| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে আজুক রজনি হাম কৈছে বঞ্চব রে আজু রজনী কৈছে হাম বঞ্চব ভণিতা বাসুঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম পল্লব, সর্ব্বকালোচিত বিপ্রলব্ধা, পদসংখ্যা ৩৬৫। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৩৬৫ সংখ্যক পদ। অথ বিপ্রলব্ধা। তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রঃ। ॥ কেদার॥ আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে মোহে বিমুখ নট-রাজ। নব অনুরাগে আশ নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যাওত ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥ গুরুজন-গৌরব দূরহিঁ ডারলুঁ গৌর-প্রেমরস লাগি। দুল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল মঝু ভালে দেওল আগি॥ প্রেম-রতন-ফল জগ ভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাশ। নব অনুরাগ- ভরমে হাম ভূলল বাসুঘোষ না পূরল আশ॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৯৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ কেদার॥ আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে মোহে বিমুখ নট-রাজ। নব অনুরাগে আশ নাহি পূরল বিকল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যাওত ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥ গুরুজন-গৌরব দূরহিঁ ডারলুঁ গৌর-প্রেমরস লাগি। দুর্ল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল মঝু ভালে দেওল আগি॥ প্রেম-রতন-ফল জগ ভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাশ। নব অনুরাগে- ভরমে হাম ভূলল বাসুঘোষ না পূরল আশ॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৮|১-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ কেদার॥ আজুক রজনি কৈছে হাম বঞ্চব মোহে বিমুখ নট-রাজ। নব অনুরাগ অধিক নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যাওত পথ হেরি পাঁজর শেষ॥ ধ্রু॥ গুরুজন-গৌরব দূরহিঁ ডারলুঁ গৌর-প্রেমরস লাগি। দুলহ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল দেওল মঝু মুখে আগি॥ প্রেম-রতন-ফল জগতে বিথারল হাম তাহে পড়ল নৈরাশ। নব অনুরাগ- ভরমে হাম ভুললুঁ বাসুঘোষ না পূরল আশ॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ অথ বিপ্রলম্ভ॥ তত্র শ্রীমহাপ্রভু॥ কেদার॥ আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চিব গো মোহে বিমুখ নটরাজ। নব অনুরাগে আশ না পূরল কেবল ভেল অকাজ॥ সখী কাহে বনাইলু বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি জাওত ভাবিতে পাজর ভেল শেষ॥ গুরুজন গৌরব দূরহি ডারলু গৌরপ্রেমরস লাগি। দুল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চিল মজু ভালে দেই আগি॥ প্রেম রতন ফল জগভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাসে। নব অনুরাগে ভরম হাম ভুলল বাসু ঘোষ না পূরল আশে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে মোহে বিমুখ নটরাজ। নব অনুরাগে আশ নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যায়ত ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥ গুরুজন গৌরব দূরে হি ডারলুঁ গৌর-প্রেমরস লাগি। দুর্ল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল মঝু ভাগে দেওল আগি॥ প্রেমরতন ফল জগ ভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাশ। নব অনুরাগে ভরমে হাম ভূলল বাসু ঘোষের না পূরল আশ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বিপ্রলব্ধা ॥ কেদার॥ আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে মোহে বিমুখ নটরাজ। নব অনুরাগে আশ নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যায়ত ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥ গুরুজন গৌরব দূর হি ডারলুঁ গৌর প্রেমরস লাগি। দুর্ল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল মঝু ভালে দেয়ল আগি॥ প্রেমরতন ফল জগ ভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাশ। নব অনুরাগে ভরমে হাম ভুলল বাসু ঘোষের না পূরল আশ॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ বিপ্রলব্ধা শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ কেদার - দশকুশী॥ আজু রজনী হাম কৈছে বঞ্চব রে মোহে বিমুখ নটরাজ। নব অনুরাগে আশ নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লুঁ বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যায়ত ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ ধ্রু॥ গুরুজন গৌরব দূরহি ডারলুঁ গৌর প্রেম রস লাগি। দুর্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল মঝু ভালে দেওল আগি॥ প্রেম রতন ফল জগভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাশ। নব অনুরাগ ভরমে হাম ভূললু বাসু ঘোষ না পূরল আশ॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আজুক রজনী কৈছে হাম বঞ্চব মোহে বিমুখ নটরাজ। অনুরাগ আশ নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনাওল বেশ। আধ পল কত যুগ হেন মানিয়ে ভাবিতে পাঁজর শেষ॥ গুরু জন গৌরব দ্বার ভাঙ্গনু গৌর প্রেমরস লাগি। দুর্ল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল দেওল মঝুমুখে আগী॥ প্রেম রতনফল জগভরি বিথারল হাম তাহে ভৈল নৈরাশ। নব অনুরাগে ভরমে হাম ভুলল বাসু ঘোষের পূরল আশ॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার রাগ॥ আজুক রজনি হাম কৈছে বঞ্চব রে মোহে বিমুখ নটরাজ। নব-অনুরাগে আশ নাহি পূরল বিফল ভেল সব কাজ॥ সজনি কাহে বনায়লু বেশ। আধ পলকে কত যুগ বহি যাওত ভাবিতে পাঁজর ভেল শেষ॥ গুরুজন গৌরব দূরহিঁ ডারলুঁ গৌর প্রেমরস লাগি। দুর্ল্লভ প্রেম মোহে বিহি বঞ্চল মঝু ভালে দেওল আগি॥ প্রেম রতন ফল জগভরি বিথারল হাম তাহে ভেল নৈরাশ। নব অনুরাগ ভরমে হাম ভুলল বাসু ঘোষ না পূরল আশ॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া নাচে গোরা শচির দোলালিয়া ভণিতা বাসুদেব ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৭৭৪-পৃষ্ঠা। ॥ পুনঃ রাগ ভাট্যালি॥ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি, দেই তারা করতালি, হরি বোল হরি বোল বলিয়া॥ ধ্রু॥ সুরঙ্গ চতুনা মাথে, গলায় সোনার কাঁটি। সাধ করে পরা’য়াছে মায় ধড়া গাছি আঁটি॥ সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু। ভুবনমোহন বেশ ভুরু কামধনু॥ রজত কাঞ্চন নানা আভরণ, অঙ্গে মনোহর সাজে। রাতা-উতপল১ চরণযুগল তুলিতে নূপুর বাজে॥ শচীর অঙ্গণে নাচয়ে সঘনে বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেবঘোষে বোলে, ধর ধর কর কোলে, গোরা যেন পরাণের পরাণি॥ ১ - রাতা উতপল = রক্তপদ্ম। এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২০শ পল্লব, প্রকারান্তর বাত্সল্য-রস, ১১৬১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ৬৪০ সংখ্যক পদ। অথ বাত্সল্যরসঃ প্রকারান্তরং যথা। শ্রীগৌরচন্দ্রঃ। ॥ ভাটিয়ারী॥ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি সভে দেই করতালি হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥ সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোণার কাঁঠি। সাধ করিয়া মায় পরাইছে ধড়া গাছি আঁটি॥ সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু। ভুবন-মোহন বেশ ভুরু কাম-ধনু॥ রজত কাঞ্চন নানা অভরণ অঙ্গে মনোহর সাজে। রাতা উতপল চরণ-যুগল তুলিতে নূপুর বাজে॥ শচীর অঙ্গনে নাচয়ে সঘনে বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বোলে ধর ধর কর কোলে গোরা মোর পরাণের পরাণি॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি দেয় ঘন করতালি হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥ সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোনার কাঠি। সাধ করিয়া মায় পরাঞাছে ধড়াগাছটি আটি॥ সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু। ভুবনমোহন বেশ ভুরু কামধনু॥ রতন কাঞ্চন, নানা অভরণ, অঙ্গে মনোহর সাজে। রাতা উত্পল, চরণ যুগল, তুলিতে নূপুর বাজে॥ শচীর অঙ্গনে, নাচয়ে সঘনে, বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বলে, ধর ধর কর কোলে, গোরা মোর পরাণের পরাণি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক, মেলি দেই করতালি হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোণার কাঁঠি। সাধ করিয়া মায় পরাঞাছে ধড়া গাছি আঁটি॥ সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু। ভুবন-মোহন বেশ ভুরু কাম-ধনু॥ রজত কাঞ্চন, নানা আভরণ, অঙ্গে মনোহর সাজে। রাতা উত্পল, চরণ যুগল, তুলিতে নূপুর বাজে॥ শচীর অঙ্গনে, নাচয়ে সঘনে, বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বলে, ধর ধর কর কোলে, গোরা গোরা পরাণের পরাণি॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কৌমারলীলা। শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ ভাটিয়ারী মিশ্র বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি, সভে দেই করতালি হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ ধ্রু॥ সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোণার কাঠি। সাধ করিয়া মায় পরাইছে ধড়াগাছি আঁটি॥ সুন্দর চাচর কেশ সুবলিত তনু। ভুবনমোহন বেশ ভুরু কাম ধনু॥ রজত কাঞ্চন, নানা আভরণ, অঙ্গে মনোহর সাজে। রাতা উত্পল, চরণ যুগল, তুলিতে নূপুর বাজে॥ শচীর অঙ্গনে, নাচয়ে সঘনে, বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বোলে, ধর ধর কর কোলে, গোরা মোর পরাণের পরাণি॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শিশু গৌরাঙ্গ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি সভে দেই করতালি হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ গলায় সোণার কাঁঠি সুরঙ্গ চতুনা আঁটি ঝোঁটা বাঁধা সুচাঁচর কেশ। কত সাধ করি শচী পরায়েছে ধড়া গাছি ভুবন মোহন নব বেশ॥ রজত কাঞ্চনে গড়া নানা আভরণে জড়া সুবলিত তনুখানি সাজে। রাতা উতপল জিনি চরণ যুগল জানি চলিতে নূপুর ঘন বাজে॥ শচীর অঙ্গন তলে আনন্দে নাচিয়া খেলে মুখে বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বলে ধর ধর কর কোলে গোরা মোর পরাণের পরাণি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা ॥ তথারাগ॥ গোরা নাচে শচীর দুলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি সভে দেই করতালি হরি বোল হরি বোল বলিয়া॥ গলায় সোনার কাঁঠি সুরঙ্গ চতুনা আঁটি ঝোঁটা বাঁধা সুচাঁচর কেশ। কত সাধ করি শচী পরায়েছে ধড়াগাছি ভুবনমোহন নব বেশ॥ রজত কাঞ্চনে গড়া নানা আভরণে জড়া সুবলিত তনুখানি সাজে। রাতা উতপল জিনি চরণ যুগল জানি চলিতে নূপুর ঘন বাজে॥ শচীর অঙ্গন তলে আনন্দে নাচিয়া খেলে মুখে বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বলে ধর ধর কর কোলে গোরা মোর পরাণের পরাণি॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ নাচে গোরা শচির দোলালিয়া। চৌদিকে বালক মেলি দেই তারা করতালি হরিবোল হরিবোল বলিয়া॥ সুরঙ্গ চতুনা মাথে গলায় সোনার কাঁঠি। সাধ করিয়া মায় পরায়েছে মায় ধড়া গাছি আঁটি॥ সুন্দর চাঁচর কেশ সুবলিত তনু। ভুবন মোহন বেশ ভুরু কামধনু॥ রজত কাঞ্চন নানা অভরণ অঙ্গে মনোহর সাজে। রাতা উতপল চরণযুগল তুলিতে নূপুর বাজে॥ শচীর অঙ্গনে নাচয়ে সঘনে বোলে আধ আধ বাণী। বাসুদেব ঘোষ বলে ধর ধর কর কোলে গোরা যেন পরাণের পরাণি॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |