কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
আহা গোরা পুনু মুরূছাই
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আহা গোরা পুনু মুরূছাই। সদা শিব কবিরাজ তাঁহা জাই॥
হেরি গোরার সো চাঁন্দ বয়ান। তটিনী নয়নে নিরমান॥
স্বরূপ পুছয়ে সেই ভাব। কহে হরি দরসনে পাব॥
দেখি গোরার ভাবের অবধি। হরিনাম কহে নিরবধি॥
ভক্তগণ কান্দে উচ্চস্বরে। বাসু ঘোষ হৃদয় বিদরে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তালোযথা॥

আহা গোরা পুন মুরছাই।
সদাশিব কবিরাজ তাঁহা জাই॥
হেরি গোরার সো চাঁদ বয়ান।
তটিনী নয়নে নিরমান॥
সরূপ পুছয়ে সেই ভাব।
কহে হরি দরসনে পাব॥
দেখি গোরার ভাবের অবধি।
হরিনাম কহে নিরবধি॥
ভক্তগণ কান্দে উচ্চস্বরে।
বাসু ঘোষ হৃদয় বিদারে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দিন মাস গণি গণি রবি খসে গেল
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ দিনান্তে ভুতবিরহ লিখ্যতে তদুচিত মহাপ্রভু॥
॥ রাগিণী তালোচিত॥ অত্র হংসদূতপূর্ব্বক সুত্র সম্প্রদানান্তর॥

দিন মাস গণি গণি রবি খসে গেল। নদিআর চান্দ আর নদিয়া না আইল॥
বিরহ তপনে মোর শরীর জারিল। জলনিধি বিনে হৃদি সরোজ সুখাইল ॥
কি কাজ আছয়ে আর জীবন ধরিআ। গোরা বিনে শূন্য হেরি নগর নদিআ॥
হৃদয় ভাবিআ গোরার সে মুখকমলে। তেজিব পরাণ ঝাপ দিব গঙ্গার জলে॥
বাসুঘোষ বলে জদি গোরা নাহি দেখি। নিছয় মরিব আমি গরল সে ভখি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তালোচিত॥

দিন মাস গণি গণি রবি খসে গেল।
নদিয়ার চান্দ আর নদিয়া না আইল॥
বিরহ তপনে মোর সরির জারিল।
জননিধি বিনে হৃদি সরোজ সুখাইল॥
কি কাজ আছএ আর জিবন ধরিয়া।
গোরা বিনে শূন্য হেরি নগর নদিয়া॥
হৃদয়ে ভাবিয়া গোরার সে মুখ কমলে।
তেজিব পরাণ ঝাপ দিব গঙ্গার জলে॥
বাসু ঘোষ বলে জদি গোরা নাহি দেখি।
নিছয় মরিব আমি গরল সে ভখি॥

মন্তব্য -
পদটি শুধুমাত্র পদমেরু গ্রন্থেই রক্ষিত আছে। পদটিতে গৌরাঙ্গের তিরোধানে কবির বিরহ
বেদনা ব্যাঞ্জিত হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে পদটিকে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে কবির বিরহু মনে
হলেও দুঃখবর্ণনার গভীরতা এবং মৃত্যুকামনার প্রকাশ দর্শনে অনুভূত হয় যে, পদটি
গৌরাঙ্গের অন্তর্ধানজনিত বেদনাকে ভাষা দিয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বুঝিএ গৌরাঙ্গের ভাব সব সহচরে
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বুঝিএ গৌরাঙ্গের ভাব সব সহচরে। গমনে বিরোধ করে সুরধুনীতীরে॥
অবিরত গগনে বইএ জলধর। দশ দিশি দামিনী দহন বিথার॥
নিপাতহি কুলিশ পড়য়ে ঝনঝনা ৷ সুনইতে শ্রবণে মরমে দেয় হানা॥
বাসুদেব কহে গোরা না রহিবে ঘরে। প্রেম উনমাদ সদা স্ফুরএ অন্তরে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

বুঝিএ গৌরাঙ্গের ভাব সব সহচরে।
গমনে বিরোধ করে সুরধুনীতিরে॥
অবিরত গগনে বইএ জলধর।
দস দিস দামিনী দহন বিথার॥
নিপাতএ কুলিশ পড়এ ঝনঝনা ৷
সুনইতে শ্রবণে মরমে দেয় হানা॥
বাসুদেব কহে গোরা না রহিবে ঘরে।
প্রেম উনমাদ সদা স্ফুরএ অন্তরে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পূরব প্রেমের ভরে গৌরাঙ্গসুন্দর
পূরুব প্রেমের ভরে গৌরাঙ্গসুন্দর
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানসী॥

পূরব প্রেমের ভরে গৌরাঙ্গসুন্দর। সুরধুনীতীরে চলে ভাবিয়ে অন্তর॥
ভক্তবৃন্দ সঙ্গে গদাধর আদেশিয়ে। কহেন সঙ্কেত পহু পাষণ্ডির ভএ।
নির্জনে কেতনে আজু নামসংকীর্তনে। পোহাব রজনী সব সুখ জাগরণে॥
বাসুদেব কহে গোরা কহিলে সে ভাল। ঐছে সঙ্কেতস্থলে মিলিব সকাল॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

পূরুব প্রেমের ভরে গৌরাঙ্গসুন্দর।
সুরধুনীতিরে চলে ভাবিএ অন্তর॥
ভক্তবৃন্দ সঙ্গে গদাধর আদেশিএ।
কহে সঙ্কেত পহু পাষণ্ডির ভএ।
নিজ নিকেতনে আজু নাম সংকীর্তনে।
পোহাব রজনী সব সুখ জাগরণে॥
বাসুদেব কহে গোরা কহিলে সে ভাল।
ঐছে সংকেত স্থলে মিলিব সকল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গদাধরে কহে প্রিয় ভকতহিগণে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ প্রেমশিক্ষা॥

গদাধরে কহে প্রিয় ভকতহিগণে। উপদেশ দিব হরিনামসংকীর্তনে॥
শ্রীবাসঅঙ্গনে আজি হইবে কীর্তন। প্রেমাবিষ্ট হইয়া প্রভু করিবেন নর্তন॥
বিভোল হইয়া ভাবে হইবে বিভঙ্গ। সামালে ধরিও না লুটিবে শ্রীঅঙ্গ॥
বাসুদেব ঘোষে কহে কহিআছ ভাল। প্রেমেতে মাতিয়া সব হইবে বিভোল॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গদাধরে কহে প্রিয় ভকতহি গণে।
উপদেশ দিব হরিনাম সংকীর্ত্তনে॥
শ্রীবাস অঙ্গনে আজি হইবে কীর্তন।
প্রেমাবিষ্ট হইয়া প্রভু করিবেন নর্ত্তন॥
বিভোল হইয়া ভাবে হইবে বিভঙ্গ।
সামালে ধরিও না লুটিবে শ্রীঅঙ্গ॥
বাসুদেব ঘোষে কহে কহিয়াছ ভাল।
প্রেমেতে মাতিয়া সব হইবে বিভোল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বসি গোরা নটবর জাহ্নবীর কুলে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মিলনের পূর্ব দরশনের গৌরচন্দ্র॥

বসি গোরা নটবর জাহ্নবীর কুলে। ঐছেন সমএ গদাধর আসি মেলে॥
আইস বলি সমাদরে শ্রীশচীনন্দন। বসাইল নিজাসনে করিঞা যতন ॥
পুরূবি সোঙরি কত আরতি বাড়ায়। এত দৈন্য করে পহু মুখে না ফুরায়॥
সুন সুন গদাধর আমার বচন। তোমারে দেখিএ মোর জুড়াইল নয়ন॥
সব দুখ দূরে গেল পাইঞা দরসন। মনে হয় সেই যেন এই বৃন্দাবন॥
বাসুদেব ঘোষ কহে করি অনুনয়। বৃন্দাবন হতে সুখ বাড়া নদীয়ায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

বসি গোরা নটবর জাহ্নবীর কুলে।
ঐছেন সমএ গদাধর আসি মেলে॥
আইস বলি সমাদরে শ্রী সচিনন্দন।
বসাইল নিজাসনে করিঞা যতন॥
পুরুবি সোঙরি কত আরতি বাড়ায়।
এত দৈর্ন্তু করে পহু মুখে না ফুরায়॥
সুন সুন গদাধর আমার বচন।
তোমারে দেখিএ মোর জুড়াইল নয়ন॥
সব দুখ দূরে গেল পাইঞা দরশন।
মোনে হয় সেই জেন এই বিন্দাবন॥
বাসুদেব ঘোষ কহে করি অনুনয়।
বিন্দাবোন হইতে ষুখ বাড়া নদীয়ায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কীর্তন পরিশ্রমে প্রিয় গদাধর
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ প্রেমবৈচিত্ত্য তত্র মহাপ্রভু॥

কীর্তন পরিশ্রমে প্রিয় গদাধর। পহুঁ সঙ্গে সুতল সেজহি পর॥
নিন্দে ভরল অঙ্গ ধরনে না জায়। বিভোল হইআ দোঁহে তঁহি নিন্দ জায়॥
পহুঁ কোরে গদাধর চমকি উঠিআ। প্রাণের গৌরাঙ্গ বলে কে নিল হরিয়া॥
বাসুদেব ঘোষ তঁহি হইএ বিস্ময়। কি ভাব উঠিল দোহে কহনে না জায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কির্ত্তন পরিশ্রমে প্রিয় গদাধর।
পহু সঙ্গে সুতল সেজহি পর॥
নিন্দে ভরল অঙ্গ ধরনে না জায়।
বিভোল হইআ দোঁহে তঁহি নিন্দি জায়॥
পহুঁ কোরে গদাধর চমকি উঠিআ।
প্রাণের গৌরাঙ্গ বলে ফেলিল ধরিয়া॥
বাসুদেব ঘোষ তঁহি হইএ বিস্ময়।
কি ভাব উঠিল দোঁহে কহনে না জায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হেরি গোরার মুখশশী মাহান্ত সকলে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ চিত্র গীত লিখ্যতে॥ তদুচিত গৌরচন্দ্র মহাপ্রভু॥
॥ রাগিণী কালোচিত ভাবিভুক্তা॥

হেরি গোরার মুখশশী মাহান্ত সকলে। হৃদয়ে বেথিত ভাসে নআনের জলে॥
সকরুণে বলে শোন শ্রীশচীনন্দন। অন্তরে প্রবল দুখ না সরে বচন॥
লোকমুখে শোনি প্রভু না রহিবে ঘরে। সন্ন্যাস করিআ তোমি জাবে দেশান্তরে॥
কেমনে তেজিবে সব প্রিয় ভক্তগণে। নিছয়ে মরিবে তব না হেরি বদনে॥ .
শোকসিন্ধু মাঝেতে ডুবিবে নদেবাসী। বাসুদেব ঘোষ বলে হেন চিতে বাসি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

হেরি গোরার মুখশশী মহন্ত সকলে।
হৃদয়ে বেথিত ভাসে নয়নের জলে॥
সকরুণে বলে শোন শ্রী শচীনন্দন।
অন্তরে প্রবল দুখ না সরে বচন॥
লোকমুখে শুনি প্রভু না রহিবে ঘরে।
সন্ন্যাস করিয়া তুমি জাবে দেশান্তরে॥
কেমনে তেজিব সব প্রিয় ভক্তগণে।
নিছয়ে মরিবে তব না হেরি বদনে॥ .
শোক সিন্ধু মাঝেতে ডুবিবে নদেবাসী।
বাসুদেব ঘোষ বলে হেনচিতে বাসি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মিশ্র পুরন্দর তবে মনে বিচারিঞা
মিশ্র পুরন্দর কিছু মনে বিচারিয়া
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের পুথি
(সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা॥

মিশ্র পুরন্দর তবে মনে বিচারিঞা।
পুরোহিত দ্বিজবরে আনিল ডাকিঞা॥
ধন রত্ন অলঙ্কার দ্বিজবরে দিল।
স্বস্তিবাচন বলি দান তুলি নিল॥
আশিষ তণ্ডূল দ্বিজ তুলি নিল হাথে।
সন্তোষে তুলিঞা দিল গোরাচান্দের মাথে॥
শচী ঠাকুরাণী তারে বলিতে লাগিলা।
সাত পুত্রে এই পুত্র মোরে বিধি দিলা॥
নিমাই বলিঞা নাম দেহ দ্বিজবর।
বাসুদেব ঘোষ কহে জোড় করি কর॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

(বাল্যলীলা)
॥ সুহই॥

মিশ্র পুরন্দর কিছু মনে বিচারিয়া।
পুরোহিত দ্বিজবরে আনিলা ডাকিয়া॥
ধনরত্ন অলঙ্কার দ্বিজবরে দিল।
স্বস্তি-বাচন বলি দান তুলি নিল॥
অর্ঘ্য আশীষ দ্বিজ ধরি নিজ হাতে।
সন্তোষে তুলিয়া দিল গোরাচাঁদের মাথে॥
শচী ঠাকুরাণী কিছু কহিতে লাগিল।
সাত পুত্রের এই পুত্র বিধি মোরে দিল॥
নিমাই বলিয়া নাম দেহ দ্বিজবর।
বাসুদেব ঘোষ কহে জুড়ি দুই কর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
॥ সুহই॥

মিশ্র পুরন্দর কিছু মনে বিচারিয়া।
পুরোহিত দ্বিজবরে আনিল ডাকিয়া॥
ধনরত্ন অলঙ্কার দ্বিজবরে দিল।
স্বস্তি বচন বলি দান তুলি নিল॥
অর্ঘ্য আশিষ দ্বিজ ধরি নিজ হাতে।
সন্তোষে তুলিয়া দিল গোরাচাঁদের মাথে॥
শচী ঠাকুরাণী তারে বলিতে লাগিল।
সাত পুত্রে পরে এই পুত্র বিধি দিল॥
নিমাই বলিঞা নাম দেহ দ্বিজবর।
বাসুদেব ঘোষ কহে জোড় করি কর॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিশ্র পুরন্দর কিছু মনে বিচারিয়া।
পুরোহিত দ্বিজবরে আনিল ডাকিয়া॥
ধনরত্ন অলঙ্কার দ্বিজবরে দিল।
স্বস্তি বচন বলি ধন তুলি নিল॥
আশীষ তণ্ডুল দ্বিজ ধরি নিজ হাতে।
সন্তোষ তুলিয়া দিল গোরাচাঁদের মাথে॥
শচী ঠাকুরাণী তারে কহিতে লাগিল।
সাত পুত্রের এই পুত্র বিধি মোরে দিল॥
নিমাই বলিঞা নাম দেহ দ্বিজবর।
বাসুদেব ঘোষ কহে জুড়ি দুই কর॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

মিশ্র পুরন্দর তবে মনে বিচারিঞা।
পুরোহিত দ্বিজবরে আনিল ডাকিঞা॥
ধন রত্ন অলঙ্কার দ্বিজবরে দিল।
স্বস্তিবাচন বলি দান তুলি নিল॥
আশিষ তণ্ডুল দ্বিজ তুলি নিল হাথে।
সন্তোষে তুলিঞা দিল গোরাচান্দের মাথে॥
শচী ঠাকুরাণী তারে বলিতে লাগিলা।
সাত পুত্রে এই পুত্র মোরে বিধি দিলা॥
নিমাই বলিয়া নাম দেহ দ্বিজবর।
বাসুদেব ঘোষ কহে জোড় করি কর॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কেনে সুরধুনি গেলাম কিরূপ দেখিয়া আইলাম
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির বেশ কয়েকটি পংক্তি অন্যান্য
পদের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু পুরোপুরিভাবে মিল নেই কোনও পদের সঙ্গে। তাই এটিকে আমরা একটি
ভিন্ন পদ হিসেবে রাখছি।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ কামোদ মঙ্গল - মধ্যম দশকুশী॥

কেনে সুরধুনি গেলাম          কিরূপ দেখিয়া আইলাম
রূপ হেরি কিনা হইল মোরে।
সোণার বরণ তনু                  এই ছিল কালা কানু
নইলে কেনে মন চুরি করে॥
কি তার দারুণ মতি                 মজিল যুবতী সতী
প্রতি ঘরে প্রেমের কান্দনা।
রসের পরাণ যার                কুলে কি করিবে তার
নদীয়া নগরে হেন জনা॥
নয়ান কমল নব                         অরুণ পরাভব
ধারা বহে মুখ বুক বৈয়া।
শুন গো সজনি সই                   মরম তোমারে কই
জীব না সে গোরা না দেখিয়া॥
অন্তরে প্রেম রস শর               বিন্ধি কৈল জর জর
নিষেধ না মানে মোর প্রাণী।
সুরধুনি তীরে যাইয়া                 কুল দিব ভাসাইয়া
ভজিব সে গোরা গুণমণি॥
পুরাণে শুনেছি যত                   সেই সব অভিমত
কালবরণ এবে হইল গোরা।
বাসুদেব ঘোষে ভণে                    কলি-কাল-দমনে
এই ছিল গোপীর মন চোরা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর