কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি আঁখি ফিরাইতে নারি
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ধানশী - বড় দশকুশী॥

গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি         আঁখি ফিরাইতে নারি
মন অনুগত তাহে হইল।
পরশ থাকুক দূরে                 অপরশে মন হরে
নদীয়া-নাগরীকুল গেল॥
গৌর পিরীতিময় ধাম।
অঙ্গহি অঙ্গ                        সকলি পরিপূরিত
পূরয়ে মানস কাম॥
শ্রীচরণ পরশে                  অবনী আনন্দে ভাসে
মন্দগতি গজরাজ জিনি।
তেরছ নয়নে চায়                      মনমথ মূরছায়
আনন্দে ভুলল কুলধনি॥
গৌরাঙ্গ লাবণ্যরাশি                হৃদয়ে রহল পশি
কি করে তার ছার জাতি কুলে।
বাসুদেব ঘোষে কয়                  সেদিন সফল হয়
যাবত থাকিব পদতলে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”. ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা
॥ ধানশী - বড় দশকুশী॥

গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি        আঁখি ফিরাইতে নারি
মন অনুগত তাহে ভেল।
পরশ থাকুক দূরে                অপরশে মন হরে
নদীয়া-নাগরী কুল গেল॥
গৌর পীরিতিময় ধাম।
অঙ্গহি অঙ্গ                        সকলি পরিপূরিত
পূরয়ে মানস কাম॥
চরণ পরশ রসে               অবনী আনন্দে ভাসে
মন্দগতি গজরাজ জিনি।
তেরছ নয়নে চায়                     মনমথ মূরছায়
আনন্দে ভুলল কুল ধনি॥
গৌরাঙ্গ লাবণ্য রাশি                হৃদয়ে রহল পশি
কি করে তার ছার জাতি কুলে।
বাসুদেব ঘোষে কয়                  জীহন সফল হয়
যাবত থাকিব পদতলে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা  নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি        আঁখি ফিরাইতে নারি
মন অনুগত তাহে হইল।
পরশ থাকুক দূরে                অপরশে মন হরে
নদীয়া-নাগরী কুল গেল॥
গৌর পীরিতিময় ধাম।
অঙ্গহি অঙ্গ                       সকলি পরিপূরিত
পূরয়ে মানস কাম॥
শ্রীচরণ পরশ                  অবনী আনন্দে ভাসে
মন্দগতি গজরাজ জিনি।
তেরছ নয়নে চায়                   মন মোর মুরছায়
আনন্দে ভুলল কুল ধনি॥
গৌরাঙ্গ লাবণ্যরাশি                হৃদয়ে রহিল পশি
কি করে তার ছার জাতি কুলে।
বাসুদেব ঘোষে কয়                সেদিন সফল হয়
যাতে থাকিব পদতলে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মায়ের অঙ্গুলি ধরি শিশু গৌরহরি
মায়ের অঞ্চল ধরি শিশু গৌরহরি
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

(বাল্যলীলা)
॥ বেলোয়ার - দশকোশি॥

মায়ের অঙ্গুলি ধরি শিশু গৌরহরি।
হাটি হাটি পায় পায় যায় গুড়ি গুড়ি॥
টানি লৈঞা মার হাত চলে ক্ষণে জোরে।
পদ আধ যাইতে ঠেকাড় করি পড়ে॥
শচীমাতা কোলে লৈতে যায় ধূলি ঝাড়ি।
আখুটি করিয়া গোরা ভূমে দেয় গড়ি॥
আহা আহা বলি মাতা মুছায় অঞ্চলে।
কোলে করি চুমা দেয় বদন কমলে॥
বাসু কহে এ ছাবাল ধূলায় লোটাবা।
স্নেহভরে তুমি মাগো কত ঠেকাইবা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মৃত্তিকা-ভক্ষণ।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাস - মধ্যম একতালা॥

মায়ের অঞ্চল ধরি শিশু গৌরহরি।
হাঁটি হাঁটি পায় পায় যায় গুড়ি গুড়ি॥
টানি লৈঞা মার হাত চলে ক্ষণে জোরে।
পদ আধ যাইতে ঠেকার করি পড়ে॥
শচীমাতা কোলে লৈতে যায় ধুলি ঝাড়ি।
আখুটি করিয়া গোরা ভূমে দেয় গড়ি॥
আহা আহা বলি মাতা মুছায় অঞ্চলে।
কোলে করি চুম্ব দেয় বদন-কমলে॥
বাসু কহে এ ছাবাল ধুলায় লুটাইবে।
স্নেহভরে তুমি মাগো কত ঠেকাইবে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
॥ বেলোয়ার - দশকোশি॥

মায়ের অঙ্গুলি ধরি শিশু গৌরহরি।
হাঁটি হাঁটি পায় পায় যায় গুড়িগুড়ি॥
টানি লৈঞা মার হাত চলে ক্ষণে জোরে।
পদ আধ যাইতে ঠেকাড় করি পড়ে॥
শচীমাতা কোলে লৈতে যায় ধূলি ঝাড়ি।
আখটি করিয়া গোরা ভূমে দেয় গড়ি॥
আহা আহা বলি মাতা মুছায় অঞ্চলে।
কোলে করি চুমা দেয় বদন কমলে॥
বাসু কহে এ ছাবাল ধূলায় লোটাবা।
স্নেহভরে তুমি মাগো কত ঠেকাইবা॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার - দশকোশি॥

মায়ের অঙ্গুলি ধরি শিশু গৌরহরি।
হাটি হাটি পায় পায় যায় গুড়ি গুড়ি॥
টানি লঞা মার হাত চলে ক্ষণে জোরে।
পদ আধ যাইতে ঠেকাড় করি পড়ে॥
শচীমাতা কোলে লৈতে যায় ধূলি ঝাড়ি।
আখুটি করিয়া গোরা ভূমে দেয় গড়ি॥
আহা আহা বলি মাতা মুছায় অঞ্চলে।
কোলে করি চুমা দেয় বদন কমলে॥
বাসু কহে এ ছাবাল ধূলায় লুটাবা।
স্নেহভরে তুমি মাগো কত ঠেকাইবা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হেদেলো মালিনী সই হের দেখসিয়া
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা।
তদুচিত শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাস মিশ্র রামকেলি - তেওট॥

হেদেলো মালিনী সই হের দেখসিয়া।
নিমাই কান্দিছে মোর চাঁদের লাগিয়া॥
নিদ্রা হৈতে উঠি চাঁদ চাঁদ বলি কাঁদে।
কত না বুঝালুঁ তবু স্থির নাহি বান্ধে॥
চাঁদ চাঁদ বলি শিশু ভূমে গড়ি যায়।
আমি চাঁদ কোথা পাব একি হৈল দায়॥
মালিনী বোলে গো শিশু দেখেছে স্বপন।
শিশুগণ সঙ্গী হইলে হবে আনমন॥
বাসুদেব ঘোষ বলে মনের আনন্দে।
নদীয়ার চাঁদ মোর চাঁন্দের লাগি কান্দে।

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ বিভাস মিশ্র রামকেলি - তেওট॥

হেদেলো মালিনী সই হের দেখগিয়া।
নিমাই কাঁদিছে মোর চাঁদের লাগিয়া॥
নিদ্রা হইতে উঠি চাঁদ চাঁদ বলি কাঁদে।
কত না বুঝালুঁ তবু স্থির নাহি বান্ধে॥
চাঁদ চাঁদ বলি শিশু ভূমে গড়ি যায়।
আমি চাঁদ কোথা পাব একি হৈল দায়॥
মালিনী বলে গো শিশু দেখেছে স্বপন।
শিশুগণ সঙ্গী হলে হবে আনমন॥
বাসুদেব ঘোষ বলে মনের আনন্দে।
নদীয়ার চাঁদ মোর চাঁদের লাগি কাঁদে।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
উঠিয়া গৌরাঙ্গ চাঁদ বসিলা আসনে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত,  ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উঠিয়া গৌরাঙ্গ চাঁদ বসিলা আসনে।
সুবাসিত জলে কৈলা মুখ প্রক্ষালনে॥
গা তোলহে অবধৌত ডাকে গোরারায়।
অদ্বৈত উঠিয়া নিত্যানন্দেরে জাগায়॥
দক্ষিণে নিতাই বর বামে গদাধর।
সম্মুখেতে শোভা করেন অদ্বৈত ঈশ্বর॥
শ্রীবাসাদি আর যত প্রিয় ভক্তগণ।
আনন্দে হেরয়ে সবে ও চাঁদবদন॥
নরহরি গদাধর সংহতি বিহরে।
বাসুদেব ঘোষে তাহা কি কহিতে পারে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিকুঞ্জ হইতে সখীগণ সাথে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিকুঞ্জ হইতে,                        সখীগণ সাথে,
নিজ গৃহে চলে রাই।
চলি যায় পথে,                  কানু ভাবে চিতে,
পথে পড়ে মুরছাই॥
এতেক দেখিয়া,                     ললিতা ধাইয়া,
রাইকে করল কোলে।
আহা মরি মরি,                হেদে গো কিশোরী,
কেন বা এমন হইলে॥
ললিতারে হেরি,                     বলিছে সুন্দরী,
শুনগো প্রাণ সহচরি।
কানু গুণনিধি,                        রসের অবধি,
তিলে পাশরিতে নারি॥
কর যোড় করি,                     ললিতা সুন্দরী,
কহিছে শুনগো রাই।
হইল প্রভাত,                          চলহ তুরিত,
অবিলম্বে গৃহে যাই॥
কঙ্কন বলয়া,                         বসনে ঢাকিয়া,
নিজ গৃহে প্রবেশিল।
সখীগণ যত,                          যায় নিজ ধাম,
রজনী প্রভাত হইল।
শ্রীরূপ মঞ্জরী,                          প্রিয় সহচরী,
দাঁড়াল সেবার আশে।
শ্রীরতি মঞ্জরী,                      তাহার কিঙ্করী,
বাসুদেব ঘোষ ভাষে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পহুঁ করুণা-সাগর গোরা
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পদাবলী”. ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা
॥ সিন্ধুড়া - মধ্যম দশকুসী॥

পহুঁ করুণা-সাগর গোরা।
ভাবের তরঙ্গে                        অঙ্গ গর গর
হেরিয়া ভুবন ভোরা॥ ধ্রু॥
হাহাকার করি                        ভুজযুগ তুলি
বোলে হরি হরি বোল।
রাধা রাধা বলি                   ডাকে উচ্চ করি
গদাধর হেরি ভোর॥
খেনে খেনে কত                      করুণা করত
গরজে গভীর নাদে।
পতিত দেখিয়া                       আকুল হইয়া
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে॥
চরণ যুগল                           অতি সুচঞ্চল
রাতা উতপল রীত।
বদন কমলে                           গদ গদ স্বরে
গাওয়ে রসময় গীত ॥
মুরলী মুরলী                      খেনে খেনে বলি
স্বরূপ-মুখ নেহারে।
শিখি-পিঞ্ছ হেরি                   কি ভাব উঠয়ে
বাসু কি বলিতে পারে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ভালিরে নাচেরে মোর শচীর দুলাল
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব
মহাজন গীতিকা”, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শিশু গৌরাঙ্গ

ভালিরে নাচেরে মোর শচীর দুলাল।
চঞ্চল বালক মেলি                সুরধুনী তীরে কেলি
হুরিবোল দিয়া করতাল॥
কুটিল কুন্তল শিরে                বদনে অমিয়া ঝরে
রূপ জিনি সোনা শতবান।
যতন করিয়া মায়                ধড়া পরাইছে তায়
কাজরে উজোর দুনয়ান॥
ভুজে শোভে তাড় বালা          গলে মুকুতার মালা
কর পদ কোকনদ জিনি।
বাসু কহে মরি মরি               সাগরে কামনা করি
হেন সুত পাইল শচী রাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
॥ তথারাগ॥

ভালিরে নাচেরে মোর শচীর দুলাল।
চঞ্চল বালক মেলি                সুরধুনী তীরে কেলি
হুরিবোল দিয়া করতাল॥
কুটিল কুন্তল শিরে                বদনে অমিয়া ঝরে
রূপ জিনি সোনা শত বাণ।
যতন করিয়া মায়                  ধড়া পরাইছে তায়
কাজরে উজোর দুনয়ান॥
ভুজে শোভে তাড় বালা           গলে মুকুতার মালা
কর পদ কোকনদ জিনি।
বাসু কহে মরি মরি               সাগরে কামনা করি
হেন সুত পাইল শচীরাণী॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পূরবে বান্ধিল চূড়া এবে কেশহীন
পূরবে বান্ধিত চূড়া ইবে কেশহিন
ভণিতা বাসুঘোষ / বলরাম
কবি বাসুদেব ঘোষ / বলরাম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৫৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

পূরবে বান্ধিল চূড়া এবে কেশ-হীন।
নটবর-বেশ ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
গাবি-দোহন-ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেত বাঁশী।
কলিযুগে দণ্ড ধরি হইলা সন্ন্যাসী॥
বাসুঘোষ কহে শুন নদীয়া-নিবাসী।
বলরাম অবধৌত কানাই সন্ন্যাসী॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৯-পৃষ্ঠায়, এই রূপে, বলরাম দাসের পদাবলীর মধ্যে
ভুল করে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থের পদকর্তাদের মধ্যে বাসুদেব ঘোষের নাম নেই।

॥ গান্ধার॥

.      পূরবে বান্ধিল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবর বেশ ছাড়ি পড়িলা কৌপীন॥ গাভী
দোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে। করঙ্গ ধরিলা
গোরা সেই অনুসারে॥ ত্রেতায় ধরিল ধনু
দ্বাপরেতে বাঁশী। কলিযুগে দণ্ড ধরি
হইলা সন্ন্যাসী॥ বাসুঘোষ কহে শুন
নদীয়া-নিবাসী। বলরাম অবধূত কানাই
সন্ন্যাসী॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার ॥

পূরবে বান্ধিল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবর-বেশ ছাড়ি পরিলা কৌপিন॥
গাবি-দোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেতে বাঁশী॥
কলিযুগে দণ্ড ধরি হইলা সন্ন্যাসী।
বাসু ঘোষ কহে শুন নদীয়া নিবাসী।
বলরাম অবধৌত কানাই সন্ন্যাসী॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপেও দেওয়া রয়েছে।
পদটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুখি ৪৯৯৬ থেকে পাওয়া।

॥ গান্ধার ॥

পূরবে বান্ধিত চূড়া ইবে কেশহিন।
পিতধ্বজাভাবে গোরার এ ডোর কৌপিন॥
ধেনুর অভাবে গোরা বণু নিল করে।
বনমালাভাবে গোরার নামডোর গলে॥
গাবি দোহন ভাণ্ডাভাব অনুভব রসে।
করঙ্গ রঙ্গিলা গোরা এই অভিলাষে॥
বাসু ঘোষ কহে শুন নবদ্বিপবাসী।
বলরাম অবধৌত কানাই সন্ন্যাসী॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার ॥

পূরবে বাঁধল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবরবেশ ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
গাভী-দোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেতে বাঁশী॥
কলিযুগে দণ্ডধারি হইলা সন্ন্যাসী।
বলরাম কহে শুন নদীয়ানিবাসী।
বলরাম অবধূত কানাই সন্ন্যাসী॥

টিকা -
একখানি হস্তলিখিত গ্রন্থে এই পদটী বাসুঘোষের বলিয়া উদ্ধৃত হইয়াছে। পদকল্পতরুতেও
তাই।---জগবন্ধু ভদ্র / মৃণালকান্তি ঘোষ, শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার ॥

পূরবে বাঁধল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবরবেশ ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
গাভী-দোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেতে বাঁশী॥
কলিযুগে দণ্ড ধারি হইলা সন্ন্যাসী।
বলরাম কহে শুন নদীয়া-নিবাসী।
বলরাম অবধূত কানাই সন্ন্যাসী॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পূর্ণিমা রজনী চাঁদ গগনে উদয়
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে,
বহু পাঠান্তর সহ।

॥ বেলোয়ার - দশকোশি॥

পূর্ণিমা-রজনী চাঁদ গগনে উদয়।
চাঁদ হেরি গোরাচাঁদের হরিষ-হৃদয়॥
চাঁদ দে মা বলি শিশু কাঁদে উভরায়।
হাত তুলি শচী ডাকে আয় চাঁদ আয়॥
না আসে নিঠুর চাঁদ নিমাই ব্যাকুল।
কাঁদিয়া ধূলায় পড়ে হাতে ছিড়ে চুল॥
রাধাকৃষ্ণ-চিত্র এক মিশ্রগৃহে ছিল।
পুত্র শান্তাইতে শচী তাহা হাতে দিল॥
চিত্র পাঞা গোরাচাঁদের মনে বড় সুখ।
বাসু কহে পটে পহুঁ হের নিজমুখ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
॥ বেলোয়ার - দশকোশি॥

পূর্ণিমা রজনী চাঁদ গগনে উদয়।
চাঁদ হেরি গোরাচাঁদের হরিষ হৃদয়॥
চাঁদ দে মা বলি শিশু কাঁদে উভরায়।
হাত তুলি শচী ডাকে আয় চাঁদ আয়॥
না আসে নিঠুর চাঁদ নিমাই ব্যাকুল।
কাঁদিয়া ধূলায় পড়ে হাতে ছিঁড়ে চুল॥
রাধাকৃষ্ণচিত্র এক মিশ্রগৃহে ছিল।
পুত্র শান্তাইতে শচী তাহা হাতে দিল॥
চিত্র পাঞা গোরাচাঁদের মনে বড় সুখ।
বাসু কহে পটে পহুঁ হের নিজমুখ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার - দশকোশি॥

পূর্ণিমা রজনী চাঁদ গগনে উদয়।
চাঁদ হেরি গোরাচাঁদের হরিষ হৃদয়॥
চাঁদ দে মা বলি শিশু কাঁদে উভরায়।
হাত তুলি শচী ডাকে আয় চাঁদ আয়॥
না আসে নিঠুর চাঁদ নিমাই ব্যাকুল।
কাঁদিয়া ধূলায় পড়ে হাতে ছিঁড়ে চুল॥
রাধাকৃষ্ণচিত্র এক মিশ্রগৃহে ছিল।
পুত্র শান্তাইতে শচী তাহা হাতে দিল॥
চিত্র পাঞা গোরাচাঁদের মনে বড় সুখ।
বাসু কহে পটে পহুঁ হের নিজমুখ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আগম অগোচর গোরা
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”,
৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি
মালবিকা চাকি কর্ত্তৃক উদ্ধৃত, সাধনদীপিকা, ১৭৩-পৃষ্ঠা।


আগম অগোচর গোরা।
অখিল ব্রহ্মপর, বেদপর, না জানে পাষণ্ডী মতি ভোরা॥
নিত্য নিত্যানন্দ, চৈতন্য গোবিন্দ, পণ্ডিত গদাধর রাধে।
চৈতন্য যুগলরূপ, কেবল রসের কূপ, অবতার সদাশিব সাধে॥
অন্তরে নবঘন, বাহিরে গৌরতনু, যগল রূপ পরকাশে।
কহে বাসুদেব ঘোষে, যুগল ভজন রসে, জনমে জনমে রঙ্গ আশে॥

সূত্র -
সাধনদীপিকা, ১৭৩ পৃ। (মালবিকা চাকী কর্ত্তৃক উদ্ধৃত)
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর