কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
নানান প্রকারে প্রভু মায়েরে সান্ত্বায়
প্রেমে অঙ্গ ঢরঢর স্থির নহে চিতে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নানান প্রকারে প্রভু মায়েরে সান্ত্বায়।
অদ্বৈতঘরণী সীতা শচীরে বুঝায়॥
শচীর সহিত যত নদীয়ার লোক।
সুদৃষ্টি মেলিয়া প্রভু জুড়াইল শোক॥
শান্তিপুর ভরিয়া উঠিল হরিধ্বনি।
অদ্বৈতের আঙ্গিনায় নাচে গৌরমণি॥
প্রেমে টলমল করে স্থির নহে চিত।
নিতাই ধরিয়া কাঁদে নিমাই পণ্ডিত॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফিরে পাছে পাছে।
আছাড় খাইয়া গোরা ভূমে পড়ে পাছে॥
চৌদিকে ভকতগণ বোলে হরি হরি।
শান্তিপুর হৈল যেন নবদ্বীপ পুরী॥
প্রভু সঙ্গে কোটিচন্দ্র দেখিয়ে আভাস।
এ ডোর কৌপীন তাহে প্রেমের প্রকাশ॥
হেন রূপ প্রেমাবেশ দেখি শচী মায়।
বাহিরে দুঃখিত কিন্তু আনন্দ হিয়ায়॥
বুঝায় শচীর মন অবধূত রায়।
সংকীর্ত্তন সমাপিয়া প্রভুরে বসায়॥
এইরূপ দশ দিন অদ্বৈতের ঘরে।
ভোজন বিলাসে প্রভু আনন্দ অন্তরে॥
বাসুদেব ঘোষ কয় চরণে ধরিয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭১-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ ধানশী॥

নানান প্রকারে প্রভু মায়েরে সান্ত্বায়।
অদ্বৈতঘরণী সীতা শচীরে বুঝায়॥
শচীর সহিত যত নদীয়ার লোক।
সুদৃষ্টি মেলিয়া প্রভু জুড়াইল শোক॥
শান্তিপুর ভরিয়া উঠিল হরিধ্বনি।
অদ্বৈতের আঙ্গিনায় নাচে গৌরমণি॥
প্রেমে টলমল করে স্থির নহে চিত।
নিতাই ধরিয়া কাঁদে নিমাই পণ্ডিত॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফিরে পাছে পাছে।
আছাড় খাইয়া গোরা ভূমে পড়ে পাছে॥
চৌদিকে ভকতগণ বোলে হরি হরি।
শান্তিপুর হৈল যেন নবদ্বীপ পুরী॥
প্রভুঅঙ্গে কোটিচন্দ্র দেখিয়ে আভাস।
এ ডোর কৌপীন তাহে প্রেমের প্রকাশ॥
হেন রূপ প্রেমাবেশ দেখি শচী মায়।
বাহিরে দুঃখিত কিন্তু আনন্দ হিয়ায়॥
বুঝায় শচীর মন অবধূত রায়।
সংকীর্ত্তন সমাপিয়া প্রভুরে বসায়॥
এইরূপে দশ দিন অদ্বৈতের ঘরে।
ভোজন বিলাসে প্রভু আনন্দ অন্তরে॥
বাসুদেব ঘোষ কয় চরণে ধরিয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “নানান প্রকারে প্রভু মায়েরে
সান্ত্বায়” পদটির প্রথম ৬টি পংক্তির পরে আরম্ভ হচ্ছে, পাঠান্তর সহ।

প্রেমে অঙ্গ ঢরঢর স্থির নহে চিতে।
নিতাই ধরিয়া কান্দে নিমাই পণ্ডিতে॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফিরে কাছে কাছে।
আছাড় খাইয়া প্রভু ভুমে পড়ে পাছে॥
চারিদিকে ভক্তগণ বলে হরি হরি।
শান্তিপুর হৈল যেন নদীয়া নগরী॥
প্রভু সঙ্গে কোটি চন্দ্র জিনিয়া প্রকাশ।
অরুণ লোচন তাহে প্রেমের প্রকাশ॥
হেন রূপ তার প্রেম দেখে শচী মায়।
বাহিরে দুখিনী শচী আনন্দ হিয়ায়॥
বুঝিয়া শচীর মন অবধূত রায়।
কীর্ত্তন সমাধিয়া প্রভুরে বৈসায়॥
বাসুদেব ঘোষ বলে গোরা মুখ চায়।
শচীরে বিদায় দেয় সুহৃদ বুঝায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নানান প্রকারে প্রভু মায়েরে সান্ত্বায়।
অদ্বৈতঘরণী সীতা শচীরে বুঝায়॥
শচীর সহিত যত নদীয়ার লোক।
সুদৃষ্টি মেলিয়া প্রভু জুড়াইল শোক॥
শান্তিপুর ভরিয়া উঠিল হরিধ্বনি।
অদ্বৈতের আঙ্গিনায় নাচে গৌরমণি॥
প্রেমে টলমল করে স্থির নহে চিত।
নিতাই ধরিয়া কাঁদে নিমাই পণ্ডিত॥
অদ্বৈত পসারি বাহু ফিরে পাছে পাছে।
আছাড় খাইয়া গোরা ভূমে পড়ে পাছে॥
চৌদিকে ভকতগণ বোলে হরি হরি।
শান্তিপুর হৈল যেন নবদ্বিপ পুরি॥
প্রভুসঙ্গে কোটিচন্দ্র দেখিয়ে আভাস।
এ ডোর কৌপিন তাহে প্রেমের প্রকাশ॥
হেন রূপ প্রেমাবেশ দেখি সচি মায়।
বাহিরে দুঃখিত কিন্তু আনন্দ হিয়ায়॥
বুঝায় শচীর মন অবধূত রায়।
সংকীর্ত্তন সমাপিয়া প্রভুরে বসায়॥
এইরূপ দশ দিন অদ্বৈতের ঘরে।
ভোজন বিলাসে প্রভু আনন্দ অন্তরে॥
বাসুদেব ঘোষ কয় চরণে ধরিয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শ্রীপ্রভু করুণস্বরে ভকত প্রবোধ করে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

শ্রীপ্রভু করুণস্বরে                 ভকত প্রবোধ করে।
কহে কথা কান্দিতে কান্দিতে।
দুটী হাত জোড় করি              নিবেদয়ে গৌরহরি
সবে দয়া না ছাড়িহ চিতে॥
ছাড়ি নবদ্বীপবাস                   পরিনু অরুণ বাস
শচী বিষ্ণুপ্রিয়ারে ছাড়িয়া।
মনে মোর এই আশ                করি নীলাচলে বাস
তোমা সবার অনুমতি লৈয়া॥
নীলাচল নদীয়াতে               লোক করে যাতায়াতে
তাহাতে পাইবা তত্ত্ব মোর।
এত বলি গৌরহরি                  নমো নারায়ণ স্মরি
অদ্বৈতে ধরিয়া দিল কোর॥
শচীরে প্রবোধ দিয়া                  তার পদধূলি লৈয়া
নিরপেক্ষ যাত্রা প্রভু কৈল।
বাসুদেব ঘোষ বলে                গোরা যায় নীলাচলে
শান্তিপুর ক্রন্দনে ভরিল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৭২-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ শ্রীগান্ধার॥

শ্রীপ্রভু করুণস্বরে                ভকত প্রবোধ করে।
কহে কথা কান্দিতে কান্দিতে।
দুটি হাত জোড় করি              নিবেদয়ে গৌরহরি
সবে দয়া না ছাড়িহ চিতে॥
ছাড়ি নবদ্বীপ বাস                  পরিনু অরুণ বাস
শচী বিষ্ণুপ্রিয়ারে ছাড়িয়া।
মনে মোর এই আশ               করি নীলাচলে বাস
তোমা সবার অনুমতি লৈয়া॥
নীলাচল নদীয়াতে              লোক করে যাতায়াতে
তাহাতে পাইবা তত্ত্ব মোর।
এত বলি গৌরহরি                নমো নারায়ণ স্মরি
অদ্বৈতে ধরিয়া দিল কোর॥
শচীরে প্রবোধ দিয়া                তার পদধূলি লৈয়া
নিরপেক্ষ যাত্রা প্রভু কৈল।
বাসুদেব ঘোষ বলে               গোরা যায় নীলাচলে
শান্তিপুর ক্রন্দনে ভরিল॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

শ্রীপ্রভু করুণ স্বরে                  ভকত প্রবোধ করে
কহে কথা কান্দিতে কান্দিতে।
দুটি হাত জোড় করি                নিবেদয়ে গৌরহরি
সবে দয়া না ছাড়িহ চিতে॥
ছাড়ি নবদ্বিপবাস                    পরিনু অরুণবাস
শচী-বিষ্ণুপ্রিয়ারে ছাড়িয়া।
মনে মোর এই আশ                 করি নীলাচলে বাস
তোমা সবার অনুমতি লৈয়া॥
নীলাচল নদীয়াতে                লোক করে যাতায়াতে
তাহাতে পাইবা তত্ত্ব মোর।
এত বলি গৌরহরি                 নমো নারায়ণ স্মরি
অদ্বৈতে ধরিয়া দিল কোর॥
শচীরে প্রবোধ দিয়া                  তার পদধূলি লৈয়া
নিরপেক্ষ যাত্রা প্রভু কৈল।
বাসুদেব ঘোষ বলে                  গোরা যায় নীলাচলে
শান্তিপুর ক্রন্দনে ভরিল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অদ্বৈতবিলাপে প্রভু হইলা বিকল
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

অদ্বৈতবিলাপে প্রভু হইলা বিকল।
শ্রাবণের ধারা সম চক্ষে ঝরে জল॥
কহেন অদ্বৈতাচার্য্য এত কেন ভ্রম।
তুমি স্থির করিয়াছ মোর লীলাক্রম॥
নীলাচলে নাহি গেলে পণ্ড হবে লীলা।
বিফল হইবে সব তুমি যা চাহিলা॥
কিরূপেতে হরিনাম হইবে প্রচার।
কিরূপে ভূবনের লোক পাইবে নিস্তার॥
প্রাকৃত লোকের প্রায় শোক কেন কর।
তব সঙ্গে সদা আমি এ বিশ্বাস কর॥
প্রভুবাক্যে অদ্বৈত পাইলা পরিতোষ।
জয় গৌরাঙ্গের জয় কহে বাসু ঘোষ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭২-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ ধানশী॥

অদ্বৈতবিলাপে প্রভু হইলা বিকল।
শ্রাবণের ধারা সম চক্ষে ঝরে জল॥
কহেন অদ্বৈতাচার্য্যে এত কেন ভ্রম।
তুমি স্থির করিয়াছ মোর লীলাক্রম॥
নীলাচলে নাহি গেলে পণ্ড হবে লীলা।
বিফল হইবে সব তুমি যা চাহিলা॥
কিরূপেতে হরিনাম হইবে প্রচার।
কিরূপে ভূবনের লোক পাইবে নিস্তার॥
প্রাকৃত লোকের প্রায় শোক কেন কর।
তব সঙ্গে সদা আমি এ বিশ্বাস ধর॥
প্রভুবাক্যে অদ্বৈত পাইলা পরিতোষ।
জয় গৌরাঙ্গের জয় কহে বাসু ঘোষ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

অদ্বৈত বিলাপে প্রভু হইলা বিকল।
শ্রাবণের ধারা সম চক্ষে ঝরে জল॥
কহেন অদ্বৈতাচার্য্য এত কেন ভ্রম।
তুমি স্থির করিয়াছ মোর লীলাক্রম॥
নীলাচলে নাহি গেলে পণ্ড হবে লীলা।
বিফল হইবে সব তুমি যা চাহিলা॥
কিরূপেতে হরিনাম হইবে প্রচার।
কিরূপে ভূবনের লোক পাইবে নিস্তার॥
প্রাকৃত লোকের প্রায় শোক কেন কর।
তব সঙ্গে সদা আমি এ বিশ্বাস ধর॥
প্রভু বাক্যে অদ্বৈত পাইলা পরিতোষ।
জয় গৌরাঙ্গের জয় কহে বাসু ঘোষ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আমার নিমাই গেল রে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ ভাটিয়ারি॥

আমার নিমাই গেল রে, কেমন করে প্রাণ।
তুলসীর মালা হাতে, যায় নিমাই ভারতীর সাথে,
যারে দেখে তারে নিমাই বিলায় হরিনাম॥ ধ্রু॥
কান্দে বধূ বিষ্ণুপ্রিয়া, ধূলায় অঙ্গ আছাড়িয়া,
কেমনে দঁঢ়াবে হিয়া, না হেরে বয়ান।
বাসুদেব ঘোষের বাণী, শুন শচী ঠাকুরাণী,
জীব নিস্তারিতে ন্যাসী হৈলেন ভগবান্‌॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

( শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ )
॥ ভাটিয়ারি॥

আমার নিমাই গেল রে, কেমন করে প্রাণ।
তুলসীর মালা হাতে                   যায় নিমাই ভারতীর সাথে
যারে দেখে তারে নিমাই বিলায় হরিনাম॥ ধ্রু॥
কান্দে বধূ বিষ্ণুপ্রিয়া                      ধূলায় অঙ্গ আছাড়িয়া
কেমনে দঁঢ়াবে হিয়া, না হেরে বয়ান।
বাসুদেব ঘোষের বাণী                         শুন শচী ঠাকুরাণী
জীব নিস্তারিতে ন্যাসী হৈলেন ভগবান॥

সূত্র -
ক। গৌরপদতরঙ্গিণী পৃ - ২৪৯।
খ। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পদ - ১০১।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৭৫।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হেদে রে নদীয়ার চাঁদ বাছারে নিমাই
ভণিতা বাসুদেব ঘোষে
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ সুহই॥

হেদে রে নদীয়ার চাঁদ বাছারে নিমাই।
অভাগিনী তোর মায়ের আর কেহ নাই॥
এত বলি ধরি শচী গৌরাঙ্গের গলে।
স্নেহভরে চুম্ব দেয় বদনকমলে॥
মুই বৃদ্ধ মাতা তোর মোরে ফেলাইলা।
বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ দিলা গলায় গাঁথিয়া॥
তোর লাগি কাঁদে সব নদীয়ার লোক।
ঘরেরে চল রে বাছা দূরে যাকু শোক॥
শ্রীনিবাস হরিদাস যত ভক্তগণ।
তাসবারে লৈয়া বাছা করহ কীর্ত্তন॥
মুরারি মুকুন্দ বাসু আর হরিদাস।
এ সব ছাড়িয়া কেন করিলা সন্ন্যাস॥
যে করিলা সে করিলা চল রে ফিরিয়া।
পুন যজ্ঞসুত্র দিব ব্রাহ্মণে ডাকিয়া॥
বাসুদেব ঘোষে কয় শুন মোর বাণী।
পুনরায় নৈদ্যা চল গৌর গুণমণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭০-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ সুহই॥

হেদে রে নদীয়ার চাঁদ বাছারে নিমাই।
অভাগিনী তোর মায়ের আর কেহ নাই॥
এত বলি ধরি শচী গৌরাঙ্গের গলে।
স্নেহভরে চুম্ব দেয় বদনকমলে॥
মুই বৃদ্ধা মাতা তোর মোরে ফেলাইয়া।
বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ দিলি গলায় গাঁথিয়া॥
তোর লাগি কাঁদে সব নদীয়ার লোক।
ঘরেরে চল রে বাছা দূরে যাকু শোক॥
শ্রীবাসাদি নিত্যানন্দ যত ভক্তগণ।
তা সবারে লৈয়া বাছা করহ কীর্ত্তন॥
মুরারি মুকুন্দ বাসু আর হরিদাস।
এ সব ছাড়িয়া কেন করিলা সন্ন্যাস॥
যে করিলা সে করিলা চল রে ফিরিয়া।
পুন যজ্ঞসুত্র দিব ব্রাহ্মণে ডাকিয়া॥
বাসুদেব ঘোষে কয় শুন মোর বাণী।
পুনরায় নৈদ্যা চল গৌর গুণমণি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হেদেরে নদীয়ার চাঁদ বাছারে নিমাই।
অভাগিনী তোর মায়ের আর কেহ নাই॥
এত বলি ধরি শচী গৌরাঙ্গের গলে।
স্নেহভরে চুম্ব দেয় বদন কমলে॥
মুই বৃদ্ধ মাতা তোর মোরে ফেলাইয়া।
বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ দিলা গলায় গাঁথিয়া॥
তোর লাগি কাঁদে সব নদীয়ার লোক।
ঘরেরে চল রে বাছা দূরে যাকু শোক॥
শ্রীনিবাস হরিদাস যত ভক্তগণ।
তাসবারে লৈয়া বাছা করহ কীর্ত্তন॥
মুরারি মুকুন্দ বাসু আর হরিদাস।
এ সব ছাড়িয়া কেন করিলা সন্ন্যাস॥
যে করিলা সে করিলা চল রে ফিরিয়া।
পুন যজ্ঞসূত্র দিব ব্রাহ্মণে ডাকিয়া॥
বাসুদেব ঘোষে কয় শুন মোর বাণী।
পুনরায় নৈদ্যা চল গৌর গুণমণি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আহা মরি কোথা গেল গোরা কাঁচা সোনা
আহা মরি গেলা কোথা গোরা কাঁচা সোনা
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

আহা মরি কোথা গেল গোরা কাঁচা সোনা। কহিইতে লাজ নাহি বাসিয়ে আপনা॥
কি সুনইতে বাণীর সাথে পরাণ না গেল। কি সুখ লাগিয়া প্রাণ অবহু রহিল॥
নয়ানের তারা গেল কি কাজ নয়ানে। আর না হেরব গোরা সুচাঁদ বয়ানে॥
বিধুমুখের সুধামাখা বাণী না সুনিব। গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥
কান্দে বিষ্ণুপ্রিয়া ধুলায়ে পড়িআ। বাসু ঘোষ বলে কেন না গেল মরিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ ধানশী॥

আহা মরি কোথা গেল গোরা কাঁচা সোনা।
কহিতে পরাণ কাঁদে পাসরি আপনা॥
কহইতে বাণীর সনে পরাণ না গেল।
কি সুখ লাগিয়া প্রাণ বাহির না হৈল॥
নয়নের তারা গেলে কি কাজ নয়নে।
আর না হেরিব গোরার সে চাঁদবদনে॥
হাসিমুখে সুধামাখা বাণী না শুনিব।
গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥
বাসু ঘোষ কহে গোরাগুণ সোঙরিয়া।
মুঞি কেন সভার আগে না গেনু মরিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা
॥ ধানশী॥

আহা মরি কোথা গেল গোরা কাঁচা সোনা।
কহিতে পরাণ কাঁদে পাসরি আপনা॥
কহিতে বাণীর সনে পরাণ না গেল।
কি সুখ লাগিয়া প্রাণ বাহির না হৈল॥
নয়নের তারা গেলে কি কাজ নয়নে।
আর না হেরিব গোরার সে চাঁদ বদনে॥
হাসিমুখে সুধামাখা বাণী না শুনিব।
গৌরাঙ্গ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব॥
বাসু ঘোষ কহে গোরাগুণ সোঙরিয়া।
মুঞি কেন সভার আগে না গেনু মরিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণারাগ॥

আহা মরি গেলা কোথা গোরা কাঁচা সোনা।
কহিতে লাজ নাই বাসিয়ে আপনা॥
শুনইতে বাণী সনে পরাণ না গেল।
কি সুখ খাইতে ধড়ে উলটি রহেল॥
নয়নের তারা গেল কি কাজ নয়ানে।
আর না হেরব মুঞি সো চান্দ বয়ানে॥
গৌরাঙ্গ গুণের নিধি পার কোথা গেলে।
বাসু কেন মরিয়া না গোল হেনকালে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কাঁদে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
কান্দে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
ভণিতা - ভণিতাহীন পদ / বাসু / ভণিতাহীন
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ১১শ পল্লব, সংক্ষিপ্ত রসোদ্গার,
২৪৯-পদসংখ্যায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া রয়েছে। এটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৩৫ সংখ্যক
পদ।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া            নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে।
ওহে নাথ কি করিলে           পাথারে ভাসাইয়া গেলে
কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥
এ ঘর জননী ছাড়ি                মুঞি অনাথিনী এড়ি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
বেদে শুনি রঘুনাথ                  জানকী লইয়া সাথ
তবে সে করিলা বনবাস॥
পূরুবে নন্দের বালা                যবে মধুপুরে গেলা
এড়িয়া সকল গোপীগণে।
উদ্ধবেরে পাঠাইয়া                 নিজ-তত্ত্ব জানাইয়া
রাখিলেন তা সভার প্রাণে॥
চাঁদ-মুখ না দেখিব                 আর পদ না সেবিব
না করিব সে সুখ-বিলাস।
এ দেহ গঙ্গায় দিব                 তোমার শরণ নিব
কি আর জীবনে মোর আশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৩৫-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া            নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে।
ওহে নাথ কি করিলে          পাথারে ভাসাইয়া গেলে
কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥
এ ঘর জননী ছাড়ি                মুঞি অভাগিনী এড়ি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
বেদে শুনি রঘুনাথ                  জানকী লইয়া সাথ
তবে সে করিলা বনবাস॥
পূরুবে নন্দের বালা                 যবে মধুপুরে গেলা
এড়িয়া সকল গোপীগণে।
উদ্ধবেরে পাঠাইয়া                 নিজ-তত্ত্ব জানাইয়া
রাখিলেন তা সভার প্রাণে॥
চাঁদ-মুখ না দেখিব                আর পদ না সেবিব
না করিব সে সুখ-বিলাস।
এ দেহ গঙ্গায় দিব                  তোমার শরণ নিব
কি আর জীবনে মোর আশ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ পাহিড়া॥

কাঁদে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া          নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া।
লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে।
ওহে নাথ কি কহিলে           পাথারে ভাসাঞা গেলে
কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥
এ ঘর জননী ছাড়ি               মোরে অনাথিনী করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
বেদেও শুনি রঘুনাথ                লইয়া জানকী সাথ
তবে সে করিলা বনবাস॥
পূরুবে নন্দের বালা                 যবে মধুপুর গেলা
এড়িয়া সকল গোপীগণে।
উদ্ধবেরে পাঠাইয়া                 নিজতত্ত্ব জানাইয়া
রাখিলেন তাসবার প্রাণে॥
চাঁদমুখ না দিখিব                 আর পদ না সেবিব
না করিব সে সুখবিলাস।
এ দেহ গঙ্গায় দিব                  তোমার শরণ নিব
বাসুর জীবনে নাহি আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা
॥ পাহিড়া॥

কাঁদে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া           নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া।
লোটাঞা লোটাঞা ক্ষিতিতলে।
ওহে নাথ কি কহিলে            পাথারে ভাসাঞা গেলে
কাঁদিতে কাঁদিতে ইহা বলে॥
এ ঘর জননী ছাড়ি                মোরে অনাথিনী করি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
বেদেও শুনি রঘুনাথ                লইয়া জানকী সাথ
তবে সে করিলা বনবাস॥
পূরুবে নন্দের বালা                  যবে মধুপুর গেলা
এড়িয়া সকল গোপীগণে।
উদ্ধবেরে পাঠাইয়া                  নিজতত্ত্ব জানাইয়া
রাখিলেন তাসবার প্রাণে॥
চাঁদমুখ না দেখিব                  আর পদ না সেবিব
না করিব সে সুখবিলাস।
এ দেহ গঙ্গায় দিব                   তোমার শরণ নিব
বাসুর জীবনে নাহি আশ॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১০৮-পৃষ্ঠায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া রয়েছে।

কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া                        
নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
লোটাঞা লোটাঞা ভূমিতলে।                
প্রাণনাথ কি করিলা                        
পাথারে ভাসায়ে গেলা
কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥                
এ ঘর জননী ছাড়ি মোরে অভাগিনী এড়ি    
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
বেদে শুনি রঘুনাথ জানকীরে লঞা সাথ     
তবে সেযাঞা কৈলারণ্যবাস॥                
পূরুবে নন্দের বালা          যবে মথুরা গেলা
গোপীগণের বধিয়া পরাণ।
উদ্ধবেরে পাঠাইঞা        নিজ তত্ত্ব বুঝাইঞা
তবে গোপীর রাখিলা পরাণ॥
এত যদি ছিল মনে        দুখ দিতে দুখীজনে
তবে কেন কৈলা গৃহবাস।
অগৌর চন্দন সঙ্গে        মালতীর মালা অঙ্গে
সেবা করি পুরাইতাম আশ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব
সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৩০-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সূত্র - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭।

॥ পাহিড়া॥

কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া            নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া
লোটাঞা লোটাঞা ভূমিতলে।
প্রাণনাথ কি করিলা              পাথারে ভাসায়ে গেলা
কান্দিতে কান্দিতে ইহা বলে॥
এ ঘর জননী ছাড়ি                মোরে অনাথিনী এড়ি
কার বোলে করিলা সন্ন্যাস।
বেদে শুনি রঘুনাথে               জানকীরে লঞা সাথে
তবে যাঞা কৈলারন্যবাস॥
পূরুবে নন্দের বালা                   যখন মথুরা গেলা
গোপীগণের বধিয়া পরান।
উদ্ধবেরে পাঠাইঞা                 নিজতত্ত্ব জানাইঞা
তহ্ গোপীর রাখিলা পরাণ॥
এত যদি ছিল মনে                  দুখ দিতে দুখিজনে
তবে কেন কৈলা গৃহবাস।
অগৌর চন্দন সঙ্গে                 মালতীর মালা অঙ্গে
সেবা করি পুরাইতাম আশ॥
এখন আমি যে করিব              এ দেহ তোমারে দিব
ইহা বলি কান্দেন অপার।
এ দেহ আমি ডারিব                    গঙ্গার শরণ লব
বাসু ঘোষের দিবসে আন্ধার॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গেল গৌর না গেল বলিয়া
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ করুণ॥

গেল গৌর না গেল বলিয়া।
হাম অভাগিনী নারী অকূল ভাসাইয়া॥ ধ্রু॥
হায় রে দারুণ বিধি নিদয় নিঠুর।
জন্মিতে না দিলি তরু ভাঙ্গিলি অঙ্কুর॥
হায় রে দারুণ বিধি কি বাদ সাধিলি।
প্রাণের গৌরাঙ্গ আমার কারে নিয়া দিলি॥
আর কে সহিবে আমার যৌবনের ভার।
বিরহ-অনলে পুড়ি হব ছারখার॥
বাসু ঘোষ কহে আর কারে দুঃখ কব।
গোরাচাঁদ বিনা প্রাণ আর না রাখিব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা
॥ করুণ॥

গেল গৌর না গেল বলিয়া।
হাম অভাগিনী নারী অকূল ভাসাইয়া॥ ধ্রু॥
হায় রে দারুণ বিধি নিদয় নিঠুর।
জন্মিতে না দিলি তরু ভাঙ্গিলি অঙ্কুর॥
হায় রে দারুণ বিধি কি বাদ সাধিলি।
প্রাণের গৌরাঙ্গ আমার কারে নিয়া দিলি॥
আর কে সহিবে মোর যৌবনের ভার।
বিরহ অনলে পুড়ি হব ছারখার॥
বাসু ঘোষ কহে আর কারে দুঃখ কব।
গোরাচাঁদ বিনা প্রাণ আর না রাখিব॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ রাগ॥

গেল গৌর না গেল বলিয়া।
হাম অভাগিনী নারি অকূল ভাসাইয়া॥ ধ্রু॥
হায়রে দারুণ বিধি নিদয় নিঠুর।
জন্মিতে না দিলি তরু ভাঙ্গিলি অঙ্কুর॥
হায় রে দারুণ বিধি কি বাদ সাধিলি।
প্রাণের গৌরাঙ্গ আমার কারে নিয়া দিলি॥
আর কে সহিবে আমার যৌবনের ভার।
বিরহ অনলে পুড়ি হব ছারখার॥
বাসু ঘোষ কহে আর কারে দুঃখ কব।
গোরাচাঁদ বিনা প্রাণ আর না রাখিব॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
না হেরব চাঁদ মুখ না হেরব বাণী
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের কলিগুলির সঙ্গে “ধিক্ যাউ এ
ছার জীবনে” এবং “না হেরিব চাঁদ মুখ না শুনিব বাণী” পদটির কলিগুলির অনেক মিল
থাকলেও আমরা এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেই রাখছি।

না হেরব চাঁদ মুখ না হেরব বাণী।
হেন মন করে গোরা বিনু পশিব ধরণী॥
মৃণাল কমল পদ না হেরব শোভা।
তার লাগি মন মোর অতিশয় লোভা॥
ধিক ধিক যাউক মোর এ ছার জীবনে।
পরাণের পরাণ গোরা গেলা কোন্ স্থানে॥
হেন সুখ বৈভব সব রস গেল।
ডাহিনে আছিল বিহি এবে হৈল বাম।
বাসুদেব ঘোষ বলে সোঙ্গরি গুণ ধাম॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ধিক্ যাউ এ ছার জীবনে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

ধিক্ যাউ এ ছার জীবনে। পরাণের পরাণ গোরা
গেল কোন্ খানে॥ গোরা বিনে প্রাণ মোর আকুল বিকল।
নিরবধি আঁখির জল করে ছল ছল॥ না হেরব চাঁদ মুখ না
শুনিব বাণী। হেন @@ করে গোরা বিনু পশিব ধরণী॥ গেল
সুখ সম্পদ যতপহু কৈল। শেল সন্দেশ মোর হৃদি রহি গেল॥
গোরা বিনে নিশি দিশি আন নাহি মনে। নিরবধি চিন্ত
মুই নিধনিয়ার ধনে॥ রাতুল চরণ তল অতিশয় শোভা।
যাহা লাগি মন মোর অতিশয় লোভা॥ ডাহিনে আছিলা
বিধি এবে ভেল বাম। কহে বাসুদেব ঘোষ স্মরি গুণগ্রাম॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ
॥ বিভাস॥

ধিক্ যাউ এ ছার জীবনে।
পরাণের পরাণ গোরা গেল কোন্ খানে॥
গোরা বিনু প্রাণ মোর আকুল বিকল।
নিরবধি আঁখির জল করে ছল ছল॥
না হেরিব চাঁদমুখ না শুনিব বাণী।
মনে করে গোরা বিনু পশিব ধরণী॥
গেল সুখ সম্পদ যত পহুঁ কৈল।
শেল সমান মোর হৃদয়ে রহি গেল॥
গোরা বিনু নিশি দিশি আর নাহি মনে।
নিরবধি চিন্ত মুই নিধনিয়ার ধনে॥
রাতুল চরণতল অতিশয় শোভা।
যাহা লাগি মন মোর অতিশয় লোভা॥
ডাহিনে আছিল বিহি এবে ভেল বাম।
কহে বাসুদেব ঘোষ না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা
॥ বিভাস॥

ধিক্ যাউ এ ছার জীবনে।
পরাণের পরাণ গোরা গেল কোন্ খানে॥
গোরা বিনু প্রাণ মোর আকুল বিকল।
নিরবধি আঁখির জল করে ছল ছল॥
না হেরিব চাঁদমুখ না শুনিব বাণী।
মনে করে গোরা বিনু পশিব ধরণী॥
গেল সুখ সম্ পদ যত পহুঁ কৈল।
শেলের সমান মোর হৃদে রহি গেল॥
গোরা বিনু নিশি দিশি আর নাহি মনে।
নিরবধি চিন্ত মুই নিধনিয়ার ধনে॥
রাতুল চরণতল অতিশয় শোভা।
যাহা লাগি মন মোর অতিশয় লোভা॥
ডাহিনে আছিল বিহি এবে ভেল বাম।
কহে বাসুদেব ঘোষ না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

ধিক যাউ এ ছার জীবনে।
পরাণের পরাণ গোরা গেল কোনখানে॥
গোরা বিনু প্রাণ মোর আকুল বিকল।
নিরবধি আঁখির জল করে ছল ছল॥
না হেরিব চান্দমুখ না শুনিব বাণী।
মনে করি গোরা বিনু পশিব ধরণী॥
গেল সুখ সম্পদ যত পহুঁ কৈল।
শেল সমান মোর হৃদয়ে রহি গেল॥
গোরা বিনু নিশি দিশি আর নাহি মনে।
নিরবধি চিন্তো মুই নিধনিয়ার ধনে॥
রাতুল চরণতল অতিশয় শোভা।
যাহা লাগি মন মোর অতিশয় লোভা॥
ডাহিনে আছিল বিহি এবে ভেল বাম।
কহে বাসুদেব ঘোষ না রহে পরাণ॥
এ শেল সন্দেশ মোর হৃদে রহি গেল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর