| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে হরি হরি গোরা কেনে কান্দে হরি হরি গোরা কেন কান্দে ভণিতা বাসুঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ৮মপল্লব ,অনুরাগে কুণ্ডে মিলন, ৭৬৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে। নিজ সহচরগণ পূছই কারণ হেরই গোরামুখ-চাঁদে॥ ধ্রু॥ অরুণিত লোচন প্রেম-ভরে ভেল দুন ঝর ঝর ঝরে প্রেম-বারি। যৈছন শিথিল গাঁথল মোতিফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সোঙরি বৃন্দাবন নিশাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই করি ধরণি পড়ল মূরছিয়া॥ তহিঁ প্রিয় গদাধর ধরিয়া করল কোর কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া। পুন অট্ট অট্ট হাসে জগ-জন মন তোষে বাসুঘোষে মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের পুথি (সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ সন্ধ্যাবধি শ্রীকৃষ্ণস্য দর্শনাৎ রাধায়াঃ অব্যক্ত-পূর্ব্বরাগঃ। তত্র গৌরচন্দ্রঃ। ॥ পাহিড়া রাগ॥ হরি হরি গোরা কেনে কান্দে। প্রিয় সহচরগণ পুছই কারণ হেরি গোরামুখচান্দে॥ অরুণ লোচন প্রেমভরে পুন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। যৈছন শিথিল গাথি মোতিফল খসএ উপরি উপরি॥ সোয়ঁরি বৃন্দাবন নিশাসই পুন পুন আপন অঙ্গ নিরখিঞা। দু হাথ বুকে ধরি গোরি গোরি করি ধরণী পড়এ মূরছিঞা॥ প্রিয় গদাধর ধরিঞা তোলএ কি কহল শ্রবণে মুখ দিঞা। গৌর অট্টহাসে জগজনমন তোষে বাসু ঘোষ মরএ ঝুরিঞা॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গৌরচন্দ্রঃ॥ হরি হরি গোরা কেনে কান্দে। নিজ সহচরগণ পূছই কারণ হেরত গোরামুখচান্দে॥ ধ্রু॥ অরুণিত লোচন প্রেমে ভরে দুনয়ন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। জৈছন শিথিল গাঁথল মতিফল খসএ উপরি উপরি॥ সোঙরি বৃন্দাবন নিশ্বাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিয়ে। দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই করি ধরণী পড়ল মূরূছিয়ে॥ তঁহি প্রিয় গদাধর ধরিআ করিল কোর কহএ শ্রবণে মুখ দিএ। পুন অট্ট অট্টহাসে জগজনমন তোষে বাসু ঘোষে মরএ ঝুরিয়ে॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে। ॥ শোহিনী॥ হরি হরি গোরা কেন কান্দে। নিজ সহচরগণ পূছই কারণ হেরই গোরা মুখ চাঁদে॥ অরুণিত লোচন প্রেম ভরে ভেল দুন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। ঐছন শিথিল @@@ মোতিফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সঙরি বৃন্দাবন @@@@ পুনঃ ২ আপনা অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে মারি রাই ২ করি ধরণী পড়ল মূরছিয়া॥ তহি প্রিয় গদাধর ধরিয়া করল কোর কহয়ে শ্রীবাস মুখদিয়া। পুনঃ ২ অট্ট হাসে জগজন মন তোষে বাসু ঘোষ নারয়ে ঝুরিয়া॥ @@@ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে। নিজ সহচরগণ পূছই কারণ হেরই গোরা মুখচাঁদে॥ ধ্রু॥ অরুণিত লোচন প্রেম ভরে ভেল দুন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। যৈছন শিথিল গাঁথল মোতিম ফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সোঙরি বৃন্দাবন নিশ্বাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই করি ধরণী পড় মূরছিয়া॥ তঁহি প্রিয় গদাধর ধরিয়া করিল কোর কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া। পুন অট্ট অট্ট হাসে জগজনমন তোষে বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রেম বৈচিত্র্য। তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ গান্ধার॥ হরি হরি গোরা কেনে কান্দে। নিজ সহচরগণ পুছই কারণ হেরই গোরা মুখ চান্দে॥ ধ্রু॥ অরুণিম লোচন প্রেমভরে ভেল দোন ঝর ঝর ঝরে প্রেম বারি। যৈছন শিথিল গাঁথল মোতি ফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সোঙরি বৃন্দাবন নিশ্বাসই পুনঃ পুনঃ আপনার অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই ধ্বনি করি ধরণী পড়ল মুরছিয়া॥ তঁহি প্রিয় গদাধর ধরিয়া করিল কোর কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া। পুনঃ অট্ট অট্ট হাসে জগ জন মন তোষে বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা ॥ গান্ধার॥ হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে। নিজ সহচরগণ পুছই কারণ হেরই গোরা মুখচাঁদে॥ ধ্রু॥ অরুণিম লোচন প্রেম ভরে ভেল দুন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। যৈছন শিথিল গাঁথল মোতি ফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সোঙরি বৃন্দাবন নিশ্বাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই ধ্বনি করি ধরণী পড়য়ে মুরছিয়া॥ তহি প্রিয় গদাধর ধরিয়া করিল কোর কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া। পুনঃ অট্ট অট্ট হাসে জগজনমন তোষে বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হরি হরি গোরা কেন কান্দে মিত্র সহচরগণ পুছয়ে কারণ হেরইতে গোরামুখ চান্দে॥ অরুণ লোচন প্রেমভরে দ্বিগুণ ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। যৈছন শিথিল গাঁথিল মোতিম ফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সোঙ্গরি বৃন্দাবন নিশ্বাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে ধরি গোরি গোরি করি ধরণী পড়ে মুরছিয়া॥ প্রিয় গদাধর ধরিয়া তোলেন কি কহল শ্রবণে মুখ দিয়া। অট্ট অট্ট গৌর হাসে জগজনমের মন তোষে বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে। প্রিয় সহচরগণ পুছই কারণ হেরি গোরামুখচান্দে॥ অরুণ লোচন প্রেম ভরে পুন ঝর ঝর ঝরে প্রেম বারি। যৈছন শিথিল গাথি মোতি ফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সোয়ঁরি বৃন্দাবন নিশাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিঞা। দুই হাথ বুকে ধরি গোরি গোরি করি ধরণি পড়িল মূরছিঞা॥ প্রিয় গদাধর ধরিয়া তোলএ কি কহল শ্রবণে মুখ দিয়া। গৌর অট্ট হাসে জগজন মনতোষে বাসু ঘোষে মরয়ে ঝুরিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে নিরবধি মনে মোর গোরারূপ লাগিয়াছে ভণিতা বাসুদেব / বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ৭৩- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পুনঃ সুহই॥ নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে কি করিব কি হবে উপায়। না দেখিলে গোরামুখ বিদরিয়া মোর বুক পরাণ বাহির হৈতে চায়॥ এ সখি! বোল মোরে কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন নাহি লয় মোর মন গোরা লাগি জীহন তেজিব॥ ধ্রু॥ সব সুখ তেয়াগিলু কুলে তিলাঞ্জলি দিলু গোরা বিনু আন নাহি ভায়। নিঝরে ঝরয়ে আঁখি শুন গো মরম সখি! বাসুদেব কি বলিব তায়॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ১০মপল্লব ,রূপানুরাগ, ৭৭৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আদৌ রূপানুরাগো যথা। তত্র শ্রীমহাপ্রভুঃ। ॥ সুহই॥ নিরবধি মোর মনে গোরা-রূপ লাগিয়াছে কহ সখী কি করি উপায়। না দেখিলে গোরা-মুখ বিদরিয়া যায় বুক পরাণ বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন ভয় নাহি মোর মন গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥ সব সুখ তেয়াগিলুঁ কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ গোরা বিনু আন নাহি ভায়। নিঝরে ঝরয়ে আঁখি শুন বে মরমি সখি বাসুঘোষ কি বলিবে তায়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৬৭-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ সুহই॥ নিরবধি মোর মনে গোরা-রূপ লাগিয়াছে কহ সখী কি করি উপায়। না দেখিলে গোরা-রূপ বিদরিয়া যায় বুক পরাণি বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন ভয় নাহি মোর মন গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥ সব সুখ তেয়াগিলুঁ কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ গোরা বিনু আন নাহি ভায়। নিঝুরে ঝুরয়ে আঁখি শুন বে মরম সখি বাসুঘোষ কি বলিবে তায়॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৪|৩১-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তুড়ী॥ নিরবধি মোর মনে গোরা-রূপ লাগিয়াছে কি করিব কি হবে উপায়। না দেখিলে গোরা-মুখ বিদরিয়া যায় বুক পরাণ বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন নাহি লয়ে মোর মন গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥ সব সুখ তেয়াগিলুঁ কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ গোরা বিনু আন নাহি ভায়। নিঝরে ঝরয়ে আঁখি শুন বে মরম সখি বাসুঘোষ কি বলিবে তায়॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে কহ সখি কি করি উপায়। না দেখিলে গোরারূপ বিদরিয়া যায় বুক পরাণি বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন ভয় নাহি মোর মন গোরা লাগি পরাণ ত্যজিব॥ ধ্রু॥ সব সুখ তেয়াগিনু কুলে জলাঞ্জলি দিনু গোরা বিনু আন নাহি ভায়। অঝোরে ঝরয়ে আঁখি শুন গো মরমি সখি বাসু ঘোষ কি কহিব তায়॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রূপানুরাগ শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ সুহই - ধানশী॥ নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে কহ সখি কি করি উপায়। না দেখিলে গোরারূপ বিদরিয়ে যায় বুক পরাণ বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি! কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন ভয় নাহি মোর মন গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥ সব সুখ তেয়াগিনু কুলে জলাঞ্জলি দিনু গোরা বিনু আন নাহি ভায়। নিঝরে ঝরয়ে আঁখি শুন হে মরমি সখী বাসু ঘোষ কি বলিবে কায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে ॥ সুহই॥ নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে কহ সখি কি করি উপায়। না দেখিলে গোরারূপ বিদরিয়ে যায় বুক পরাণ বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন ভয় নাহি মোর মন গোরা লাগি পরাণ ত্যজিব॥ সব সুখ তেয়াগিনু কুলে জলাঞ্জলি দিনু গোরা বিনু আন নাহি ভায়। অঝোরে ঝরয়ে আঁখি শুন গো মরম সখি বাসু ঘোষ কি কহিবে তায়॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নিরবধি মনে মোর গোরারূপ লাগিয়াছে কি করির কি হবে উপায়। না দেখিলে গোরারূপ বিদরিছে মোর বুক পরাণ বাহিরাইতে চায়। সখী বল মোরে কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন নাহি লয় মোর মন গোরালাগি জীবন তেজিব। সব সুখ তেয়াগিনু কুলে তিলাঞ্জলি দিনু গোরাবিনু আর নাহি ভায়। নিঝরে ঝরয়ে আঁখি শুনগো মরম সখী বাসুদেব কি বলিবে তায়॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে কহ সখি কি করি উপায়। না দেখিলে গোরামুখ বিদরিয়া যায় বুক পরাণ বাহির হৈতে চায়॥ কহ সখি কি বুদ্ধি করিব। গৃহপতি গুরুজন ভয় নাহি মোর মন গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥ সব সুখ তেয়াগিলুঁ কুলে জলাঞ্জলি দিলুঁ গোরা বিনু আন নাহি ভায়। নিঝরে ঝরয়ে আঁখি শুনহে মরমি সখি বাসু ঘোষ কি বলিবে তায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |