কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
বুক বিদরিয়া গোরা যতনে রাখিব
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

বুক বিদরিয়া গোরা যতনে রাখিব।
বিরলে বসিয়া গোরার মুখ নিরখিব॥
যতনে রাখিব গোরা নয়নে মেলিয়া।
যতনে বঞ্চিব গোরা মুখখানি চাহিয়া॥
গোরা গোরা বলি ঘন ডাকে সব লোকে।
লুকায়ে রাখিব গোরা কেহ পাছে দেখে॥
বাসুদেব ঘোষ বলে হেন লয় মনে।
রাখিব জতন করি জীবন যৌবনে॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ - ১৯৭২।
খ। পাঠবাড়ী পুথি ২১ঘ, ২৬ধ, ২৬।
গ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৩২২, চিত্তরঞ্জন সংগ্রহ ২৬৭।
ঘ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকি, পদ - ৯৪।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কোরে বৈঠাওলি রসবতি রাই
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কোরে বৈঠাওলি রসবতি রাই।
দুহুঁ নব যৌবন দুহুঁ অবগাই॥
স্যামর নাগর নাগরি গোরি।
নিলমণি কাঞ্চনে লাগল জোরি॥
আলিঙ্গন দুহুঁ মদন মাতা।
তমালে বেড়ল জনু কনক লতা॥
রসেতে চঞ্চল দোঁহার আঁখি।
নাচত যৈছন খঞ্জন পাখি॥
রূপ বিলোকিত দুহুঁক বয়ানে।
হেরি লুকাওল চাঁদহি গগনে॥
করেতে লুকাওল হেম কটোর।
হাসি হাসি কহে দুহুঁ মরমকি বোল॥
এ দুহুঁ পিরিতি দুহুঁ ভালে জান।
কহে বাসুদেব দুহুঁ রসিক সুজান॥

সূত্র -
ক। বিশ্বভারতী পুথি ২৩৪৬, পত্র - ৪৭।
খ। পাঠবাড়ী পুথি ৪ক, পত্র - ২৭।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকি, পদ - ১৬৪।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অহে নব জলধর
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অহে নব জলধর।
বরিষ হরিষ বড় মনে।
শ্যামের মিলন মোর সনে॥
বরিষ মন্দ ঝিমানি।
আজু সুখে বঞ্চিব রজনি॥
গগনে সঘনে গরজনা।
দাদুরি দুন্দুভি বাজনা॥
শিখরে শিখণ্ডিনী বোল।
বঞ্চিব সুরনাথ কোল॥
দোহার পীরিতি-রস আশে।
ডুবল বাসুদেব ঘোষে॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ১১২৩ ( ‘রসকলিকা’ নটবর দাস )।
খ। বাংলা সাহিত্যের ইতিকথা - সুকুমার সেন, ১ম খণ্ড, পূর্বার্ধ, পৃ-৪১৫।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকি, পদ - ১৬৫।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
এথা বিষ্ণুপ্রিয়া প্রভাতে উঠিয়া
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন


এথা বিষ্ণুপ্রিয়া                     প্রভাতে উঠিয়া
পালঙ্কে বুলায় হাত।
প্রভু না দেখিয়া                   কান্দিয়া কান্দিয়া
শিরে মারে করাঘাত॥
পরিবার বসন                        না দেখে যখন
পুন কান্দে ফুকরিয়া।
দণ্ড কমণ্ডুল                          রয়্যাছে সকল
আমি মরি বিষ খায়্যা॥
* * * কালি শুনিয়াছি                   প্রভুর সন্ন্যাস
মুকুন্দ মুরারি মুখে।
একথা শুনিয়া                        পরাণে মরিবে
শচী কি বাঁচিবে শোকে॥
কন্টক নগরে                          প্রভু বিশ্বম্ভর
জীব উদ্ধারিতে গেলা।
বাসু ঘোষ ভনে                        সে চাঁদবদনে
পুন না দেখিতে পাইলা॥

সূত্র -
অধ্যাপক পঞ্চানন চক্রবর্তীর পুথি ( ১২০০ সাল )
( মালবিকা চাকি কর্ত্তৃক উদ্ধৃত )

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
তখন নাপিত আসি প্রভুর বামেতে বসি
ভণিতা বাসু / রসিকানন্দ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তখন নাপিত আসি প্রভুর বামেতে বসি
খুর দিল ও চাঁচর কেশে।
করি নানা উচ্চরব                 কাঁদয়ে ভকত সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
কাঞ্চন নগর বাসী                দিবসে দেখয়ে নিশি
প্রবেশিল শোকের সাগরে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ             হঞা অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল কি হৈল বলে           খুর মোর নাহি চলে
প্রাণ ফাটে বিদরিয়া যায়॥
বসি কোন অন্ধের মায়া         অন্তরে বিদরে হিয়া
কান্দিছেন অবধূত রায়।
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান            অন্তরে বিদরে প্রাণ
প্রাণ ফাটে বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ পব করি             কান্দে কুলবতী নারী
সভাই সভার মুখ চায়।
বাসু কান্দনের বাণী           শোকানলে দহে প্রাণী
এত দুঃখ সহনে না যায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি রসিকানন্দ ভণিতাতেও পাওয়া গেছে। চিত্রা
রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর বামেতে বসি
খুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি নানা উচ্চরব                    কাঁদয়ে ভকত সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
কাঞ্চন নগরবাসী                   দিবসে দেখয়ে নিশি
প্রবেশিল শোকের সাগরে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ              হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল কি হৈল বলে              খুর মোর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
বসিয়া কিছু দুরে                হাত রাখি নিজ শিরে
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
দেখি কেশ অন্তর্ধান                অন্তরে বিদরে প্রাণ
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
বাসু কান্দিয়া বলে                শোকানলে হৃদি জ্বলে
এত দুখ সহনে না যায়॥

এই পদে রসিকানন্দের ভণিতা . . .

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ
পল্লব, সখ্য-রস—গোষ্ঠে গমন, ২২২৪ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস
সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭২৪ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর সম্মুখে বসি
খুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চ-রব             কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগর-বাসী                  দিবসে হইল নিশি
প্রবেশিল শোকের সায়রে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ            হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চ-রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে            খুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ-স্বর করি              কান্দে কুলবতী নারী
সভাই সভার মুখ চাইয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে                  নয়ন-যুগল-নীরে
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ-অন্তর্দ্ধান               অন্তরে দগধে প্রাণ
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ                 সদা করে আনচান
ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৩৯-পৃষ্ঠায় (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তখন নাপিত আসি               প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব            কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চননগরে।
যতেক নগরবাসী               দিবসে দেখয়ে নিশি
প্রবেশিল শোকের সাগরে॥ ধ্রু॥
মুণ্ডন করিতে কেশ           হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কাঁদয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল, কি হৈল বলে         হাতে নাহি ক্ষুর চলে
প্রাণ মোর বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ রোল করি          কাঁদে কুলবতী নারী
সবাই প্রভুর মুখ চাঞা।
ধৈরজ ধরিতে নারে                নয়ানযুগল ঝরে
ধারা বহে নয়ান বহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান            অন্তরে দগধে প্রাণ
কাঁদিছেন অবধূত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ              সদা করে আনচান
এ দুখ ত সহন না যায়॥

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

তখন নাপিত আসি              প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চ রব          কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হলো কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগর বাসী                দিবসে হইল নিশি
প্রবেশিল শোকের সায়রে॥ ধ্রু॥
মুণ্ডন করিতে কেশ          হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চ রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে        ক্ষুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ স্বর করি          কান্দে কুলবতী নারী
সবাই সবার মুখ চায়্যা।
ধৈরজ ধরিতে নারে              নয়ান যুগল নীরে
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্ধান            অন্তরে দগধে প্রাণ
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ             সদা করে আনচান
ফাটিয়া বাহির হৈয়া যায়॥

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ
সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালী॥

তখন নাপিত আসি,              প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব,           কান্দে যত লোক সব,
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি! হরি! কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগরবাসী,                দিবসে হইল নিশি,
প্রবেশিল শোকের সাগরে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ,          হয়্যা অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কাঁদয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল কি হৈল বলে,         ক্ষুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চস্বর করি,           কান্দে কুলবতী নারী,
সভাই সভার মুখ চায়্যা।
ধৈরয ধরিতে নারে,               নয়ানযুগল-নীরে,
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান,            অন্তরে দগধে প্রাণ,
কাঁদিছেন অবধূত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ,              সদা করে আনচান,
ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত
“পদামৃত লহরী”, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশ্রী - তাল দশকুশি॥

তখন নাপিত আসি, প্রভুর সম্মুখে বসি, ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চ রব, কান্দে যত লোক সব, নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগর বাসী, দিবসে হইল নিশি, প্রবেশিল শোকের সাগরে॥ ধ্রু॥
মুণ্ডন করিতে কেশ, হৈয়া অতি প্রেমাবেশ, নাপিত কান্দয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল কি হৈল বলে, ক্ষুর আর নাহি চলে, প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ স্বর করি, কান্দে কুলবতী নারী, সবাই সবার মুখ চাহিয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে, নয়ন যুগল নীরে, ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান, অন্তরে দগধে প্রাণ, কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ, সদা করে আনচান, ফাটিয়া বাহির হৈয়া যায়॥

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ধানশী॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব             কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা কৈল কাঞ্চন-নগরে।
যতেক নগরবাসী                  দিবসে হইল নিশি
প্রবেশিল শোকের সায়রে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ            হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চ-রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে           ক্ষুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চস্বর করি              কান্দে কুলবতী নারী
সভাই সভার মুখ চাহিয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে                   নয়ন-যুগল-নীরে
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান                 অন্তরে দগধ প্রাণ
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ                 সদা করে আনচান
ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

ই পদটি “রসিকানন্দ” ভণিতায়, ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৯২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তখন নাপিত আসি প্রভুর সম্মুখে বসি    
.                ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব কান্দে যত লোক সব
.                নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা কৈল কাঞ্চন-নগরে।       
যতেক নগরবাসী দিবসে হইল নিশি       
.                প্রবেশিল শোকের সায়রে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
.                নাপিত কান্দয়ে উচ্চ রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে ক্ষুর আর নাহি      
.                চলে প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চস্বর করি কান্দে কুলবতী নারী    
.                সভাই সভার মুখ চাহিয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে নয়ন যুগল নীরে       
.                ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান অন্তরে দগধ প্রাণ    
.                কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ সদা করে আনচান     
.                ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল গৃহ অন্ধকার ভেল
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন



গৌরাঙ্গ ছাড়িয়া গেল                গৃহ অন্ধকার ভেল
ইহ দুঃখে দুঃখিত মোর দেহা।
নাচান নয়নমণি                   অতর্কিতে যান চলি
কিনা হৈল সে রূপ নেহারি॥
প্রিয় তোর খণ্ডবাসী             তারা কান্দে অহর্নিশি
কেহ তাহারে বুঝাইতে নারে।
পড়িয়া বিষম ফাঁদে                মরমে পরাণ কাঁদে
কি না হৈল ও রূপ-মাধুরী॥
নিজ প্রেমিকজন                       তবে কেন এমন
আমি জীব কি ছার জীবনে।
না দেখিয়া সে চাঁদমুখ            ফাটিয়া পড়িছে বুক
মনে কিছু নাহি রহে আর॥
ইহাতে হুইল লাজ                মাথায় না পড়ে বাজ
দুরে গেল বাসুদেব পরাণ॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি ৯৭৭, ৩২ পদ।
খ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৮৬।

মন্তব্য -
পদটির ভাষা ও ছন্দে সামঞ্জস্যের অভাব দৃষ্ট হয়। ভাবের প্রকাশেও বাসুদেব ঘোষের নিটোল ও সুচারু
প্রকাশ ক্ষমতাকে খুঁজে পাই না। ভণিতাতে 'ঘোষ' পদবী নেই। আথচ প্রাচীন পুথিতে পদটি দৃষ্ট হয়েছে।
তাই পদটি সন্দিগ্ধ পর্যায়ে রাখা হল॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা পহুঁ অদ্বৈত মন্দির ছাড়ি গেল
ভণিতা বাসুদেব / শচীর নন্দন
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব
সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৭৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ তথারাগ॥

গোরা পহুঁ অদ্বৈত মন্দির ছাড়ি চলে।
শিরে দিয়া দুটি হাত                        কান্দে শান্তিপুরনাথ
কিবা ছিলাম কিবা হৈলাম বলে॥ ধ্রু॥
অদ্বৈত গৃহিণী কান্দে                        কেশপাশ নাহি বান্ধে
প্রহুঁ বলি ডাকে উচ্চস্বরে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                           আপন কীর্ত্তনরঙ্গে
কে আর নাচিবে ঘরে ঘরে॥
শান্তিপুর বাসী জত                        তারা কান্দে শত শত
ভক্তগণ কান্দে ফুকরিয়া।
গৌরাঙ্গ বিচ্ছেদ দুখে                        বিদরিয়া যায় বুকে
বাসু কেনে না গেল মরিয়া॥

সূত্র -
ক। পদরত্নাকর ৪৪৭ পৃ।
খ। পদকল্পতরু পদ - ২২৩৭। ( শচীর নন্দন ভণিতা )

এই পদটি “শচীর নন্দন” ভণিতায় . . .

ই পদটি “শচীর নন্দন” ভণিতায় কিন্তু কিছুটা ভিন্ন প্রথম পংক্তি নিয়ে, আনুমানিক ১৭৫০ সালে,
বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০
বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৩৭-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি কোনো পাঠান্তর ছাড়াই নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” পুথিতে ২৩৪২
পদসংখ্যায় দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

পহুঁ মোর অদ্বৈত-মন্দির ছাড়ি চলে।
শিরে দিয়া দুটি হাত                      কান্দে শান্তিপুর-নাথ
কিবা ছিল কিবা হৈল বলে॥ ধ্রু॥
কৃপা করি মোর ঘরে                       অবধৌত বিশ্বম্ভরে
কত রূপে করিলা বিহার।
এবে সেই দুই ভাই                      কি দোষে ছাড়িয়া যাই
শান্তিপুর করিয়া আন্ধার॥
অদ্বৈত-ঘরণী কান্দে                      কেশ-পাশ নাহি বান্ধে
প্রভু বলি ডাকে উচ্চ স্বরে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                        প্রেম-সংকীর্ত্তন রঙ্গে
কে আর নাচিবে মোর ঘরে॥
শান্তিপুর-বাসী যত                        তারা কান্দে অবিরত
লোটাঞা লোটাঞা ভূমি-তলে।
শচীর নন্দন ভণ                             শান্তিপুর হৈল যেন
পূরবে শুনিলুঁ যে গোকুলে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজু গৌরাঙ্গ সনে রজনী গোঙ্গায়নু
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু গৌরাঙ্গ সনে রজনী গোঙ্গায়নু              
সো সুখ কি কব সই।                             
লাখ বদন যদি                বিধি মোরে দেয়ত
তবে কিছু গোরাগুণ কই॥
গৌরাঙ্গ হৃদয়ে ধরি নয়নে বদন হেরি
.                        বাঢ়ল প্রেমতরঙ্গ।
যে কিছু বচন শ্রবন ভরি শুননু                   
.                        ক্ষণে ক্ষণে নূতন রঙ্গ॥
আনিমিখ আঁখি                যদি মোরে দেয়ত
তবু নাহি পূরত আশ।
বাসুদেব ঘোষ কহে        যত হেরি গোরা রূপ
তত বাঢ়ে অধিক পিয়াস॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন



আজু গৌরাঙ্গ সনে                রজনী গোঙ্গায়নু
সো সুখ কি কব সই।
লাখ বদন যদি                বিধি মোরে দেয়ত
তবে কিছু গোরাগুণ কই॥
গৌরাঙ্গ হৃদয়ে ধরি             নয়নে বদন হেরি
বাঢ়ল প্রেমতরঙ্গ।
যে কিছু বচন                    শ্রবন ভরি শুননু
ক্ষণে ক্ষণে নূতন রঙ্গ॥
আনিমিখ আঁখি                যদি মোরে দেখত
তবু নাহি পূরত আশ।
বাসুদেব ঘোষ কহে         জত হেরি গোরাগুণ
তত বাঢ়ে অধিক পিয়াস॥

সূত্র -
ক। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ ১০৬ ( পদ - ৫৪ )।
( কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুথি থেকে উদ্ধৃত )

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দণ্ডে দশ বার খায় যাহা দেখে তাহা চায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ ধানশী - দশকুশী॥

দণ্ডে দশ বার খায়              যাহা দেখে তাহা চায়
ছেনা দধি এ ক্ষীর নবনী।
রাখিও আপন কাছে             ভূখ জানি লাগে পাছে
আমার সোনার যাদুমণি॥
শুন বাপ হলধর                     এক নিবেদন মোর
এই গোপাল মায়ের পরাণ।
যাইতে তোমার সনে               সাধ করিয়াছে মনে
আপনি হইও সাবধান॥
দামালিয়া যাদু মোর              না মানে আপন পর
ভাল মন্দ নাহিক গেয়ান।
দারুণ কংসের চর                তারা ফিরে নিরন্তর
তুমি বড়ই হবে সাবধান॥
বাম করে হলধর                  দক্ষিণ করে গিরিধর
সমর্পণ করি নন্দরাণী।
বাসুদেব দাস বলে                   তিতিল নয়নজলে
মুখ হেরি রহে নন্দরাণী॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ ১৩৮৬।
খ। বৈষ্ণব গীতাঞ্জলী, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সং, পৃ ৪৭।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৬১।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দণ্ডে দশ বার খায় যাহা দেখে তাহা চায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৭৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ ধানশী - দশকুশী॥

দণ্ডে দশ বার খায়              যাহা দেখে তাহা চায়
ছেনা দধি এ ক্ষীর নবনী।
রাখিও আপন কাছে             ভূখ জানি লাগে পাছে
আমার সোনার যাদুমণি॥
শুন বাপ হলধর                     এক নিবেদন মোর
এই গোপাল মায়ের পরাণ।
যাইতে তোমার সনে               সাধ করিয়াছে মনে
আপনি হইও সাবধান॥
দামালিয়া যাদু মোর              না মানে আপন পর
ভাল মন্দ নাহিক গেয়ান।
দারুণ কংসের চর                তারা ফিরে নিরন্তর
তুমি বড়ই হবে সাবধান॥
বাম করে হলধর                  দক্ষিণ করে গিরিধর
সমর্পণ করি নন্দরাণী।
বাসুদেব দাস বলে                   তিতিল নয়নজলে
মুখ হেরি রহে নন্দরাণী॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ ১৩৮৬।
খ। বৈষ্ণব গীতাঞ্জলী, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সং, পৃ ৪৭।
গ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১৬১।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
না হেরিব চাঁদ মুখ না শুনিব বাণী
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১১৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের কলিগুলির সঙ্গে “ধিক্ যাউ এ ছার জীবনে” এবং “না হেরব চাঁদ মুখ না
হেরব বাণী” পদটির কলিগুলির অনেক মিল থাকলেও আমরা এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ
হিসেবেই রাখছি।

না হেরিব চাঁদ মুখ        না শুনিব বাণী।
(হেন) মন করে গোরা গুণে পশিব ধরণী॥
মুঞি যদি জানিত        যাইবে ছাড়িয়া।
পরাণে পরাণ দিয়া রাখিত বান্ধিয়া॥
ধিক্ ধিক ধিক রহু        এ ছার জীবনে
পরাণে পরাণ গোরা গেল কোন স্থানে॥
কহে বাসুদেব ঘোষ কাতর বচনে।
না দেখিয়া গোরামুখ কি ছার জীবনে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর