কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
এ হেন সুন্দর বেশে কেন বনাইলুঁ
এ হেন সুন্দরীবেশ কেন বনাইলাম
এ হেন সুন্দর বেশ কেনে বনাইলুঁ
এ হেন সুন্দর বেশ কেন বনাইলুঁ
এ হেন সুন্দর বেশ কেন বনাইনু
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম
পল্লব, সর্ব্বকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, পদসংখ্যা ৩৬০। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির
৪৭৯ সংখ্যক পদ।

অথোত্কণ্ঠিতা।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ মল্লার॥

এ হেন সুন্দর বেশে কেন বনাইলুঁ।
নিরুপম গোরা রূপ দেখিতে নারিলুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয়ে জানিলুঁ মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগোর চন্দন।
গোরা বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পুর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসুঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুখে॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের
সংগ্রহের পুথি (সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য
পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথোত্কণ্ঠিতা।
তত্র গৌরচন্দ্রঃ।
॥ সুই মল্লার॥

এ হেন সুন্দর বেশে কেনে বনাইলুঁ।
নিরুপম-রূপ-গোরা দেখিতে না পালুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিনা মোর হল্য।
নিশ্চয়ে জানিলাম বিধি মোরে বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগৌর চন্দন।
গোরা বিনে কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পুর তাম্বূল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসু কহে রজনী পোহাব বড় দুখে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৭৯-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ মল্লার॥

এ হেন সুন্দর বেশে কেন বনাইলুঁ।
নিরুপম গোরা রূপ দেখিতে নারিলুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয়ে জানিলুঁ আজি বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগোর চন্দন।
গোরা বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পুর তাম্বুল গুবাক দিব কার মুখে।
বাসুঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুখে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ উত্কণ্ঠিতা যথা তদুচিৎ মহাপ্রভু॥ মল্লার॥

এ হেন সুন্দরীবেশ কেন বনাইলাম। নিরুপম গোরারূপ দেখি না পাইলাম॥
অকাজে রজনী জায় কিবা মোর হইল। নিশ্চয় জানিল আজি বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগৌর চন্দন। গোরা বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে। বাসু ঘোষ কহে নিশি জায় বড় দুখে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৯৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার॥

এ হেন সুন্দর বেশ কেন বনাইলুঁ।
নিরুপম গোরারূপ দেখিতে নারিলুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয় জানিলুঁ মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।
গোরা বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসু ঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুখে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্কণ্ঠিতা।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ মল্লার॥

এ হেন সুন্দর বেশ কেন বনাইনু।
নিরূপম গোরারূপ দেখিতে নারিনু॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয় জানিনু মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।
গৌরা বিনে কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসুঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুঃখে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্কণ্ঠিতা
গৌরচন্দ্র
॥ রাগিণী সুহই - তাল জোতসোম তাল॥

এ হেন সুন্দর বেশ কেন বানাইনু। নিরুপম গোরারূপ
দেখিতে না পাইনু॥ অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয় জানিনু মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥ সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু
চন্দন। গোরা বিনা কার অঙ্গে করিব লেপন॥ কর্পূর তাম্বুল
গুয়া দিব কার মুখে। বাসুঘোষ কহে নিশি যায় বর দুঃখে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্কণ্ঠিতা
॥ মল্লার॥

এহেন সুন্দর বেশ কেনে বনাইলুঁ।
নিরূপম গোরারূপ দেখিতে না পাইলুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয় জানিলুঁ মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।
গৌর বিনে কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসু ঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুখে॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্কণ্ঠিতা
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ করুণ বরাড়ী - বড় দশকুশী॥

এ হেন সুন্দর বেশ কেন বনাইলুঁ।
নিরুপম গোরারূপ দেখিতে পাইলুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হইল।
নিশ্চয় জানিনু মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।
গোরা বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসু ঘোষ কহে নিশি যায় বড় দুখে॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্কণ্ঠিতা
শ্রীগৌরচন্দ্র।

এ হেন সুন্দর বেশ কেন বনাইলুঁ।
নিরূপম গোরারূপ দেখিতে নারিলুঁ॥
অকাজে রজনী যায় কিবা মোর হৈল।
নিশ্চয়ে জানিলুঁ মোরে বিধি বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগুরু চন্দন।
গৌর বিনু কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসু ঘোষ কহে নিশি বড় যায় দুখে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”,
৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুই মল্লার॥

এহেন সুন্দর বেশ কেন বনাইলুঁ।
নিরুপম রুপ গোরা দেখিতে না পালুঁ॥
অকাজে রজনি জায় কিবা মোর হল্য।
নিশ্চয়ে জানিলাম বিধি মোরে বিড়ম্বিল॥
সুবাসিত গন্ধ আদি অগৌর চন্দন।
গোরা বিনে কার অঙ্গে করিব লেপন॥
কর্পূর তাম্বুল গুয়া দিব কার মুখে।
বাসু কহে রজনী পোহাব বড় দুখে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে
আজুক রজনি হাম কৈছে বঞ্চব রে
আজু রজনী কৈছে হাম বঞ্চব
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম পল্লব, সর্ব্বকালোচিত
বিপ্রলব্ধা, পদসংখ্যা ৩৬৫। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৩৬৫ সংখ্যক পদ।

অথ বিপ্রলব্ধা।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ কেদার॥

আজু রজনী হাম                কৈছে বঞ্চব রে
মোহে বিমুখ নট-রাজ।
নব অনুরাগে                  আশ নাহি পূরল
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যাওত
ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥
গুরুজন-গৌরব                     দূরহিঁ ডারলুঁ
গৌর-প্রেমরস লাগি।
দুল্লভ প্রেম                   মোহে বিহি বঞ্চল
মঝু ভালে দেওল আগি॥
প্রেম-রতন-ফল               জগ ভরি বিথারল
হাম তাহে ভেল নৈরাশ।
নব অনুরাগ-                  ভরমে হাম ভূলল
বাসুঘোষ না পূরল আশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৯৩-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥

আজু রজনী হাম                কৈছে বঞ্চব রে
মোহে বিমুখ নট-রাজ।
নব অনুরাগে                  আশ নাহি পূরল
বিকল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যাওত
ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥
গুরুজন-গৌরব                     দূরহিঁ ডারলুঁ
গৌর-প্রেমরস লাগি।
দুর্ল্লভ প্রেম                   মোহে বিহি বঞ্চল
মঝু ভালে দেওল আগি॥
প্রেম-রতন-ফল              জগ ভরি বিথারল
হাম তাহে ভেল নৈরাশ।
নব অনুরাগে-                ভরমে হাম ভূলল
বাসুঘোষ না পূরল আশ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৮|১-পদ-সংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥
আজুক রজনি                   কৈছে হাম বঞ্চব
মোহে বিমুখ নট-রাজ।
নব অনুরাগ                   অধিক নাহি পূরল
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যাওত
পথ হেরি পাঁজর শেষ॥ ধ্রু॥
গুরুজন-গৌরব                      দূরহিঁ ডারলুঁ
গৌর-প্রেমরস লাগি।
দুলহ প্রেম                   মোহে বিহি বঞ্চল
দেওল মঝু মুখে আগি॥
প্রেম-রতন-ফল                 জগতে বিথারল
হাম তাহে পড়ল নৈরাশ।
নব অনুরাগ-                  ভরমে হাম ভুললুঁ
বাসুঘোষ না পূরল আশ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ বিপ্রলম্ভ॥ তত্র শ্রীমহাপ্রভু॥ কেদার॥

আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চিব গো মোহে বিমুখ নটরাজ।
নব অনুরাগে আশ না পূরল কেবল ভেল অকাজ॥
সখী কাহে বনাইলু বেশ।
আধ পলকে কত যুগ বহি জাওত ভাবিতে পাজর ভেল শেষ॥
গুরুজন গৌরব দূরহি ডারলু গৌরপ্রেমরস লাগি।
দুল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চিল মজু ভালে দেই আগি॥
প্রেম রতন ফল জগভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাসে।
নব অনুরাগে ভরম হাম ভুলল বাসু ঘোষ না পূরল আশে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

আজু রজনী হাম                কৈছে বঞ্চব রে
মোহে বিমুখ নটরাজ।
নব অনুরাগে                  আশ নাহি পূরল
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যায়ত
ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥
গুরুজন গৌরব                   দূরে হি ডারলুঁ
গৌর-প্রেমরস লাগি।
দুর্ল্লভ প্রেম                   মোহে বিহি বঞ্চল
মঝু ভাগে দেওল আগি॥
প্রেমরতন ফল               জগ ভরি বিথারল
হাম তাহে ভেল নৈরাশ।
নব অনুরাগে                 ভরমে হাম ভূলল
বাসু ঘোষের না পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিপ্রলব্ধা
॥ কেদার॥

আজু রজনী হাম                কৈছে বঞ্চব রে
মোহে বিমুখ নটরাজ।
নব অনুরাগে                  আশ নাহি পূরল
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যায়ত
ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥
গুরুজন গৌরব                    দূর হি ডারলুঁ
গৌর প্রেমরস লাগি।
দুর্ল্লভ প্রেম                   মোহে বিহি বঞ্চল
মঝু ভালে দেয়ল আগি॥
প্রেমরতন ফল               জগ ভরি বিথারল
হাম তাহে ভেল নৈরাশ।
নব অনুরাগে                  ভরমে হাম ভুলল
বাসু ঘোষের না পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ বিপ্রলব্ধা
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ কেদার - দশকুশী॥

আজু রজনী হাম                কৈছে বঞ্চব রে
মোহে বিমুখ নটরাজ।
নব অনুরাগে                  আশ নাহি পূরল
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যায়ত
ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥
গুরুজন গৌরব                     দূরহি ডারলুঁ
গৌর প্রেম রস লাগি।
দুর্লভ প্রেম                    মোহে বিহি বঞ্চল
মঝু ভালে দেওল আগি॥
প্রেম রতন ফল                জগভরি বিথারল
হাম তাহে ভেল নৈরাশ।
নব অনুরাগ                  ভরমে হাম ভূললু
বাসু ঘোষ না পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজুক রজনী কৈছে হাম বঞ্চব        
মোহে বিমুখ নটরাজ।
অনুরাগ আশ নাহি পূরল              
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনাওল বেশ।            
আধ পল কত যুগ হেন মানিয়ে        
ভাবিতে পাঁজর শেষ॥
গুরু জন গৌরব দ্বার ভাঙ্গনু           
গৌর প্রেমরস লাগি।
দুর্ল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল        
দেওল মঝুমুখে আগী॥                
প্রেম রতনফল                জগভরি বিথারল
হাম তাহে ভৈল নৈরাশ।
নব অনুরাগে                ভরমে হাম ভুলল
বাসু ঘোষের পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির  জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী  
সংকলন, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার রাগ॥

আজুক রজনি হাম              কৈছে বঞ্চব রে
মোহে বিমুখ নটরাজ।
নব-অনুরাগে                   আশ নাহি পূরল
বিফল ভেল সব কাজ॥
সজনি কাহে বনায়লু বেশ।
আধ পলকে কত                যুগ বহি যাওত
ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥
গুরুজন গৌরব                     দূরহিঁ ডারলুঁ
গৌর প্রেমরস লাগি।
দুর্ল্লভ প্রেম                  মোহে বিহি বঞ্চল
মঝু ভালে দেওল আগি॥
প্রেম রতন ফল               জগভরি বিথারল
হাম তাহে ভেল নৈরাশ।
নব অনুরাগ                 ভরমে হাম ভুলল
বাসু ঘোষ না পূরল আশ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজি কেনে গোরাচাঁদের বিরস বয়ান
আজি কেনে গোরাচান্দের বিরস বয়ান
আজু কেনে গৌরাঙ্গ চান্দের বিরস বদন
আজু কেন গোরাচান্দের বিরস বয়ানে
আজু কেন গোরাচাঁদের বিরস বয়ান
আজি কেন গোরাচাঁদের বিরস বয়ান
ভণিতা বাসুঘোষ / বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম
পল্লব, সর্ব্বকালোচিত খণ্ডিতা, পদসংখ্যা ৩৭০। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির
১৩|১ সংখ্যক পদ।

অথ খণ্ডিতা।
তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাষ বা তুড়ী॥

আজি কেনে গোরাচাঁদের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়্যাছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচান্দ সুখাঞাছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেন হৈয়াছে মলিনে॥
আলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাঢ়াইতে পায়॥
বাসুঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের
সংগ্রহের পুথি (সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য
পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ খণ্ডিতা।
তত্র গৌরচন্দ্রঃ।
॥ রামকেলি রাগ॥

আজু কেন গোরাচান্দের বিরস বয়ানে।
সে মুখ সুখাঞাছে কিসের কারণে॥
আলসে অবশ গা ধরণে না যায়।
ঢলিঞা ঢলিঞা পড়ে বাঢ়াইতে পায়॥
বাসুদেব কহে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস পাঞা গোরা রজনী পোহাইল॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

আজু কেন গোরাচান্দের বিরস বয়ান। কি ভাব পড়েছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচন্দ্র সুখাএছে কিসের কারণে। অরুণ অধর কেন হএছে মলিনে॥
আলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না জায়। ঢুলিএ ঢুলিএ পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসুদেব কহে গোরা কোথা না আছিলা। কিবা রস আসোআসে রজনী পোহাইলা॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

আজু কেনে গৌরাঙ্গ চান্দের বিরস বদন। রজনী
জাগইতে অরুণ নয়ন॥ অলসে অবশ গোরা কিছুই না চায়।
ঢুলিয়া ২ পড়ে দেখিতে না পায়॥ আজ রজনী বঞ্চিলা কারু
সনে। চাঁদমুখ শুকাইছে কিসের কারণে॥ বাসুদেব ঘোষ
বলে গোরা কেন কান্দে। কি জানি ঠকেছে গোরা কার
প্রেমফান্দে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২) ১৯৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

(খণ্ডিতা, মাল, কলহান্তরিতা)
॥ বিভাস বা তুড়ী॥

আজি কেন গোরাচাঁদের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়েছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচান্দ শুখায়েছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেন হৈয়াছে মলিনে॥
আলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাঢ়াইতে পায়॥
বাসুঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খণ্ডিতা।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাষ॥

আজি কেন গোরা চাঁদের বিরস বয়ান।
কি তার পড়েছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচাঁন্দ সুখাঞাছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেন হৈয়াছে মলিনে॥
আলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসুঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশে নিশি জাগি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে ২য় বার দেওয়া রয়েছে।

মান খণ্ডিতা।
প্রকারান্তর
॥ বিভাষ॥

আজি কেন গোরা চাঁদের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়েছে মনে সজল নয়ান॥
মুখ-চাঁন্দ শুখায়েছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেনে হৈয়াছে মৈলানে॥
অলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসুঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খণ্ডিতা
॥ বিভাস বা তুড়ী॥

আজি কেন গোরাচাঁদের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়েছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচাঁন্দ শুখায়েছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেন হৈয়াছে মলিনে॥
অলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসু ঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ খণ্ডিতা
তদুচিত শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ভৈরবী বা বিভাস - রূপক তাল॥

আজি কেন গোরাচান্দের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়েছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচান্দ শুখায়েছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেনে হৈয়াছে মলিনে॥
অলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাঢ়াইতে পায়॥
বাসুঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস-আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি কেন গোরা চান্দের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়িয়াছে মনে সজল নয়ান॥
কত সুধা বরিখয়ে এ চাঁদ বয়ানে।
সে মুখ শুখায়েছে কিসের কারণে।
আলসে অবশ গা ধরণে না জায়।
ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসুদেব ঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াকে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খণ্ডিতা।

আজু কেন গোরাচাঁদের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়ল মনে সজল নয়ান॥
মুখচান্দ শুকায়েছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেনে হইয়াছে মলিনে॥
আলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসু ঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস বা তুড়ি॥

আজি কেনে গোরাচাঁদের বিরস বয়ান।
কি ভাব পড়্যাছে মনে সজল নয়ান॥
মুখচাঁন্দ শুখাঞেছে কিসের কারণে।
অরুণ অধর কেন হৈয়াছে মলিনে॥
আলসে অবশ অঙ্গ ধরণে না যায়।
ঢুলিয়া ঢুলিয়া পড়ে বাড়াইতে পায়॥
বাসু ঘোষ বলে গোরা কোথা না আছিল।
কিবা রস আশোয়াসে নিশি পোহাইল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মঝু মনে লাগল শেল
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৪শ
পল্লব, কলহান্তরিতা, পদসংখ্যা ৪৫১। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৬৪০ সংখ্যক
পদ।

পুনশ্চ কলহান্তরিতা।
তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বিমুখ ভৈ গেল॥
জনম বিফল মোর ভেল।
দারুণ বিহি দূখ দেল॥
কাহে কহব ইহ দূখ।
কহইতে বিদরয়ে বূক॥
আর না হেরব গোরা-মূখ।
তবে জীবনে কিয়ে সূখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান।
গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের
সংগ্রহের পুথি (সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য
পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ কলহান্তরিতা।
তত্র গৌরচন্দ্রঃ।
॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বিমুখ ভই গেল॥
দারুণ বিহি দুখ দেল।
জনম বিফল মোর ভেল॥
কাহে কহব ইহ দুখ।
কহইতে বিদরয়ে বুক॥
হাম যব না পেখব মুখ।
তব জীবনে কিবা সুখ॥
বাসুদেব ঘোষ নিদান।
গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৬৪০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বিমুখ ভৈ গেল॥
জনম বিফল মোর ভেল।
দারুণ বিহি দূখ দেল॥
কাহে কহব এহ দুখ।
কহইতে বিদরয়ে বুক॥
আর না হেরব গোরা-মুখ।
তবহি জীবনে কিয়ে সুখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান।
গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২২|১-
পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বিমুখ ভৈ গেল॥
জনম বিফল মঝু ভেল।
দারুণ বিহি দূখ দেল॥
হাম কাহে কহবহিঁ দুখ।
কহইতে বিদরয়ে বুক॥
আর না হেরব গোরা-মুখ।
তব জীবনে কিবা সূখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান।
গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল। গৌর বৈমুখ ভৈগেল॥
জনম বিফল মোর ভেল। দারুণ বিহি দুখ দেল॥
কাহে কহব ইহ দুখ। কহইতে বিদরয়ে বুক॥
আর না হেরব গোরামুখ। তবে জীবনে কিয়ে সূখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান। গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

ই পদটি পুনরায়, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল। গৌর বৈমুখ ভৈগেল॥
জনম বিফল মোর ভেল। দারুণ বিহি দুঃখ দেল॥
কাহে কহব ইহ দুখ। কহইতে বিদরয়ে বুক॥
আর না হেরব গোরা-মুখ। তবে জীবনে কিবা সূখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান। গোরা বিনু না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বৈমুখ ভৈ গেল॥
জনম বিফল মোর ভেল।
দারুণ বিহি দুখ দেল॥
কাহে কহব ইহ দুখ।
কহইতে বিদরয়ে বুক॥
আর না হেরব গোরামুখ।
তবে জীবনে কিয়ে সুখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান।
গোরা বিনু না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ কলহান্তরিতা
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুই - সমতাল॥

মঝুমনে লাগল শেল।
গৌর বিমুখ ভৈগেল॥
জনম বিফল মোর ভেল।
দারুণ বিহি দুখ দেল॥
কাহে কহব ইহ দুখ।
কহইতে বিদরয়ে বুক॥
আর কি হেরব গোরা-মুখ।
তব জীবনে কিয়ে সুখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান।
গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বিনু তনু ভই গেল॥
জনম বিফল মোর ভেল।
দারুণ বিধি দুখ দেল॥
হাম কাহে কহব যে দুখ।
কহইতে বিদরয়ে বুক॥
হাম সব না পেখব সুখ।
অব জীবন্তে কিবা সুখ॥
বাসুদেব রস গান।
গোরা বিনু না রহে পরাণ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

মঝু মনে লাগল শেল।
গৌর বৈমুখ ভৈ গেল॥
জনম বিফল মোর ভেল।
দারুণ বিহি দুখ দেল॥
কাহে কহব ইহ দূখ।
কহইতে বিদরয়ে বূক॥
আর না হেরব গোরামূখ।
তবে জীবনে কিয়ে সূখ॥
বাসুদেব ঘোষ রস গান।
গোরা বিনে না রহে পরাণ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া
নাচে গোরা শচির দোলালিয়া
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৭৭৪-পৃষ্ঠা।

॥ পুনঃ রাগ ভাট্যালি॥

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি, দেই তারা করতালি, হরি বোল হরি বোল বলিয়া॥ ধ্রু॥
সুরঙ্গ চতুনা মাথে, গলায় সোনার কাঁটি।
সাধ করে পরা’য়াছে মায় ধড়া গাছি আঁটি॥
সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু।
ভুবনমোহন বেশ ভুরু কামধনু॥
রজত কাঞ্চন নানা আভরণ, অঙ্গে মনোহর সাজে।
রাতা-উতপল১  চরণযুগল তুলিতে নূপুর বাজে॥
শচীর অঙ্গণে নাচয়ে সঘনে বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেবঘোষে বোলে, ধর ধর কর কোলে, গোরা যেন পরাণের পরাণি॥

১ - রাতা উতপল = রক্তপদ্ম।

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২০শ পল্লব, প্রকারান্তর
বাত্সল্য-রস, ১১৬১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৬৪০
সংখ্যক পদ।

অথ বাত্সল্যরসঃ প্রকারান্তরং যথা।
শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ ভাটিয়ারী॥

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি                 সভে দেই করতালি
হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥
সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোণার কাঁঠি।
সাধ করিয়া মায় পরাইছে ধড়া গাছি আঁটি॥
সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু।
ভুবন-মোহন বেশ ভুরু কাম-ধনু॥
রজত কাঞ্চন                                নানা অভরণ
অঙ্গে মনোহর সাজে।
রাতা উতপল                                   চরণ-যুগল
তুলিতে নূপুর বাজে॥
শচীর অঙ্গনে                                নাচয়ে সঘনে
বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বোলে                 ধর ধর কর কোলে
গোরা মোর পরাণের পরাণি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি                        দেয় ঘন করতালি
হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥
সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোনার কাঠি।
সাধ করিয়া মায় পরাঞাছে ধড়াগাছটি আটি॥
সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু।
ভুবনমোহন বেশ ভুরু কামধনু॥
রতন কাঞ্চন, নানা অভরণ, অঙ্গে মনোহর সাজে।
রাতা উত্পল, চরণ যুগল, তুলিতে নূপুর বাজে॥
শচীর অঙ্গনে, নাচয়ে সঘনে, বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বলে, ধর ধর কর কোলে, গোরা মোর পরাণের পরাণি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক,                      মেলি দেই করতালি
হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥
সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোণার কাঁঠি।
সাধ করিয়া মায় পরাঞাছে ধড়া গাছি আঁটি॥
সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু।
ভুবন-মোহন বেশ ভুরু কাম-ধনু॥
রজত কাঞ্চন,                                নানা আভরণ,
অঙ্গে মনোহর সাজে।
রাতা উত্পল,                                   চরণ যুগল,
তুলিতে নূপুর বাজে॥
শচীর অঙ্গনে,                                নাচয়ে সঘনে,
বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বলে,                   ধর ধর কর কোলে,
গোরা গোরা পরাণের পরাণি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৌমারলীলা।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ভাটিয়ারী মিশ্র বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি,                সভে দেই করতালি
হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥
সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোণার কাঠি।
সাধ করিয়া মায় পরাইছে ধড়াগাছি আঁটি॥
সুন্দর চাচর কেশ সুবলিত তনু।
ভুবনমোহন বেশ ভুরু কাম ধনু॥
রজত কাঞ্চন,                            নানা আভরণ,
অঙ্গে মনোহর সাজে।
রাতা উত্পল,                               চরণ যুগল,
তুলিতে নূপুর বাজে॥
শচীর অঙ্গনে,                           নাচয়ে সঘনে,
বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বোলে,            ধর ধর কর কোলে,
গোরা মোর পরাণের পরাণি॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও
অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শিশু গৌরাঙ্গ

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি                সভে দেই করতালি
হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥
গলায় সোণার কাঁঠি                সুরঙ্গ চতুনা আঁটি
ঝোঁটা বাঁধা সুচাঁচর কেশ।
কত সাধ করি শচী                পরায়েছে ধড়া গাছি
ভুবন মোহন নব বেশ॥
রজত কাঞ্চনে গড়া                নানা আভরণে জড়া
সুবলিত তনুখানি সাজে।
রাতা উতপল জিনি                   চরণ যুগল জানি
চলিতে নূপুর ঘন বাজে॥
শচীর অঙ্গন তলে                আনন্দে নাচিয়া খেলে
মুখে বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বলে                ধর ধর কর কোলে
গোরা মোর পরাণের পরাণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
॥ তথারাগ॥

গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি             সভে দেই করতালি
হরি বোল হরি বোল বলিয়া॥
গলায় সোনার কাঁঠি                সুরঙ্গ চতুনা আঁটি
ঝোঁটা বাঁধা সুচাঁচর কেশ।
কত সাধ করি শচী                পরায়েছে ধড়াগাছি
ভুবনমোহন নব বেশ॥
রজত কাঞ্চনে গড়া                নানা আভরণে জড়া
সুবলিত তনুখানি সাজে।
রাতা উতপল জিনি                   চরণ যুগল জানি
চলিতে নূপুর ঘন বাজে॥
শচীর অঙ্গন তলে                আনন্দে নাচিয়া খেলে
মুখে বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বলে                ধর ধর কর কোলে
গোরা মোর পরাণের পরাণি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নাচে গোরা শচির দোলালিয়া।
চৌদিকে বালক মেলি           দেই তারা করতালি
হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥
সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোনার কাঁঠি।
সাধ করিয়া মায় পরায়েছে মায় ধড়া গাছি আঁটি॥
সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু।
ভুবন মোহন বেশ ভুরু কামধনু॥
রজত কাঞ্চন                          নানা অভরণ
অঙ্গে মনোহর সাজে।
রাতা উতপল                             চরণযুগল
তুলিতে নূপুর বাজে॥
শচীর অঙ্গনে                          নাচয়ে সঘনে
বোলে আধ আধ বাণী।
বাসুদেব ঘোষ বলে            ধর ধর কর কোলে
গোরা যেন পরাণের পরাণি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বরণ কাঞ্চন দশবান
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৬শ
পল্লব, দুজ্জয় মান, পদসংখ্যা ৪৭৬।

অথ মানপ্রকরণম্।
তত্র সহেতুমানঃ।
নায়কাঙ্গে ভোগচিহ্নে দৃষ্টে সতি দুর্জ্জয়-মানঃ।
তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ সুহই॥

বরণ কাঞ্চন দশবান।
অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে।
অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
খেনে শিরে করতল রাখি।
খেনে ক্ষিতিতলে নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরা রায়।
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষে গুণ গায়।
নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৭০০ সংখ্যক পদ। পদকল্পতরুতে এই পদে
পাঠান্তরে সতীশতচন্দ্র রায় লিখেছেন যে এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৭০০
সংখ্যক পদ এবং ‘অবনত মাথে গোরা রহে’ ইত্যাদি অবশিষ্ট চারটি কলির পরিবর্ত্তে প-র-
সা পুথির পাঠ যথা,---

বরণ কাঞ্চন দশবান।
অরুণ বসন পরিধান॥
নয়ন কমল সমতুল।
ধারা বহে তাহার দো কুল॥
সোই জেন মুকুতার ঝুরি।
খসি পড়ে উপরি উপরি॥
ধরণি লোটায় কলেবর।
হেমগিরি ধুলায় ধূসর॥
বাসুদেব ঘোষ তহি ভাণ।
গোরা বিনু না রহে পরাণ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ দুর্জয় মান॥ তদুচিত মহাপ্রভু॥
॥ বড়ারি রাগ॥

বরণ কাঞ্চন দশবাণ। অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে। অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
ক্ষেনে শিরে করতল রাখি। ক্ষেনে খেতিতলে নখে লেখে॥
কান্দিএ আকুল গোরারায়। সোনার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষ গুণ গাএ। দিবানিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৯৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

বরণ কাঞ্চন দশবাণ। অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে। অরুণ-নয়ানে ধারা বহে॥
ক্ষণে শির করতলে রাখি। ক্ষণে ক্ষিতিতল নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরা রায়। সোনার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষে গুণ গায়। নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুর্জ্জয় মান।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ধানশী॥

বরণ কাঞ্চন দশবান। অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে। অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
ক্ষণে শির করতলে রাখি। ক্ষণে ক্ষিতিতল নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরারায়। সোনার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষ গুণ গায়। নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ২৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানখণ্ড (গ) - দুর্জ্জয় মান
॥ সুহই - সমতাল বা দশকুশী॥

বরণ কাঞ্চন দশবান।
অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে।
অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
খেনে শিরে করতল রাখি।
খেনে ক্ষিতিতলে নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরা রায়।
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষে গুণ গায়।
নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ পঠমঞ্জরী॥

বরণ কাঞ্চন দশবাণ।
অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে।
অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
ক্ষণে শির করতলে রাখি।
ক্ষণে ক্ষিতিতল নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরা রায়।
সোনার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষে গুণ গায়।
নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান প্রকরণ।
দুর্জ্জয় মান - তদুচিত শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুই - সমতাল বা দশকুশী॥

বরণ কাঞ্চন দশ বাণ।
অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে।
অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
ক্ষণে শিরে করতল রাখি।
ক্ষণে করতল নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরারায়।
সোণার অঙ্গ ধূলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষে গুণ গায়।
নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বরণ কাঞ্চন দশবান।
অরুণ বসন পরিধান॥
অবনত মাথে গোরা রহে।
অরুণ নয়ানে ধারা বহে॥
খেনে শিরে করতল রাখি।
খেনে ক্ষিতিতলে নখে লিখি॥
কান্দিয়া আকুল গোরা রায়।
সোনার অঙ্গ ধুলায় লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষে গুণ গায়।
নিশি দিশি আন নাহি ভায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ,
মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬০১-পৃষ্ঠায় অন্য
রূপে দেওয়া রয়েছে, সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৮৩৩ থেকে।

বরণ কাঞ্চন দশবান।
অরুণ বসন পরিধান॥
নয়ন কমল সমতুল এ।
বারি ঝরে তাহার দুকুলে॥
আধ আধ বাণী নাহি ফুরে।
কাঁদে দুটি হাত দিয়ে শিরে॥
হেমগিরি ধুলায় ধুসর।
ধরণি লুটায় কলেবর॥
বাসুদেব ঘোষের পরাণ।
গোরা বিনে নাহি জানে আন॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘনে ঘনে
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘন ঘন
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘন ঘন
কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোরা কান্দে ঘনে ঘনে
ভণিতা বাসু ঘোষ / বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৮শ
পল্লব, মান-প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ৫২৫।

অথ মানঃ প্রকরান্তরম্।
তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ সুহই॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধুলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষেণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।
মান-ভাব গোরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরচন্দ্র॥ সুহই॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘনে ঘনে। কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়। ধুলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি জায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়। রজনী দিবস গোরা জাগিএ গোঙায়॥
ক্ষেণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না জায়। মান ভাবাবেশ গোরা বাসুঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৯৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ-নয়নে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষণে চমকিত অঙ্গ ধরণ না যায়।
মানভাব গোরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
      
॥ সুহই॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধুলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষণে চমকিত অঙ্গ ধরণ না যায়।
মান-ভাব গোরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘন ঘন।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ন॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া পোহায়॥
ক্ষণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।
মান রস গোরাচান্দের বাসুঘোষ গায়॥

ই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩৩৩ (১৯২৬) বঙ্গাব্দের অতিরিক্ত সংখ্যায়
প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”,
৩য় খণ্ড, ২য় সংখ্যা, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিষেক---

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘনে ঘনে।
কত সুরধনি বহে য়রুণ নয়ন॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূশর তনু ভুমে গড়ি জায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই [না] খায়।
রজনি দিবস গোরা যাগিয়া পোহায়॥
খেনে চমকিত য়ঙ্গ ধরণে না যায়।
মানরস গোরাচান্দের বাসুদেব গায়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ খণ্ডিতা
গৌরচন্দ্র
॥ রাগিণী সুহই - তাল সমতাল॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কান্দে ঘন ঘনে। কত সুরধুনী বহে
অরুণ নয়নে॥ সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়। ধূলায়
ধূসর অঙ্গ ভূমে গড়ি যায়॥ মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া পোহায়॥ ক্ষণে চঙকিত অঙ্গ ধরণে
না যায়। মন রস গোরা চাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ সুহই॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়নে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষণে চমকিত অঙ্গ ধরণ না যায়।
মনোভাব গোঁরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোরা কান্দে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছু নাহি খায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া পোহায়॥
ক্ষেণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।
নানা রস গোরা চাঁদের বাসুদেব গায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী ১৪১০-১৯১০”, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষেণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।
মানভাব গোরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে ঘনে ঘনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষেণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।
মানভাব গোরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি গোরা কাঁদে খনে খনে।
কত সুরধুনী বহে অরুণ নয়ানে॥
সুগন্ধি চন্দন গোরা নাহি মাখে গায়।
ধূলায় ধূসর তনু ভূমে গড়ি যায়॥
মানে মলিন মুখ কিছুই না ভায়।
রজনী দিবস গোরা জাগিয়া গোঙায়॥
ক্ষেণে চমকিত অঙ্গ ধরণে না যায়।
মানভাব গোরাচাঁদের বাসু ঘোষ গায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হোর দেখ অপরুব শয়ন মন্দিরে
শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন-মন্দিরে
শুতিয়াছে গোরাচান্দ শয়ন মন্দিরে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ সালে, রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৩৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশীরাগ চঞ্চুপুটতালৌ॥

হোর দেখ অপরুব শয়ন মন্দিরে। বিচিত্র পালঙ্ক শেয
অতি মনোহরে॥ তাহার উপরে সুতি আছে গোরা রায়।
কি কহব অঙ্গের শোভা কহনে না যায়॥ মেঘের বিজুরি
কিবা ছাঁকিয়া যতনে। কত রস দিয়া বিধি করিল নির্ম্মাণে॥
বাসুদেব ঘোষ গায় মনের হরিষে। অতি মনোহর শেয
বিচিত্র বিলাসে।

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ৫ম পল্লব, রসালস, পদসংখ্যা ৬৫৬। এই পদটি এই গ্রন্থে ২য় বার সন্নিবেশ করা
হয়েছে ২৪৭৪-পদসংখ্যায়।  এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ১১৩১ সংখ্যক পদ।

অথ রসালস।
তদুচিত-শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাষ॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন-মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্ক শেজ অতি মনোহরে॥
আলসে অবশ-তনু গোরা নটরায়।
কি কহব অঙ্গ-শোভা কহনে না যায়॥
মেঘের বিজুরী কিবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়া বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিশে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৩৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্ক শেজ অতি মনোহরে॥
আবেশে অবশ তনু গোরানটরায়।
কি কহব অঙ্গশোভা কহন না যায়॥
মেঘের-বিজুরী কেবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়া বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিসে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
      
॥ বিভাষ॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়নমন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্কে শেজ অতি মনোহরে॥
আবেশে অবশ তনু গোরা নটরায়।
কি কহব অঙ্গ-শোভা কহনে না যায়॥
মেঘের বিজরী কিবা আনিয়া যতনে।
কত রস দিয়া বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিশে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্কের শেজ অতি মনোহরে॥
অলসে অবশ তনু গোরা নটরায়।
কি কহব অঙ্গ শোভা কহনে না যায়॥
মেঘের বিজুরী কিবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়া বিধি কৈলা নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বিলাসে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্ক শেজ তাহার উপরে॥
আলসে অবশ অঙ্গ গোরা নটরায়।
কি কহব অঙ্গ শোভা কহনে না যায়॥
মেঘের বিজুরী কিবা ছানিয়া যতনে।
কত সুধা দিয়া বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিসে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ অলস।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ কৌবিভাস - একতালা॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্কের শোভা অতি মনোহরে॥
অলসে অবশ অঙ্গ গোরা নট রায়।
কি কহব অঙ্গশোভা কহনে না যায়॥
মেঘের বিজুরী কিবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়ে বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজে বিচিত্র বালিসে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসালস
॥ বিভাস॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্ক শেজ অতি মনোহরে॥
আবেশে অবশ তনু গোরা নটরায়।
কি কহব অঙ্গশোভা কহন না যায়॥
মেঘের বিজুরী কিবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়া বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিসে।
বাসুদেব ঘোষ দেখে মনের হরিষে॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুতিয়াছে গোরাচান্দ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্ক শেজ অতি মনোহরে॥
তারপর শুতিয়াছে গোরা নটরায়।
কি কহিব অঙ্গ শোভা কহনে না জায়॥
মেঘের বিজুরী কিবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়ে বিধি কৈল নিরমানে॥
বাসুদেব ঘোষে কয় মনের হরিষে।
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিশে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

শুতিয়াছে গোরাচাঁদ শয়ন মন্দিরে।
বিচিত্র পালঙ্ক শেজ অতি মনোহরে॥
আবেশে অবশ তনু গোরা নটরায়।
কি কহব অঙ্গশোভা কহনে না যায়॥
মেঘের বিজুরি কিবা ছানিয়া যতনে।
কত রস দিয়া বিধি কৈল নিরমাণে॥
অতি মনোহর শেজ বিচিত্র বালিশে।
বাসুদেব ঘোষে দেখে মনের হরিষে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অবতার ভাল গৌরাঙ্গ অবতার কৈলা ভাল
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ
পল্লব, রসোদ্গার, পদসংখ্যা ৬৬৫। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ১১৪০ সংখ্যক
পদ।

॥ তথা রাগ॥

অবতার ভাল গৌরাঙ্গ অবতার কৈলা ভাল।
জগাই মাধাই নাচে বড় ঠাকুরাল॥
চাঁদ নাচে সুরুজ নাচে আর নাচে তারা।
পাতালে বাসুকি নাচে বলে গোরা গোরা॥
নাচয়ে ভকতগণ হইয়া বিভোরা।
নাচে অকিঞ্চন যত প্রেমে মাতোয়ারা॥
জড় অন্ধ আতুর উদ্ধারে পতিত।
বাসু ঘোষ কহে মুঞি হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৫৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

অবতার ভাল গৌরাঙ্গ অবতার কৈলা ভাল।
জগাই মাধাই নাচে বড় ঠাকুরাল॥
চাঁদ নাচে সুরজ নাচে আর নাচে তারা।
পাতালের বাসুকি নাচে বলি গোরা গোরা॥
নাচয়ে ভকতগণ হইয়া বিভোরা।
নাচে অকিঞ্চন যত প্রেমে মাতোয়ারা॥
জড় অন্ধ আতুর উদ্ধারে পতিত।
বাসু ঘোষ কহে মুঞি হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

অবতার ভাল গৌরাঙ্গ অবতার কৈলা ভাল।
জগাই মাধাই নাচে বড় ঠাকুরাল॥
চাঁদ নাচে সূরয আর নাচে তারা।
পাতালে বাসুকি নাচে বলি গোরা গোরা॥
নাচয়ে ভকতগণ হইয়া বিভোরা।
নাচে অকিঞ্চন যত প্রেমে মাতোয়ারা॥
জড় অন্ধ আতুর উদ্ধারে পতিত।
বাসু ঘোষে কহে মুঞি হইনু বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”,
৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

অবতার ভাল গৌরাঙ্গ অবতার কৈলা ভাল।
জগাই মাধাই নাচে বড় ঠাকুরাল॥
চাঁদ নাচে সুরুজ নাচে আর নাচে তারা।
পাতালে বাসুকি নাচে বলে গোরা গোরা॥
নাচয়ে ভকতগণ হইয়া বিভোরা।
নাচে অকিঞ্চন যত প্রেমে মাতোয়ারা॥
জড় অন্ধ আতুর উদ্ধারে পতিত।
বাসু ঘোষে কহে মুঞি হইলুঁ বঞ্চিত॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজুক প্রেমক নাহিক ওর
আজুক প্রেমক নাহি ওর
আজুক প্রেম নাহিক ওর
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৬ষ্ঠ
পল্লব, রসোদ্গার, পদসংখ্যা ৭২৩। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ১১৯৭ সংখ্যক
পদ।

অথ রসোদ্গারঃ প্রকারান্তরং যথা।
শ্রীমহাপ্রভুঃ।
॥ বিভাষ॥

আজুক প্রেমক নাহিক ওর।
স্বপনহি শূতলুঁ গৌরক কোর॥
পহু-মুখ হেরইতে পড়লহি ভোর।
ঢরকি ঢকরি বহে লোচনে লোর॥
উচ-কুচ কাজরে হার উজোর।
ভীগল তিলক বসন রুচি মোর॥
মীটল অঙ্গ-বেশ রহু থোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম আগোর॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৪৫০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিভাষ॥

আজুক প্রেমক নাহিক ওর।
স্বপনহি শুতল গৌরক কোর॥
পহু-মুখ হেরইতে পড়লহি ভোর।
ঢরকি ঢকরি বহে লোচনে লোর॥
উচ-কুচ কাজরে হার উজোর।
ভীগল তিলক বসন রুচি মোর॥
মীটল অঙ্গ-বেশ বহু ঘোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেমে আগোর॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জথ মানার্থে সংকীর্ণরসোদ্গার তত্র শ্রীমহাপ্রভু॥

আজুক প্রেমক নাহিক ওর। সপনহি সুতল গৌরক কোর॥
পহুমুখ হেরইতে পড়লহি ভোর। ঢরকি ঢকরি বহে লোচনেলোর॥
উচ কুচ কাজরে হার উজোর। ভিগল তিলক বসনরুচি মোর॥
মিটল অঙ্গ বেশ রহু থোর। বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম আগোর॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৯০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

আজু প্রেমক নাহি ওর।
স্বপনহি শুতলুঁ গৌরকি কোর॥
মুখ হেরইতে পড়লহি ভোর।
ঢরকি ঢকরি বহে লোচনে লোর॥
উচ কুচ কাজরে হার উজোর।
ভীগল তিলক বসনরুচি মোর॥
মিটল অঙ্গ বেশ বহু খোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম আগোর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

আজুক প্রেমক নাহিক ওর।
স্বপনহি শুতল গৌরক কোর॥
পহুঁ মুখ হেরইতে পড়লহি ভোর।
ঢরকি ঢকরি বহে লোচনে লোর॥
উচ-কুচ কাজরে হারে উজোর।
ভীগল তিলক বসন রুচি মোর॥
মিটল অঙ্গ-বেশ রহু থোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম আগোর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ বিভাস॥

আজুক প্রেমক নাহিক ওর।
স্বপনহি শুতল গৌরকি কোর॥
মুখ হেরইতে পড়লহি ভোর।
ঢরকি ঢকরি বহে লোচনে লোর॥
কাজরে উচ কুচ হার উজোর।
ভীগেল তিলক বসনরুচি মোর॥
মিটল অঙ্গ বেশ রহু থোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম আগোর॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজুক প্রেম নাহিক ওর।
স্বপনহি শুতনু গৌরক কোর॥
পহু মুখ হেরইতে পহু ভেল ভোর।
ঢরকী ঢকরী বহে লোচন লোর॥
কাজরে ভাসল উচ কুচ জোর।
ভিগল তিলক বসন রুচি মোর॥
ভাসল অঙ্গ বেশ বহু থোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম আকর॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

আজুক প্রেমক নাহিক ওর।
স্বপনহি শুতলুঁ গৌরক কোর॥
পহু-মুখ হেরইতে পড়লহি ভোর।
ঢরকি ঢকরি বহে লোচনে লোর॥
উচ কুচ কাজরে হার উজোর।
ভীগল তিলক বসন রুচি মোর॥
মিটল অঙ্গ-বেশ রহু থোর।
বাসুদেব ঘোষ কহে প্রেম অগোর॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর