কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . . |
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
কবি জ্ঞানদাস
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ২৬১ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
মল্লিকা-মালতি-মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি-চন্দ্রক
শোভিত আধ-কপালে॥
সজনী বড়ই কঠিন বর-কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতী
তেজল কুল-অভিমান॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ মণ্ডল
কাম-কমান ভুরু-ভঙ্গী।
চন্দন তিলক ভাল-পর রাজিত
যাহে দেখি চান্দ কলঙ্কী॥
পীত-পতনি মণি-ভূষণ ঝলমলি
উরে দোলত বন-মাল।
জ্ঞানদাস কহে ও রুপ পেখলুঁ
বিজুরী তরুণ তমাল॥
টীকা---
কুঞ্চিত অলকা ...... আধ কপালে--- শ্রীকৃষ্ণের কুঞ্চিত কেশ কপালের উপর মল্লিকা ও মালতীর মালা, তাহাতে আবার অলিকুল শোভা পাইতেছে। তাঁহার আধকপালে সুন্দর ময়ূরপুচ্ছের উপর অঙ্কিত চন্দ্রযুক্ত চিকন চূড়া টলিয়া রহিয়াছে।
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল--- তাঁহার মুখমণ্ডল দেখিয়া মনে হয় যেন উহা সুন্দর মরকত নির্ম্মিত দর্পণ।
কাম-কামান ভুরু-ভঙ্গী--- তাঁহার ভ্রুভঙ্গী যেন কামের ধনুর মতন।
যাহা দেখি চাদ কলঙ্কী--- তাঁহার কপালে চন্দনের তিলকের শোভা দেখিয়া চাঁদ কলঙ্কযুক্ত হইয়াছে। পিত পিতনি--- পীত উত্তরীয় বা উড়নী।
উবে--- বক্ষে।
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দদাস সংকলিত পদরসসার পুথিতে এই রূপে।
শ্রীরাধার পূর্ব্ব রাগ
॥ ভাটীয়ারী ॥
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
মল্লিকা-মালতি-মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি-চন্দ্রক
শোভিত আধ-কপালে॥
সজনী বড়ই কঠিন বর-কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
তেজল কুল-অভিমান॥ ধ্রু॥
মরকত-মঞ্জু-মুকুর মুখ মণ্ডল
কাম-কমান ভুরু-ভঙ্গী।
চন্দন তিলক ভাল-পর রাজিত
যাহে দেখি চান্দ কলঙ্কী॥
পীত-পতনি মণি-ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বন-মাল।
জ্ঞানদাস কহে ও রুপ পেখলু
বিজুরী তরুণ তমাল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
মল্লিকা-মালতি-মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি-চন্দ্রক
শোভিত আধ-কপালে॥
সজনী বড়ই কঠিন বর-কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতী
তেজল কুল-অভিমান॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ মণ্ডল
কাম-কমান ভুরু-ভঙ্গী।
চন্দন তিলক ভাল-পর রাজিত
যাহে দেখি চান্দ কলঙ্কী॥
পীত-পতনি মণি-ভূষণ ঝলমলি
উরে দোলত বন-মাল।
জ্ঞানদাস কহে ও রুপ পেখলুঁ
বিজুরী তরুণ তমাল॥
টীকা---
কুঞ্চিত অলকা ...... আধ কপালে--- শ্রীকৃষ্ণের কুঞ্চিত কেশ কপালের উপর মল্লিকা ও মালতীর মালা, তাহাতে আবার অলিকুল শোভা পাইতেছে। তাঁহার আধকপালে সুন্দর ময়ূরপুচ্ছের উপর অঙ্কিত চন্দ্রযুক্ত চিকন চূড়া টলিয়া রহিয়াছে।
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল--- তাঁহার মুখমণ্ডল দেখিয়া মনে হয় যেন উহা সুন্দর মরকত নির্ম্মিত দর্পণ।
কাম-কামান ভুরু-ভঙ্গী--- তাঁহার ভ্রুভঙ্গী যেন কামের ধনুর মতন।
যাহা দেখি চাদ কলঙ্কী--- তাঁহার কপালে চন্দনের তিলকের শোভা দেখিয়া চাঁদ কলঙ্কযুক্ত হইয়াছে। পিত পিতনি--- পীত উত্তরীয় বা উড়নী।
উবে--- বক্ষে।
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দদাস সংকলিত পদরসসার পুথিতে এই রূপে।
শ্রীরাধার পূর্ব্ব রাগ
॥ ভাটীয়ারী ॥
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
মল্লিকা-মালতি-মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি-চন্দ্রক
শোভিত আধ-কপালে॥
সজনী বড়ই কঠিন বর-কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
তেজল কুল-অভিমান॥ ধ্রু॥
মরকত-মঞ্জু-মুকুর মুখ মণ্ডল
কাম-কমান ভুরু-ভঙ্গী।
চন্দন তিলক ভাল-পর রাজিত
যাহে দেখি চান্দ কলঙ্কী॥
পীত-পতনি মণি-ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বন-মাল।
জ্ঞানদাস কহে ও রুপ পেখলু
বিজুরী তরুণ তমাল॥
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৪১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
রূপানুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
মল্লিকা মালতী মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি-চন্দ্রক
টালনি আধ কপালে॥
সজনি বড়ই বিনোদিয়া কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
ছাড়ল কুল-অভিমান॥ ধ্রু॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল
কামকামান ভুরুভঙ্গী।
মলয়জ তিলক ভাল পর বিলিখন
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী ॥
পিত পতনি মণি- ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বনমাল।
জ্ঞানদাস কহ অপরূপ দেখহ
বিজুরি তরুণ তমাল॥
॥ সিন্ধুড়া॥
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
মল্লিকা মালতী মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি-চন্দ্রক
টালনি আধ কপালে॥
সজনি বড়ই বিনোদিয়া কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
ছাড়ল কুল-অভিমান॥ ধ্রু॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল
কামকামান ভুরুভঙ্গী।
মলয়জ তিলক ভাল পর বিলিখন
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী ॥
পিত পতনি মণি- ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বনমাল।
জ্ঞানদাস কহ অপরূপ দেখহ
বিজুরি তরুণ তমাল॥
টীকা---
কুঞ্চিত অলকে মল্লিকা মালতীর মালা। তাহার উপরে ভ্রমর পংক্তি। চিকণ চূড়ায় সুন্দর শিখিচন্দ্রিকা, বামে হোলিয়া আছে। সজনি, কানু বড় বিনোদিয়া। তাহার কুটিল কটাক্ষে লাখ লাখ কুলবতী কুল অভিমান ত্যাগ করিল। মনোহর মরকত দর্পণের মত শ্যামের মুখমণ্ডল। ভুরুভঙ্গী যেন মদনের কামান। ললাটে অগুর চন্দনের তিলক আঁকা। তাহা দেখিয়াই তো লজ্জায় চাঁদ কলঙ্কী হইয়াছে। পীত বসন পরিধান, অঙ্গে মাণিময় অলঙ্কাকারের ছটা, বক্ষে বিলম্বিত বনমালা। জ্ঞানদাস বালিতেছেন, তরুণ তমালে বিদ্যুল্লতা, অপরূপ দেখ।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কুঞ্চিত অলকে মল্লিকা মালতীর মালা। তাহার উপরে ভ্রমর পংক্তি। চিকণ চূড়ায় সুন্দর শিখিচন্দ্রিকা, বামে হোলিয়া আছে। সজনি, কানু বড় বিনোদিয়া। তাহার কুটিল কটাক্ষে লাখ লাখ কুলবতী কুল অভিমান ত্যাগ করিল। মনোহর মরকত দর্পণের মত শ্যামের মুখমণ্ডল। ভুরুভঙ্গী যেন মদনের কামান। ললাটে অগুর চন্দনের তিলক আঁকা। তাহা দেখিয়াই তো লজ্জায় চাঁদ কলঙ্কী হইয়াছে। পীত বসন পরিধান, অঙ্গে মাণিময় অলঙ্কাকারের ছটা, বক্ষে বিলম্বিত বনমালা। জ্ঞানদাস বালিতেছেন, তরুণ তমালে বিদ্যুল্লতা, অপরূপ দেখ।
এই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাধিকার রূপানুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
মল্লিকা-মালতী-মালে।
চূড়া চিকন চারু শিখি-চন্দ্রক
টালনি আধ কপালে॥
সজনি বড়ই বিনোদিয়া কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
ছাড়ল কুল-অভিমান॥ ধ্রু॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল
কাম-কামান ভুরু-ভঙ্গী।
মলয়জ তিলক ভাল পর বিলিখন
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী ॥
পিত পতনি মণি- ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বনমাল।
জ্ঞানদাস কহ অপরূপ দেখহ
বিজুরি তরুণ তমাল॥
॥ সিন্ধুড়া॥
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
মল্লিকা-মালতী-মালে।
চূড়া চিকন চারু শিখি-চন্দ্রক
টালনি আধ কপালে॥
সজনি বড়ই বিনোদিয়া কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
ছাড়ল কুল-অভিমান॥ ধ্রু॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল
কাম-কামান ভুরু-ভঙ্গী।
মলয়জ তিলক ভাল পর বিলিখন
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী ॥
পিত পতনি মণি- ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বনমাল।
জ্ঞানদাস কহ অপরূপ দেখহ
বিজুরি তরুণ তমাল॥
এই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, বিদ্যাপতির অনুসরণে জ্ঞানদাস, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
মল্লিকা-মালতি-মালে।
চূড়া কিরণ চারু শিখি-চন্দ্রক
শোভিত আধ-কপালে॥
সজনী বড়ই কঠিন বর-কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতী
তেজল কুল-অভিমান॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ মণ্ডল
কাম-কমান ভুরু-ভঙ্গী।
চন্দন তিলক ভাল-পর রাজিত
যাহে দেখি চান্দ কলঙ্কী॥
পীত-পতনি মণি-ভূষণ ঝলমলি
উরে দোলত বন-মাল।
জ্ঞানদাস কহে ও রূপ পেখলুঁ
বিজুরী তরুণ তমাল॥
পদামৃত মাধুরী'তে আরম্ভ --- সই লো ও বড় বিনোদিয়া কান।
(এই পদটির সঙ্গে “সই লো ও বড় বিনোদিয়া কান” বা “ও বড় বিনোদিয়া কান” পদের কম-বেশী মিল রয়েছে, যা বিমানবিহারী মহাশয়ের মতে একই পদ, ভিন্ন প্রথম পঙ্ক্তি যুক্ত। তাই পাঠক চাইলে এই পদদুটির উপর ক্লিক করে তা পড়তে পারেন।---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥ )
টীকা ---
কুঞ্চিত অলকা....."আধ কপালে---
শ্রীকৃষ্ণের কুঞ্চিত কেশ কপালের উপর মল্লিকা ও মালতীর মালা, তাহাতে আবার অলিকুল শোভা পাইতেছে। তাঁহার আধকপালে সুন্দর ময়ূরপুচ্ছের উপর অঙ্কিত চন্দ্রযুক্ত চিকন চূড়া টলিয়া রহিয়াছে।
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল --- তাঁহার মুখমণ্ডল দেখিয়া মনে হয় যেন উহা সুন্দর মরকত নির্ম্মিত দর্পণ।
কাম-কামান ভূরু-ভঙ্গী --- তাঁহার ভ্রুভঙ্গী যেন কামের ধনুর মতন।
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী --- তাঁহার কপালে চন্দনের তিলকের শোভা দেখিয়া চাঁদ কলঙ্কযুক্ত হইয়াছে।
পিত পিতনি --- পীত উত্তরীয় বা উড়নী।
উরে --- বক্ষে।
কুঞ্চিত অলক-উপরে অলি-মণ্ডল
মল্লিকা-মালতি-মালে।
চূড়া কিরণ চারু শিখি-চন্দ্রক
শোভিত আধ-কপালে॥
সজনী বড়ই কঠিন বর-কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতী
তেজল কুল-অভিমান॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ মণ্ডল
কাম-কমান ভুরু-ভঙ্গী।
চন্দন তিলক ভাল-পর রাজিত
যাহে দেখি চান্দ কলঙ্কী॥
পীত-পতনি মণি-ভূষণ ঝলমলি
উরে দোলত বন-মাল।
জ্ঞানদাস কহে ও রূপ পেখলুঁ
বিজুরী তরুণ তমাল॥
পদামৃত মাধুরী'তে আরম্ভ --- সই লো ও বড় বিনোদিয়া কান।
(এই পদটির সঙ্গে “সই লো ও বড় বিনোদিয়া কান” বা “ও বড় বিনোদিয়া কান” পদের কম-বেশী মিল রয়েছে, যা বিমানবিহারী মহাশয়ের মতে একই পদ, ভিন্ন প্রথম পঙ্ক্তি যুক্ত। তাই পাঠক চাইলে এই পদদুটির উপর ক্লিক করে তা পড়তে পারেন।---মিলন সেনগুপ্ত। মিলনসাগর॥ )
টীকা ---
কুঞ্চিত অলকা....."আধ কপালে---
শ্রীকৃষ্ণের কুঞ্চিত কেশ কপালের উপর মল্লিকা ও মালতীর মালা, তাহাতে আবার অলিকুল শোভা পাইতেছে। তাঁহার আধকপালে সুন্দর ময়ূরপুচ্ছের উপর অঙ্কিত চন্দ্রযুক্ত চিকন চূড়া টলিয়া রহিয়াছে।
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ-মণ্ডল --- তাঁহার মুখমণ্ডল দেখিয়া মনে হয় যেন উহা সুন্দর মরকত নির্ম্মিত দর্পণ।
কাম-কামান ভূরু-ভঙ্গী --- তাঁহার ভ্রুভঙ্গী যেন কামের ধনুর মতন।
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী --- তাঁহার কপালে চন্দনের তিলকের শোভা দেখিয়া চাঁদ কলঙ্কযুক্ত হইয়াছে।
পিত পিতনি --- পীত উত্তরীয় বা উড়নী।
উরে --- বক্ষে।
এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৬১২ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
মল্লিকা মালতী মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি চন্দ্রক
টালনি আধ কপালে॥
সজনি বড়ই বিনোদিয়া কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
ছাড়ল কুল-অভিমান॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ মণ্ডল
কামকামান ভুরুভঙ্গী।
মলয়জ তিলক ভাল পর বিলিখন
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী ॥
পিত পতনি মণি ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বনমাল।
জ্ঞানদাস কহ অপরূপ দেখহ
বিজুরী তরুণ তমাল॥
*********************
কুঞ্চিত অলকা উপরে অলিমণ্ডলী
মল্লিকা মালতী মালে।
চূড়া চিকণ চারু শিখি চন্দ্রক
টালনি আধ কপালে॥
সজনি বড়ই বিনোদিয়া কান।
কুটিল কটাখে লাখ লাখ কুলবতি
ছাড়ল কুল-অভিমান॥
মরকত মঞ্জু মুকুর মুখ মণ্ডল
কামকামান ভুরুভঙ্গী।
মলয়জ তিলক ভাল পর বিলিখন
যাহা দেখি চাঁদ কলঙ্কী ॥
পিত পতনি মণি ভূখণ ঝলমলি
উরে দোলত বনমাল।
জ্ঞানদাস কহ অপরূপ দেখহ
বিজুরী তরুণ তমাল॥
*********************
