| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| শ্রীপ্রভু করুণস্বরে ভকত প্রবোধ করে ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ শ্রীপ্রভু করুণস্বরে ভকত প্রবোধ করে। কহে কথা কান্দিতে কান্দিতে। দুটী হাত জোড় করি নিবেদয়ে গৌরহরি সবে দয়া না ছাড়িহ চিতে॥ ছাড়ি নবদ্বীপবাস পরিনু অরুণ বাস শচী বিষ্ণুপ্রিয়ারে ছাড়িয়া। মনে মোর এই আশ করি নীলাচলে বাস তোমা সবার অনুমতি লৈয়া॥ নীলাচল নদীয়াতে লোক করে যাতায়াতে তাহাতে পাইবা তত্ত্ব মোর। এত বলি গৌরহরি নমো নারায়ণ স্মরি অদ্বৈতে ধরিয়া দিল কোর॥ শচীরে প্রবোধ দিয়া তার পদধূলি লৈয়া নিরপেক্ষ যাত্রা প্রভু কৈল। বাসুদেব ঘোষ বলে গোরা যায় নীলাচলে শান্তিপুর ক্রন্দনে ভরিল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭২-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শান্তিপুরে মিলন ॥ শ্রীগান্ধার॥ শ্রীপ্রভু করুণস্বরে ভকত প্রবোধ করে। কহে কথা কান্দিতে কান্দিতে। দুটি হাত জোড় করি নিবেদয়ে গৌরহরি সবে দয়া না ছাড়িহ চিতে॥ ছাড়ি নবদ্বীপ বাস পরিনু অরুণ বাস শচী বিষ্ণুপ্রিয়ারে ছাড়িয়া। মনে মোর এই আশ করি নীলাচলে বাস তোমা সবার অনুমতি লৈয়া॥ নীলাচল নদীয়াতে লোক করে যাতায়াতে তাহাতে পাইবা তত্ত্ব মোর। এত বলি গৌরহরি নমো নারায়ণ স্মরি অদ্বৈতে ধরিয়া দিল কোর॥ শচীরে প্রবোধ দিয়া তার পদধূলি লৈয়া নিরপেক্ষ যাত্রা প্রভু কৈল। বাসুদেব ঘোষ বলে গোরা যায় নীলাচলে শান্তিপুর ক্রন্দনে ভরিল॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ শ্রীপ্রভু করুণ স্বরে ভকত প্রবোধ করে কহে কথা কান্দিতে কান্দিতে। দুটি হাত জোড় করি নিবেদয়ে গৌরহরি সবে দয়া না ছাড়িহ চিতে॥ ছাড়ি নবদ্বিপবাস পরিনু অরুণবাস শচী-বিষ্ণুপ্রিয়ারে ছাড়িয়া। মনে মোর এই আশ করি নীলাচলে বাস তোমা সবার অনুমতি লৈয়া॥ নীলাচল নদীয়াতে লোক করে যাতায়াতে তাহাতে পাইবা তত্ত্ব মোর। এত বলি গৌরহরি নমো নারায়ণ স্মরি অদ্বৈতে ধরিয়া দিল কোর॥ শচীরে প্রবোধ দিয়া তার পদধূলি লৈয়া নিরপেক্ষ যাত্রা প্রভু কৈল। বাসুদেব ঘোষ বলে গোরা যায় নীলাচলে শান্তিপুর ক্রন্দনে ভরিল॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আমার নিমাই গেল রে ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ ॥ ভাটিয়ারি॥ আমার নিমাই গেল রে, কেমন করে প্রাণ। তুলসীর মালা হাতে, যায় নিমাই ভারতীর সাথে, যারে দেখে তারে নিমাই বিলায় হরিনাম॥ ধ্রু॥ কান্দে বধূ বিষ্ণুপ্রিয়া, ধূলায় অঙ্গ আছাড়িয়া, কেমনে দঁঢ়াবে হিয়া, না হেরে বয়ান। বাসুদেব ঘোষের বাণী, শুন শচী ঠাকুরাণী, জীব নিস্তারিতে ন্যাসী হৈলেন ভগবান্॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ( শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ ) ॥ ভাটিয়ারি॥ আমার নিমাই গেল রে, কেমন করে প্রাণ। তুলসীর মালা হাতে যায় নিমাই ভারতীর সাথে যারে দেখে তারে নিমাই বিলায় হরিনাম॥ ধ্রু॥ কান্দে বধূ বিষ্ণুপ্রিয়া ধূলায় অঙ্গ আছাড়িয়া কেমনে দঁঢ়াবে হিয়া, না হেরে বয়ান। বাসুদেব ঘোষের বাণী শুন শচী ঠাকুরাণী জীব নিস্তারিতে ন্যাসী হৈলেন ভগবান॥ সূত্র - ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪৯। খ। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পদ - ১০১। গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৭৫। . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কাঁদে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া কান্দে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া ভণিতা - ভণিতাহীন পদ / বাসু / ভণিতাহীন কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ১১শ পল্লব, সংক্ষিপ্ত রসোদ্গার, ২৪৯-পদসংখ্যায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া রয়েছে। এটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৩৫ সংখ্যক পদ। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে। ওহে নাথ কি করিলে পাথারে ভাসাইয়া গেলে কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥ এ ঘর জননী ছাড়ি মুঞি অনাথিনী এড়ি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। বেদে শুনি রঘুনাথ জানকী লইয়া সাথ তবে সে করিলা বনবাস॥ পূরুবে নন্দের বালা যবে মধুপুরে গেলা এড়িয়া সকল গোপীগণে। উদ্ধবেরে পাঠাইয়া নিজ-তত্ত্ব জানাইয়া রাখিলেন তা সভার প্রাণে॥ চাঁদ-মুখ না দেখিব আর পদ না সেবিব না করিব সে সুখ-বিলাস। এ দেহ গঙ্গায় দিব তোমার শরণ নিব কি আর জীবনে মোর আশ॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৩৫-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে। ওহে নাথ কি করিলে পাথারে ভাসাইয়া গেলে কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥ এ ঘর জননী ছাড়ি মুঞি অভাগিনী এড়ি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। বেদে শুনি রঘুনাথ জানকী লইয়া সাথ তবে সে করিলা বনবাস॥ পূরুবে নন্দের বালা যবে মধুপুরে গেলা এড়িয়া সকল গোপীগণে। উদ্ধবেরে পাঠাইয়া নিজ-তত্ত্ব জানাইয়া রাখিলেন তা সভার প্রাণে॥ চাঁদ-মুখ না দেখিব আর পদ না সেবিব না করিব সে সুখ-বিলাস। এ দেহ গঙ্গায় দিব তোমার শরণ নিব কি আর জীবনে মোর আশ॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ ॥ পাহিড়া॥ কাঁদে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া। লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে। ওহে নাথ কি কহিলে পাথারে ভাসাঞা গেলে কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥ এ ঘর জননী ছাড়ি মোরে অনাথিনী করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। বেদেও শুনি রঘুনাথ লইয়া জানকী সাথ তবে সে করিলা বনবাস॥ পূরুবে নন্দের বালা যবে মধুপুর গেলা এড়িয়া সকল গোপীগণে। উদ্ধবেরে পাঠাইয়া নিজতত্ত্ব জানাইয়া রাখিলেন তাসবার প্রাণে॥ চাঁদমুখ না দিখিব আর পদ না সেবিব না করিব সে সুখবিলাস। এ দেহ গঙ্গায় দিব তোমার শরণ নিব বাসুর জীবনে নাহি আশ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা ॥ পাহিড়া॥ কাঁদে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া। লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে। ওহে নাথ কি কহিলে পাথারে ভাসাঞা গেলে কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥ এ ঘর জননী ছাড়ি মোরে অনাথিনী করি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। বেদেও শুনি রঘুনাথ লইয়া জানকী সাথ তবে সে করিলা বনবাস॥ পূরুবে নন্দের বালা যবে মধুপুর গেলা এড়িয়া সকল গোপীগণে। উদ্ধবেরে পাঠাইয়া নিজতত্ত্ব জানাইয়া রাখিলেন তাসবার প্রাণে॥ চাঁদমুখ না দেখিব আর পদ না সেবিব না করিব সে সুখবিলাস। এ দেহ গঙ্গায় দিব তোমার শরণ নিব বাসুর জীবনে নাহি আশ॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৮-পৃষ্ঠায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া রয়েছে। কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া লোটাঞা লোটাঞা ভূমিতলে। প্রাণনাথ কি করিলা পাথারে ভাসায়ে গেলা কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥ এ ঘর জননী ছাড়ি মোরে অভাগিনী এড়ি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। বেদে শুনি রঘুনাথ জানকীরে লঞা সাথ তবে সেযাঞা কৈলারণ্যবাস॥ পূরুবে নন্দের বালা যবে মথুরা গেলা গোপীগণের বধিয়া পরাণ। উদ্ধবেরে পাঠাইঞা নিজ তত্ত্ব বুঝাইঞা তবে গোপীর রাখিলা পরাণ॥ এত যদি ছিল মনে দুখ দিতে দুখীজনে তবে কেন কৈলা গৃহবাস। অগৌর চন্দন সঙ্গে মালতীর মালা অঙ্গে সেবা করি পুরাইতাম আশ॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৩০- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সূত্র - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭। ॥ পাহিড়া॥ কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া লোটাঞা লোটাঞা ভূমিতলে। প্রাণনাথ কি করিলা পাথারে ভাসায়ে গেলা কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥ এ ঘর জননী ছাড়ি মোরে অনাথিনী এড়ি কার বোলে করিলা সন্ন্যাস। বেদে শুনি রঘুনাথে জানকীরে লঞা সাথে তবে যাঞা কৈলারন্যবাস॥ পূরুবে নন্দের বালা যখন মথুরা গেলা গোপীগণের বধিয়া পরান। উদ্ধবেরে পাঠাইঞা নিজতত্ত্ব জানাইঞা তহ্ গোপীর রাখিলা পরাণ॥ এত যদি ছিল মনে দুখ দিতে দুখিজনে তবে কেন কৈলা গৃহবাস। অগৌর চন্দন সঙ্গে মালতীর মালা অঙ্গে সেবা করি পুরাইতাম আশ॥ এখন আমি যে করিব এ দেহ তোমারে দিব ইহা বলি কান্দেন অপার। এ দেহ আমি ডারিব গঙ্গার শরণ লব বাসু ঘোষের দিবসে আন্ধার॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |