কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
নয়ান ভরিয়া রাণি দেখে চাঁদমুখ
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটির প্রথম পংক্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি।


*  *   *    *      *     *     *    *   * ।
নয়ান ভরিয়া রাণি দেখে চাঁদমুখ॥
মায়ের অঙ্গুলি ধরি নাচিছিল কানু।
স্থির হও হও বাছা গেল দুই জানু॥
সনার সেকল জাদুর কটি মাঝে সাজে।
খিন খাড়ু রাঙা পায় ঝুনু ঝুনু বাজে॥
করে করতালি দিয়া নাচে ব্রজরামা।
কহে বাসুদেব ঘোষ কি দিব উপমা॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৪১৬, বিচ্ছিন্ন পত্র, প্রথমাংশ ছিন্ন।

মন্তব্য -
কৃষ্ণের বাল্যলীলার বর্ণনাসূচক আলোচ্য পদটির সৌন্দর্য প্রশংসনীয়। এখানে মাতা ও পুত্রের
দ্বাপরযুগীয় লীলাকে কবি চিরকালীন মাতা-পুত্রের হাস্যকলরোলে উত্তীর্ণ করে দিতে সক্ষম
হয়েছেন। পদের মধ্যে চরিত্রের মুখে সার্থক সংলাশ সংযোজন বাসুদেব ঘোষের লক্ষণীয়
রচনা-বৈশিষ্ট্য। এখানেও চঞ্চল শিশুর নৃত্য থামাতে মাতার “স্থির হও. . . জানু" --- সুপ্রযুক্ত।
পদটি কোন পদসংকলন গ্রন্থে দেখা যায় নি।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সিথায় সিন্দুর দিল জেন বাম করে
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সিথায় সিন্দুর দিল জেন বাম করে।
চন্দনের বিম্ব কি সোভে চারুভালে॥
নাসায় বেসর সাজে গজমোতি দোলে।
শ্রবণে শোভিছে রাধার মকর কুণ্ডলে॥
দসন দাড়িম বিজ অধর বাওল।
জেন পরায়ন আনি দনিয় হিঙ্গল॥
ছিআতে কাটাঙ্গ মাথে মুকুতার মালা।
নিতম্বে কিঙ্কিণী বাজে কিবা করে আলা॥
করেতে কঙ্কণ সোভা ভূষণ সুন্দর।
নিল বসন পরি অঙ্গের উপর॥
চরণে নূপুর সাজে বাজয়ে মধুর।
বাসু ঘোষ গুণ গায় করুণ পুচুর॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৪১৬, বিচ্ছিন্ন পত্র - ১৬।

মন্তব্য -
পদটি কোন সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় না। এতে রাধারাণীর রূপ এবং সাজসজ্জা বর্ণনা
করেছেন কবি।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সাজেন পসরা জাইতে মথুরা
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সাজেন পসরা                 জাইতে মথুরা
গোপিনী সকল জায়।
গজেন্দ্র গামিণী               রাধা সুলোচনী
পথ মাঝে সোভা পায়॥
সঙ্গে সহচরি                 গোপের নাগরি
চামর ঢুলায় অঙ্গে।
জায়া ধিরে ধিরে            প্রেমের সায়রে
নাগর সম্ভাষে রঙ্গে॥
সুনগো বড়াই                  কহিছেন রাই
কতদুর মধুপুর।
না পারে চলিতে            কহিল তোমাতে
আর সে না জাব দুর ॥
বড়াই কহেন                    সুনগো বচন
সবে দেখ পথ চাঞ্যা
নিকট হইল                     আটক রহিল
জতেক গোপের মেয়্যা॥
জাইতে জাইতে                 দেখি সৈকতে
দানি হল আগুয়ান।
জতেক কামিনী               গোপের রমণী
সভার লইব দান॥
বাসুদেব কয়                কহিলাম নিশ্চয়
আটক হইল পথ।
মোনের কামনা                মাধব ভাবনা
পুরুক মোনের রথ॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৪১৬, বিচ্ছিন্ন পত্র - ১৬।

মন্তব্য -
পদটি কোন সংকলন গ্রন্থে ধৃত হয় নি। রাধাকৃষ্ণলীলার অন্তর্গত দানলীলা অবলম্বনে বাসুদেব ঘোষ পদটি
রচনা করেছেন।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
রহ রহ বলি কহে বনমালি
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রহ রহ বলি                 কহে বনমালি
এড়ান নাহিক পাবে।
বুঝে দেহ দান              দিতে হছে দান
তবে সে মথুরা যাবে॥
সুন গো বুড়ি                  বড় দেখি ****
কিসের ম *** দান।
এতো দিন পথে             আসি মথুরাতে
কখন না শুনি আন॥
বাসু ঘোষে কয়               সুন অতিশয়
ঠেকিলে জানিবে তাই।
দিতে হল দান              দিখে নাহি মোন
এড়ান পাইবে নাই॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পূথি - ২৪১৬, পদ - ৫০, বিচ্ছিন্ন পত্র।
---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শুন পরাণ সখি কি না হৈল মোরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন পরাণ সখি কি না হৈল মোরে।
কানু প্রেম বিশানলে তনু মন জারে॥
রাত্রি দিনে পোড়ে মন সোয়াস্ত না পাউ।
যাহা গেলে কানু পাউ তাহা উড়ি যাউ॥
আমার মনের কথা কারে কব দুখ।
ব্রজেন্দ্রনন্দন বিনু ফাটে মোর বুক॥
কে জাবে মথুরাপুর তার লাগি পাই।
এ সব দুখের কথা কহিঞা পাঠাই॥
হাত কলম করি নঞান করি দৌত।
কলিযা কাগজ করি লেখি চান্দমুখ॥
বাসুদেব ঘোষ কহে বড়ই নিরাসে।
অগাধ জলের মিন মরিল পিয়াসে॥

সূত্র -
পাঠবাড়ী পূথি, ২৫৫১। ৬ক, পত্র - ২২।

মন্তব্য -
উল্লিখিত পুথিতে ছাড়া পদটি অন্যত্র দেখা যায় না। পদটি রাধাকৃষ্ণলীলার অন্তর্গত রাধা
বিরহের পদ। বাসু ঘোষের লেখা রাধা-বিরহের পদ বিভিন্ন সংকলনগ্রন্থে প্রকাশিতও হয়েছে
( পদকল্পতরু - ২৫৩১ )।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
বিন্দাবোনে কিবা সোভা সরষ বসন্ত
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিন্দাবোনে কিবা সোভা সরষ বসন্ত।
মলয় পবন বহে ঝরে মকরন্দ॥
মাধবি মালতি লতা * * * * পরাষ।
ফুটিল কুসুম বোল করিএ প্রকাষ॥
মাতল ভোমরা সব তোমা ধনি সঙ্গে।
ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া মত্ত ফেরে নানা রঙ্গে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে হইয়া বিভোল।
কৃষ্ণ সঙ্গহি খেলত দোল॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি - ১৭৩২।

মন্তব্য -
পদটি উল্লিখিত পুথিতে ছাড়া অন্যত্র দেখা যায় না। এতে রাধাকৃষ্ণের মিলনে বৃন্দাবনের
প্রকৃতির আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বর্ণিত হয়েছে।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সাত টাকায় সাত বিঘা সরিসার জমি
ভণিতা বাষুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সন্দিগ্ধ পদ
॥ আর্যা॥

সাত টাকায় সাত বিঘা সরিসার জমি।
হকু না হক খন্দ কৌড়ি নাই কমি॥
পাকা খন্দ দেখি তথা পক্ষের উৎপাত।
ফান্দ বসাইয়া গৃস্ত হইল তফাত॥
হেনকালে তথায় আইষে আশি হাজার
.           ছয়শ চল্লিশ পক্ষগণ
হরষিত হইয়া সরিষা করয়ে ভক্ষণ॥
দৈবযোগে এক পক্ষ পড়্যা গেল ফান্দে।
গৃহস্থের পায়ে ধব়্যা সেই পক্ষ কান্দে॥
পরাণে না মার মোরে সুন চাষা ভাই।
পক্ষক করিয়া কৌড়ি লহ মোর ঠাঞি॥
বাষুদেব ঘোষ তবে কহে কায়স্থেরে।
পক্ষপ্রিতি কত পড়ে কহত আমারে॥
এতেক ষুনিয়া তবে কায়স্থের গণ।
হাতে খড়ি লইয়া করে অঙ্কের পাতন॥
হরিয়া পুরিয়া অঙ্ক করিলে নির্ণয়।
পক্ষ প্রিতি এক দন্ডি কমি - বেশি নয়।
কহিলাম অঙ্ক জদি বুঝিতে না পার।
কথোদিনে গিয়া তবে আমার অস্তাতের সেবা কর॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি - ৮৪১.

মন্তব্য -
বিশ্বভারতী পুথিশালায় ৮৪১ নং পুথিতে 'আর্যা' শিরোনামে কেবল এই দুটি পদই রয়েছে।
পদ দুটি কোন সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় নি। এমন কি বাসুদেব ঘোষের আর কোন পদের
সঙ্গেও এর কোন মিল নেই। এ দুটিতে একবার বাসুদেব ঘোষ নাম উল্লিখিত হয়েছে এবং
কায়স্থ প্রসঙ্গও আছে বলে মনে হয় হয়তো কবি এই ধাঁধা জাতীয় পদ দুটি কোন
সময় রচনা করেছিলেন। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সাহিত্যে 'আর্যা' জাতীয় পদ তেমন অপরিচিত
ছিল না। তবু বাসুদেব ঘোষের পদাবলীতে পদ দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে এ দুটিকে সন্দিগ্ধ
পর্যায়ে সজ্জিত করা হল।---চিত্রা রায়॥

চিত্রা রায় “সাত টাকায় সাত বিঘা সরিষার জমি” এবং “সাত পাই সতর পাই সাত আনা
পাট্টা” এই দুটি “সন্দিগ্ধ পদ”-কে একত্রে রেখে একবারই টীকা লিখেছেন। পদ দুটি একত্রে
পেয়েছেন বলে দুটি পদকেই বাসুদেব ঘোষের পদ হিসেবে রেখেছেন। ২য় অর্থাত
“সাত পাই সতর পাই সাত আনা পাট্টা” পদটিতে বাসুদেব ঘোষের উল্লেখ নেই, অর্থাত
সেক্ষেত্রে ভণিতাহীন। আমরা সেই একই টীকা দুটি পদের সাথে আলাদা আলাদা ভাবে
রাখলাম ইনটারনেটের পাঠকের সুবিধার জন্য।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সাত পাই সতর পাই সাত আনা পাট্টা
ভণিতাহীন পদ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”,
৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সন্দিগ্ধ পদ
॥ আর্যা॥

সাত পাই সতর পাই সাত আনা পাট্টা।
দুই পাই পাচ পাই সাত পাই বাট্টা॥
পাট্টা দিয়া রাজার ঘুচিল রাজধানি।
হেঙ্গামেতে প্রজা কর না দেই তিন সনি॥
ঈশ্বর ----- লইল এক --------- ।
হরিয়া লইল টাকা সত্তুর হাজার॥
ত্রাস পাইয়া প্রজা গিয়া কায়স্তেরে কয়।
কত জমিতে তিন সনে সত্তুর হাজ্ঞার টাকা হয়॥
সিঘ্র করি কত জমি মোরে কহি দেহ।
নাই জদি পার তবে আমার অস্তাতে সেবহ॥
আমি ত তাহার প্রজা ষুন মহাশয়।
সাতসট্টি হাজার আট সত্ত আটাত্তর বিঘা
পনর কাটা তিন পুয়া জমি বুঝহ নিশ্চয়॥

সূত্র -
বিশ্বভারতী পুথি - ৮৪১

মন্তব্য -
বিশ্বভারতী পুথিশালায় ৮৪১ নং পুথিতে 'আর্যা' শিরোনামে কেবল এই দুটি পদই রয়েছে।
পদ দুটি কোন সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় নি। এমন কি বাসুদেব ঘোষের আর কোন পদের
সঙ্গেও এর কোন মিল নেই। এ দুটিতে একবার বাসুদেব ঘোষ নাম উল্লিখিত হয়েছে এবং
কায়স্থ প্রসঙ্গও আছে বলে মনে হয় হয়তো কবি এই ধাঁধা জাতীয় পদ দুটি কোন
সময় রচনা করেছিলেন। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সাহিত্যে 'আর্যা' জাতীয় পদ তেমন অপরিচিত
ছিল না। তবু বাসুদেব ঘোষের পদাবলীতে পদ দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে এ দুটিকে সন্দিগ্ধ
পর্যায়ে সজ্জিত করা হল।---চিত্রা রায়॥

চিত্রা রায় “সাত টাকায় সাত বিঘা সরিষার জমি” এবং “সাত পাই সতর পাই সাত আনা
পাট্টা” এই দুটি “সন্দিগ্ধ পদ”-কে একত্রে রেখে একবারই টীকা দিয়েছেন। পদ দুটি একত্রে
পেয়েছেন বলে দুটি পদকেই বাসুদেব ঘোষের পদ হিসেবে রেখেছেন। ২য় অর্থাত
“সাত পাই সতর পাই সাত আনা পাট্টা” পদটিতে বাসুদেব ঘোষের উল্লেখ নেই, অর্থাত
সেক্ষেত্রে ভণিতাহীন। আমরা সেই একই টীকা দুটি পদের সাথে আলাদা আলাদা ভাবে
রাখলাম ইনটারনেটের পাঠকের সুবিধার জন্য।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গ লাবন্যরূপে কি কহিব একমুখে
একে সে লাবণ্য রূপে কি কহিব একমুখে
ভণিতা বাসু / জয়ানন্দ / নয়নানন্দ
কবি বাসুদেব ঘোষ / জয়ানন্দ / নয়নানন্দ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং
পালাগান, ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

( রাগোল্লেখ নেই )

গৌরাঙ্গ লাবন্যরূপে            কি কহিব একমুখে
আর তাহে ফুলের সাজনি।
ও চাঁদের মুখের হাস          জিব লাগি হেনবাস
আর তাহে পিরিতি চাহনি॥
কেমন কেমন করে মন         সুরে লাগে উচাটন
পরাণ পুথলি তাহে কান্দে।
হেরিঞা গৌরাঙ্গ রূপ             বিদরএ জায় বুক
ইথে নাকি আর না সুর বান্ধে॥
দারুণ বিধিরে বলিব কি        করিলে কুলের ঝি
আর তাহে লএ সত-তরে।
পরাণ রহিবার নয়               কি করিব কুলভয়
মোনের আনলে পুড়ে মরে॥
কহিব কাহার আগে         কহিলে পীরিতি ভাঙ্গে
উপায় বল জাথে দুই ছান্দে।
বাসুদেব ঘোষের বাণি          সোন প্রিয়া সোজনি
ঠেকিলে গৌরাঙ্গ প্রেমফান্দে॥

সূত্র -
ক। বিশ্বভারতী পুথি, ৫০৪৬।
খ। জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল, পৃ*৬২ (জয়ানন্দ ভণিতা)।
গ। গৌরপদতরঙ্গিণী,  পৃ. ১১১ ( নয়নানন্দ ভণিতা )।

মন্তব্য -
পাঠান্তর দেওয়া হলেও জয়ানন্দের অমিল প্রচুর। তবু সাধারণভাবে বক্তব্য এক। তুলনায় পুঠির পাঠ
গৌরপদতরঙ্গিণীর পাঠের সাথে ভালো মেলে।---চিত্রা রায়॥
( আমরা পাঠান্তর এখানে তুলিনি।---মিলনসাগর॥ )

জয়ানন্দের ভণিতায়
ই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৫২শ অধ্যায়, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে জয়ানন্দের ভণিতায়
দেওয়া রয়েছে।

॥ বারাড়ি রাগ॥

একে সে লাবণ্য রূপে           কি কহিব একমুখে
আরে নানা ফুলের ছামুনি।
আলো সজনি॥
আর তাহে মধুর হাসি        জীব হেন নাঞি বাসি
আর তাহে বিরিতি চাহনি।
আলো সজনি॥
কোন বিধি গড়িল মুখ চান্দে।
কেমন কেমন করে মন          প্রাণ করে উচাটন
পরাণ পুতলী মোর কান্দে॥  ধ্রু।
বিধিরে বলিব কি              কব়্যাছে কুলের ঝি
আর তাহে নহি সতন্বরি।
আলো সজনি।
কহিলে সে লাজ ভয়             পরাণ রাখিল নয়
মদন আলসে পুড়্যা মরি॥
কহিব কাহার আগে         কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
জাতি কুল শীল নাই থাকে।
জয়ানন্দ বলে ডাকি               শুন সব চন্দ্রমুখী
ঠেকিলে গৌরাঙ্গ বেড়া পাকে॥
আলো সজনি॥

নয়নানন্দের ভণিতায়

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২য় পল্লব, রূপাভিসার,
২৯০-পদসংখ্যায়, নয়নানন্দের ভণিতায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কেবল রূপানুরাগ।
॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্য রূপে            কি কহব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
ও চান্দ মুখের হাসি        জিব না গো হেন বাসি
আর তাহে পিরিতি-চাহনি॥
সই লো বিহি গঢ়ল কত ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন          সব লাগে উচাটন
পরাণ-পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি               করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি সতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়             পরাণ রহিবার নয়
মনের আনলে পুড়্যা মরি॥
কহিব কাহার আগে        কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী               শুন শুন বিনোদিনি
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ-প্রেম-ফান্দে॥

ই পদটি সামান্য পাঠান্তর সহ, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ১০মপল্লব ,রূপানুরাগ, ৭৮৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্য রূপে             কি কহিব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
চাঁদ-মুখের হাসি               জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন             সব লাগে উচাটন
পরাণ-পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                   করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়                 পরাণ রহিবার নয়
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে            কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী                  শুন শুন বিনোদিনী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ-প্রেম-ফান্দে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৭৭-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্য রূপে             কি কহিব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
ও চাঁদ-মুখের হাসি            জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন             সব লাগে উচাটন
পরাণ-পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                 করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়            পরাণ বাহিরাবার নয়
প্রেম অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে          কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী                 শুন শুন বিনোদিনী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ-প্রেম-ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - ধরাতাল॥

গৌরাঙ্গ-লাবণ্যরূপে                কি কহব এক মুখে
আর তাহে কুলের কাচনি।
চাঁদ মুখের হাসি                জীব না গো হেন বাসি
আর পীরিতি চাহনি॥
সই লো বিহি গড়ল কত ছাঁদে।
কেমন কেমন করে মন               সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলি মোর কাঁদে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                   করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুললাজভয়                     পরাণ বাহির নয়
মনের আনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে            কহিলে পীরিতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বাঁধে।
নয়নানন্দের বাণী                   শুন শুন ঠাকুরাণি
ঠেকিলা গৌরাঙ্গপ্রেমফাঁদে॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৪৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ভীমপলশ্রী - ধড়া॥

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে            কি কহব এক মুখে
আর তাহে কুলের কাঁচনি।
ও চাঁদমুখের হাসি           জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে পিরীতি চাহনি॥
বিহি সে গড়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন          সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি               করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুললাজভয়               পরাণ রহিবার নয়
মনের আনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে        কহিলে পিরীতি ভাঙ্গে
চিতে মোর ধৈরজ না বাঁধে।
নয়নানন্দের বাণী               শুন শুন বিনোদিনী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফাঁদে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা-ধানশী॥

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপের,            কি কহব একমুখে,
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
ও চাঁন্দ মুখের হাসি,          জীব না গো হেন বাসি,
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
(সই লো) বিহি গঢ়ল কত ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন,           সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলী মোর কান্দে॥
বিধিরে বলিব কি,                 করিল কুলের ঝি,
আর তাহে নহি স্বতন্তরী।
গেল কুল লাজ ভয়,               পরাণ রহিবার নয়
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে,           কহিলে পিরীতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী,                   শুন শুন ঠাকুরাণী
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফাঁদে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৬-পৃষ্ঠায়, নয়নানন্দ (ভরতপুর)-এর পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ ধানশী॥

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে              কি কহিব এক মুখে
আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
চাঁদ মুখের হাসি                জীব না গো হেন বাসি
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।
কেমন কেমন করে মন              সব লাগে উচাটন
পরাণ পুতলি মোর কান্দে॥ ধ্রু॥
বিধিরে বলিব কি                   করিলে কুলের ঝি
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয়                 পরাণ রহিবার নয়
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে             কহিলে পিরীতি ভাঙ্গে
চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী                   শুন শুন বিনোদিনি
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”
নয়নানন্দ (ভরতপুর), ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ লাবণ্য রূপে কি কহিব এক               
মুখে আর তাহে ফুলের কাঁচনি।
চাঁদ মুখের হাসি জীব না গো হেন বাসি           
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি॥
বিহি সে গঢ়ল রূপ ছান্দে।                        
কেমন কেমন করে মন সব লাগে উচাটন          
পরাণ পুতলি মোর কান্দে॥
বিধিরে বলিব কি করিলে কুলের ঝি               
আর তাহে নহি স্বতন্তরি।
গেল কুল লাজ ভয় পরাণ রহিবার নয়             
মনের অনলে পুড়ে মরি॥
কহিব কাহার আগে কহিলে পিরীতি                
ভাঙ্গে চিত মোর ধৈরজ না বান্ধে।
নয়নানন্দের বাণী শুন শুন বিনোদিনি                
ঠেকিলা গৌরাঙ্গ প্রেম ফান্দে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নবিন রমণি ধনি পিয়া দরশনে
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীমতী চিত্রা রায় মনে করেন যে বাসুদেব ভণিতার পদ হলেও তা বাসুদেব ঘোষের
পদ বলে নিঃসন্দেহে গ্রহণ করা যায় না। টীকা দ্রষ্টব্য।

নবিন রমণি ধনি           পিয়া দরশনে।
শুমতি  না দেয় ধনি       না শুনে বচনে॥
অঙ্গ পরশিতে ধনি        রাই কর ঠেলি।
না দেই ধনি                সব রজনি গেলি॥
চমকি চমকি ধনি          ধরে দুই পাদ।
কাকুতি করয় ধনির       রস কৈল বাদ॥
পরিরম্ভ আরম্ভ            বাড়য়ে আতঙ্ক।
পিয়ামুখ হেরি ধনির       মুখ কেন বঙ্ক॥
বাশুদেব কহে ধনি         কর অবধান।
রতিরস পরশসুখ         হএ অনুমান॥

সূত্র -
ক। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৩২২, পত্র ৭।
খ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২০১, পদ -- ৬২।

মন্তব্য -
পদটি কোন পদসংকলন গ্রন্থে দেখা যায় না। পদটিতে বাসুদেব ভণিতা প্রযুক্ত" হলেও
বাসুদেব ঘোষের রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলীর ধারায় এই পদাটিকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।
কারণ বাসুদেব ঘোষ অঙ্কিত রাধারাণী মিলনের সময় প্রিয়মুখ দর্শনে আতঙ্কিত রমণী নন,
ভীরু নন। তাঁর অঙ্কিত রাধা পূর্ণ যৌবনা চতুরা রমণী। তিনি প্রিয়তমের সঙ্গে মিলনের জন্য
দধি ছানা বিক্রয় করতে পথে নামেন। আবার মিলনের সময় বলেন - "ওহে নব জলধর।
বরিষ হরিষ বড় মনে "। তাই পদটিকে নিঃসন্দেহে বাসুদেব ঘোষের লেখা বলে গ্রহণ করা
যায় না।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হায়রে চৈতন্যপদ না ভজিয়া মল্যাম
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.
ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”,
৪র্থ অধ্যায়, নবাবিষ্কৃত পদাবলী এবং পালাগান, ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হায়রে চৈতন্যপদ                 না ভজিয়া মল্যাম।
আপন করমদোষে                আপুনি ডুবিলাম॥
অধনে জতন করি                 ধরতিয়া গেলাম।
পাইয়া চৈতন্যপদ                  হেলাতে হারাইলাম॥
সাধুসঙ্গ ছাড়ি কৈলাম              অসত বিলাস।
তেকারণে করম বন্ধনে            পেলাম ফাশ॥
গোউর কির্ত্তনে কেন                না কান্দল মন।
মনস্য দুর্লভ জন্ম                   গেল অকারণ ॥
কি লাগি ধরহ প্রাণ                 কি সুখ লাগিয়া।
বাসুদেবের হিয়া কেন             না গেল গলিয়া॥

সূত্র -
সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৪৩৩।

মন্তব্য -
পদটি কোন সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় নি। পদটিতে চৈতন্যপদ না ভজনা করার জন্য কবির
আক্ষেপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু চৈতন্যদেবের প্রিয় পার্ষদ বাসু ঘোষের কবিতায় এই  
আক্ষেপের কারণ কি? যদিও এঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, বাসু
ঘোষ তমলুক বাসকালে বিবাহ করেছিলেন বলে উল্লেখ পেয়েছি এবং হয় তো তখনই পদটি
রচনা করেছিলেন। তখাপি গৌরপদ না পাওয়ার বেদনা প্রকাশক আর কোন পদ, পুথিতে বা
সংকলনগ্রন্থে দেখা যায় না বলে পদটি সন্দিগ্ধ পর্যায়ে সজ্জিত হল।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর