কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
সন্ন্যাস করিয়া প্রভু গেলা শান্তিপুরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সন্ন্যাস করিয়া প্রভু গেলা শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ রায় গেল নদীয়া নগরে॥
দাঁড়াইয়া শচীর আগে ছাড়য়ে নিঃশ্বাস।
পরাণ বিদরে প্রভুর কহিতে সন্ন্যাস॥
কাতর আছিল সচি পাইল নিতাই।
কহ দেখি কোখা আছে আমার নিমাই॥
না কান্দিও স্থির হও শুন মোর বাণী।
সন্ন্যাস করিল প্রভু গোরা গুণমণি॥
শুনিয়া নিতাইর মুখে সন্ন্যাসের কথা।
অচেতন হইয়া পড়িল শচীমাতা॥
উঠাইল নিত্যানন্দ চল শান্তিপুরে।
তোমার গৌরাঙ্গ আছে অদ্বৈতের ঘরে॥
শচী কান্দে, নিতাই কান্দে, কান্দে নৈদ্যাবাসী।
আমা সব ছাড়ি গৌর হৈলা সন্ন্যাসী॥
বাসুদেব কহে না কান্দিহ শচীমাতা।
জীব লাশি তোমার গৌর হইল প্রেমদাতা॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৬৭।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬১৩৪।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৩২।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সন্ন্যাস করিয়া প্রভু গেলা সান্তিপুরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদটির প্রথম ৪টি পংক্তি আর "সন্ন্যাস করিয়া প্রভু গেলা শান্তিপুরে" পদটির প্রথম
চারটি পংক্তি একই। তবুও এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রাখা হয়েছে বাকি
অংশের ভিন্নতার জন্য।

সন্ন্যাস করিয়া প্রভু গেলা সান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ রায় আইলা নদীয়া নগরে॥
দাণ্ডায়া শচীর আগে ছাড়য়ে নিঃশ্বাস।
পরাণ বিদরে প্রভুর দেখিয়ে সন্ন্যাস॥
নিত্যানন্দ বলে শুন জগত জননী।
সন্ন্যাস করিলেন গৌর গুণমণি॥
শুনি নিত্যানন্দ-মুখে সন্ন্যাসের কথা।
অচৈতন্য ভূমেতে পড়িলা শচী মাতা॥
করে ধরি উঠাই বলে চল শান্তিপুরে।
তোমার নিমাই আছে অদ্বৈতের ঘরে॥
স্বরূপ বচনে বলে শুন শচীমাতা।
জীব লাগি তোমার নিমাই হইল প্রেমদাতা॥
হেদেলো মালিনী সই চল শীঘ্র যাই।
নিমাই অদ্বৈতগৃহে কহিল নিতাই॥
সে চাঁচর কেশহিন কেমনে দেখিব।
না যাব অদ্বৈতগৃহে গঙ্গায় পশিব॥
এত বলি শচীমাতা অতি ত্বরা হইয়া।
শান্তিপুর মুখে ধায় গৌরাঙ্গ বলিয়া॥
জড় অন্ধ আদি ধায় কাঁদিতে কাঁদিতে।
বাসু ঘোষ বলে সতি চল মোর সাথে॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬৭৬৭ (বল্লভ ভণিতা)।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১২৮।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
যাও যাও শচীমাতা নদীয়া নগরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যাও যাও শচী মাতা নদীয়া নগরে।
আশীর্ব্বাদ কর মাতা হাত দিয়া শিরে॥
সন্ন্যাস করিলাম আমি নর তরাইতে।
এই আশীর্ব্বাদ কর পাই ব্রজনাথে॥
এ বাক্য শুনিঞা শচী কহিছেন কথা।
শ্রীকৃষ্ণ জগৎ কর্ত্তা আশীর্ব্বাদ দাতা॥
কিন্তু নিমাই বলি আমি শুন মোর বাছা।
সন্ন্যাস করিলে তুমি এখন যাবে কোখা॥
গৌরাঙ্গ বলেন মাতা যাব বৃন্দাবন।
শচী বলে না যাইহ রহ দশদিন॥
মায়ের পীরিতে অদ্বৈত গৃহে রহিলা।
শচীর শ্রীহস্ত পাকে ভোজন কারিলা॥
দশদিন রহি মাতা নদীয়া চলিল।
গৌরাঙ্গের ধ্যানে মাতা বসিয়া রহিল॥
তখা অদ্বৈত গৃহ হইতে প্রভুত চলিল।
কান্দি যত ভক্তগণ সঙ্গে গড়াইল॥
বাসুদেব ঘোষ কয় চরণে ধরিয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যাও যাও শচীমাতা নদীয়া নগরে।
আশীর্ব্বাদ কর মাতা হাত দিয়া শিরে॥
সন্ন্যাস করিলাম আমি নর তরাইতে।
এই আশীর্ব্বাদ কর পাই ব্রজনাথে॥
এ বাক্য শুনিয়া সচি কহিছেন কথা।
শ্রীকৃষ্ণ জগতকর্ত্তা আশীর্ব্বাদ দাতা॥
কিন্তু নিমাই বলি আমি শুন মোর কথা।
সন্ন্যাস করিলে তুমি এখন যাবে কোখা॥
গৌরাঙ্গ বলেন মাতা যাব বৃন্দাবন।
শচী বলে না যাইহ রহ দশ দিন॥
মায়ের পীরিতে অদ্বৈত গৃহেতে রহিলা।
শচীর শ্রীহস্ত পাকে ভোজন কারিলা॥
দশ দিন রহি মাতা নদীয়া চলিল।
গৌরাঙ্গের ধ্যানে মাতা বসিয়া রহিল॥
এখা অদ্বৈত গৃহ হইতে প্রভু ত চলিল।
কান্দি যত ভক্তগণ সঙ্গে গোড়াইল॥
বাসুদেব ঘোষ কয় চরণে ধরিয়া।
অদ্বৈতের এই আশা না দিব ছাড়িয়া॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭।
ঝ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ - ১১৪।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৩৪।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হায়রে দারুণ বিধি কি বলিব হায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পদরত্নমালার পদ। মালবিকা চাকী কর্ত্তৃক উদ্ধৃত।

হায়রে দারুণ বিধি কি বলিব হায়।
শচীর কান্দনা শুনি পাষাণ মিলায়॥
নদীয়ার দুকূলে কাঁদয়ে নরনারী।
গৃহের ভিতরে কাঁদে পাখী শুক-শারী॥
নদীয়ার ধেনু বত্স তৃন নাহি খায়।
হাহা রব করি নীলাচলমুখে চায়॥
পাষণ্ড ভুলল সব করে হায় হায়।
এবার গৌরাঙ্গ পাইলে শরন নিব পায়॥
মুই জদি জানিতুঁ গোরা ব্রজেন্দ্রনন্দন।
সে দুটি রাতুল পায়ে লইতুণ শরণ॥
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি লইয়া।
না যায় পরাণ কেন কিসের লাগিয়া॥

সূত্র -
পদরত্নমালা (মালবিকা চাকি কর্ত্তৃক উদ্ধৃত)।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ডোর কৌপিন পৈরা নিমাঞি বাকুয়া হাসে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ডোর কৌপিন পৈরা নিমাঞি বাকুয়া হাসে।
কাহারে ছলিতে জায় অকিঞ্চন বেশে॥
সোনার বরণ নিমাঞি ননীর পুতুলি।
আঁখি ঝুরে ব্যাথা লাগে না দেখিলে মরি॥
সুরধুনীর তীরে নিমাঞি খানিক দাণ্ডাইয়।
চাঁদমুখ নিরখিয়ে তবে তুমি জায়্য॥
এতদিনে ঘুচাইলে নদীয়াবসতি।
কাল হয়্যা আইল্য মোরে কেশব ভারতী॥
আর সব শিশুগণ খেলিবারে গেল।
নদীয়া নগরে মোর নিমাঞি হারাইল॥
আর না দেখিব নিমাঞি তোর চাঁদমুখ।
কহে বাসুদেব ঘোষ বিদরএ বুক॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি ৯৭১, পদ-৭৩।
খ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৩০।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অপসর নাহি মোর নয়ানের জল
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অপসর নাহি মোর নয়নের জল।
গোরা বিনু প্রাণ মোর সদাই বিকল॥
সেই ধন সেই প্রাণ সেই সব স্থল।
গোরা বিনু লাগে মোর ঝকড় সকল॥
সকীর্ত্তনময় গোরা গোলোকের সার।
তাহাতে না রহে মন দেহ ভেল ভার॥
কি করিব কোথা যাব বচন না সরে।
হারাইনু গোরাচাঁদ গোপীনাথের ঘরে॥ @
কহে বাসুদেব ঘোষ হইয়া কাতর।
গৌর অনুরাগে মোর হিয়া জর জর॥

@ - এখানে কবি উল্লেখ করেছেন যে শ্রীচৈতন্য গোপীনাথের ঘরে অর্থাত জগন্নাথের
মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে হারিয়ে যান।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই রাগ॥

অপসর নাহি মোর নয়ানের জল।
গোরা বিনু প্রাণ মোর সদাই বিকল॥
সেই ধন সেই প্রাণ সেই সব স্থল।
গোরা বিনু লাগে মোর ঝকড় সকল॥
সকীর্ত্তন মহাধন গোলোকের সার।
তাহাতে না রহে মন দেহ ভেল ভার॥
কি করিব কোথা যাব বচন না সরে।
হারাইনু গোরাচাঁদ গোপীনাথের ঘরে॥
প্রেমকখা না শুনব নরহরি মুখে।
কে মোরে দারুন শেল চাপাইল বুকে॥
কহে বাসুদেব ঘোষ জীবনে কি কাজ।
গোরা বিনে মুণ্ডে কেন না পড়িল বাজ॥

সূত্র -
ক। পাঠবাড়ী পুথি ২১ক, ২১ঘ।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি - ৩১৮, ২৫৬৩।
গ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে শ্রীচৈতন্য - সতী ঘোষ, পৃ. ১০৪।
ঘ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৩০।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গ বিরহ রে হিয়া ছটপট করে
গৌরাঙ্গ বিরহ জ্বরে হিয়া ছটফট করে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১১৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ বিরহে রে                  হিয়া ছটপট করে
জীবনে না বান্ধে থেহা।
না দেখিয়া চাঁদ মুখ                বিদরিয়া যায় বুক
কি জানি কেমন করে দেহা॥
প্রাণের হরি কহো মোর জীবন উপায়।
এ দুখের দুখিত যে                 এ দুখ জানয় সে
আর আমি নিবেদিব কায়॥
গৌরাঙ্গ মুখের হাসি             সুধা খসে রাশিরাশি
এবে কেন না পাই দেখিতে।
যত প্রিয় সঙ্গীগণ               তাহারা হৈল নিদারুন
আমি জিয়ে কি সুখ খাইতে॥
গদাধর আদি করি            না দেখিলে প্রাণে মরি
মধুমতী আর না দেখিয়া।
তোমারে করিত দয়া            সে গেল নিঠুর হয়্যা
বাসু কেন না গেল মরিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

গৌরাঙ্গ বিরহ জ্বরে                হিয়া ছটফট করে
জীবন না বান্ধে থেহা।
না দেখিয়া চাঁদমুখ                বিদরিয়া যায় বুক
কি জানি কেমন করে দেহা॥
প্রাণের হরি, কহ মোর জিবন উপায়।
এ দুখে দুখিত যে                এ দুখ জানয়ে সে
আর আমি নিবেদিব কায়॥
গৌরাঙ্গ মুখের হাসি          সুধা খসে রাশি রাশি
এবে কেন না পাই দেখিতে।
যত প্রিয় সঙ্গীগণ                তারা হৈল নিকরুন
আমি জিয়ে কি সুখ খাইতে॥
গদাধর আদি করি            না দেখিলে প্রাণে মরি
মধুমতী আর না দেখিয়া।
যে ঘোরে করিত দয়া          সে গেল নিঠুর হৈয়া
বাসু কেন না গেল মরিয়া॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৮, ২৫৬৩।
খ। পাঠবাড়ী পুথি ২১ক, ২১ঘ, ২৯(কীর্ত্তনানন্দ)
গ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ১৭৭।
ঘ। বিশ্বভারতী পুথি ১৭৪১, ৩৬৪৩।
ঙ। পদরত্নাকর পৃ. ৪৬৫।
চ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে শ্রীচৈতন্য - সতী ঘোষ, পৃ. ১১৪।
ছ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৪৯।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আর না শুনিব কানে গোরামুখের বাণী
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আর না শুনিব কানে গোরামুখের বাণী।
এত দুখে কেন রহে নিলজ পরাণি॥
কাহারে কহিব দুখ পাঠাইব কারে।
প্রাণ-গোরা বিনে জীবন জীয়ন্তেই মরে॥
মৈলু মৈলু এই পুন মরমের দুখে।
পাষাণ চাপায়া কত গোঙাইব বুকে॥
গোরা বিনু রহে প্রাণ ইহু বড় লাজ।
বাসুদেব ঘোষ মুণ্ডে না পড়িল বাজ॥

সূত্র -
অধ্যাপক রঞ্চানন চক্রবর্তীর পুথি পৃ.১৫৫। (মালবিকা চাকী উদ্ধৃত)
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বিরহে আকুল গদাধর নরহরি
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিরহে আকুল গদাধর নরহরি।
ফাটয়ে অন্তর দুহুঁ দুহার মুখ হেরি॥
প্রিয় পারিষদগণ বিরহে আকুল।
না ধরে ধৈরজ কেহ সোকেতে ব্যাকুল॥
নাহি জানে দিবানিশি সব আঁধিয়ার।
কহে বাসু ধিক ধিক পরাণ আমার॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৮৪৫, ৮৩ নং পদ।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ২৫৬৩।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পৌগণ্ড বয়স শেষ গৌরাঙ্গসুন্দর
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দাক্ষিনাত্য শ্রীরাগ॥

পৌগণ্ড বয়স শেষ গৌরাঙ্গসুন্দর।
ভুরুর নাচনি করে বিকাশে অন্তর॥
লাজে অবনত মুখ রাঙ্গা আঁখি দুটি।
বুঝিতে নারিনু মুঞি ভাব পরিপাটি॥
বাম নয়ন তঁহি কটাক্ষ করয়।
মধু মধুর স্মিত মুখে বুঝিল না হয়॥
কুন্দন কনয়া জিনি অঙ্গ ঝলমলি।
বাসুদের ঘোষ পহুঁ ভাবে কুতূহলি॥

সূত্র -
ক। পদরত্নাকর, পৃ. ৯১।

মন্তব্য -
পদটি পদরত্নাকর ছাড়া অন্য সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় না। এখানে গৌরাঙ্গের রূপ বর্ণনা
করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হল.  সে  রূপ  ঈশ্বর  প্রেমে আবিষ্ট ভাবাকুল মূর্তি
নয়। এখানের গৌরাঙ্গ নব যুবক এবং রূপবান। সম্ভবত, কবি ঈশ্বরাবেশেপ আগেকার
গৌরাঙ্গের মূর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর