কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
অবনত মাথে বসি ....... বদন সসি
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ১৯৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অবনত মাথে বসি                 ....... বদন সসি
কহিলে না কহে কোন বাণি।
কি ভাব উদয় মনে           প্রেমধারা দু’নয়নে
কপাল উপরে ধরি পাণি॥
বা ...... সমান গোরা রায়।
সুধামাখা হরিনাম              নাই করে একক্ষণ
কিবা লাগি ধরণি লোটায়॥
কারো কথা নাহি ষুনে        সদা চায় চাঁদ-পানে
ঘন ২ মুদয়ে নয়ান।
ক্ষেণে করজোড় মানে       ক্ষেণে কর বুকে হানে
কিবা রস করএ ধেয়ান॥
সহচর - সঙ্গ ছাড়ি          ক্ষিতিতলে রহে পড়ি
নাহি করে কীর্ত্তন - বিলাস।
বাসুদেব ঘোষে কয়            বিরস বদনে রয়
নব প্রেম করিয়া প্রকাষ।

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুথি ৬২০৪ বান্ডিলের ৩৯৬ নং পদ।

মন্তব্য -
পদটি উল্লিখিত পুথিতে ছাড়া এ পর্যন্ত কোন সংকলন গ্রন্থে চোখে পড়ে নি। পদটি গৌরাঙ্গের ভাব
প্রকাশমূলক পদ। এখানে গৌরাঙ্গ কৃষ্ণভাবে ভাবিত, তাই চাঁদের দিকে চেয়ে তাঁর চন্দ্রতুল্য রাধারাণীকে
মনে পড়ে, বিরহ-সমুদ্র উথলে উঠছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পূরব বিলাস গোরা ভাবি মনে মনে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ উত্তর গোষ্ঠ॥

পূরব বিলাস গোরা ভাবি মনে মনে।
ধবলী সাঙলী বলি ডাকে ঘনে ঘনে॥
ছিদাম ছিদাম বলি ঘন লয় নাম।
ক্ষণে ক্ষণে ডাকে কোথা দাদা বলরাম॥
দেখিয়া ভাবের গতি নিত্যানন্দ রায়।
সিঙার শবদ করি বদনে বাজায়।
বাসুদেব ঘোষ চাহে মনের হরিষে।
তাহাতে গৌরাঙ্গলীলা করিলা প্রকাশে॥

সূত্র - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ - ১৫।

মন্তব্য -
পদটি এ পর্যন্ত অপ্রকাশিত। এখানে গৌরাঙ্গ গোষ্ঠলীলার ভাবে আবিষ্ট হয়ে লীলা করেছেন।
শ্রীদাম বলরাম, ধবলী শ্যামলী বলে তিনি ডাক দিয়েছেন। ভাবের গতি বুঝে
নিত্যানন্দ শিঙার শব্দ করেছেন। সেই আনন্দময় দৃশ্য দর্শন করে কবি পদটি রচনা
করেছিলেন। গৌরাঙ্গের গোষ্ঠলীলা অবলম্বনে অন্যত্র প্রকাশিত পদও রয়েছে ( ভত্তিরত্নাকর -
৯৩৫পদ)।
---চিত্রা রায়॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪২-
পৃষ্ঠায় এইরূপে প্রকাশিত হয়েছিল।

পূরব বিলাস গোরা ভাবি মনে মনে। ধবলী শ্যামলী বলি ডাকে ঘনে ঘনে॥
শ্রীদাম সুদাম বলি ঘন লয় নাম। ক্ষণে ক্ষণে ডাকে কোথা দাদা বলরাম॥
দেখিয়া ভাবের গতি নিত্যানন্দ রায়। শিঙ্গার শবদ করি বদনে বাজায়॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনের হরিষে। গুপত গৌরাঙ্গ-লীলা করিলা প্রকাশে॥


.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পূরব প্রেমের ভরে গৌরাঙ্গ মাতিল
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পূরব প্রেমের ভরে গৌরাঙ্গ মাতিল।
সুরধুনি সন্নিধানে দান সিরজিল॥
গৌরীদাসে সুবল বলিয়া ঘন ডাকে।
আউির ( আহির ) রমণি বলি ঘন ঘন হাঁকে॥
পারিষদ গণ ভাবি ভাবেতে বিভোর।
বাহু নেত্র বিস্তারিয়ে সভে লেই কোর॥
বাসুদেব ঘোষ কহে না কর উল্লাস।
পূরুবের দানলীলা নদিয়ায় প্রকাষ॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ- ২৭৬৩।

মন্তব্য -
পদটি এ পর্যত কোন সংকলন গ্রন্থে দেখা যায় নি। এখানে দানলীলার ভাবে আবিষ্ট
গৌরাঙ্গ ও তাঁর সহচরদের বিচিত্র আচরণ কবি বর্ণনা করেছেন। গৌরাঙ্গের দানলীলা
অবলম্বনে বাসু ঘোষের লেখা আন্যত্র প্রকাশিত পদও রয়েছে ( পদকল্পতরু - ৯৩৬৮ )।---
চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
একদিন মহাপ্রভু নবদ্বিপ মাঝে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

একদিন মহাপ্রভু নবদ্বিপ মাঝে।
পারিসদ সঙ্গে প্রভু সদত বিরাজে॥
চৌদিকে দ্বিপ আলা জ্বালি ভত্তগণ।
তার মাঝে নাচে গোরা শ্রীসচিনন্দন॥
দ্বিপ আলা জ্বালি ভক্ত মঙ্গল গায়।
মাঝে কনআগিরি অবনি লোটায়॥
বাসুদেব ঘোষ কহে এহো রসফান্দ।
সভাকারে প্রেম জাচি দিছে গোরাচাঁদ॥

সূত্র - সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৪১৬।

মন্তব্য -
পদ দুটিতে (“একদিন মহাপ্রভু নবদ্বিপ মাঝে” এবং “একদিন মহাপ্রভু সংকীর্ত্তনে নাচে” )
কীর্তন ও নৃত্যরত গৌরাঙ্গের পরিচয় আছে। মিল এবং অমিল দেখে মনে হয় পদ দুটি
কবির লেখা একটি মূল রচনা থেকে নকল করা হয়েছে। দ্বিতীয় পদাটিতে রূপ সনাতন প্রসঙ্গ
মনে হয় পরে সংযোজিত হয়েছে। প্রথম পদটিই বেশী সম্পূর্ণ এবং অর্থের দিক দিয়েও
তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কোন সংকলন গ্রন্থে প্রকাশ পায় নি। তাই আমরা এটিকে নতুন পদ
হিসাবে গ্রহণ করেছি।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
একদিন মহাপ্রভু সংকীর্ত্তনে নাচে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

একদিন মহাপ্রভু সংকীর্ত্তনে নাচে।
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ প্রেম সভাকারে যাচে॥
চৌদিকে দীপের আলো দেই ভক্তগণ।
মাঝে উনমণ্ড নাচে শ্রীশচীনন্দন॥
দীপাবলী বেঢ়ি সবে পঞ্চম গায়ে।
রূপ সনাতন বলিহারি যায়ে॥
বাসুদেব ঘোষে কয় ইহ ঘন ফান্দ।
চৌদিকে দীপের আলো মাঝে গোরাচাঁদ॥

সূত্র -
সজনীদাসের পুথি পদসংখ্যা -৫, ৪৭ পৃ(মালবিকা চাকি কর্ত্তিক উদ্ধৃত )।

মন্তব্য -
পদ দুটিতে (“একদিন মহাপ্রভু নবদ্বিপ মাঝে” এবং “একদিন মহাপ্রভু সংকীর্ত্তনে নাচে” )
কীর্তন ও নৃত্যরত গৌরাঙ্গের পরিচয় আছে। মিল এবং অমিল দেখে মনে হয় পদ দুটি
কবির লেখা একটি মূল রচনা থেকে নকল করা হয়েছে। দ্বিতীয় পদাটিতে রূপ সনাতন প্রসঙ্গ
মনে হয় পরে সংযোজিত হয়েছে। প্রথম পদটিই বেশী সম্পূর্ণ এবং অর্থের দিক দিয়েও
তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কোন সংকলন গ্রন্থে প্রকাশ পায় নি। তাই আমরা এটিকে নতুন পদ
হিসাবে গ্রহণ করেছি।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
না জানি কোথা হইতে আইলেন কোথা যাইতে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না জানি কোথা হইতে             আইলেন কোথা যাইতে
নদিয়ায় কেশব ভারথি।
তার নাম শুনে কেনে                 কাপএ আমার প্রাণে
কি জানি কি হবে মোর ইথে॥
থাকি থাকি দুনয়ন                    অবিরত ঝুরে কেন
মন মোর সন্তোষ না পায়।
দক্ষিণ সে পয়োধর                       নাচয়ে দক্ষিণ কর
অমঙ্গল দেখি সমুদায়॥
গঙ্গার নিভৃত কুঞ্জে                      ভ্রমর নাহিক গুঞ্জে
রোই রোই বুলে সুকসারি।
কোকিল না করে গান                    সিখীগণ মোহ্যমান
কেনে এত বিপদ বিথারি॥
আপনার দুঃখ সুখ                     তৃন করি মানি এক
গোরা বিনে কেবা মোর আছে।
বাসুদেব ঘোষ কয়                     এ বাসনা মোর হয়
সন্ন্যাস করএ জাঞা পাছে॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি, চিওরঞ্জন সংগ্রহ - ৩৫৬, পত্র- ১২, পদসংখ্যা-৬১।

মন্তব্য -
পদাটি কোন সংকলন গ্রন্থে প্রকাশ পায়নি। তবে পদটি বাসুদেব ঘোষের লেখা সন্ন্যাস বিষয়ক পদাবলীর
ধারার মধ্যে অন্ততম। গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস গ্রহণের আগে থেকেই বিষ্ণুপ্রিয়ার অন্তরে জেগেছিল অমঙ্গল
আশঙ্কা। এই অমঙ্গল আশঙ্কাকে অবলম্বন করে কবি বেশ কয়েকটি পদ রচনা করেছেন --- আলোচ্য
পদটিও সেই ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভাষা এবং বর্ণনাভঙ্গী বাসুদেব ঘোষেরই সমতুল্য এবং ভণিতাতে
'বাসুদেব ঘোষ' নাম স্পষ্ট ভাষায় প্রযুক্ত হয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
না জানি ফলিল কার সাঁপ
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না জানি ফলিল কার সাঁপ।
ওরে গোরা তুমা বিনে           অন্ধকার দেখি দিনে
মরিব গঙ্গাতে দিআ ঝাঁপ॥
সচি ফুকারিয়া রোয়ে           অবনি ভাসিল লোয়ে
আহা মরি মরি বিষ্ণুপ্রিয়া।
বধূর লোচন সচি                 নিজের আচলে মুছি
আপনি পড়িল মুরছিয়া॥
চৌদিকে রোদন ধ্বনি       নিমাক্রি বিনে নাঞি শুনি
সব লোকে করে হায় হায়।
বাসুদেব ঘোষে কয়               ই সময় সন্ন্যাস নয়
তবু হিয়া বিদরিয়া জায়॥

সূত্র -
বরাহনগর পাঠবাড়ী পুথি ২৬৫২। ২৬ বিচ্ছিন্ন পত্র।

মন্তব্য -
পদটি কেবলমাত্র ঐ পুথিটিতেই রক্ষিত আছে। এতে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাসে শচীর হাহাকার ভাষা পেয়েছে।
সবচেয়ে করুন যে চিত্রটি কবি রচনা করেছেন তা হল, শচী তরুণী পুত্রবধূর নয়নাশ্রু নিজ বস্ত্রাঞ্চলে মুছিয়ে
দিয়েছেন কিন্তু অসহ্য বেদনায় নিজেই মূর্ছিতা হয়ে পড়েছেন।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নদীয়া ছাড়িয়া খেল গৌরাঙ্গসুন্দর
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নদীয়া ছাড়িয়া খেল গৌরাঙ্গসুন্দর।
বিষ্ণুপ্রিয়া আদি সব বিরহে বিভোর॥
নদিয়া নাগরি কান্দে সিরে দিয়া হাথ।
কান্দে দেবি বিষ্ণুপ্রিয়া বলি প্রাণনাথ॥
নদীয়ার লোক কান্দে ব্যাকুল হইয়া।
আমা সভা বধি গোরা গেলরে ছাড়িয়া॥
কি লাগি দারুণ বিধি মোর বাম হৈল।
এ সুখ সময়কালে গোরা কোথা গেল॥
গোরার বিরহানলে দহয়ে অন্তর।
বাসু কহে না দেখিয়া হিয়া জরজর॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, পদ - ২৩৩২।

মন্তব্য -
পদটি কোন পদসঙ্কলন গ্রন্থে দেখা যায় নি। পদটিতে গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস নদীয়ানাগরী,
অপরাপর নদীয়াবাসী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার শোক এবং বেদনা ভাষা পেয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোউর আমার আসিবে নদ্যাপুরে আরবার
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


গোউর আমার আসিবে         নদ্যাপুরে আরবার
গোউর আমার আসিবে॥
নদ্যা শান্তিপুরে                      অদ্বৈতের ঘরে
গৌরাঙ্গ করেছে থানা।
আমা সভায়                        নিতাই যে সেছে
বিষ্ণুপ্রিয়ে জেতে মানা॥
হেদেলো মেলেনি                     কি কথা শুনালি
কি দিলি দারুণ বেথা।
ছাড়ি গ্রেহবাস                        করিয়ে সন্ন্যাস
কেমনে মুড়ালে মাথা॥
কেমন করিয়ে                        মুড়ালো কেস
মায়েরে না বলিয়ে।
কেমন নাপিত                       সে গো মেলেনি
কেমন তাহার হিয়ে॥
উত্তম দেখিয়া                        বিভাহ দিলাম
কূলিন ব্রাহ্মণের ঝি।
কাল বিভাহ হলো              আজি সন্নাসে গেলো
বিষ্ণুপ্রিয়ার হবে কি ॥
খিরোদ সাগরে                       কামনা করিয়ে
পেয়েছিলাম গুণনিধি।
বসাইলাম হাট                   না পেলেম বেসাতি
দুখ দিল দারুন বিধি॥
বাসু ঘোষে বলে                    গৌর লিলে ছলে
মায়েরে অনাথ করিয়ে।
ডন্ড ধরিয়ে                            কপিন পরিয়ে
নদ্যা গেল আঁধার করিয়ে॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি - ৮৭৩।

মন্তব্য -
পদটিতে সমস্ত বক্তব্য শচীর মুখে বলানো হয়েছে। পদটির ছন্দে একটি নতুন সুর রয়েছে। আকারেও
পদটি কিছু দীর্ঘ। নারীর মুখে বক্তব্য সন্নিবেশিত হয়েছে বলে কবি সচেতন ভাবে নারীসুলভ বাক্যের
সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন --- যেমন --- 'লো' 'গো' প্রভৃতি শব্দ প্রয়োগ এবং 'বিধি'কে দোষারোপ --- ইত্যাদি।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মোর বাছা বিশ্বম্ভর আর কেহ নাহি মোর
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মোর বাছা বিশ্বম্ভর              আর কেহ নাহি মোর
তুমি ধন দুই আঁখির তারা।
এ সুধ সম্পদ তোর               . বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ মোর
ত্বরায়া ভাসাআ যাবি পারা॥
আমি বিধবা মাতা তোর           তুমি ধন প্রাণ মোর
মোরে ছাড়এ কোন উচিত।
জতদিন বাচি আমি                   গৃহবাস কর তুমি
তবে কর জেহ মোর হিত॥
হেনবুদ্ধি পালে কোথা        কার বোলে মুড়াল্যে মাথা
নবিন বয়স জে তোর।
মোর বাছা বিশ্বম্ভর                   বেবোল নাঞি ধর
ফিরিআ চলহ নিজ ঘর॥
নদীয়া ছাড়িয়া যাইলে             দিবসে আঁধার কৈলে
কিছুমাত্র দেখিতে না পাই।
বাসুদেব ঘোষে কহে              হেন কথা শিক্ষা লহে
এ কৈল ভারথি গোসাঞি॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি, ২৪১৬, বিচ্ছিন্ন পত্র-৪।

মন্তব্য -
পদটি উক্ত পুথিতে ছাড়া আন্যত্র দেখা যায় না। এতে শচীর আকুল ক্রন্দনের সঙ্গে, পুত্রকে সন্ন্যাস থেকে
নিবৃত্ত করে, ঘরে আটকে রাখার প্রানান্তকর প্রয়াস দৃষ্টিগোচর হয়। শেষে মাতা এমনও জানিয়েছেন যে
তাঁর মৃত্যুর পর গৌরাঙ্গ যা ভালো মনে করেন করবেন, কিন্তু যতদিন তিনি জীবিত থাকেন, ততদিন যেন
গৌরাঙ্গ গৃহবাসী থাকেন।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ইহায় কপিন কে পরাল্যো
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ইহায় কপিন কে পরাল্যো।
বাসি চূড়া কোথা রহিল্যো॥
কলিঘোর তিমির আইল্য গোরাচাঁদে।
হরিনাম সংকীর্ত্তনমাঝে নিরবধি কাঁদে॥
পূরুবে বান্ধিল চুড়া ইবে কেশহিন।
পিতবাস ছাড়ি গোরা পরিল কপিন॥
পুরুবে শুন্যাছি সিতার পাতি ছিল রাম।
কেহু বলে নন্দের নন্দন নটবর শ্যাম॥
ভাবের আবেশে গৌর হরি হরি বলে।
লোটাঞা লোটাঞা পড়ে নিতাইচাঁদের কোলে॥
রাম অবতারে য়নুজ লক্ষ্মণ ছিল কাছে।
নবদ্বিপে জন্ম নিঞা হরিনাম জাচে॥
বাসুদেব ঘোষে কয় ধন্য নদ্যাবাসি।
বলরাম অবধৌত কানাঞি সন্ন্যাসি॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি ৬৭৬।

মন্তব্য -
সমগ্র পদটি কোন সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় নি। তবে এর কোন কোন ছত্র বাসু ঘোষের অন্য
পদেও দৃষ্ট হয়। পদটিতে অবতার রূপে গৌরাঙ্গের কথা বলা হয়েছে। সদ্য সন্ন্যাসী
গৌরাঙ্গের ভাবাকুল চিত্র কবির হৃদয়ে যে আলোড়ন তুলেছে --- এখানে তাই ভাষারূপ
পেয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর