| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| দেখত ঝুলত গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া দেখত অরুণ গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ৩০শপল্লব ,ঝুলন-লীলা, ১৫৫০- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়জয়ন্তী॥ দেখত ঝুলত গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া। বিধির অবধি রূপ নিরুপম কষিল কাঞ্চন জিনিয়া॥ ঝুলায়ত কত ভকতবৃন্দ গৌরচন্দ্র বেঢ়িয়া। আনন্দে সঘন জয় জয় রব উথলে নগর নদিয়া॥ নয়ন-কমল মুখ নিরমল শরদ-চাঁদ জিনিয়া। নগরের লোক ধায় এক-মুখ হরি হরি ধ্বনি শুনিয়া॥ ধন্য কলিযুগ গোরা অবতার সুরধুনী ধনি ধনিয়া। গোরাচান্দ বিনে আন নাহি মনে বাসুঘোষে কহে জানিয়া॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী কামোদ তালোচিত॥ দেখত ঝুলত গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া। বিধির অবধি রূপ নিরুপম কসিল কাঞ্চন জিনিয়া॥ ঝুলায়ত কত ভকতবৃন্দ গৌর গদাধর বেড়িয়া। আনন্দে সঘনে জয় জয় রব উথলে নগর নদীয়া॥ নয়ান কমল মুখ নিরমল শরদ চাঁন্দ জিনিয়া। ধন্য কলিযুগ গোরা অবতার সুরধুনী ধনি ধ্বনিয়া। গোরাচান্দ বিনে আন নাহি মনে বাসু ঘোষ কহে জানিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঝুলন লীলা। শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ জয়জয়ন্তী-মল্লার - মধ্যম দশকুশী॥ দেখত ঝুলত গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া। বিধির অবধি রূপ নিরুপম কসিত কাঞ্চন জিনিয়া॥ ঝুলায়ত কত ভকতবৃন্দ গৌরচন্দ্র বেঢ়িয়া। আনন্দে সঘন জয় জয় রব, উথলে নগর নদীয়া॥ নয়ন কমল মূখ নিরমল শরদ চাঁদ জিনিয়া। নগরের লোক ধায়ে একমুখ হরি হরি ধ্বনি শুনিয়া॥ ধন্য কলিযুগ গোরা অবতার সুরধুনি ধনি ধনিয়া। গোরা চাঁদ বিনে আন নাহি জানে বাসুঘোষ কহে জানিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঝুলনলীলা ॥ তথারাগ॥ দেখত ঝুলত গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া। বিধির অবধি রূপ নিরুপম কষিল কাঞ্চন জিনিয়া॥ ঝুলায়ত কত ভকতবৃন্দ গৌরচন্দ্র বেঢ়িয়া। আনন্দে সঘন জয় জয় রব উথলে নগর নদিয়া॥ নয়ন কমল মুখ নিরমল শরদ চাঁদ জিনিয়া। নগরের লোক ধায় একমুখে হরি হরি ধ্বনি শুনিয়া॥ ধন্য কলিযুগ গোরা অবতার সুরধুনী-ধনি-ধনিয়া। গোরাচাঁদ বিনে আন নাহি মনে বাসু ঘোষে কহে জানিয়া॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৩-পৃষ্ঠায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া রয়েছে। দেখত ঝুলত গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া। বিধির অবধি নিরুপম রূপ কষিল কনক দিয়া॥ নাচত কত ভকতবৃন্দ গৌরচন্দ্র বেড়িয়া। আনন্দে সঘনে দেই জয়রব উথলে নগর নদীয়া॥ নয়ন কমল মুখ নিরমল শারদ চাঁদ জিনিয়া। নগরের লোক কত শত ধায় হরি হরি বলিয়া॥ ধর্ম্ম কলিযুগে গোরা অবতার সুরধুনী ধ্বনিয়া @ @ - এই গ্রন্থে শেষের ভণিতার কলিটি দেওয়া নেই। এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারঙ্গ রাগ॥ দেখত অরুণ গৌরচন্দ্র অপরূপ দ্বিজমণিয়া। বিধির অবধি রূপ নিরুপম কষিল কাঞ্চন জিনিয়া॥ ঝুলায়ত কত ভকতবৃন্দ গৌরচন্দ্র বেড়িয়া। আনন্দে সঘন জয় জয় রব উথলে নগর নদিয়া॥ নয়ন কমল মুখ নিরমল শরদ চাঁদ জিনিয়া। নগরের লোক ধায় কত কত হরি হরি ধ্বনি বলিয়া॥ ধন্য কলিযুগে গোরা অবতার সুরধুনী-ধনি ধনিয়া। কহে বাসু ঘোষ গৌরাঙ্গ দেখিয়া প্রেমে গদগদ হইয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা সন্ন্যাসী হইআ গেলা পুনু নাহি বাহুড়িলা সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুনঃ যদি বাহুড়িলা হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেন হৈল ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বাসুদেবানন্দ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ৯মপল্লব, দ্বাদশমাসিক বিরহ, ১৮০১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা নাহি আইলা নদীয়া নগরে। হৃদয়ে হৃদয় ধরি নিজ পর এক করি তার মুখ দেখিবার তরে॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেন হৈলা। সভারে সদয় হৈয়া মুঞি নারীরে বঞ্চিয়া এ শোক-সাগরে ভাসাইলা॥ ধ্রু॥ এ নব যৌবনকালে মুড়াইলা চাঁচর চুলে কি জানি সাধিলা কোন সিধি। কি ছার পুরাণ সে পশুবৎ পণ্ডিত যে গৌরাঙ্গ-সন্ন্যাসে দিল বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজ-বোলে লৈয়া গেল থুইল লৈয়া মথুরানগরী। নিতি লোক আইসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করিলে দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া মরমে বেদনা পাঞা ধরণীরে মাগয়ে বিদায়। বাসুদেব ঘোষে কয় মো সম পামর নাই তমু হিয়া বিদরে আমার॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৭৩-পদসংখ্যায় ২য় বার এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা নাহি আইলা নদীয়া নগরে। হৃদয়ে হৃদয়ে ধরি নিজ পর এক করি চাঁদ-মুখ দেখিবার তরে॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেনে হৈলা। সভারে সদয় হৈয়া মুঞি নারীরে বঞ্চিয়া এ শোক-সাগরে ভাসাইলা॥ ধ্রু॥ এ নব যৌবন-কালে মুড়াইয়া চাঁচর চুলে না জানি সাধিলা কোন সিধি। কি ছার পরাণ যে পশুবত পণ্ডিত সে গৌরাঙ্গ-সন্ন্যাসে দিল বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজ-বলে লৈয়া গেল রাখিল সে মথুরা-নগরী। নিতি লোক আইসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করিল দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া মরমে বেদনা পাইয়া ধরণীরে মাগয়ে বিদার। বাসুদেব ঘোষে কয় মো সম পামর নয় তমু হিয়া বিদরে আমার॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী তাল উদিত॥ সন্ন্যাসী হইআ গেলা পুনু নাহি বাহুড়িলা না আইলা নদীআ নগরে। হৃদয় বিদরি মরি নিজ পর একুই করি তোমা মুখ দেখিবার তরে॥ হরি হরি গোরা কেনে এমন হইলা। সভারে সদয় হয়া নারীরে বঞ্চিআ এ দুখসাগরে ভাসাইলা॥ এ নব যৌবনকালে মুড়াইলা চাঁচর চুলে সাধি লেহ আপনার সিদ্ধি। কি ছার পামর সে পশুবৎ পণ্ডিত জে গৌরাঙ্গ সন্ন্যাস দিল বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজবলে লইআ গেল থুইলে লয়া মথুরা নগরে। নিতি লোক আইসে জায় তাহাতে সংবাদ পায় ভারতী করিল দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া মরমে বেদনা পেআ ধরণীরে মাগয়ে বিদার। বাসুদেব ঘোষ কয় মো সমান কি পাপী হয় তনু হিয়া বিদরে আমার॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শচী ও বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ ॥ পাহিড়া॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা নাহি আইলা নদীয়ানগরে। হৃদয়ে হৃদয়ে ধরি নিজ পর এক করি তার মুখ দেখিবার তরে॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেনে হৈলা। সবারে সদয় হৈয়া মুই নারীরে বঞ্চিয়া এ শোকসাগরে ভাসাইলা॥ ধ্রু॥ এ নবযৌবন কালে মুড়াইয়া চাঁচর চুলে না জানি সাধিলা কোন সিঁধি। কি জানি পরাণ যে পশুবৎ পণ্ডিত সে গৌরাঙ্গে সন্ন্যাসে দিল বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজ বোলে লৈয়া গেল খুইল লৈয়া মথুরানগরী। নিতি লোক আইসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করিল দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া মরমে বেদনা পাঞা ধরণীরে মাগয়ে বিদার। বাসুদেবানন্দে কয় @ মোসম পামর নাই তবু হিয়া বিদরে আমার॥ @ - বাসুদেবানন্দে কয় - বাসুদেব আনন্দে কয়। এই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভূপালী - একতালী॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেলা, পুন যদি বাহুরিলা, নাহি আইলা নদীয়া নগরে। হৃদয়ে হৃদয়ে ধরি, নিজ পর এক করি, চাঁদমুখ দেখিবার তরে॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেন হৈলা। সভারে সদয় হৈয়া, মুঞি নারীরে বধিয়া, এ শোক সাগরে ভাসাইলা॥ এ নব যৌবন কালে, মুড়াইয়া চাঁচর চুলে, কিজানি সাধিলা কোন নিধি। কি ছার পুরাণ যে পশুবত পণ্ডিত সে গৌরাঙ্গ সন্ন্যাসে দিল বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল, রাজবলে লৈয়া গেল, রাখিল সে মথুরা নগরী। নিতি লোক আইসে যায়, তাহাতে সম্বাদ পায়, ভারতী করিল দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া, মরমে বেদনা পাউয়া, ধরণীরে মাগয়ে বিদায়। বাসুদেব ঘোষ কয়, মো সম পামর নয়, তমু হিয়া বিদরে আমার॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বিষ্ণুপ্রিয়ার বিলাপ ॥ শ্রীরাগ॥ ॥ পাহিড়া॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা নাহি আইলা নদীয়া নগরে। আমাকে না দিল দেখা কি মোর করমের লেখা প্রাঁণ কাঁদে দেখিবার তরে॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেনে হৈলা। সবারে সদয় হৈয়া মুই নারীরে বঞ্চিয়া এ শোকসাগরে ভাসাইলা॥ ধ্রু॥ এ নবযৌবন কালে মুড়াইয়া চাঁচর চুলে না জানি সাধিলা কোন সিধি। কি জানি ভারতী কে পশুবৎ পণ্ডিত সে গৌরাঙ্গে সন্ন্যাসে দিলা বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজ বোলে লৈয়া গেল থুইল লৈয়া মথুরা নগরী। নিতি লোক আইসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করিল দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া মরমে বেদনা পাঞা ধরণীরে মাগয়ে বিদার। বাসু বলে শুন মাই মো সম পামর নাই তবু হিয়া বিদরে আমার॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেন হল। সবারে সদয় হঞা মোর নারীরে বঞ্চিয়া শোকের শায়রে ভাসাইল॥ এ নবযৌবন কালে মুড়াঞা চাঁচর চুলে না জানি সাধিল কোন সিধি। কি ছার পুরাণ সে পশুয়া পণ্ডিত যে গৌরাঙ্গে সন্ন্যাস দিল বিধি॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেল পুন নাহি বাহুড়িল না আইল নদীয়া নাগরে। হৃদয়ে হৃদয় ধরি নিজ পর এক করি মোর মুখ দেখিবার তরে॥ অক্রুর আঝিল ভাল রাশা বলে সঞা গেল হরি লৈঞী থুইল মধুপুরী। নিতি লোক আসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করেন দেশান্তরী॥ এত কহি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া ধরণীরে মাগয়ে বিদায়। বাসুদেব ঘোষ কহে মো সমান পাষান নহে তবু হিয়া বিদরিয়া যায়॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভীমপলশ্রী - ডাঁসপাহিড়া॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা নাহি আইল নদীয়া নগরে। হৃদয়ে হৃদয়ে ধরি নিজ পর এক করি চাঁদ-মুখ দেখিবার তরে॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেন হৈলা। সভারে সদয় হৈয়া মুঞি নারীরে বঞ্চিয়া এ শোক সাগরে ভাসাইলা॥ এ নব যৌবন-কালে মুড়াইয়া চাঁচর চুলে না জানি সাধিলা কোন সিধি। কি ছার পরাণ যে পশুবৎ পণ্ডিত সে গৌরাঙ্গ সন্ন্যাসে দিল বিধি॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজ-বলে লৈয়া গেল রাখিল সে মথুরা-নগরী। নিতি লোক আইসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করিল দেশান্তরী॥ এত বলি বিষ্ণুপ্রিয়া মরমে বেদনা পাইয়া ধরণীরে মাগয়ে বিদার। বাসুদেব ঘোষে কয় মো সম পামর নয় তবু হিয়া বিদরে আমার॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “সন্ন্যাসী হইয়া গেলা পুন যদি বাহুড়িলা” পদটির প্রথম দুটি ত্রিপদী পংক্তি বাদ দিয়ে শুরু হচ্ছে। সেই প্রথম দুটি পংক্তি ৪র্থ পংক্তির পরে দেওয়া রয়েছে। তাই এই পদটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে না দেখিয়ে, এখানে একত্রে রাখছি। ॥ তথারাগ॥ হরি হরি গৌরাঙ্গ এমন কেন হৈল। সভারে সদয় হঞা মো নারীরে বঞ্চিয়া শোকের শায়রে ভাসাইলা॥ এ নব যৌবনকালে মুড়াঞা মাথার চুলে না জানি সাধিল কোন সিধি। কি ছার পুরাণ সে পড়ুয়া পণ্ডিত জে গৌরাঙ্গে সন্ন্যাস দিল বিধি॥ সন্ন্যাসী হইয়া গেল পুন নাহি বাহুড়িল না আইল নদীয়া নগরে। হ-দয় হ-দয় ধরি নিজপর এক করি মোর মুখ দেখিবার তরে॥ অক্রুর আছিল ভাল রাজ-বলে লঞা গেল হরি লৈঞা থুইল মধুপুরি। নিতি লোকে আসে যায় তাহাতে সম্বাদ পায় ভারতী করেন দেশান্তরী॥ এত কহি বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ অঙ্গ আছাড়িয়া ধরণীরে মাগয়ে বিদায়। বাসুদেব ঘোষে কহে মো সমান পাষাণ নহে তবু হিয়া বিদরিয়া যায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |