| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি আঁখি ফিরাইতে নারি ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রূপানুরাগ শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ ধানশী - বড় দশকুশী॥ গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি আঁখি ফিরাইতে নারি মন অনুগত তাহে হইল। পরশ থাকুক দূরে অপরশে মন হরে নদীয়া-নাগরীকুল গেল॥ গৌর পিরীতিময় ধাম। অঙ্গহি অঙ্গ সকলি পরিপূরিত পূরয়ে মানস কাম॥ শ্রীচরণ পরশে অবনী আনন্দে ভাসে মন্দগতি গজরাজ জিনি। তেরছ নয়নে চায় মনমথ মূরছায় আনন্দে ভুলল কুলধনি॥ গৌরাঙ্গ লাবণ্যরাশি হৃদয়ে রহল পশি কি করে তার ছার জাতি কুলে। বাসুদেব ঘোষে কয় সেদিন সফল হয় যাবত থাকিব পদতলে॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা ॥ ধানশী - বড় দশকুশী॥ গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি আঁখি ফিরাইতে নারি মন অনুগত তাহে ভেল। পরশ থাকুক দূরে অপরশে মন হরে নদীয়া-নাগরী কুল গেল॥ গৌর পীরিতিময় ধাম। অঙ্গহি অঙ্গ সকলি পরিপূরিত পূরয়ে মানস কাম॥ চরণ পরশ রসে অবনী আনন্দে ভাসে মন্দগতি গজরাজ জিনি। তেরছ নয়নে চায় মনমথ মূরছায় আনন্দে ভুলল কুল ধনি॥ গৌরাঙ্গ লাবণ্য রাশি হৃদয়ে রহল পশি কি করে তার ছার জাতি কুলে। বাসুদেব ঘোষে কয় জীহন সফল হয় যাবত থাকিব পদতলে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গৌরাঙ্গ চাঁদেরে হেরি আঁখি ফিরাইতে নারি মন অনুগত তাহে হইল। পরশ থাকুক দূরে অপরশে মন হরে নদীয়া-নাগরী কুল গেল॥ গৌর পীরিতিময় ধাম। অঙ্গহি অঙ্গ সকলি পরিপূরিত পূরয়ে মানস কাম॥ শ্রীচরণ পরশ অবনী আনন্দে ভাসে মন্দগতি গজরাজ জিনি। তেরছ নয়নে চায় মন মোর মুরছায় আনন্দে ভুলল কুল ধনি॥ গৌরাঙ্গ লাবণ্যরাশি হৃদয়ে রহিল পশি কি করে তার ছার জাতি কুলে। বাসুদেব ঘোষে কয় সেদিন সফল হয় যাতে থাকিব পদতলে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিকুঞ্জ হইতে সখীগণ সাথে ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নিকুঞ্জ হইতে, সখীগণ সাথে, নিজ গৃহে চলে রাই। চলি যায় পথে, কানু ভাবে চিতে, পথে পড়ে মুরছাই॥ এতেক দেখিয়া, ললিতা ধাইয়া, রাইকে করল কোলে। আহা মরি মরি, হেদে গো কিশোরী, কেন বা এমন হইলে॥ ললিতারে হেরি, বলিছে সুন্দরী, শুনগো প্রাণ সহচরি। কানু গুণনিধি, রসের অবধি, তিলে পাশরিতে নারি॥ কর যোড় করি, ললিতা সুন্দরী, কহিছে শুনগো রাই। হইল প্রভাত, চলহ তুরিত, অবিলম্বে গৃহে যাই॥ কঙ্কন বলয়া, বসনে ঢাকিয়া, নিজ গৃহে প্রবেশিল। সখীগণ যত, যায় নিজ ধাম, রজনী প্রভাত হইল। শ্রীরূপ মঞ্জরী, প্রিয় সহচরী, দাঁড়াল সেবার আশে। শ্রীরতি মঞ্জরী, তাহার কিঙ্করী, বাসুদেব ঘোষ ভাষে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পহুঁ করুণা-সাগর গোরা ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পদাবলী”. ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা ॥ সিন্ধুড়া - মধ্যম দশকুসী॥ পহুঁ করুণা-সাগর গোরা। ভাবের তরঙ্গে অঙ্গ গর গর হেরিয়া ভুবন ভোরা॥ ধ্রু॥ হাহাকার করি ভুজযুগ তুলি বোলে হরি হরি বোল। রাধা রাধা বলি ডাকে উচ্চ করি গদাধর হেরি ভোর॥ খেনে খেনে কত করুণা করত গরজে গভীর নাদে। পতিত দেখিয়া আকুল হইয়া ধরিয়া ধরিয়া কান্দে॥ চরণ যুগল অতি সুচঞ্চল রাতা উতপল রীত। বদন কমলে গদ গদ স্বরে গাওয়ে রসময় গীত ॥ মুরলী মুরলী খেনে খেনে বলি স্বরূপ-মুখ নেহারে। শিখি-পিঞ্ছ হেরি কি ভাব উঠয়ে বাসু কি বলিতে পারে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভালিরে নাচেরে মোর শচীর দুলাল ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শিশু গৌরাঙ্গ ভালিরে নাচেরে মোর শচীর দুলাল। চঞ্চল বালক মেলি সুরধুনী তীরে কেলি হুরিবোল দিয়া করতাল॥ কুটিল কুন্তল শিরে বদনে অমিয়া ঝরে রূপ জিনি সোনা শতবান। যতন করিয়া মায় ধড়া পরাইছে তায় কাজরে উজোর দুনয়ান॥ ভুজে শোভে তাড় বালা গলে মুকুতার মালা কর পদ কোকনদ জিনি। বাসু কহে মরি মরি সাগরে কামনা করি হেন সুত পাইল শচী রাণী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা ॥ তথারাগ॥ ভালিরে নাচেরে মোর শচীর দুলাল। চঞ্চল বালক মেলি সুরধুনী তীরে কেলি হুরিবোল দিয়া করতাল॥ কুটিল কুন্তল শিরে বদনে অমিয়া ঝরে রূপ জিনি সোনা শত বাণ। যতন করিয়া মায় ধড়া পরাইছে তায় কাজরে উজোর দুনয়ান॥ ভুজে শোভে তাড় বালা গলে মুকুতার মালা কর পদ কোকনদ জিনি। বাসু কহে মরি মরি সাগরে কামনা করি হেন সুত পাইল শচীরাণী॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |