কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী
কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ
কত দিনে দেখিব গোরাচাঁদের মুখ
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৭৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

অথ ভক্তগণস্য উত্কণ্ঠা যথা।
॥ সুহই॥

কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ।
কবে মোর মনের মিটব সব দুখ॥
কত দিনে গোরা পহু করবহি কোর।
কত দিনে সদয় হইবে বিধি মোর॥
কত দিনে শ্রবণের হবে শুভ দিন।
চাঁদ-মুখের বচন শুনিব নিশিদিন॥
বাসুঘোষ কহে গোরা-গুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়ার লোক গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৮৩-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ।
কবে মোর মনের মিটব সব দুখ॥
কত দিনে গোরা পহু করবহি কোরে।
কত দিনে সদয় হইবে বিধি মোরে॥
কত দিনে শ্রবণে হইবে শুভ দিন।
চাঁদ-মুখের বচন শুনিব নিশিদিন॥
বাসুঘোষ কহে গোরা-গুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়ার লোক গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪১|১-পদ-
সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

কত দিনে দেখিব গোরাচাঁদের মুখ।
গোরামুখ দরশে টুটব সব দুখ॥
কত দিনে গোরা পহু করবহি কোরে।
কত দিনে সদয় হইবে বিধি মোরে॥
কত দিনে শ্রবণের হবে শুভ দিন।
চাঁদ-মুখের বচন শুনিব নিশিদিন॥
বাসুঘোষ গায় পহু-গুণ সোঙরিয়া।
ঝুরিয়া মরয়ে আঁখি গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ২৫২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ।
কবে মোর মনের মিটব সব দুখ॥
কত দিনে গোরা পহুঁ করবহি কোর।
কত দিনে সদয় হইবে বিধি মোর॥
কত দিনে শ্রবণের হবে শুভ দিন।
চাঁদমুখের বচন শুনিব নিশি দিন॥
বাসু ঘোষ কহে গোরাগুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়ার লোক গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ - গড়খেম্ টা॥

কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ।
কবে মোর মনের মিটব সব দুঃখ॥
কত দিনে গোরা পহুঁ করবহি কোর।
কত দিনে সদয় হইবে বিধি মোর॥
কত দিনে শ্রবণের হবে শুভদিন।
চাঁদ মুখের বচন শুনিব নিশিদিন॥
বাসু ঘোষ কহে গোরাগুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়ার লোক গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
     
॥ সুহই॥

কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ।
কবে মোর মনের মিটব সব দুখ॥
কত দিনে গোরা পহুঁ করবহি কোর।
কত দিনে সদয় হইবে বিধি মোর॥
কত দিনে শ্রবণ হইবে সুখ লীন।
চাঁদমুখের বচন শুনিব নিশি দিন॥
বাসু ঘোষ কহে গোরাগুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়ার লোক গোরা না দেখিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কত দিনে দেখিব        গোরাচাদের মুখ।
.        গোরামুখ দরশনে টুটব সব দুখ॥
কত দিনে সফল হইবে বিধি মোরে।
কত দিনে গোরা পহুঁ করবহি কোরে॥
কত দিনে শ্রবণে হইব শুভদিন।
চাঁদমুখের বচন শুনিব নিশিদিন॥
গায় বাসুদেব ঘোষ গুণ সোঙ্গরিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”,
৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কত দিনে হেরব গোরাচাঁদের মুখ।
কবে মোর মনের মিটব সব দুখ॥
কতদিনে গোরা পহু করবহি কোর।
কতদিনে সদয় হইবে বিধি মোর॥
কতদিনে শ্রবণের হবে শুভ দিন।
চাঁদমুখের বচন শুনিব নিশিদিন॥
বাসুঘোষ কহে গোরা-গুণ সোঙরিয়া।
ঝুরয়ে নদীয়ার লোক গোরা না দেখিয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
কি কহিব শত শত তুয়া অবতার
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২১শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৯২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কি কহিব শত শত তুয়া অবতার।
একলা গৌরাঙ্গচাঁদ পরাণ আমার॥
বিষ্ণু-অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারী।
শিব শুক নারদ লইয়া জনা চারি॥
সেতু-বন্ধ কৈলা তুমি রাম অবতারে।
এবে সে তোমার যশ ঘুষিবে সংসারে॥
কলি-যুগে কীর্ত্তন করিলা সেতু-বন্ধ।
সুখে পার হউক যত পঙ্গু জড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ নাচে কিবা গুণে নারী।
গোরা-গুণে মাতিল ভুবন দশ চারি॥
না জানিয়ে জপ তপ এ বেদ-বিচার।
কহে বাসু গৌরাঙ্গ মোরে কর পার॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কি কহিব শত শত তুয়া অবতার।
একলা গৌরাঙ্গচাঁদ পরাণ আমার॥
বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারী।
শিব শুক নারদ লইয়া জনা চারি॥
সিন্ধু বন্ধ কৈলা তুমি রাম অবতারে।
এবে সে তোমার যশ ঘুষিবে সংসারে॥
কলিযুগে কীর্ত্তন করিলা সেতুবন্ধ।
সুখে পার হউক পঙ্গু জড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ নাচে কিবা গুণে নারী।
গোরা গুণে মাতিল ভুবন দশ চারি॥
না জানিয়ে জপ তপ বেদ বিচার।
কহে বাসু গৌরাঙ্গ মোরে কর পার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭১-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ বরাড়ী॥

কি কহিব শত শত তুয়া অবতার।
একলা গৌরাঙ্গচাঁদ পরাণ আমার॥
বিষ্ণু অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারী।
শিব শুক নারদ লইয়া জনা চারি॥
সিন্ধু বন্ধ কৈলা তুমি রাম অবতারে।
এবে সে তোমার যশ ঘুষিবে সংসারে॥
কলিযুগে কীর্ত্তন করিলা সেতুবন্ধ।
সুখে পার হউক পঙ্গু জড় অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ নাচে কিবা গুণে নারী।
গোরা গুণে মাতিল ভুবন দশ চারি॥
না জানিয়ে জপতপ বেদ বিচার।
কহে বাসু গৌরাঙ্গ মোরে কর পার॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কি কহিব শত শত তুয়া অবতার।
একলা গৌরাঙ্গচাঁদ পরাণ আমার॥
বিষ্ণু-অবতারে তুমি প্রেমের ভিখারি।
শিব শুক নারদ লইয়া জনাচারি॥
সেতু বন্ধ কৈলা তুমি রাম অবতারে।
এবে সে তোমার যশ ঘুষিবে সংসারে॥
কলিযুগে কীর্ত্তন করিলা সেতুবন্ধ।
সুখে পার হউক পঙ্গু-জড়-অন্ধ॥
কিবা গুণে পুরুষ নাচে কিবা গুণে নারী।
গোরা গুণে মাতিল ভুবন দশ চারি॥
না জানিয়ে জপ-তপ এ বেদ বিচার।
কহে বাসু গৌরাঙ্গ মোরে কর পার॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭০০ সালে, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”,
সপ্তবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা দ্বাদশী, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।
॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু।
জীব-চির-পুণ্য-ফলে                বিধি আনি মিলাওল
রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥
দিগ নেহারিয়া যায়                ডাকে পহুঁ গোরারায়
অবনী পড়য়ে মূরছিয়া।
নিজ সহচর মিলে                নিতাই করিয়া কোলে
সিঞ্চে পহুঁ চান্দ মুখ চাঞা॥
নব-গুঞ্জারুণ আঁখি                 প্রেমে ছল ছল দেখি
সুমেরু উপরে মন্দাকিনী।
মেঘ-গভীর-নাদে                  পুন ভায়া বলি ডাকে
পদ-ভরে কম্পিত মেদিনী॥
নিতাই করুণাময়                    জীবে দিল প্রেমচয়
যে প্রেম বিধির অবিদিত।
নিজ গুণে প্রেম-দানে                ভাসাইলা ত্রিভূবনে
বাসুদেব ঘোষ সে বঞ্চিত॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ২২শপল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩১৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু।
জীবের চির পুণ্য-ফলে বিহি আনি মিলাইলে
রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ ধ্রু॥
দিগ নেহারিয়া যায়         ডাকে পহু গোরা রায়
ধরণীতে পড়ে মুরছিয়া।
প্রিয় সহচর মেলে          নিতাইরে করি কোলে
কান্দে চাঁদ-বদন হেরিয়া॥
নব-কঞ্জারুণ আঁখি            প্রেমে ছল ছল দেখি
সুমেরু বাহিয়া মন্দাকিনী।
মেঘ-গভীর-স্বরে               ভাই ভাই রব করে
পদ-ভরে কম্পিত মেদিনী॥
নিতাই করুণাময়             জীবে দিল প্রেমাশ্রয়
হেন দয়া জগতে বিদিত।
নিজ-নাম-সংকীর্ত্তনে           উদ্ধারিলা জগ-জনে
বাসু কেনে হইল বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু।
জীব চিরপুণ্যফলে           বিধি আনি মিলায়িল
রঙ্গ মাঝে পিরীতের সিন্ধু॥ ধ্রু॥
দিগ নেহারিয়া যায়           ডাকে পহুঁ গোরারায়
অবনী পড়য়ে মূরছিয়া।
নিজ সহচর মেলে            নিতাই করিয়া কোলে
কাঁদে পহুঁ চাঁদমুখ চাহিয়া॥
নব গুঞ্জারুণ আঁখি              প্রেমে ছল ছল দেখি
সুমেরু উপরে মন্দাকিনী।
মেঘ-গভীরনাদে               পুনঃ ভায়া বলি ডাকে
পদভরে কম্পিত ধরণী॥
নিতাই করুণাময়              জীবে দিল প্রেমচয়
যে প্রেম বিধির অবিদিত।
নিজ গুণে প্রেমদানে            ভাসাইলা ত্রিভূবনে
বাসুদেব ঘোষ সে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ
॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু।
জীব চিরপুণ্যফলে           বিহি আনি মিলায়ল
তরঙ্গিত পিরীতের সিন্ধু॥ ধ্রু॥
দিগ নেহারিয়া যায়        ডাকে পহুঁ গোরা রায়
অবনী পড়য়ে মুরছিয়া।
প্রিয় সহচর মেলে          নিতাই করিয়া কোলে
কাঁদে পহুঁ চাঁদমুখ চাহিয়া॥
নব গুঞ্জারুণ আঁখি            প্রেমে ছল ছল দেখি
সুমেরু উপরে মন্দাকিনী।
মেঘ গভীর নাদে           পুনঃ ভায়া বলি ডাকে
পদভরে কম্পিত ধরণী॥
নিতাই করুণাময়              জীবে দিল প্রেমচয়
যে প্রেম বিধির অবিদিত।
নিজ গুণে প্রেমদানে           ভাসাইলা ত্রিভুবনে
বাসুদেব ঘোষ সে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া - তেওট॥

নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু।
জীব চির পুণ্য ফলে            বিহি আনি মিলাইল
রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ ধ্রু॥
দিগ নেহারিয়া যায়           ডাকে পহু গোরা রায়
ধরণীতে পড়ে মুরছিয়া।
নিজ সহচর মেলে            নিতাইরে করি’ কোলে
কান্দে চাঁদ বদন হেরিয়া॥
নব কঞ্জারুণ আঁখি              প্রেমে ছল ছল দেখি
সুমেরু বাহিয়া মন্দাকিনী।
মেঘ-গভীর স্বরে                 ভাই ভাই রব করে
পদ-ভরে কম্পিত মেদিনী॥
নিতাই করুণাময়                জীবে দিল প্রেমাশ্রয়
হেন দয়া জগতে বিদিত।
নিজ-নাম-সংকীর্ত্তনে              উদ্ধারিলা জগ-জনে
বাসু কেনে হইল বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নিতাই কেবল পতিত জনার বন্ধু।
জীবের চির পুণ্যফলে          বিহি আনি মিলাইলে
রঙ্ক মাঝে রতনের সিন্ধু॥ ধ্রু॥
দিগ নেহারিয়া যায়           ডাকে পহু গোরা রায়
ধরণীতে পড়ে মূরছিয়া।
প্রিয় সহচর মেলে             নিতাইরে করি কোলে
কাঁদে চান্দ বদন হেরিয়া॥
নব-কঞ্জারুণ আঁখি               প্রেমে ছল ছল দেখি
সুমেরু বাহিয়া মন্দাকিনী।
মেঘ গভীর স্বরে                  ভাই ভাই রব করে
পদভরে কম্পিত মেদিনী॥
নিতাই করুণাময়                 জীবে দিল প্রেমাশ্রয়
হেন দয়া জগতে বিদিত।
নিজ নাম সংকীর্ত্তনে              উদ্ধারিলা জগজনে
বাসু কেনে হইল বঞ্চিত॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
সংকীর্ত্তনে নিত্যানন্দ নাচে
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২২শপল্লব ,শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩১৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে


॥ শ্রীরাগ॥

সংকীর্ত্তনে নিত্যানন্দ নাচে।
প্রিয় পারিষদগণ কাছে॥
গোবিন্দমাধব ঘোষের গান।
শুনি কেবা ধরয়ে পরাণ॥
পতিতের গলায় ধরিয়া।
কান্দে পহু সকরুণ হৈয়া॥
গদগদ কহে পতিতেরে।
শুনি যাহা পাষাণ বিদরে॥
তো সভার ধারি বহু ধার।
ধর ধর প্রেমের পসার॥
তো সভার দুর্গতি নাশিব।
ব্যাজের সহিতে প্রেম দিব॥
তারা প্রেমে চাহে মুখ-চাঁদে।
গলায় ধরিয়া তার কান্দে॥
সে হেন করুণা সোঙরিয়া।
বাসুঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সংকীর্ত্তনে নিত্যানন্দ নাচে, প্রিয় পারিষদগণ কাছে।
গোবিন্দ মাধব ঘোষ গান, শুনি কেবা ধরয়ে পরাণ॥
পতিতের গলায় ধরিয়া. কাঁদা পহুঁ সকরুণ হৈয়া।
গদ গদ কহে পতিতেরে, শুনি যাহা পাষাণ বিদরে॥
তাসবার ধারি বহু ধার, ধর ধর প্রেমের পসার।
তাসবার দুর্গতি নাশিবস, ব্যাজের সহিতে প্রেম দিব॥
তারে পেয়ে চায় মুখচাঁদে, গলায় ধরিয়া তার কাঁদে।
সে হেন করুণা সোঙরিয়া, বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ
॥ শ্রীরাগ॥

সংকীর্ত্তনে নিত্যানন্দ নাচে।
প্রিয় পারিষদগণ কাছে॥
গোবিন্দ মাধব ঘোষ গান।
শুনি কেবা ধরয়ে পরাণ॥
পতিতের গলায় ধরিয়া।
কাঁদে পহুঁ সকরুণ হৈয়া॥
গদগদ কহে পতিতেরে।
শুনি যাহা পাষাণ বিদরে॥
তো সভার ধারি বহু ধার।
ধর ধর প্রেমের পসার॥
তো সবার দুর্গতি নাশিব।
ব্যাজের সহিতে প্রেম দিব॥
যারে পায় চায় মুখচাঁদে।
গলায় ধরিয়া তার কাঁদে॥
সে হেন করুণা সোঙরিয়া।
বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সংকীর্ত্তনে নিত্যানন্দ নাচে।
প্রিয় পারিষদগণ কাছে॥
গোবিন্দ মাধব ঘোষের গান।
শুনি কেবা ধরয়ে পরাণ॥
পতিতের গলায় ধরিয়া।
কান্দে পহুঁ সকরুণ হৈয়া॥
গদগদ কহে পতিতেরে।
শুনি যাহা পাষাণ বিদরে॥
তো সভার ধারি বহু ধার।
ধর ধর প্রেমের পসার॥
তো সবার দুর্গতি নাশিব।
ব্যাজের সহিতে প্রেম দিব॥
তারা প্রেমে চাহে মুখ-চাঁদে।
গলায় ধরিয়া তার কান্দে॥
সে হেন করুণা সোঙরিয়া।
বাসু ঘোষ মরয়ে ঝুরিয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গ নহিত কি মেনে হইত
গৌর নহিত কি মেন হইত
গৌরাঙ্গ না হ’ত কেমন হইত
ভণিতা বাসু
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য-
নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, ২৩৪৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গৌরাঙ্গ নহিত                কি মেনে হইত
কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা                 প্রেম-রস-সীমা
জগতে জানাইত কে॥
মধুর বৃন্দা-                    বিপিন-মাধুরি-
প্রবেশ চাতুরি-সার।
বরজ-যুবতী-                  ভারের ভকতি
শকতি হইত কার॥
গাও পুন পুন                  গৌরাঙ্গের গুণ
সরল হইলা মন।
এ ভব-সাগরে                     এমন দয়াল
 না দেখিয়ে এক জন॥
গৌরাঙ্গ বলিয়া                না গেল গলিয়া
কেমনে ধরিল দে।
বাসুর হিয়া                      পাষাণ দিয়া
কেমনে গঢ়িয়াছে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৪৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

গৌরাঙ্গ নহিত                কি মেনে হইত
কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা                 প্রেম-রস-সীমা
জগতে জানাইত কে॥
মধুর বৃন্দা-                   বিপিন-মাধুরি-
প্রবেশ চাতুরি-সার।
বরজ-যুবতী-                  ভারের ভকতি
শকতি হইত কার॥
গাও পুন পুন                  গৌরাঙ্গের গুণ
সরল হইয়া মন।
এ ভব-সাগরে                     এমন দয়াল
 না দেখিয়ে এক জন॥
গৌরাঙ্গ বলিয়া                না গেল গলিয়া
কেমনে ধরিল দে।
বাসুর হিয়া                      পাষাণ দিয়া
কেমনে গঢ়িয়াছে॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে লিখিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংগ্রহের পুথি (সংকলনের
সাল নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই), ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌর নহিত                 কি মেন হইত
কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা                 প্রেমরসসিমা
জগতে জানিত কে॥
মধুর বৃন্দা-                   বিপিনমাধুরী
প্রবেশ চাতুরি সার।
বরজযুবতী                  ভারের ভকতি
শকতি হইত কার॥
শুন পুন পুন               গোরাচান্দের গুণ
কে আছে এমন হেন।
এ দিন দয়াল                   এ ভব সয়াল
আমার গৌরাঙ্গ বিন॥
গৌর বলিঞা                না গেল গলিঞা
কেমনে পাইল সিধি।
বাসুর হিয়া                    পাষাণ দিঞা
গঢ়িঞাছে কোন বিধি॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ॥

গৌরাঙ্গ না হ’ত                 কেমন হইত
কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা                  প্রেমরস সীমা
জগতে জানাইত কে॥
মধুর বৃন্দা                     বিপিন মাধুরি
প্রবেশ চাতুরি সার।
বরজ যুবতী                   ভাবের ভকতি
শকতি হইত কার॥
গাও পুনঃ পুনঃ                গৌরাঙ্গের গুণ
সরল করিয়া মন।
এ ভব সাগরে                     এমন দয়াল
না দেখিয়ে একজন॥
গৌরাঙ্গ বলিয়া                না গেল গলিয়া
কেমনে ধরিল দে।
বাসুর হিয়া                       পাষাণ দিয়া
কেমনে গড়িয়াছে॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ - দুঠুকী॥

গৌরাঙ্গ নহিত                কি মেনে হইত
কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা                  প্রেমরস-সীমা
জগতে জানাত কে॥
মধুর বৃন্দা                     বিপিন-মাধুরি
প্রবেশ চাতুরি সার।
বরজ যুবতি                  ভাবের ভকতি
শকতি হইত কার॥
গাও পুন পুন                  গৌরাঙ্গের গুণ
সরল হইয়া মন।
এ ভব সাগরে                     এমন দয়াল
না দেখিয়ে একজন॥
গৌরাঙ্গ বলিয়া                না গেল গলিয়া
কেমনে ধরিল দে।
বাসুর হিয়া                      পাষাণ দিয়া
কেমনে গঢ়িয়াছে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৭৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগোল্লেখ নেই॥

গৌর নহিত                  কি মেন হইত
কেমনে ধরিত দে।
রাধার মহিমা                 প্রেমরসসীমা
জগতে জানিত কে॥
মধুর বৃন্দা-                   বিপিন মাধুরী
প্রবেশ চাতুরী সার।
বরজ যুবতী                  ভাবের ভকতি
শকতি হইত কার॥
শুন পুন পুন                 গোরাচাঁদের গুণ
কে আছে এমন হেন।
এ দিন দয়াল                   এ ভব সয়াল
আমার গৌরাঙ্গ বিন॥
গৌর বলিঞা                 না গেল গলিঞা
কেমনে পাইল সিধি।
বাসুর হিয়া                     পাষাণ দিঞা
গড়িঞাছে কোন বিধি॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি করিলাম গো
না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালু গো
না জানিয়া না শুনিয়া পিরীতি করিলুঁ গো
না জানিঞা না শুনিঞা পীরিতি বাঢ়ানুগো
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ / শিবা সহচরী
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭২৫ সালে, রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪২৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশীরাগ চন্দ্রশেখরতালৌ॥

না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালুঁ গো পরিণামে
পরমাদ দেখি। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন দেআ বরিখয়ে
এমতি ঝরএ দুটি আঁখি॥ হের যে আমারে দেখ মানুষ
আকার গো মনের অনলে আমি পুড়ি। জ্বলন্ত আনলে
যেন পুড়িয়া রহিয়াছি গো পাকানিয়া পাটের ডোরি॥
আঁধুয়া পুখরে যেন দিন হিন মিন রহে নিশ্বাস ছাড়িতে
নাহি ঠাঞি। বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতিয়া পিরিতি
গো তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩০শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫৩১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

না জানিয়া না শুনিয়া        পিরিতি করিলাম গো
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাড় শ্রাবণ মাসে             ঘন দেয়া বরিখয়ে
এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
হের যে আমারে দেখ          মানুষ আকার গো
মনের অনলে আমি পুড়ি।
জ্বলন্ত অনলে যেন             পুড়িয়া রৈয়াছি গো
পাকানিয়া পাটের ডুরী॥
আন্ধুয়া পুখরে যেন              দীন হীন মীন হেন
নিশ্বাস ছাড়িতে ঠাঞি নাই।
বাসুদেব ঘোষ কহে         ডাকাত্যা পিরিতি গো
তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৪|১২২-পদ-সংখ্যায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর
দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। এই পদে “বাসুদেব ঘোষ” ভণিতার বদলে “শিবা সহচরী” ভণিতা
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

না জানিয়া না শুনিয়া      পিরিতি করিলাম গো
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাড় শ্রাবণ মাসে           ঘন দেয়া বরিখয়ে
এমতি ঝুরয়ে দুটি আঁখি॥
হের যে আমারে দেখ         মানুষ আকার গো
মনের অনলে আমি পুড়ি।
আন্তর আনলে যেন           পুড়িয়া রৈয়াছি গো
পাকানিয়া পাটের ডুরী॥
আন্ধুয়া পখুরে যেন            দীন হীন মীন হেন
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি।
শিবা সহচরী কহে         ডাকাত্যা পিরিতি গো
তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ (১ম সংস্করণ ১৯০২), ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

না জানিয়া না শুনিয়া পিরীতি করিলুঁ গো                                
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন বরিষয় গো                                      
ঐছন ঝুরয়ে দুটী আঁখি॥
এই যে আমারে দেখ মানুষ আকারে গো                                 
মনের আগুনে আমি পুড়ি।
তুষের অনল যেন পুড়িয়া রয়েছে গো                                    
পাকাইয়া পাটুয়ার ডুরি॥
আঁধুয়া পুকুরের যেন ক্ষীণ হেন মীন গো                                 
উকাস ছাড়িতে নাহি চাই।
বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতের পিরীতি গো                             
তিলে তিলে বঁধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ কেদার॥

না জানিয়া না শুনিয়া পিরীতি করিলুঁ গো                                
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাঢ় শ্রাবণে যেন ঘন বরিষয়ে গো                                    
ঐছন ঝুরয়ে দুটি আঁখি॥
এই যে আমার দেখ মানুষ আকার গো                                 
মনের আগুনে আমি পুড়ি।
তুষের অনল যেন পুড়িয়া রয়েছি গো                                   
পাকানিয়া পাটুয়ার ডুরি॥
আঁধুয়া পুকুরে যেন মীন হেন বাসি গো                                  
উকাস ছাড়িতে নাহি ঠাঁই।
বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতি পিরীতি গো                             
তিলে তিলে বঁধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১০৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না জানিঞা না শুনিঞা                         
পীরিতি বাঢ়ানুগো
পরিণামে পরমাদ দেখি।                        
আষাড় শ্রাবণ মাসে           ঘন দেয়া বরিষে
এমতি ঝুরয়ে দুটি আঁখি॥
হেদে যে আমারে দেখ      মানুষ আকার গো
মনের আগুনে আমি পুড়ি।
তুষের অনলে যেন          পুড়িয়া রয়েছে গো
পাকাইয়া পাটুয়ার ডুরি॥
আঁধুয়া পুকুরে যেন           ক্ষীণ হেন মীন গো
উপাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি।
বাসুদেব ঘোষ কহে      ডাকাতের পীরিতি গো
তিলে তিলে বঁধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী
১৪১০-১৯১০”, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালু গো                             
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে                                
এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো                              
মনের আনলে আমি পুড়ি।
জ্বলন্ত আনলে যেন পুড়িয়া রহিয়াছি গো                              
পাকানিয়া পাটের ডোরি॥
আঁধুয়া পুখরে যেন দীনহীন মীন গো                                    
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি।
বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতিয়া পিরিতি গো                        
তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না জানিয়া না শুনিয়া পিরিতি বাঢ়ালু গো                             
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ঘন দেয়া বরিখয়ে                                
এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
হের যে আমারে দেখ মানুষ আকার গো                              
মনের আনলে আমি পুড়ি।
জলন্ত আনলে যেন পুড়িয়া রহিয়াছি গো                              
পাকানিয়া পাটের ডোরি॥
আঁধুয়া পুখরে যেন দীনহীন মীন গো                                    
নিশ্বাস ছাড়িতে নাহি ঠাঞি।
বাসুদেব ঘোষে কহে ডাকাতিয়া পিরিতি গো                        
তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী
সংকলন, ৭৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

না জানিয়া না শুনিয়া         পিরিতি করিলাম গো
পরিণামে পরমাদ দেখি।
আষাড় শ্রাবণ মাসে              ঘন দেয়া বরিখয়ে
এমতি ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
হের যে আমারে দেখ           মানুষ আকার গো
মনের অনলে আমি পুড়ি।
জ্বলন্ত অনলে যেন             পুড়িয়া রৈয়াছি গো
পাকানিয়া পাটের ডুরি॥
আন্ধুয়া পুখরে যেন               দীন হীন মীন হেন
নিশ্বাস ছাড়িতে ঠাঞি নাই।
বাসুদেব ঘোষ কহে           ডাকাত্যা পিরিতি গো
তিলে তিলে বন্ধুরে হারাই॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
গৌরাঙ্গ তুমি মোরে দয়া না ছাড়িহ
গোরা মোরে দয়া না ছাড়িহ
গোরা মোরে দয়া না ছাড়িয়
ভণিতা বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৩৬শপল্লব ,প্রার্থনা, ৩০০৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
কোনো পাঠান্তর ছাড়াই নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” পুথিতে ২৫১৬ পদসংখ্যয় দেওয়া
রয়েছে।

পুনঃ প্রার্থনা।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ শ্রীরাগ॥

গৌরাঙ্গ তুমি মোরে দয়া না ছাড়িহ।
আপন করিয়া রাঙ্গা চরণে রাখিহ॥
তোমার চরণ লাগি সব তেয়াগিলুঁ।
শীতল চরণ পাঞা শরণ লইলুঁ॥
এ কুলে ও কুলে মুঞি দিলুঁ তিলাঞ্জলি।
রাখিহ চরণে মোরে আপনার বলি॥
বাসুদেব ঘোষে বলে চরণে ধরিয়া।
কৃপা করি রাখ মোরে পদ-ছায়া দিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গৌরাঙ্গ তুমি মোরে দয়া না ছাড়িহ।
আপন করিয়া রাঙ্গা চরণে রাখিহ॥
তোমার চরণ লাগি সব তেয়াগিনু।
শীতল চরণ পাঞা শরণ লইনু॥
এ কুলে ও কুলে মুঞি দিনু তিলাঞ্জলি।
রাখিহ চরণে মোরে আপনার বলি॥
বাসুদেব ঘোষ কহে চরণে ধরিয়া।
কৃপা করি রাখ মোরে পদছায়া দিয়া॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - মধ্যম দশকুশী॥

গোরা মোরে দয়া না ছাড়িহ।
আপনা করিয়া মোরে চরণে রাখিহ॥
তোমার চরণ লাগি সব তেয়াগিনু।
শীতল চরণ দেখি শরণ লইনু॥
এ-কূলে ও-কূলে মুঞি দিনু তিলাঞ্জলি।
রাখিহ চরণে মোরে আপনার বলি॥
বাসুদেব ঘোষে বলে চরণ ধরিয়া।
দয়া করি রাখ মোরে পদছায়া দিয়া॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ শ্রীরাগ॥

গৌরাঙ্গ তুমি মোরে দয়া না ছাড়িহ।
আপনা করিয়া রাঙ্গা চরণে রাখিহ॥
তোমার চরণ লাগি সব তেয়াগিনু।
শীতল চরণ পাঞা শরণ লইনু॥
এ কুলে ও কুলে মুঞি দিলাম জলাঞ্জলী।
রাখিহ চরণে মোরে আপনার বলি॥
বাসুদেব ঘোষে কহে চরণে ধরিয়া।
কৃপা করি রাখ মোরে পদছায়া দিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোরা মোরে দয়া না ছাড়িয়।
আপন করিয়া মোরে চরণে রাখিহ॥
তোমার চরণ লাগি সব তেয়াগিলুঁ।
শীতল চরণ পাঞা সব না লইলুঁ॥
একূলে ওকূলে মুঞি দিলুঁ তিলাঞ্জলি।
রাখিহ চরণে মোরে আপনার বলি॥
বাসুদেব ঘোষে বলে চরণে ধরিয়া।
কৃপা করি রাখ মোরে পদছায়া দিয়া॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গৌরাঙ্গ তুমি মোরে দয়া না ছাড়িহ।
আপন করিয়া রাঙ্গা চরণে রাখিহ॥
তোমার চরণ লাগি সব তেয়াগিলুঁ।
শীতল চরণ পাঞা শরণ লইলুঁ॥
এ কুলে ও কুলে মুঞি দিলুঁ তিলাঞ্জলী।
রাখিহ চরণে মোরে আপনার বলি॥
বাসুদেব ঘোষে বলে চরণে ধরিয়া।
কৃপা করি রাখ মোরে পদছায়া দিয়া॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
আরে মোর গৌরাঙ্গ সোণা
আরে মোর গৌরাঙ্গ সোনা
ভণিতা বাসুঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৩৬শপল্লব ,প্রার্থনা, ৩০০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
কোনো পাঠান্তর ছাড়াই নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” পুথির ২৫১৭ পদসংখ্যায় দেওয়া
রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

আরে মোর গৌরাঙ্গ সোণা।
পাইয়াছি তোমারে কত করিয়া কামনা॥ ধ্রু॥
আপনা বলিয়া মোর নাহি কোন জনা।
রাখিহ চরণ-তলে করিয়া আপনা॥
তোমার বদন কিবা চাঁদের তুলনা।
দেহ প্রেম-সুধা-রস রহুক ঘোষণা॥
কমল জিনিয়া তোমার শীতল চরণ।
বাসুঘোষে দেহ ছায়া এ তাপিত জন॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আরে মোর গৌরাঙ্গ সোনা।
পাইয়াছি তোমারে কত করিয়া কামনা॥
আপন বলিয়া মোর নাহি কোন জন।
রাখহ চরণতলে করিয়া আপন॥
তোমার বদনে কিবা চাঁদের তুলনা।
দেহ প্রেম-সুধারস রহুক ঘোষণা॥
কমল জিনিয়া তোমার শীতল চরণ।
বাসু ঘোষে দেহ ছায়া তাপিত এ জন॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

আরে মোর গৌরাঙ্গ সোনা।
পায়্যাছি তোমারে কত করিয়া কামনা॥
আপনা বলিয়া মোর নাহি কোন জনা।
রাখিহ চরণতলে করিয়া আপনা॥
তোমার বদন কিবা চাঁদের তুলনা।
দেহ প্রেম সুধা-রস রহুক ঘোষণা॥
কমল জিনিয়া তোমার শীতল চরণ।
বাসু ঘোষে দেহ ছায়া এ তাপিত জন॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
এক দিন ঘাটে জলে গিয়াছিলাম
ভণিতা বাসু ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,৪র্থ শাখা, ১৯শপল্লব ,শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ-
নাগরী উক্তি, ২১৭১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি নিমানন্দদাসের পদরসসার পুথির ২২৭৯
সংখ্যক পদ। কোনও পাঠান্তর নেই।

॥ ধানশী॥

এক দিন ঘাটে                জলে গিয়াছিলাম
কি রূপ দেখিলুঁ গোরা।
কনক কষিল                      অঙ্গ নিরমল
প্রেম-রসে পহু ভোরা॥
সুন্দর বদন                        মদনমোহন
অপাঙ্গইঙ্গিত-ছটা।
সুচারু কপোল                    চন্দন-তিলক
তারা সনে বিধু-ঘটা॥
মধুর অধরে                      ইষত হাসিয়া
বলে আধ আধ বাণী।
হাসিতে খসয়ে                  মণি মোতি-বর
দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥
বাসুঘোষে কহে                      এমন নাগর
দেখি কে ধৈরজ ধরে।
ধন্য সে যুবতী                   ও রূপ দেখিয়া
কেমনে আছয়ে ঘরে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এক দিন ঘাটে, জলে গিয়াছিলাঙ, কি রূপ দেখিনু গোরা।
কনক কষিল, অঙ্গ নিরমল, প্রেমরসে পহুঁ ভোরা॥
সুন্দর বদন, মদনমোহন, অপাঙ্গ ইঙ্গিত ছটা।
সুচারু কপালে, চন্দন তিলক, তারা সনে বিধু ঘটা॥
মধুর অধরে, ইষৎ হাসিয়া, বলে আধ আধ বাণী।
হাসিতে খসয়ে, মণি মোতিবর, দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥
বাসু ঘোষ কহে, এমন নাগর, দেখি কে ধৈরজ ধরে।
ধন্য সে যুবতী, ও রূপ দেখিয়া, কেমনে আছয়ে ঘরে॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥

এক দিন ঘাটে,                  জলে গিয়াছিলাম,
কিরূপ দেখিনু গোরা।
কনক কষিল,                        অঙ্গ নিরমল,
প্রেম রসে পহুঁ ভোরা॥
সুন্দর বদন,                          মদনমোহন,
অপাঙ্গ ইঙ্গিত ছটা।
সুচারু কপালে,                     চন্দন তিলক,
তারা সনে বিধু ঘটা॥
মধুর অধরে,                       ইষৎ হাসিয়া,
বলে আধ আধ বাণী।
হাসিতে খসয়ে,                   মণি মোতিবর,
দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥
বাসুঘোষে কহে,                      এমন নাগর,
দেখি কে ধৈরজ ধরে।
ধন্য সে যুবতী,                    ওরূপ দেখিয়া,
কেমনে আছয়ে ঘরে॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা)
উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https://shodhganga.inflibnet.ac.in )
“বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের
পদাবলী সংকলন, ৬৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এক দিন ঘাটে                  জলে গিয়াছিলাম
কি রূপ দেখিলুঁ গোরা।
কনক কষিল                        অঙ্গ নিরমল
প্রেম রসে পহু ভোরা॥
সুন্দর বদন                          মদন মোহন
অপাঙ্গ ইঙ্গিত ছটা।
সুচারু কপোল                      চন্দন তিলক
তারা সনে বিধু ঘটা॥
মধুর অধরে                        ইষত হাসিয়া
বলে আধ আধ বাণী।
হাসিতে খসয়ে                     মনি মোতিবর
দেখিতে ভুলয়ে প্রাণী॥
বাসুঘোষে কহে                       এমন নাগর
দেখি কে ধৈরজ ধরে।
ধন্য সে যুবতী                     ও রূপ দেখিয়া
কেমনে আছয়ে ঘরে॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
অবতার বড় অবতার কৈল বড়
অবতার কৈলা বড় বড়
অবতার কৈল বড় বড়
অবতার কৈল বড় সত্য ত্রেতা দ্বাপর
ভণিতা - ভণিতাহীন / বাসুদেব ঘোষ
কবি বাসুদেব ঘোষ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২৪শ পল্লব, শ্রীঅদ্বৈতের গুণ-বর্ণন, ২৩৪৭-পদসংখ্যায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

অবতার বড় অবতার কৈলা বড়।
এমন করুণা কোন যুগে নাহি কর॥
প্রতি ঘরে ঘরে শুনি প্রেমের কান্দনা।
কলি-যুগে হরি-নাম রহিল ঘোষণা॥
সুখ-সায়রের ঘাটে দিয়া প্রেমের ভরা।
ভাল হাট পাত্যাছ গৌর প্রেমের পসরা॥
জগাই মাধাই তারা ছিল দুই ভাই।
হরি-নামে উদ্ধারিলা চৈতন্য গোসাঞি।

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৫১-
পদসংখ্যায় ভণিতাহীন রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথারাগ॥

অবতার কৈলা বড় বড়।
এমন করুণা কোন যুগে নাহি কর॥
প্রতি ঘরে ঘরে শুনি প্রেমের কান্দনা।
কলি-যুগে হরি-নাম রহিল ঘোষণা॥
সুখ-সায়রের ঘাটে দিয়া প্রেমের ভরা।
ভাল হাট পাত্যাছ গৌর প্রেমের পসরা॥
জগাই মাধাই তারা ছিল দুই ভাই।
হরি-নামে উদ্ধারিলা চৈতন্য গোসাঞি।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

অবতার কৈল বড় বড়।
অমন করুণা কোন যুগে নাহি আর॥
প্রতি ঘরে ঘরে শুনি প্রেমের কাঁদনা।
কলিযুগে হরিনাম রহিল ঘোষণা॥
সুখ-সায়রের ঘাটে দিয়া প্রেমের ভরা।
ভাল হাট পাঞাছ গৌর প্রেমের পসরা॥
জগাই মাধাই তারা ছিল দুই ভাই।
হরিনামে উদ্ধারিলা চৈতন্য গোসাঞি।
বাসুদেব ঘোষে কহে না হবে এমন।
কলি যুগে ধন্য নাম চৈতন্যরতন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭১-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শান্তিপুরে মিলন
॥ তথারাগ॥

অবতার কৈল বড় বড়।
এমন করুণা কোন যুগে নাহি আর॥
প্রতি ঘরে ঘরে শুনি প্রেমের কাঁদনা।
কলিযুগে হরিনাম রহিল ঘোষণা॥
সুখ সায়রের ঘাটে দিয়া প্রেমের ভরা।
ভাল হাট পাতিয়াছ প্রেমের পসরা॥
জগাই মাধাই তারা ছিল দুই ভাই।
হরিনামে উদ্ধারিলা চৈতন্য গোসাঞি।
বাসুদেব ঘোষে কহে না হবে এমন।
কলি যুগে ধন্য নাম চৈতন্যরতন॥

ই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি.
কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট,
https:
//shodhganga.inflibnet.ac.in
) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব
ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

অবতার কৈল বড় সত্য ত্রেতা দ্বাপর।
এমন করুণা কোন যুগে নাহি আর॥
প্রতি ঘরে ঘরে শুনি প্রেমের কাঁদনা।
কলিযুগে হরিনাম রহিল ঘোষণা॥
সুখ-সায়রের ঘাটে দিয়া প্রেমের ভরা।
ভাল হাট পাতিয়াছ প্রেমের পসরা॥
জগাই মাধাই তারা ছিল দুই ভাই।
হরিনামে উদ্ধারিলা চৈতন্য গোসাঞি।
বাসুদেব ঘোষে কহে না হবে এমন।
কলিযুগে ধন্য নাম চৈতন্য রতন॥

.          ************************          
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর