কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
মিশ্র পুরন্দর ডাকে আনন্দিত হয়ে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরচন্দ্র

মিশ্র পুরন্দর ডাকে আনন্দিত হয়ে। আনন্দে প্রেমের ধারা
কত যায় বয়ে॥ কোথা নিত্যানন্দ বিশ্বস্তর দুই ভাই। হইল অনেক বেলা
মুখ দেখি নাই॥ পিতৃ-বাক্যে দুই ভাই আইল ধাইঞে। আনন্দে বিভোর
মিশ্র চাঁদমুখ চেঞে। চলহ জাহ্ণবী-তীরে দেবতা পূজিব। বাসুদেব ঘোষ
কহে কামনা পূরিব॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সুরধুনী তীরে আজু পুরুবহি খেলা
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪৫-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বলরাম গোষ্ঠ।
বনবিহারে গৌরচন্দ্র।

সুরধুনী-তীরে আজু পুরুবহি খেলা। বনফুল তুলিয়া সবার গলে দেই মালা॥
সব ভক্তগণ মেলি করে সংকীর্ত্তন। সংকীর্ত্তনের ধূলা অঙ্গে করয়ে লেপন॥
গৌর নিতাই দুই ভাই দুদিকে দাঁড়াইল। সকল ভকতগণ নাচিতে লাগিল॥
হাসিয়া গৌরাঙ্গ কহে কার দিগে হব। গৌরীদাস কহে নিত্যানন্দপাশ যাব।
অভিরাম হাসিয়া গৌরাঙ্গমুখ চায়। বাসুঘোষ ইহ রস ওর নাহি পায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুরধুনী তীরে আজু পূরুবহি খেলা।
বনফুল তুলি সভার গলে দেই মালা॥
সব ভক্তগণ মেলি করে সংকীর্ত্তন।
সংকীর্ত্তনের ধূলা অঙ্গে করয়ে লেপন॥
গৌর নিতাই দুই ভাই দুদিকে দাঁড়াইল।
সকল ভকতগণ নাচিতে লাগিল॥
হাসিয়া গৌরাঙ্গ কহে কার দিগে হবে।
গৌরীদাস কহে নিত্যানন্দ পাশে রবে॥
অভিরাম হাঁকিয়া গৌরাঙ্গমুখ চায়।
বাসু ঘোষ ইহ রস ওর নাহি পায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
স্বরূপের কণ্ঠ ধরি গৌরাঙ্গসুন্দর
স্বরূপের কণ্ঠে ধরি গৌরাঙ্গ সুন্দর
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আদৌ পূর্ব্বরাগ আরব্ধ স্বপ্নবিলাস॥ তদুচিত শ্রীমহাপ্রভু॥

স্বরূপের কণ্ঠ ধরি গৌরাঙ্গসুন্দর। কহএ মনের কথা ভাবেতে বিভোর॥
গম্ভীরে সুতিয়া আজু দেখিলাম স্বপন। নবাম্বুদ জিনি এক পুরুষরতন॥
শিরেতে মোহনচূড়া বনমালা গলে। পীতান্বর পরিধান সুমধুর বোলে॥
কেনে বা জাগিলাম আমি সুতিছিলাম ভাল। বাসু ঘোষ বলে গোরা উদ্বেগ বাঢ়িল॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

স্বরূপের কণ্ঠে ধরি গৌরাঙ্গ সুন্দর। কহয়ে মনের কথা ভাবেতে বিভোর॥
গম্ভিরে শুইয়ে আজু দেখিলাম স্বপন। নবাম্বুদ জিনি এক পুরুষ রতন॥
শিরেতে মোহন চূড়া, বনমালে গলে। পীতান্বর পরিধান সুমধুর বোলে॥ কেনবা
জাগিলাম হাম শুতি ছিলাম ভাল। বাসু ঘোষ বলে গোরা উদ্বেগ বাড়াল॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গলরাগ॥

স্বরূপের কণ্ঠে ধরি গৌরাঙ্গসুন্দর।
কহএ মনের কথা ভাবেতে বিভোর॥
গম্ভিরে সুতিয়া আজ দেখিলাম সপন।
নবাম্বুদ জিনি এক পূরুষ রতন॥
সিরেতে মোহনচূড়া, বনমালা গলে।
পীতান্বর পরিধান সুমধুর বোলে॥
কেনে বা জাগিলাম হাম সুতিছিলাম ভাল।
বাসু ঘোষ বলে গোরার উদ্বেগ বাড়িল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
চৈতন্যবিলাস জাগি সুরধুনীতীরে
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অলসে গৌরচন্দ্র॥

চৈতন্যবিলাস জাগি সুরধুনীতীরে। ষুতল গদাধর নিদে পহুকোরে॥
দুটি বাহু গোরা অঙ্গে কিবা পসারিয়া॥ কনক সুমেরু জেন আছএ ঝাঁপিঞা॥
সহচরগণ সব ভাবে মনে মনে। পাছে শ্রীঅঙ্গ পদ হয় পরসনে॥
জাগাইতে কেহু মনে করে অভিলাষ। কেহু নিষেধএ তারে না কর সাহস॥
এখনি ঘুমাইল পহু জাগিএ যামিনী। বাসু কহে আর না কহিয় কিছু বাণী॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

চৈতন্য বিলাস জাগি সুরধুনিতিরে।
ষুতল গদাধর নিদে পহু কোরে॥
দুটি বাহু গোরা অঙ্গে কিবা পসারিয়া॥
কনক সুমেরু জেন আছয়ে ঝাঁপিঞা॥
সহচরগণ সব ভাবে মোনে মোনে।
পাছে শ্রীঅঙ্গ পদ হয় পরসনে॥
জাগাইতে কেহু মোনে করে অভিলাষ।
কেহু নিষেধএ তারে না কর সাহস॥
এখনি ঘুমাইল পহু জাগিএ যামিনী।
বাসু কহে আর না কহিয় কিছু বানি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
স্বরূপ রামানন্দের মুখ হেরি
সরূপ রামানন্দের মুখ হেরি
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরচন্দ্র।

স্বরূপ রামানন্দের মুখ হেরি। বিষাদে কহএ গৌরহরি॥
আক্ষেপ করিআ বহু কয়। নিঠুর হইল শ্যামরায়॥
প্রথমে পিরিতি বাঢ়াইল। এবে দুঃখসাগরে ডারিল॥
সুজন জানিআ তারে গুণি। সুপিলাম এ দেহ পরানি॥
এখন না চায় মোর পানে। বাসু কহে ভাবিয়া চরণে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালোযথা॥

সরূপ রামানন্দের মুখ হেরি।
বিসাদে কহএ গৌরহরি॥
আক্ষেপ করিয়া পহু কয়।
নিঠুর হইল শ্যামরায়॥
প্রথমে পীরিতি বাড়াইনু।
এবে দুঃখ-সাগরে ডুবিনু॥
সুজন জানিয়া তারে গণি।
সপিলাম এ দেহ পরাণি॥
এখন না চাহ মোর পানে।
বাসু কহে ভাবিয়া চরণে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আওল পৌষ মাহ অতি দারুণ
ভণিতা বাসু / দাস ভুবন
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পৌষ মাহ॥

আওল পৌষ মাহ অতি দারুণ তাহে ঘন শিশির নিপাত।
থরহরি কম্পে কলেবর পুনপুন বিরহিনী পড় উতপাত॥
সজনি আর কি হেরব গোরামুখ।
গণিগণি মাহ বরিখ অব পূরল ইথে পুন বিদরয়ে বুক॥
তোমারে কহিয়ে পুন মরমক চিত হৃদি মাহা কর বিসোয়াস।
গৌরবিরহজ্বরে ত্রিদোষ হয়াছে যারে তারে কি ঔসূধ অবকাশ॥
এত সুনি কাহিনী নিজ সব সঙ্গিনী রোইরোই সব জন ঘেরি।
বাসু বলে ভুবনে ধৈরজ করহ মনে গৌরাঙ্গ আসিবে পুনু বেরি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী  
সংকলন, ৭৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

আওল পৌষ মাহ                        অতি দারুণ
তাহে ঘন শিশির নিপাত।
থরহরি কম্পে                        কলেবর পুন পুন
বিরহিনী পড় উতপাত॥
সজনি, আর না হেরব গোরামুখ।
গনি গনি মাহ                        বরিখ অব পূরল
ইথে পুন বিদরয়ে বুক॥
তোমারে কহিয়ে পুন                    মরমক চিত
হৃদি মাহা করো বিসোয়াস।
গৌর বিরহ জ্বরে              ত্রিদোষ হয়্যাছে জারে
তারে কি ঔসূধ অবকাস॥
এত সুনি কাহিনী                   নিজ সব সঙ্গিনী
রোই রোই সবজন ঘেরি।
বাসু বলে ভূবনে                 ধৈরজ করহ মোনে
গৌরাঙ্গ আসিবে পুনু বেরি॥

ই পদটি “দাস ভুবন” ভণিতায়, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা,
৯ম পল্লব , দ্বাদশমাসিক বিরহ, ১৮০০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আওল পৌষ মাহ অতি দারুণ                
তাহে ঘন শিশির-নিপাত।
থরহরি কম্পি কলেবর পুন পুন                
বিরহিনী পড় উতপাত॥
সজনি আর কি হেরব গোরা-মুখ।
গণি গণি মাহ বরিখ অব পূরল               
ইথে পুন বিদরয়ে বুক॥ ধ্রু॥
তোমারে কহিয়ে পুন মরমক বেদন           
চিত মাহা কর বিশোয়াস।
গৌর-বিরহ-জরে ত্রিদোষ হৈয়াছে যারে       
তাহে কি ঔসূধ অবকাশ॥
এত সুনি কাহিনি নিজ সব সঙ্গিনি            
রোই রোই সব জন ঘেরি।
দাস ভুবন ভণে ধৈরজ ধরহ মনে             
গৌরাঙ্গ আসিবে পুন বেরি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হেদে গো নদীয়াবাসী হের গোরাচান্দে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সাক্ষাৎ পূর্ব্বরাগ তদুচিত শ্রীমহাপ্রভু॥

হেদে গো নদীয়াবাসী হের গোরাচান্দে। কি ভাব পড়েছে মনে ধজ্জা নাহি বান্ধে॥
লক্ষিতে না পারি গোরার ভাবের তরঙ্গ। বৈবর্ণ্য পুলক ভরে কাপে সব অঙ্গ॥
কেহু যদি আন ছলে কৃষ্ণনাম বলে। তাহাতে প্রবল অতি হয় উতরোলে॥
পারিষদগণ সব ভাবে মনে মন। ৰাসু ঘোষ বলে নব প্রেমের লক্ষণ।

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সাক্ষাত পূর্ব্বরাগ॥
॥ সিন্ধুড়া॥

হেদেগো নদিয়াবাসী হের গোরাচান্দে।
কি ভাব পড়েছে মনে ধজ্জা নাহি বান্ধে॥
লক্ষিতে না পারি গোরার ভাবের তরঙ্গ।
@@@ পুলকভরে কাপে সব অঙ্গ॥
কেহু যদি আন ছলে কৃষ্ণনাম বলে।
তাহাতে প্রবল অতি হয় উতরোলে॥
পারিষদগণ সব ভাবে মোনে মোন।
ৰাসু ঘোষ বলে নব প্রেমের লক্ষণ।

@@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কি হেরিলাম বলে গোরা বেলি অবসানে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পূর্ব্বরাগ শ্রীকৃষ্ণস্য সায়ন্যদরশনং জথা তদুচিত শ্রীমহাপ্রভু॥

কি হেরিলাম বলে গোরা বেলি অবসানে। ভুবনমোহিনী ধনি হেরিলাম নয়নে॥
হেরিএ মোহিনীরূপ পড়িলাম ফান্দে। প্রতি অঙ্গ লাগি মোর প্রতি অঙ্গ কান্দে॥
কিবা সে মুখের হাঁসি অমিঞার রাশি। পাঁজর কাটীঞা হিয়ায় রহিল মোর পশি॥
কতো নিধি দিয়া রূপ গড়িআছে বিধি। বাসুঘোষ বলে সেই রূপের অবধি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি হেরিলাম বলে গোরা বেলি অবসানে।
ভুবনমোহিনী ধনি হেরিলাম নয়নে॥
হেরিয়ে মোহিনীরূপ পড়িলাম ফান্দে।
প্রিতি অঙ্গ লাগি মোর প্রিতি অঙ্গ কান্দে॥
কিবা সে মুখের হাঁসি অমিঞার রাশি।
পাঁজর কাটিয়া হিয়ায় রহিল মোর পশি॥
কত নিধি দিয়া রূপ গড়িআছে বিধি।
বাসু ঘোষ বলে সেই রূপের অবধি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কীর্তন বিলাসে নাচে গৌর বিশ্বম্ভর
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো সমুচিত॥

কীর্তন বিলাসে নাচে গৌর বিশ্বম্ভর। সভা আলিঙ্গএ পহুঁ হইআ বিভোর॥
তাহ দেখি গদাধর পূরব স্মরিএ। রাধিকার ভাব জৈছে হৃদএ ধরিএ॥
মণ্ডলী ছাড়িএ গদাই চলু স্থানান্তর। তারে না দেখিএ পহুঁ বিরস অন্তর॥
কান্দেরে গৌরাঙ্গ রায় ভূমে লোটাইএ। গদাধর বলে কান্দে দুআঁখি মুদিএ॥
এখনি আছিলা গদাই কীর্ত্তন মাঝারে। প্রেমেতে বিভোর হএ হারাইলাম হেলে॥
বুঝি কোন অভিমানে হইএ বিমন। মোরে উপেখিএ সেই করিল গমন॥
ইতস্তত ভ্রমে কাঁহা গদাই না পাইএ। বাহির হইলা গোরা গদাই বলিএ॥
কোথা গেল গদাধর প্রাণের স্বরূপ। তারে না দেখিআ মোর ফাটি জায় বুক॥
গদাধর বলি গোরা জায় ধায়া ধাই। বাসু ঘোষ কহে আগে পাইবে গদাই॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ ‘তালো’ সমুচিত॥

কির্ত্তন বিলাসে নাচে গৌর বিশ্বম্ভর।
সভা আলিঙ্গএ পহুঁ হইয়া বিভোর॥
তাহা দেখি গদাধর পুরব স্মরিএ।
রাধিকার ভাব জৈছে হৃদয়ে ধরিএ॥
মণ্ডলি ছাড়িএ গদাই চলু স্থানান্তর।
তারে না দেখিএ প্রভু বিরস অন্তর॥
কান্দেরে গৌরাঙ্গ রায় ভূমে লোটাইএ।
গদাধর বলি কাঁদে দু-আঁখি মুদিএ॥
এখনি আছিল গদাই কির্ত্তন মাঝারে।
প্রেমেতে বিভোর হয়ে হারাইলাম তারে॥
বুঝি কোন অভিমান হইএ বিমোন।
মোরে উপেখিএ সেই করিল গমন॥
ইতস্তত ভ্রমি কাঁহা গদাই না পাইএ।
বাহির হইল গোরা গদাই বলিএ॥
কোথা গেল গদাধর প্রাণের স্বরূপ।
তারে না দেখিয়া মোর ফাটি জায় বুক॥
গদাধর বলি গোরা জায় ধারা ধাই।
বাসু ঘোষ কহে আগে পাইবে গদাই॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বৃন্দাবন হেরি গোরা পুরব সঙরে
বৃন্দাবন হেরি গোরা পূরব সোঙরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই॥
॥ তালোচিত॥

বৃন্দাবন হেরি গোরা পুরব সঙরে। জেন মন্দাকিনী ধারা নয়নেতে ঝরে।
হৃদয়ে প্রবল গোরা বিরহ উন্মাদ। অথির হইল চিত্ত করমে বিষাদ॥
কৃষ্ণদাস দেখি পহু ভাবের লক্ষণ। নিত্যলীলার স্থান সব করায় দরশন॥
নিকুঞ্জ কানন কেশর কুঞ্জ মধুবন। যমুনা পুলিন আর গিরি গোবর্দ্ধন॥
ভ্রমিতে ভ্রমিতে আইল মাধবী তলায়। হেরিয়া বিরহ ব্যাধি বাড়ে অতিশয়॥
কনক কোমল তনু ধূলায় লোটায়। বাসুদেব ঘোষ হিআ বিদরিআ জায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বৃন্দাবন হেরি গোরা পূরব সোঙরে।
জেন মন্দাকিনী ধারা নয়নেতে ঝরে।
হৃদয়ে প্রবল গোরা বিরহ উন্মাদ।
অথির হইল চিত্ত করমে বিলাদ॥
কৃষ্ণদাস দেখি পহুঁ ভাবের লক্ষণ।
নিত্যলীলার স্থান সব করায় দরশন॥
নিকুঞ্জ কানন কেশব কুঞ্জ মধুবন।
জমুনা পুলিন আর গিরি গোবর্ধন॥
ভ্রমিতে ভ্রমিতে আইলা মাধুরী তলায়।
হেরিয়া বিরহ ব্যাধি বাড়ে অতিশয়॥
কনক কোমল তনু ধুলায় লোটায়।
বাসুদেব ঘোষ হিয়া বিদরিয়া যায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর