| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| গোরা-গুণ গাও গাও শুনি গোরাগুণ গাও শুনি গোরা গুণ গাও আও শুনি ভণিতা বাসুদেব কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ২০শপল্লব , শ্রীগৌরচন্দ্র-প্রকারান্তর, ২১৮৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কোনো পাঠান্তর ছাড়াই নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” পুথির ২১৮৫-পদসংখ্যায় দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ গোরা-গুণ গাও গাও শুনি। অনেক পুণ্যের ফলে সো পহু মিলায়ল প্রেম-পরশ-রস-মণি॥ ধ্রু॥ অখিল জীবের এ শোক-সায়র শোষয়ে নয়ান-নিমিষে। ও প্রেম-লবলেশ পরশ না পাইলে পরাণ জুড়াইবে কিসে॥ অরুণ নয়ান বরুণ-আলয় করুণাময় নিরখণে। মধুর আলাপনে আখরে আখরে পাঁজরে পাতিয়া লিখনে॥ প্রেমে ঢল ঢল পুলকে পূরল আপাদমস্তক তনু। বাসুদেব কহে সহস্র-ধারা বহে সুমেরু সিঞ্চিত জনু॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ গোরাগুণ গাও গাও শুনি। অনেক পুণ্যের ফলে সো পহুঁ মিলায়ল প্রেমপরশ-রস-মণি॥ ধ্রু॥ অখিল জীবের @@@@@@ শোষয়ে নয়াননিমিষে। ও প্রেম লব লেশ পরশ না পাইলে পরাণ জুড়াইবে কিসে॥ অরুণ-নয়নে বরুণ আলয় করুণাময় নিরখণে। মধুর আলাপনে আখরে আখরে পাঁজরে পাতিয়া লিখনে॥ প্রেমে ঢল ঢল পুলকে পূরল আপাদ মস্তক তনু। বাসুদেব কহে সহস্র ধারা বহে সুমেরু সিঞ্চিত জনু॥ @@@@@@ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ গোরাগুণ গাও শুনি। অনেক পুণ্য ফলে সো পহুঁ মিলল প্রেম পরশমণি॥ অখিল জীবের এ শোক সায়র নয়ন নিমেষে শোষে। ওই প্রেম লেশ পরশ না পাইলে পরাণ জুড়াবে কিসে॥ অরুণ নয়নে বরুণ আলয় করুণায় নিরখণে। মধুর আলাপে আখরে আখরে সুরধারা বরিষণে॥ প্রেমে ঢল ঢল পুলকে পূরল আপাদ মস্তক তনু। বাসুদেব কহে শত ধারা বহে সুমেরু সিঞ্চিত জনু॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোরা গুণ গাও আও@ শুনি। অনেক পুণ্যের ফলে সো পহুঁ মিলাওল প্রেম পরশরস মণি॥ অখিল জীবের এ শোক সায়র শোষ এ আঁখির নিমিষে। ও প্রেম লবলেশ পরশ না পাইলে পরাণ জুড়াইবে কিসে॥ অরুণ নয়ানে তরণী-নিলয় করুণাময় নিরখিলুঁ। ভাবে গরগর পুলক মনোহর আপাদমস্তক তনু। বাসুদেব ঘোষ কহে সহস্র ধারা বহে সুখ সখি সিঞ্চিত জনু॥ @ - আও - সম্ভবত “গাও” হবে। মুদ্রণপ্রমাদ হতে পারে। কিন্তু গ্রন্থে কোনো সংশোধনী না থাকার জন্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে তাঁর প্রাপ্ত পুথিতে কি লেখা ছিল। এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লার॥ গোরাগুণ গাও গাও শুনি। অনেক পুণ্যের ফলে সো পহু মিলায়ল প্রেম-পরশ-রসমণি॥ ধ্রু॥ অখিল জীবের এ শোক সায়র শোষয়ে নয়ান-নিমিষে। ও প্রেম লবলেশ পরশ না পাইলে পরাণ জুড়াইবে কিসে॥ অরুণ নয়ান বরুণ আলয় করুণাময় নিরখনে। মধুর আলাপনে আখরে আখরে পাঁজরে পাতিয়া লিখনে॥ প্রেমে ঢল ঢল পুলকে পূরল আপাদমস্তক তনু। বাসুদেব কহে সহস্র-ধারা বহে সুমেরু সিঞ্চিত জনু॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি সকল মহান্ত মিলি সকালে সিনান করি ভণিতা বাসুদেব ঘোষের কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২২২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি আইলা গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কান্দে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিতাই গুণমণি। কেবা আসি দিলে মন্ত্র কে শিখাইলে কোন তন্ত্র কিবা হৈল কিছুই না জানি॥ গৃহ মাঝে শুয়্যা ছিলুঁ ভাল মন্দ না জানিলুঁ কিবা করি গেল রে ছাড়িয়া। কিবা নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাঞা গেল রহিব কাহার মুখ চাঞা॥ বাসুদেব ঘোষ ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩২৭-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি আইলা গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কান্দে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিমাই গুণমণি। কেবা আসি দিলে মন্ত্র কে শিখাইলে কোন তন্ত্র কিবা হৈল কিছুই না জানি॥ গৃহ মাঝে শুয়্যা ছিলুঁ ভাল মন্দ না জানিলুঁ কিবা করি গেল রে ছাড়িয়া। কিবা নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাঞা গেল রহিব কাহার মুখ চাঞা॥ বাসুদেব ঘোষ ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪০|৩৪-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি সভে গেল গোরা দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি অচেতন ভুমে পড়ি শচী কান্দে বাহির দুয়ারে॥ শুন রে নিতাই গুণমণি। শিখাইল কোন তন্ত্র কেবা দিল কোন মন্ত্র ভাল মন্দ কিছুই না জানি॥ নিশায় চলিয়া গেল কারে কিছু না বলিল কিবা করি গেল রে ছাড়িয়া। কেবা নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাঞা গেল রহিব কাহার মুখ চাঞা॥ বাসুদেব ঘোষ ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মিলি সকালে সিনান করি আইলা গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিরহে রহিয়াছে পড়ি শচী কাঁদে বাহির দুয়ারে॥ শুনহ আরে নিতাই গুণ মণি। কেবা আসি দিল মন্ত্র শিখাইলে কোন তন্ত্র কিবা হইল কিছুই না জানি॥ ধ্রু॥ কিবা করিল যে গেল ছাড়িয়া। কিবা নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাইয়া গেল রহিব কাহার মুখ চাইয়া॥ কহে বাসুদেব ভাষা শচীর এমন দশা মরা যেন রহিয়াছে পড়িয়া। এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি আইল গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কাঁদে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিতাই গুণমণি। কেবা আসি দিল মন্ত্র কে শিখাইল কোন তন্ত্র কি হইল কিছুই না জানি॥ ধ্রু॥ গৃহমাঝে গিয়াছিনু ভালমন্দ না জানিনু কিবা করি গেলে রে ছাড়িয়া। কেবা নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাঞা গেল রহিব কাহার মুখ চাহিয়া॥ বাসুদেব ঘোষের ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী পাহাড়ী - তাল দশকুশি॥ সকল মোহান্ত মেলি, সকালে সিনান করি, আইল গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি, বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি, শচী কান্দে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিতাই গুণ- মণি। কেবা আসি দিল মন্ত্র, কে শিখালে কোন তন্ত্র, কিবা হৈল কিছুই না জানি॥ ধ্রু॥ গৃহ মাঝে শুয়েছিনু, ভাল মন্দ না জানিনু, কিবা করি গেলরে ছাড়িয়া। কেবা নিঠুরাই কৈল, পাথারে ভাসাঞা গেল, রহিব কাহার মুখ চাইয়া॥ বাসুদেব ঘোষ ভাষা, শচীর এমন দশা, মরা হেন রহিলা পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি, ঈশানে দেখায় ঠারি, গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস লীলা ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি আইল গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কাঁদে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিতাই গুণমণি। কেবা আসি দিল মন্ত্র কে শিখাইল কোন তন্ত্র কি হইল কিছুই না জানি॥ ধ্রু॥ গৃহমাঝে গিয়াছিনু ভালমন্দ না জানিনু কিবা করি গেলে রে ছাড়িয়া। কেনে নিঠুরাই কৈলে পাথারে ভাসাঞা গেলে রহিব কাহার মুখ চাহিয়া॥ বাসুদেব ঘোষের ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি আইল গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কান্দে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন শুন নিতাই গুণমণি। কেবা আসি দিল পুত্র হরিনাম মবামন্ত্র কিবা হৈল কিছুই না জানি॥ নিশ্চয় ছাড়িয়া গেল ভাল মন্দ না বলিল কিবা দোষে গেলারে ছাড়িঞা। কেনে বা নিঠুরা হৈলা পাথারে ভাসাঞা গেলা বাঁচিব সে কার মুখ চাঞা॥ বাসুদেব ঘোষের ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন আছয়ে পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহাড়ী - একতালা॥ সকল মহান্ত মিলি সকালে সিনান করি আইলা গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কান্দে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিতাই গুণমণি। কেবা আসি দিলে মন্ত্র কে শিখাইলে কোন তন্ত্র কিবা হৈল কিছুই না জানি॥ গৃহ মাঝে শুয়্যা ছিলুঁ ভাল মন্দ না জানিলুঁ কিবা করি গেলরে ছাড়িয়া। কিবা নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাঞা গেল রহিব কাহার মুখ চাঞা॥ বাসুদেব ঘোষ ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ সকল মহান্ত মেলি সকালে সিনান করি আইল গৌরাঙ্গ দেখিবারে। গৌরাঙ্গ গিয়াছে ছাড়ি বিষ্ণুপ্রিয়া আছে পড়ি শচী কাঁদে বাহির দুয়ারে॥ শচী কহে শুন মোর নিতাই গুণমণি। কেবা আসি দিল মন্ত্র কে শিখাইল কোন তন্ত্র কি হইল কিছুই নাহি জানি॥ গৃহ মাঝে শুয়্যা ছিলুঁ ভাল মন্দ না জানিলুঁ কিবা করি গেলরে ছাড়িয়া। কেনে নিঠুরাই কৈল পাথারে ভাসাঞা গেল রহিব কাহার মুখ চাঞা॥ বাসুদেব ঘোষ ভাষা শচীর এমন দশা মরা হেন রহিল পড়িয়া। শিরে করাঘাত মারি ঈশানে দেখায় ঠারি গোরা গেল নদীয়া ছাড়িয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মুড়াইয়া চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গা-জলে মুড়ায়া চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গা-জলে মুড়াঞা চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গাজলে ভণিতা বাসু ঘোষ / বাসুদেব কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কোনো পাঠান্তর ছাড়াই নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” পুথির ২৩৩০-পদসংখ্যায় দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ মুড়াইয়া চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গা-জলে বলে দেহ অরুণ বসন। গৌরাঙ্গের বচন শুনিয়া ভকতগণ উচ্চ-স্বরে করয়ে রোদন॥ অরুণ দুই খানি কানি ভারতী দিলেন আনি আর দিল একটি কৌপীন। মস্তকে পরশ করি পরিলেন গৌরহরি আপনাকে মানে অতি দীন॥ তোমরা বান্ধব মোর এই আশীর্ব্বাদ কর নিজ-কর দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে যেন উপহাস ব্রজে যেন পাই ব্রজ-নাথে॥ এত কহি গৌররায় উর্দ্ধমুখ করি ধায় দিগ বিদিগ নাহি মানে। ভক্ত-জনার পাছে পাছ লোটাঞা লোটাঞা কাছে বাসু ঘোষ হাকান্দ কান্দনে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ মুড়াইয়া চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গাজলে বলে দেহ অরুণ বসন। গৌরাঙ্গের বচন শুনিয়া ভকতগণ উচ্চস্বরে করেন রোদন॥ অরুণ দুইখানি ফালি ভারতী দিলেন আনি আর দিল একটী কৌপীন। মস্তকে পরশ করি পরিলেন গৌরহরি আপনাকে মানে অতি দীন॥ তোমরা বান্ধব মোর এই আশীর্ব্বাদ কর নিজ কর দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে যেন উপহাস ব্রজে যেন পাই ব্রজনাথে॥ এত কহি গৌররায় উর্দ্ধমুখ করি ধায় দিগ বিদিগ নাহি মানে। ভক্ত জনার পাছে পাছে লোটাঞা লোটাঞা কাঁদে বাসুদেব হা কান্দ কান্দনে॥ এই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী - একতালী॥ মুড়ায়া চাঁচর চুলে, স্নান করি গঙ্গাজলে, বোলে দেহ অরুণ বসন। গৌরাঙ্গের বচন, শুনিয়া ভকতগণ, উচ্চস্বরে করেন রোদন॥ অরুণ দুইখানি ফালি. ভারতী দিলেন তুলি আর দিল একটী কৌপীন। মস্তকে পরশ করি, পরিলেন গৌর হরি, আপনাকে মানে অতি দীন॥ তোমরা বান্ধব মোর, এই আশীর্ব্বাদ কর, নিজ কর দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস, নহে যেন উপহাস, ব্রজে যেন পাই ব্রজনাথে॥ এত কহি গৌর রায়, উর্দ্ধমুখ করি ধায়, দিগবিদিগ নাহি মানে। ভক্তজনার পাছে পাছে, লোটাঞা লোটাঞা কাঁদে বাসু ঘোষ হা কাঁদ কাঁদনে॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মুড়াঞা চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গাজলে বলে দেহ মোরে অরুণ বসন। সুনিঞা গৌরাঙ্গের তথা সভাই পাইল বেথা, উচ্চৈস্বরে করয়ে রোদন॥ কাঞ্চন নগরবাসী যত তারা কান্দে অবিরত আঝর ঝরয়ে দুটী আঁখি। ইহার জননী যে কেমনে বাঁচিবে সে ও চান্দ বদন না দেখি॥ কাঞ্চন নগরে গিয়া ভারতীর কাছে গিয়া কর জোড়ে বলিছেন গোরা। তোমরা বৈষ্ণবগণ দেহ কৃষ্ণপ্রেমধন দু'নয়নে বহে প্রেমধারা॥ ভাবিয়া দেখিলাম মনে নাহি ত্রিভুবনে তোমা সমান নাহি কারো বেশ। তোমারে সন্ন্যাস দিতে বড় ভয় লাগে চিতে এবে তোমার নবীন বয়েস॥ অরুণ দুখানি ফালি ভারতী দিলেন তুলি আর দিলা এ ডোর কৌপীন। মস্তকে পরশ করি পরিলেন গৌর হরি বোলে আমি জিব কতদিন॥ তোমরা বৈষ্ণব মোর এই আশীর্ব্বাদ কর দুটি হাথ দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে যেন উপহাস ব্রজে যেন পাই ব্রজ নাথে॥ এত বলি গৌররায় ভুমে গড়াগড়ি যায় হাহা বৃন্দাবন বলি কান্দে। ভ্রমে প্রভু রাঢ় দেশে নিত্যানন্দ ধায় পাশে বাসুঘোষ উচ্চস্বরে কান্দে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির শেষ চার পংক্তি আর “প্রভুর মুণ্ডন দেখি কান্দে যত পশু পাখী” শিরোনামের পদের শেষ চার পংক্তির মধ্যে কোনও অন্তর নেই। ॥ পাহিড়া॥ মুড়াঞা চাঁচর চুলে স্নান করি গঙ্গাজলে বলে দেহ অরুণ বসন। সুনিয়া গৌরাঙ্গের কথা সভাই পাইল বেথা উচ্চৈস্বরে করয়ে রোদন॥ ( কাঞ্চননগরবাসী ৩ যত তারা কান্দে অবিরত অঝরে ঝরয়ে দুটি আঁখি। ইহার জননী যে কেমনে বাঁচিবে সে ও চান্দ বদন না দেখি॥ কাঞ্চননগরে গিয়া ভারতীর কাছে গিয়া করজোড়ে বলিছেন গোরা। তোমরা বৈষ্ণবগণ দেহ কৃষ্ণ প্রেমধন দু'নয়নে বহে প্রেমধারা॥ ভাবিয়া দেখিলাম মনে নাহি কেহ ত্রিভুবনে তোমা সমান নাহি কারো বেশ। তোমারে সন্ন্যাস দিতে বড় ভয় লাগে চিতে এবে তোমার নবিন বয়েস॥ ) অরুণ দু’খানি কানি ভারতী দিলেন আনি আর দিলা এ ডোর কপিন। মস্তকে পরশ করি পরিলেন গৌরহরি বোলে আমি জিব কতদিন॥ তোমরা বান্ধব মোর এই আশীর্ব্বাদ কর দুটি হাথ দিয়া মোর মাথে। করিলাম সন্ন্যাস নহে যেন উপহাস ব্রজে যেন পাই ব্রজনাথে॥ এত বলি গৌররায় ভূমে গড়াগড়ি যায় হা হা বৃন্দাবন বলি কান্দে। ভ্রমে প্রভু রাঢ়দেশে নিত্যানন্দ ধায় পাশে বাসু ঘোষ উচ্চস্বরে কান্দে॥ সূত্র - ক। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথি ৩১৭, ৪৯৯৬. ৬২০৪/২৩৭৭, ৬৭৬৭। খ। পাঠপাড়ী পুথি, ২১গ, ৩৩চ। গ। সাহিত্য পরিষদ পুথি ২৫০৮, ১৯শ পত্র (পালা)। ঘ। বিশ্বভারতী পুথি, ১৯৭৬, ৬৭৯৮, ৬০৯৬ (পালা)। ঙ। পদকল্পতরু পদ - ২২২৫। চ। গৌরগদতরঙ্গিণী পৃ - ২৩৯। ছ। কীর্ত্তনগীতরত্নাবলী, পৃ - ৪০২। জ। বাসু ঘোষের পদাবলী, মৃণালকান্তি ঘোষ, পৃ - ৮৮। ঝ। প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্য শ্রীচৈতন্য, সতী ঘোষ, পৃ - ১১১। ঞ। বাসু ঘোষের পদাবলী, সন্তোষ কুণ্ডু, পদ - ৮৬। ট। বাসু ঘোষের পদাবলী, মালবিকা চাকী, পদ - ১২৪। পাঠান্তর - ৩। বন্ধনীর মধ্যের অংশ শুধু কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পুথিতে আছে। ---চীত্রা রায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে ভণিতা বাসু ঘোষ / বাসুদেব কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২২৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি বজর পাড়িল গো রসবতীর পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ গিরি পুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাড়ি নিল। প্রিয় সহচরী সঙ্গে যে সাধু করিলুঁ রঙ্গে সে সব স্বপন সম ভেল॥ কিশোর বয়েস বেশ মাথায় চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছে মিশাইয়া। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বাঁচিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী-তীরে তরু কদম্বখণ্ডিতে চারু প্রাণ কান্দে কেতকী দেখিয়া । নদীয়া আনন্দ ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসু ঘোষ মরয়ে কান্দিয়া॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২২৮-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি কুলিশ পাড়িল গো রসবতীর পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ গিরি পুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাড়ি নিল। প্রিয় সহচরী গণে যে সাধু করিল মনে সে সব স্বপন সম ভেল॥ নবীন বয়েস বেশ কিবা সে চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছে মিশাইয়া। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বঞ্চিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী-তীরে তরু কদম্ব খণ্ডিত উরূ প্রাণ কান্দে কেতকী দেখিয়া । নদীয়া আনন্দ ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসু ঘোষ মরয়ে কান্দিয়া॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪০|১০৫-পদ- সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা- পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি বজর পাড়িল গো রসবতীর পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ গিরি পুরী ভারতী আসিয়া করিল খেতি আঁচলের রতন কাড়ি নিল। প্রিয় সহচরী গণে যে সাধু আছিল মনে সে সব স্বপন সম ভেল॥ কিশোর বয়েস বেশ মাথায় চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছে মিশাইয়া। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বঞ্চিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী-তীর তরু কদম্ব খণ্ডিত অরু প্রাণ কান্দে কেতকী দেখিয়া । নদীয়া আনন্দ ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসু ঘোষ মরয়ে কান্দিয়া॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি ২ কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি কুলিশ পাড়িল গো রসবতী পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ প্রিয় সহচরী গণে যে সাধ করিল মনে রঙ্গে সেসব স্বপন সমভেল। গিরিপুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাঢ়ি নিল॥ নবীন বয়েস বেশ কিবা সে চাচর কেশ মুখে হাসি আছয়ে মিশাইয়া। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বঞ্চিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী তীরে তরু কদম্ব খণ্ডিতে উরু প্রাণ কাঁদে কেতকী দেখিয়া। নদীয়া আনন্দে ছিল গোকু- লের পারা হৈল বাসুদেব মরয়ে ঝুরিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া-নগরে। কেশব ভারতী আসি কুলিশ পড়িল গো রসবতী পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ প্রিয় সহচরীগণে যে সাধ করিল মনে সে সব স্বপন সম ভেল॥ গিরিপুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাড়ি নেল। নবীন বয়স বেশ কিবা সে চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছয়ে মিশাঞা। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বঞ্চিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনীতীরে তরু কদম্বখণ্ডেতে ঊরু প্রাণ কাঁদে কেতকী দেখিয়া। নদীয়া আনন্দে ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসুদেব @ মরয়ে বুরিয়া#॥ @ - “বাসুদেব” এর পাঠান্তরে “লক্ষ্মীকান্ত” দেওয়া রয়েছে। অর্থাৎ এই পদটি পদকর্তা “লক্ষ্মীকান্ত”-এর ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। মিলনসাগরে কবি লক্ষ্মীকান্ত দাসের পদাবলীর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . । # - বুরিয়া = ডুবিয়া। এই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ - তেওট্॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি, বজর পাড়িল গো, রসবতীর পরাণের ঘরে॥ গিরি পুরী ভারতী, আসিয়া করিল যতি, আঁচলের রতন কাড়ি নিল। প্রিয় সহচরী সঙ্গে, যে সাধ করিনু রঙ্গে সে সব স্বপন সম ভেল॥ কিশোর বয়েস বেশ, মাথায় চাঁচর কেশ, মুখে হাসি আছে মিলাইয়া। আমরা পরের নারী, পরাণ ধরিতে নারি, কেমনে বাঁচিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী তীরে তরু, কদম্ব খণ্ডিতে চারু প্রাণ কাঁদে কেতকী দেখিয়া। নদীয়া আনন্দ ছিল, গোকুলের পারা হৈল, বাসু ঘোষ মরয়ে কাঁদিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নদীয়া নাগরীর খেদ ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি কুলিশ পাড়িল গো রসবতী পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ প্রিয় সহচরীগণে যে সাধ করিল মনে সে সব স্বপন সম ভেল। গিরি পুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাড়ি নেল॥ নবীন বয়স বেশ কিবা সে চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছয়ে মিশাঞা। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বঞ্চিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনীতীরে তরু নন্দন হইল মরু প্রাণ কাঁদে কেতকী দেখিয়া। নদীয়া আনন্দে ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসুদেব মরয়ে বুরিয়া॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি হজর পাড়িলাগো রসবতী পরাণের ঘরে॥ গিরিপুরী ভারতী আসিয়া করিল স্থিতি আঁচলের রতন কাড়ি নেল। প্রাণসহ পরশনে যে সাধ করিনু মনে সকলি স্বপন সম ভেল॥ অল্প বয়সে বেশ মাথায় চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছয়ে মিশাইয়া। আনন্দে নদীর জল গঙ্গার সমান হৈল বাসু কেন না গেল মরিয়া॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই - দশকুশী॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি বজর পাড়িল গো রসবতীর পরাণের ঘরে॥ ধ্রু॥ গিরি পুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাড়ি নিল। প্রিয় সহচরী সঙ্গে যে সাধু করিলুঁ রঙ্গে সে সব স্বপন সম ভেল॥ কিশোর বয়েস বেশ মাথায় চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছে মিশাইয়া। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বাঁচিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী-তীরে তরু কদম্বখণ্ডিতে চারু প্রাণ কান্দে কেতকী দেখিয়া । নদীয়া আনন্দ ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসু ঘোষ মরয়ে কান্দিয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কি না হৈল নদীয়া নগরে। কেশব ভারতী আসি বজর পাড়িল গো রসবতীর পরাণের ঘরে॥ গিরি পুরী ভারতী আসিয়া করিল যতি আঁচলের রতন কাড়ি নিল। প্রিয় সহচরী সঙ্গে যে সাধ করিলুঁ রঙ্গে সে সব স্বপন সম ভেল॥ নবীন বয়স বেশ মাথায় চাঁচর কেশ মুখে হাসি আছে মিশাইয়া। আমরা পরের নারী পরাণ ধরিতে নারি কেমনে বাঁচিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ সুরধুনী তীরে তরু কদম্বখণ্ডিতে চারু প্রাণ কান্দে কেতকী দেখিয়া। নদীয়া আনন্দ ছিল গোকুলের পারা হৈল বাসু ঘোষ মরয়ে কান্দিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |