কবি জ্ঞানদাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
কবি জ্ঞানদাস-এর পরিচিতির পাতায় . . .
শ্রীকৃষ্ণের সহচরগণ --- দ্বাদশ গোপালের রূপবর্ণনা
এ সম্বন্ধে বিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্নর লেখা পড়ুন এখানে ক্লিক করে...। জ্ঞানদাসের পদে শ্রীকৃষ্ণের সহচরগণ, দ্বাদশ গোপালরা হলেন --- ১। শ্রীদাম গোপাল, ২। সুদাম গোপাল, ৩। স্তোক কৃষ্ণ গোপাল, ৪। সুবল গোপাল, ৫। অংশুমান গোপাল, ৬। বসুদাম গোপাল, ৭। কিঙ্কিণী গোপাল, ৮। অর্জুন গোপাল, ৯। দেবদত্ত গোপাল, ১০। সুনন্দ গোপাল, ১১। বরুপথ গোপাল, ১২। নন্দক গোপাল। ... যে কোনো গোপালের উপর জ্ঞানদাসের পদাবলী পড়তে ক্লিক করুন।
১। শ্রীদাম গোপাল
আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল
কবি জ্ঞানদাস
এই পদটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত, রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সম্পাদিত “জ্ঞানদাস” গ্রন্থের ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতাহীন পদ। কিন্তু সর্বত্র জ্ঞানদাসের পদ বলে সংকলিত হয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের এবং ষোড়শ গোপালের রূপ
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বন ফুল মালে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণ বরণ ধটি কটির বাঁধনি।
যষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গুঞ্জে গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কাণে মকর-কুণ্ডল॥
সর্ব্ব অঙ্গ ভূষিত গোক্ষুরের ধূলা।
উরু পর দুলছি বন ফুল মালা॥
নানা আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিনী।
চরণে মঞ্জীর বাজে রুনু ঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯ সালে) প্রকাশিত অরুণোদয় রায় দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত, “সংগীত-সার-সংগ্রহ”, ১ম খণ্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোপালের রূপ।
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বন ফুল মালে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণ বরণ ধটি কটির বাঁধনি।
যষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গুঞ্জে গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কাণে মকর-কুণ্ডল॥
সর্ব্ব অঙ্গ ভূষিত গোক্ষুরের ধূলা।
উরু পর দুলছি বন ফুল মালা॥
নানা আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিণী।
চরণে মঞ্জীর বাজে রুনু ঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৩০৭ বঙ্গাব্দে (১৯০০ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গবাসীর সহ-সম্পাদক হরিমোহন মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ” ১ম খণ্ড, এর ১৩০ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোপালের রূপ।
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বন ফুল মালে কুন্তল বাঁধে ভাল॥ অরুণ
বরণ ধটি কটির বাঁধনি। যষ্টি বিশাল বেত্র
মুরলী কাচনি॥ প্রবাল মুকুতা গুঞ্জে গলে
ঝলমল। হেলায় দুলিছে কাণে মকর-
কুণ্ডল॥ সর্ব্ব অঙ্গ ভূষিত গোক্ষুরের ধূলা।
ঊরু পর দুলিছে বন ফুল মালা॥ নানা
আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিণী। চরণে
মঞ্জীর বাজে রুণু ঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৩১২ সালে (১৯০৫) প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, "বৈষ্ণব-পদলহরী" গ্রন্থের ২৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ষোড়শ-গোপাল-রূপ
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বন ফুল মালে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণ বরণ ধটি কটির বাঁধনি।
যষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গঞ্জে গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কাণে মকর-কুণ্ডল॥
সর্ব্ব অঙ্গভূষিত গোক্ষুরের ধূলা।
ঊরু পর দুলিছে বন ফুল মালা॥
নানা আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিনী।
চরণে মঞ্জীর বাজে রুনু ঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশ এবং পরবর্তী সংস্করণ ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ বা ১৯৫৬ সালের পরে প্রকাশিত, শ্রীবিমানবিহারী মজুমদার ভাগবতরত্ন, সংকলিত ও সম্পাদিত বৈষ্ণব-পদাবলী সংকলন, “জ্ঞানদাস ও তাঁহার পদাবলী”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠলীলা, সখ্য ও বাত্সল্য রসের পদ।

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বনফুল মালে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণ বরণ ধটি কটির বাঁধনি।
ষষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গঞ্জে গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কানে মকর কুণ্ডল॥
সর্ব্ব অঙ্গ ভূষিত গোক্ষুরের ধুলা।
ঊরু পর দুলিছে বন ফুল মালা॥
নানা আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিনী ।
চরণে মঞ্জীর বাজে রুনু ঝুনু শুনি॥

টীকা ---
সর্ব্ব অঙ্গ ভূষিত গোক্ষুরের ধূলা --- গোষ্ঠ হইতে ফিরিবার সময় গায়ে গোরুর ক্ষুর দিয়া উড়ানো ধূলা লাগিয়াছে॥

ই পদটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সাল) প্রকাশিত কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী” এর ২৫৮ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব-সম্মিলন।
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বন ফুল মালে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণ বরণ ধটি কটির বাঁধনি।
ষষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গঞ্জে গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কাণে মকর-কুণ্ডল॥
সর্ব্ব অঙ্গ ভূষিত গোক্ষুরের ধুলা।
ঊরু পর দুলিতে বন ফুল মালা॥
নানা আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিণী।
চরণে মঞ্জীর বাজে রুনু ঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনের, ৩৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দ্বাদশ গোপালের রূপবর্ণনা
শ্রীদাম গোপাল
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বনফুলমালেতে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণবরণ ধটি কটির বাঁধনি।
ষষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গুঞ্জা গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কানে মকর কুণ্ডল॥
সর্ব অঙ্গ ভূষিত গোখুরের ধুলা।
উরপরে দুলিতেছে বনফুল মালা॥
পাশ আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিণী।
চরণে মজীর বাজে রুনুঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত, “জ্ঞানদাসের পদাবলী” গ্রন্থের ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের সহচর --- দ্বাদশ গোপালের রূপ
শ্রীদাম গোপাল
॥ ধানশী॥

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল। বনফুলমালেতে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণ-বরণ ধটী কটির বাঁধনি। যষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গুঞ্জা গলে ঝলমল। হেলায় দুলিছে কাণে মকর কুণ্ডল॥
সর্ব অঙ্গ বিভূষিত গোক্ষুরের ধূলা। উরপরে দুলিতেছে বনফুল মালা॥
পাশ অভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিনী চরণে মঞ্জীর বাজে রুনুঝুনু শুনি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, ৩৪৪৫টি পদ বিশিষ্ট, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সঙ্কলনের ৫৯৮ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরক্ত সুন্দর কান্তি শ্রীদাম গোপাল।
বনফুলমালেতে কুন্তল বাঁধে ভাল॥
অরুণবরণ ধটী কটির বাঁধনি।
ষষ্টি বিশাল বেত্র মুরলী কাচনি॥
প্রবাল মুকুতা গুঞ্জা গলে ঝলমল।
হেলায় দুলিছে কানে মকর কুণ্ডল॥
সর্ব অঙ্গ বিভূষিত গোখুরের ধূলা।
উরপরে দুলিতেছে বনফুল মালা॥
পাশ আভরণ অঙ্গে কটিতে কিঙ্কিণী।
চরণে মজীর বাজে রুনুঝুনু শুনি॥

*********************