| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| প্রভুর মুণ্ডন দেখি কান্দে যত পশু পাখী ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ প্রভুর মুণ্ডন দেখি কান্দে যত পশু পাখী আর কান্দে যত শ্রীনিবাসী। বৎস নাহি দুগ্ধ খায় তৃণ দন্তে গাভী ধায় নেহালে গৌরাঙ্গ মুখ আসি॥ আছে লোক দাঁড়াইয়া গৌরাঙ্গ মুখ চাহিয়া কারো মুখে নাহি সরে বাণী। দুনয়নে জল সরে গৌরাঙ্গের মুখ হেরে বৃক্ষবৎ হৈল সব প্রাণী॥ ডোর কৌপীন পরি মস্তকে মুণ্ডন ডুরি মায়া ছাড়ি হৈল উদাসীন। বৈসে ডগমগি হৈয়া করেতে দণ্ড লইয়া প্রভু কহে আমি দীন হীন। তোমরা বৈষ্ণববর এই আশীর্বাদ কর দুই হাত দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে যেন উপহাস ব্রজে গেলে পাই ব্রজনাথে॥ এত বলি গোরা রায় প্রেমে ঊর্দ্ধমুখে ধায় কোথা বৃন্দাবন বলি কাঁদে। ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে নিত্যানন্দ তান পাশে বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কাঁদে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ॥ পাহিড়া॥ প্রভুর মুণ্ডন দেখি কান্দে যত পশু পাখী আর কান্দে যতেক নিবাসী। বৎস নাহি দুগ্ধ খায় তৃণ দন্তে গাভী ধায় নেহালে গৌরাঙ্গ মুখ আসি॥ আছে লোক দাঁড়াইয়া গৌরাঙ্গ মুখ চাহিয়া কারো মুখে নাহি সরে বাণী। দুনয়নে জল ঝরে গৌরাঙ্গের মুখ হেরে বৃক্ষবৎ হৈল সব প্রাণী॥ ডোর কৌপীন পরি মস্তকে মুণ্ডন করি মায়া ছাড়ি হৈলা উদাসীন। বৈসে ডগমগি হৈয়া করেতে করঙ্গ লইয়া প্রভু কহে আমি দীন হীন। তোমরা বৈষ্ণব বর এই আশীর্ব্বাদ কর দুই হাত দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে যেন উপহাস ব্রজে গিয়া পাই ব্রজনাথে॥ এত বলি গোরা রায় প্রেমে ঊর্দ্ধ্বমুখে ধায় কোথা বৃন্দাবন বলি কাঁদে। ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে নিত্যানন্দ তান পাশে বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কাঁদে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ প্রভুর মুণ্ডন দেখি কান্দে যত পশু-পাখী আর কান্দে যত শ্রীনিবাসী। বৎস নাহি দুগ্ধ খায় তৃণ দন্তে গাভী ধায় নেহালে গৌরাঙ্গ মুখ আসি॥ আছে লোক দাঁড়াইয়া গৌরাঙ্গ মুখ চাহিয়া কারো মুখে নাহি সরে বাণী। দু’নয়নে জল সরে গৌরাঙ্গের মুখ হেরে বৃক্ষবৎ হৈল সব প্রাণী॥ ডোর কৌপীন পরি মস্তকে মুণ্ডন ডুরি মায়া ছাড়ি হৈলা উদাসীন। বৈসে ডগমগি হৈয়া করেতে দণ্ড লইয়া প্রভু কহে আমি দীন হীন। তোমরা বৈষ্ণববর এই আশীর্ব্বাদ কর দুই হাত দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে জেন উপহাস ব্রজে গেলে পাই ব্রজনাথে॥ এত বলি গোরারায় প্রেমে উর্দ্ধ্বমুখে ধায় কোথা বৃন্দাবন বলি কান্দে। ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে নিত্যানন্দ তাঁর পাশে বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কাঁন্দে॥ সূত্র - ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪০। খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬১৩৪। গ। বৈষ্ণব পদাবলী, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পৃ - ১৭৯। ঘ। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পদ - ৮৫। ট। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১২৫। ---চিত্রা রায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পড়িয়া ধরণীতলে শোকে শচী কাঁদি বলে ভণিতা বাসুদেব ঘোষে কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ করুণ॥ পড়িয়া ধরণীতলে শোকে শচী কাঁদি বলে লাগিল দারুণ বিধি বাদে। অমুল্য রতন ছিল কোন্ বিধি হরি নিল পরাণ-পুতলী গোরাচাঁদে। অঙ্গের অঙ্গদবালা গোরাচাঁদের কণ্ঠমালা খাট পাট সোনার দুলিচা। সে সব রহিল পড়ি গৌর মোরে গেল ছাড়ি আমি প্রাণ ধরি আছি মিছা॥ গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল নদীয়া আঁধার ভেল ছটফটি করে মোর হিয়া। যোগিনী হইয়া যাব গৌরাঙ্গ যথায় পাব কাঁদিব তার গলা ধরিয়া॥ যে মোরে গৌরাঙ্গ দিব বিনামূলে বিকাইব হৈব তার দাসের অনুদাসী। বাসুদেব ঘোষে ভণে কাঁদ শচী কি কারণে জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা ॥ করুণ॥ পড়িয়া ধরণীতলে শোকে শচী কাঁদি বলে লাগিল দারুণ বিধি বাদে। অমুল্য রতন ছিল কোন্ বিধি হরি নিল পরাণ পুতলী গোরাচাঁদে। অঙ্গের অঙ্গদবালা গোরাচাঁদের কণ্ঠমালা খাট পাট সোনার দুলিচা। সে সব রহিল পড়ি গৌর মোরে গেল ছাড়ি আমি প্রাণ ধরি আছি মিছা॥ গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল নদীয়া আঁধার ভেল ছটফট করে মোর হিয়া। যোগিনী হইয়া যাব গৌরাঙ্গ যথায় পাব কাঁদিব তার গলায় ধরিয়া॥ যে মোরে গৌরাঙ্গ দিব বিনামূলে বিকাইব হৈব তার দাসের অনুদাসী। বাসুদেব ঘোষে ভণে কাঁদ শচী কি কারণে জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পড়িয়া ধরণী তলে শোকে শচী দেবী বলে লাগিল দারুণ বিধি বাদে। অমুল্য রতন ছিল কোন ছলে কে রাখিল। সোণার পুতলী গোরাচাঁদে। অমূল্য রতন ছিল কোন ছলে কে রাখিল। সোনার পুতুলী গোরাচাঁদে॥ অঙ্গুরি অঙ্গদ বালা গোরাচান্দের কণ্ঠ মালা খাটপাট সোনার দুলিচা। এ সব রহিল পড়ি গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি আমি প্রাণ ধরিয়াছি মিছা॥ গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল নদীয়া আন্ধার হৈল বিদরিয়া যায় মোর হিয়া। যোগিনী হইয়া যাই যথা বাছার নাগী পাই কান্দিতাম গলায় ধরিঞা॥ যে মোরে মিলিয়া দেয় মূল্য দিয়া কিনা লয় হৈতাম দাসের যে দাসী। বাসুদেব ঘোষে ভণে শচী কান্দে অকারণে জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ করুণরাগ॥ পড়িয়া ধরণীতলে শোকে শচী কাঁদি বলে লাগিল দারুণ বিধি বাদে। অমুল্য রতন ছিল কোন্ বিধি হরি নিল পরাণ পুতলী গোরাচাঁদে। অঙ্গের অঙ্গদবালা গোরাচাঁদের কণ্ঠমালা খাট পাট সোনার দুলিচা। সে সব রহিল পড়ি গৌর মোরে গেল ছাড়ি আমি প্রাণ ধরি আছি মিছা॥ গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল নদীয়া আঁধার ভেল ছটফট করে মোর হিয়া। যোগিনী হইয়া যাব গৌরাঙ্গ যথায় পাব কাঁদিব তার গলায় ধরিয়া॥ যে মোরে গৌরাঙ্গ দিব বিনামূলে বিকাইব হৈব তার দাসের অনুদাসী। বাসুদেব ঘোষে ভণে কাঁদ শচী কি কারণে জীব লাগি নিমাই সন্ন্যাসী॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| স্বপনে গিয়াছিনু ক্ষীরোদ-সাগরে ভণিতা - ভণিতাহীন / বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৬৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ॥ স্বপনে গিয়াছিলুঁ ক্ষীরোদ সায়রে তথা না পাইলুঁ গুণ-নিধি। পাতিয়া হাট খানি বেসাইতে না দিলে বিবাদে লাগিল বিধি॥ কোথা হৈতে আইল কেশব ভারতী ধরিয়া সন্ন্যাসি-বেশ। পড়ায়্যা শুনায়্যা পণ্ডিত করিলুঁ কেবা লৈয়া গেল দূরদেশে॥ শচীমায়ে ডাকে নিমাই আয় রে॥ ধ্রু॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৭৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথারাগ॥ স্বপনে গিয়াছিলুঁ ক্ষীরোদ সায়রে তথা না পাইলুঁ গুণ-নিধি। পাতিয়া হাট খানি বসাইতে না দিলে বিবাদে লাগিল বিধি॥ কোথা হৈতে আইল কেশব ভারতী ধরিয়া সন্ন্যাসি-বেশ। পড়ায়্যা শুনায়্যা পণ্ডিত করিলুঁ কেবা লৈয়া গেল দূরদেশে॥ শচীমায়ে ডাকে নিমাই আয় রে আয়। ভারতীর সনে কি মন্ত্রণা করি মায়েরে বধিয়া যায়॥ ধ্রু॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ স্বপনে গিয়াছিনু ক্ষীরোদ-সাগরে তথা না পাইনু গুণনিধি। পাতিয়া হাটখানি বসাইতে না দিলি বিবাদে লাগিল বিধি॥ কোথা হৈতে আইল কেশব ভারতী ধরিয়া সন্ন্যাসিবেশ। পড়াইয়া শুনাইয়া পণ্ডিত করিনু কেবা লইয়া গেল দূরদেশে॥ শচীমায়ে ডাকে নিমাই আয় রে শূন্য ঘরেতে যাদুধন। বাসু ঘোষ কহে ঐ গোরাচাঁদ মায়ের জীবন॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ॥ স্বপনে গিয়াছিলুঁ ক্ষীরোদ সায়রে তথা না পাইলুঁ গুণনিধি। পাতিয়া হাটখানি বসাইতে না দিলি বিবাদে লাগিল বিধি॥ কোথা হইতে আইল কেশব ভারতী ধরিয়া সন্ন্যাসী বেশ। পড়ায়্যা শুনায়্যা পণ্ডিত করিলুঁ কেবা লৈয়া গেলা দূরদেশ॥ শচী মায়ে ডাকে নিমাই আয়রে শূন্য ঘরেতে যাদুধন। বাসু ঘোষ কহে ঐ গোরাচাঁদ মায়ের জীবন॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে করজোর করি আগে মায়ের চরণ যুগে মুড়াঞা চাঁচর কেশ ধরিয়া সন্ন্যাস বেশ ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বলরাম দাস / বল্লভদাস কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বলরামদাস ও বল্লভ দাস ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। নীচে তা দেওয়া হয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে আইল সবাই শান্তিপুরে। মুড়ায়েছে মাথার কেশ ধৈরাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥ এ মত হইল কেনে শিরে কেশ দেখি হীনে পরিয়াছে কৌপীন যে বাস। নদীয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনাথ করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস॥ কর জোড় অনুরাগে দাঁড়াল মায়ের আগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া। দুই হাতে তুলি বুকে চুন্ব দিলা চাঁদমুখে কাঁদে শচী গলাটী ধরিয়া॥ ইহার লাগিয়া যত পড়াইলাম ভাগবত এ দুখ কহিব আমি কায়। অনাথিনী করি মোরে যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারী ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি। জীয়ন্ত থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হৈলা বৈরারী॥ গৌরাঙ্গের বৈরাগে ধরণী বিদায় মাগে আর তাহা শচীর করুণা। কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭০-পৃষ্ঠায় বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে আইলা সবাই শান্তিপুরে। মুড়ায়েছে মাথার কেশ ধৈরাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥ এ মত হইল কেনে শিরে কেশ দেখি হীনে পরিয়াছে কৌপীন যে বাস। নদীয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনাথা করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস॥ কর জোড় অনুরাগে দাঁড়াল মায়ের আগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া। দুই হাতে তুলি বুকে চুন্ব দিলা চাঁদমুখে কাঁদে শচী গলাটি ধরিয়া॥ ইহার লাগিয়া যত পড়াইলাম ভাগবত এ দুখ কহিব আমি কায়। অনাথিনী করি মোরে যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারী ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি। জীয়ন্ত থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হৈলা বৈরারী॥ গৌরাঙ্গের বৈরাগে ধরণী বিদার মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মুড়াঞা চাঁচর কেশ ধরিয়া সন্ন্যাস বেশ দেয় সভার মন ঝুরে॥ এমন হৈলা কেন এবে দেখি কেশহীন পড়িয়াছে এ কপিন বাস। নদিয়া যাইলা ছাড়ি মায়েরে অনথি করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। কর জোড়ি অনুরাগে শচীর চরণ আগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই করে তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদ মুখে ডাকে শচী নিমাই বলিঞা। ইহার লাগিয়া যত পড়াইলাম ভাগবত এ দুখ কহিব আমি কায়॥ অনাথিনী করি মায় যাবে পুত্র দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ড ধরি ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হৈলা বৈরাগী॥ গৌরাঙ্গের বৈরাগ্যে ধরণী বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে। মুড়াইয়া মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥ নদিয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনথি করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। কর জোড় করি আগে মায়ের চরণ জুগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া। ইহার লাগিয়া কত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব আমি কায়॥ এ ডোর কপিনি পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারি ঘরে ঘরে খাওয়ে মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইল্যা বৈরাগি॥ গোরা চান্দের বৈরাগে ধরণি বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরাম দাস গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস জগভরি রহল ঘোষণা॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ “বল্লভ দাস” ভণিতায় রয়েছে। করজোর করি১ আগে মায়ের চরণ যুগে পড়িলেন দণ্ডবত হৈঞা। দুহাতে তুলি বুকে চুম্ব দিলা চান্দ মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিঞা॥ ইহার লাগিয়া যত পড়াইনু ভাগবত২ একথা কহিব আমি কায়।৩ হাপুতি করিয়া মোরে৪ যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপিন পরি কি লাগিয়া দণ্ড ধরি ঘরে ঘরে যাবে ভিক্ষা মাগি। জীয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাহি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগি॥ গোরাচান্দের বৈরাগ্য ধরণী বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরামদাস গোরাচান্দের সন্ন্যাস৫ জগভরি রহিল ঘোষণা॥ পদকল্পতরু ও গৌরপদতরঙ্গিণীতে পাঠান্তর - ১ করজোড়ি অনুরাগে দাঁড়াল মায়ের আগে, ২ পড়াইলাম, ৩ এ দুখ, ৪ অনাথিনী করি মোরে (অনাথিনী শব্দের অর্থ, যাহার নাথ নাই, সুতরাং ‘হাপুতি করিয়া মোরে’ পাঠই ঠিক) ৫ কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ ---গৌরপদতরঙ্গিণী কহয়ে বল্লভদাস গোরাচাঁদের বৈরাগ ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥---পদকল্পতরু দাসের সঙ্গে বৈরাগ শব্দের মিল হয় না, সুতরাং এই ভণিতা ভুল। ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্যের সংস্করণে (৪) চিহ্নিত ত্রিপদী নাই। --- বিমান বিহারী মজুমদার, “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে আইল সবাই শান্তিপুরে। মুড়ায়েছে মাথার কেশ ধৈরাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥ এ মত হইল কেনে শিরে কেশ দেখি হীনে পরিয়াছে কৌপীন যে বাস। নদীয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনাথ করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস॥ কর জোড়ি অনুরাগে দাঁড়াল মায়ের আগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া। দুই হাতে তুলি বুকে চুন্ব দিলা চান্দমুখে কাঁদে শচী গলাটি ধরিয়া॥ ইহার লাগিয়া যত পড়াইলাম ভাগবত এ দুখ কহিব আমি কায়। অনাথিনী করি মোরে যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারী ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি। জীয়ন্ত থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা জায় কার বোলে হৈলা বৈরারী॥ গৌরাঙ্গের বৈরাগে ধরণী বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বাসুদেব ঘোষে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ সূত্র - ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪৬ ( বাসু ঘোষ ভণিতা )। খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭ ( বাসু ঘোষ ভণিতা )। গ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬৭৬৭ ( বাসু ঘোষ ভণিতা )। ঘ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬১৩৪ ( নরোত্তম ভণিতা )। ঙ। বিশ্বভারতী পুথি, ৬০৯৬ ( নরোত্তম ভণিতা )। চ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ৯৬৯ ( বলরাম ভণিতা )। ছ। পদকল্পতরু পদ - ২২৩৩ ( বল্লভ ভণিতা )। জ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মৃণালকান্তি ঘোষ, পৃ - ৯১। ঝ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ - ১১৩। ঞ। বৈষ্ণব পদাবলী, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পৃ - ১৮০। ট। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পৃ - ৮৯। ঠ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৬৬। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২০-পৃষ্ঠায়, বলরাম দাস ভণিতায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর “করজোড় করি আগে মায়ের চরণ যুগে” শিরোনামের ২২৩৩-সংখ্যক পদ, “বল্লভ দাস” ভণিতায় এবং গৌরপদতরঙ্গিণীতে বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে যায় শচী অনুরাগে সভে মেলি গেলা শান্তিপুরে। মুড়াইয়া মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার মন ঝুরে॥ নদিয়ার ভোগ ছাড়ি মায়েরে অনাথা করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। ইহার লাগিয়া কত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব কার পাশ॥ কর জোড় করি আগে মায়ের চরণ জুগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হইয়া॥ দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদমুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া। এ ডোর কৌপীন পরি কি লাগিয়া দণ্ডধারি ঘরে ঘরে খাও ভিক্ষা মাগি। জিয়ন্তে থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগি॥ গোরা চান্দের বৈরাগে ধরণি বিদায় মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহে বলরাম দাস গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস জগভরি রহল ঘোষণা॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুনিয়া মায়ের বাণী কহে প্রভু গুণমণি ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ শুনিয়া মায়ের বাণী কহে প্রভু গুণমণি। শুন মাতা আমার বচন। জনে জন্মে মাতা তুমি তোমার বালক আমি এই সব বিধির লিখন॥ ধ্রুবের জননী ছিল পুত্রকে বৈরাগ্য দিল ভজে তেঁই দেব চক্রপাণি। রঘুনাথ ছাড়ি ভোগে বনে বনে ফিরে লোকে ঝরে সদা কৌশল্যা জননী॥ তবে শেষে দ্বাপরে কৃষ্ণ গেলা মধুপুরে ঘরে নন্দরাণী নন্দ পিতা। সর্ব্ব পরে এই হয়ে এ কথা অন্যথা নহে মিথ্যা শোক কর শচী মাতা॥ বিধাতা নির্ব্বন্ধ যাহা কেবা খণ্ডাইবে তাহা এত জানি স্থির কর মন। ভজ কৃষ্ণ কর সার আর নাহি সংসার পাইয়া পরমপদধন॥ রোদন করিলে তুমি ডাকিলে আসিব আমি এই দেহ তোমার পালিত। আশীর্ব্বাদ কর মোরে যাই নীলাচলপুরে তুমি চিত্তে কর সন্নিহিত॥ প্রভু স্তুতি বাণী কহে শচী নির্ব্বাচনে বহে পড়ে জল নয়ন বহিয়া। বাসু কহে গৌরহরি এই নিবেদন করি পুনরপি চলহ নদীয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭১-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শান্তিপুরে মিলন ॥ পাহিড়া॥ শুনিয়া মায়ের বাণী কহে প্রভু গুণমণি। শুন মাতা আমার বচন। জনে জন্মে মাতা তুমি তোমার বালক আমি এই সব বিধির লিখন॥ ধ্রুবের জননী ছিল পুত্রকে বৈরাগ্য দিল ভজে তেঁই দেব চক্রপাণি। রঘুনাথ ছাড়ি ভোগে বনে বনে ফিরে দুঃখে ঝুরে সদা কৌশল্যা জননী॥ তবে শেষে দ্বাপরে কৃষ্ণ গেলা মধুপুরে ঘরে নন্দরাণী নন্দ পিতা। সর্ব্ব পরে এই হয়ে এ কথা অন্যথা নহে মিথ্যা শোক কর শচী মাতা॥ বিধাতা নির্ব্বন্ধ যাহা কেবা খণ্ডাইবে তাহা এত জানি স্থির কর মন। ভজ কৃষ্ণ কর সার আর নাহি সংসার পাইয়া পরম পদ ধন॥ রোদন করিলে তুমি ডাকিলে আসিব আমি এই দেহ তোমার পালিত। আশীর্ব্বাদ কর মোরে যাই নীলাচলপুরে তুমি চিত্তে কর সমাহিত॥ প্রভু স্তুতি বাণী কহে শচী নির্ব্বচনে রহে পড়ে জল নয়ন বহিয়া। বাসু কহে গৌরহরি এই নিবেদন করি পুনরপি চলহ নদীয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ শুনিয়া মায়ের বাণী কহে প্রভু গুণমণি। শুন মাতা আমার বচন। জনে জন্মে মাতা তুমি তোমার বালক আমি এই সব বিধির লিখন॥ ধ্রুবের জননী ছিল পুত্রকে বৈরাগ্য দিল ভজে তেঁই দেব চক্রপাণি। রঘুনাথ ছাড়ি ভোগে বনে বনে ফিরে লোকে ঝুরে সদা কৌশল্যা জননী॥ তবে শেষে দ্বাপরে কৃষ্ণ গেলা মধুপুরে ঘরে নন্দরাণী নন্দ পিতা। সর্ব্ব পরে এই হয়ে এ কথা অন্যথা নহে মিথ্যা শোক কর শচী মাতা॥ বিধাতা নির্ব্বন্ধ যাহা কেবা খণ্ডাইবে তাহা এত জানি স্থির কর মন। ভজ কৃষ্ণ কর সার আর নাহি সংসার পাইয়া পরম পদধন॥ রোদন করিলে তুমি ডাকিলে আসিব আমি এই দেহ তোমার পালিত। আশীর্ব্বাদ কর মোরে যাই নীলাচলপুরে তুমি চিত্তে কর সন্নিহিত॥ প্রভু স্তুতি বাণী কহে শচী নির্ব্বচনে রহে পড়ে জল নয়ন বাহিয়া। বাসু কহে গৌরহরি এই নিবেদন করি পুনরপি চলহ নদীয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |