কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
নিশি অবশেষ কালে গোরা গেল অন্তরালে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২০৭ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


নিশি অবশেষ কালে          গোরা গেল অন্তরালে
কণ্টকনগরের ঘাটে।
বিহানে দেখিয়া ঘরে           না দেখিয়া বিশ্বম্ভরে
সোকে সচির প্রাণ ফাটে॥
জানিলাম গৌরাঙ্গ গেল ছাড়ি।
উর্দ্ধমুখ হঞা কান্দে            কেশবেশ নাহি বান্ধে
অবনিতে দিয়া গড়াগড়ি॥
নদিয়া নাগরি তায়                কান্দিছে উভরায়
আর কান্দে বৈষ্ণব মালিনী।
সকল নদিয়া কান্দে            কেশবেশ নাহি বান্ধে
কুথা গেল গোরা গুনমণি॥
কে না দিল ই নামমন্ত্র        কে সিখাইল এনা তন্ত্র
কেনে গোরা হইল সন্ন্যাসী।
নদীয়া আনন্দ ছিল            গোকুলের পারা হৈল
ভারথি অনাথ কৈল আসি॥
বাসু ঘোষ কহে দড়             গোরা দয়াময় বড়
দেখিয়া কলির অন্ধকার।
অখিল জিবের লাগি             গোরা হুইল বিবাগি
যান গোরা তরিতে সংসার॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৪৯৯৬।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দুই দিগে দুই মহাপ্রভু মধ্যে গৌরহরি
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২০৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুই দিগে দুই মহাপ্রভু মধ্যে গৌরহরি।
মহন্ত সব বৈসে সারি সারি॥
সমুখে পানরা করি জলপাত্র দিল।
দধি দুগ্ধ ঘৃত ছেনা পরিবেশন কৈল॥
ভোগের উপর দিল তুলসি মঞ্জরী।
নিত্যানন্দ দিল ভোগ নিবেদন করি॥
ভোজন করিয়া সবে কৈল আচমন।
তবে অবসেস বাটেন ভক্তগণ॥
প্রসাদ খাইয়া সভার আনম্দ বাড়িল।
জার জেহ বাসস্হান গমন করিল॥
খড়দহে চলিল নিতাই গৌরাঙ্গ গোরাধাম।
অদ্বৈত চলিয়া গেলা সান্তিপুর গ্রাম॥
জার জেই বাসস্থান গমন করিল।
বিরহে ব্যাকুল বাসু কান্দিতে লাগিল॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪, ২৩২৪ নঃ পদ

মন্তব্য -
পদটি উল্লিখিত পুথিতে ছাড়া অন্যত্র দেখা যায় না। পদটি মনোযোগ সহকারে
লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এটি গৌরাঙ্গের তিরোধানের পরের কোন অনুষ্ঠানকে
ইঙ্গিত করে লেখা। কারণ --

১) এতে গৌরাঙ্গের কোন আচরণের উল্লেখ নেই ।
২) নিত্যানন্দের 'ভোগ নিবেদন" করা প্রসঙ্গে মনে হয়, যেন গৌরাঙ্গের
মূর্তির উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদিত হয়োছিল।
৩) 'বাসস্থান' গমন প্রসঙ্গেও কবি নবদ্বীপের উল্লেখ করেন নি । 'গৌরাঙ্গ
গোরাধাম' -বলতে সম্ববত অমর্ত্ত্যলোককেই নির্দেশ করা হয়েছে।
৪)  ভণিতাতে কবি ক্রন্দনাকুল, 'বিরহে ব্যাকুল'- গৌরাঙ্গ যদি নবদ্বীপেই থাকেন
তবে বাসুঘোষের বিরহ কেন ? গৌরাঙ্গ নেই -- তাই কবির হাহাকার এতো
আন্তরিক।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
মহামহোৎসব সম্পূর্ণ কারণ
মহা মহা মহোত্সব সম্পূর্ণ কারণ
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মহন্ত বিদায়॥

মহামহোৎসব সম্পূর্ণ কারণ।
দধিমঙ্গল আনাইল শ্রীশচীনন্দন॥
গৌরিদাশ কির্ত্তনিয়ার গলায় ধরিয়া।
কহিছেন মহাপ্রভু কান্দিয়া কান্দিয়া॥
নিত্যানন্দ মুখ হেরি কহে গৌররায়।
কেমনে বিদায় দেব মুখে না বাহিরায়।
গোলক সম্পদ হরিনাম সংকীর্ত্তন।
কেমনে করিব পূর্ণ ফাটে মোর মন॥
নিজ নিজ স্থানে জাও মহান্তের গণ।
তা সভা না দেখিয়া বাসু হইলা বিমোন॥
আঁখি মিলি চায় বাসু দেখিতে না পায়।
একই কালে কোথা গেলা শ্রীচৈতন্য রায়॥

সূত্র -
ক। বিশ্বভারতী পুথি - ৬৭৯৮
খ। বিশ্বডারতী পুথি - ১৯৪৮

মন্তব্য -
পদটি বিশুভারতীর দুটি পুথি ছাড়া অন্যত্র প্রকাশিত হয় নি। পদটি পাঠ করে মনে হয়
আপাতদৃষ্টিতে  গৌরাঙ্গ  মহোৎসব শেষে  গৌরীদাস  নিত্যানন্দ প্রমুখ মহন্তদের বিদায়
জানাচ্ছেন। কিন্তু শেষে 'আঁখি মিলি চায় বাসু দেখিতে না পায়' --- ইত্যাদি বর্ণনা খেকে
অনুমান হয় পদটি গৌরাঙ্গ গৌরীদাস এবং নিত্যানন্দের তিরোধানের পর লিখিত হয়। কবি
কল্পনা-নেত্রে 'মহন্তবিদায় দৃশ্য' দর্শন করছিলেন কিন্তু চোখ মেলে বাস্তবে তাকাতেই আর
কাউকেই তাঁর নজরে পড়ল না।---চিত্রা রায়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল।

মোহান্ত বিদায় বা পূর্ণ
॥ রাগিণী চৌড়ি - তাল একতালা॥

মহা মহা মহোত্সব সম্পূর্ণ কারণ। দধিভাণ্ড আনাইলা
শ্রীশচীনন্দন। গৌরীদাস কীর্ত্তনীয়ার গলেতে ধরিয়া। কহিছেন
মহাপ্রভু কাঁদিয়া কাঁদিয়া॥ গোলোকের সম্পত্তি হরিনাম সংকীর্ত্তন।
কোমনে করিব পূর্ণ কাঁদে মোর মন॥ চৈতন্য কহেন শুন
নিত্যানন্দ ভাই। আপনি করুন প্রভু মোহান্ত বিদায়॥ অদ্বৈত
আচার্য্য প্রভু গেলা শান্তিপুরে। চৌষট্টি মোহান্ত গেলা নিজ নিজ
ঘরে॥ এক কালে কোথা গেলা শ্রীচৈতন্য রায়। আঁখি মেলি
বাসুঘোষ দেখিতে না পায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরাচাঁদে জাই বলিহারি
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরাচাঁদে জাই বলিহারি।
হেন মনে করি গোরাচাঁদে হার করিয়া পরি॥
জত জত পাপি ছিল এ তিন ভুবনে।
সরণ লইল এই গৌরাঙ্গ চরণে॥
কেমনে গড়ল বিধি কত রস দিয়া।
ও রূপ দেখিয়া রূপ না গেল মিলিঞা॥
বাসুদেব ঘোষে বলে মনে অনুমানি।
কেমনে ধৈরজ ধরে রসিক রমণী॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি, চি. সং ২৬৭।  
খ। খ. সাহিত্য  পরিষদ পুথি ২৩২২।
গ। গ. পাঠবাড়ী পুথি, ২৬ধ, ৬ পত্র।

মন্তব্য -
পদটি তিনটি পুথিতে লিপিবদ্ধ খাকলেও সংকলন গ্রন্থে দেখা যায় নি। এতে গৌরনাগরী
ভাবনা ব্যঞ্জিত হয়েছে। গৌরাঙ্গের রূপ দর্শনে নাগরীর হৃদয়ে যে আলোড়ন জেগেছিল
পদটিতে তারই পরিচয় আছে। অথচ দ্বিতীয় ছত্র দুটিতে গৌরাঙ্গ যে স্বয়ং কৃষ্ণ এই
ধারণাও আভাসিত হয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিতাই সঙ্গেতে গোরা রায়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিতাই সঙ্গেতে গোরা রায়।
পথ আলা করি চলি যায়॥
আর জত সহচর মেলি।
সঙ্গে জায় হরি হরি বলি॥
নদে নারি হেরি গোরাচাঁদে।
কেহু ডাকে স্থির নাহি বান্ধে॥
গৌর চলিছে পথে পথে।
নদে নারি দেখে যূথে যূথে॥
কেহ বলে আন ফিরাইয়া।
দেখি মোর নয়ান ভরিয়া॥
দেখ দেখ চাঁদ মুখের হাসি।
আমিয়া ঝরিছে রাশি রাশি॥
চকিত হইয়া সভে জায়।
বাসুদেব ঘোষ রস গায়॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি, ১৯৪৮ ( পদ শশাঙ্ক )

মন্তব্য -
পদটি 'পদশশাঙ্ক' নামক এক জীর্ণ পদসংকলন পুথির অন্তর্ভূক্ত। অন্য কোন সংকলন গ্রন্থে
বা পুথিতে পদটি দেখা যায় না। পদটির বিষয় এবং বর্ণনা-ভঙ্গী প্রত্যক্ষদর্শীতার  
অনুভূতিতে ভরা। গৌর-নিতাই পথ আলো করে চলেছেন - সঙ্গে রয়েছেন অন্য সহচররাও।
নদীয়া নাগরী ভাবের পৃষ্ঠপোষক এই কবি কল্পনা করেছেন যে, সে দৃশ্য দর্শনে নাগরীদের
মধ্যে পড়ে গেছে চঞ্চলতা। তাঁরা অনিমেষে সেই রূপ ও ( অমৃত রাশির সমতুল্য ) হাসি
নয়ন ভরে দেখে নিতে চাইছেন।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা জব আয়ব নবদ্বিপমাঝ
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরা জব আয়ব নবদ্বিপমাঝ।
ধরব কীর্ত্তন সব ভকত সমাজ॥
আলিপনা দিয়ব আনি নিজ নারি।
মিলন কলস করব কুচ ভারি॥
প্রিয়জন আনব রাখিব সমিপে।
ঘৃত পুরি রাখব রতন প্রদিপে॥
আগুসারি আসব তেজিব লাজ।
জায়ব হাম আনব গৃহমাঝ॥
জাইতে জাইতে ধনি অচেতন ভেল
প্রভুসনে দরশন মিলন ভেল॥
দরশনে পরশনে পুরল আশ।
বাসুদেব ঘোষ কহে মধুরিম ভাষ॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৬২০৪ ( ১৯১ ও ১৯৯৭ পদ )
খ। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় পুথি, ৩৪২
গ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৪২৩৮ ( মাধবদাস ভণিভা )

মন্তব্য --
‘গোরা জব আয়ব নদিয়া নগরে’ এইভাবে শুরু প্রায় সবই বিশ্বভারতী পুথির মতন। শুধু শেষ
দৃই চরণে মাধব দাস ভণিতা।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কি কর গৌরাঙ্গচান্দ নিশ্চিন্তে বসিয়া
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি কর গৌরাঙ্গচান্দ নিশ্চিন্তে বসিয়া।
নদিয়া নাগরি সব কুলে দাঁড়াইয়া॥
ঝট পার কর গোরা বেলি অবসান।
সুরধুনী তরঙ্গ দেখি কাপয়ে পরাণ।
তরণি লইয়া চল জমুনারি তিরে।
তাহা সুনি নৌকা লএ চলিলা সত্তরে॥
যেখানে নাগরি সব উপনিত হল্যা।
বাসুদেব ঘোষের মনে আনন্দ বাড়িলা॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি - ১৭৩৪।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কালি হাম কুঞ্জে গৌর জব ভেট
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কালি হাম কুঞ্জে গৌর জব ভেট।
সজল নয়নে বয়ান করি হেট॥
এক হাম কহই কহত আর বোল।
ঢর ঢর লোচন হেরি মুখ মোর॥
চুম্বই অধর নির সাধর মেলি।
আনহুঁ ভাতি রভস রশকেলি॥
মান ভরসে হাম হাসিত সাধ।
না জানিএ কৈছে পহু পরমাদ॥
আলিঙ্গন দেই রহই পুনবন্ধ।
সরমহু আল সিথিল ভুজবন্ধ॥
করহু কপট অবমনমে হাসোই।
ভাবিতে বিরহ দুখ বাসুদেব রোই॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি, চিত্তরঞ্জন সংগ্রহ ৩৫৬, ৬৩ নং পদ।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৪৯৭২।

মন্তব্য -
পদটি কোন পদসংকলন গ্রন্থে স্থান পায়নি। দুটি প্রাচীন পুথিতে পদটি আমরা পেয়েছি।
পদটিতে ভাব সম্মেলনের সুর ধ্বনিত হয়েছে। গৌরাঙ্গের অদর্শনে ক্রন্দনরত কবি
গৌরনাগরীভাবে ভাবিত হয়ে যেন, গৌরাঙ্গের মিলনসুখ অনুভব করতে চেয়েছেন। তাই
মিলনের বর্ণনা শেষে 'বিরহদুখ' প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কত দীন হীন জনে তুমি কৈলে প্রেমদানে
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কত দীন হীন জনে            তুমি কৈলে প্রেমদানে
সুন গৌর আমার বচন।
অজামিল হৃত পাপে            তৃভূবন ডরে কাঁপে
তারে দিলে উ রাঙ্গা চরণ॥
পাপি ছিল দুটি ভাই              নাম জগাই মাধাই
বধ কৈল কত শত জন।
কুম্ভকানা ফিলি মাল্যে       তভু নাহি ক্রোধ কৈলে
তারে দান কৈলে প্রেধধন॥
বাসুদেব নামে জার            উৎকলে বসতি তার
সর্বাঙ্গ আছিল গলিত হয়্যা।
তাহারে করুণা করি             উদ্ধারিলে গৌরহরি
প্রেমাবেশে কোলেতে করিয়া ॥
নিজসঙ্গে ছিল জেই              প্রেমধন পাল্য সেই
প্রেমে ভাসাইলে তৃভুবন।
প্রেমচিন্তামণি দানে               উদ্ধারিলে জগজনে
বাসু ঘোষে না কৈলে সরণ॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি ৫৩৪৬।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সরবষ প্রাণধন গৌরাঙ্গ জীবন
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সরবষ প্রাণধন গৌরাঙ্গ জীবন।
পরাণ পুতলি মোর দরিদ্রের ধন॥
আন্ধুয়ার নড়ি মোর নয়নের তারা।
দুখিয়ার হেম জেন তিলে তিলে হারা॥
বিনদ নাগর গোরা মোর দুখের দুখি।
রাধা রাধা বল্যা কেন ঝুরে দুটি আঁখি॥
সয়ন ভোজন পান সব ত্যাগ কৈল।
দেখিতে শুনিতে সেল অন্তরে জে দিল॥
গোরা উনমত দেখি পরাণ না রয়।
চলগো সরণ লই করিব বিনয়॥
সখি হঞ্যা গোরা জেন গৃহমাঝে থাকে।
ছিঞা শির পদে নতি করি লাখে লাখে॥
জাহ্নবি জমুনা সম পূয় কেহ নাঞি॥
নহেত সরণ নিব তার তটে জাই॥
বেদ বিধি অগোচর হেন অবতার।
ভাবিতে বিরহে কান্দে বাসুদেব ছার॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি, চিত্তরঞ্জন সংগ্রহ ৩৫৬, পত্র. ১২, পদ সংখ্যা - ৬২।
খ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি, ৪৯৭২।

মন্তব্য -
পদটি কোন সংকলন গ্রন্থে ধৃত হয়নি। এতে কবির হৃদয়ের একান্ত গভীর বেদনা ভাষা
পেয়েছে। কবি কখনো নাগরীভাবে, কখনো বা স্বয়ং কবি হিসাবেই গৌরাঙ্গের ঈশ্বর প্রেমে
উন্মত্ততা দর্শনে কাতর হয়েছেন। গৌরাঙ্গের ঈশ্বরাবেশ এবং ভাবাবেগকে তিনি সম্পূর্ণরূপে
উপলব্ধি করতে পারেন নি --- কিন্তু তাঁর 'রাধা' নামে ক্রন্দন এবং শারীরিক কৃচ্ছসাধন
ইত্যাদি দর্শনে তাঁর কোমল হৃদয় ব্যথা অনুভব করেছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কেমনে নাচাওত গোপাল নাচেরে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধাকৃষ্ণলীলা বিষয়ক পদ

কেমনে নাচাওত গোপাল নাচেরে।
করত বিনবলি নন্দরানিয়ারে॥
ঝুরিছে ঝলমল মউরি উপরে।
কত চন্দনে রঞ্জিত নয়ন কপোলে॥
মুকুতার মালা গলে গিমোহ ******।
কর পল্লব পৈছে পাট কি জোর॥
সোনার কিঙ্কিনী কোটি পর সাজে।
খিন খাড়ু রাঙা রাঙা পায় বাজে॥
করতালি দিয়া গিত গায় ব্রজরামা।
কহে বাসু ঘোষ নাচে কি দিব উপমা॥

সূত্র -
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি - ৩২৭।

মন্তব্য -
বাসুদেব ঘোষের লেখা কৃষ্ণের বাল্যলীলার বর্ণনাকারী আলোচ্য পদটি একটিমাত্র পুথিতেই
রক্ষিত আছে। পুথিতে হস্তাক্ষর এতোই অস্পষ্ট ও লিপি এতো প্রাচীন যে সর্বত্র পাঠোদ্ধার
করা যায় নি। এতে বেশ কিছু ব্রজবুলি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে বলে কৃষ্ণলীলার ঐশ্বর্য সুন্দর
ব্যঞ্জিত হয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর