কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
ধাওল নদীয়া-লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে
ধাইল নদীয়া লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে
আওল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে
কবি বাসুদেব ঘোষ                        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১২শপল্লব ,সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ১৯৯১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সমস্ত-ব্রজ-মণ্ডলস্য আনন্দঃ।
আদৌ শ্রীনবদ্বীপস্য যথা।
॥ শ্রীরাগ॥

ধাওল নদীয়া-লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আনন্দে আকুল চিত না পারে চলিতে॥
চিরদিনে গোরাচাঁদ-বদন দেখিয়া।
ভুখিল চকোর-আঁখি রহয়ে মাতিয়া॥
আনন্দে ভকতগণ দেখিয়া বিভোর।
জননী ধাইয়া গোরাচাঁদে করে কোর॥
মরণ-শরীরে যেন পাইল পরাণ।
গৌরাঙ্গ নদীয়াপুরে বাসুঘোষে গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নীলাচল হইতে নবদ্বীপ
॥ শ্রীরাগ॥

আওল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আনন্দে আকুল চিত না পারে চলিতে॥
চিরদিনে গোরাচাঁদের বদন দেখিয়া।
ভুখিল চকোর আঁখি রহয়ে মাতিয়া॥
আনন্দে ভকতগণ হেরিয়া বিভোর।
জননী ধাইয়া গোরাচাঁদে করে কোর॥
মরণ শরীরে যেন পাইল পরাণ।
গৌরাঙ্গ নদীয়াপুরে বাসু ঘোষ গান॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই - বড় দশকুশী॥

ধাইল নদীয়া লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আনন্দে আকুল চিত না পারে চলিতে॥
চিরদিনে গোরাচাঁদ বদন দেখিয়া।
ভুখিল চকোর আঁখি রহয়ে মাতিয়া॥
আনন্দে ভকতগণ, গেরিয়া বিভোর।
জননী ধাইয়া গোরাচাঁদে করে কোর॥
মরণ শরীরে যেন পাইলা পরাণ।
অদ্ভুত গৌরাঙ্গ-লীলা বাসুঘোষে গান॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ধাওল নদীয়া-লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আনন্দে আকুল চিত না পারে চলিতে॥
চিরদিনে গোরাচাঁদ-বদন দেখিয়া।
ভুখিল চকোর-আঁখি রহয়ে মাতিয়া॥
আনন্দে ভকতগণ দেখিয়া বিভোর।
জননী ধাইয়া গোরাচাঁদে করে কোর॥
মরণ-শরীরে যেন পাইল পরাণ।
গৌরাঙ্গ নদীয়াপুরে বাসুঘোষে গান॥

মন্তব্য :
পদটিতে সন্ন্যাস গ্রহণের পর নদীয়ায় গৌরাঙ্গের পুনরাগমনের কথা বলা হয়েছে। মুরারি
গুপ্তের কড়চায় ( ৪।১৪।৩-১১পৃ.) এবং লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গলে (অন্ত খণ্ড) ছাড়া অন্য
কোন কাব্যে বা পদে গৌরাঙ্গের নদীয়ায় পুনরাগমনের কথা বর্ণিত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী কবি
মুরারি গুপ্ত এবং বাসুঘোষের বর্ণনার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে গৌরাঙ্গ
সন্ন্যাস গ্রহণের পর একবার নবদ্বীপে এসেছিলেন এবং নদীয়ার ঙক্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ও
মাতার সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন।---চীত্রা রায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
এত দিনে সদয় হইল মোরে বিধি
এতদিনে মোর সফল হৈল বিধি
কবি বাসুদেব ঘোষ                        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৬ষ্ঠপল্লব ,সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ১৯৯৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সমৃদ্ধিমৎ-সম্ভোগস্য রসোদ্গারঃ।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রো যথা
ভক্তগণস্যোক্তিঃ।
॥ সুহই॥

এত দিনে সদয় হইল মোরে বিধি।
আনি মিলায়ল মোরে গোরা গুণ-নিধি॥
এত দিনে মিটল দারুণ দুখ।
নয়ন সফল ভেল দেখি চাঁদ-মুখ॥
চির-উপবাসী ছিল লোচন মোর।
চাঁদ পাওল যেন তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষে গায় গোরা-পরবন্ধ।
লোচন পাওল যেন জনমের অন্ধ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২৬|১-
পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিভাষ॥

এত দিনে সদয় হইল মোরে বিধি।
আনি মিলায়ল মোরে গোরা গুণ-নিধি॥
এত দিনে মিটল চিরদিন দুখ।
নয়ন সফল ভেল দেখি চাঁদ-মুখ॥
উপবাসী ছিল অতি লোচন মোর।
চাঁদ পাওল যেন তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষে গায় গোরা-পরবন্ধ।
লোচন পাওল কিয়ে জনমক অন্ধ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৪১-পৃষ্ঠায় এই ভণিতাহীন রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই॥
॥ তালোচিত॥ ॥ রসে গৌরচন্দ্র॥

এতোদিনে সদয় হইল মোরে বিধি। আনি মিলায়ল গোরা গুণনিধি॥
এত দিনে মীটল দারুণ দুখ। নয়ন সফল ভেল দেখি চান্দমুখ॥
চির উপবাসী ছিল লোচন মোর। চান্দ পাওল জেন তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষ কহে গোরা পরবন্ধ। লোচন পাওল জেন জনমের অন্ধ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নীলাচল হইতে নবদ্বীপ
॥ সুহই॥

এত দিনে সদয় হইল মোরে বিধি।
আনি মিলায়ল গোরাগুণনিধি॥
এতদিনে মিটল দারুণ দুখ।
নয়ন সফল ভেল দেখি চাঁদমুখ॥
চির উপবাসী ছিল লোচন মোর।
চাঁদ পাওল যেন তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষে গায় গোরা পরবন্ধ।
লোচন পাওল যেন জনমের অন্ধ॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এতদিনে মোর সফল হৈল বিধি।
আনি মিলায়ল মোরে গোরাগুণনিধি॥
এতদিনে মেটল দারুণ দুখ।
নয়ন সফল হৈল দেখি চাঁদ মুখ॥
চির উপবাসী ছিল লোচন মোর।
চাঁদ পাওল আজি তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষে গায় গোরা পরবন্ধ।
লোচন পাওল যেন জনমের অন্ধ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

এতদিনে সদয় হইল মোরে বিধি।
আনি মিলায়ল মোরে গোরা গুণনিধি॥
এতদিনে মিটল দারুণ দুখ।
নয়ন সফল ভেল দেখি চাঁদমুখ॥
চির উপবাসি ছিল লোচন মোর।
চাঁদ পাওল যেন তৃষিত চকোর॥
বাসুদেব ঘোষে গায় গোরা পরবন্ধ।
লোচন পাওল যেন জনমের অন্ধ॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সকল ভকত মেলি আনন্দে হুলাহুলি
সকল ভকত মেলি আনন্দে আইলা চলি
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৬শপল্লব,
সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগের রসোদগার, ২০৪১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

সকল ভকত মেলি               আনন্দে হুলাহুলি
আইলা গৌরাঙ্গ-দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুতিয়া আছে      কেহু ত নাহিক কাছে
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌর হরি           ভূমিতে বসিলা ফেরি
না বৈসয়ে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ                চমকিত হৈল মন
বিরস বদন কি কারণে।
সভে কহে হায় হায়           কিছুই না বুঝা যায়
কি ভাব উঠিল আজি মনে॥
কেহু লহু লহু করে           মুখানি পাখালে নীরে
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা     ভাবের মূরতি গোরা
বাসুঘোষ মলিন-বদন॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহির্শা॥

সকল ভকত মেলি                   আনন্দে হুলাহুলি
আইলা গৌরাঙ্গ দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুতিয়া আছে           কেহু ত নাহিক কাছে
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌর হরি                ভূমেতে বসিয়া ফেরি
না বৈসয়ে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ                    চমকিত হৈল মন
বিরস বদন কি কারণে।
সভে কহে হায় হায়                কিছুই না বুঝা যায়
কি ভাব উঠিল আজি মনে॥
কেহু লহু লহু করে                মুখানি পাখালে নীরে
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা          ভাবের মূরতি গোরা
বাসু ঘোষ মলিন বদন॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

সকল ভকত মেলি                  আনন্দে আইলা চলি
শ্রীগৌরাঙ্গ-দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুউয়া আছে                কেহত নাহিক কাছে
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌর হরি                 ভূমেতে বসিয়া ফেরি
না বৈসয়ে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ                      চমকিত হৈল মন
বিরস বদন কি কারণে।
সবে কহে হায় হায়                  কিছুই না বুঝা যায়
কি ভাব উঠিল আজি মনে॥
কেহু লহু লহু করে                 মুখানি পাখালি নীরে
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা            ভাবের মূরতি গোরা
বাসু ঘোষ মলিন বদন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারানুরাগ
॥ পাহির্শা॥

সকল ভকত মেলি                   আনন্দে হুলাহুলি
আইলা গৌরাঙ্গ দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুতিয়া আছে          কেহ ত নাহিক কাছে
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌর হরি              ভূমেতে বসিয়া ফেরি
না বৈসয়ে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ                   চমকিত হৈল মন
বিরস বদন কি কারণে।
সভে কহে হায় হায়              কিছুই না বুঝা যায়
কি ভাব উঠিল আজি মনে॥
কেহু লহু লহু করে              মুখানি পাখালে নীরে
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা          ভাবের মূরতি গোরা
বাসু ঘোষ মলিন বদন॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ মান
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥

সকল ভকত মেলি,                   আনন্দে হুলাহুলি,
আইলা শ্রীগৌরাঙ্গ দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুতিয়া আছে,            কেহত নাহিক কাছে,
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌরাঙ্গ হরি,             ভূমেতে বসিয়া ফেরি,
না বৈসয়ে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ,                    চমকিত হৈল মন,
বিরস বদন কি কারণে।
সবে কহে হায় হায়,                কিছুই না বুঝা যায়,
কি ভাব উঠিল আজি মনে॥
কেহ লহু লহু করে,                মুখানি পাখালে নীরে,
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা,           ভাবের মূরতি গোরা,
বাসু ঘোষ মলিন বদন॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে ২য় বার দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ ললিত বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥

সকল ভকত মেলি                    আনন্দে হুলাহুলি
আইলা গৌরাঙ্গ দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুতিয়া আছে           কেহত নাহিক কাছে,
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌরাঙ্গ হরি             ভূমেতে বসিয়া ফেরি
না বৈসে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ                    চমকিত হৈল মন
বিরস বদন কি কারণে।
সবে কহে হায় হায়                কিছুই না বুঝা যায়
কি ভাব উঠিল আজু মনে॥
কেহ লহু লহু করে                মুখানি পাখালে নীরে
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা           ভাবের মূরতি গোরা
বাসু ঘোষ মলিন বদন॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৫৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

সকল ভকত মেলি                   আনন্দে হুলাহুলি
আইলা গৌরাঙ্গ দরশনে।
গৌরাঙ্গ শুতিয়া আছে          কেহু ত নাহিক কাছে
নিশি জাগি মলিন বদনে॥
ইহ বড় অদভুত রঙ্গ।
উঠিয়া গৌর হরি                ভূমেতে বসিয়া ফেরি
না বৈসয়ে কাহুক সঙ্গ॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ভকতগণ                    চমকিত হৈল মন
বিরস বদন কি কারণে।
সবে কহে হায় হায়                কিছুই না বুঝা যায়
কি ভাব উঠিল আজি মনে॥
কেহু লহু লহু করে               মুখানি পাখালে নীরে
কেহ করে কেশ সম্বরণ।
কিছু না জানিয়ে মোরা          ভাবের মূরতি গোরা
বাসু ঘোষ মলিন বদন॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
রস-পরিপাটী নট কীর্ত্তন-লম্পট
শুনি বৃন্দাবন-গুণ রসে উনমত-মন
শ্রীবৃন্দাবন গুণ রসে উনমত মন
রস-পরিপাটি নট কীর্ত্তন লম্পট
ভণিতা বাসু / বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”,
একবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা ষষ্ঠী, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ পাহিড়া॥

রস-পরিপাটী নট                        কীর্ত্তন-লম্পট
কত কত রঙ্গী সঙ্গী সব সঙ্গে।
যাহার কটাক্ষে                   লখিমী লাখে লাখে
বিলসই বিলোল-অপাঙ্গে॥
শুনি বৃন্দাবন-গুণ                    রসে উনমত মন
দু বাহু তুলিয়া বলে হরি।
ফিরে নাচে নটরায়                 কত ধারা বসুধায়
দু নয়নে প্রেমের গাগরী॥
পুরুষ প্রকৃতি পর                        মদন-মনোহর
কেবল লাবণ্য-রস-সীমা।
রসের সাগর গৌর                    বড়ই গভীর ধীর
না রাখিল নাগরী-গরিমা॥
ত্রিভুবন-সুন্দর                             উন্নত-কন্ধর
সুবলিত বাহু বিশালে।
কুঙ্কুম চন্দন                              মৃগমদ লেপন
কহে বাসু তছু পদ-তলে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৭শপল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৭৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

শুনি বৃন্দাবন-গুণ              রসে উনমত-মন
দু বাহু তুলিয়া বলে হরি।
ফিরি নাচে গোরা রায়      কত ধারা বহি যায়
আঁখিযুগ প্রেমের গাগরি॥
রসে পরিপাটী নট                কীর্ত্তন-সুলম্পট
কত রঙ্গী সঙ্গিগণ সঙ্গে।
নয়নের কটাক্ষে          লখিমিনি  লাখে লাখে
বিলসই বিলোল অনঙ্গে।
পুরুষ-প্রকৃতি-পর                মনমথ-মনোহর
কেবল লাবণ্য-সুখ-সীমা।
রসের সায়র গৌর             বড়ই গভীর চৌর
না রাখিল নাগরী-গরিমা॥
উন্নত কন্ধর                       মনমথ-সুন্দর
পুলকিত অঙ্গ-বিলাসে।
চুবক চন্দন                      অঙ্গে বিলেপন
বাসুঘোষে ঐ প্রেম ভাসে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

শুনি বৃন্দাবন গুণ                রসে উনমত মন
দু বাহু তুলিয়া বোলে হরি।
ফিরি নাচে গোরা রায়        কত ধারা বহি যায়
আঁখিযুগ প্রেমের গাগরি॥
রসে পরিপাটী নট                  কীর্ত্তন সুলম্পট
কত রঙ্গী সঙ্গিগণ সঙ্গে।
নয়নের কটাক্ষে               লখিমী লাখে লাখে
বিলসই বিলোল অনঙ্গে।
পুরুষ প্রকৃতি পর                 মনমথ মনোহর
কেবল লাবণ্যসুখ সীমা।
রসের সায়রে গৌর               বড়ই গভীর ধীর
না রাখিলা নাগরীগরিমা॥
উন্নত কন্ধর                         মনমথ সুন্দর
পুলকিত অঙ্গ বিলাসে।
চুবক চন্দন                         অঙ্গে বিলেপন
বাসু ঘোষ ঐছে প্রেম ভাসে॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীবৃন্দাবন গুণ রসে উনমত মন                        
দুই বাহু তুলিয়া বলে হরি।
ফিরি নাচে গোরা রায়                                   
কত ধারা বয়্যা যায়                        
নয়ানে বহে প্রেমের গাগরি॥
রস পরিপাটী নট কীর্ত্তন লম্পট                          
কত রঙ্গী রঙ্গি সব সঙ্গে।
যাহার কটাক্ষে লখিমী লাখে লাখে                       
বিলসই বিলোল অপাঙ্গে।
পুরুষ প্রকৃতি পর                          মদন মনোহর
কেবল লাবণ্য সুখসীনা।
রসের সায়র                            গৌর বড় গভীর
ধীর মাজা খীন নাগরী গরিমা॥
উন্নত কন্দর                             মনমথ সুন্দর
পুলকি বাহু বিশালে।
চুয়া চন্দন                                   পরিলেপন
কহে বাসু তছু পদতলে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী
১৪১০-১৯১০”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রূপ

রস-পরিপাটী নট                      কীর্ত্তন-লম্পট
কত কত সঙ্গী সঙ্গী সব সঙ্গে।
যাহার কটাক্ষে                 লখিমী লাখে লাখে
বিলসই বিলোল-অপাঙ্গে॥
শুনি বৃন্দাবন-গুণ                  রসে উনমত মন
দু বাহু তুলিয়া বলে হরি।
ফিরে নাচে নটরায়              কত ধারা বসুধায়
দু নয়নে প্রেমের গাগরী॥
পুরুষ প্রকৃতিপর                    মদন-মনোহর
কেবল লাবণ্য-রসসীমা।
রসের সাগর গৌর                বড়ই গভীর ধীর
না রাখিল নাগরী-গরিমা॥
ত্রিভূবন-সুন্দর                        উন্নত-কন্ধর
সুবলিত বাহু বিশালে।
কুঙ্কুম চন্দন                         মৃগমদ লেপন
কহে বাসু তছু পদ-তলে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রূপ

রস-পরিপাটী নট                      কীর্ত্তন-লম্পট
কত কত রঙ্গী সঙ্গী সব সঙ্গে।
যাহার কটাক্ষে                 লখিমী লাখে লাখে
বিলসই বিলোল-অপাঙ্গে॥
শুনি বৃন্দাবন-গুণ                  রসে উনমত মন
দু বাহু তুলিয়া বলে হরি।
ফিরে নাচে নটরায়             কত ধারা বসুধায়
দু নয়নে প্রেমের গাগরী॥
পুরুষ প্রকৃতিপর                     মদন-মনোহর
কেবল লাবণ্য-রসসীমা।
রসের সাগর গৌর                বড়ই গভীর ধীর
না রাখিল নাগরী-গরিমা॥
ত্রিভূবন-সুন্দর                         উন্নত-কন্ধর
সুবলিত বাহু বিশালে।
কুঙ্কুম চন্দন                          মৃগমদ লেপন
কহে বাসু তছু পদ-তলে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৫২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

রস-পরিপাটি নট                        কীর্ত্তন লম্পট
কত কত রঙ্গী সঙ্গী সব সঙ্গে।
যাহার কটাক্ষে                   লখিমী লাখে লাখে
বিলসই বিলোল অপাঙ্গে॥
শুনি বৃন্দাবন গুণ                    রসে উনমত মন
দুবাহু তুলিয়া বলে হরি।
ফিরে নাচে নটরায়                কত ধারা বসুধায়
দু’নয়নে প্রেমের গাগরী॥
পুরুষ প্রকৃতি পর                       মদন মনোহর
কেবল লাবণ্য রস সীমা।
রসের সাগর গৌর                    বড়ই গভীর ধীর
না রাখিল নাগরী গরিমা॥
ত্রিভুবন সুন্দর                             উন্নত কন্ধর
সুবলিত বাহু বিশালে।
কুঙ্কুম চন্দন                             মৃগমদ লেপন
কহে বাসু তছু পদতলে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গোরা নাচে প্রেম-বিনদিয়া
গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া
কবি বাসুদেব ঘোষ / বলরাম দাস                        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৭৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। পদটি “বলরাম দাস” ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গোরা নাচে প্রেম-বিনদিয়া।
অখিল ভুবন-পতি বিহরে নদিয়া॥
দিগ বিদিগ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চাঁদ-মুখে হরি বলে কান্দিতে কান্দিতে॥
গোলোকের প্রেম-ধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরিবোল বলিয়া॥
যারে দেখে তারে যাচে লও মধুর নাম।
বাসুঘোষ না পাইয়া কান্দে অবিশ্রাম॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৮৮-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

গোরা নাচে প্রেম-বিনদিয়া।
অখিল ভুবন-পতি বিহরে নদিয়া॥
দিগ বিদিগ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চাঁদ-মুখে হরি বলে কান্দিতে কান্দিতে॥
গোলোকের প্রেম-ধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরিবোল বলিয়া॥
যারে দেখে তারে যাচে লও মধুর নাম।
বাসুঘোষ না পাইয়া কান্দে অবিশ্রাম॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন।

॥ তথা রাগ॥

গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া।
অখিল ভুবনপতি বিহরে নদিয়া॥
দিগ-বিদিগ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চাঁদ-মুখে হরি বলে কান্দিতে কান্দিতে॥
গোলোকের প্রেম-ধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরিবোল বলিয়া॥
যারে দেখে তারে যাচে লও মধুর নাম।
বাসুঘোষ না পাইয়া কান্দে অবিশ্রাম॥

ই পদটি বলরাম দাস ভণিতায়, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য়
উচ্ছাস, ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥
      
গোরা নাচে প্রেমবিনোদিয়া।
অখিলভুবনপতি বিহরে নদীয়া॥
দিগ্বিদিগ্ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চান্দমুখে হরি বোলে কান্দিতে কান্দিতে॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরি বোল বলিয়া॥
প্রেমে গর গর অঙ্গ মুখে মৃদু হাস।
সে রসে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাস১॥

১ - গ্রন্থান্তরে ভণিতা---
এ ভূমি আকাশ ভরি জয় জয় ধ্বনি।
গাওয়ে অনন্ত গুণ দিবস রজনী॥

ই পদটি বলরাম দাস ভণিতায়, ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী
সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, রাসলীলা, ৩৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ তুড়ি - সমতাল॥

গোরা নাচে প্রেমবিনোদিয়া।
অখিল ভুবনপতি বিহরে নদীয়া॥
দিগবিদিগ নাহি জানে নাচিতে নাচিতে।
চাঁদমুখে হরি বলে কাঁদিতে কাঁদিতে॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরিবোল বলিয়া॥
রসে অঙ্গ ঢর ঢর মুখে মৃদু হাস।
ও রসে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাস॥

ই পদটি বলরাম দাস ভণিতায়, ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র
ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ তুড়ি - যোত সমতাল॥

গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া।
অখিল ভুবনপতি বিহরে নদিয়া॥
দিগবিদিগ নাহি জানে নাচিতে নাচিতে।
চাঁদমুখে হরি বলে কাঁদিতে কাঁদিতে॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরি বোল বলিয়া॥
প্রেমে অঙ্গ ঢর ঢর মুখে মৃদু হাস।
এক মুখে কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি বলরাম দাস ভণিতায়, ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া।
অখিল ভুবনপতি বিহরে নদীয়া॥
দিগ্বিদিগ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চান্দমুখে হরি বোলে কান্দিতে কান্দিতে॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরি বোল বলিয়া॥
প্রেমে গর গর অঙ্গ মুখে মৃদু হাস।
সে রসে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাস॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
জাম্বুনদচয় রুচির গঞ্জয়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি
লীলা, ২০৮৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জাম্বুনদচয়                        রুচির গঞ্জয়
ঝলমল কলেবর-কাঁতি।
চন্দনে চর্চ্চিত                    বাহু মণ্ডিত
গজেন্দ্র-শুণ্ডক ভাতি॥
পেখলু গৌর               কিশোর নট নায়র
হেরইতে আনন্দ-ওর।
ভাবে ভোর তনু               অন্তর গর গর
কন্ঠে গদগদ বোল॥
নদীয়াপুর ভরি         অশেষ কৌতুক করি
নাচত রসিক সুজান।
বিবিধ বৈদগধি             বিনোদ পরিপাটী
দিন রজনী নাহি জান॥
সুরধুনী-পুলিনে                তরুণ তরুমূলে
বৈঠে নিজ পরকাশে।
বাসুদেব ঘোষের গানে,      পাওল প্রেম-দানে
সিঞ্চিল সব নিজ দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৯৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

জাম্বুনদচয়                       রুচির গঞ্জয়
ঝলমল কলেবর-কাঁতি।
চন্দনে চর্চ্চিত                     বাহু মণ্ডিত
গজেন্দ্র-শুণ্ডক ভাতি॥
পেখলু গৌর                কিশোর নব নায়র
হেরইতে আনন্দ-ওর।
ভাবে ভোর তনু                অন্তর গর গর
কন্ঠে গদগদ বোল॥
নদীয়াপুর ভরি         অশেষ কৌতুক করি
নাচত রসিক সুজান।
বিবিধ বৈদগধি              বিনোদ পরিপাটী
দিন রজনী নাহি জান॥
সুরধুনী-পুলিনে                 তরুণ তরুমূলে
বৈঠে নিজ পরকাশে।
ঐছন ভাব                    বুঝই না পারিয়ে
কহতহি বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

জাম্বুনদচয় রুচির গঞ্জয় ঝলমল কলেবর-কাঁতি।
চন্দনে চর্চ্চিত, বাহু মণ্ডিত, গজেন্দ্র-শুণ্ডক ভাতি॥
পেখলু গৌর কিশোর নট নায়র হেরইতে আনন্দ ওর।
ভাবে ভোর তনু, অন্তর গর গর, কন্ঠে গদ গদ বোল॥
নদীয়াপুর ভরি, অশেষ কৌতুক করি, নাচত রসিক সুজান।
বিবিধ বৈদগধি, বিনোদ পরিপাটী, দিন রজনী নাহি আন॥
সুরধুনী-পুলিনে তরুণ তরুমূলে, বৈঠে নিজ পরকাশে।
বাসুদেব ঘোষের গায়, পাওল প্রেমদানে, সিঞ্চিল সব নিজ দাসে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জাম্বুনদচয়                      রুচির গঞ্জয়
ঝলমল কলেবর কাঁতি।
চন্দনে চর্চ্চিত                   বাহু মণ্ডিত
গজেন্দ্র শুণ্ডক ভাতি॥
পেখলুঁ গৌর               কিশোর নটনায়র
হেরইতে আনন্দ ওর।
ভাবে ভোর তনু               অন্তর গরগর
কন্ঠে গদ গদ বোল॥
নদীয়াপুর ভরি         অশেষ কৌতুক করি
নাচত রসিক সুজান।
বিবিধ বৈদগধি             বিনোদ পরিপাটি
দিন রজনী নাহি জান॥
সুরধুনী-পুলিনে                তরুণ তরুমূলে
বৈঠে নিজ পরকাশে।
বাসুদেব ঘোষের গানে       পাওল প্রেমদানে
সিঞ্চিল সব নিজ দাসে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ
কাঁচা সে সোনার তনু ডগমগ অঙ্গ
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১৭শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২১০০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
কত সুরধুনী বহে নয়ন-তরঙ্গ॥
গোরা নাচত পরম আনন্দ।
চৌদিকে বেঢ়ি গাওয়ে নিজবৃন্দ॥ ধ্রু॥
করে করতাল বাজাওয়ে মৃদঙ্গ।
হেরত সুরধুনী উথলি তরঙ্গ॥
ভাবে অবশ অঙ্গ গদ গদ ভাষ।
বাসু কহে কি মধুর ও মুখের হাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২০৯-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
কত সুরধুনী বহে নয়ন-তরঙ্গ॥
গোরা নাচত পরম আনন্দ।
চৌদিকে বেড়িয়া গাওয়ে নিজবৃন্দ॥ ধ্রু॥
করে করতাল বাজায়ে মৃদঙ্গ।
হেরত সুরধুনী উথলি তরঙ্গ॥
ভাবে অবশ তনু গদ গদ ভাষ।
বাসু কহে কি মধুর ও মুখের হাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

কাঁচা সে সোনার তনু ডগমগ অঙ্গ। কত সুরধুনী বহে নয়নতরঙ্গ॥
গোরা নাচে পরম আনন্দ। চৌদিকে বেঢ়ি গায় নিজ বৃন্দ॥
করে করতাল বাজায়ে মৃদঙ্গ। হেরত সুরধুনী উঠল তরঙ্গ॥
ভাবে অবশ অঙ্গ গদগদ ভাষ। বাসু কহে কি মধুর ও মুখহাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
কত সুরধুনী বহে নয়ন-তরঙ্গ॥
গোরা নাচত পরম আনন্দে।
চৌদিকে বেঢ়িয়া গাওয়ে নিজবৃন্দে॥
করে করতাল বাজয়ে মৃদঙ্গ।
হেরত সুরধুনী উথলি তরঙ্গ॥
ভাবে অবশ তনু গদ গদ ভাষ।
বাসু কহে কি মধুর ও মুখহাস॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কাঁচা সে সোনার তনু ডগমগি অঙ্গ।
কত সুরধুনী বহে নয়ন তরঙ্গ॥
গোরা নাচত পরম আনন্দ।
চৌদিগে বেড়ি গাওয়ে নিজবৃন্দ॥ ধ্রু॥
করে করতাল বাজাওয়ে মৃদঙ্গ।
হেরত সুরধুনী উথলি তরঙ্গ॥
ভাবে অবশ অঙ্গ গদ গদ ভাষ।
বাসু কহে কি মধুর ও মুখের হাস॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কাঁচা সে সোনার তনু ডগমগি অঙ্গ
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কাঁচা সে সোনার তনু ডগমগি অঙ্গ।
.        কত সুরধুনী বহে নয়ান তরঙ্গ॥
কিবা করি পাইল গোরা কিবা করি গেল।
দেখিতে দেখিতে হৃদে রহিল গেল শেল॥
গোরা বড় বিদগধ রসিক সুধীর।
সোঙরি পরাণ কাঁদে বুক মন চির॥
গোরা বিনু প্রাণ রহিবে বড় লাজ।
কহে বাসু মুণ্ডে কেনে না পড়িল বাজ॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে
পাঠান্তর সহ।

॥ ধানশী॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
কত সুরধুনী বহে নয়ন-তরঙ্গ॥
কিবা করি আইলে গোরা কিবা করি গেলে।
দেখিতে দেখিতে হৃদে রহি গেল শেলে॥
গোরা বড় বিদগধ রসিক সুধীর।
সোঙরি পরাণ কাঁদে বুক মন চির॥
গোরা বিনু প্রাণ রহিবে বড় লাজ।
কহে বাসু মুণ্ডে কেনে না পড়ল বাজ॥

সূত্র -
ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৮, ২৫৬৩, ৪২৩৮।
খ। পাঠপাড়ী পুথি, ২১ক, ২১ঘ, ২৯(কীর্ত্তনানন্দ)।
গ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ৯৭৭।
ঘ। পদরত্নাকর, পৃ -৪৯৭।
ঙ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মৃণালকান্তি ঘোষ, পৃ - ৪৬।
চ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ - ১০০।
ছ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১০০।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
দেখ দেখ গোরা নটরায়
ভণিতা বাসুঘোষে
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৮শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ
প্রভৃতি, ২১৪৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

দেখ দেখ গোরা নট-রায়।
বদন শরদ-শশী              তাহে মন্দ মন্দ হাসি
কুলবতী হেরি মূরছায়॥
চাঁচর চিকুর মাথে          চম্পক-কলিকা তাথে
যুবতীর মন মধুকর।
শ্রুতি-পদ্মযুগ-মূলে           কনক-কুণ্ডল দোলে
পাকা বিম্বু জিনিয়া অধর॥
কম্বু কন্ঠে মৃদু বাণী           সুধার তরঙ্গ খানি
হরি-রসে জগত ডুবায়।
করিবর-কর জিনি             বাহু-যুগ সুবলনি
অঙ্গদ বলয়া শোভে তায়॥
বক্ষ হেম-ধরাধর             নাভি-পদ্ম সরোবর
মধ্য হেরি কেশরী পলায়।
অরুণ বসন সাজে             চরণে নূপুর বাজে
বাসুঘোষে গোরা-গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

দেখ দেখ গোরা নট-রায়।
বদন শরদ-শশী              তাহে মন্দ মন্দ হাসি
কুলবতী হেরি মূরছায়॥
চাঁচর চিকুর মাথে           চম্পক-কলিকা তাথে
যুবতীর মন মধুকর।
শ্রুতি-পদ্মযুগ-মূলে              কনক-কুণ্ডল দোলে
পাকা বিম্বু জিনিয়া অধর॥
কম্বু কন্ঠে মৃদু বাণী              সুধার তরঙ্গ খানি
হরি-রসে জগত ডুবায়।
করিবর-কর জিনি                বাহু-যুগ সুবলনি
অঙ্গদ বলয়া শোভে তায়॥
বক্ষ হেম-ধরাধর              নাভি-পদ্ম সরোবর
মধ্য হেরি কেশরী পলায়।
অরুণ বসন সাজে             চরণে নূপুর বাজে
বাসুঘোষে গোরা-গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে
॥ গান্ধার॥

দেখ দেখ গোরা নটরায়।
বদন শারদ শশী               তাহে মন্দ মন্দ হাসি
কুলবতী হেরি মূরছায়॥ ধ্রু॥
চাঁচর চিকুর মাথে             চম্পককলিকা তাতে
যুবতীর মন মধুকর।
শ্রুতিপদ্মযুগমূলে                   কনককুণ্ডল দুলে
পাকা বিম্বু জিনিয়া অধর॥
কম্বুকন্ঠে মৃদু বাণী               সুধার তরঙ্গ খানি
হরিরসে জগত ডুবায়।
করিবরকর জিনি                   বাহুযুগ সুবলনি
অঙ্গদ বলয়া শোভে তায়॥
বক্ষ হেম-ধরাধর                 নাভিপদ্ম সরোবর
মধ্য হেরি কেশরী পলায়।
অরুণ বসন সাজে                চরণে নূপুর বাজে
বাসু ঘোষ গোরাগুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ গান্ধার - দশকুশী॥

দেখ দেখ গোরা নট-রায়।
বদন-শরদ-শশী                তাহে মৃদু মন্দ হাসি
কুলবতী হেরি মুরছায়॥
চাঁচর চিকুর মাথে             চম্পক-কলিকা তাথে
যুবতীর মন মধুকর।
শ্রুতি-পদ্মযুগ-মূলে               কনক-কুণ্ডল দোলে
পাকা বিম্বু জিনিয়া অধর॥
কম্বু কন্ঠে মৃদুবাণী                 সুধার তরঙ্গখানি
হরি-রসে জগত ডুবায়।
করিবর-কর জিনি                  বাহু-যুগ সুবলনি
অঙ্গদ বলয়া শোভে তায়॥
বক্ষ হেম-ধরাধর                  নাভিপদ্ম-সরোবর
মধ্য হেরি কেশরী পলায়।
অরুণ বসন সাজে                চরণে নূপুর বাজে
বাসুঘোষে গোরা-গুণ গায়॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

দেখ দেখ গোরা নটরায়।
বদন শারদ-শশী              তাহে মন্দ মন্দ হাসি
কুলবতী হেরি মুরছায়॥
চাঁচর চিকুর মাথে            চম্পক-কলিকা তাথে
যুবতীর মন-মধুকর।
শ্রুতি-পদ্মযুগ-মূলে              কনক কুণ্ডল দোলে
পাকা বিম্বু-জিনিয়া অধর॥
কম্বু-কন্ঠে মৃদু বাণী               সুধার তরঙ্গ খানি
হরিরসে জগত ডুবায়।
করিবর-কর জিনি                   বাহুযুগ-সুবলনি
অঙ্গদ-বলয়া শোভে তায়॥
বক্ষ-হেম-ধরাধর                  নাভিপদ্ম সরোবর
মধ্য হেরি কেশরী পলায়।
অরুণ বসন সাজে               চরণে নূপুর বাজে
বাসু ঘোষে গোরা-গুণ গায়॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গ বিহরই পরম আনন্দে
কাঁচা কাঞ্চন মণি গোরা-রূপ তাহে জিনি
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”,
অষ্টাবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা ত্রয়োদশী, ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ কামোদ॥

গৌরাঙ্গ বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                   গঙ্গা-পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজ-বৃন্দে॥ ধ্রু॥
কাঁচা কাঞ্চন মণি                গোরা-রূপ তাহা জিনি
ডগমগি প্রেম-তরঙ্গে।
ও নব কুসুম-দাম                   গলে দোলে অনুপাম
হেলন নরহরি-অঙ্গে॥
প্রিয়তম গদাধর                    ধরিয়া সে বাম কর
নিজ গুণ গাওয়ে গোবিন্দে॥
ভাবে ভরল তনু                       পুলক কদম্ব জনু
গরজন যৈছন সিংহে।
ঈষৎ হাসিয়া ক্ষণে                   অরুণ-নয়ন-কোণে
রোয়ত কিবা অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা                  বৃন্দাবন-রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদঃ॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি, গোরারূপ তাহে জিনি, ডগ মগি প্রেম-
তরঙ্গ। ও নব কুসুম দাম, গলে দোলে অনুপাম, হেলন নর-
হরি অঙ্গ॥ গোরা, বিহরই পরম আনন্দে। নিত্যানন্দ করি
সঙ্গে, গঙ্গা পুলিন রঙ্গে, হরি হরি বোলে প্রিয়বৃন্দে॥ ধ্রু॥
ভাবে অবশ তনু, পুলক কদম্ব জনু, গরজই যৈছন সিংহে।
প্রিয় গদাধর,-ধরি বাম কর, নিজগুণ গায়ই গোবিন্দে॥ অরুণ
নয়ান কোণে, খেনে খেনে হাসত, বোলত কিবা অভিলাষে।
সঙরি সে সব খেলা, বৃন্দাবন-রসলীলা, কি বলিব বাসুদেব
ঘোষে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৮শপল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১৪৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি            গোরা-রূপ তাহে জিনি
ডগমগি প্রেমের তরঙ্গ।
ও নব কুসুম-দাম              গলে দোলে অনুপাম
হিলন নরহরি-অঙ্গ॥
বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে             গঙ্গার পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজ-বৃন্দে॥ ধ্রু॥
ভাবে অবশ তনু                   পুলক কদম্ব জনু
গরজই যৈছন সিংহে।
নিজ-প্রিয় গদাধর                 ধরিয়াছে বাম কর
নিজ গুণ গাওই গোবিন্দে॥
ঈষৎ অধরে পহু                      লহু লহু হাসত
বোলত কত অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা             বৃন্দাবন রস-লীলা
কি বলিবে বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৫১-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কামোদ॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি               গোরা-রূপ তাহে জিনি
ডগমগি প্রেমের তরঙ্গ।
ও নব কুসুম-দাম               গলে দোলে অনুপাম
হিলন নরহরি-অঙ্গ॥
বদন পূর্ণিমা শশী                তাহে মৃদু মৃদু হাসি
আঁখি বহে অমিয়ার ধারা।
ভকত চাতক যত                পিও পিও অবিরত
নিশি দিশি প্রেমে মাতোয়ারা॥
বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে             গঙ্গার পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজ-বৃন্দে॥ ধ্রু॥
ভাবে অবশ তনু                  পুলক কদম্ব জনু
গরজই যৈছন সিংহে।
নিজ-প্রিয় গদাধর                ধরিয়াছে বাম কর
নিজ গুণ গাওই গোবিন্দে॥
ঈষৎ অধরে পহু                      লহু লহু হাসত
বোলত কত অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা             বৃন্দাবন রস-লীলা
কি বলিবে বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি                গোরারূপ তাহে জিনি
ডগমগি প্রেমের তরঙ্গ।
ও নব কুসুমদাম                 গলে দোলে অনুপাম
হিলন নরহরি অঙ্গ॥
বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে              গঙ্গার পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বোলে নিজবৃন্দে॥ ধ্রু॥
ভাবে অবশ তনু                    পুলক কদম্ব জনু
গরজই যৈছন সিংহে।
নিজ প্রিয় গদাধর                  ধরিয়াছে বাম কর
নিজগুণ গাওই গোবিন্দে॥
ঈষৎ অধরে পহুঁ                        লহু লহু হাসত
বোলত কত অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা                বৃন্দাবন রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ কামোদ - বড় দশকুশী॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি                গোরা-রূপ তাঁহে জিনি
ডগমগি প্রেমের তরঙ্গ।
ও নব কুসুম দাম                গলে দোলে অনুপাম,
হিলন নরহরি অঙ্গ॥
গৌরাঙ্গ আমার বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                গঙ্গার পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজবৃন্দে॥ ধ্রু॥
প্রিয় গদাধর                        ধরিয়া সে বাম কর
নিজ গুণ গাওয়ে গোবিন্দ॥
ভাবে ভরল তনু                      পুলক কদম্ব জনু
গরজই যৈছন সিংহ।
ঈষত অধরে পহু                        লহু লহু হাসত
বোলত কিবা অভিলাষে।
সোঙরি সো সব খেলা                বৃন্দাবন রসলীলা
কি কহব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”. ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা
॥ কামোদ - বড় দশকুসী॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি               গোরারূপ তাহে জিনি
ডগমগি প্রেমের তরঙ্গ।
ও নব কুসুমদাম                 গলে দোলে অনুপাম
হিলন নরহরি অঙ্গ॥
বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে               গঙ্গার পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজ বৃন্দে॥ ধ্রু॥
ভাবে অবশ তনু                     পুলক কদম্ব জনু
গরজই যৈছন সিংহে।
নিজ প্রিয় গদাধর                 ধরিয়াছে বাম কর
নিজগুণ গাওই গোবিন্দে॥
ঈষৎ অধরে পহুঁ                        লহু লহু হাসত
বোলত কত অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা                বৃন্দাবন রসলীলা
কি বলিবে বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কাঁচা কাঞ্চন মণি            গোরারূপ তাহে জিনি
ডগমগি প্রেমের তরঙ্গ।
ও নব কুসুমদাম              গলে দোলে অনুপাম
হেলন নরহরি অঙ্গ॥
বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে         জাহ্নবী পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বোলে নিজ বৃন্দে॥ ধ্রু॥
ভাবে অবশ তনু                 পুলক কদম্ব জনু
গরজই যৈছন সিংহে।
নিজ প্রিয় গদাধর              ধরিয়াছে বাম কর
নিজগুণ গাওই গোবিন্দে॥
ঈষত অধরে পহুঁ                   লহু লহু হাসত
বোলত কত অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা            বৃন্দাবন রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী
১৪১০-১৯১০”, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                    গঙ্গা পুলিন রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজবৃন্দে॥
কাঁচা কাঞ্চন মণি                  গোরারূপ তাহা জিনি
ডগমগি প্রেম-তরঙ্গে।
ও নব-কুসুম-দাম                   গলে দোলে অনুপাম
হেলন নরহরি-অঙ্গে॥
প্রিয়তম গদাধর                     ধরিয়া সে বাম কর
নিজগুণ গাওয়ে গোবিন্দে॥
ভাবে ভরল তনু                       পুলক কদম্ব জনু
গরজন যৈছন সিংহে।
ঈষৎ হাসিয়া ক্ষণে                   অরুণ-নয়ন-কোণে
রোয়ত কিবা অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা                  বৃন্দাবন-রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের ভাবমাধুর্য্য

গৌরাঙ্গ বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                   গঙ্গা পুলিন রঙ্গে
হরি হরি বলে নিজবৃন্দে॥
কাঁচা কাঞ্চন মণি                 গোরারূপ তাহা জিনি
ডগমগি প্রেম-তরঙ্গে।
ও নব-কুসুম-দাম                  গলে দোলে অনুপাম
হেলন নরহরি-অঙ্গে॥
প্রিয়তম গদাধর                    ধরিয়া সে বাম কর
নিজগুণ গাওয়ে গোবিন্দে॥
ভাবে ভরল তনু                      পুলক কদম্ব জনু
গরজন যৈছন সিংহে।
ঈষৎ হাসিয়া ক্ষণে                  অরুণ-নয়ন-কোণে
রোয়ত কিবা অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা                 বৃন্দাবন-রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কাঁচা কাঞ্চন মণি                গোরারূপ তাহে জিনি
ডগমগ প্রেমতরঙ্গ।
ও নব কুসুমদাম                 গলে দোলে অনুপাম
হেলন নরহরি অঙ্গ॥
গোরা নাচত পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                গঙ্গা পুলিনে রঙ্গে
হরি হরি বোলে নিজ রঙ্গে॥
ভাবে অবশ তনু                    পুলক কদম্ব জনু
গরজন ঐছন সিংহে।
প্রিয় গদাধর                          ধরিয়া বামকর
নিজগুণ গাওই গোবিন্দে॥
ঈষত অধরে পহুঁ                      লহু লহু হাসত
বোলত কত অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা               বৃন্দাবন রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ রাগ॥

গৌরাঙ্গ বিহরই পরম আনন্দে।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে                  @@@@@@@
হরি হরি বলে নিজ বৃন্দে॥
কাঁচা কাঞ্চন মণি              গোরারূপ তাহা জিনি
ডগমগি প্রেম তরঙ্গে।
ও নব কুসুম দাম               গলে দোলে অনুপাম
হেলন নরহরি অঙ্গে॥
প্রিয়তম গদাধর                 ধরিয়া সে বাম কর
নিজগুণ গাওয়ে গোবিন্দে॥
ভাবে ভরল তনু                    পুলক কদম্ব জনু
গরজন, জৈছন সিংহে।
ঈষত হাসিয়া ক্ষণে               অরুণ নয়ন কোনে
রোয়ত কিবা অভিলাষে।
সোঙরি সে সব খেলা              বৃন্দাবন রসলীলা
কি বলিব বাসুদেব ঘোষে॥

@@@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর