| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, সপ্তবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা দ্বাদশী, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু। জীব-চির-পুণ্য-ফলে বিধি আনি মিলাওল রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ দিগ নেহারিয়া যায় ডাকে পহুঁ গোরারায় অবনী পড়য়ে মূরছিয়া। নিজ সহচর মিলে নিতাই করিয়া কোলে সিঞ্চে পহুঁ চান্দ মুখ চাঞা॥ নব-গুঞ্জারুণ আঁখি প্রেমে ছল ছল দেখি সুমেরু উপরে মন্দাকিনী। মেঘ-গভীর-নাদে পুন ভায়া বলি ডাকে পদ-ভরে কম্পিত মেদিনী॥ নিতাই করুণাময় জীবে দিল প্রেমচয় যে প্রেম বিধির অবিদিত। নিজ গুণে প্রেম-দানে ভাসাইলা ত্রিভূবনে বাসুদেব ঘোষ সে বঞ্চিত॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ২২শপল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩১৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু। জীবের চির পুণ্য-ফলে বিহি আনি মিলাইলে রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ ধ্রু॥ দিগ নেহারিয়া যায় ডাকে পহু গোরা রায় ধরণীতে পড়ে মুরছিয়া। প্রিয় সহচর মেলে নিতাইরে করি কোলে কান্দে চাঁদ-বদন হেরিয়া॥ নব-কঞ্জারুণ আঁখি প্রেমে ছল ছল দেখি সুমেরু বাহিয়া মন্দাকিনী। মেঘ-গভীর-স্বরে ভাই ভাই রব করে পদ-ভরে কম্পিত মেদিনী॥ নিতাই করুণাময় জীবে দিল প্রেমাশ্রয় হেন দয়া জগতে বিদিত। নিজ-নাম-সংকীর্ত্তনে উদ্ধারিলা জগ-জনে বাসু কেনে হইল বঞ্চিত॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু। জীব চিরপুণ্যফলে বিধি আনি মিলায়িল রঙ্গ মাঝে পিরীতের সিন্ধু॥ ধ্রু॥ দিগ নেহারিয়া যায় ডাকে পহুঁ গোরারায় অবনী পড়য়ে মূরছিয়া। নিজ সহচর মেলে নিতাই করিয়া কোলে কাঁদে পহুঁ চাঁদমুখ চাহিয়া॥ নব গুঞ্জারুণ আঁখি প্রেমে ছল ছল দেখি সুমেরু উপরে মন্দাকিনী। মেঘ-গভীরনাদে পুনঃ ভায়া বলি ডাকে পদভরে কম্পিত ধরণী॥ নিতাই করুণাময় জীবে দিল প্রেমচয় যে প্রেম বিধির অবিদিত। নিজ গুণে প্রেমদানে ভাসাইলা ত্রিভূবনে বাসুদেব ঘোষ সে বঞ্চিত॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দ ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু। জীব চিরপুণ্যফলে বিহি আনি মিলায়ল তরঙ্গিত পিরীতের সিন্ধু॥ ধ্রু॥ দিগ নেহারিয়া যায় ডাকে পহুঁ গোরা রায় অবনী পড়য়ে মুরছিয়া। প্রিয় সহচর মেলে নিতাই করিয়া কোলে কাঁদে পহুঁ চাঁদমুখ চাহিয়া॥ নব গুঞ্জারুণ আঁখি প্রেমে ছল ছল দেখি সুমেরু উপরে মন্দাকিনী। মেঘ গভীর নাদে পুনঃ ভায়া বলি ডাকে পদভরে কম্পিত ধরণী॥ নিতাই করুণাময় জীবে দিল প্রেমচয় যে প্রেম বিধির অবিদিত। নিজ গুণে প্রেমদানে ভাসাইলা ত্রিভুবনে বাসুদেব ঘোষ সে বঞ্চিত॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া - তেওট॥ নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু। জীব চির পুণ্য ফলে বিহি আনি মিলাইল রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ ধ্রু॥ দিগ নেহারিয়া যায় ডাকে পহু গোরা রায় ধরণীতে পড়ে মুরছিয়া। নিজ সহচর মেলে নিতাইরে করি’ কোলে কান্দে চাঁদ বদন হেরিয়া॥ নব কঞ্জারুণ আঁখি প্রেমে ছল ছল দেখি সুমেরু বাহিয়া মন্দাকিনী। মেঘ-গভীর স্বরে ভাই ভাই রব করে পদ-ভরে কম্পিত মেদিনী॥ নিতাই করুণাময় জীবে দিল প্রেমাশ্রয় হেন দয়া জগতে বিদিত। নিজ-নাম-সংকীর্ত্তনে উদ্ধারিলা জগ-জনে বাসু কেনে হইল বঞ্চিত॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু। জীবের চির পুণ্যফলে বিহি আনি মিলাইলে রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ ধ্রু॥ দিগ নেহারিয়া যায় ডাকে পহু গোরা রায় ধরণীতে পড়ে মূরছিয়া। প্রিয় সহচর মেলে নিতাইরে করি কোলে কাঁদে চান্দ বদন হেরিয়া॥ নব-কঞ্জারুণ আঁখি প্রেমে ছল ছল দেখি সুমেরু বাহিয়া মন্দাকিনী। মেঘ গভীর স্বরে ভাই ভাই রব করে পদভরে কম্পিত মেদিনী॥ নিতাই করুণাময় জীবে দিল প্রেমাশ্রয় হেন দয়া জগতে বিদিত। নিজ নাম সংকীর্ত্তনে উদ্ধারিলা জগজনে বাসু কেনে হইল বঞ্চিত॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌরাঙ্গ নহিত কি মেনে হইত গৌর নহিত কি মেন হইত গৌরাঙ্গ না হ’ত কেমন হইত ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য- নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, ২৩৪৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ গৌরাঙ্গ নহিত কি মেনে হইত কেমনে ধরিত দে। রাধার মহিমা প্রেম-রস-সীমা জগতে জানাইত কে॥ মধুর বৃন্দা- বিপিন-মাধুরি- প্রবেশ চাতুরি-সার। বরজ-যুবতী- ভারের ভকতি শকতি হইত কার॥ গাও পুন পুন গৌরাঙ্গের গুণ সরল হইলা মন। এ ভব-সাগরে এমন দয়াল না দেখিয়ে এক জন॥ গৌরাঙ্গ বলিয়া না গেল গলিয়া কেমনে ধরিল দে। বাসুর হিয়া পাষাণ দিয়া কেমনে গঢ়িয়াছে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৪৯-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ গৌরাঙ্গ নহিত কি মেনে হইত কেমনে ধরিত দে। রাধার মহিমা প্রেম-রস-সীমা জগতে জানাইত কে॥ মধুর বৃন্দা- বিপিন-মাধুরি- প্রবেশ চাতুরি-সার। বরজ-যুবতী- ভারের ভকতি শকতি হইত কার॥ গাও পুন পুন গৌরাঙ্গের গুণ সরল হইয়া মন। এ ভব-সাগরে এমন দয়াল না দেখিয়ে এক জন॥ গৌরাঙ্গ বলিয়া না গেল গলিয়া কেমনে ধরিল দে। বাসুর হিয়া পাষাণ দিয়া কেমনে গঢ়িয়াছে॥ এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের পুথি (সংকলনের সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গৌর নহিত কি মেন হইত কেমনে ধরিত দে। রাধার মহিমা প্রেমরসসিমা জগতে জানিত কে॥ মধুর বৃন্দা- বিপিনমাধুরী প্রবেশ চাতুরি সার। বরজযুবতী ভারের ভকতি শকতি হইত কার॥ শুন পুন পুন গোরাচান্দের গুণ কে আছে এমন হেন। এ দিন দয়াল এ ভব সয়াল আমার গৌরাঙ্গ বিন॥ গৌর বলিঞা না গেল গলিঞা কেমনে পাইল সিধি। বাসুর হিয়া পাষাণ দিঞা গঢ়িঞাছে কোন বিধি॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ গৌরাঙ্গ না হ’ত কেমন হইত কেমনে ধরিত দে। রাধার মহিমা প্রেমরস সীমা জগতে জানাইত কে॥ মধুর বৃন্দা বিপিন মাধুরি প্রবেশ চাতুরি সার। বরজ যুবতী ভাবের ভকতি শকতি হইত কার॥ গাও পুনঃ পুনঃ গৌরাঙ্গের গুণ সরল করিয়া মন। এ ভব সাগরে এমন দয়াল না দেখিয়ে একজন॥ গৌরাঙ্গ বলিয়া না গেল গলিয়া কেমনে ধরিল দে। বাসুর হিয়া পাষাণ দিয়া কেমনে গড়িয়াছে॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ - দুঠুকী॥ গৌরাঙ্গ নহিত কি মেনে হইত কেমনে ধরিত দে। রাধার মহিমা প্রেমরস-সীমা জগতে জানাত কে॥ মধুর বৃন্দা বিপিন-মাধুরি প্রবেশ চাতুরি সার। বরজ যুবতি ভাবের ভকতি শকতি হইত কার॥ গাও পুন পুন গৌরাঙ্গের গুণ সরল হইয়া মন। এ ভব সাগরে এমন দয়াল না দেখিয়ে একজন॥ গৌরাঙ্গ বলিয়া না গেল গলিয়া কেমনে ধরিল দে। বাসুর হিয়া পাষাণ দিয়া কেমনে গঢ়িয়াছে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগোল্লেখ নেই॥ গৌর নহিত কি মেন হইত কেমনে ধরিত দে। রাধার মহিমা প্রেমরসসীমা জগতে জানিত কে॥ মধুর বৃন্দা- বিপিন মাধুরী প্রবেশ চাতুরী সার। বরজ যুবতী ভাবের ভকতি শকতি হইত কার॥ শুন পুন পুন গোরাচাঁদের গুণ কে আছে এমন হেন। এ দিন দয়াল এ ভব সয়াল আমার গৌরাঙ্গ বিন॥ গৌর বলিঞা না গেল গলিঞা কেমনে পাইল সিধি। বাসুর হিয়া পাষাণ দিঞা গড়িঞাছে কোন বিধি॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি করিলাম গো না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালু গো না জানিয়া না শুনিয়া পিরীতি করিলুঁ গো না জানিঞা না শুনিঞা পীরিতি বাঢ়ানুগো ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / শিবা সহচরী কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ সালে, রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশীরাগ চন্দ্রশেখরতালৌ॥ না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালুঁ গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন দেআ বরিখয়ে এমতি ঝরএ দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের অনলে আমি পুড়ি। জ্বলন্ত আনলে যেন পুড়িয়া রহিয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডোরি॥ আঁধুয়া পুখরে যেন দিন হিন মিন রহে নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি। বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতিয়া পিরিতি গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫৩১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি করিলাম গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাড় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের অনলে আমি পুড়ি। জ্বলন্ত অনলে যেন পুড়িয়া রৈয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডুরী॥ আন্ধুয়া পুখরে যেন দীন হীন মীন হেন নিশ্বাস ছাড়িতে ঠাঞি নাই। বাসুদেব ঘোষ কহে ডাকাত্যা পিরিতি গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৪|১২২-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। এই পদে “বাসুদেব ঘোষ” ভণিতার বদলে “শিবা সহচরী” ভণিতা দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি করিলাম গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাড় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে এমতি ঝুরয়ে দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের অনলে আমি পুড়ি। আন্তর আনলে যেন পুড়িয়া রৈয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডুরী॥ আন্ধুয়া পখুরে যেন দীন হীন মীন হেন নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি। শিবা সহচরী কহে ডাকাত্যা পিরিতি গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ না জানিয়া না শুনিয়া পিরীতি করিলুঁ গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন বরিষয় গো ঐছন ঝুরয়ে দুটী আঁখি॥ এই যে আমারে দেখ মানুষ আকারে গো মনের আগুনে আমি পুড়ি। তুষের অনল যেন পুড়িয়া রয়েছে গো পাকাইয়া পাটুয়ার ডুরি॥ আঁধুয়া পুকুরের যেন ক্ষীণ হেন মীন গো উকাস ছাড়িতে নাহি চাই। বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতের পিরীতি গো তিলে তিলে বঁধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ কেদার॥ না জানিয়া না শুনিয়া পিরীতি করিলুঁ গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাঢ় শ্রাবণে যেন ঘন বরিষয়ে গো ঐছন ঝুরয়ে দুটি আঁখি॥ এই যে আমার দেখ মানুষ আকার গো মনের আগুনে আমি পুড়ি। তুষের অনল যেন পুড়িয়া রয়েছি গো পাকানিয়া পাটুয়ার ডুরি॥ আঁধুয়া পুকুরে যেন মীন হেন বাসি গো উকাস ছাড়িতে নাহি ঠাঁই। বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতি পিরীতি গো তিলে তিলে বঁধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৪- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না জানিঞা না শুনিঞা পীরিতি বাঢ়ানুগো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাড় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিষে এমতি ঝুরয়ে দুটি আঁখি॥ হেদে যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের আগুনে আমি পুড়ি। তুষের অনলে যেন পুড়িয়া রয়েছে গো পাকাইয়া পাটুয়ার ডুরি॥ আঁধুয়া পুকুরে যেন ক্ষীণ হেন মীন গো উপাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি। বাসুদেব ঘোষ কহে ডাকাতের পীরিতি গো তিলে তিলে বঁধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-১৯১০”, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালু গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের আনলে আমি পুড়ি। জ্বলন্ত আনলে যেন পুড়িয়া রহিয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডোরি॥ আঁধুয়া পুখরে যেন দীনহীন মীন গো নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি। বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতিয়া পিরিতি গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালু গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের আনলে আমি পুড়ি। জলন্ত আনলে যেন পুড়িয়া রহিয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডোরি॥ আঁধুয়া পুখরে যেন দীনহীন মীন গো নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি। বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতিয়া পিরিতি গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি করিলাম গো পরিণামে পরমাদ দেখি। আষাড় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো মনের অনলে আমি পুড়ি। জ্বলন্ত অনলে যেন পুড়িয়া রৈয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডুরি॥ আন্ধুয়া পুখরে যেন দীন হীন মীন হেন নিশ্বাস ছাড়িতে ঠাঞি নাই। বাসুদেব ঘোষ কহে ডাকাত্যা পিরিতি গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এক দিন ঘাটে জলে গিয়াছিলাম ভণিতা বাসু ঘোষ কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৯শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ- নাগরী উক্তি, ২১৭১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ২২৭৯ সংখ্যক পদ। কোনও পাঠান্তর নেই। ॥ ধানশী॥ এক দিন ঘাটে জলে গিয়াছিলাম কি রূপ দেখিলুঁ গোরা। কনক কষিল অঙ্গ নিরমল প্রেম-রসে পহু ভোরা॥ সুন্দর বদন মদনমোহন অপাঙ্গইঙ্গিত-ছটা। সুচারু কপোল চন্দন-তিলক তারা সনে বিধু-ঘটা॥ মধুর অধরে ইষত হাসিয়া বলে আধ আধ বাণী। হাসিতে খসয়ে মণি মোতি-বর দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥ বাসুঘোষে কহে এমন নাগর দেখি কে ধৈরজ ধরে। ধন্য সে যুবতী ও রূপ দেখিয়া কেমনে আছয়ে ঘরে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ এক দিন ঘাটে, জলে গিয়াছিলাঙ, কি রূপ দেখিনু গোরা। কনক কষিল, অঙ্গ নিরমল, প্রেমরসে পহুঁ ভোরা॥ সুন্দর বদন, মদনমোহন, অপাঙ্গ ইঙ্গিত ছটা। সুচারু কপালে, চন্দন তিলক, তারা সনে বিধু ঘটা॥ মধুর অধরে, ইষৎ হাসিয়া, বলে আধ আধ বাণী। হাসিতে খসয়ে, মণি মোতিবর, দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥ বাসু ঘোষ কহে, এমন নাগর, দেখি কে ধৈরজ ধরে। ধন্য সে যুবতী, ও রূপ দেখিয়া, কেমনে আছয়ে ঘরে॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ শ্রীগৌরচন্দ্র। ॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥ এক দিন ঘাটে, জলে গিয়াছিলাম, কিরূপ দেখিনু গোরা। কনক কষিল, অঙ্গ নিরমল, প্রেম রসে পহুঁ ভোরা॥ সুন্দর বদন, মদনমোহন, অপাঙ্গ ইঙ্গিত ছটা। সুচারু কপালে, চন্দন তিলক, তারা সনে বিধু ঘটা॥ মধুর অধরে, ইষৎ হাসিয়া, বলে আধ আধ বাণী। হাসিতে খসয়ে, মণি মোতিবর, দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥ বাসুঘোষে কহে, এমন নাগর, দেখি কে ধৈরজ ধরে। ধন্য সে যুবতী, ওরূপ দেখিয়া, কেমনে আছয়ে ঘরে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৬৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ এক দিন ঘাটে জলে গিয়াছিলাম কি রূপ দেখিলুঁ গোরা। কনক কষিল অঙ্গ নিরমল প্রেম রসে পহু ভোরা॥ সুন্দর বদন মদন মোহন অপাঙ্গ ইঙ্গিত ছটা। সুচারু কপোল চন্দন তিলক তারা সনে বিধু ঘটা॥ মধুর অধরে ইষত হাসিয়া বলে আধ আধ বাণী। হাসিতে খসয়ে মনি মোতিবর দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥ বাসুঘোষে কহে এমন নাগর দেখি কে ধৈরজ ধরে। ধন্য সে যুবতী ও রূপ দেখিয়া কেমনে আছয়ে ঘরে॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |