কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
হরি হরি হেন দিন হইবে আমার
হরি হেন দিন হইবে আমার
প্রাণের হরি প্রাণের হরি হেন দশা হবে কি আমার
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৫৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সেবনোচিত-লালসাময়ী
প্রার্থনা যথা।
॥ কামোদ॥

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ-অঙ্গ পরশিব                 দুহুঁ-অঙ্গ নিরখিব
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে             সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক-সম্পুট করি                 কর্পূর তাম্বুল পূরি
যোগাইব অধর-যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                সেই মোর প্রাণ-ধন
সেই মোর জীবন-উপায়।
জয় পতিত-পাবন               দেহ মোরে এই ধন
তোমা বিনে অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু                অধম জনার বন্ধু
লোক-নাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া        দেহ  মোরে পদে ছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৫৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কামোদ॥

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ-অঙ্গ পরশিব                দুহুঁ-অঙ্গ নিরখিব
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে             সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক-সম্পুট করি                কর্পূর তাম্বুল পূরি
যোগাইব অধর-যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                এই মোর প্রাণ-ধন
সেই মোর জীবন-উপায়।
জয় পতিত-পাবন               দেহ মোরে এই ধন
তোমা বিনে অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু                অধম জনার বন্ধু
লোক-নাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া          দেহ  মোরে পদে ছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার। দুহুঁ অঙ্গ পরশিব, দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব, সেবন করিব দোঁহাকার॥ ললিতা
বিশাখা সঙ্গে, সেবন করিব রঙ্গে, মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে। কনকসম্পুট করি, কর্পূর তাম্বুল
পূরি, যোগাইব অধর যুগলে॥ রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন, এই মোর প্রাণধন, এই মোর জীবন উপায়। জয়
পতিতপাবন, দেহ মোরে এই ধন, তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥ শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু, অধমজনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন। হাহা প্রভু কর দয়া, দেহ  মোরে পদছায়া, নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব,                 দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব,
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে,             সেবন করিব রঙ্গে,
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক সম্পুট করি,                 কর্পূর তাম্বুল পূরি,
যোগাইব অধর যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,                  এই মোর প্রাণধন,
সেই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিত পাবন,                দেহ মোরে এই ধন,
তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                  অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া,              দেহ  মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব,                দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব,
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে,             সেবন করিব রঙ্গে,
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনকসম্পুট করি,                 কর্পূর তাম্বুল পূরি,
যোগাইব অধর যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,                 এই মোর প্রাণধন,
এই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিতপাবন,                দেহ মোরে এই ধন,
তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                 অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া,            দেহ  মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩২০ বঙ্গাব্দের (১৯১৩খৃষ্টাব্দ) অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত, মুনশী
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ১ম খণ্ড, ১ম সংখ্যা, ৫৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নরোত্তম ঠাকুর রচিত “সাধ্যপ্রেম-চন্দ্রিকা” পুথির পদ।

প্রাণের হরি                            প্রাণের হরি
হেন দশা হবে কি আমার।
দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব                দুহুঁ অঙ্গ পরশিব
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে             সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব দোঁহার গলে।
কনক সম্পুট করি                 কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে॥
রাধা কৃষ্ণ বৃন্দাবন                 কবে পাব দরশন
তাহা বিনা অন্য নাহি মনে।
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু                  অধম জনার বন্ধু
লোকনাথ লোকের জীবন।
প্রভু মোরে কর দয়া          দেও  মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৫৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব,                 দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব,
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে,             সেবন করিব রঙ্গে,
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক সম্পুট করি,                কর্পূর তাম্বুল পূরি,
যোগাইব অধর যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,                  এই মোর প্রাণধন,
সেই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিত-পাবন,               দেহ মোরে এই ধন,
তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া,             দেহ  মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১২৯-পৃষ্ঠায় ভিন্ন
প্রথম পংক্তি সহ স্বতন্ত্র একটি পদ হিসেবে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরাও এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র
পদ হিসেবে তুলেছি।

॥ মঙ্গল রাগ॥

প্রাণ-হারী হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুই মুখ নিরখিব দুই অঙ্গ পরশিব
সেবন যে করিব তাহারে॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে,                         সেবন করিব রঙ্গে,
মালা গাঁথি দিব নানাফুলে।
কনক সম্পুট করি,                            কর্পূর তাম্বুল ভরি,
যোগাইব অধর কমলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,                             সেই মের প্রাণধন,
সেই মোর জীবন উপায়।
জয় রূপ সনাতন,                        দেহো মোরে এই ধন,
তাহা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব,             দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব,
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে,             সেবন করিব রঙ্গে,
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনকসম্পুট করি,              কর্পূর তাম্বুল পূরি,
যোগাইব অধর যুগল॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,              এই মোর প্রাণধন,
এই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিত পাবন,            দেহ মোরে এই ধন,
তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,             অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া,        দেহ  মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।
স্বভীষ্ট লালসা।

হরি! হরি! হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব,             দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব,
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে,             সেবন করিব রঙ্গে,
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনকসম্পুট করি,              কর্পূর তাম্বুল পূরি,
যোগাইব অধর যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,              এই মোর প্রাণধন,
এই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিতপাবন,            দেহ মোরে এই ধন,
তোমা বিনা অন্য নাহি তায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,             অধম জনার বন্ধু,
লোকনাথ লোকের জীবন।
হা! হা! প্রভু কর দয়া,        দেহ মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥


ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

হরি হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব                দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব
সেবন করিব দোহাকার॥ ধ্রু॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে             সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব নানাফুলে।
কনকসম্পুট করি                 কর্পূর তাম্বুল পূরি
যোগাইব অধরযুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                 এই মোর প্রাণধন
সেই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিতপাবন,               দেহ মোরে এই ধন
তোমা বিনা অন্যে নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু                অধম জনার বন্ধু
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া            দেহ  মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কামোদ॥

হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব                দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব
সেবন করিব দোহাঁকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে             সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক সম্পুট করি                কর্পূর তাম্বুল পূরি
যোগাইব অধর যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                সেই মোর প্রাণ-ধন
সেই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিতপাবন                দেহ মোরে এই ধন
তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু                 অধম জনের বন্ধু
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া            দেহ  মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ১০৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ-অঙ্গ পরশিব             দুহু-অঙ্গ নিরখিব
সেবন করিব দোঁহাকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে             সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক-সম্পুট করি              কর্পূর তাম্বুল পূরি
যোগাইব অধর-যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন              সেই মোর প্রাণধন
সেই মোর জীবন-উপায়।
জয় পতিত-পাবন            দেহ মোরে এই ধন
তোমা বিনে অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু             অধম জনার বন্ধু
লোক-নাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া        দেহ  মোরে পদ-ছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৩০২-পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হেন দিন হইবে আমার।
দুহুঁ অঙ্গ পরশিব দুহুঁ অঙ্গ নিরখিব
সেবন করিব দোহাঁকার॥
ললিতা বিশাখা সঙ্গে সেবন করিব রঙ্গে
মালা গাঁথি দিব নানা ফুলে।
কনক সম্পুট করি কর্পূর তাম্বুল পূরি
যোগাইব অধর যুগলে॥
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন সেই মোর প্রাণ ধন
সেই মোর জীবন উপায়।
জয় পতিতপাবন দেহ মোরে এই ধন
তোমা বিনা অন্য নাহি ভায়॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু অধম জনের বন্ধু
লোকনাথ লোকের জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া দেহ মোরে পদে
ছায়া নরোত্তম লইল শরণ॥

***********

.                                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি আর কি এমন দশা হব। ছাড়িয়া
হরি হরি আর কি এমন দিন হব। ছাড়িয়া
হরি হরি আর কবে এমন দশা হব। ছাড়িয়া
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৬৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ-দেহ প্রকৃতি হইব॥
টানিয়া বান্ধিব চুড়া                নব-গুঞ্জা তাহে বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীত-বসন অঙ্গে                        পরাইব সখী সঙ্গে
বদনে তাম্বুল দিব আর॥
দুহুঁ-রূপ মনোহারী                      দেখিব নয়ন ভরি
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নব-রত্ন জাদ আনি                   বান্ধিব বিচিত্র বেণী
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপ-মাধুরী                      দেখিব নয়ন ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন                     দেহ মোরে এই ধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৬৩-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো। পদকল্পতরুর পাঠান্তরে পদরসসার গ্রন্থের পদের উপরোক্ত সংখ্যার উল্লেখ
থাকলেও প্রতিটি পাঠান্তরে প-র অর্থাৎ পদরত্নাকর-এর উল্লেখ আছে। তবে পদসংখ্যাটি পদরসসার
গ্রন্থেরই তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

॥ তথা রাগ॥

হরি হরি আর কবে হেন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ দেহ                   কবে বা প্রকৃতি হব
দুহুঁ অঙ্গে চন্দন মাখাব॥
টানিয়া বান্ধিব চুড়া                  নব-গুঞ্জা তাহে বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীত-বসন অঙ্গে                          পরাইব সখী সঙ্গে
বদনে তাম্বুল দিব তার॥
দুহুঁ-রূপ মনোহারী                        দেখিব নয়ন ভরি
নীল পীক বস্ত্রে সাজাইয়া।
রতনমঞ্জরি আনি                       বান্ধিব বিচিত্র বেণী
কাঞ্চনেতে মালতী বেড়িয়া॥
দোহাকার রূপ দেখি                     অন্তরে হইব সুখী
এই করি বড় অভিলাষ।
প্রভু রূপ সনাতন                        দেহ মোরে এই ধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি আর কি এমন দশা হব। ছাড়িয়া পুরুষ দেহ, কবে বা প্রকৃতি হব, দুহুঁ অঙ্গে চন্দন পরাইব॥
টানিয়া বাঁধিব চুড়া, নবগুঞ্জাহারে বেড়া, নানাফুলে গাঁথি দিব হার। পীতবসন অঙ্গে, পরাইব সখী অঙ্গে,
বদনে তাম্বুল দিব আর॥ দুহুঁ রূপ মনোহারী, হেরিব নয়নভরি, নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া। নবরত্ন জরি
আনি, বান্ধিব বিচিত্র বেণী, তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥ সে না রূপ মাধুরী, দেখিব নয়নভরি, এই করি মনে
অভিলাষ। জয় রূপ সনাতন, দেহ মোরে এই ধন, নিবেদয়ে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ দেহ,                 কবে বা প্রকৃতি হব,
দুহুঁ অঙ্গে চন্দন পরাইব॥
টানিয়া বান্ধিব চুড়া,                নবগুঞ্জা তাহে বেড়া,
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে,                        পরাইব সখী সঙ্গে,
বদনে তাম্বুল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারী,                   দেখিব নয়ন ভরি,
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নব রত্ন জরি আনি,                 বান্ধিব বিচিত্র বেণী,
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
যেনা রূপ মাধুরী,                     দেখিব নয়ন ভরি,
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন,                     দেহ মোরে এই ধন,
বেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ দেহ,                    কবে বা প্রকৃতি হব,
দুহুঁ অঙ্গে চন্দন পরাইব॥
টানিয়া বাঁধিব চুড়া,                     নবগুঞ্জাহারে বেড়া,
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে,                          পরাইব সখী অঙ্গে,
বদনে তাম্বুল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারি,                       সেবিব নয়ন ভরি,
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নবরত্ন জরি আনি,                      বান্ধিব বিচিত্র বেণী,
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপ-মাধুরী,                        দেখিব নয়ন ভরি,
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন,                        দেহ মোরে এই ধন,
নিবেদয়ে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষদেহ প্রকৃতি হইব॥
টানিয়া বান্ধিব চূড়া,                নবগুঞ্জা তাহে বেড়া,
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে,                        পরাইব সখী সঙ্গে,
বদনে তাম্বূল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারী,                     দেখিব নয়ন ভরি,
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নব রত্ন জরি আনি,                  বান্ধিব বিচিত্র বেণী,
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সেনা রূপ মাধুরী,                        দেখিব নয়ন ভরি,
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন,                       দেহ মোরে এই ধন,
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

হরি হরি আর কি এমন দিন হব।
ছাড়িয়া পুরুষ দেহ প্রকৃতি হইব॥
টানিয়া বান্ধিব চূড়া                   নব গুঞ্জ হারে বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে                          পরাইব সখী সঙ্গে
বদনে তাম্বুল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারী                      দেখিব নয়ান ভরি
নীলাম্বরে রাইকে সাজাঞা।
নবরত্ন জাগ আনি                       বাঁধিব বিচিত্র বেণী
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপ মাধুরী                      দেখিব নয়ান ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন                        দেহ মোর এই ধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ দেহ,                কবে বা প্রকৃতি হইব॥
দুহুঁ অঙ্গে চন্দন পরাইব॥
টানিয়া বান্ধিব চূড়া,                   নবগুঞ্জাহারে বেড়া,
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে,                        পরাইব সখী অঙ্গে,
বদনে তাম্বূল দিব আর॥
দুহহুঁ রূপ মনোহারী,                   দেখিব নয়ন ভরি,
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নবরত্ন জরি আনি,                    বান্ধিব বিচিত্র বেণী,
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপ মাধুরী,                       দেখিব নয়ন ভরি,
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন,                     দেহ মোরে এই ধন,
নিবেদয়ে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২২০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি! আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ দেহ,                কবে বা প্রকৃতি হব॥
দুহুঁ অঙ্গে চন্দন পরাব॥
টানিয়া বাঁধিব চূড়া,                নব গুঞ্জাহারে বেড়া,
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে,                        পরাইব সখী সঙ্গে,
বদনে তাম্বূল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারী,                    দেখিব নয়ন ভরি,
নীলাম্বরে রাই সাজাইয়া।
নবরত্ন-জরি আনি,                  বান্ধিব বিচিত্র বেণী,
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপ মাধুরী,                     দেখিব নয়ন ভরি,
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন,                   দেহ মোরে এই ধন,
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”
শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ত্যজ্য করি মায়া মোহ                ছাড়িয়া পুরুষ দেহ
কবে হাম প্রকৃতি হইব॥ ধ্রু॥
টানিয়া বাঁধিব চুড়া                    নব গুঞ্জাহারে বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীত বসন অঙ্গে                          পরাইব সখী সঙ্গে
বদনে তাম্বুল দিব আর॥
দুই রূপ মনোহারি                     দেখিব নয়ান ভরি
নীলাম্বরে রাইকে সাজাঞা।
নবরত্ন যদি আনি                      বান্ধিব বিচিত্র বেণী
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপ মাধুরী                        দেখিব নয়ান ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন                       দেহ মোরে এই ধন
নিবেদয়ে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, ৫৪৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

হরি হরি আর কবে এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ-দেহ                কবে বা প্রকৃতি হব
দোঁহারে নূপুর পরাইব॥
টানিয়া বান্ধিব চূড়া              তাহে দিব গুঞ্জা-বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতাম্বর বাস অঙ্গে                  পরাইব সখা সঙ্গে
বদনে তাম্বূল দিব আর॥
দুই রূপ মনোহারী                   দেখিব নয়ন ভরি
নীলাম্বরে দিব সাজাইয়া।
রতনের জরি আনি                বান্ধিব বিচিত্র বেণী
দিব তাহে মালতী গাঁথিয়া॥
হেন রূপ-মাধুরী                        দেখিব নয়ন ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ-সনাতন                     দেহ মোরে এই ধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ তথা রাগ॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষদেহ প্রকৃতি হইব॥
টানিয়া বান্ধিব চুড়া                  নবগুঞ্জা তাহে বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে                          পরাইব সখী সঙ্গে
বদনে তাম্বূল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারী                      দেখিব নয়ান ভরি
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নবরত্ন জাদ আনি                    বান্ধিব বিচিত্র বেণী
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপমাধুরী                        দেখিব নয়ান ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন                        দেহ মোরে এইধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ১০৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

হরি হরি আর কবে এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষ-দেহ                   কবে বা প্রকৃতি হব
দোঁহারে নূপুর পরাইব॥
টানিয়া বান্ধিব চুড়া                তাহে দিব গুঞ্জা-বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতাম্বর বাস অঙ্গে                    পরাইব সখা সঙ্গে
বদনে তাম্বুল দিব আর॥
দুই রূপ মনোহারী                    দেখিব নয়ান ভরি
নীলাম্বরে দিব সাজাইয়া।
রতনের জরি আনি                   বান্ধিব বিচিত্র বেণী
দিব তাহে মালতী গাঁথিয়া॥
হেন রূপ-মাধুরী                         দেখিব নয়ন ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ-সনাতন                     দেহ মোরে এই ধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৩০১-পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
ছাড়িয়া পুরুষদেহ প্রকৃতি হইব॥
টানিয়া বান্ধিব চুড়া নবগুঞ্জা তাহে বেড়া
নানা ফুলে গাঁথি দিব হার।
পীতবসন অঙ্গে পরাইব সখী সঙ্গে
বদনে তাম্বূল দিব আর॥
দুহুঁ রূপ মনোহারী দেখিব নয়ান ভরি
নীলাম্বরে রাইকে সাজাইয়া।
নবরত্ন জাদ আনি বান্ধিব বিচিত্র বেণী
তাহে ফুল মালতী গাঁথিয়া॥
সে না রূপমাধুরী দেখিব নয়ান ভরি
এই করি মনে অভিলাষ।
জয় রূপ সনাতন দেহ মোরে এইধন
নিবেদয়ে নরোত্তম দাস॥

***********

.                                                                                               
সূচীতে . . .    

মিলনসাগর
*
দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোর
দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৩৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই রাগ চঞ্চুপুট তালৌ॥

দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোর। দুহুক নয়নে বহে আনন্দ নোর॥
দুহু তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ। ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ। আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে রাধা কানুর বিলাস। দূরেহি দূরে রহু নরোত্তমদাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ২২শ পল্লব, কারণাভাস মান, ৫৮৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ-লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধামাধব-রঙ্গ।
মান-বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর পুথির
পদসংখ্যা-৪২।২১-এ এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ-লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দিত ভেল সবে দেখি দুই জন॥
সারি শুক দুহুঁক রূপ সখিকে শুনায়।
শুনি হাসি সখিগণ উলসিত কায়॥
নিকুঞ্জমন্দিরে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দূরে রহু হেরত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির পদসংখ্যা-
৭৩৪-এ এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ-লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধামাধব-রঙ্গ।
মান-বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহার কেলি-বিলাস।
দূরে রহু হেরত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ
বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দলোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে কেলিবিলাস।
দুরহিঁ দুরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোড়ী॥

দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহু ভেল ভোর। দুহুক নয়ানে বহে আনন্দ লোর॥
দুহু তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ। ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিগণ। আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে কেলি বিলাস। দূরহু দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাব সম্মিলন।
॥ টোড়ী॥

দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ঈষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে কেলি বিলাস।
দূরহুঁ দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধা মাধব রঙ্গ।
মান বিরামে ভেল একসঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দূরহি দূরে রহি নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোড়ী॥

দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ঈষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে কেলি বিলাস।
দূরহুঁ দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ঈষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধা মাধব রঙ্গ।
মান বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দূরহি দূরে রহি নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ঈষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধা-মাধব-রঙ্গ।
মান বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দূরহি দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, কলহান্তরিতা, ৪৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী মিশ্র ভূপালি - মধ্যম একতালা॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ অঙ্গ পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধামাধব রঙ্গ।
মান বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধামাধব রঙ্গ।
মান বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলিবিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও
শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৬৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

মান ও কলহান্তরিতা।

দুহু মুখ-দরশনে দুহু ভেল ভোর।
দুহুক নয়নে বহে আনন্দ-লোর॥
দুহু তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধা-মাধব-রঙ্গ।
মান-বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহু জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহু কেলি-বিলাস।
দূরহি দুরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ মুখ দরশনে দুহুঁ ভেল ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
দুহুঁ তনু পুলকিত গদ গদ ভাষ।
ইষদবলোকনে লহু লহু হাস॥
অপরূপ রাধামাধব রঙ্গ।
মান বিরামে ভেল এক সঙ্গ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলিবিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

.            ***********

.                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি ক্ষণে হইল দেখা নয়নে নয়নে
কি খেনে হইল দেখা নয়ানে নয়ানে
   
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ - নায়ক-সম্বোধনে
॥ সুহই॥

কি ক্ষণে হইল দেখা নয়নে নয়নে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণে তা জানে॥
শাশুড়ী ক্ষুরের ধার ননদিনী রাগি।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরম পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পীয়াসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - ডাসপাহিড়ী তাল॥

কি খেনে হইল দেখা নয়ানে নয়ানে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণ তা জানে॥
শাশুড়ী খুরের ধার ননদিনী রাগী।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরমে পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পীয়াসে॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২০-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
   
॥ সুহই॥

কি ক্ষণে হইল দেখা নয়নে নয়নে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণে তা জানে॥
শাশুড়ী ক্ষুরের ধার ননদিনী রাগি।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরম পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পীয়াসে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - ডাসপাহিড়ী তাল॥

কি খেনে হইল দেখা নয়নে নয়নে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণ তা জানে॥
শ্বাশুড়ী খুরের ধার ননদিনী রাগী।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ূক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরম পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পীয়াসে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ সুহই॥

কি খেনে হইল দেখা নয়ানে নয়ানে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়ানে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ-পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণ তা জানে॥
শ্বাশুড়ী খুরের ধার ননদিনী রাগী।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ-জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরমে পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পিয়াসে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - ডাসপাহিড়ী তাল॥

কি খেনে হইল দেখা নয়ানে নয়ানে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়ানে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ-পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণ তা জানে॥
শ্বাশুড়ী খুরের ধার ননদিনী রাগী।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরমে পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পিয়াসে॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কাব্য-রত্নমালা”, ১৪৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কি খেনে হইল দেখা নয়ানে নয়ানে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়ানে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথপানে।
মনের যতেক দুখ পরাণ তা জানে॥
শ্বাশুড়ী খুরের ধার ননদিনী রাগী।
নয়ান মুদিলে মন কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরমে পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তমদাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পিয়াসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
নায়ক-সম্বোধনে
॥ সুহই॥

কি ক্ষণে হইল দেখা নয়নে নয়নে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণে তা জানে॥
শাশুড়ী ক্ষুরের ধার ননদিনী আগি।
নয়ান মুদিলে বলে কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরম পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পিয়াসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৮৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি ক্ষণে হইল দেখা নয়নে নয়নে।
তোমা বন্ধু পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥
নিরবধি থাকি আমি চাহি পথ পানে।
মনের যতেক দুখ পরাণে তা জানে॥
শাশুড়ী ক্ষুরের ধার ননদিনী আগি।
নয়ান মুদিলে বলে কান্দে শ্যাম লাগি॥
ছাড়ে ছাড়ুক নিজ জন তাহে না ডরাই।
কুলের ভরম পাছে তোমারে হারাই॥
কান্দিতে কান্দিতে কহে নরোত্তম দাসে।
অগাধ সলিলের মীন মরয়ে পিয়াসে॥

.                 ***********

.                                                                                  
সূচীতে . . .   




মিলনসাগর
*
কিবা সে তোমার প্রেম কত লক্ষ কোটি হেম
কিনা সে তোমার প্রেম কত লক্ষ কোটি হেম
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদটির এবং “ওহে নাগর বর শুনহে মুরলীধর” শির্ষক পদটির শেষ আটটি পংক্তি হুবহু এক।

॥ করুণ॥

কিবা সে তোমার প্রেম,                কত লক্ষ কোটি হেম,
সদাই জাগিছে অন্তরে।
পুরুবে আছিল ভাগি,               তেঞি সে পাইয়াছি লাগি,
প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ভরে॥
কালিয়া বরণ খানি,                     আমার মাথার বেণী,
আঁচরে ঢাকিয়া রাখি বুকে।
দিয়া চান্দ মুখে মুখ,                        পূরাব মনের সুখ,
যে বলু সে বলু ছার লোকে॥
মণি নহ মুকুতা নহ,                        গলায় গাঁথিয়া লব,
ফুল নহ কেশে করি বেশ।
নারী না করিত বিধি,                    তোমা হেন গুণ নিধি,
লইয়া ফিরিতুঁ দেশে দেশ॥
নরোত্তম দাস কয়,                        তোমার চরিত্র নয়,
তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া।
যে দিনে তোমার ভাবে,                  আমার পরাণ যাবে,
সেই দিন দিও পদ ছায়া॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণা॥

কিবা সে তোমার প্রেম,                কত লক্ষ কোটি হেম,
সদাই জাগিছে অন্তরে।
পূরুবে আছিল ভাগি,               তেঞি সে পাইয়াছি লাগি,
প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ভরে॥
কালিয়া বরণ খানি,                     আমার মাথার বেণী,
আঁচরে ঢাকিয়া রাখি বুকে।
দিয়া চান্দ মুখে মুখ,                          পূরাব মনের সুখ,
যে বলু সে বলু ছার লোকে॥
মণি নহ মুকুতা নহ,                           গলায় গাঁথিয়া লব,
ফুল নহ কেশে করি বেশ।
নারী না করিত বিধি,              তোমা হেন গুণ-নিধি,
লইয়া ফিরিতুঁ দেশে দেশ॥
নরোত্তম দাস কয়,                        তোমার চরিত্র নয়,
তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া।
যে দিনে তোমার ভাবে,                আমার পরাণ যাবে,
সেই দিন দিও পদ-ছায়া॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত অপ্রকাশিত “পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর”
পুথির পদ।

শ্রীরাধার আত্ম-নিবেদন
॥ করুণা॥

কিবা সে তোমার প্রেম                কত লক্ষ-কোটি হেম
নিরবধি জাগিছে অন্তরে।
পুরুবে আছিল ভাগি               তেঞি সে পাইয়াছি লাগি
প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ডরে॥
কালিয়া-বরণ খানি                     আমার মাথার বেণী
আঁচরে ঢাকিয়া রাখি বুকে।
দিয়া চাঁদ-মুখে মুখ                          পুরিব মনের সুখ
যে বলে সে বলুক পাপ লোকে॥
মণি নও মুকুতা নও                        গলায় গাঁথিয়া লব
ফুল নও কেশে করি বেশ।
নারি না করিত বিধি                   তোমা হেন গুণ-নিধি,
লইয়া ফিরিতুঁ দেশে-দেশ॥
নরোত্তম দাস কয়                          তোমার চরিত্র নয়
তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া।
যে দিনে তোমার ভাবে                   আমার পরাণ যাবে
সেই দিন দিও পদ-ছায়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৫৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ করুণ॥

কিনা সে তোমার প্রেম
কত লক্ষ কোটি হেম
.                        সদাই জাগিছে অন্তরে।
পূরুবে আছিল ভাগি
তেঞি সে পাইয়াছি লাগি
.                                প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ডরে॥
কালিয়া বরণ খানি
আমার মাথার বেণী
.                                আঁচরে ঢাকিয়া রাখি বুকে।
দিয়া চান্দ মুখে মুখ
পূরাব মনের সুখ
.                                যে বলু সে বলু ছার লোকে॥
মণি নহ মুকুতা নহ
গলায় গাঁথিয়া লব
.                                ফুল নহ কেশে করি বেশ।
নারী না করিত বিধি
তোমা হেন গুণ নিধি
.                                লইয়া ফিরিতুঁ দেশে দেশ॥
নরোত্তম দাস কয়
তোমারে বিচিত্র নয়
.                                তুমি মোরে না ছাড়িয় দয়া।
যে দিনে তোমার ভাবে
আমার পরাণ যাবে
.                                সেইদিন দিও পদ ছায়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৮৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিনা সে তোমার প্রেম কত লক্ষ কোটি
হেম সদাই জাগিছে অন্তরে।
পূরুবে আছিল ভাগি
তেঞি সে পাইয়াছি লাগি
প্রাণ কান্দে বিচ্ছেদের ডরে॥
কালিয়া বরণ খানি আমার মাথার বেণী
আঁচারে ঢাকিয়া রাখি বুকে।
দিয়া চান্দ মুখে মুখ পূরাব মনের
সুখ যে বলু সে বলু ছার লোকে॥
মণি নহ মুকতা নহ গলায় গাঁথিয়া
লব ফুল নহ কেশে করি বেশ।
নারী না করিত বিধি তোমা হেন
গুণনিধি লইয়া ফিরিতুঁ দেশে দেশ॥
নরোত্তম দাস কয় তোমারে বিচিত্র নয়
তুমি মোরে না ছাড়িয় দয়া।
যেদিনে তোমার ভাবে আমার পরাণ
যাবে সেইদিন দিও পদ ছায়া॥

***********

.                                                                                             
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
আরে কমল-দল আঁখি
কমল-দল আঁখি রে কমল-দল আঁখি
  
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১০ম পল্লব, নানাবিধ বিরহ, ১৮৬৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥
   
আরে কমল-দল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ-মুখ দেখি॥
যে সব করিলা কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারা হেন বাস।
এমন পিরিতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাস কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

আরে কমল-দল আঁখি। বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ-মুখ দেখি॥ যে সব করিয়া কেলি গেল
বা কোথায়। সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥ আঁখির নিমিষে মোরে হারাও হেন
বাস। এমন পিরীতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥ প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত। নরোত্তমদাস
কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৫-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥
   
আরে কমল দল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ মুখ দেখি॥
যে সব করিলা কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারাও হেন বাস।
এমন পিরীতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাস কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥
   
আরে কমল-দল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ-মুখ দেখি॥
যে সব করিয়া কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারা হেন বাস।
এমন পিরীতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাস কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥
   
আরে কমল দল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ মুখ দেখি॥
যে সব করিলা কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারাও হেন বাস।
এমন পিরীতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাস কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”
কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

আরে কমল দল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ-মুখ দেখি॥
সে সব করিয়া কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারা হেন বাস।
এমন পিরীতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাসে কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ
॥ পঠমঞ্জরী॥
   
আরে কমলদল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদমুখ দেখি॥
যে সব করিলা কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারা হেন বাস।
এমন পিরিতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাস কহে কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিরহবিলাপ।

কমল-দল আঁখি রে কমল-দল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদ-মুখ দেখি॥ ধ্রু॥
যে সব করিলে কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে দুখ উঠে কি করে উপায়॥
আঁখির নিমিখে মোরে হারা হেন বাসে।
এমন পিরিতি ছাড়ি গেলা দূর-দেশে॥
প্রাণ করে ছটফট নাহিক সম্বিত।
নরোত্তমদাস-পহুঁ কঠিন চরিত॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৮৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরে কমলদল আঁখি।
বারেক বাহুড় তোমার চাঁদমুখ দেখি॥
যে সব করিলা কেলি গেল বা কোথায়।
সোঙরিতে প্রাণ কান্দে কি করি উপায়॥
আঁখির নিমিষে মোরে হারা হেন বাস।
এমন পিরিতি ছাড়ি গেলা দূর দেশ॥
প্রাণ ছটফট করে নাহিক সম্বিত।
নরোত্তম দাস কহে কঠিন চরিত॥

.              ***********

.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক-শরীর
গৌরাঙ্গ বলিতে কবে হবে পুলক শরীর
গৌরাঙ্গ ললিতে কবে হবে পুলক শরীর
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড,
৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৪৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সাধনোচিত-লালসাময়ী প্রার্থনা যথা।
॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক-শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে ববে নীর॥
কবে মোরে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসার-বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব যুগল পিরিতি॥
শ্রীরূপ-রঘুনাথ-পদে রহু আশ।
নরোত্তমদাস মনে এই অভিলাষ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৪৪-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক-শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে বহে নীর॥
কবে আর নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসার-বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম হেরব যুগল পিরিতি॥
শ্রীরূপ-রঘুনাথ-পদে রহু আশ।
নরোত্তমদাস মনে এই অভিলাষ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪৩।১-
পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক-শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে বহে নীর॥
কবে মোরে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসার-বাসনা মোর কেমনে ছুটিবে॥
সংসার ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব যুগল পিরিতি॥
শ্রীরূপ-রঘুনাথ-পদে কবে হব দাস।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর। হরি হরি বলিতে নয়ানে বহে নীর॥ আর কবে
নিতাইচাঁদ করুণা করিবে। সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥ বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ
হবে মন। কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥ রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি। কবে হাম বুঝব
সে যুগল পিরীতি॥ রূপ রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ। প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১৬-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে কবে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিতে কবে হবে নয়ানক নীর॥
আর কবে নিতাই চাঁদ করুণা করিবে।
সংসার-বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ সনাতন বলিতে কবে হইবে আকূতি।
কবে বা বুঝব হাম যুগল পিরীতি॥
রূপ রঘুনাথ দাসের অনুদাস।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক-শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে বহে নীর॥
কবে মোরে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসার-বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব যুগল পিরীতি॥
রূপ রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭৫-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে কবে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিতে কবে হবে নয়ানক নীর॥
আর কবে নিতাই চাঁদ করুণা করিবে।
সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ সনাতন বলিতে কবে হইবে আকূতি।
কবে বা বুঝব হাম যুগল পিরীতি॥
রূপ রঘুনাথ দাসের অনুদাস।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিয়ে নয়নে বহে নীর॥
আর কবে নিতাই চাঁদ করুণা করিবে।
সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।
কবে হাম বুঝিব যুগল পিরীতি॥
শ্রীরূপ রঘুনাথ পদে রহু আশ।
নরোত্তম দাস মনে এই অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”
কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ ললিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিয়ে নয়নে বহে নীর॥
আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব সেই শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝিব সে যুগল পিরীতি॥
রূপ রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-
কণ্ঠহার”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।
সংপ্রার্থনাত্মিকা।

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিয়ে নয়নে ব’বে নীর॥
আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসার-বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব সেই শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি॥
রূপ রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়ানে বহে নীর॥
আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসারবাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব যুগল-পিরীতি॥
শ্রীরূপ-রঘুনাথ-পদে রহু আশ।
নরোত্তমদাস মনে এই অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ ধানশী ॥

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে ঝরে নীর॥
আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসারবাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।
কবে হাম বুঝব যুগলপিরীতি॥
শ্রীরূপ রঘুনাথ পদে রহু আশ।
নরোত্তমদাস মনে এই অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৭৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিয়ে নয়নে বহে নীর॥
আর কবে নিতাই চাঁদ করুণা করিবে।
সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব যুগল পিরীতি॥
শ্রীরূপ রঘুনাথ পদে রহু আশ।
নরোত্তম দাস মনে এই অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলকশরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে বহে নীর॥
আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসারবাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ-রঘুনাথ বলি হইবে আকুতি।
কবে হাম বুঝব সে যুগল-পিরীতি॥
রূপ রঘুনাথ-পদে রহু মোর আশ।
প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গ বলিতে হবে পুলক শরীর।
হরি হরি বলিতে নয়নে ঝরে নীর॥
আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।
সংসারবাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে॥
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন॥
রূপ রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।
কবে হাম বুঝব যুগলপিরীতি॥
শ্রীরূপ রঘুনাথ পদে রহু আশ।
নরোত্তমদাস মনে এই অভিলাষ॥


.             ***********

.                                                             
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
হরি হরি আর কি এমন দশা হব। এ ঘোর
হরি হরি আর কি এমন দশা হব। এ ভব
হরি হরি আর কি এমন দশা হইবে। এভব
হরি হরি আর কি এমন দশা হৈব। এ ভব
প্রাণের হরি হরি কবে আর এমন দশা হব। এ ভব
কবি নরোত্তম / নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪৮২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরি রাগ নন্দনতালভ্যাং॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ঘোর সংসার তেজি পরম আনন্দে মজি কবে আর ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন কবে পাব দরশন গড়াগড়ি দিব কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হইয়া রাধাকৃষ্ণ নাম লইয়া কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা অষ্টাঙ্গ হঞা ডাকিব হা নাথ নাথ বলি।
কবে যমুনার তীর পরশ করিব নীর কবে খাব কর পুটে তুলি॥
শ্রীরাস মণ্ডলে যাব পরিক্রমা তাহে হব সে ধূলি মাখিব কবে গায়।
বংশী বট ছায়া পাইয়া পরমানন্দ হইয়া পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি দেখিব নয়ান ভরি রাধাকুণ্ডে কবে হব বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে এ দেহ পতন হবে আসা করে নরোত্তম দাস।

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব,
প্রার্থনা, ৩০৪৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস
সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৪৫-পদসংখ্যায় হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে
পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার তেজি                   পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজ-ভূমে যাব॥ ধ্রু॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাব দরশন
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া                      রাধাকৃষ্ণ-নাম লৈয়া
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ-রায়॥
নিভৃত-নিকুঞ্জে যাঞা                   অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া
ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে                       পরশ করিব নীরে
কবে খাব কর-পুটে তুলি॥
আর কি এমন হব                        শ্রীরাস-মণ্ডলে যাব
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশী-বট-ছায়া পাঞা                    পরম আনন্দ হৈয়া
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি                        দেখিব নয়ান ভরি
রাধা-কুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে                       এ দেহ-পতন হবে
আশা করে নরোত্তম দাস।

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪৩।২০-পদ-
সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-
পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার তেজি                  পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজ-ভূমে যাব॥ ধ্রু॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাব দরশন
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া                     রাধাকৃষ্ণ-গুণ গাঞা
কান্দিয়া বেড়াব উভ-রায়॥
নিভৃত-নিকুঞ্জে যাঞা                   অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া
কবে ডাকিব হা নাথ বলিয়া।
কবে যমুনার তীরে                      পরশ করিব নীরে
করপুটে খাইব তুলিয়া॥
হেন দশা কবে হবে                      শ্রীরাস-মণ্ডলে যাব
সে ধূলি মাখিব কবে গায়।
বংশী-বট-ছায়া পাঞা                    পরম আনন্দ হৈয়া
পড়িয়া থাকিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি                     দেখিব নয়ান ভরি
শ্রী-কুণ্ডে কবে করিব পরণাম।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে                    এ দেহ-পতন হবে
এই আশা করে নরোত্তম।

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ॥

প্রাণের হরি হরি কবে আর এমন দশা হব।
এ ভব সংসার তেজি                   পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাব দরশন
গড়াগড়ি দিব কবে তায়।
কবে বা এমন হব                       শ্রীরাসমণিডলী যাব
সে ধূলি মাখিব কবে গায়॥
ব্রজভূমে কুলি কুলি                   বাউল হঞা হাথ তুলি
কান্দিঞা বেড়াব উচ্চরায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা                    পরম আনন্দ হঞা
পড়িঞা রহিব কবে তায়॥
নিকুঞ্জে নিকুঞ্জে যাঞা,                   অষ্টাঙ্গ প্রণাম হঞা
ডাকিব নাথ নাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে                       পরশ করিব নীরে
কবে খাব করপুটে তুলি॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি                       দেখিব নয়ান ভরি
রাধাকুণ্ডে করিম প্রণাম।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে সব                        এ দেহ পতন হব
এই আশা করে নরোত্তম।


ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব। এ ভব সংসার ত্যজি, পরম আনন্দে মজি, আর কবে ব্রজ ভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন, কবে পাব দরশন, সে ধূলি লাগিবে কবে গায়। প্রেমে গদ গদ হৈয়া, রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥ নিভৃতনিকুঞ্জে যাঞা, অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া, ডাকিব হা রাধানাথ বলি। কবে
যমুনার তীরে, পরশ করিব নীরে, কবে খাব করপুটে তুলি॥ আর কি এমন হব, শ্রীরাস মণ্ডলে যাব, কবে
গড়াগড়ি দিব তায়। বংশী-বট-ছায়া পাঞা, পরম আনন্দ হৈয়া, পড়িয়া রহিব কবে তায়॥ কবে গোবর্দ্ধন
গিরি, দেখিব নয়ানভরি, রাধা-কুণ্ডে কবে হবে বাস। ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে, এ দেহ পতন হবে, আশা করে
নরোত্তমদাস।

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার ত্যজি,                পরম আনন্দে মজি,
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                        কবে পাব দরশন,
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদ গদ হৈয়া,                    রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা,                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া,
ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে,                     পরশ করিব নীরে,
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব,                     শ্রীরাস মণ্ডলে যাব,
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা,                   পরম আনন্দ হৈয়া,
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                     দেখিব নয়ান ভরি,
রাধাকুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                   এ দেহ পতন হবে,
আশা করে নরোত্তম দাস।

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার ত্যজি,                পরম আনন্দে মজি,
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                         কবে পাব দরশন,
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া,                    রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা,                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া,
ডাকিব হা রাধানাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে,                    পরশ করিব নীরে,
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব,                    শ্রীরাসমণ্ডলে যাব,
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা,                পরম আনন্দ হৈয়া,
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                   দেখিব নয়ান ভরি,
রাধা-কুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                 এ দেহ পতন হবে,
আশা করে নরোত্তম দাস।

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার ত্যজি,                পরম আনন্দে মজি,
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                         কবে পাব দরশন,
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদ গদ হৈয়া,                   রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা,                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া,
ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে,                    পরশ করিব নীরে,
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব,                    শ্রীরাস মণ্ডলে যাব,
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা,                   পরম আনন্দ হৈয়া,
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                    দেখিব নয়ান ভরি,
রাধাকুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                   এ দেহ পতন হবে,
আশা করে নরোত্তম দাস।

ই পদটি এই গ্রন্থেরই (১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস”) সংকলনের
১৩০-পৃষ্ঠায় কিছু পাঠান্তর সহ, ভণিতাহীন অবস্থায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হইবে।
এভব সংসার তেজি, আনন্দ-সাগরে মজি,
আর কবে ব্রজ ভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                           কবে পাব দরশন,
সে ধূলি মাখিব কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হইয়া,                     রাধাকৃষ্ণ গুণ গাইয়া,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাইয়া,                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া,
ডাকে হাহা শ্রীনাথ বলিয়া।
যাইয়া যমুনার তীরে পরাণ পাইব॥
কবে খাব সেই জল করেতে তুলিয়া॥
হেন দশা কবে হবে,                   শ্রীরাস মণ্ডলে যাবে,
সেই ধূলি লাগিবে কবে গায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা,                  পরম আনন্দ ধাইয়া,
পড়িয়া থাকিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                     দেখিব নয়ান ভরি,
শ্রীকৃষ্ণেরে করিব প্রণাম।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                    এ দেহ পতন হবে,
এই আশা করে এ অধম॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
২৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার ত্যজি,                পরম আনন্দে মজি,
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                         কবে পাব দরশন,
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া,                     রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা,                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া,
ডাকিব হা রাধানাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে,                     পরশ করিব নীরে,
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব,                      শ্রীরাসমণ্ডলে যাব,
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা,                  পরম আনন্দ হৈয়া,
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                     দেখিব নয়ন ভরি,
রাধা-কুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                    এ দেহ পতন হবে,
আশা করে নরোত্তম দাস।

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২০৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সাধক দেহোচিত শ্রীবৃন্দাবনবাস-লালসা।

হরি হরি! আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার ত্যজি,                    পরম আনন্দে মজি,
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                            কবে হবে দরশন,
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদ গদ হৈঞা,                     রাধাকৃষ্ণ নাম লৈঞা,
কান্দিয়া বেড়াব উভরায়॥
নিভৃতে নিকুঞ্জে যাঞা,                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈঞা,
ডাকিব হা রাধানাথ! বলি।
কবে যমুনার তীরে,                        পরশ করিব নীরে,
কবে পিব করপুটে তুলি॥
আর কবে এমন হব,                       শ্রীরাসমণ্ডলে যাব,
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা,                    পরম আনন্দ হৈঞা,
পড়িয়া রহিব তার ছায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                        দেখিব নয়ন ভরি,
কবে হবে রাধাকুণ্ডে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                       এ দেহ পতন হবে,
কহে দীন নরোত্তম দাস।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভবসংসার ত্যজি                   পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাব দরশন
সে ধূলি মাখিব কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া                     রাধাকৃষ্ণ গুণ লৈঞা
কাঁদিয়া বেড়াব উচ্চরায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা                   অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া
ডাকিব হা রাধানাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে                      পরশ করিব নীরে
কবে পীব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব                        শ্রীরাসমণ্ডলে যাব
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবটছায়া পাঞা                      পরম আনন্দ হঞা
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি                        দেখিব নয়ান ভরি
রাধাকুণ্ডতীরে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে                        এ দেহপতন হবে
আশা করে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ গান্ধার॥

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এভব সংসার তেজি                    পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥ ধ্রু॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাব দরশন
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া                     রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চরায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা                 অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া
ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে                      পরশ করিব নীরে
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব                        শ্রীরাসমণ্ডলে যাব
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা                    পরম আনন্দ হৈয়া
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধনগিরি                     দেখিব নয়ান ভরি
রাধাকুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে                    এ দেহ পতন হবে
আশা করে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন”, ১৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ভব সংসার তেজি                   পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥ ধ্রু॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাব দরশন
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া                     রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চরায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা                  অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া
ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে                     পরশ করিব নীরে
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব                      শ্রীরাসমণ্ডলে যাব
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট-ছায়া পাঞা                  পরম আনন্দ হৈয়া
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি                     দেখিব নয়ান ভরি
রাধাকুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে                    এ দেহ পতন হবে
আশা করে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৭১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এ ঘোর সংসার তেজি,                পরম আনন্দে মজি,
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন,                        কবে পাব দরশন,
গড়াগড়ি দিব কবে তায়।
প্রেমে গদগদ হয়্যা,                   রাধাকৃষ্ণ নাম লয়্যা,
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চ রায়॥
নিভৃতে নিকুঞ্জে যায়্যা,                 অষ্টাঙ্গ প্রণাম হয়্যা,
ডাকিব হা-নাথ হা-নাথ বলি।
কবে যমুনার তীর,                      পরশ করিব নীর,
কবে খাব করপুটে তুলি॥
শ্রীরাসমণ্ডলে যাব,                    পরিক্রমা তাহে হব,
সে ধূলি মাখিব কবে গায়।
বংশীবট ছায়া পায়্যা,                 পরম আনন্দ হয়্যা,
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি,                     দেখিব নয়ান ভরি,
রাধাকুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে,                   এ দেহ পতন হবে,
আশা করে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৮৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

হরি হরি আর কি এমন দশা হৈব।
এ ভব-সংসার তেজি                    পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজভূমে যাইব॥
সুখময় বৃন্দাবন                           কবে পাইব দরশন
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া,                      রাধাকৃষ্ণ-নাম লৈয়া,
কান্দিয়া বেড়াইব উচ্চ-রায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা                  অষ্টাঙ্গে প্রণাম হৈয়া
ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে                      পরশ করিব নীরে,
কবে খাইব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হৈব                      শ্রীরাস-মণ্ডলে যাইব
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট-ছায়া পাঞা                    পরম আনন্দ হঞা
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধন গিরি                     দেখিব নয়ান ভরি
রাধা-কুণ্ডে কবে হৈবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে                   এ দেহ-পতন হৈবে
আশা করে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৩০১-পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি আর কি এমন দশা হব।
এভব সংসার তেজি পরম আনন্দে মজি
আর কবে ব্রজভূমে যাব॥
সুখময় বৃন্দাবন কবে পাব দরশন
সে ধূলি লাগিবে কবে গায়।
প্রেমে গদগদ হৈয়া রাধাকৃষ্ণ নাম লৈয়া
কান্দিয়া বেড়াব উচ্চরায়॥
নিভৃত নিকুঞ্জে যাঞা অষ্টাঙ্গে প্রণাম
হৈয়া ডাকিব হা প্রাণনাথ বলি।
কবে যমুনার তীরে পরশ করিব নীরে
কবে খাব করপুটে তুলি॥
আর কি এমন হব শ্রীরাসমণ্ডলে যাব
কবে গড়াগড়ি দিব তায়।
বংশীবট ছায়া পাঞা পরম আনন্দ হৈয়া
পড়িয়া রহিব কবে তায়॥
কবে গোবর্দ্ধনগিরি দেখিব নয়ান ভরি
রাধাকুণ্ডে কবে হবে বাস।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে এ দেহ পতন হবে
আশা করে নরোত্তম দাস॥

***********

.                                                                                               
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
হে গোবিন্দ গোপীনাথ
গোবিন্দ গোপীনাথ কৃপা করি রাখ নিজপথে
গোবিন্দ গোপীনাথ কৃপা করি রাখ নিজপদে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০২৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

হে গোবিন্দ                                গোপীনাথ
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে        লৈয়া ফিরে নানাস্থানে
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস             করি নানা অভিলাষ
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে             কপট-বৈষ্ণব-বেশে
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে            লৈয়াছিলা ব্রজ-পুরে
কৃপা-ডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈব-মায়া-বলাত্কারে           খসাইয়া সেই ডোরে
ভব-কূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি             এ জনার কেশে ধরি
টানিয়া তোলহ ব্রজ-ভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল           নহে বোল ফুরাইল
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫২৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

হে গোবিন্দ                               গোপীনাথ
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে        লৈয়া ফিরে নানাস্থানে
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস            করি নানা অভিলাষ
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে            কপট-বৈষ্ণব-বেশে
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে           লৈয়াছিলা ব্রজ-পুরে
কৃপা-ডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈব-মায়া-বলাত্কারে         খসাইয়া সেই ডোরে
ভব-কূপে দিলেন ডারিয়া॥
পুন যদি কৃপা করি          এ জনার কেশে ধরি
টানিয়া তোলহ ব্রজ-ভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল         নহে বোল ফুরাইল
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হে গোবিন্দ, গোপীনাথ, কৃপা করি রাখ নিজ পথে। কাম ক্রোধ ছয় গুণে, লৈয়া ফিরে নানা স্থানে, বিষয়
ভুঞ্জায় নানা মতে॥ হইয়া মায়ার দাস, করি নানা অভিলাষ, তোমার স্মরণ গেল দূরে। অর্থ-লাভ এই আশে,
কপট-বৈষ্ণব-বেশে, ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥ অনেক দুঃখের পরে, লৈয়াছিলে ব্রজ-পুরে, কৃপা-ডোর গলায়
বান্ধিয়া। দৈব মায়া বলাত্কারে, খসাইয়া সেই ডোরে, ভব-কূপে দিলে ফেলাইয়া॥ পুন যদি কৃপা করি, এ
জনার কেশে ধরি, টানিয়া তোলহ ব্রজভূমে। তবে সে দেখিয়ে ভাল, নহে বোল ফুরাইল, কহে দীন দাস
নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবিন্দ গোপীনাথ কৃপা করি রাখ নিজপথে। কাম ক্রোধ ছয় জনে, লয়ে ফিরে নানাস্থানে, বিষয় ভুঞ্জায়
নানামতে॥ হইয়া মায়ার দাস, করি নানা অভিলাষ, তোমার স্মরণ গেল দূরে। অর্থলাভ এই আশে, কপট
বৈষ্ণববেশে, ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥ অনেক দুঃখের পরে, লয়েছিলে ব্রজপুরে, কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে, খসাইয়া সেই ডোরে, ভবকূপে দিলেক ডারিয়া॥ পুনঃ যদি কৃপা করি, এজনার কেশে
ধরি, টানিয়া তুলহ ব্রজভূমে। তবে সে দেখিয়ে ভাল, নহে বোল ফুরাইল, কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হে গোবিন্দ,                             গোপীনাথ,
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে,        লৈয়া ফিরে নানাস্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস,            করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে,            কপট বৈষ্ণব বেশে,
ভ্রমিয়া বলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,           লৈয়াছিলে ব্রজপুরে,
কৃপা ডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈব মায়া বলাত্কারে,          খসাইয়া সেই ডোরে,
ভব কূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি,             এ জনার কেশে ধরি,
টানিয়া তুলহ ব্রজভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,           নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হে গোবিন্দ,                                গোপীনাথ,
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে,          লৈয়া ফিরে নানাস্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস,              করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে,              কপট বৈষ্ণব বেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,              লৈয়াছিলে ব্রজপুরে,
কৃপা-ডোরে গলায় বান্ধিয়া।
দৈব মায়া বলাত্কারে,           খসাইয়া সেই ডোরে,
ভব-কূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি,              এ জনার কেশে ধরি,
টানিয়া তোলহ ব্রজ-ভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,            নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবিন্দ গোপীনাথ কৃপা করি রাখ নিজপথে।
কাম ক্রোধ ছয় জনে,             লয়ে ফিরে নানাস্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানামতে॥
হইয়া মায়ার দাস,                  করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে,                 কপট বৈষ্ণববেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,                লয়েছিলে ব্রজপুরে,
কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে,              খসাইয়া সেই ডোরে,
ভবকূপে দিলেক ডারিয়া॥
পুনঃ যদি কৃপা করি,               এজনার কেশে ধরি,
টানিয়া তুলহ ব্রজভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,              নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হে গোবিন্দ,                               গোপীনাথ,
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে,         লৈয়া ফিরে নানাস্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস,             করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে,             কপট বৈষ্ণব বেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,             লৈয়াছিলে ব্রজপুরে,
কৃপা ডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈব মায়া বলাত্কারে,          খসাইয়া সেই ডোরে,
ভব কূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি,             এ জনার কেশে ধরি,
টানিয়া তুলহ ব্রজভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,           নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হে গোবিন্দ,                                গোপীনাথ,
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে,         লৈয়া ফিরে নানাস্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস,             করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ লাভ এই আশে,             কপট বৈষ্ণব বেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,              লৈয়াছিলে ব্রজপুরে,
কৃপা-ডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে,            খসাইয়া সেই ডোরে,
ভব কূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি,              এ জনার কেশে ধরি,
টানিয়া তোলহ ব্রজ-ভূমে।
তবে সে দেখিয়া ভাল,            নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি শ্রীগৌড়ীয় মঠ থেকে, ভাদ্র ১৩৩৩ থেকে মাঘ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ সময়কালে (সেপ্টেম্বর ১৯২৬ -
ফেব্রুয়ারী ১৯২৬ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “গৌড়ায়” পত্রিকার ১৪শ সংখ্যা, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা-বিবৃতি

গোবিন্দ! গোপীনাথ! কৃপা করি রাখ নিজপদে।
কাম-ক্রোধ-ছয়-জনে,              লৈয়া ফিরে নানা স্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস,                   করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ-লাভ এই আশে,                   কপট বৈষ্ণববেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,                  লয়েছিলে ব্রজপুরে,
কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে,                খসাইয়া সেই ডোরে,
ভবকূপে দিলেক ফেলাইয়া॥
পুনঃ যদি কৃপা করি,                  এজনার কেশে ধরি,
টানিয়া তুলহ ব্রজধামে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,                নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ১৭৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।
দৈন্যবোধিকা।

গোবিন্দ! গোপীনাথ! কৃপা করি রাখ নিজ পদে।
কাম ক্রোধ ছয় জনে,               লৈয়া ফিরে নানা স্থানে,
বিষয় ভুঞ্জায় নানামতে॥
হইয়া মায়ার দাস,                     করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ লাভ এই আশে,                      কপট বৈষ্ণববেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে,                    লৈয়াছিলে ব্রজপুরে,
কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈব মায়া বলাত্কারে,                 খসাইয়া সেই ডোরে,
ভবকূপে দিলেক ডারিয়া॥
পুনঃ যদি কৃপা করি,                   এ জনার কেশে ধরি,
টানিয়া তুলহ ব্রজধামে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,                 নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”
শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হে গোবিন্দ গোপীনাথ কৃপাকরি রাখ নিজ পথে।
কামক্রোধ ছয় গুণে                  লৈয়া ফিরে নানা স্থানে
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস                       করি নানা অভিলাষ
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থলাভ এই আশে                      মর্কটবৈরাগ্য বেশে
ভ্রমিয়া বুলয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে                     লৈয়াছিলে ব্রজপুরে
কৃপাডোর গলায় বাঁধিয়া।
দৈব মায়া বলাত্কারে                  খসাইয়া সেই ডোরে
ভবকূপে দিল ফেলাইয়া॥
পুনঃ যদি কৃপা করি                     এ জনার কেশে ধরি
টানিয়া তোলহ ব্রজভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল                   নহে বোল ফুরাইল
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৫০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ তথা রাগ॥

হে গোবিন্দ                                গোপীনাথ
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে        লৈয়া ফিরে নানাস্থানে
বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস            করি নানা অভিলাষ
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থলাভ এই আশে             কপট বৈষ্ণব-বেশে
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে           লৈয়াছিলা ব্রজপুরে
কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে          খসাইয়া সেই ডোরে
ভবকূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি            এ জনার কেশে ধরি
টানিয়া তোলহ ব্রজ-ভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল           নহে বোল ফুরাইল
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা, ৬৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - ধড়াতাল॥

হে গোবিন্দ গোপীনাথ
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয়গুণে,              লৈয়া ফিরে নানাস্থানে,
বিষয় ভুঞ্জয় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস,                   করি নানা অভিলাষ,
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থ লাভ এই আশে,                 কপট বৈষ্ণব বেশে,
ভ্রমিয়া বুলিয়া ঘরে ঘরে॥
অনেক দুখের পরে,                  লৈয়াছিলে ব্রজপুরে,
কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈব মায়া বলাত্কারে,              খসাইয়া সেই ডোরে,
ভবকূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি,                 এ জনার কেশে ধরি,
টানিয়া তুলহ ব্রজভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল,              নহে বোল ফুরাইল,
কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৮৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।

হে গোবিন্দ গোপীনাথ
কৃপা করি রাখ নিজ সাথে।
কামক্রোধ ছয় জনে              লৈয়া ফিরে নানা স্থানে
বিষয় ভুঞ্জায় নানামতে॥ ধ্রু॥
হইয়া মায়ার দাস                   করি নানা অভিলাষ
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থলাভ এই আশে                  কপট বৈষ্ণব-বেশে
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে                 লৈয়াছিলা ব্রজপুরে
কৃপা ডোর গলায় বাঁধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে              খসাইয়া সেই ডোরে
ভবকূপে দিলেক ডারিয়া॥
পুন যদি কৃপা করি               এ জনার কেশে ধরি
টানিয়া তোলহ ব্রজভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল               নহে বোল ফুরাইল
কহে দীন নরোত্তমদাস॥ @

@ - এই পংক্তিটি ছন্দে মিলছে না।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৩০২-পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হে গোবিন্দ গোপীনাথ
কৃপা করি রাখ নিজ পথে।
কাম ক্রোধ ছয় গুণে লৈয়া ফিরে নানা
স্থানে বিষয় ভুঞ্জায় নানা মতে॥
হইয়া মায়ার দাস করি নানা অভিলাষ
তোমার স্মরণ গেল দূরে।
অর্থলাভ এই আশে কপট বৈষ্ণব বেশে
ভ্রমিয়া বুলিয়ে ঘরে ঘরে॥
অনেক দুঃখের পরে লৈয়াছিলা ব্রজপুরে
কৃপাডোর গলায় বান্ধিয়া।
দৈবমায়া বলাত্কারে খসাইয়া সেই ডোরে
ভবকূপে দিলে ফেলাইয়া॥
পুন যদি কৃপা করি এ জনার কেশে ধরি
টানিয়া তোলহ ব্রজ ভূমে।
তবে সে দেখিয়ে ভাল নহে বোল
ফুরাইল কহে দীন দাস নরোত্তমে॥

**********

.                                                                                               
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
সহচরগণ সঙ্গে বিবিধ বিনোদ রঙ্গে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, আষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, ২৮৫৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ মধ্যাহ্ন-লীলা
শ্রীগৌরচন্দ্রঃ
॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে                          বিবিধ-বিনোদ-রঙ্গে
বিহরই সুরধুনী-তীরে।
ক্ষেণে নাচে ক্ষেণে গায়                  প্রেম-ধারা বহি যায়
ক্ষেণে মালশাট মারি ফিরে॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
দেখি তরুগণ রঙ্গে                         প্রিয় গদাধর সঙ্গে
কৌতুকে করয়ে কত খেলা॥ ধ্রু॥
অঙ্গে পুলকের ঘটা                         কদম্ব-কুসুম-ছটা
সুদশন মুকুতার পাঁতি।
তাহে মন্দ মন্দ হাসি                    বরিখে অমিয়া শশী
সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥
সদা নিজ-প্রেমে মত্ত                        গায় কৃষ্ণ-লীলমৃত
মধুর-ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইলুঁ অন্ধ                       না ভজিলুঁ গৌরচন্দ্র,
কহে দীন নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে, বিবিধ-বিনোদরঙ্গে, বিহরই সুরধুনী তীরে। ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়, প্রেমধারা বহি যায়, ক্ষণে
মালশাট মারি ফিরে॥ অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা। দেখি তরুগণ সঙ্গে, প্রিয় গদাধর রঙ্গে, কৌতুকে করত
কত খেলা॥ অঙ্গে পুলকের ঘটা, কদম্ব কুসুম-ছটা, সুদশন মুকুতার পাঁতি। তাহে মন্দমন্দ হাসি, বরিখে
অমিয়া শশী, সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥ সদা নিজপ্রেমে মত্ত, গায় কৃষ্ণলীলমৃত, মধুর-ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইনু অন্ধ, না ভজিনু গৌরচন্দ্র, কহে দীন নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে,                  বিবিধ বিনোদ রঙ্গে,
বিহরই সুরধুনী তীরে।
ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়,           প্রেমে ধারা বহি যায়,
ক্ষণে মালসাট মারে ফিরে॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
দেখি তরুগণ সঙ্গে,                 প্রিয় গদাধর রঙ্গে,
কৌতুকে করত কত খেলা॥
অঙ্গে পুলকের ঘটা,                 কদম্ব-কুসুম-ছটা,
সুদশন মুকুতার পাঁতি।
তাহে মন্দ মন্দ হাসি,            বরিখে অমিয়া শশী,
সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥
সদা নিজ প্রেমে মত্ত,                গায় কৃষ্ণ লীলমৃত,
মধুর ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইনু অন্ধ,               না ভজিনু গৌরচন্দ্র,
কহে দীন নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে,                          বিবিধ-বিনোদরঙ্গে
বিহরই সুরধুনীতীরে।
ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়,                  প্রেম ধারা বহি যায়,
ক্ষণে মালশাট মারি ফিরে॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
দেখি তরুগণ সঙ্গে,                       প্রিয় গদাধর রঙ্গে,
কৌতুকে করত কত খেলা॥
অঙ্গে পুলকের ঘটা,                       কদম্ব কুসুম-ছটা,
সুদশন মুকুতার পাঁতি।@
তাহে মন্দ মন্দ হাসি,                    বরিখে অমিয়াশশী,
সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥
সদা নিজপ্রেমে মত্ত,                        গায় কৃষ্ণলীলমৃত,
মধুর-ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইনু অন্ধ,                       না ভজিনু গৌরচন্দ,
কহে দীন নরোত্তমদাস॥

@ - এই পংক্তিটি আমাদের সংগ্রহের গ্রন্থে দেখা যাচ্ছে না।
সম্ভবত স্ক্যান করবার সময় বাদ পড়ে গিয়েছে।

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে,                   বিবিধ বিনোদ রঙ্গে,
বিহরই সুরধুনী-তীরে।
ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়,            প্রেমে ধারা বহি যায়,
ক্ষণে মালসাট মারে ফিরে॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
দেখি তরুগণ সঙ্গে,                   প্রিয় গদাধর রঙ্গে,
কৌতুকে করয়ে কত খেলা॥
অঙ্গে পুলকের ঘটা,                   কদম্ব-কুসুম-ছটা,
সুদশন মুকুতার পাঁতি।
তাহে মন্দ মন্দ হাসি,             বরিখে অমিয়া শশী,
সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥
সদা নিজ প্রেমে মত্ত,                 গায় কৃষ্ণ লীলামৃত,
মধুর ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইনু অন্ধ,                  না ভজিনু গৌরচন্দ্র,
কহে দীন নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
২৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে,                   বিবিধ বিনোদরঙ্গে,
বিহরই সুরধুনী তীরে।
ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়,          প্রেম ধারা বহি যায়,
ক্ষণে মালসাট মারি ফিরে॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
দেখি তরুগণ সঙ্গে,                প্রিয় গদাধর রঙ্গে,
কৌতুক করত কত খেলা॥
অঙ্গে পুলকের ঘটা,                কদম্ব কুসুম ছটা,
সুদশন মুকুতার পাঁতি।
তাহে মন্দ মন্দ হাসি,             বরিখে অমিয়াশশী,
সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥
সদা নিজপ্রেমে মত্ত,                 গায় কৃষ্ণলীলামৃত,
মধুর-ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইনু অন্ধ,                না ভজিনু গৌরচন্দ,
কহে দীন নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

সহচরগণ সঙ্গে                   বিবিধ বিনোদ রঙ্গে
বিহরই সুরধুনীতীরে।
ক্ষণে নাচে ক্ষণে গায়          প্রেমে ধারা বহি যায়
ক্ষণে মালসাট মারি ফিরে॥ ধ্রু॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
দেখি তরুগণ সঙ্গে                 প্রিয় গদাধর রঙ্গে
কৌতুকে করয়ে কত খেলা॥
অঙ্গে পুলকের ঘটা                  কদম্ব কুসুম ছটা
সুদশন মুকুতার পাঁতি।
তাহে মন্দ মন্দ হাসি              বরখে অমিয়ারাশী
সৌরভে ভ্রমর ধায় মাতি॥
সদা নিজ প্রেমে মত্ত               গায় কৃষ্ণ লীলামৃত
মধুর ভকতগণ পাশ।
বিষয়ে হইলুঁ অন্ধ              না ভজিলাঙ্ গৌরচন্দ্র
কহে দীন নরোত্তম দাস॥

**********

.                                                                                               
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর