কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
জয় জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর নন্দন
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর নন্দন।
অংশফল হয় জার শেষ সন্দর্শন॥
কৃষ্ণের অগ্রজরূপে গোকুলে বিহরে।
এবে অবধূত বেশে প্রেমদান করে॥
দেখিয়া কলির জীব বড়ই দুখিয়া।
হরিনাম প্রেম দিছেন সদয় হইয়া॥
জয় নিত্যানন্দ জয় অদ্বৈত গোসাঞি।
বাসুদেব ঘোষে কয় মোর আর কেহু নাঞি॥

সূত্র -
ক। বরাহনগর পাঠবাড়ী পুথি ২৬৮৫। ৩৩চ বিচ্ছিন্ন পত্র।

মন্তব্য -
পদটি নিত্যানন্দ বন্দনার। এটি কোন সংকলন গ্রন্থে স্থান পায়নি। অথচ ঐ পুখিতে একই
সঙ্গে রক্ষিত --''জয় জয় জগন্নাথ শচীর নন্দন' পদটি কিন্তু একাধিক সংকলনগ্রন্থে উদ্ধৃত
হয়েছে। দুটি পদের ভাব ভাষা এবং বর্ণনাভঙ্গী একই রকমের। পদটিতে পরিষ্কার অক্ষরে
‘বাসুদেব ঘোষ’ ভণিতা ব্যবহৃত হয়েছে। বাসুদেব ঘোষ গৌরাঙ্গের সঙ্গে নিত্যানন্দের
গণেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি নিত্যানন্দেরও ভক্ত ছিলেন। তাই তাঁর পক্ষে নিত্যানন্দ
বন্দনার পদ রচনা করা স্বাভাবিক।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দেখ দেখ আসি জত নদ্যাবাসি
আর এক রীত শুন অদভুত
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখ দেখ আসি               জত নদ্যাবাসি
আমার নিমাঞি চাঁন্দে।
বিহানে  উঠিয়া                  বসন ধরিয়া
ননি দে’ বলিয়া কান্দে॥
নহি গোয়ালিনী               কোথা পাব ননি
একি বিসম হৈল মোরে।
শুন্যাছি  পুরাণে                 নন্দের ভবনে
সেই বুঝি মোর ঘরে ॥
আর এক রিত                   সুন অদভুত
আমার নিমাঞি রায়।
আঙিনায় দাঁড়াইয়া              ত্রিভঙ্গ হইয়া
মোহন মুরলি বায়।
আর একদিনে                 খেলে সিষুসনে
নয়নে বহিছে লোর।
কছে বাসু ঘোষে              সচির আবেশে
বাসনা পুরল মোর॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৪২৪১।
খ। বিশ্বভারতী পুথি - ৬২২৫।
---চিত্রা রায়॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৬-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি আসলে "দেখ দেখ আসি জত নদ্যাবাসি" পদটির দ্বিতীয়ার্ধ। তাই
এই পদদুটিকে একত্রে রাখা হলো।

আর এক রীত শুন অদভুত                        
আমার নিমাঞি রায়।
পাখনা উড়াইয়া ত্রিভঙ্গ হইয়া                       
মোহন মুরলী বায়।
আর একদিনে খেনে  সেহ সনে                     
নয়ানে বহিছে লোর।
কছে বাসুঘোষ শচীর আবাসে                     
মনের বাসনা পূরল মোর॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শচীমায়ের অঞ্চল ধরি নাচে বিশ্বম্ভর রায়
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীমায়ের অঞ্চল ধরি নাচে বিশ্বম্ভর রায়॥
হাসি হাসি বিশ্বম্ভর মায়েরে লুকায়॥
বদনে বসন দিয়া বলে লুকাইলু।
সচি বলে চান্দমুখ আজি না দেখিলু ॥
নিকটে সমুখে জবে বিশ্বম্ভর দাঁড়াল।
ধরিলুঁ ধরিলুঁ বলি কত চুম্ব দিল ॥
বেদবিধি অগোচর মুনি ধ্যানে না পায়।
তারে সচি করে ধরি আঙিনায় নাচায়॥
বারেক করুণা  দেবে চাহ একবার।
বাসু সম দুখি নাই ত্রিজগতে আর॥

সূত্র -  
ক। বিশ্বভারতী পুথি - ২৮৩৫।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ৬২০৪, পদ - ২৪০২।

মন্তব্য -
প্রায় একই ধরনের পদ "শচীর আঙিনায় নাচে বিশ্বম্ভর রায়" তবে বর্তমান পদটির বক্তব্য
উল্লিখিত এবং বহু প্রকাশিত ( ভত্তি -৭৭৪, পদকল্পতরু ১১৫১ ইত্যাদি ) পদটির তুলনায় ভিন্ন
। ভাষাতেও যথেষ্ট তারতম্য আছে। তাই পদটিকে অপ্রকাশিত এবং নূতন পদ ছিসাবে
সজ্জিত করা হল।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মিশ্র পুরন্দর ডাকে আনন্দিত হঞে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিশ্র পুরন্দর ডাকে আনন্দিত হঞে।
আনন্দে প্রেমের ধারা কত জায় বঞে॥
কোথা নিত্যানন্দ বিশ্বম্ভর দুই ভাই।
হইল অনেক বেলা মুখ দেখি নাই॥
প্রিত কন্ঠে দুই ভাই আইল ধাইঞে।
আনন্দে বিভোর মিশ্র চান্দ মুখ চেঞে॥
চলহ জাহ্নবি তিরে দেবতা পুজিব।
বাসুদেব ঘোষ কহে কামনা পুরিব॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পত্র-৬।

মন্তব্য -
পদটি কোন পদসংকলনগ্রন্থে দেখা যায় না। পদটিতে ‘নিত্যানন্দ’ নিত্যানন্দ স্থানে সম্ভবত
‘বিশ্বরূপ’ হবে। লিপিকারের হাতে হয়তো এই সামান্য ভ্রম ঘটে গেছে। কারণ জগন্নাথ
মিশ্রের জীবিতাবস্থায় নিত্যানন্দ নবদ্বীপে ছিলেন না। গৌরাঙ্গের মধ্যে ঈশ্বরাবেশের প্রকাশে
ঘটার সময় থেকে নিত্যানন্দ নবদ্বীপে স্থায়ীভাবে বাস করতে খাকেন। এখানে জগন্নাথ মিশ্র
তাঁর আত্মজ দুই জনকেই ডাক দিয়েছিলেন। আর কবি বাসু ঘোষ পিতার স্নেহ মধুর
আহ্বান ও পুত্র মিলনের আনন্দঘন মুহূর্তটির চিএ কল্পনা করেছিলেন।

অবশ্য এমন হওয়াও অসম্ভব নয় যে, নিত্যানন্দ এবং গৌরাঙ্গের অন্তরঙ্গতা দর্শনে কবির
কল্পনা-প্রবণ হৃদয় উভয়কে জন্মজন্মান্তরের দুই ভাই রূপে অনুভব করে পদটি রচনা
করেছিলেন। এক্ষেত্রে তৎকালীন বিশ্বাসটিও ( কৃষ্ণ হলেন গৌরাঙ্গ এবং নিত্যানন্দ বলরাম )
কবির অনুরূপ কল্পনায় সহায়তা করে থাকবে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অপরূপ গৌরকিশোর
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরচন্দ্র - মুরলী শিক্ষা

অপরূপ গৌরকিশোর।
গদাধর বামে উজোর॥
মুরলী লইঞে নিজ করে।
গদাধর বলে মৃদু স্বরে॥
মুরলি সিখাও আজ গান।
যে রন্ধ্রে বাজাইলে উঠে তান।
মুরলী সিখাও গোরা রায়।
বাসু ঘোষ ইহ রস গায়॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুথি ৬২০৪ বান্ডিলের ৯৪ এবং ৯২৯ নং পদ।

মন্তব্য -
পদটি এ পর্যন্ত কোন সংকলনগ্রন্থে দেখা যায়নি পদটি গৌর-গদাধর লীলা সংক্রান্ত।
দশমাত্রার পয়ার ছন্দে লেখা পদটির আকার খুবই সংক্ষিপ্ত হলেও মূল ভাবের প্রকাশে তা
অপ্দূর্ণ সক্ষম।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মান বিরহে গোরা ভোর
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহন্তরিত বিকনা দ্যুতি অভিসার। গোউরচন্দ্র

মান বিরহে গোরা ভোর।
অরুণ নয়ানে বহে লোর॥
গদাধরে হেরি গোরা
.                      ভূমে পড়ি মুরছিত যায় ॥
ধূলাএ সোনার গোরাচাঁদে।
ফুকরি ফুকরি পহু কান্দে॥
কান্দিয়া কহেন ধিক বুদ্ধি।
আভিমানে হারাইলাঙ গুণনিধি॥
এখন কে আছে বেখিত হেন জনে॥
ঘরে আনিঞা মিলাএ কানুধোনে॥
কোথা মোর প্রাণ আর মোন।
অনাদরে হারাইলাঙ ধোন॥
গৌরাঙ্গের ক্রন্দনা সুনিঞা।
বলে বাসু উদ্দেশ না পিঞা॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি - ২৪৩৩।

মন্তব্য -
পদটি উল্লিখিত পুথিতেই কেবলমাত্র রক্ষিত আছে। পদটিতে গৌরাঙ্গের রাধাভাবে আবিষ্ট
চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রাধাভাবিত গৌরাঙ্গ এখানে কলহান্তরিতার বেদনা ও ক্ষোভে পূর্ণ।
কেন তিনি মান করেছিলেন, কৃষ্ণ ছাড়া তার বেদনা যে দূর হতে পারে না --- তা তো তিনি
জানেন। অতএব ক্রন্দন বিনা উপায় কি।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গ * * * * * * রজনী জাগিয়া গৌর শ্রীবাসের ঘরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


গ * * * * * * রজনী জাগিয়া গৌর শ্রীবাসের ঘরে।
ভাবাবেশে পড়ি রহু সুরধুনীতিরে॥
অশ্রু কম্প পুলক বৈবর্ণ্য উপহিতে।
আবেশে অবশ তনু হইল বিস্মৃতে॥
মনেতে উদয় ছিল শ্রীরাধিকার মান।
ধরণী বহিছে লোর বহয়ে নয়ান॥
ঘন ঘন হুহুঙ্কার গভীর গর্জ্জনে।
বাসুদেব ঘোষ করে মুখ নিরীক্ষণে॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পূথি ১৯৪৮।

মন্তব্য -
পদটি 'পদ শশাঙ্ক' নামাঙ্কিত জীর্ণ পদসংকলন পুথিতে রক্ষিত আছে। এর লেখার কালি
হাল্কা নীল। পত্র সংখ্যা অস্পষ্ট। এতে রাধার মান লীলার ভাবে বিভোর গৌরাঙ্গের জীবন্ত
চিত্র কবি ফুটিয়ে তুলেছেন। পদের শুরুতে যে শব্দ প্রযুক্ত**** হয়েছিল তা পড়া যায় নি।
আত্মবিস্মৃত গৌরাঙ্গের মধ্যে অশ্রু, কম্প পুলক বৈবর্ণ্য প্রভৃতি একাধিক সান্ত্বিক ভাবের
স্বতস্ফুর্ত প্রকাশ অন্যান্য বহু প্রত্যক্ষদর্শী গৌর -পারিষদদের মতো কবিকেও যে বিস্ময়
বিমূঢ় করে তুলত আলোচ্য পদে তারই ম্পর্শ অনুভূত হয়।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শ্রীবাস অঙ্গন মাঝে সহচর গণে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাই রাজার গৌরচন্দ্র॥

শ্রীবাস অঙ্গন মাঝে সহচর গণে।
গদায়ে করিব রাজা গৌরাঙ্গের সনে॥
বহু দিনের সাধ মনে আছয়ে সভার।
স্বরূপ রামানন্দ লয়ে করয়ে বিহার॥
গদায়ের কর ধরি গোরা দ্বিজমনি।
ব্রজভাব মনে করি বিভোর আপনি॥
গৌর অঙ্গ পরশনে গদাই বিভোর।
মুরছিত হয়ে পড়ে গৌরাঙ্গের কোর॥
গদাধরের কন্ঠমালা গৌরাঙ্গ লইল।
বাসুদেব ঘোষ চিতে আনন্দ বাড়িল॥

সূত্র - বিশ্বভারতী পূথি - ১৯৪৮।

মন্তব্য -
পদটি কোন সংকলন গ্রন্থে স্থান পায় নি। এটি গৌর গদাধর লীলার পদ। এই পদটি পাঠ
করলে অনুভূত যে কেবল গৌরাঙ্গই নন তাঁর অন্তরঙ্গ সহচরগণও প্রায়শই দিব্য ভাবে
বিভোর হয়ে দিন কাটাতেন। এখানে দেখা যাচ্ছে গৌর-অঙ্গ স্পর্শ করে বিভোর গদাধর
আবেগের আতিশয্যে মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
জোমুনার তিরে পুষ্পিত তরুতলে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

১।        জোমুনার তিরে                    পুষ্পিত তরুতলে            
আসি মিলিল দুই ভাই।
কি খেলা খেলিবে বল        সভে বলে ভাল ভাল
আজি খেলিব এইটাই॥
খেলিব বিনদ খেলা            গাএ মাখ রাঙ্গা ধুলা
নবিন পল্লব তুলি পর কানে।
খেলাতে হারিবে জে        কান্দে করে লবে সে
লএ জাবে ভান্ডীরের বনে॥

২।        সিষুগণে ডাকে ভাই          আয় গঙ্গাতিরে যাই           
নাচিএ গাহব সংকীর্ত্তন।
গৌর নিত্যানন্দ রায়           হরিদাস সঙ্গে যায়
জাজুরিতে দিলা দরশন॥
দেখ অভিরাম বলি             বদনে পুন ডাকই
নয়নে বহতা বহু লোর ।
বাসুদেব ঘোষ বলে           সুরধুনিতিরে গেলে
নাচে সভে আনন্দিত ভোর॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি - ২৪৩৩।

মন্তব্য -
পদটি কোন সংকলন গ্রন্থে দেখা যায় নি। পদটি পুথিতে এরকম ১ / ২ সংখ্যা দিয়ে লেখা আছে। প্রথম
অংশটিতে কৃষ্ণ এবং তাঁর সখাদের খেলার কখা বলা হয়েছে, এবং দ্বিতীয় অংশে গৌরাঙ্গ, নিত্যানন্দ,
হরিদাস, অভিরাম প্রুমুখের গঙ্গাতীরে সংকীর্ত্তন ও নৃতোর পরিচিতি রয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
প্রভুর জতেক ভক্তগণ
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রভুর জতেক ভক্তগণ।
সভে আরম্ভিলা সংকীর্ত্তন॥
হরিধ্বনি উঠিল গগণে।
স্বরূপ গদাধর তাহা শুনে॥
দুইএ ছিল একত্তে বসিয়া।
ধুনি শুনি উঠে চমকিয়া॥
স্বরূপ দেখি গরাদ্বিজবরে।
প্রভু মোহে কহে গদাধরে॥
স্বরূপের মুখে কথা শুনি।
বাসু কহে সুমধুর বাণী॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি  ২৪৩৩।

মন্তব্য -
পদটি উল্লিখিত পুথিতে ছাড়া অন্যত্র দেখা যায় না। এখানে নীলাচলে বাসকালীন একদিনের
ঘটনা চিত্রিত হয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আজি কেনে গোরাচাঁদের বিরস বদন
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি কেনে গোরাচাঁদের বিরস বদন।
ভাবে বুঝি দূরদেশে করিবে গমন॥
অরুণ নয়ন পানে চাহু না যাহই।
চাঁদমুখে সুধামাখা বাণি না কহই॥
বসি দিঘ নিশ্বাস ছাড়য়ে গোরামণি।
কি ভাব অন্তরে ইহা কিছুই নাহি জানি॥
প্রিয় গদাধর আর শ্রীনিবাস সনে।
হাসি কথা নাহি কহে কিসের কারণে॥
বাসু ঘোষ কান্দে গোরা বিরস দেখিয়া।
গোরামুখ দেখিয়া ধৈরজ না বান্ধে হিয়া॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুথি ৬২০৪, ১৭১০ নং পদ।
---চিত্রা রায়॥

মন্তব্য -
পদটি কোন পদসংকলন গ্রন্থে দেখা যায় নি। এতে ভাবাবিষ্ট গৌরাঙ্গের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস গ্রহণের আশঙ্কা পদটিতে বিষন্নতার সুর এনেছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর