কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
কি কহব রে সখি রজনিক বাত
এ সখি কি কহব রজনীকে বাত
এ সখি কি কহব রজনীক বাত
কবি বাসুদেব ঘোষ        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ৬ষ্ঠপল্লব ,রসোদগার, ৭২৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি কহব রে সখি রজনিক বাত।
শুতিয়া আছিলুঁ হাম গুরুজন সাথ॥
আধ রজনি যব পূরল চন্দা।
সুমলয় পবন বহয়ে অতি মন্দা॥
গৌরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জিবন না বান্ধই থেহা॥
গৌর গৌর করি উঠলুঁ রোই।
জাগল গুরুজন কহে পুন কোই॥
গৌর নাম সভে শূনল কাণে।
গুরুজন তবহিঁ করল চিতে আনে॥
চৌর চৌর করি উঠায়লুঁ ভাষ।
বাসুদেব ঘোষ কহে ঐছে বিলাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১১৯৮-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

কি কহব রে সখি রজনিক বাত।
শুতিয়া আছিলুঁ হাম গুরুজন সাথ॥
আধ রজনি যব পূরল চন্দ।
সুমলয় পবন বহয়ে অতি মন্দ॥
গৌরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জিবন না বান্ধই থেহা॥
গৌর গৌর করি উঠলুঁ রোই।
জাগল গুরুজন কহে পুন কোই॥
গৌর নাম সভে শুনল কাণে।
গুরুজন তবহিঁ করল চিতে আনে॥
চৌর চৌর করি উঠল ভাষ।
বাসুদেব ঘোষ কহে ঐছে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৩১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

কি কহব রে সখি রজনীক বাত।
শুতিয়া আছনু হাম গুরুজন সাথ॥
আধ-রজনী যব পূলল চন্দা।
সুমলয়-পবন বহয়ে অতি মন্দা॥
গৌরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জীবন না বান্ধই থেহা॥
গৌরগরব করি উঠল রোই।
জাগল গুরুজন কাহো পুনরাই॥
গৌর নাম সব শুনল কাণে।
গুরুজন তবহি করল চিত আনে॥
চৌর চৌর করি উঠায়ল ভাষ।
বাসুদেব ঘোষ কহে ঐছে বিলাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি কহব রে সখি রজনীক বাত।
শুতিয়া আছিনু হাম গুরুজন-সাথ॥
আধ রজনী যব পূরল চন্দা।
সুমলয়-পবন বহয়ে অতি মন্দা॥
গৌরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জীবন না বান্ধই থেহা॥
গৌর গৌর করি উঠল রোই।
জাগল গুরুজন কহে পুন কোই॥
গৌর নাম সবে শুনল কাণে।
গুরুজন তবহিঁ করল চিতে আনে॥
চৌর চৌর করি উঠায়লু ভাষ।
বাসুদেব ঘোষ কহে ঐছে বিলাস॥

ই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩৩৩ (১৯২৬) বঙ্গাব্দের অতিরিক্ত সংখ্যায়
প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”,
৩য় খণ্ড, ২য় সংখ্যা, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোল্লাস---

এ সখি কি কহব রজনীকে বাত।
সুতিঞা ছিনু হাম গুরুজন কাছ॥
আধ রজনী ভেল পুন্নিমা চন্দ।
সুমলয় পবন বহ য়তি মন্দ॥
গোরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল [ হাম ] নাহি পওলু থেহা॥
গোর গোর করি উঠ [ লু ] রোই।
জাগল মনমথ য়ুঠল সবকোই॥
গোরক নাম সুনল সব কান।
গুরুযন তবহি করল চিরযান॥
চোর চোর করি করলহি ভাষ।
বাসুদেব ঘোস কহে ঐছন বিলাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ধানশী॥

কি কহব রে সখি রজনীক বাত।
শুতিয়া আছনু হাম গুরুজন সাথ॥
আধ রজনী যব ঊয়ল চন্দা।
সুমলয় পবন বহয়ে অতি মন্দা॥
গৌরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জীবন না বান্ধই থেহা॥
গৌরগৌর করি উঠল রোই।
জাগল গুরুজন কহে পুন কোই॥
গৌর নাম সব শুনল কানে।
গুরুজন তবহি করল চিত আনে॥
চৌর চৌর করি উঠায়লুঁ ভাষ।
বাসুদেব ঘোষ কহে ঐছে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এ সখি কি কহব রজনীক বাত।
শুতিয়াছিনু হাম গুরুজন সাথ॥
আধ রজনী ভেল পূরণ চন্দ।
মলয় পবন বহে অতি মন্দ॥
গৌর প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জীবন না পাইনু লেহা॥
গৌর গৌর করি উঠল রোই।
জাগল সকল উঠল সব কোই॥
গৌরক নামে গুরুজন তবহিঁ
.                        কহসি চিত আশ।
চোর চোর করি কহতগুণ ভাষ।
বাসুদেব কহে ঐছন বিলাস॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি কহবরে সখি রজনিক বাত।
শুতিয়া আছিলুঁ হাম গুরুজন সাথ॥
আধ রজনি যব পূরল চন্দা।
সুমলয় পবন বহয়ে অতি মন্দা॥
গৌরক প্রেম ভরল মঝু দেহা।
আকুল জিবন না বান্ধই থেহা॥
গৌর গৌর করি উঠলুঁ রোই।
জাগল গুরুজন কহে পুন কোই॥
গৌর নাম সভে শুনল কানে।
গুরুজন তবহিঁ করল চিতে আনে॥
চৌর চৌর করি উঠায়লুঁ ভাষ।
বাসুদেব ঘোষ কহে ঐছে বিলাস॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে
গোরা-অনুরাগে মোর পরাণ বিদরে
গোরা মোর পরাণ কাতর
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ৭মপল্লব ,অভিসারানুরাগ, ৭৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ আক্ষেপানুরাগঃ।
শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ সুহই॥

গোরা-অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।
নিরবধি ছল ছল আঁখি-জল ঝরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা-অনুরাগে।
অনুখণ গোরা-প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ-পিরিতি খানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৩৬-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

গোরা-অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।
নিরবধি ছল ছল আঁখি-জল ঝুরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা-অনুরাগে।
অনুখণ গোরা-প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ-পিরিতি খানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৫২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গোরা-অনুরাগে মোর পরাণ বিদরে।
নিরবধি ছল ছল আঁখিজল ঝরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা-অনুরাগে।
অনুখণ গোরা-প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ পিরীতিখানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।
নিরবধি ছল ছল আঁখি-জল ঝরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরন্তর পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা অনুরাগে।
অনুখণ গোরা-প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ পিরীতি খানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমতী রাধার আক্ষেপ অনুরাগ
গৌরচন্দ্র
॥ রাগিণী সুহই - তাল সমতাল॥

গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে। নিরবধি ছল ছল
আঁখিজল ঝরে॥ গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥ কি করিব কোথা যাব
গোরা অনুরাগে। অনুক্ষণ গোরা প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ পিরীতিখানি বড়ই বিষম। বাসু কহে নাহি রহে কুলের
ধরম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

গোরা অনুরাগে মোর পরাণ বিদরে।
নিরবধি ছল ছল আঁখিজল ঝরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা অনুরাগে।
অনুখণ গোরাপ্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ পিরীতিখানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - ধড়া॥

গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।
নিরবধি ছলছল আঁখি-জল ঝরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হইল বেয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা-অনুরাগে।
অনুক্ষণ গোরা-প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে॥
গৌরাঙ্গ-পিরীতিখানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরা মোর পরাণ কাতর।
.        নিরবধি আঁখির জল
.                করে ছল ছল॥
গোরা গোরা করি মোর
.        কি হৈল ব্যাধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব গোরা অনুরাগে।
অনুক্ষণ গোরা মোর হিয়ার মাঝে জাগে॥
বিরহে আন্ধল গদাধর নরহরি।
ফাটরে অন্তর ধন দোঁহা মুখ হেরি॥
নাহি জানি দিশি দিশি সব আঁধিয়ার।
কহে বাসুদেব ঘোষ ধিক ধিক আমার॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

গোরা অনুরাগে মোর পরাণ কাতরে।
নিরবধি ছল ছল আঁখিজল ঝরে॥
গোরা গোরা করি মোর কি হৈল বিয়াধি।
নিরবধি পড়ে মনে গোরা গুণনিধি॥
কি করিব কোথা যাব গোরা অনুরাগে।
অনুখন গোরা প্রেম হিয়ার মাঝে জাগে @॥
গৌরাঙ্গ পিরিতিখানি বড়ই বিষম।
বাসু কহে নাহি রহে কুলের ধরম॥

পাঠান্তর -
@ - এরপর কহে ‘বাসু গোরা বিনু সব বিষ লাগে’ - কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ২৫৬৫-
তে এই ভাবে শেষ।
‘বিরহে আকুল গদাধর নরহরি
ফাটয়ে অন্তর ধন দোঁহা মুখ হেরি
নাহি জানি দিশি দিশি সব আঁধিয়ার
কহে বাসুদেব ঘোষ ধিক ধিক আমার’
--- পাঠবাড়ী পুথি * ২১ক এবং *কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৮-তে এইভাবে শেষ।

মন্তব্য -
পদটি পদকল্পতরুতে 'আক্ষেপানুরাগ' পর্যায়ে এবং গৌরপদতরঙ্গিণীতে 'শচী ও বিষুপ্রিয়ার
বিলাপ’ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু * চিহিন্ত কয়েকটি পুখিতে পদটির শেষে গদাধর নরহরি
ইত্যাদির প্রসঙ্গ আসায় পদটি গৌরাঙ্গের তিরোধানের নির্দেশক হয়ে পড়ছে। তাছাড়া ঐ
শেষাংশটুকুকে অবলম্বন করে একটি সম্পূর্ণ পদ আমরা দুটি পুথিতেও পেয়েছি ( সা. প.
পুথি - ২৮৪৫, ৮৩নং পদ, ক.বি. পুথি, ২৫৬৩)। আলোচ্য পদটি নাগরীর গৌর-বিরহজনিত
আক্ষেপের পদ কিন্তু পরের অংশ অবলদ্বনে পরের পদটি গৌরাঙ্গের তিরোধানে তাঁর
সহচরদের শোক ও বিলাপ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। তাই দু'টি পৃথক পদরূপে এগুলি সজ্জিত
হল।---চিত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে
হরি হরি গোরা কেনে কান্দে
হরি হরি গোরা কেন কান্দে
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ৮মপল্লব ,অনুরাগে কুণ্ডে মিলন,
৭৬৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে।
নিজ সহচরগণ                    পূছই কারণ
হেরই গোরামুখ-চাঁদে॥ ধ্রু॥
অরুণিত লোচন           প্রেম-ভরে ভেল দুন
ঝর ঝর ঝরে প্রেম-বারি।
যৈছন শিথিল                গাঁথল মোতিফল
খসয়ে উপরি উপরি॥
সোঙরি বৃন্দাবন             নিশাসই পুন পুন
আপনার অঙ্গ নিরখিয়া।
দুই হাত বুকে ধরি             রাই রাই করি
ধরণি পড়ল মূরছিয়া॥
তহিঁ প্রিয় গদাধর           ধরিয়া করল কোর
কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।
পুন অট্ট অট্ট হাসে         জগ-জন মন তোষে
বাসুঘোষে মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের পুথি (সংকলনের
সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সন্ধ্যাবধি শ্রীকৃষ্ণস্য দর্শনাৎ রাধায়াঃ
অব্যক্ত-পূর্ব্বরাগঃ।
তত্র গৌরচন্দ্রঃ।
॥ পাহিড়া রাগ॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
প্রিয় সহচরগণ                      পুছই কারণ
হেরি গোরামুখচান্দে॥
অরুণ লোচন                      প্রেমভরে পুন
ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি।
যৈছন শিথিল                   গাথি মোতিফল
খসএ উপরি উপরি॥
সোয়ঁরি বৃন্দাবন                নিশাসই পুন পুন
আপন অঙ্গ নিরখিঞা।
দু হাথ বুকে ধরি             গোরি গোরি করি
ধরণী পড়এ মূরছিঞা॥
প্রিয় গদাধর                     ধরিঞা তোলএ
কি কহল শ্রবণে মুখ দিঞা।
গৌর অট্টহাসে                জগজনমন তোষে
বাসু ঘোষ মরএ ঝুরিঞা॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরচন্দ্রঃ॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
নিজ সহচরগণ পূছই কারণ হেরত গোরামুখচান্দে॥ ধ্রু॥
অরুণিত লোচন প্রেমে ভরে দুনয়ন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি।
জৈছন শিথিল গাঁথল মতিফল খসএ উপরি উপরি॥
সোঙরি বৃন্দাবন নিশ্বাসই পুন পুন আপনার অঙ্গ নিরখিয়ে।
দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই করি ধরণী পড়ল মূরূছিয়ে॥
তঁহি প্রিয় গদাধর ধরিআ করিল কোর কহএ শ্রবণে মুখ দিএ।
পুন অট্ট অট্টহাসে জগজনমন তোষে বাসু ঘোষে মরএ ঝুরিয়ে॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে।

॥ শোহিনী॥

হরি হরি গোরা কেন কান্দে। নিজ সহচরগণ
পূছই কারণ হেরই গোরা মুখ চাঁদে॥ অরুণিত লোচন প্রেম
ভরে ভেল দুন ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি। ঐছন শিথিল @@@
মোতিফল খসয়ে উপরি উপরি॥ সঙরি বৃন্দাবন @@@@
পুনঃ ২ আপনা অঙ্গ নিরখিয়া। দুই হাত বুকে মারি রাই ২
করি ধরণী পড়ল মূরছিয়া॥ তহি প্রিয় গদাধর ধরিয়া করল
কোর কহয়ে শ্রীবাস মুখদিয়া। পুনঃ ২ অট্ট হাসে জগজন মন
তোষে বাসু ঘোষ নারয়ে ঝুরিয়া॥

@@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে।
নিজ সহচরগণ                    পূছই কারণ
হেরই গোরা মুখচাঁদে॥ ধ্রু॥
অরুণিত লোচন           প্রেম ভরে ভেল দুন
ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি।
যৈছন শিথিল             গাঁথল মোতিম ফল
খসয়ে উপরি উপরি॥
সোঙরি বৃন্দাবন              নিশ্বাসই পুন পুন
আপনার অঙ্গ নিরখিয়া।
দুই হাত বুকে ধরি             রাই রাই করি
ধরণী পড় মূরছিয়া॥
তঁহি প্রিয় গদাধর         ধরিয়া করিল কোর
কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।
পুন অট্ট অট্ট হাসে           জগজনমন তোষে
বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেম বৈচিত্র্য।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ গান্ধার॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
নিজ সহচরগণ                       পুছই কারণ
হেরই গোরা মুখ চান্দে॥ ধ্রু॥
অরুণিম লোচন              প্রেমভরে ভেল দোন
ঝর ঝর ঝরে প্রেম বারি।
যৈছন শিথিল                   গাঁথল মোতি ফল
খসয়ে উপরি উপরি॥
সোঙরি বৃন্দাবন              নিশ্বাসই পুনঃ পুনঃ
আপনার অঙ্গ নিরখিয়া।
দুই হাত বুকে ধরি          রাই রাই ধ্বনি করি
ধরণী পড়ল মুরছিয়া॥
তঁহি প্রিয় গদাধর            ধরিয়া করিল কোর
কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।
পুনঃ অট্ট অট্ট হাসে          জগ জন মন তোষে
বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
॥ গান্ধার॥

হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে।
নিজ সহচরগণ                      পুছই কারণ
হেরই গোরা মুখচাঁদে॥ ধ্রু॥
অরুণিম লোচন            প্রেম ভরে ভেল দুন
ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি।
যৈছন শিথিল                  গাঁথল মোতি ফল
খসয়ে উপরি উপরি॥
সোঙরি বৃন্দাবন                নিশ্বাসই পুন পুন
আপনার অঙ্গ নিরখিয়া।
দুই হাত বুকে ধরি          রাই রাই ধ্বনি করি
ধরণী পড়য়ে মুরছিয়া॥
তহি প্রিয় গদাধর            ধরিয়া করিল কোর
কহয়ে শ্রবণে মুখ দিয়া।
পুনঃ অট্ট অট্ট হাসে           জগজনমন তোষে
বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি গোরা কেন কান্দে                        
মিত্র সহচরগণ পুছয়ে কারণ                
হেরইতে গোরামুখ চান্দে॥
অরুণ লোচন প্রেমভরে দ্বিগুণ                     
ঝর ঝর ঝরে প্রেমবারি।
যৈছন শিথিল                  গাঁথিল মোতিম ফল
খসয়ে উপরি উপরি॥
সোঙ্গরি বৃন্দাবন                 নিশ্বাসই পুন পুন
আপনার অঙ্গ নিরখিয়া।
দুই হাত বুকে ধরি             গোরি গোরি করি
ধরণী পড়ে মুরছিয়া॥
প্রিয় গদাধর ধরিয়া তোলেন                        
কি কহল শ্রবণে মুখ দিয়া।
অট্ট অট্ট গৌর হাসে                                
জগজনমের মন তোষে
বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥                        

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৫৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে।
প্রিয় সহচরগণ                       পুছই কারণ
হেরি গোরামুখচান্দে॥
অরুণ লোচন                      প্রেম ভরে পুন
ঝর ঝর ঝরে প্রেম বারি।
যৈছন শিথিল                    গাথি মোতি ফল
খসয়ে উপরি উপরি॥
সোয়ঁরি বৃন্দাবন                নিশাসই পুন পুন
আপনার অঙ্গ নিরখিঞা।
দুই হাথ বুকে ধরি             গোরি গোরি করি
ধরণি পড়িল মূরছিঞা॥
প্রিয় গদাধর                        ধরিয়া তোলএ
কি কহল শ্রবণে মুখ দিয়া।
গৌর অট্ট হাসে                জগজন মনতোষে
বাসু ঘোষে মরয়ে ঝুরিয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিরবধি মোর মনে গোরারূপ লাগিয়াছে
নিরবধি মনে মোর গোরারূপ লাগিয়াছে
ভণিতা বাসুদেব / বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ৭৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ সুহই॥

নিরবধি মোর মনে       গোরারূপ লাগিয়াছে       কি করিব কি হবে উপায়।
না দেখিলে গোরামুখ       বিদরিয়া মোর বুক       পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
এ সখি! বোল মোরে কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন       নাহি লয় মোর মন       গোরা লাগি জীহন তেজিব॥ ধ্রু॥
সব সুখ তেয়াগিলু       কুলে তিলাঞ্জলি দিলু       গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি       শুন গো মরম সখি!       বাসুদেব কি বলিব তায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ১০মপল্লব ,রূপানুরাগ,
৭৭৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আদৌ রূপানুরাগো যথা।
তত্র শ্রীমহাপ্রভুঃ।
॥ সুহই॥

নিরবধি মোর মনে           গোরা-রূপ লাগিয়াছে
কহ সখী কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরা-মুখ           বিদরিয়া যায় বুক
পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন                ভয় নাহি মোর মন
গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥
সব সুখ তেয়াগিলুঁ             কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি             শুন বে মরমি সখি
বাসুঘোষ কি বলিবে তায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৬৭-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

নিরবধি মোর মনে           গোরা-রূপ লাগিয়াছে
কহ সখী কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরা-রূপ           বিদরিয়া যায় বুক
পরাণি বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন                ভয় নাহি মোর মন
গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥
সব সুখ তেয়াগিলুঁ              কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
নিঝুরে ঝুরয়ে আঁখি              শুন বে মরম সখি
বাসুঘোষ কি বলিবে তায়॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৪|৩১-পদ-সংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুড়ী॥

নিরবধি মোর মনে           গোরা-রূপ লাগিয়াছে
কি করিব কি হবে উপায়।
না দেখিলে গোরা-মুখ           বিদরিয়া যায় বুক
পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন                নাহি লয়ে মোর মন
গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥
সব সুখ তেয়াগিলুঁ               কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি              শুন বে মরম সখি
বাসুঘোষ কি বলিবে তায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নিরবধি মোর মনে           গোরারূপ লাগিয়াছে
কহ সখি কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরারূপ           বিদরিয়া যায় বুক
পরাণি বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন                ভয় নাহি মোর মন
গোরা লাগি পরাণ ত্যজিব॥ ধ্রু॥
সব সুখ তেয়াগিনু             কুলে জলাঞ্জলি দিনু
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
অঝোরে ঝরয়ে আঁখি         শুন গো মরমি সখি
বাসু ঘোষ কি কহিব তায়॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - ধানশী॥

নিরবধি মোর মনে           গোরারূপ লাগিয়াছে
কহ সখি কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরারূপ           বিদরিয়ে যায় বুক
পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি! কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন               ভয় নাহি মোর মন
গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥
সব সুখ তেয়াগিনু            কুলে জলাঞ্জলি দিনু
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি           শুন হে মরমি সখী
বাসু ঘোষ কি বলিবে কায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে
॥ সুহই॥

নিরবধি মোর মনে            গোরারূপ লাগিয়াছে
কহ সখি কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরারূপ           বিদরিয়ে যায় বুক
পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন               ভয় নাহি মোর মন
গোরা লাগি পরাণ ত্যজিব॥
সব সুখ তেয়াগিনু             কুলে জলাঞ্জলি দিনু
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
অঝোরে ঝরয়ে আঁখি          শুন গো মরম সখি
বাসু ঘোষ কি কহিবে তায়॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিরবধি মনে মোর            গোরারূপ লাগিয়াছে
কি করির কি হবে উপায়।
না দেখিলে গোরারূপ           বিদরিছে মোর বুক
পরাণ বাহিরাইতে চায়।
সখী বল মোরে কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন                নাহি লয় মোর মন
গোরালাগি জীবন তেজিব।
সব সুখ তেয়াগিনু           কুলে তিলাঞ্জলি দিনু
গোরাবিনু আর নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি              শুনগো মরম সখী
বাসুদেব কি বলিবে তায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা  নিবন্ধ ( সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৭২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নিরবধি মোর মনে                 গোরারূপ লাগিয়াছে
কহ সখি কি করি উপায়।
না দেখিলে গোরামুখ                 বিদরিয়া যায় বুক
পরাণ বাহির হৈতে চায়॥
কহ সখি কি বুদ্ধি করিব।
গৃহপতি গুরুজন                     ভয় নাহি মোর মন
গোরা লাগি পরাণ তেজিব॥
সব সুখ তেয়াগিলুঁ                  কুলে জলাঞ্জলি দিলুঁ
গোরা বিনু আন নাহি ভায়।
নিঝরে ঝরয়ে আঁখি                 শুনহে মরমি সখি
বাসু ঘোষ কি বলিবে তায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে
চল দেখি গিয়া অতি মনোহরে
অপরূপ রূপ গোরা নদীয়া নগরে
ভণিতা বাসু / বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ১২শ পল্লব ,অভিসারানুরাগ, ৯৭৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই
পদটি কোনো পাঠান্তর ছাড়া, নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের ১৪২৩ সংখ্যক পদ
হিসেবে রয়েছে।

ততঃ পুনশ্চ অভিসারানুরাগঃ
রাত্রৌ যথা।
শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ সুহই॥

চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে।
অপরূপ রূপ গোরা নদীয়া নগরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান-তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ কনকের স্তম্ভ।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
বাসু কহে চল দিব পরাণ নিছনি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১৯শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ-নাগরী উক্তি, ২১৭৬-পদসংখ্যায় এইরূপে ২য় বার
দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে।
অপরূপ রূপ গোরা নদীয়া নগরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান-তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ কনকের স্তম্ভ।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
কহে বাসু দিব গিয়া যৌবন নিছনি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১০৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে।
অপরূপ গোরা নদীয়া নগরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান-তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ-কনকের স্তম্ভ।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
কহে বাসু চল দিব পরাণ নিছনি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

চল দেখি গিয়া অতি মনোহরে।
অপরূপ রূপ গোরা নদীয়ানগরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ কনকের স্তম্ভ।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
কহে বাসু দিব গিয়া যৌবন নিছনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে।
অপরূপ রূপ গোরা নদীয়া নগরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ কনকের স্তম্ভ।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
কহে বাসু দিব গিয়া যৌবন নিছনি॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - মধ্যম দশকুশী॥

অপরূপ রূপ গোরা নদীয়া নগরে।
চল দেখি গিয়া অতি মনোহরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরয ধরে নয়ন তরঙ্গ॥
আজানু-লম্বিত ভুজ কনকের স্তণ্ড।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
বাসু কহে চল দিব পরাণ নিছনি॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে।
অপরূপ গোরা নদীয়া নগরে॥
ঢলঢল কষিল কাঞ্চন অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ কনকের স্তম্ভ।
অরুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা দোলে আপাদ দোলনী।
বাসুদেব ঘোষ বলে পরাণ নিছনি॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

চল দেখি গিয়া গোরা অতি মনোহরে।
অপরূপ রূপ গোরা নদীয়া নগরে॥
ঢল ঢল কষিল কাঞ্চন জিনি অঙ্গ।
কে দেখি ধৈরজ ধরে নয়ান তরঙ্গ॥
আজানুলম্বিত ভুজ কনকের স্তম্ভ।
অনুণ বসন কটি বিপুল নিতম্ব॥
মালতীর মালা গলে আপাদ দোলনি।
কহে বাসু দিব গিয়া যৌবন নিছনি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরারূপে কি দিব তুলনা
আহা মরি গোরা-রূপে কি দিব তুলনা
গোরারূপের কি দিব তুলনা
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,  
৯৩৪-পৃষ্ঠা।

॥ গীতে যখা - সুহই॥

গোরারূপে কি দিব তুলনা। তুলনা না নহিল রে কসিত-
বান্ সোণা॥ মেঘের বিজুরী নহে রূপের সমান। তুলনা
নহিল রূপে চম্পকের দাম॥ তুলনা নহিল রূপে কেতকীর
দল। তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥ কুম্ কিম জিনিয়া রূপ
অতি মনোহরা। কহে বাসু কি দিয়া গড়িলা বিধি গোরা॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রস্য
॥ ভাটিয়ালী রাগ॥

গোরারূপে কি দিব তুলনা। তুলনা নহিল যে কসিল বাণ সোণা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম। তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল রূপে কেতকীর দল। তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া রূপ অতিমনোহরা। কহে বাসু কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল),
২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ১৩শপল্লব ,অভিসারোত্কন্ঠা, ১০৩০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে


॥ সুহই॥

আহা মরি গোরা-রূপে কি দিব তুলনা।
তুলনা নহিল যে কষিল বান সোণা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণ-কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গ-গন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গঢ়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল),
২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ১৮শপল্লব ,জন্মলীলা, ১১৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ শ্রীরাধিকায়া জন্মোত্সবঃ।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।

গোরা-রূপে কি দিব তুলনা।
তুলনা নহিল যে কষিল বান সোণা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণ-কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গ-গন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গঢ়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার জন্মেত্সব।
গৌরচন্দ্র।

আহা মরি গোরা রূপের কি দিব তুলনা। তুলনা নহিল যে কসিল বাণ
সোনা॥ মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম। তুলনা নহিল রূপে চম্পকের
দাম॥ তুলনা নহিল স্বর্ণ কেতকীর দল। তুলনা নহিল গোরচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গ গন্ধ মনোহরা। বাসু কহে কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ৭৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গোরা রূপে কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল যে কষিল বাণ সোনা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণকেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গগন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১০২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আহা মরি গোরারূপের কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল যে কষিল বান সোনা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণকেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গগন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত॥

গোরা-রূপে কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল যে কষিল বানসোণা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণ-কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গ-গন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গঢ়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার অভিষেক।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - দশকুশী॥

গোরা রূপে কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল যে কষিল বান সোণা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণ কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গ-গন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গঢ়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আহা মরি গোরারূপের কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল যে কষিল বাণ সোনা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল স্বর্ণকেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গগন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরারূপের কি দিব তুলনা।
তুলনা নহিল যে কষিলবাণ সোনা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল রূপে কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া রূপ অতি মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী ১৪১০-১৯১০”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরারূপের কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল রে কষিত বাণ সোনা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল রূপে কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুম্ কুম্ জিনিয়া অঙ্গ গন্ধ মনোহরা।
কহে বাসু কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ

গোরারূপের কি দিব তুলনা।
উপমা নহিল রে কষিত বাণ সোনা॥
মেঘের বিজুরী নহে রূপের উপাম।
তুলনা নহিল রূপ চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল রূপে কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুম্ কুম্ জিনিয়া অঙ্গ গন্ধ মনোহরা।
কহে বাসু কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ সুহই॥

গোরারূপের কি দিব তুলনা।
তুলনা না রহিলরে কষিত বাণ সোনা॥
মেঘের বিজুরি নহে রূপের সমান।
তুলনা নহিল রূপে চম্পকের দাম॥
তুলনা নহিল রূপে কেতকীর দল।
তুলনা নহিল গোরোচনা নিরমল॥
কুঙ্কুম জিনিয়া অঙ্গ-গন্ধ মনোহরা।
বাসু কহে কি দিয়া গড়িল বিধি গোরা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
জলক্রীড়া গোরাচাঁদের মনেতে পড়িল
জলকেলি গোরাচান্দের মনেতে পড়িল
জলকেলি গোরাচাঁদের মনেত পড়িল
জলকেলি গোরাচাঁদের মনেতে পড়িল
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯৩৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীতে - মায়ূরঃ॥

জলক্রীড়া গোরাচাঁদের মনেতে পড়িল। পারিষদ সঙ্গে
জলখেলা আরম্ভিল॥ কারু অঙ্গে কেহ জল ফেলি ফেলি
মারে। গোরা-অঙ্গ জল ফেলি মারে গদাধরে॥ জলক্রীড়া
করে গোরা হরষিত মনে। জল ফেলাফেলি সব করে জনে
জনে॥ গৌরাঙ্গচাঁদের লীলা কহনে না যায়। বাসুদেব ঘোষ
এই গোরাগুণ গায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ১৬শপল্লব ,বিপরীত-সম্ভোগ-রসোদগার, ১১০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

জলকেলি গোরাচান্দের মনেত পড়িল।
পারিষদগণ সঞে জলেতে নামিল॥
কারো অঙ্গে কেহো কেহো জল পেলি মারে।
গৌরাঙ্গ পেলিয়া জল মারে গদাধরে॥
জল-ক্রীড়া করে গোরা হরষিত-মনে।
হুলাহুলি বোলাবুলি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গচান্দের লীলা কহনে না যায়।
বাসুদেব ঘোষে তহিঁ গোরা-গুণ গায়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ জলকেলি॥ তদুচিত গৌরচন্দ্র॥ একতালি বড়ারি॥

জলকেলি গোরাচান্দের মনেতে পড়িল।
সঙ্গে পারিষদ লঞ জলেতে নামিল॥
কেহুঁ অঙ্গে কেহু কেহু জল ফেলি মারে।
গোরা কূপে নিয়া জল মারে গদাধরে॥
জলক্রীড়া করে গোরা হরসিত মনে।
হুড়াহুড়ি বোলাবলি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গচান্দের লীলা কহনে না জায়।
মনের হরিসে বাসুদেব ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২২৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

জলকেলি গোরাচাঁদের মনেতে পড়িল।
পারিষদগণ সঙ্গে জলেতে নামিল॥
কার অঙ্গে কেহ জল ফেলিয়া সে মারে।
গৌরাঙ্গ ফেলিয়া জল মারে গদাধরে॥
জলক্রীড়া করে গোরা হরষিত মনে।
হুলাহুলি কোলাকুলি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গচাঁদের লীলা কহন না যায়।
বাসুদেব ঘোষ তাই গোরাগুণ গায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

জলকেলি গোরাচান্দের মনেতে পড়িল।
পারিষদগণ সঙ্গে জলেতে নামিল॥
কার অঙ্গে কেহ কেহ জল ফেলি মারে।
গৌরাঙ্গ ফেলিয়া জল মারে গদাধরে॥
জল-ক্রীড়া করে গোরা হরষিত মনে।
হুলাহুলি বোলাবুলি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গচান্দের লীলা কহনে না যায়।
বাসুদেব ঘোষ তঁহি গোরা-গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জল-ক্রীড়া।
॥ তুড়ী - রূপক॥

জলকেলি গোরাচাঁদের মনেতে পড়িল।
সঙ্গে পারিষদগণ জলেতে নামিল॥
কার অঙ্গে কেহ কেহ জল পেলি মারে।
গৌরাঙ্গ পেলিয়া জল মারে গদাধরে॥
জল ক্রীড়া করে গোরা হরষিত মনে।
হুলাহুলি বুলাবুলি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গ চাঁদের লীলা কহনে না যায়।
মনের হরিষে বাসুদেব ঘোষ গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জলক্রীড়া
॥ তুড়ী॥

জলকেলি গোরাচাঁদের মনেতে পড়িল।
পারিষদগণ সঙ্গে জলেতে নামিল॥
কার অঙ্গে কেহ জল ফেলিয়া সে মারে।
গৌরাঙ্গ ফেলিয়া জল মারে গদাধরে॥
জলক্রীড়া করে গোরা হরষিত মনে।
হুলাহুলি কোলাকুলি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গচাঁদের লীলা কহন না যায়।
বাসুদেব ঘোষ তাই গোরাগুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর॥

জলক্রীড়া গোরাচাঁদের মনেত পড়িল।
পারিষদ সঙ্গে জলখেলা আরম্ভিল॥
কারু অঙ্গে কেহ জল ফেলি ফেলি মারে।
গোরা অঙ্গে জল ফেলি মারে গদাধরে॥
জলক্রীড়া করে গোরা হরষিত মনে।
জল ফেলাফেলি সব করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গচান্দের লীলা কহনে না যায়।
বাসুদেব ঘোষ এই গোরাগুন গায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
জলক্রীড়া করে গোরা হরিষিত মনে
ভণিতা বাসুদেব
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “জলক্রীড়া গোরাচাঁদের মনেতে
পড়িল” পদের শেষ চার কলি, কিছু পাঠান্তর সহ।


জলক্রীড়া করে গোরা হরিষিত মনে।
জড়াজড়ি পড়াপড়ি করে জনে জনে॥
গৌরাঙ্গ চাঁদের লীলা কহনে না যায়।
বাসুদেব কহে তরণে কৃপা হয়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৭৬৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথাতি গীতে বসন্তঃ॥

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে। জনমিলা গোরাচান্দ
শচীর উদরে॥ ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুণী। শুভক্ষণে
জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥ পূর্ণিমার চান্দ যিনি করিল প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইল নৈরাশ॥ দ্বাপর যুগেতে ভেল কৃষ্ণ
অবতার। আপনে করিল সেই অসুর সংহার॥ শচীর উদরে
ভেল গোরা-অবতার। কলিযুগের জীব গোরা করিলা উদ্ধার॥
বাসুদেব ঘোষ গায় মনে করি আশা। গৌর পহুঁ পদ দুই
করিয়া ভরসা॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ১৭শপল্লব ,জন্মলীলা, ১১২১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুরী॥

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে।
জনম লভিয়া গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুনি।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল  অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপরে নন্দের ঘরে কৃষ্ণ অবতার।
যশোদা-উদরে জন্ম বিদিত সংসার॥
শচীর উদরে এবে জন্ম নদীয়াতে।
কলিযুগের জীব সব নিস্তার করিতে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনে করি আশা।
গৌর-পদ-দ্বন্দ্ব মনে করিয়া ভরোসা॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের
পুথি (সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন  
“শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”,  ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ কৃষ্ণজন্ম॥
তত্রাদৌ গৌরচন্দ্রঃ।
॥ করুণাশ্রী॥

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে।
জনম লভিল গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফল্গুনি।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইঞা তরাস॥
দ্বাপর যুগে ভেল কৃষ্ণ অবতার।
আপনে করিতে সেই অসুর সংসার॥
শচীর উদরে ইবে গোরা অবতার।
কলিযুগের জীবে গোরা করিতে উদ্ধার॥
বাসুদেব ঘোষ গায় মোনে করি আশা।
গোরাপাদপদ্ম মনে করিঞা ভরসা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬১৯-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুরী॥

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে।
জনম লভিয়া গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুনি।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল  অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপরে নন্দের ঘরে কৃষ্ণ অবতার।
যশোদা-উদরে জন্ম বিদিত সংসার॥
শচীর উদরে এবে জন্ম নদীয়াতে।
কলিযুগের জীব সব নিস্তার করিতে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনে করি আশা।
গৌর-পদ-দ্বন্দ্ব মনে করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যের জন্মলীলা।
॥ ধানশী - জপতাল॥

জয় জয় কলরব নদীয়া নগরে।
জনম লভিলা গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুণী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপরে নন্দের ঘরে কৃষ্ণ অবতার।
যশোদা উদরে জন্ম বিদিত সংসার॥
শচীর উদরে এবে জন্ম নদীয়াতে।
কলিযুগের জীব সব নিস্তার করিতে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনে করি আশা।
গৌরা-পাদ-দ্বন্দ্ব মনে করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ রাগ॥

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে। জনম লভিলা
গোরা শচীর উদরে॥ ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুণী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥ পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি
কিরণ প্রকাশ। দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥ দ্বাপর
যুগেতে ভেল কৃষ্ণ অবতার। আপনি করিব সব অসুর
সংহার॥ শচীর উদরে এবে গোরা অবতার। কলিযুগের
জীব গোরা করিতে নিস্তার॥ বাসুদেব ঘোষ কহে মনে
করি আশা। গোরা পদদ্বন্দ্ব সদা করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী বা করুণা॥

জয় জয় কলরব নদীয়া নগরে।
জনম লভিলা গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন-পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুনী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপরে নন্দের ঘরে কৃষ্ণ অবতার।
যশোদা উদরে জন্ম বিদিত সংসার॥
শচীর উদরে এবে জন্ম নদীয়াতে।
কলিযুগের জীব সব নিস্তার করিতে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনে করি আশা।
গৌরপদদ্বন্দ্ব মনে করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জন্ম ও বাল্যলীলা।
শ্রীগৌরাঙ্গ-জন্মলীলা।
( করুণা )

জয় জয় কলরব নদীয়া নগরে।
জনম লভিলা গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুনী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপরে নন্দের ঘরে কৃষ্ণ অবতার।
যশোদা উদরে জন্ম বিদিত সংসার॥
শচীর উদরে এবে জন্ম নদীয়াতে।
কলিযুগের জীব সব নিস্তার করিতে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনে করি আশা।
গৌরপদদ্বন্দ্ব মনে করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাব
॥ তুরী বা করুণা॥

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে।
জনম লভিলা গোরা শচীর উদরে॥
ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুনী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপরে নন্দের ঘরে কৃষ্ণ অবতার।
যশোদা উদরে জন্ম বিদিত সংসার॥
শচীর উদরে এবে জন্ম নদীয়াতে।
কলিযুগের জীব সব নিস্তার করিতে॥
বাসুদেব ঘোষ কহে মনে করি আশা।
গৌরপদদ্বন্দ্ব হৃদে করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় কলরব নদিয়া নগরে।
জনম লভিল গোরা শচীর উদরে॥
ফালগুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফালগুনী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চন্দ্র জিনি কিরণ প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপর যুগেতে ভেল কৃষ্ণ অবতার।
আপনে করিতে সেই অসুর সংহার॥
শচীর উদরে ইবে গোরা অবতার।
কলিযুগের জীবে গোরা করিতে উদ্ধার॥
বাসুদেব ঘোষ গায় মনে করি আশা।
গোরা পাদপদ্ম মনে করিয়া ভরসা॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্তরাগ॥

জয় জয় কলরব নদীয়া নগরে।
জনমিলা গোরাচাঁদ শচীর উদরে॥
ফাল্গুন পূর্ণিমা তিথি নক্ষত্র ফাল্গুনী।
শুভক্ষণে জনমিলা গোরা দ্বিজমণি॥
পূর্ণিমার চাঁদ জিনি করিলা প্রকাশ।
দূরে গেল অন্ধকার পাইয়া নৈরাশ॥
দ্বাপর যুগেতে ভেল কৃষ্ণ অবতার।
আপনে করিলা সেই অসুর সংহার॥
শচীর উদরে ভেল গোরা অবতার।
কলিযুগে জীব গোরা করিল উদ্ধার॥
বাসুদেব ঘোষ গায় মনে করি আশা।
গোরা পহুঁ পদ দুই করিয়া ভরসা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
এক মুখে কি কহব গোরাচাঁদের লীলা
এক মুখে কি কহব গোরাচান্দের লীলা
এক মুখে কি কহিব গোরাচাঁদের লীলা
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৭৬৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীতে যথা॥

এক মুখে কি কহব গোরাচাঁদের লীলা। হামাগুড়ি যায়
নানা রঙ্গে শচীবালা॥ লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বুফল জিনি সুরঙ্গ অধর॥ অঙ্গদ বলয় সাজে সুবাহু
যুগলে। চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥ সোনার সিকলি
শিরে পাটের থোপনা। বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ১৮শপল্লব ,জন্মলীলা, ১১৪১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ বাত্সল্যং কৌমারকালোচিতং যথা।
শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ তুড়ী॥

এক মুখে কি কহব গোরাচান্দের লীলা।
হামাগুড়ি যায় নানা রঙ্গে শচীর বালা॥
লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বুফল জিনি সুরঙ্গ অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু যুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোণার শিকলী পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬৪৮-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুড়ী॥

এক মুখে কি কহব গোরাচান্দের লীলা।
হামাগুড়ি দিয়া নানা রঙ্গে করে খেলা॥
লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বুফল জিনি সুরঙ্গ অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু যুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোণার শিকলী পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

(বাল্যলীলা)
॥ তুড়ী॥

একমুখে কি কহিব গোরাচাঁদের লীলা।
হামাগুড়ি নানা রঙ্গে যায় শচীবালা॥
লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বফল জিনি সুন্দর অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু-যুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোণার শিকলি পীঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীকৃষ্ণের-বাল্যলীলা।
তস্য শ্রীশ্রীকৃষ্ণের-জন্মলীলা।

একমুখে কি কহব গোরাচাঁদের লীলা।
হামাগুড়ি যায় নানা রঙ্গে শচীর বালা॥
নালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বুফল জিনি সুরঙ্গ অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু যুগলে।
চরণে মগরা খাড় বাঘনখ গলে॥
সোণার শিকলী পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ কৌবিভাস - জপতাল॥

একমুখে কি কহব গোরাচান্দের লীলা।
হামাগুড়ি যায় নানা রঙ্গে শচীর বালা॥
নালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বুফল জিনি সুরঙ্গ অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু-যুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোণার শিকলী পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাল্যখণ্ড
॥ কৌবিভাস - জপতাল॥

এক মুখে কি কহব গোরাচান্দের লীলা।
হামাগুড়ি যায় নানা রঙ্গে শচীর বালা॥
নালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বুফল জিনি সুরঙ্গ অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু-যুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোনার শিকলী পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
॥ তুড়ী॥

এক মুখে কি কহিব গোরাচাঁদের লীলা।
হামাগুড়ি নানা রঙ্গে যায় শচীবালা॥
লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বফল জিনি সুন্দর অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহুযুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোণার শিকলি পীঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এক মুখে কি কহিব গোরাচাঁদের লীলা।
হামাগুড়ি নানারঙ্গে যায় শচীর বালা॥
লালে মুখ ঝরঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বফল জিনি সুন্দর অধর॥
অঙ্গদ বলয়া শোভে সুবাহু যুগলে।
চরণে মগরা খাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোনার শিকলি পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

এক মুখে কি কহব গোরাচাঁদের লিলা।
হামাগুড়ি যায় নানা রঙ্গে শচীবালা॥
লালে মুখ ঝর ঝর দেখিতে সুন্দর।
পাকা বিম্বফল জিনি সুন্দর অধর॥
অঙ্গদ বলয়া সাজে সুবাহু যুগলে।
চরণে মগরা ঘাড়ু বাঘনখ গলে॥
সোনার শিকলি শিরে পিঠে পাটের থোপনা।
বাসুদেব ঘোষ কহে নিছনি আপনা॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর