিল।            
সোনার পুতুলী গোরাচাঁদে॥        
অঙ্গুরি অঙ্গদ বালা                
গোরাচান্দের কণ্ঠ মালা            
খাটপাট সোনার দুলিচা।         
এ সব রহিল পড়ি                
গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি
আমি প্রাণ ধরিয়াছি মিছা॥        
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল               
নদীয়া আন্ধার হৈল
বিদরিয়া যায় মোর হিয়া।        
যোগিনী হইয়া যাই                
যথা বাছার নাগী পাই             
কান্দিতাম গলায় ধরিঞা॥        
যে মোরে মিলিয়া দেয়            
মূল্য দিয়া কিনা লয়              
হৈতাম দাসের যে দাসী।        
বাসুদেব ঘোষে ভণে             
শচী কান্দে অকারণে             
জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥        

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী  
সংকলন, ৬৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণরাগ॥

পড়িয়া ধরণীতলে                শোকে শচী কাঁদি বলে
লাগিল দারুণ বিধি বাদে।
অমুল্য রতন ছিল                  কোন্‌ বিধি হরি নিল
পরাণ পুতলী গোরাচাঁদে।
অঙ্গের অঙ্গদবালা                গোরাচাঁদের কণ্ঠমালা
খাট পাট সোনার দুলিচা।
সে সব রহিল পড়ি              গৌর মোরে গেল ছাড়ি
আমি প্রাণ ধরি আছি মিছা॥
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল                নদীয়া আঁধার ভেল
ছটফট করে মোর হিয়া।
যোগিনী হইয়া যাব                 গৌরাঙ্গ যথায় পাব
কাঁদিব তার গলায় ধরিয়া॥
যে মোরে গৌরাঙ্গ দিব              বিনামূলে বিকাইব
হৈব তার দাসের অনুদাসী।
বাসুদেব ঘোষে ভণে              কাঁদ শচী কি কারণে
জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
স্বপনে গিয়াছিনু ক্ষীরোদ-সাগরে
ভণিতা - ভণিতাহীন / বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, ২২৬৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

স্বপনে গিয়াছিলুঁ                        ক্ষীরোদ সায়রে
তথা না পাইলুঁ গুণ-নিধি।
পাতিয়া হাট খানি                বেসাইতে না দিলে
বিবাদে লাগিল বিধি॥
কোথা হৈতে আইল                কেশব ভারতী
ধরিয়া সন্ন্যাসি-বেশ।
পড়ায়্যা শুনায়্যা                        পণ্ডিত করিলুঁ
কেবা লৈয়া গেল দূরদেশে॥
শচীমায়ে ডাকে নিমাই আয় রে॥ ধ্রু॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৭৩-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথারাগ॥

স্বপনে গিয়াছিলুঁ                        ক্ষীরোদ সায়রে
তথা না পাইলুঁ গুণ-নিধি।
পাতিয়া হাট খানি                   বসাইতে না দিলে
বিবাদে লাগিল বিধি॥
কোথা হৈতে আইল                    কেশব ভারতী
ধরিয়া সন্ন্যাসি-বেশ।
পড়ায়্যা শুনায়্যা                        পণ্ডিত করিলুঁ
কেবা লৈয়া গেল দূরদেশে॥
শচীমায়ে ডাকে নিমাই আয় রে আয়।
ভারতীর সনে                         কি মন্ত্রণা করি
মায়েরে বধিয়া যায়॥ ধ্রু॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

স্বপনে গিয়াছিনু                        ক্ষীরোদ-সাগরে
তথা না পাইনু গুণনিধি।
পাতিয়া হাটখানি                    বসাইতে না দিলি
বিবাদে লাগিল বিধি॥
কোথা হৈতে আইল                    কেশব ভারতী
ধরিয়া সন্ন্যাসিবেশ।
পড়াইয়া শুনাইয়া                        পণ্ডিত করিনু
কেবা লইয়া গেল দূরদেশে॥
শচীমায়ে ডাকে                       নিমাই আয় রে
শূন্য ঘরেতে যাদুধন।
বাসু ঘোষ কহে                           ঐ গোরাচাঁদ
মায়ের জীবন॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৬৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

স্বপনে গিয়াছিলুঁ                        ক্ষীরোদ সায়রে
তথা না পাইলুঁ গুণনিধি।
পাতিয়া হাটখানি                     বসাইতে না দিলি
বিবাদে লাগিল বিধি॥
কোথা হইতে আইল                     কেশব ভারতী
ধরিয়া সন্ন্যাসী বেশ।
পড়ায়্যা শুনায়্যা                        পণ্ডিত করিলুঁ
কেবা লৈয়া গেলা দূরদেশ॥
শচী মায়ে ডাকে                        নিমাই আয়রে
শূন্য ঘরেতে যাদুধন।
বাসু ঘোষ কহে                          ঐ গোরাচাঁদ
মায়ের জীবন॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরসুন্দরে
নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গ সুন্দরে
ভণিতা বাসু / বাসুদেব ঘোষে
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৪২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - সোমতাল॥

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরসুন্দরে।
ডুবিল ভকত সব শোকের সাগরে॥
কাঁদিছে অদ্বৈতাচার্য্য শ্রীবাস গদাধর।
বাসুদেব দত্ত কাঁদে মুরারি বক্রেশ্বর॥
বাসুদেব নরহরি কাঁদে উচ্চ রায়।
শ্রীরঘুনন্দন কাঁদি ধুলায় লোটায়॥
কাঁদিছেন হরিদাস দু-আঁখি মুদিয়া।
কাঁদে নিত্যানন্দ শচীর মুখ নিরখিয়া॥
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়।
সোঙরি সে সব বাসুর হিয়া ফাটি যায়॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই॥

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গ সুন্দরে।
ডুবিল ভকত সব শোকের সায়রে॥
কান্দিছেন অদ্বৈতাচার্য্য শ্রীবাস গদাধর।
বাসুদেব দত্ত কান্দে মুরারি বক্রেশ্বর॥
বাসুদেব নরহরি কান্দে উচ্চরায়।
শ্রীরঘুনন্দন কন্দে ধূলায় লোটায়॥
কান্দিছেন হরিদাস দুই আঁখি মুদিয়া।
কান্দে নিত্যানন্দ শচীর মুখ নিরখিয়া॥
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়।
সোঙরি সে সব বাসুর হিয়া ফাটি যায়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ মাথুর বিরহ
॥ রাগিণী সুহই - তাল সোমতাল॥

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গ সুন্দরে। ডুবিল ভকত সব
শোকের সাগরে॥ কাঁদিছেন অদ্বৈতাচার্য্য শ্রীবাস গদাধর।
বাসুদেব দত্ত কাঁদে মুরারি, বক্রেশ্বর॥ কাঁদিছেন হরিদাস দুই
আঁখি মুদিয়া। কাঁদে নিত্যানন্দ শচীর মুখ নিরখিয়া॥ কেহ কেহ
ললাটে করয়ে করাঘাত। কেহ বলে কোথা বিশ্বম্ভর প্রাণনাথ॥
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়। স্মরি বাসুদেব ঘোষের প্রাণ
বাহিরায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
     
॥ সুহই - সোমতাল॥

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গসুন্দরে।
ডুবিল ভকত সব শোকের সাগরে॥
কাঁদিছে অদ্বৈতাচার্য্য শ্রীবাস গদাধর।
বাসুদেব দত্ত কাঁদে মুরারি বক্রেশ্বর॥
মুকুন্দাদি নরহরি কাঁদে উচ্চ রায়।
চন্দ্রশেখর কাঁদি ধূলায় লোটায়॥
কাঁদিছেন হরিদাস দু আঁখি মুদিয়া।
কাঁদে নিত্যানন্দ শচীর মুখ নিরখিয়া॥
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়।
সোঙরি সে সব বাসুর হিয়া ফাটি যায়॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রকারান্তর মাথুর বিরহ
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই - বড় দশকুশী॥

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গ সুন্দরে।
ডুবিল ভকত সব শোকের সায়রে॥
কাঁদিছেন অদ্বৈত শ্রীবাস গদাধর।
বাসুদেব দত্ত মুরারি বক্রেশ্বর॥
কাঁদিছেন হরিদাস দুই আঁখি মুদিয়া।
কাঁদে নিত্যানন্দ শচীমুখ নিরখিয়া॥
কেহ কেহ ললাটে মারয়ে করাঘাত।
কেহ বলে কোথা বিশ্বম্ভর প্রাণনাথ॥
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়।
শুনি বাসুদেব ঘোষের প্রাণ ফাটি যায়॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
গৌরচন্দ্র

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গ সুন্দরে,
ডুবল ভকত সব শোকের সায়রে॥
( তারাই ডুবেছে, গৌরগত প্রাণ যাদের তারাই ডুবেছে, তারা গৌর ভিন্ন আন জানেনা
গৌরগত প্রাণ যাদের তারাই ডুবেছে )
.        শোকের সায়রে॥
কাঁদিছেন অদ্বৈতা শ্রীবাস গদাধর,
বাসুদেব দত্ত কাঁদে মুরারী বক্রেশ্বর।
( বলে কোথায় বা গেলে হে, ওহে নদীয়ার চাঁদ গৌর কোথায় বা গেলে হে, এঅ নদে আঁধার
করে কোথায় বা গেলে হে )
.        মুরারী বক্রেশ্বর॥
কাঁদিছেন হরিদাস দু’ আঁখি মুদিয়া,
কাঁদে নিত্যানন্দ শচীর মুখ নিরখিয়া॥
( আর কি দেখ্ তে পাব না, নদীয়ার চাঁদ গৌর আর কি দেখ্ তে পাব না, শচীমাতার
নয়নতারা আর কি দেখতে পাব না )
.        মুখ নিরখিয়া॥
কেহ কেহ ললাটে মারে করাঘাত,
কেহ বলে কোথা গেল বিশ্বম্ভর প্রাণনাথ।
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়,
শুনি বাসুদেব ঘোষের হিয়া ফাটি যায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - সোমতাল॥

নদীয়া ছাড়িয়া গেল গৌরাঙ্গসুন্দরে।
ডুবিল ভকত সব শোকের সাগরে॥
কাঁদিছে অদ্বৈতাচার্য্য শ্রীবাস গদাধর।
বাসুদেব দত্ত কাঁদে মুরারী বক্রেশ্বর॥
বাসুদেব নরহরি কাঁদে উচ্চ রায়।
শ্রীরঘুনন্দন কাঁদি ধূলায় লোটায়॥
কাঁদিছেন হরিদাস দু-আঁখি মুদিয়া।
কাঁদে নিত্যানন্দ শচীর মুখ নিরখিয়া॥
সুখময় কীর্ত্তন করিত নদীয়ায়।
সোঙরি সে সব বাসুর হিয়া ফাটি যায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হ্যাদে গো থামিলি সই চল দেখি যাই
হ্যাদে গো মালিনী সই চল দেখি যাই
হেদে গ ম্যালানি সই চল শীঘ্র জাই
হেদে লো মালিনী সই চল শীঘ্র যাই
ভণিতা বাসুদেব / বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদটি “সন্ন্যাস করিয়া প্রভু গেলা সান্তিপুরে” পদটির শেষ ৮ পংক্তি, সামান্য পাঠান্তর
সহ। এতকাল এই পদটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে দেখা হয়েছে হলে আমরাও পদটিকে একটি
স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রাখলাম।

॥ সুহই॥

হ্যাদে গো থামিলি সই চল দেখি যাই।
নিমাই অদ্বৈতের ঘরে কহিল নিতাই॥
সে চাঁচর কেশহীন কেমনে দেখিব।
না যাব অদ্বৈতের ঘরে গঙ্গায় পশিব॥
এত বলি শচী মাতা কাতর হইয়া।
শান্তিপুর মুখ ধায় নিমাই বলিয়া॥
ধাইল সকল লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
বাসুদেব সঙ্গে যায় কান্দিতে কান্দিতে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ সুহই॥

হ্যাদে গো মালিনী সই চল দেখি যাই।
নিমাই অদ্বৈতের ঘরে কহিল নিতাই॥
সে চাঁচর কেশহীন কেমনে দেখিব।
না যাব অদ্বৈতের ঘরে গঙ্গায় পশিব॥
এত বলি শচী মাতা কাতর হইয়া।
শান্তিপুর মুখে ধায় নিমাই বলিয়া॥
ধাইল সকল লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
বাসুদেব সঙ্গে যায় কান্দিতে কান্দিতে।

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হেদে লো মালিনী সই চল শীঘ্র যাই।
নিমাই অদ্বৈত গৃহে কহিল নিতাই॥
সে চাঁচর কেশ হীন কেমনে দেখিব।
না যাব অদ্বৈত গৃহে গঙ্গায় পশিব॥
এত বলি শচী মাতা কাতর হইঞা।
শান্তিপুর মুখে ধায় গৌরাঙ্গ বলিঞা॥
যত অন্ধ আদি ধায় কান্দিতে কান্দিতে।
বাসুঘোষ বলে শচী চল মোর সাথে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হেদে গ ম্যালানি সই চল শীঘ্র জাই।
নিমাই অদ্বৈতঘরে কহিল নিতাই॥
সুচাঁচর কেশহীন কেমনে দেখিব।
না যাব অদ্বৈতগৃহে গঙ্গায় পশিব॥
এত বলি শচী দেবী কাতর হইয়া।
শান্তিপুর মুখে ধায় নিমাই বলিয়া॥
ধাইল সকল লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
দুঃখী বাসু ঘোষ ধায় কান্দিতে কান্দিতে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে
করজোর করি আগে মায়ের চরণ যুগে
মুড়াঞা চাঁচর কেশ ধরিয়া সন্ন্যাস বেশ
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বলরাম দাস / বল্লভদাস
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বলরামদাস ও বল্লভ
দাস ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। নীচে তা দেওয়া হয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

নিতাই করিয়া আগে                চলিলেন অনুরাগে
আইল সবাই শান্তিপুরে।
মুড়ায়েছে মাথার কেশ          ধৈরাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥
এ মত হইল কেনে                শিরে কেশ দেখি হীনে
পরিয়াছে কৌপীন যে বাস।
নদীয়ার ভোগ ছাড়ি                মায়েরে অনাথ করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস॥
কর জোড় অনুরাগে               দাঁড়াল মায়ের আগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া।
দুই হাতে তুলি বুকে                  চুন্ব দিলা চাঁদমুখে
কাঁদে শচী গলাটী ধরিয়া॥
ইহার লাগিয়া যত                   পড়াইলাম ভাগবত
এ দুখ কহিব আমি কায়।
অনাথিনী করি মোরে             যাবে বাছা দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপীন পরি               কি লাগিয়া দণ্ডধারী
ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি।
জীয়ন্ত থাকিতে মায়                ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হৈলা বৈরারী॥
গৌরাঙ্গের বৈরাগে                   ধরণী বিদায় মাগে
আর তাহা শচীর করুণা।
কহে বাসুদেব ঘোষে                 গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৭০-পৃষ্ঠায় বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

নিতাই করিয়া আগে                চলিলেন অনুরাগে
আইলা সবাই শান্তিপুরে।
মুড়ায়েছে মাথার কেশ          ধৈরাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥
এ মত হইল কেনে               শিরে কেশ দেখি হীনে
পরিয়াছে কৌপীন যে বাস।
নদীয়ার ভোগ ছাড়ি               মায়েরে অনাথা করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস॥
কর জোড় অনুরাগে               দাঁড়াল মায়ের আগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া।
দুই হাতে তুলি বুকে                 চুন্ব দিলা চাঁদমুখে
কাঁদে শচী গলাটি ধরিয়া॥
ইহার লাগিয়া যত                  পড়াইলাম ভাগবত
এ দুখ কহিব আমি কায়।
অনাথিনী করি মোরে            যাবে বাছা দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপীন পরি              কি লাগিয়া দণ্ডধারী
ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি।
জীয়ন্ত থাকিতে মায়               ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হৈলা বৈরারী॥
গৌরাঙ্গের বৈরাগে                  ধরণী বিদার মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বাসুদেব ঘোষে                গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুড়াঞা চাঁচর কেশ                  ধরিয়া সন্ন্যাস বেশ
দেয় সভার মন ঝুরে॥
এমন হৈলা কেন এবে দেখি কেশহীন
পড়িয়াছে এ কপিন বাস।
নদিয়া যাইলা ছাড়ি                মায়েরে অনথি করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
কর জোড়ি অনুরাগে                  শচীর চরণ আগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই করে তুলি বুকে                  চুম্ব দিলা চাঁদ মুখে
ডাকে শচী নিমাই বলিঞা।
ইহার লাগিয়া যত                   পড়াইলাম ভাগবত
এ দুখ কহিব আমি কায়॥
অনাথিনী করি মায়                 যাবে পুত্র দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপীন পরি              কি লাগিয়া দণ্ড ধরি
ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়               ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হৈলা বৈরাগী॥
গৌরাঙ্গের বৈরাগ্যে                   ধরণী বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বাসুদেব ঘোষে                  গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী,
১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ শ্রীগান্ধার॥

নিতাই করিয়া আগে                 যায় শচী অনুরাগে
সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে।
মুড়াইয়া মাথার কেশ            ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥
নদিয়ার ভোগ ছাড়ি                মায়েরে অনথি করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
কর জোড় করি আগে                 মায়ের চরণ জুগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই হাত তুলি বুকে                   চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিয়া।
ইহার লাগিয়া কত                   পড়াইলাম ভাগবত
এ কথা কহিব আমি কায়॥
এ ডোর কপিনি পরি                কি লাগিয়া দণ্ডধারি
ঘরে ঘরে খাওয়ে মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়                ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হইল্যা বৈরাগি॥
গোরা চান্দের বৈরাগে                ধরণি বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরাম দাস                       গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
জগভরি রহল ঘোষণা॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ
“বল্লভ দাস” ভণিতায় রয়েছে।


করজোর করি১ আগে                    মায়ের চরণ যুগে
পড়িলেন দণ্ডবত হৈঞা।
দুহাতে তুলি বুকে                      চুম্ব দিলা চান্দ মুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিঞা॥
ইহার লাগিয়া যত                        পড়াইনু ভাগবত২
একথা কহিব আমি কায়।৩
হাপুতি করিয়া মোরে৪               যাবে বাছা দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপিন পরি                   কি লাগিয়া দণ্ড ধরি
ঘরে ঘরে যাবে ভিক্ষা মাগি।
জীয়ন্তে থাকিতে মায়                     ইহা নাহি সহা যায়
কার বোলে হইলা বৈরাগি॥
গোরাচান্দের বৈরাগ্য                      ধরণী বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরামদাস                        গোরাচান্দের সন্ন্যাস৫
জগভরি রহিল ঘোষণা॥

পদকল্পতরু ও গৌরপদতরঙ্গিণীতে পাঠান্তর -
১ করজোড়ি অনুরাগে        দাঁড়াল মায়ের আগে, ২ পড়াইলাম, ৩ এ দুখ,
৪ অনাথিনী করি মোরে (অনাথিনী শব্দের অর্থ, যাহার নাথ নাই, সুতরাং ‘হাপুতি করিয়া মোরে’ পাঠই
ঠিক)


কহে বাসুদেব ঘোষে                    গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ ---গৌরপদতরঙ্গিণী

কহয়ে বল্লভদাস                       গোরাচাঁদের বৈরাগ
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥---পদকল্পতরু

দাসের সঙ্গে বৈরাগ শব্দের মিল হয় না, সুতরাং এই ভণিতা ভুল।
ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্যের সংস্করণে (৪) চিহ্নিত ত্রিপদী নাই।
--- বিমান বিহারী মজুমদার, “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৬৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

নিতাই করিয়া আগে                চলিলেন অনুরাগে
আইল সবাই শান্তিপুরে।
মুড়ায়েছে মাথার কেশ         ধৈরাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥
এ মত হইল কেনে              শিরে কেশ দেখি হীনে
পরিয়াছে কৌপীন যে বাস।
নদীয়ার ভোগ ছাড়ি              মায়েরে অনাথ করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস॥
কর জোড়ি অনুরাগে             দাঁড়াল মায়ের আগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া।
দুই হাতে তুলি বুকে                চুন্ব দিলা চান্দমুখে
কাঁদে শচী গলাটি ধরিয়া॥
ইহার লাগিয়া যত                  পড়াইলাম ভাগবত
এ দুখ কহিব আমি কায়।
অনাথিনী করি মোরে             যাবে বাছা দেশান্তরে
বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥
এ ডোর কৌপীন পরি              কি লাগিয়া দণ্ডধারী
ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি।
জীয়ন্ত থাকিতে মায়                ইহা নাকি সহা জায়
কার বোলে হৈলা বৈরারী॥
গৌরাঙ্গের বৈরাগে                    ধরণী বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বাসুদেব ঘোষে                 গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে
ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥

সূত্র -
ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪৬ ( বাসু ঘোষ ভণিতা )।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭ ( বাসু ঘোষ ভণিতা )।
গ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬৭৬৭ ( বাসু ঘোষ ভণিতা )।
ঘ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬১৩৪ ( নরোত্তম ভণিতা )।
ঙ। বিশ্বভারতী পুথি, ৬০৯৬ ( নরোত্তম ভণিতা )।
চ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ৯৬৯ ( বলরাম ভণিতা )।
ছ। পদকল্পতরু পদ - ২২৩৩ ( বল্লভ ভণিতা )।
জ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মৃণালকান্তি ঘোষ, পৃ - ৯১।
ঝ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ - ১১৩।
ঞ। বৈষ্ণব পদাবলী, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পৃ - ১৮০।
ট। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পৃ - ৮৯।
ঠ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৬৬।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২০-পৃষ্ঠায়, বলরাম দাস ভণিতায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর
“করজোড় করি আগে মায়ের চরণ যুগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ, “বল্লভ দাস” ভণিতায় এবং
গৌরপদতরঙ্গিণীতে বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ শ্রীগান্ধার॥

নিতাই করিয়া আগে                   যায় শচী অনুরাগে
সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে।
মুড়াইয়া মাথার কেশ               ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ
দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥
নদিয়ার ভোগ ছাড়ি                   মায়েরে অনাথা করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
ইহার লাগিয়া কত                       পড়াইলাম ভাগবত
এ কথা কহিব কার পাশ॥
কর জোড় করি আগে                    মায়ের চরণ জুগে
পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥
দুই হাত তুলি বুকে                      চুম্ব দিলা চাঁদমুখে
কান্দে শচী গলায় ধরিয়া।
এ ডোর কৌপীন পরি                  কি লাগিয়া দণ্ডধারি
ঘরে ঘরে খাও ভিক্ষা মাগি।
জিয়ন্তে থাকিতে মায়                   ইহা নাকি সহা যায়
কার বোলে হইলা বৈরাগি॥
গোরা চান্দের বৈরাগে                    ধরণি বিদায় মাগে
আর তাহে শচীর করুণা।
কহে বলরাম দাস                         গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
জগভরি রহল ঘোষণা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শুনিয়া মায়ের বাণী কহে প্রভু গুণমণি
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শুনিয়া মায়ের বাণী                    কহে প্রভু গুণমণি।
শুন মাতা আমার বচন।
জনে জন্মে মাতা তুমি                তোমার বালক আমি
এই সব বিধির লিখন॥
ধ্রুবের জননী ছিল                     পুত্রকে বৈরাগ্য দিল
ভজে তেঁই দেব চক্রপাণি।
রঘুনাথ ছাড়ি ভোগে                বনে বনে ফিরে লোকে
ঝরে সদা কৌশল্যা জননী॥
তবে শেষে দ্বাপরে                      কৃষ্ণ গেলা মধুপুরে
ঘরে নন্দরাণী নন্দ পিতা।
সর্ব্ব পরে এই হয়ে                    এ কথা অন্যথা নহে
মিথ্যা শোক কর শচী মাতা॥
বিধাতা নির্ব্বন্ধ যাহা                 কেবা খণ্ডাইবে তাহা
এত জানি স্থির কর মন।
ভজ কৃষ্ণ কর সার                     আর নাহি সংসার
পাইয়া পরমপদধন॥
রোদন করিলে তুমি                ডাকিলে আসিব আমি
এই দেহ তোমার পালিত।
আশীর্ব্বাদ কর মোরে                   যাই নীলাচলপুরে
তুমি চিত্তে কর সন্নিহিত॥
প্রভু স্তুতি বাণী কহে                  শচী নির্ব্বাচনে বহে
পড়ে জল নয়ন বহিয়া।
বাসু কহে গৌরহরি                     এই নিবেদন করি
পুনরপি চলহ নদীয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৭১-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ পাহিড়া॥

শুনিয়া মায়ের বাণী                কহে প্রভু গুণমণি।
শুন মাতা আমার বচন।
জনে জন্মে মাতা তুমি           তোমার বালক আমি
এই সব বিধির লিখন॥
ধ্রুবের জননী ছিল                পুত্রকে বৈরাগ্য দিল
ভজে তেঁই দেব চক্রপাণি।
রঘুনাথ ছাড়ি ভোগে            বনে বনে ফিরে দুঃখে
ঝুরে সদা কৌশল্যা জননী॥
তবে শেষে দ্বাপরে                 কৃষ্ণ গেলা মধুপুরে
ঘরে নন্দরাণী নন্দ পিতা।
সর্ব্ব পরে এই হয়ে                এ কথা অন্যথা নহে
মিথ্যা শোক কর শচী মাতা॥
বিধাতা নির্ব্বন্ধ যাহা             কেবা খণ্ডাইবে তাহা
এত জানি স্থির কর মন।
ভজ কৃষ্ণ কর সার                আর নাহি সংসার
পাইয়া পরম পদ ধন॥
রোদন করিলে তুমি            ডাকিলে আসিব আমি
এই দেহ তোমার পালিত।
আশীর্ব্বাদ কর মোরে                যাই নীলাচলপুরে
তুমি চিত্তে কর সমাহিত॥
প্রভু স্তুতি বাণী কহে               শচী নির্ব্বচনে রহে
পড়ে জল নয়ন বহিয়া।
বাসু কহে গৌরহরি                 এই নিবেদন করি
পুনরপি চলহ নদীয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৬৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শুনিয়া মায়ের বাণী                কহে প্রভু গুণমণি।
শুন মাতা আমার বচন।
জনে জন্মে মাতা তুমি           তোমার বালক আমি
এই সব বিধির লিখন॥
ধ্রুবের জননী ছিল                পুত্রকে বৈরাগ্য দিল
ভজে তেঁই দেব চক্রপাণি।
রঘুনাথ ছাড়ি ভোগে           বনে বনে ফিরে লোকে
ঝুরে সদা কৌশল্যা জননী॥
তবে শেষে দ্বাপরে                কৃষ্ণ গেলা মধুপুরে
ঘরে নন্দরাণী নন্দ পিতা।
সর্ব্ব পরে এই হয়ে                এ কথা অন্যথা নহে
মিথ্যা শোক কর শচী মাতা॥
বিধাতা নির্ব্বন্ধ যাহা             কেবা খণ্ডাইবে তাহা
এত জানি স্থির কর মন।
ভজ কৃষ্ণ কর সার                আর নাহি সংসার
পাইয়া পরম পদধন॥
রোদন করিলে তুমি            ডাকিলে আসিব আমি
এই দেহ তোমার পালিত।
আশীর্ব্বাদ কর মোরে                যাই নীলাচলপুরে
তুমি চিত্তে কর সন্নিহিত॥
প্রভু স্তুতি বাণী কহে                শচী নির্ব্বচনে রহে
পড়ে জল নয়ন বাহিয়া।
বাসু কহে গৌরহরি                  এই নিবেদন করি
পুনরপি চলহ নদীয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর