কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
নিরজনে বসি ভাবে পূরব বিচ্ছেদে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

নিরজনে বসি ভাবে পূরব বিচ্ছেদে।
কোথা কৃষ্ণ বলি গোরা আঁখি মুদি কান্দে॥
ঝঙ্কার করয়ে অলি চরণ নিয়ড়ে ।
চমকি চাহিয়ে কহে সুমধুর স্বরে॥
হেদেরে নিলাজ অলি না পরশ মোরে।
কৃষ্ণ প্রাণনাথ মোর মথুরা নগরে॥
মথুরা-নাগরি-কুচ-কুম্কুমে রঞ্জিত।
কৃষ্ণ অঙ্গে বনমালা অতি সুবাসিত॥
সো রস লাগল তোহারি বদনে।
মধুপুর জাহ অলি ছোড়ি মধু সদনে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে কান্দিয়ে কান্দিয়ে।
মুঞি পাপী সরি গোরার বালাই লইয়ে॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ - ২৩৯৬।
খ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ৫১।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
এমন কেনে হলে গোরা তুমি এমন কেনে হ’লে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এমন কেনে হলে গোরা তুমি এমন কেনে হ’লে।
বিনোদ নাগারি বেশ কি লাগি ছাড়িলে॥
অবিরত বৃন্দাবন মনে কেন কান্দ।
সোঙরি রাধার গুণ সদাই কেন ও কান্দ॥
মুখানি পুর্ণিমা সসি কিবা মন্ত্র জপি।
বিম্বজিনি অধরখানি সদাই কেন কাঁপি॥
অনুক্ষণ ডাক তুমি সুবল বলিয়া।
বাসুদেব ঘোষের প্রাণ জাইছে ফাটিয়া॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি, ৬৬৫৪।
খ। শ্রী সজনী দাসের পুথি পদসংখ্যা - ৬, পৃ - ৮১। (মালবিকা চাকী কর্ত্তৃক উদ্ধৃত)
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আপনার তনুখানি আপনে পাসরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বলরাম দাস
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটি বলরাম দাসের ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার তনুখানি আপনে পাসরে।
অরুণ বসনখানি তাহা না সম্বরে॥
দিগ বিদিগ নাহি গোরার না চিনে নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে পতিত পামর॥
হেন অবতার ভাই কোথা নাহি দেখি।
জগত মগন সুখে কাঁদে পশু-পাখি॥
শ্রীপাদ বলিয়া কাঁদে উচ্চৈঃস্বরে।
কত সুরধুনী বহে নয়ানের নীরে॥
কাঁদিয়া কাঁদিয়া প্রভু মাগে পদধুলি।
ভূমে পড়ি কাঁন্দে নিমাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় বাসু ঘোষ কাঁদে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ মুখ স্থির নাহি বাঁধে॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি, ৯৭২ (বাসুঘোষ ভণিতা)
থ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি, ৬২০৪, পদ-২৩৪৮ (ভণিতাহীন)
গ। বৈষ্ণব পদাবলী, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পৃ-৭৩৭ (বলরামদাস ভণিতা)
ঘ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ-৩৭।

মন্তব্য-
৯৭২ পুথি অত্যন্ত প্রাচীন। কিন্তু কবি বাসু ঘোষ কখনই নিজেকে ‘প্রিয় বাসু ঘোষ’ উল্লেখ
করবেন না। ৬২০৪ পুথি এবং বৈষ্ণব পদাবলীতে পরে বাসু নামের উল্লেখ থাকায় পদটি
বাসু ঘোষের অকৃত্রিম বলে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।
---চিত্রা রায়॥

এই পদে বলরাম দাসের ভণিতাযুক্ত রূপ . . .

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৪৫-পদসংখ্যা। এই পদটি
নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৫০ সংখ্যক পদ।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদ-ধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ-মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সভে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগবিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহুঁ কান্দে উচ্চস্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ান কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহুঁ মাগে পদধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভায়্যা ভায়্যা বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরামদাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীদাম বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদ-ধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভায়া ভায়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল-বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরামদাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ৩২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থে ২ বার দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহুঁ ডাকে উচ্চস্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ান কমলে॥
কাঁদিয়া কাঁদিয়া পহুঁ মাগে পদধূলি।
ভূমে গড়ি কাঁদে নিতাই ভায়্যা ভায়্যা বলি॥
প্রিয় গদাধর কাঁদে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গমুখ থির নাহি বাঁধে॥
কাঁদে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বালবৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কাঁদে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ১৮৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থে ২ বার দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিক্ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে পতিত পামর॥
শ্রীদাম বলিয়া পহুঁ মাগে পদধূলি।
ভূমে পড়িয়া কাঁদে নিতাই ভাই বলি॥
প্রিয় গদাধর কাঁদে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গমুখ থির নাহি বাঁধে॥
কাঁদে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কাঁদে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরাম দাস মাত্র এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস।
॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁন্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ-মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কাঁদে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদ-ধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ-মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সভে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কমলাকান্ত দাসের “পদরত্নাকর” গ্রন্থের ১৩৮-পৃষ্ঠার
পদ।

॥ বিভাস॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত                    ভাব শত শত
সোনার বরণ গোরা গায়॥
প্রেমে ঢর ঢর                            অঙ্গ নিরমল
পুলক অঙ্গের শোভা।
আর কি কহব                        বিশেষ অনুভব
হেরইতে কাহে না হিয়া লোভা॥
শুনিয়া নিজ গুণ                        নাম সংকীর্ত্তন
লুটত বিভোর অঙ্গে।
নদীয়ার সব লোক               পাশরিল দুঃখ শোক
ভাসল প্রেম তরঙ্গে॥
করুণা নিরখনে                      আমিয়া বরিখনে
অখিল ভুবন সিঞ্চিত॥
বাসুদেব ঘোষ গানে              তুলনা নাহিক আনে
মুক্ষি মাত্র হইলুঁ বঞ্চিত॥

সূত্র -
পদরত্নাকর। পৃ ৯৩৮।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সংকীর্ত্তনে গৌর ধায় দ্বারে গড়াগড়ি যায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সংকীর্ত্তনে গৌর ধায়                দ্বারে গড়াগড়ি যায়
পূরব স্মরিয়া গোরা কান্দে।
বৃন্দাবন পড়্যাছে মনে                তেই খারা দুনয়নে
পশু পাখী স্থির নাহি বান্ধে॥
কাঁহা গিরি গোবর্দ্ধন                কাঁহা মোর বৃন্দাবন
আর না বসিব মায়ের কোলে।
আর না গোকুলে যাব              সর চাই নবনী খাব
কে আর বাঁধিবে উদূখলে॥
ধবলী শাঙলী গাই                কোথা বিনোদিনী রাই
চন্দ্রাবলী ললিতা বিশাখা।
শ্রীদাম সুদাম দাম                 কোথা দাদা বলরাম
কারো সঙ্গে না হইল দেখা॥
ভাণ্ডীর বহুলা বনে                 গোপের বালক সনে
একত্রে করিতাম ভোজন।
রাসলীলা না করিব                 বংশীবটে না বসিব
কোথা রইল প্রিয় গোপীগণ॥
গদাধর মুখ হেরি                নাচে গোরা ফিরি ফিরি
বুক বায়্যা পড়ে প্রেমধারা।
বাসুদেব ঘোষ কয়                        সম্বরণ না হয়
পূর্ব্ব সোঙরিয়া কাঁদে গোরা॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২০৫১।
খ.। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ৩৮।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নাচেরে গৌরাঙ্গবর নিত্যানন্দ সোদর
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল গুর্জ্জরীরাগ॥

নাচেরে গৌরাঙ্গবর                নিত্যানন্দ সোদর
আর নাচে ঠাকুর উদিত।
ভকত ভ্রমরগণ                    গুণ গায় অনুক্ষণ
দেখি গোরাচাঁদেরে উদিত॥
সঙ্গে প্রিয় গদাধর                    মাধব নন্দনবর
বিলসই গৌরাঙ্গ সহিত।
হেরি নরহরি দাস                  ঈষৎ মধুর হাস
কে বুঝিবে পণ্ডিতের রীত॥
তার গুণ সোঙরিতে           পরম্বানন্দ হয় চিতে
হেরইতে পহুমুখচান্দে।
স্বরূপ রামানন্দ                   হেরি পহু মুখচন্দ
পূর্ব্ব সোঙরিয়া পহু কান্দে॥
যতেক ভকতগণ                   আনন্দে বিমোন
আনন্দ সায়রে পড়ি ভাসে।
বাসুদেব ঘোষ সনে            সেই রাধা কানু সনে
দেখি গোরা গদাধর পাশে ॥

সূত্র -
ক। পাঠবাড়ী পুথি ২১ক।
খ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ৬৪।

মন্তব্য -
কীর্ত্তন ও নৃত্যরত সপারিষদ গৌরাঙ্গের জীবন্ত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। গৌরাঙ্গের সঙ্গে আছেন নিত্যানন্দ,
অদ্বৈত, গদাধর, নরহরি, স্বরূপ, রামানন্দ এবং আরো বহু ভক্ত এবং খুব সম্ভব স্বয়ং কবিও।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পড়িয়া চরণতলে শোকে বিষ্ণুপ্রিয়া বলে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


পড়িয়া চরণতলে             শোকে বিষ্ণুপ্রিয়া বলে
ছাড়িয়া মায়ে ও প্রভু মোরে।
না দেখিয়া চাঁদমুখ                বিদরিয়া যায় বুক
কেমনে বাঁচিব আমি ঘরে॥
মুঞি নারি কিবা ছার           তুয়া হেন পতি যার
সে না পতি মোরে ছাড়ি যায়।
জলেতে প্রবেশ করি            অনলে পুড়িয়া মরি
এ বিচ্ছেদ না সয় হিয়ায়॥
কৃষ্ণ সবার পতি                    আর সব প্রকৃতি
কৃষ্ণ হ'ন কালের কারণ।
এত কহি গৌরহরি              চলেন নবদ্বিপ ছাড়ি
কাঁদে বাসু ধরিয়া চরণ॥

সূত্র - পদরত্বমালা ( মালবিকা চাকী কর্তৃক উদ্ধৃত )
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বিষ্ণুপ্রিয়া সঙ্গে প্রভু আছয়ে শয়নে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিষ্ণুপ্রিয়া সঙ্গে প্রভু আছয়ে শয়নে।
রাত্রিশেষে গৌরচন্দ্র পাইল চেতনে॥
নিদ্রায় অবশ হইয়া আছে বিষ্ণুপ্রিয়া।
হেনকালে গৌরচন্দ্র বসিলা উঠিয়া॥
রাত্রিশেষে উঠি প্রভু প্রতীক্ষা আচরি।
সন্ন্যাসকে বিরমনে দাঁড়াইলা গৌরহরি॥
একান্ত করিয়া তবে প্রভু বিশ্বম্ভর।
যাত্রা কৈলা লইয়া দক্ষিণ নাসাবর॥
কাঞ্চন নগরে আছে ভারতী গোসাঞি।
সন্ন্যাস করিতে তখা চলিল নিমাঞি॥
চলিলেন মহাপ্রভু গঙ্গার সমীপে।
গঙ্গা পার হইয়া গেলা ছাড়ি নবদ্বিপে॥
গঙ্গা নমস্করি নবদ্বীপ ছাড়ি যায়।
শীঘ্র করি ধায় প্রভু ফিরিয়া না চায়॥
গঙ্গাতীরের পথে প্রভু করিলা গমন।
রাত্রি প্রভাত হৈল হৈল বিহান॥
চৈতন্য পাইঞা শচী সচকিত হৈঞা।
আঙ্গিনায় বাহিরাইল বস্ত্র সম্বরিয়া॥
বধু বধু বলি ডাকে দ্বারের সমীপে।
উত্তর না দেয় আছে নিদ্রার আবেশে॥
কতক্ষণে বিষ্ণুপ্রিয়া পাইল চেতন।
গৌরচন্দ্র না দেখিয়া উড়িল জীবন॥
নিদ্রা হৈতে উঠে বিষ্ণুপ্রিয়া সচেতন।
প্রাণনাথ বলি ঘন করয়ে ক্রন্দন॥
কান্দিতে কান্দিতে গেলা শচীর মন্দিরে।
বাসুদেব ঘোষ পড়ে শোকের সাগরে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিষ্ণুপ্রিয়া সঙ্গে প্রভু আছয়ে শয়নে।
রাত্রিশেষে গৌরচন্দ্র পাইল চেতনে॥
নিদ্রায় অবশ হইয়া আছে বিষ্ণুপ্রিয়া।
হেনকালে গৌরচন্দ্র বসিলা উঠিয়া॥
রাত্রিশেষে উঠি প্রভু প্রতীক্ষা আচরি।
সন্ন্যাস করিব মনে দঢ়াইল গৌরহরি॥
একান্ত করিলা তবে প্রভু বিশ্বম্ভর।
যাত্রা কৈলা লইয়া দক্ষিণ নাসাবর॥
কাঞ্চননগরে আছে ভারতী গোসাঞী।
সন্ন্যাস করিতে তখা চলিল নিমাই॥
চলি গেলা মহাপ্রভু গঙ্গার সমীপে।
গঙ্গা পার হইয়া গোল ছাড়ি নবদ্বিপে॥
গঙ্গা নমস্করি নবদ্বিপ ছাড়ি যায়।
শীঘ্র করি ধায় প্রভু ফিরিয়া না চায়॥
গঙ্গাতীরের পথে প্রভু করিলা গমন।
রাত্রি প্রভাত হৈল হৈল বিহানে॥
চৈতনা পাইয়া সচি সচকিত হৈয়া।
আঙ্গিনায় বাহিরাইল বস্ত্র সম্বরিয়া॥
বধূ বধূ বলি ডাকে দ্বারের সমীপে।
উত্তর না দেয় আছে নিদ্রার আবেশে॥
কতক্ষণে বিষ্ণুপ্রিয়া পাইল চেতন।
গৌরচন্দ্র না দেখিয়া উড়িল জীবন॥
নিদ্রা হৈতে উঠে বিষ্ণুপ্রিয়া সচেতন।
প্রাণনাথ বলি ঘন করয়ে ক্রন্দন॥
কাঁদিতে কাঁদিতে গেলা সচির মন্দিরে।
বাসুদেব ঘোষ পড়ে শোকের সায়রে॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭।
খ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্য মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ-১০৭।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ-১১১।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মস্তক মুণ্ডন প্রভু চাহে করিবারে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মস্তক মুণ্ডন প্রভু চাহে করিবারে
যেই শুনে সেই লোক করে হাহাকারে॥
সভাই শুনিল প্রভুর মুণ্ডনের কথা।
সর্ব্বজনের হৃদয়ে লাগয়ে মহা ব্যথা॥
বিচিত্র চাঁচর কেশ দেখিতে সুন্দর।
মালতীর মালা শোভে তাহার উপর॥
পূরুবে চূড়ার বেশে জগত মোহিল।
যাহা দেখি গোপবধূ প্রাণ তেয়াগিল॥
হেন কেশ মুণ্ডল প্রভু করিবারে চায়।
কাঁদিয়া সকল লোক করে হায় হায়॥
লক্ষ লক্ষ লোক আসে প্রভু দেখিবারে।
লোকারণ্য হইল সব কাঞ্চন নগরে॥
হাহাকার করে সব শিরে দিয়া হাত।
যেই শুনে তার মাথে পড়ে বজ্রাঘাত॥
কি নারি পূরুষ সবার চক্ষে পড়ে জল।
দাণ্ডাইয়া দেখিতে কেহ নাহি পায় স্থল॥
মহা ভিড় ক্রন্দনের হৈল কোলাহল।
ফুকরি ফুকরি লোক কান্দয়ে সকল॥
প্রভু কহে তোমরা সব কান্দ কি কারণ।
না কান্দিহ কেহো সবে স্থির কর মন॥
এত বলি মহাপ্রভু নাপিতে ডাকিল।
মধুর বচনে কিছু জিজ্ঞাসা করিল॥
কি নাম তোমার নাই কোখায় নিবাস।
কহত আমার আগে করিয়া নির্দ্দেশ॥
এত শুনি নাই কহে করি জোড়কর।
কালিদাস মোর নাম তোমার নফর॥
প্রভু বলে কালিদাস বিলম্বে কাজ নাই।
শীঘ্র ভদ্র কর আমি গঙ্গাস্রানে যাই॥
সংযম করিব আমি মনে করি আশ।
ভারতীর ঠাঁই কালি করিব সন্ন্যাস॥
নাই এ কহেন প্রভু নিবেদি চরণে।
তোমার শিরে হাত দিবে কাহার পরাণে॥
এহেন চাঁচর কেশ ত্রৈলোক্য মোহন।
আমার শকতি নাই করিতে মুণ্ডন॥
প্রভু বলে আমি যে ছাড়িব এই ধর্ম্ম।
সন্ন্যাস করিব আমি কেশে নাহি কর্ম্ম॥
কেশে বেশে ধনে জনে কৃষ্ণ নাহি পাই।
সকল তেজিব আমি শুন ওহে নাই॥
নাই কহে নিবেদন শুন বিশুম্ভর।
কেমনে হাত দিব মস্তক উপর॥
অপরাধ লাগি মোর ডরে কাঁপে গা।
তোমার শিরে হাত দিয়া ছুব কার পা॥
পদ না ধরিলে মোর নহে নিজ কর্ম্ম।
অধম নাপিত জাতি এই বৃত্তি ধর্ম্ম॥
এ বোল শুনিয়া প্রভু নাপিতেরে কয়।
না করিবি নিজবৃত্তি নাহি তোর ভয়॥
নাই কহে প্রভু পুন করি নিবেদন।
নিজ বৃত্তি নইলে নহে উদর ধারণ॥
প্রভু বলে নিজ বৃত্তি না করিহ তুমি।
জনম গোঙ্গাবে সুখে কহিনু যে আমি॥
কৃষ্ণের প্রসাদে জন্ম গোঙ্গাইবা সুখে।
অন্তকালে বাস তোমার হবে স্বর্গলোকে॥
সন্ন্যাস করিবে প্রভু আগে কথা ছিল।
হেন সময়ে কোন নাপিত আইল॥
নাপিত আসিয়া বলে কি করি উপায়।
এ বেশে সন্ন্যাস কর সহনে না যায়॥
যে কর সে কর প্রভু না কর মুণ্ডন।
ত্রৈলোক্য মোহন কেশ ভুবন মোহন॥
যার লাগি ব্রজবধু ছাড়ি কুললাজ।
তাহায় হায় জাতি কুলে পড়ি গেও বাজ॥
প্রভুর বচন শুনি মুড়াইল কেশ।
বাসুদেব ঘোষ কহে করহ সন্ন্যাস॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মস্তক মুণ্ডন প্রভু চাহে করিবারে
যেই শুনে সেই লোক করে হাহাকারে॥
সবাই শুনিল প্রভুর মুণ্ডনের কথা।
সর্ব্বজনের হৃদয়ে লাগয়ে ব্যথা॥
বিচিত্র চাঁচর কেশ দেখিতে সুন্দর।
মালতীর মালা শোভে তাহার উপর॥
পূরবে চূড়ার বেশে জগত মোহিল।
যাহা দেখি গোপবধূ প্রাণ তেয়াগিল॥
হেন কেশ মুণ্ডন প্রভু করিবারে চায়।
কাঁদিয়া সকল লোক করে হায় হায়॥
লক্ষ লক্ষ লোক আসে প্রভু দেখিবারে।
লোকারণ্য হইল সব কাঞ্চননগরে॥
হাহাকার করে সব শিরে দিয়া হাত।
যেই শুনে তার মাথে পড়ে বজ্রাঘাত॥
কি নারি পূরুষ সবার চক্ষে পড়ে জল।
দাণ্ডাইয়া দেখিতে কেহ নাহি পায় স্থল॥
মহতী ক্রন্দন রোল হইল কোলাহল।
ফুকরি ফুকরি লোক কান্দয়ে সকল॥
প্রভু কহে তোমরা কান্দ কি কারণ।
না কান্দিও কেহ সব স্থির কর মন॥
এত বলি মহাপ্রভু নাপিতে ডাকিল।
মধুর বচনে কিছু জিজ্ঞাসা করিল॥
কি নাই তোমার নাম কোখায় নিবাস।
কহ আমায় আগে করিয়া নির্দেশ॥
এত শুনি নাই কহে করি যোড় কর।
কালিদাস মোর নাম তোমার নফর॥
প্রভু বলে কালিদাস বিলম্বে কাজ নাই।
শীঘ্র ভদ্র কর আমি গঙ্গাস্রানে যাই॥
সংযম করিব আমি মনে করি আশ।
ভারতীর ঠাঁই কালি করিব সন্ন্যাস॥
নাইয়ে কহেন প্রভু নিবেদি চরণে।
তোমার শিরে হাত দিবে কাহার পরাণে॥
এহেন চাঁচর কেশ ত্রৈলোক্যমোহন।
আমার শকতি নাই করিতে মুণ্ডন॥
দেখিতে শীতল হয় হৃদয় নয়ান।
হেন কেশ কভু নাই করিতে মুণ্ডন॥
প্রভু বলে আমি যে ছাড়িব ইহ ধর্ম্ম।
সন্ন্যাস করিব আমি কেশে নাহি কর্ম্ম॥
কেশে বেশে ধনে জনে কৃষ্ণ নাহি পাই।
সকল তেজিব আমি শুন ওহে নাই॥
নাই কহে নিবেদন শূন বিশুম্ভর।
কেমতে লাগাব হাত মস্তক উপর॥
অপরাধ ভয়ে ঘোর ডরে কাঁপে গা।
তোমার শিরে হাত দিয়া ছুব কার পা॥
পদ না ধরিলে মোর নহে নিজ কর্ম্ম।
অধম নাপিত জাতি এই বৃত্তি ধর্ম্ম॥
এ বোল শুনিয়া প্রভু নাপিতেরে কয়।
না করিব নিজ বৃত্তি নাহি তোর ভয়॥
নাই কহে প্রভু পুন করি নিবেদন।
নিজ বৃত্তি নইলে নহে উদর পুরণ॥
প্রভু বলে নিজকর্ম্ম না করিহ তুমি।
জনম গোঙাবে সুখে কহিনু যে আমি।
কৃষ্ণের প্রসাদে জন্ম গোঙাইবা সুখে।
অন্তকালে তোমার বাস হবে বিষ্ণুলোকে॥
সন্ন্যাস করিব আশে প্রভু বস্যা ছিলা।
এহেন সময়ে কোন নাপিত আসিলা॥
নাপিত আসিয়া কহে কি করি উপায়।
সন্ন্যাস করিবে তুমি সহনে না যায়॥
যে কর সে কর প্রভু না কর মুণ্ডন।
ত্রৈলোক্যমোহন বেশ ভুবন মোহন॥
যার লাগি ব্রজবধূ ছাড়ে কুললাজ॥
তার তরে জাতি কুলে পড়ে গেল বাজ।
প্রভুর বচন শুনি মুড়াইল কেশ।
বাসুদেব ঘোষের দুখের নাহি শেষ॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭. ৩১৮।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিজ অশ্রুজলে নাপিত নিমাঞির
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিজ অশ্রুজলে           নাপিত নিমাঞির
ভিজাইল শিরকেশ।
কামিনীমোহন                কেশ মুড়াইয়া
করিল সন্ন্যাসীবেশ॥
পুন গঙ্গাস্নান             করি আসি গোরা
বসিল ভারতী পাশ।
চরণে ধরিয়া                বিনতি করিয়া
বলে সে করাহ সন্ন্যাস॥
কান্দিতে কান্দিতে          ধৈয্য ধরি চিতে
মন্ত্র দিল তার কানে।
কহে বাসু ঘোষ                 হুইল সন্ন্যাস
ভূবন ভরিল প্রেমে॥

সূত্র -
শ্রীযুক্ত সজনী দাসের পুথি, পৃষ্ঠা ২ (প্রথমাংশ নেই)
( মালবিকা চাকি কর্ত্তৃক উদ্ধৃত )।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর