কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৬৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি             অঞ্জলি মস্তকে করি
এই জন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে               সেবন করিব রঙ্গে
তুয়া প্রিয় ললিতা-আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজ-সেবা        দয়া করি মোরে দিবা
করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে               অনঙ্গ খেলন রঙ্গে
ভঙ্গ-বেশ @@ইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজে              নিজ পদ-পঙ্কজে
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধিত চন্দন                      মণিময় অভরণ
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার             দাসী যেন হঙ তার
অনুক্ষণ থাকোঁ তার সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,            রতন-ভৃঙ্গারে ভরি
কর্পুর বাসিত গুয়া পান।
এ সব সাজাইয়া ডালা          লবঙ্গ মালতী-মালা
ভক্ষ দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে               এ সব আনি কবে
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়             এই যেন মোর হয়
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর। সম্ভবত “করাইতে” হবে।

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৬৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি             অঞ্জলি মস্তকে করি
এই জন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে                সেবন করিব রঙ্গে
তুয়া প্রিয় ললিতা-আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজ-সেবা         দয়া করি মোরে দিবা
করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে               অনঙ্গ খেলন রঙ্গে
রঙ্গ-বেশ @@ইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজে               নিজ পদ-পঙ্কজে
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধি চন্দন                        মণিময় অভরণ
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার              দাসী যেন হঙ তার
অনুক্ষণ থাকি তার সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,             রতন-ভৃঙ্গারে ভরি
কর্পুর বাসিত গুয়া পান।
এ সব সাজাইয়া ডালা            লবঙ্গ মালতী-মালা
ভক্ষ দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে                  এ সব আনি কবে
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়                এই যেন মোর হয়
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর। সম্ভবত “করাইতে” হবে।

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে। দশনেতে তৃণ ধরি, অঞ্জলি মস্তকে করি, এইজন নিবেদন করে॥ প্রিয়
সহচরী সঙ্গে, সেবন করিব রঙ্গে, অঙ্গে বেশ করিব সাধে। রাখ এই সেবা কাযে, নিজ পদপঙ্কজে, প্রিয়
সহচরীগণ মাঝে॥ সুগন্ধ চন্দন, মণিময় অভরণ, কৌষিক বসন নানা রঙ্গে। এই সব সেবা যার, দাসী
যেন হঙ তার, অনুক্ষণ থাকি তার সঙ্গে॥ জল সুবাসিত করি, রতন ভৃঙ্গারে ভরি, কর্পুরবাসিত গুয়াপান।
এসব সাজাইয়া ডালা, লবঙ্গ মালতীমালা, ভক্ষদ্রব্য নানা অনুপাম॥ সখার ইঙ্গিত হবে, এসব আনিব কবে,
যোগাইব ললিতার কাছে। নরোত্তমদাস কয়, এই যেন মোর হয়, দাঁড়াইয়া রহু সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি,            অঞ্জলি মস্তকে করি,
এই জন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                সেবন করিব রঙ্গে,
তুয়া প্রিয় ললিতা আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজ সেবা,         দয়া করি মোরে দিবা,
করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে,               অনঙ্গ খেলন রঙ্গে,
ভঙ্গ-বেশ করাইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজ,                 নিজ পদ পঙ্কজে,
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধি চন্দন,                         মণিময় আভরণ,
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার,               দাসী যেন হঙ তার,
অনুক্ষণ থাকোঁ তাঁর সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,              রতন ভৃঙ্গারে ভরি,
কর্পুর বাসিত গুয়া পান।
এ সব সাজাইয়া ডালা,             লবঙ্গ মালতী মালা,
ভক্ষ দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে,                   এ সব আনি কবে,
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়,                 এই যেন মোর হয়,
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি,           অঞ্জলি মস্তকে করি,
এইজন নিবেদন করে॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,              সেবন করিব রঙ্গে,
অঙ্গে বেশ করিব সাধে।
রাখ এই সেবা কাজে,              নিজ পদপঙ্কজে,
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধ চন্দন,                      মণিময় আভরণ,
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার,             দাসী যেন হঙ তার,
অনুক্ষণ থাকি তার সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,              রতন ভৃঙ্গারে ভরি,
কর্পুর বাসিত গুয়াপান।
এসব সাজাইয়া ডালা,            লবঙ্গ মালতী মালা,
ভক্ষ্যদ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখার ইঙ্গিত হবে,                এসব আনিব কবে,
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তমদাস কয়,                 এই যেন মোর হয়,
দাঁড়াইয়া রহ সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি,           অঞ্জলি মস্তকে করি,
এই জন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,               সেবন করিব রঙ্গে,
তুয়া প্রিয় ললিতা আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজ সেবা,       দয়া করি মোরে দিবা,
করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে,              অনঙ্গ খেলন রঙ্গে,
ভঙ্গ-বেশ করাইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজ,               নিজ পদ পঙ্কজে,
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধি চন্দন,                       মণিময় আভরণ,
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার,              দাসী যেন হঙ তার,
অনুক্ষণ থাকোঁ তাঁর সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,              রতন ভৃঙ্গারে ভরি,
কর্পুর বাসিত গুয়া পান।
এ সব সাজাইয়া ডালা,          লবঙ্গ মালতী মালা,
ভক্ষ দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে,                 এ সব আনি কবে,
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়,               এই যেন মোর হয়,
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি,             অঞ্জলি মস্তকে করি,
এই জন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                সেবন করিব রঙ্গে,
তুয়া প্রিয় ললিতা আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজ সেবা,         দয়া করি মোরে দিবা,
করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে,                 অনঙ্গ খেলন রঙ্গে,
ভঙ্গ-বেশ করাইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজ,                 নিজ পদ পঙ্কজে,
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধি চন্দন,                          মণিময় আভরণ,
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার,                দাসী যেন হঙ তার,
অনুক্ষণ থাকোঁ তাঁর সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,               রতন ভৃঙ্গারে ভরি,
কর্পুর বাসিত গুয়া পান।
এ সব সাজাইয়া ডালা,             লবঙ্গ মালতী মালা,
ভক্ষ দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে,                   এ সব আনি কবে,
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়,                 এই যেন মোর হয়,
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সিদ্ধদেহেন শ্রীবৃন্দাবনৈশ্বর্য্যাং সাক্ষাদ্বিগপ্তিঃ।

প্রাণেশ্বরি! এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি,                অঞ্জলি মস্তকে করি,
এই জন নিবেদন করে॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                  সেবন করিব রঙ্গে,
অঙ্গে বেশ করিবেক সাধে।
রাখ এই সেবা কাজে,                 নিজ পদ পঙ্কজে,
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধি চন্দন,                         মণিময় আভরণ,
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যাঁর,                দাসী যেন হঙ তাঁর,
অনুক্ষণ থাকি তাঁর সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি,              রতন ভৃঙ্গারে ভরি,
কর্পূরবাসিত গুয়া পান।
এ সব সাজাইয়া ডালা,           লবঙ্গ মালতী মালা,
ভক্ষদ্রব্য নানা অনুপম॥
সখীর ইঙ্গিত হইবে,              এ সব আনিয়া কবে,
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়,               এই যেন মোর হয়,
দাঁড়াইয়া রহু সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে। ধ্রু।
দশনেতে তৃণ ধরি            অঞ্জলি মস্তকে করি
এই জন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে              সেবন করিব রঙ্গে
অঙ্গবেশ করাইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজে               নিজ পদপঙ্কজে
প্রিয় সহচরীগণ সাজে॥
সুগন্ধি চুয়া চন্দন                 মণিময় আভরণ
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার             দাসী যেন হঙ তার
অনুক্ষণ থাকি তার সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি             রতন-ভৃঙ্গারে ভরি
কর্পুরবাসিত গুয়া পাণ।
এ সব সাজাঞা ডালা           লবঙ্গ মালতীমালা
ভক্ষ্যদ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে              এ সব আনিব কবে
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাস কয়             এই মেনে মোর হয়
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ তথা রাগ॥

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি             অঞ্জলি মস্তকে করি
এইজন নিবেদন করে॥ ধ্রু॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে              সেবন করিব রঙ্গে
তুয়া প্রিয় ললিতা আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজসেবা         দয়া করি মোরে দিবা
করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে               অনঙ্গ খেলন রঙ্গে
ভঙ্গ বেশ করাইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজে              নিজ পদ-পঙ্কজে
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধিত চন্দন                     মণিময় আভরণ
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার               দাসী যেন হঙ তার
অনুক্ষণ থাকি তার সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি              রতন ভৃঙ্গারে ভরি
কর্পূর বাসিত গুয়া পান।
এই সব সাজাইয়া ডালা         লবঙ্গ মালতী মালা
ভক্ষ্য দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে              এই সব আনিয়ে কবে
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয়                এই যেন মোর হয়
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৯৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রাণেশ্বরি এইবার করুণা কর মোরে।
দশনেতে তৃণ ধরি অঞ্জলি মস্তকে করি
এইজন নিবেদন করে॥
প্রিয় সহচরী সঙ্গে সেবন করিব রঙ্গে
তুয়া প্রিয় ললিতা আদেশে।
তুয়া প্রিয় নিজসেবা দয়া করি মোরে
দিবা করি যেন মনের হরিষে॥
প্রিয় গিরিধর সঙ্গে অনঙ্গ লেখন রঙ্গে
ভঙ্গ বেশ করাইতে সাজে।
রাখ এই সেবা কাজে নিজ পদ-পঙ্কজে
প্রিয় সহচরীগণ মাঝে॥
সুগন্ধিত চন্দন মণিময় আভরণ
কৌষিক বসন নানা রঙ্গে।
এই সব সেবা যার দাসী যেন হঙ তার
অনুক্ষণ থাকি তার সঙ্গে॥
জল সুবাসিত করি রতন ভৃঙ্গারে ভরি
কর্পূর বাসিত গুয়া পান।
এই সব সাজাইয়া ডালা লবঙ্গ মালতী
মালা ভক্ষ্য দ্রব্য নানা অনুপাম॥
সখীর ইঙ্গিত হবে এই সব আনিয়ে কবে
যোগাইব ললিতার কাছে।
নরোত্তম দাসে কয় এই যেন মোর হয়
দাঁড়াইয়া রহোঁ সখীর পাছে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুসুমিত বৃন্দাবনে নাচত শিখিগণে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৭৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

কুসুমিত বৃন্দাবনে                    নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে                  গাইয়া যাইবে রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জ-কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি               কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গ ভরি পুলক-অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাধ্যে                রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরুণি লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব                  বিথারিয়া আঁচড়িব
বনাইব বিচিত্র কবরী॥
মৃগমদ মলয়জ                       সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে                            তিলক বনাইব
হেরব মুখ-সুধাকর॥
নীল-পটাম্বর                            যতনে পরাইব
পায়ে দিব রতন-মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা                   চরণ ধোয়ায়ব
মাজব আপন চিকুরে॥
কুসুমক নব দলে                        শেজ বিছায়ব
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি                       মৃদু মৃদু বীজব
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক-সম্পুট করি                    কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর-সুধা-রসে                           তাম্বূল সুরসে
ভুঞ্জব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু                    লোকনাথ দীনবন্ধু
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                       প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৭৭-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥

কুসুমিত বৃন্দাবনে                  নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে                গাইয়া যাইব রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জ-কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি              কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গ ভরি পুলক-অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাধ্যে              রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরুণি লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব                 বিথারিয়া আঁচড়িব
বনাইব বিচিত্র কবরী॥
মৃগমদ মলয়জ                      সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে                         তিলক বনাইব
হেরব মুখ-সুধাকর॥
নীল-পটাম্বর                          যতনে পরাইব
পায়ে দিব রতন-মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা                চরণ ধোয়ায়ব
মাজব আপন চিকুরে॥
কুসুমক নব দলে                     শেজ বিছায়ব
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি                    মৃদু মৃদু বীজব
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক-সম্পুট করি                 কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর-সুধা-রসে                        তাম্বূল সুরসে
ভুঞ্জব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু                  লোকনাথ দীনবন্ধু
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                     প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুমিত বৃন্দাবনে, নাচত শিখিগণে, পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে। প্রিয় সহচরী সঙ্গে, গাইয়া যাইবে রঙ্গে, মনোহর
নিকুঞ্জ কুটীরে॥ হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে। দুহুঁক মন্থর গতি, কৌতুকে হেরব অতি, অঙ্গ ভরি
পুলক অন্তরে॥ চৌদিকে সখীর মাঝে, রাধিকার ইঙ্গিতে, চিরণী লইয়া করে করি। কুটিল কুন্তল সব,
বিথারিয়া আঁচরব, বনাইব বিচিত্র কবরী॥ মৃগমদ মলয়জ, সব অঙ্গে লেপব, পরাইব মনোহর হার। চন্দন
কুঙ্কুমে, তিলক বনাইব, হেরব মুখ সুধাকর॥ নীল পট্টাম্বর, যতনে পরাইব, পায়ে দিব রতনমঞ্জীরে। ভৃঙ্গারের
জলে রাঙ্গা, চরণ ধোয়াইব, মুছব আপন চিকুরে॥ কুসুম কমলদলে, শেজ বিছাইব, শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি, মৃদু মৃদু বীজব, ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥ কনক সম্পুট করি, কর্পূর তাম্বূল ভরি, যোগাইব
দোঁহার বদনে। অধর সুধারসে, তাম্বূল সুবাসে, ভোখব অধিক যতনে॥ শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,
লোকনাথ দীনবন্ধু, মুই দীনে কর অবধান। রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন, প্রিয় নর্ম্মসখীগণ, নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

কুসুমিত বৃন্দাবনে,                   নাচত শিখিগণে,
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                গাইয়া যাইবে রঙ্গে,
মনোহর নিকুঞ্জ কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি,              কৌতুকে হেরব অতি,
অঙ্গ ভরি পুলক অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাঝে,               রাধিকার ইঙ্গিতে,
চিরুণী লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব,                 বিথারিয়া আঁচড়িব,
বনাইব বিচিত্র কবরী ॥
মৃগমদ মলয়জ,                      সব অঙ্গে লেপব,
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে,                          তিলক বনাইব,
হেরব মুখ সুধাকর॥
নীল পটাম্বর,                           যতনে পরাইব,
পায়ে দিব রতন মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা,                 চরণ ধোয়াইব,
মাজব আপন চিকুরে॥
কুসুমক নব দলে,                      শেজ বিছাইব,
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি,                     মৃদু মৃদু বীজব,
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক সম্পুট করি,                  কর্পূর তাম্বুল ভরি,
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে,                         তাম্বূল সুরসে,
ভুঞ্জব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                  লোকনাথ দীনবন্ধু,
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনে,                   প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ,
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুমিত বৃন্দাবনে,                  নাচত শিখিগণে,
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                গাইয়া যাইবে রঙ্গে,
মনোহর নিকুঞ্জ কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি,              কৌতুকে হেরব অতি,
অঙ্গ ভরি পুলক অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাঝে,               রাধিকার ইঙ্গিতে,
চিরণী লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব,                 বিথারিয়া আঁচরব,
বনাইব বিচিত্র কবরী ॥
মৃগমদ মলয়জ,                      সব অঙ্গে লেপব,
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে,                          তিলক বনাইব,
হেরব মুখসুধাকর॥
নীল পট্টাম্বর,                           যতনে পরাইব,
পায়ে দিব রতনমঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা,                 চরণ ধোয়াইব,
মুছব আপন চিকুরে॥
কুসুম কমলদলে,                        শেজ বিছাইব,
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি,                      মৃদু মৃদু বীজব,
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক সম্পুট করি,                 কর্পূর তাম্বুল ভরি,
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে,                         তাম্বূল সুবাসে,
ভোখব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                   লোকনাথ দীনবন্ধু,
মুই দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন,                     প্রিয় নর্ম্মসখীগণ,
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

কুসুমিত বৃন্দাবনে,                   নাচত শিখিগণে,
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                 গাইয়া যাইবে রঙ্গে,
মনোহর নিকুঞ্জ কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি,                কৌতুকে হেরব অতি,
অঙ্গ ভরি পুলক অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাঝে,                রাধিকার ইঙ্গিতে,
চিরুণী লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব,                 বিথারিয়া আঁচড়িব,
বনাইব বিচিত্র কবরী ॥
মৃগমদ মলয়জ,                       সব অঙ্গে লেপব,
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে,                            তিলক বনাইব,
হেরব মুখ সুধাকর॥
নীল পটাম্বর,                               যতনে পরাইব,
পায়ে দিব রতন মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা,                    চরণ ধোয়াইব,
মাজব আপন চিকুরে॥
কুসুমক নব দলে,                         শেজ বিছাইব,
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি,                        মৃদু মৃদু বীজব,
ছরমিত দুহুক শরীরে॥
কনক সম্পুট করি,                     কর্পূর তাম্বুল ভরি,
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে,                            তাম্বূল সুরসে,
ভুঞ্জব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                    লোকনাথ দীনবন্ধু,
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনে,                     প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ,
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুমিত বৃন্দাবনে                  নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে               গাইয়া যাইবে রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জ কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি              কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গ ভরি পুলক অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাঝে              রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরুণী লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব                 বিথারিয়া আঁচরব
বনাইব বিচিত্র কবরী ॥
মৃগমদ মলয়জ                    সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে                         তিলক বনাইব
হেরব মুখসুধাকর॥
নীল পট্টাম্বর                         যতনে পরাইব
পায়ে দিব রতন মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা                 চরণ ধোয়াইব
মুছব আপন চিকুরে॥
কুসুম কমলদলে                         শেজ বিছাইব
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি                       মৃদু মৃদু বীজব
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক সম্পুট করি                   কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে                           তাম্বূল সুরসে
ভোখব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু                    লোকনাথ দীনবন্ধু
মুই দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                       প্রিয় নর্ম্মসখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সাভীষ্ট লালসা।

কুসুমিত বৃন্দাবনে,                   নাচত শিখিগণে,
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে,                গাইয়া যাইবে রঙ্গে,
মনোহর নিকুঞ্জ-কুটীরে॥
হরি হরি! মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি,              কৌতুকে হেরব অতি,
অঙ্গ ভরি পুলক অন্তরে॥
চৌদিকে সখীর মাঝে,               রাধিকার ইঙ্গিতে,
চিরুণী লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব,                 বিথারিয়া আঁচরব,
বনাইব বিচিত্র কবরী ॥
মৃগমদ মলয়জ,                      সব অঙ্গে লেপব,
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে,                         তিলক বসাইব,
হেরব মুখ সুধাকর॥
নীল পট্টাম্বর,                          যতনে পরাইব,
পায়ে দিব রতন মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা,                  চরণ ধোয়াইব,
মুছব আপন চিকুরে॥
কুসুম কমলদলে,                       শেয বিছাইব,
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি,                      মৃদু মৃদু বীজব,
ছরমিত দুঁহুক শরীরে॥
কনক সম্পূট করি,                 কর্পূর তাম্বূল ভরি,
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে,                         তাম্বূল সুবাসে,
ভোখব অধিত যতনে॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু,                    লোকনাথ দীনবন্ধু,
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনে,                    প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ,
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

কুসুমিত বৃন্দাবনে                   নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয়সহচরী সঙ্গে                গাইয়া যাইবে রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জ-কুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি             কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গ ভরি পুলক অন্তরে॥ ধ্রু॥
চৌদিকে সখীর মধ্যে               রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরুণী লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব               বিথারিয়া আচড়িব
বনাইব বিচিত্র কবরী॥
মৃগমদ মলয়জ                     সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে                         তিলক বনাইব
হেরব মুখ-সুধাকর॥
নীল পটাম্বর                          যতনে পরাইব
গায় দিব রতনমঞ্জীরে।
ধবল চামর                        আনিল মৃদু মৃদু
বীজন ছরমিত দুহুঁ শরীরে॥
শ্রীগুরু করুণাসিন্ধু                লোকনাথ দীনবন্ধু
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                   প্রিয় নর্ম্মসখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কেদার॥

কুসুমিত বৃন্দাবনে                    নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয়সহচরী সঙ্গে                  গাইয়া যাইব রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জকুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিব আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি              কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গে ভরি পুলক অঙ্কুরে॥ ধ্রু॥
চৌদিগো সখীর মধ্যে               রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরণি লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব                 বিথারিয়া আঁচড়িব
বনাইব বিচিত্র কবরী॥
মৃগমদ মলয়জ                      সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে                         তিলক বনাইব
হেরব মুখ-সুধাকর॥
নীল-পটাম্বর                          যতনে পরাইব
পায়ে দিব রতন মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা                 চরণ ধোয়ায়ব
মাজব আপন চিকুরে॥
কুসুমক নবদলে                       শেজ বিছায়ব
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি                  মৃদু মৃদু বিজায়ব
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক-সম্পুট করি                  কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে                          তাম্বূল সুরসে
ভুঞ্জব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণা সিন্ধু                 লোকনাথ দীনবন্ধু
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন                   প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৮৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুমিত বৃন্দাবনে নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয়সহচরী সঙ্গে গাইয়া যাইব রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জকুটীরে॥
হরি হরি মনোরথ ফলিব আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গে ভরি পুলক অঙ্কুরে॥
চৌদিগে সখীর মধ্যে রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরণি লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব বিথারিয়া আঁচড়িব
বনাইব বিচিত্র কবরী॥
মৃগমদ মলয়জ সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে তিলক বনাইব
হেরব মুখ সুধাকর॥
নীলপটাম্বর যতনে পরাইব
পায়ে দিব রতন মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা চরণ ধোয়ায়ব
মাজব আপন চিকুরে॥
কুসুমক নবদলে শেজ বিছায়ব
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি মৃদু মৃদু বিজায়ব
ছরমিত দুহুঁক শরীরে॥
কনক সম্পুট করি কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর সুধারসে তাম্বূল সুরসে
ভুঞ্জব অধিক যতনে॥
শ্রীগুরু করুণা সিন্ধু লোকনাথ দীনবন্ধু
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অরুণ কমল দলে শেজ বিছায়ব
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”,
একবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা পঞ্চমী, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

অরুণ-কমল-দলে                        শেজ বিছায়ব
বৈঠব কিশোর কিশোরী।
স্মের-মধুর মুখ-                        পঙ্কজ মনোহর
মরকত-শ্যাম হেম-গোরী॥
প্রাণেশ্বরী! কবে  মোর হবে শুভ-দিঠি।
আজ্ঞায় লইব কবে                  চম্পক কুসুম-বর
শুনব বচন আধ মিঠি॥ ধ্রু॥
মৃগমদ সিন্দূরে                        তিলক বনাওব
বিলেপন চন্দন-গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী-ফুল-                  মালা পহিরাওব
ভুলব মধুকর-বৃন্দে॥
ললিতা আমার করে                    দেোব বীজন
বীজব মারুত হাম মন্দে।
শ্রমজল সকল                      মেটব দুহুঁ-কলেবর
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তম-দাস-আশ                     দুহুঁ-পদ-পঙ্কজ-
সেবন-মাধুরী-রস-পানে।
হোয়ব হইবে দিন                 না হেরু কিছুই চিন
রাধাকৃষ্ণ নাম হউ মনে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৬৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অরুণ-কমল-দলে                     শেজ বিছায়ব
বৈসাব কিশোর কিশোরী।
অলকাবৃত মুখ-                       পঙ্কজ মনোহর
মরকত-শ্যাম হেম-গোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোর হবে কৃপা দিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে               চম্পক-কুসুম-বর
শুনব বচন আধ মিঠি॥ ধ্রু॥
মৃগ-মদ তিলক                      সুসিন্দুর বনায়ব
লেপব চন্দন-গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল                  হার পহিরাওব
ধাওব মধুকর-বৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে                    বীজন দেওব
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রম-জল সকল                    মিটব দুহুঁ-কলেবর
হেরব পরম-আনন্দে॥
নরোত্তম দাস                        আশ পদ-পঙ্কজ
সেবন মাধুরী-পানে।
হোয়ব হেন দিন                না দেখিয়ে কিছু চিন
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৬৫-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥

অরুণ-কমল-দলে                       শেজ বিছায়ব
বসাইব কিশোর কিশোরী।
অলকাবৃত মুখ-                       পঙ্কজ মনোহর
মরকত-শ্যাম হেম-গোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোর হবে কৃপা দিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে              চম্পক-কুসুম-বর
শুনব বচন আধ মিঠি॥ ধ্রু॥
মৃগ-মদ তিলক                     সুসিন্দুর বনায়ব
লেপব চন্দন-গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল                  হার পহিরাওব
ধাওব মধুকর-বৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে                    বীজন দেওব
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রম-জল সকল                    মিটব দুহুঁ-কলেবর
হেরব পরম-আনন্দে॥
নরোত্তম দাস                        আশ পদ-পঙ্কজ
সেবন মাধুরী-পানে।
হোয়ব হেন দিন               না দেখিয়ে কিছু চিন
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ কমল দলে, শেজ বিছাইব, বসাইব কিশোর কিশোরী। অলকা-আবৃত-মুখ-পঙ্কজ মনোহর, মরকত
শ্যাম হেমগোরী॥ প্রাণেশ্বরী কবে মোরে হবে কৃপাদিঠি। আজ্ঞায় আনিব কবে,        বিবিধ ফুলবর, শুনব
বচন দুহুঁ মিঠি॥ মৃগমদ তিলক, সুসিন্দূর বনায়ব, লেপব চন্দন গন্ধে। গাঁথি মালতী ফুল, হার পহিরাওব,
ধাওয়াব মধুকরবৃন্দে॥ ললিতা কবে মোরে, বীজন দেওব, বীজব মারুত মন্দে। শ্রমজল সকল, মিটব দুহুঁ
কলেবর, হেরব পরম আনন্দে॥ নরোত্তমদাস-আশ পদপঙ্কজ-সেবন মাধুর পানে। হোওব হেন দিন, না
দেখিয়ে কোন চিহ্ন, দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অরুণ কমল দলে,                    শেজ বিছায়ব,
বৈসাব কিশোর কিশোরী।
অলকা-আবৃত-মুখ,                   পঙ্কজ মনোহর,
মরকত-শ্যাম হেম-গোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোরে হবে কৃপাদিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে,                 চম্পক ফুলবর,
শুনব বচন আধ মিঠি॥
মৃগমদ তিলক,                        সুসিন্দুর বনায়ব,
লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল,                  হার পহিরাওব,
ধাওব মধুকর বৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে,                    বীজন দেওব,
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল,                    মিটব দুহুঁ কলেবর,
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তম দাস,                        আশ পদ পঙ্কজ
সেবন মাধুরী পানে।
হোয়বু হেন দিন,                 না দেখিয়ে কিছু চিন,
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ কমল দলে,                    শেজ বিছায়ব,
বৈসাইব কিশোর কিশোরী।
অলকা-আবৃত-মুখ-পঙ্কজ মনোহর॥
মরকত শ্যাম হেমগোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোরে হবে কৃপাদিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে,                বিবিধ ফুলবর,
শুনব বচন দুহুঁ মিঠি॥
মৃগমদ তিলক,                      সসিন্দূর বনায়ব,
লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথি মালতী ফুল,                  হার পহিরাওব,
ধাওয়াব মধুকরবৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে,                  বীজন দেওব,
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল,                  মিটব দুহুঁ কলেবর,
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তমদাস আশ পদপঙ্কজ-সেবন মাধুর পানে।
হেওব হেন দিন,             না দেখিয়ে কিছু চিহ্ন,
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অরুণ কমল দলে,                   শেজ বিছায়ব,
বৈসাব কিশোর কিশোরী।
অলকা-আবৃত-মুখ,                  পঙ্কজ মনোহর,
মরকত-শ্যাম হেম-গোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোরে হবে কৃপাদিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে,                চম্পক ফুলবর,
শুনব বচন আধ মিঠি॥
মৃগমদ তিলক,                     সুসিন্দুর বনায়ব,
লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল,                  হার পহিরাওব,
ধাওব মধুকর বৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে,                    বীজন দেওব,
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল,                    মিটব দুহুঁ কলেবর,
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তম দাস,                        আশ পদ পঙ্কজ
সেবন মাধুরী পানে।
হোয়বু হেন দিন,                না দেখিয়ে কিছু চিন,
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ কমল দলে,                     শেজ বিছাইব,
বসাইব কিশোর কিশোরী।
অলকা আবৃত-মুখ-পঙ্কজ মনোহর॥
মরকত-শ্যাম হেমগোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোরে হবে কৃপাদিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে,                বিবিধ ফুলবর,
শুনব বচন দুহুঁ মিঠি॥
মৃগমদ তিলক,                     সুসিন্দূর বনায়ব,
লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতীফুল,                  হার পহিরাওব,
ধাওয়াব মধুকরবৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে,                    বিজন দেওব,
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল,                    মিটব দুহুঁ কলেবর,
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তমদাস আশ পদ পঙ্কজ-সেবন মাধুর পানে।
হেওব হেন দিন                না দেখিয়ে কোন চিহ্ন
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনস্তথৈব বিজ্ঞপ্তিঃ।

অরুণ কমল দলে,                    শেষ বিছাইব,
বসাইব কিশোর কিশোরী।
অলকা-আবৃত-মুখ,                  পঙ্কজ মনোহর,
মরকত শ্যাম হেমগৌরী॥
প্রাণেশ্বরী! কবে  মোরে হবে কৃপাদিঠি।
আজ্ঞায় আনিয়া কবে,                বিবিধ ফুলবর,
শুনব বচন দুঁহু মিঠি॥
মৃগমদ তিলক,                        সিন্দুর বনায়ব,
লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথি মালতী ফুল,                  হার পহিরাওব,
ধাওয়াব মধুকরবৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে,                    বীজন দেওয়ব,
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল,                    মিটব দুহুঁ কলেবর,
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তম দাস,                        আশ পদপঙ্কজ,
সেবন মাধুরী পানে।
হোওয়ব হেন দিন,             না দেখিবে কোন চিন্,
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অরুণ কমলদলে                    শেজ বিছায়ব
বসাইব কিশোর কিশোরী।
অলকা-আবৃত মুখ                  পঙ্কজ মনোহর
মরকত শ্যাম হেম গৌরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে  মোরে হবে কৃপাদিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে                কুসুম ফুল্লবর
শুনব বচন আধ মিঠি॥ ধ্রু॥
মৃগমদ তিলক                        সুসিন্দুর বনায়ব
লেপন চন্দনগন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল                  হার পহিরায়ব
ধায়ব মধুকরবৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে                    বীজন দেওব
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল                    মিটব দুহুঁ কলেবর
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তমদাস                        আশ পদপঙ্কজ
সেবন মাধুরী পানে।
হোয়ব হেন দিন                না দেখিএ কিছু চিন
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কেদার॥

অরুণ কমলদলে                       শেজ বিছায়ব
বৈসাব কিশোর কিশোরী।
অলকাবৃত মুখ                          পঙ্কজ মনোহর
মরকতশ্যাম হেমগোরী॥
প্রাণেশ্বরী কবে মোরে হবে কৃপা দিঠি।
আজ্ঞায় আনিব কবে                চম্পক-কুসুম বর
শুনব বচন আধ মিঠি॥ ধ্রু॥
মৃগমদ তিলক                        সুসিন্দূর বনায়ব
লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল                    হার পহিরায়ব
ধাওব মধুকরবৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে                      বীজন দেওব
বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল                      মিটব দুহুঁ কলেবর
হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তম দাস                           আশ পদপঙ্কজ
সেবন মাধুরী পানে।
হোয়ব হেন দিন                 না দেখিয়ে কিছু চিন
দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৮৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরুণ কমলদলে শেজ বিছায়ব
.                        বৈসাব কিশোর কিশোরী।
অলকাবৃত মুখ পঙ্কজ মনোহর
.                        মরকতশ্যাম হেমগোরী॥
    প্রাণেশ্বরী কবে মোরে হবে কৃপা দিঠি।
   আজ্ঞায় আনিব কবে চম্পক কুসুম বর
.                        শুনব বচন আধ মিঠি॥
মৃগমদ তিলক সুসিন্দূর বনায়ব
.                        লেপব চন্দন গন্ধে।
গাঁথিয়া মালতী ফুল হার পহিরায়ব
.                        ধাওব মধুকরবৃন্দে॥
ললিতা কবে মোরে বীজন দেওব
.                        বীজব মারুত মন্দে।
শ্রমজল সকল মিটব দুহুঁ কলেবর
.                        হেরব পরম আনন্দে॥
নরোত্তম দাস আশ পদপঙ্কজ    
.                        সেবন মাধুরী পানে।
 হোয়ব হেন দিন না দেখিয়ে কিছু চিন
.                        দুহুঁ জন হেরব নয়ানে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীরূপমঞ্জরী পদ সেই মোর সম্পদ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৬৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

শ্রীরূপমঞ্জরী-পদ                   সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণ-ধন              সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রস-নিধি           সেই মোর বাঞ্ছা-সিদ্ধি
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই জপ            সেই মোর সিদ্ধি-যোগ
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি              সে পদ হইবে সিদ্ধি
নিরখিব এই দুই নয়নে।
সে রূপ-মাধুরী শশী              প্রাণ কুবলয়-রাশি
প্রফুল্লিত হবে নিশি দিনে॥
তুয়া অদর্শন-অহি                গরলে জারল দেহী
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা মোরে কর দয়া             দেহ তুয়া পদ-ছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৬০-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

শ্রীরূপমঞ্জরী-পদ                   সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণ-ধন             সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রস-নিধি           সেই মোর বাঞ্ছা-সিদ্ধি
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই জপ           সেই মোর সিদ্ধি-যোগ
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি              সে পদ হইবে সিদ্ধি
নিরখিব এই দুই নয়নে।
সে রূপ-মাধুরী শশী               প্রাণ কুবলয়-রাশি
প্রফুল্লিত হবে নিশি দিনে॥
তুয়া অদর্শন-অহি                গরলে জারল দেহী
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া             দেহ মোরে পদ-ছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪৩।৪৩-পদ-
সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-
পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

শ্রীরূপমঞ্জরী-পদ                   সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণ-ধন              সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রস-নিধি          সেই মোর বাঞ্ছা-সিদ্ধি
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই জপ           সেই মোর সিদ্ধি-যোগ
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি              সে পদ হইবে সিদ্ধি
নিরখিব এই দুই নয়নে।
সে রূপ-মাধুরী শশী               প্রাণ কুবলয়-রাশি
প্রফুল্লিত হবে নিশি দিনে॥
তুয়া অদর্শন-অহি                গরলে জারল দেহী
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া             দেহ মোরে পদ-ছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ, সেই মোর সম্পদ, সেই মোর ভজন পুজন। সেই মোর প্রাণ ধন, সেই মোর অভরণ, সেই
মোর জীবনের জীবন॥ সেই মোর রসনিধি, সেই মোর বাঞ্ছা সিদ্ধি, সেই মোর বেদের ধরম। সেই ব্রত সেই
তপ, সেই মোর মন্ত্র জপ, সেই মোর ধরম করম॥ অনুকূল হবে বিধি, সে পদে হইবে সিদ্ধি, নিরখিব এ দুই
নয়নে। সে রূপমাধুরীরাশি, প্রাণকুবলয় শশী, প্রফুল্লিত হবে নিশিদিনে॥ তুয়া অদর্শন অহি, গরলে জারল
দেহি, চিরদিন তাপিত জীবন। হাহা মোরে কর দয়া, দেহ মোরে পদছায়া, নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ,             সেই মোর সম্পদ,
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণধন,           সেই মোর আভরণ,
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি,        সেই মোর বাঞ্ছা সিদ্ধি,
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই জপ,        সেই মোর সিদ্ধি যোগ,
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি,           সে পদ হইবে সিদ্ধি,
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সেরূপ মাধুরী শশী,             প্রাণ কুবলয় রাশি,
প্রফুল্লিত হবে নিশিদিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি,             গরলে জারল দেহি,
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা মোরে কর দয়া,          দেয় তুয়া পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ,           সেই মোর সম্পদ,
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণ ধন,        সেই মোর আভরণ,
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি,       সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি,
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই তপ,        সেই মোর মন্ত্র জপ,
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি,         সে পদ হইবে সিদ্ধি,
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সেরূপ মাধুরীরাশি,            প্রাণকুবলয় শশী,
প্রফুল্লিত হবে নিশি দিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি,           গরলে জারল দেহি,
চিরদিন তাপিত জীবন।
হা হা প্রভু কর দয়া,       দেহ মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইলে শরণ॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ,              সেই মোর সম্পদ,
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণধন,            সেই মোর আভরণ,
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি,        সেই মোর বাঞ্ছা সিদ্ধি,
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই জপ,        সেই মোর সিদ্ধি যোগ,
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি,           সে পদ হইবে সিদ্ধি,
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সে রূপ-মাধুরী শশী,             প্রাণ কুবলয় রাশি,
প্রফুল্লিত হবে নিশিদিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি,             গরলে জারল দেহি,
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা মোরে কর দয়া,         দেয় তুয়া পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ              সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর ধন                সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি,        সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই তপ             সেই মোর মন্ত্র জপ
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি,           সে পদে হইবে সিদ্ধি
নিরখিব এই দুই নয়ানে।
সে রূপমাধুরীরাশী                প্রাণকুবলয় শশী
প্রফুল্লিত হবে নিশি দিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি             গরলে জারল দেহি
চিরদিন তাপিত জীবন।
হা হা প্রভু কর দয়া          দেহ মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি শ্রীগৌড়ীয় মঠ থেকে, ভাদ্র ১৩৩৩ থেকে মাঘ ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ সময়কালে (সেপ্টেম্বর ১৯২৬ -
ফেব্রুয়ারী ১৯২৬ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “গৌড়ায়” পত্রিকার ৩য় সংখ্যা, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরূপ-মঞ্জরী-পদ,             সেই মোর সম্পদ,
সেই মোর ভজন-পূজন।
সেই মোর প্রাণ-ধন,         সেই মোর আভরণ,
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি,        সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি,
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই তপ,        সেই মোর মন্ত্র জপ,
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি,        সে-পদে হইবে সিদ্ধি,
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সে রূপ-মাধুরীরাশী,             প্রাণ-কুবলয়-শশী
প্রফুল্লিত হবে নিশিদিনে॥
তুয়া-অদর্শন-অহি,             গরলে জারল দেহি,
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাঁ হা প্রভো কর দয়া,      দেহ মোরে পদ ছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

লালসা।

শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ,           সেই মোর সম্পদ,
সেই মোর ভজন পূজন।
সেই মোর প্রাণধন,        সেই মোর আভরণ,
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি,        সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি,
সেই মোর বেদের ধরম।
সেই ব্রত সেই তপ,        সেই মোর মন্ত্র জপ,
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি,       সেই পদে হইবে সিদ্ধি,
নিরখিব এ দুই নয়োনে।
সে রূপমাধুরী রাশি,            প্রাণকুবলয়শশী,
প্রফুল্লিত হবে নিশিদিনে॥
তুয়া অদর্শনে অহি,          গরলে জারল দেহি,
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা প্রভু! কর দয়া,        দেহ মোরে পদছায়া,
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শ্রীরূপমঞ্জরীপদ                                সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজন-পূজন।
সেই মোর প্রাণধন                        সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি                        সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি
সেই মোর দেবের ধরম।
সেই মোর ব্রত জপ                        সেই মোর যোগ তপ
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি                        সে পদে হইবে সিদ্ধি
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সেরূপ মাধুরী শশী                             প্রাণকুবলয়বাসী
প্রফুল্লিত হবে নিশিদিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি                           গরলে জারল দেহি
চিরদিন তাপিত জীবন।
আহা প্রভু কর দয়া                        দেহ মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ পাহিড়া॥

শ্রীরূপমঞ্জরীপদ                             সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজনপূজন।
সেই মোর প্রাণধন                        সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি                      সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি
সেই মোর দেবের ধরম।
সেই মোর ব্রত জপ                      সেই মোর যোগ তপ
সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি                       সে পদে হইবে সিধি
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সেরূপ মাধুরী শশী                        পরাণ কুমুদে হাসি
প্রফুল্ল করিবে নিশিদিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি                        গরলে জারল দেহী
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া                       দেহ মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৩০০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরূপমঞ্জরীপদ সেই মোর সম্পদ
সেই মোর ভজনপূজন।
সেই মোর প্রাণধন সেই মোর আভরণ
সেই মোর জীবনের জীবন॥
সেই মোর রসনিধি সেই মোর বাঞ্ছাসিদ্ধি
সেই মোর দেবের ধরম।
সেই মোর ব্রত জপ সেই মোর যোগ
তপ সেই মোর ধরম করম॥
অনুকূল হবে বিধি সে পদে হইবে সিধি
নিরখিব এ দুই নয়নে।
সেরূপ মাধুরী শশী পরাণ কুমুদে হাসি
প্রফুল্ল করিবে নিশিদিনে॥
তুয়া অদর্শন অহি গরলে জারল দেহী
চিরদিন তাপিত জীবন।
হাহা প্রভু কর দয়া দেহ মোরে পদছায়া
নরোত্তম লইল শরণ॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রথম জননী কোলে স্তনপান কুতূহলে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

প্রথম জননী কোলে,              স্তনপান কুতূহলে,
অজ্ঞান আছিনু মতিহীন।
তবে বালক সঙ্গে,        খেলাইতাঙ নানা রঙ্গে,
এমতি গোঙাইলাঙ কতদিন॥
দ্বিতীয় সময় কাল,              প্রকাশিত বিকার,
পাপ পূণ্য কিছুই না ভায়।
ভোগ বিলাস নারী,           এ সব কৌতুক করি,
তাহা দেখি হাসে যমরায়॥
তৃতীয় সময় কালে,             বন্ধন হাতে গলে,
পুত্র কলত্র গৃহ বাস।
আশা বাঢ়ে দিনে দিনে,       যোগ নাহি লয় মনে,
   তুয়া পদে না করিনু আশ॥
চারি কাল হৈল যদি,        হরিল আখের জ্যোতি,
শ্রবণে না শুনি অতিশয়।
নরোত্তম দাস কয়,        এইবার রাখ রাঙ্গা পায়,
ভক্তি দান দেহ মহাশয়॥
    
ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

প্রথম জননী কোলে,              স্তনপান কুতুহলে,
অজ্ঞান আছিনু মতিহীন।
তবে বালক সঙ্গে,        খেলাইতাঙ নানা রঙ্গে,
এমতি গোঙাইলাঙ কতদিন॥
দ্বিতীয় সময় কাল,              প্রকাশিত বিকার,
পাপ পূণ্য কিছুই না ভায়।
ভোগ বিলাস নারী,           এ সব কৌতুক করি,
তাহা দেখি হাসে যমরায়॥
তৃতীয় সময় কালে,               বন্ধন হাতে গলে,
পুত্র কলত্র গৃহ বাস।
আশা বাঢ়ে দিনে দিনে,        যোগ নাহি লয় মনে,
   তুয়া পদে না করিনু আশ॥
চারি কাল হৈল যদি,        হরিল আঁখের জ্যোতি,
শ্রবণে না শুনি অতিশয়।
নরোত্তম দাস কয়,        এইবার রাখ রাঙ্গা পায়,
ভক্তি দান দেহ মহাশয়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে “বলরাম দাসের ভণিতাতে” দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কড়খা ধানসি - ছুটা॥

প্রথম জননী কোলে,                 স্তনপান কুতূহলে,
অজ্ঞান আছিলুঁ মতিহীন।
তবে ত বালকসঙ্গে,                 খেলাইলুঁ নানারঙ্গে,
এমতি গোয়াইলুঁ কতদিন॥
দ্বিতীয় সময় কাল,                  বিকার ইন্দ্রিয় জাল,
পাপপুণ্য কিছুই না ভায়।
ভোগ বিলাস নারী,                এ সব কৌতুক করি,
তাহা দেখি হাসে যমরায়॥
তৃতীয় সময় কালে                  বন্ধন সে হাতে গলে
পুত্রে কলত্র গৃহবাস।
আশা বাড়ে দিনে দিনে              ত্যাগ নাহি হয় মনে
হরিপদ না করিলুঁ আশ॥
চারি হইল গেল যদি              হরিল আঁখির জ্যোতি
শ্রবণে না শুনি অতিশয়।
বলরাম দাসে কয়,                এইবার রাখ মহাশয়,
ভক্তিদান দেহ রাঙ্গাপায়॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল
আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৩৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

অরে ভাই বড়ই বিষম কলি-কাল।
গরলে কলস ভরি            তার মুখে দুগ্ধ পূরি
ঐছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে        সাধু-পথ নিন্দা করে
গুরু-দ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরু-পদে যার মতি        খাট করায় তার রতি
অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ          তাহা দোষে অবিরত
করে দুষ্ট-কথার সঞ্চার।
গঙ্গা-জল যেন নিন্দে         কূপ-জল যেন বন্দে
সেই পাপী অধম সভার॥
যার মন নিরমল              তারে করে টলমল
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ          মৃদু মতি করে অঙ্গ
তার মুণ্ডে পড়ু যম-দণ্ড॥
কাল-ক্রিয়া লেখা ছিল        এবে পরতেক ভেল
অধমের শ্রদ্ধা বাঢ়ে তায়।
নরোত্তম দাস কহে           এ জনার ভাল নহে
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৩৭-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

অরে ভাই বড়ই বিষম কলি-কাল।
গরলে কলস ভরি           তার মুখে দুগ্ধ পূরি
ঐছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে        সাধু-পথ নিন্দা করে
গুরু-দ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরু-পদে যার মতি        খাট করায় তার রতি
অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ           তাহা দোষে অবিরত
করে দুষ্ট-কথার সঞ্চার।
গঙ্গা-জল যেন নিন্দে           কূপ-জল যেন বন্দে
সেই পাপী অধম সভার॥
যার মন নিরমল                তারে করে টলমল
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ           মৃদু মতি করে অঙ্গ
তার মুণ্ডে পড়ু যম-দণ্ড॥
কাল-ক্রিয়া লেখা ছিল         এবে পরতেক ভেল
অধমের শ্রদ্ধা বাঢ়ে তায়।
নরোত্তম দাস কহে              এ জনার ভাল নহে
এরূপে বঞ্চিল বিধাতায়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলি-কাল। গরলে কলস ভরি, মুখে তার দুগ্ধ পুরি, তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে, সাধু পথ নিন্দা করে, গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ। গুরু-পদে যার মতি, খাট করায় তার
রতি, অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥ প্রাচীন প্রবীণ পথ, তাহা দোষে অবিরত, করে দুষ্ট-কথার সঞ্চার। গঙ্গা-জল
যেন নিন্দে, কূপ-জল যেন বন্দে, সেই পাপী অধম সবার॥ যার মন নিরমল, তারে করে টলমল, অবিশ্বাসী
ভকত পাষণ্ড। হেতু সে খলের সঙ্গ, মৃদু মতি করে অঙ্গ, তার মুণ্ডে পড়ে যেন দণ্ড॥ কাল-ক্রিয়া লেখা ছিল,
এবে পরতেক ভেল, অধমের শ্রদ্ধা বাঢ়ে তায়। নরোত্তমদাস কহে, এ জনার ভাল নহে, এরূপে বঞ্চিল বিহি
তায়॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি,            মুখে তার দুগ্ধ পুরি,
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে,          সাধু পথ নিন্দা করে,
গুরু দ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরু পদে যার মতি,        খাট করায় তার রতি,
অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ,           তাহা দোষে অবিরত,
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে,            কূপজল যেন বন্দে,
সেই পাপী অধম সবার॥
যার মন নিরমল,               তারে করে টলমল,
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ,           মৃদু মতি করে অঙ্গ,
তার মুণ্ডে পড়ে যেন দণ্ড॥
কাল ক্রিয়া লেখা ছিল,           এবে পরতেক গেল,
অধমের শ্রদ্ধা বাঢ়ে তায়।
নরোত্তম দাস কহে,              এ জনার ভাল নহে,
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি,             মুখে তায় দুগ্ধ পুরি,
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে,          সাধু পথ নিন্দা করে,
গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরু-পদে যার মতি,        খাট করায় তার রতি,
অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ,           তাহা দোষে অবিরত,
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে,           কূপ-জল যেন বন্দে,
সেই পাপী অধম সবার॥
যার মন নিরমল,               তারে করে টলমল,
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ,           মৃদু মতি করে অঙ্গ,
তারমুণ্ডে পড়ে যেন দণ্ড॥
কাল-ক্রিয়া লেখা ছিল,           এবে পরতেক গেল,
অধমের শ্রদ্ধা বাঢ়ে তায়।
নরোত্তম দাস কহে,              এ জনার ভাল নহে,
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি,            মুখে তার দুগ্ধ পুরি,
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে,          সাধু পথ নিন্দা করে,
গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরু পদে যার মতি,        খাট করায় তার রতি,
অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ,           তাহা দোষে অবিরত,
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে,             কূপজল যেন বন্দে,
সেই পাপী অধম সবার॥
যার মন নিরমল,                তারে করে টলমল,
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ,           মৃদু মতি করে অঙ্গ,
তার মুণ্ডে পড়ে যেন দণ্ড॥
কাল ক্রিয়া লেখা ছিল,           এবে পরতেক গেল,
অধমের শ্রদ্ধা বাঢ়ে তায়।
নরোত্তম দাস কহে,               এ জনার ভাল নহে,
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি,            মুখে তায় দুগ্ধ পুরি,
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে,         সাধু পথ নিন্দা করে,
গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরু-পদে যার মতি,        খাট করায় তার রতি,
অপরাধী নহে গুরু-নিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ,           তাহা দোষে অবিরত,
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে,           কূপজল যেন বন্দে,
সেই পাপী অধম সবার॥
যার মন নিরমল,              তারে করে টলমল,
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ,           মৃদু মতি করে অঙ্গ,
তার মুণ্ডে পড়ে যেন দণ্ড॥
কাল-ক্রিয়া লেখা ছিল,         এবে পরতেক ভেল,
অধমের শ্রদ্ধা বাড়ে তায়।
নরোত্তম দাস কহে,             এ জনার ভাল নহে,
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি            মুখে তার দুগ্ধ পুরি
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥ ধ্রু॥
ভকতের ভেক ধরে          সাধুপথ নিন্দা করে
গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরুপদে যার মতি        খাট করায় তার রতি
অপরাধী নহে গুরুনিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ          তাহে দোষে অবিরত
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে            কূপজল যেন বন্দে
সেই পাপী অধম সভার॥
যার মন নির্ম্মল                 তারে করে টলমল
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ           মৃদু মতি করে অঙ্গ
তার মুণ্ডে পড়ে যমদণ্ড॥
কালক্রিয়া লেখা ছিল           এবে পরতেক গেল
অধমের শ্রদ্ধা বাড়ে তায়।
নরোত্তমদাস কহে              এ জনার ভাল নহে
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি          মুখে তার দুগ্ধ পুরি
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥ ধ্রু॥
ভকতের ভেক ধরে         সাধুপথ নিন্দা করে
গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরুপদে যার মতি        ঝাট করায় তার রতি
অপরাধী নহে গুরুনিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ           তাহে দোষে অবিরত
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে           কূপজল যেন বন্দে
সেই পাপী অধম সভার॥
যার মন নির্ম্মল                 তারে করে টলমল
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ           মৃদু মতি করে ভঙ্গ
তার মুণ্ডে পড়ে যমদণ্ড॥
কালক্রিয়া লেখা ছিল           এবে পরতেক ভেল
অধমের শ্রদ্ধা বাড়ে তায়।
নরোত্তমদাস কহে             সে জনার ভাল নহে
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৮৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরে ভাই বড়ই বিষম কলিকাল।
গরলে কলস ভরি মুখে তার দুগ্ধ পুরি
তৈছে দেখ সকলি বিটাল॥
ভকতের ভেক ধরে সাধুপথ নিন্দা করে
গুরুদ্রোহী সে বড় পাপিষ্ঠ।
গুরুপদে যার মতি ঝাট করায় তার
রতি অপরাধী নহে গুরুনিষ্ঠ॥
প্রাচীন প্রবীণ পথ তাহে দোষে অবিরত
করে দুষ্ট কথার সঞ্চার।
গঙ্গাজল যেন নিন্দে কূপজল যেন বন্দে
সেই পাপী অধম সভার॥
যার মন নির্ম্মল তারে করে টলমল
অবিশ্বাসী ভকত পাষণ্ড।
হেতু সে খলের সঙ্গ মৃদু মতি করে ভঙ্গ
তার মুণ্ডে পড়ে যমদণ্ড॥
কালক্রিয়া লেখা ছিল এবে পরতেক ভেল
অধমের শ্রদ্ধা বাড়ে তায়।
নরোত্তমদাস কহে সে জনার ভাল নহে
এরূপে বঞ্চিল বিহি তায়॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঠাকুর বৈষ্ণবগণ করোঁ এই নিবেদন
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৯৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। "পদামৃত সমুদ্র" পুথিতে এই পদটি “
দাস লোচন”-এর ভণিতায়
রয়েছে। সেই রূপটি শেষে দেওয়া হয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ              করোঁ এই নিবেদন
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি         তাহে ডুবাওল বিধি
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান             না শুনে ধরম-জ্ঞান
সদাই করম-ফাঁসে বান্ধে।
না দেখোঁ তারণ-লেশ        যত দেখোঁ সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ         মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন           ফিরে যেন অন্ধ-জন
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইলুঁ সত-মত             অসতে মজিল চিত
তুয়া পায়ে না করিলুঁ আশ।
নরোত্তম দাস কয়          দেখ্যা শুন্যা লাগে ভয়
এই বার তরাইয়া লেহ পাশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৯৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ             করঙ এই নিবেদন
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি         তাহে ডুবাওল বিধি
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান             না শুনে ধরম-জ্ঞান
সদাই করম-ফাঁসে বান্ধে।
না দেখঙ তারণ-লেশ      যত দেখঙ সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ         মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন           ফিরে যেন অন্ধ-জন
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইলুঁ সত-মত            অসতে মজিল চিত
তুয়া পায়ে না করিলুঁ আশ।
নরোত্তম দাস কয়          দেখ্যা শুন্যা লাগে ভয়
এই বার তরাইয়া লেহ পাশ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪৩|১৯-পদ-সংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশ্রী॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ                      করোঁ এই নিবেদন
মো অতি অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি                 তাহে ডুবাওল বিধি
কেশে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান                      না শুনে ধরম-জ্ঞান
সদাই করম-ফাঁসে বান্ধে।
না দেখোঁ তারণ-লেশ                যত দেখোঁ সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে পড়ি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ                 মদ অভিমান যত
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার পাপিয়া মন                   ফিরে যেন অন্ধ-জন
সুপথ বিপথ করি মানে॥
নরোত্তম দাসে কয়                  দেখি শুনি লাগে ভয়
বিষম সংসারে মোর বাস।
না দেখি তারণ-পথ                    অসতে মজিল চিত
এ ভবে তকাঞা লহ পাশ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ, করি এই নিবেদন, মো বড় অধম দুরাচার। দারুণ-সংসার-নিধি, তাহে ডুবাইল বিধি, চুলে
ধরি মোরে কর পার॥ বিধি বড় বলবান্, না শুনে ধরম জ্ঞান, সদাই করমপাশে বান্ধে। না দেখি তারণ লেশ,
যত দেখি সব ক্লেশ, অনাথ কাতারে তেঞি কান্দে॥ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, অভিমান সহ, আপন
আপনা স্থানে টানে। আমার ঐছন মন, ফিরে যেন অন্ধজন, সুপথ বিপথ নাহি জানে॥ না লইনু সত মত,
অসতে মজিল চিত, তুয়া পায়ে না করিনু আশ। নরোত্তমদাসে কয়, দেখি শুনি লাগে ভয়, তরাইয়া লহ
নিজপাশ॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ,              করোঁ এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার-নিধি,          তাহে ডুবাইল বিধি,
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান,             না শুনে ধরম জ্ঞান,
সদাই করম ফাঁস বান্ধে।
না দেখোঁ তারণ লেশ,       যত দেখোঁ সব ক্লেশ,
অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ,       মদ, অভিমান সহ,
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন,             ফিরে যেন অন্ধজন,
পথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইনু সত-মত,             অসতে মজিল চিত,
তুয়া পায়ে না করিনু আশ।
নরোত্তম দাস কয়,           দেখে শুনে লাগে ভয়,
এইবার তরাইয়া লেহ পাশ॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ,             করোঁ এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার-নিধি,         তাহে ডুবাইল বিধি,
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান,            না শুনে ধরম জ্ঞান,
সদাই করম ফাঁস বান্ধে।
না দেখি তারণ লেশ,        যত দেখি সব ক্লেশ,
অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ,    মদ, অভিমান সহ,
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন,           ফিরে যেন অন্ধজন,
পথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইনু সত-মত,            অসতে মজিল চিত,
তুয়া পায়ে না করিনু আশ।
নরোত্তম দাস কয়,          দেখে শুনে লাগে ভয়,
এইবার তরাইয়া লেহ পাশ॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৈষ্ণবে বিজ্ঞপ্তিঃ।

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ!             করি এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ-সংসার-নিধি,         তাহে ডুবাইল বিধি,
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান্,            না শুনে ধরম জ্ঞান,
সদাই করমপাশে বান্ধে।
না দেখি তারণ লেশ,        যত দেখি সব ক্লেশ,
অনাথ, কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ,      মদ, অভিমান সহ,
আপন আপনা স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন,             ফিরে যেন অন্ধজন,
সুপথ বিপথ নাহি জানে॥
না লইনু সৎ মত,            অসতে মজিল চিত,
তুয়া পায়ে না করিনু আশ।
নরোত্তমদাসে কয়,          দেখি শুনি লাগে ভয়,
তরাইয়া লেহ নিজপাশ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ            করি এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসারনিধি         তাহে ডুবাইল বিধি
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান্            না শুনে ধরমজ্ঞান
সদাই করম ফাঁসে বাঁধে।
না দেখি তারণ লেশ        যত দেখি সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে তেঁই কাঁদে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ        মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন            কিয়ে যেন অন্ধজন
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইনু সত মত            অসতে মজিত চিত
তুয়া পায়ে না করিনু আশ।
নরোত্তমদাস কয়          দেখে শুনে লাগে ভয়
এইবার লেহ নিজ পাশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ তথারাগ॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ            করোঁ এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
এ সংসার জলনিধি         তাহে ডুবাওল বিধি
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান             না শুনে ধরমজ্ঞান
সদাই করমফাঁসে বান্ধে।
না দেখোঁ তারণলেশ        যত দেখ সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে তেঁঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ        মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন           ফিরে যেন অন্ধজন
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইলুঁ সতমত            অসতে মজিল চিত
তুয়া পায়ে না করিলুঁ আশ।
নরোত্তম দাস কয়        দেখ্যা শুন্যা লাগে ভয়
এইবার তরাইয়া লহ পাশ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা, ৭১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ি - মধ্যম একতালা॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ,                     করি এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি,                 তাহে ডুবাইল বিধি,
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান,                  না শুনে ধরম জ্ঞান,
সদাই করম-ফাঁসে বান্ধে।
না দেখি তারণ লেশ,                যত দেখি সব ক্লেশ,
অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ                মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন,                   ফিরে যেন অন্ধজন,
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইলুঁ সৎ মত,                    অসতে মজিল চিত,
তুয়া পায়ে না করিলুঁ আশ।
নরোত্তম দাসে কয়,                  দেখি শুনি লাগে ভয়,
তরাইয়া লহ নিজ পাশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৯২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ করোঁ এই নিবেদন,
মো বড় অধম দুরাচার।
এ সংসার জলনিধি তাহে ডুবাওল বিধি
চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান না শুনে ধরমজ্ঞান
সদাই করমফাঁসে বান্ধে।
না দেখোঁ তারণলেশ যত দেখ সব ক্লেশ
অনাথ কাতরে তেঁঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ অভিমান সহ
আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন ফিরে যেন অন্ধজন
সুপথ বিপথ নাহি মানে॥
না লইলুঁ সতমত অসতে মজিল চিত
তুয়া পায়ে না করিলুঁ আশ।
নরোত্তম দাস কয় দেখ্যা শুন্যা লাগে ভয়
এইবার তরাইয়া লহ পাশ॥

ই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪৯৪-পৃষ্ঠায়,
লোচন দাসের” ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা সম্ভব রাগতালাভ্যাং॥

ঠাকুর বৈষ্ণবগণ করোঁ এই নিবেদন মো বরি অধম দুরাচার।
দারুণ সংসার নিধি তাহে ডুবাইল বিধি চুলে ধরি মোরে কর পার॥
বিধি বড় বলবান্ না শুনে ধরম জ্ঞান সদাই করম ফাঁসে বান্দে।
না দেখোঁ তারণ লেশ যত দেখ সব ক্লেশ অনাথ কাতরে তেঞি কান্দে॥
কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ অভিমান যত আপন আপন স্থানে টানে।
আমার ঐছন মন ফিরে যেন অন্ধজন সুপথ বিপথ নাহি জানে॥
এ দাস লোচনে কয় দেখি শুনি লাগে ভয় বিষম সংসারে মোর বাস।
না দেখোঁ তারণ পথ অসতে মজিল চিত এ ভব তরাঞা নেহ পশ॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঠাকুর বৈষ্ণব পদ অবনীর সম্পদ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
৩০৯৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ঠাকুর-বৈষ্ণব-পদ                  অবনীর সম্পদ
শুন ভাই হৈয়া এক-মনে।
আশ্রয় হইয়া সেবে           সেই কৃষ্ণ-ভক্তি লভে
আর সভে মরে অকারণে॥
বৈষ্ণব-চরণ-জল            প্রেম-ভক্তি দিতে বল
আর কেহো নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণব-চরণ-রেণু               মস্তকে ভূষণ বিনু
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থ-জল পবিত্র গুণে            লিখিয়াছে পুরাণে
সেহ সব ভক্তির-প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক              সম নহে এই সব
যাতে ভক্তি বাঞ্ছিত-পূরণ॥
নরোত্তম দাস কয়                শুন শুন মহাশয়
বিষম সংসারে মোর বাস।
না দেখোঁ তারণ-পথ           অসতে মজিল চিত
এই বার তরাইয়া লেহ পাশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৯৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

ঠাকুর-বৈষ্ণব-পদ                  অবনীর সম্পদ
শুন ভাই হৈয়া এক-মনে।
আশ্রয় হইয়া সেবে           সেই কৃষ্ণ-ভক্তি লভে
আর সভে মরে অকারণে॥
বৈষ্ণব-চরণ-জল            প্রেম-ভক্তি দিতে বল
আর কেহো নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণব-চরণ-রেণু              ভূষণ করিয়া তনু
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থ-জল পবিত্র গুণে           লিখিয়াছে পুরাণে
সেহ সব ভক্তির-প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক              সম নহে সেই সব
যাতে ভক্তি বাঞ্ছিত-পূরণ॥
নরোত্তম দাস কয়                শুন শুন মহাশয়
বিষম সংসারে মোর বাস।
না দেখোঁ তারণ-পথ           অসতে মজিল চিত
এই বার তরাইয়া লেহ পাশ॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪৩|৩৫-পদ-সংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কামোদ॥

ঠাকুর-বৈষ্ণব-পদ                    অবনীর সম্পদ
শুন ভাই হৈয়া এক-মনে।
আশ্রয় হইয়া সেবে           তারে কৃষ্ণ-ভক্তি লভে
আর সব মন অকারণে॥
বৈষ্ণব-চরণ-জল                কৃষ্ণ-ভক্তি দিতে বল
আর কেহো নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণব-চরণ-রেণু                   ভূষণ করিয়া তনু
আর নাহি শ্রবণের অন্ত॥
তীর্থ-জল ত্রিভুবনে                লিখিয়াছেন পুরাণে
সেহ সব ভক্তির-প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক               সম নহে তীর্থোদক
যাতে ভক্তি বাঞ্ছিত-পূরণ॥
সেই পদরজ বিনে                নহে অন্য মোর মনে
সেই মোর বড় অভিলাষ।
যদি জন্ম হয় পুন                    সেই সঙ্গ হয় যেন
আশা করে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঠাকুর বৈষ্ণব পদ, অবনীর সম্পদ, শুন ভাই হঞা এক মন। আশ্রয় লইয়া সেবে, সেই কৃষ্ণ ভক্তি লভে, আর
সব মরে অকারণ॥ বৈষ্ণব চরণ-জল, প্রেমভক্তি দিতে বল, আর কেহ নহে বলবন্ত। বৈষ্ণব
চরণরেণু, মস্তকে ভূষণ বিনু, আর নাহি ভূষণের অন্ত॥ তীর্থজল পবিত্রগুণে, লিখিয়াছে পুরাণে, সে সব
ভক্তির প্রপঞ্চন। বৈষ্ণবের পাদোদক, সম নহে এই সব, যাতে হয় বাঞ্ছিত পূরণ @॥ বৈষ্ণব সঙ্গেতে মন,
আনন্দিত অনুক্ষণ, সদা হয় কৃষ্ণ পরসঙ্গ। দীন নরোত্তম কান্দে, হিয়া ধৈর্য্য নাহি বান্ধে, মোর দশা কেন হৈল
ভঙ্গ॥

@ - গ্রন্থে “বাঞ্ছিত রপূণ” মুদ্রিত রয়েছে। সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ।   

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণব পদ,                  অবনীর সম্পদ,
শুন ভাই হঞা এক মন।
আশ্রয় হইয়া সেবে,           সেই কৃষ্ণ-ভক্তি লভে,
আর সভে মরে অকারণ॥
বৈষ্ণব চরণ জল,               প্রেমভক্তি দিতে বল,
আর কেহ নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণব চরণ রেণু,                 মস্তকে ভূষণ বিনু,
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থ জল পবিত্র গুণে,              লিখিয়াছে পুরাণে,
সে সব ভক্তির প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক,                সম নহে এই সব,
যাতে ভক্তি বাঞ্ছিত পূরণ॥
বৈষ্ণব সঙ্গেতে মন,              আনন্দিত অনুক্ষণ,
সদা হয় কৃষ্ণ পরসঙ্গ।
দীন নরোত্তম কান্দে,        হিয়া ধৈর্য্য নাহি বান্ধে,
মোর দশা কেন হৈল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণব পদ,                  অবনীর সম্পদ,
শুন ভাই হঞা এক মন।
আশ্রয় হইয়া সেবে,           সেই কৃষ্ণ-ভক্তি লভে,
আর সভে মরে অকারণ॥
বৈষ্ণব চরণ জল,            প্রেমভক্তি দিতে বল,
আর কেহ নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণব চরণ রেণু,              মস্তকে ভূষণ বিনু,
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থ জল পবিত্র গুণে,          লিখিয়াছে পুরাণে,
সে সব ভক্তির প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক,              সম নহে এই সব,
যাতে ভক্তি বাঞ্ছিত পূরণ॥
নরোত্তমদাস কয়                শুন শুন মহাশয়
দারুণ সংসারে মোর বাস।
না দেখি তারণ পথ            অসতে মজিল চিত
তরাইয়া লহ নিজ পাশ॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৈষ্ণব-মহিমা।

ঠাকুর বৈষ্ণব পদ,                  অবনীর সম্পদ,
শুন ভাই! হঞা এক মন।
আশ্রয় হইয়া সেবে,           সেই কৃষ্ণ-ভক্তি লভে,
আর সভে মরে অকারণ॥
বৈষ্ণব চরণ জল,             প্রেমভক্তি দিতে বল,
আর কেহ নহে বলবন্ত।
বৈষ্ণব-চরণরেণু,               মস্তকে ভূষণ বিনু,
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থজল-পবিত্র-গুণে,            লিখিয়াছে পুরাণে,
সে সব ভক্তির প্রবঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক,              সম নহে এই সব,
যাতে হয় বাঞ্ছিত পূরণ॥
বৈষ্ণব সঙ্গেতে মন,            আনন্দিত অনুক্ষণ,
সদা হয় কৃষ্ণ পরসঙ্গ।
দীন নরোত্তম কান্দে,         হিয়া ধৈর্য্য নাহি বান্ধে,
মোর দশা কেন হৈল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণব পদ                  অবনীর সম্পদ
শুন ভাই হৈয়া এক মন।
আশ্রয় হইয়া সেবে           সেই কৃষ্ণভক্তি লভে
আর ভবে মরে অকারণ॥
বৈষ্ণবচরণজল                প্রেমভক্তি দিতে বল
আর কেহ নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণবচরণরেণু                  মস্তকে ভূষণ বিনু
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থজল পবিত্রগুণে              লিখিয়াছে পুরাণে
সেহ সব ভক্তি প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক              সম নহে এই সব
যাতে ভক্তবাঞ্ছিত পূরণ॥
বৈষ্ণব সঙ্গেতে মন,           আনন্দিত অনুক্ষণ,
সদা হয় কৃষ্ণ পরসঙ্গ।
দীন নরোত্তম কান্দে,        হিয়া ধৈর্য্য নাহি বান্ধে,
মোর দশা কেন হৈল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ সুহই॥

ঠাকুর বৈষ্ণবপদ                  অবনীর সম্পদ
শুন ভাই হৈয়া একমন।
আশ্রয় হইয়া সেবে           সেই কৃষ্ণভক্তি লভে
আর ভবে মরে অকারণ॥
বৈষ্ণবচরণজল               প্রেমভক্তি দিতে বল
আর কেহ নাই বলবন্ত।
বৈষ্ণবচরণরেণু                 মস্তকে ভূষণ বিনু
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থজল পবিত্রগুণে              লিখিয়াছে পুরাণে
সেই সব ভক্তি প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক              সম নহে সেই সব
যাতে ভক্তবাঞ্ছিত পূরণ॥
নরোত্তমদাস ভণ                    শুনহ বৈষ্ণবগণ
দারুণ সংসারে মোর বাস।
না দেখি তারণ পথ              অসতে মজিল চিত
তরাইয়া লহ নজ পাশ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা, ৭১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

ঠাকুর বৈষ্ণব পদ,                  অবনির সম্পদ,
শুন ভাই হৈয়া এক মনে।
আশ্রয় লইয়া সেবে,           সেই কৃষ্ণ-ভক্তি লভে,
আর সব মরে অকারণে॥
বৈষ্ণব চরণ-জল,            প্রেম-ভক্তি দিতে বল,
আর কেহ নাহি বলবন্ত।
বৈষ্ণব চরণ-রেণু,                মস্তকে ভূষণ বিনু,
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থ জল পবিত্রগুণে,             লিখিয়াছে পুরাণে,
সে সব ভক্তি-প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক,              সম নহে এই সব,
যাতে ভক্তি বাঞ্ছিত পূরণ।
নরোত্তম দাসে কয়,                শুন শুন মহাশয়
বিষম সংসারে মোর বাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৯৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঠাকুর বৈষ্ণবপদ অবনীর সম্পদ
শুন ভাই হৈয়া একমন।
আশ্রয় হইয়া সেবে সেই কৃষ্ণভক্তি লভে
আর ভবে মরে অকারণ॥
বৈষ্ণবচরণজল প্রেমভক্তি দিতে বল
আর কেহ নাই বলবন্ত।
বৈষ্ণবচরণরেণু মস্তকে ভূষণ বিনু
আর নাহি ভূষণের অন্ত॥
তীর্থজল পবিত্রগুণে লিখিয়াছে পুরাণে
সেই সব ভক্তি প্রপঞ্চন।
বৈষ্ণবের পাদোদক সম নহে সেই সব
যাতে ভক্তবাঞ্ছিত পূরণ॥
নরোত্তমদাস ভণ শুনহ বৈষ্ণবগণ
দারুণ সংসারে মোর বাস।
না দেখি তারণ পথ অসতে মজিল চিত
তরাইয়া লহ নজ পাশ॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা পঁহু না ভজিয়া মৈনু
কবি নরোত্তম দাস
পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গোরা পহুঁ না ভজিয়া মৈনু।
প্রেম রতন হেলায় হারাইনু॥
অধন যতন করি ধন তেয়াগিনু।
আপন করম দোষে আপনি ডুবিনু॥
সত্সঙ্গ ছাড়ি কৈনু অসৎ বিলাস।
তে কারণে লাগিল যে কর্ম্মবন্ধ ফাঁস॥
বিষয় বিযম-বিষ সতত খাইনু।
গৌরাঙ্গ-কীর্ত্তন রসে মগন নহিনু॥
কেন বা আছয় প্রাণ কি সুখ পাইয়া।
নরোত্তম দাস কেন না গেল মরিয়া॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
            
॥ শ্রীরাগ॥

গোরা পহুঁ না ভজিয়া মৈনু।
প্রেম রতন হেলায় হারাইনু॥
অধন যতন করি ধন তেয়াগিনু।
আপন করম দোষে আপনি ডুবিনু॥
সত্সঙ্গ ছাড়ি কৈনু অসৎ-বিলাস।
তে কারণে লাগিল যে কর্ম্মবন্ধ ফাঁস॥
বিষয়-বিযম-বিষ সতত খাইনু।
গৌরাঙ্গ-কীর্ত্তন রসে মগন নহিনু॥
কেন বা আছয় প্রাণ কি সুখ পাইয়া।
নরোত্তম দাস কেন না গেল মরিয়া॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি
সাধক-কণ্ঠহার”, ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপঃ।

গোরা পহুঁ না ভজিয়া মৈনু।
প্রেম-রতন-ধন হেলায় হারাইনু॥
অধনে যতন করি ধন তেয়াগিনু।
আপন করম দোষে আপনি ডুবিনু॥
সত্সঙ্গ ছাড়ি কৈনু অসতে বিলাস।
তে কারণে লাগিল যে কর্ম্মবন্ধ-ফাঁস॥
বিষয়-বিযম-বিষ সতত খাইনু।
গৌরাঙ্গকীর্ত্তন রসে মগন ন হৈনু॥
কেন বা আছয় প্রাণ কি সুখ পাইয়া।
নরোত্তম দাস কেন না গেল মরিয়া॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ
আরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গ চরণ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ। না ভজিয়া মৈনু দুখে, ডুবি গৃহ-বিষকূপে, দগ্ধ কৈল এ পাঁচপরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে, অহর্নিশি হিয়া জ্বলে, দেহ সদা হয় অচেতন। রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল, গোরাপদ পাশরিল,
বিমুখ হৈল হেন ধন॥ হেন গৌর দয়াময়, ছাড়ি সব লাজ ভয়, কায়মনে লহরে শরণ। পামর দুর্ম্মতি ছিল,
তারে গোরা উদ্ধারিল, তারা হইল পতিতপাবন॥ গোরা দ্বিজ নটরাজে, বান্ধহ হৃদয় মাঝে, কি করিব সংসার
শমন। নরোত্তমদাসে কহে, গৌরসম কেহ নহে, না ভজিতে দেয় প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গ চরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুখে,              ডুবি গৃহ-বিষকূপে,
দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে,              অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ সদা হয় অচেতন।
রিপু বশ ইন্দ্রিয় হৈল,             গোরা পদ পাশরিল,
বিমুখ হৈল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,               ছাড়ি সব লাজ ভয়,
কায়মনে লহরে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,          তারে গোরা উদ্ধারিল,
তাঁরা হইল পতিত পাবন॥
গোরা দ্বিজ নটরাজে,             বান্ধহ হৃদয় মাঝে,
কি করিবে সংসার শমন।
নরোত্তম দাসে কহে,           গৌর সম কেহ নহে,
না ভজিতে দেয় প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুখে,              ডুবি গৃহ-বিষকূপে,
দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে,              অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ সদা হয় অচেতন।
রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,           গোরা পদ পাশরিল,
বিমুখ হৈল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,             ছাড়ি সব লাজ ভয়,
কায়মনে লহরে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,          তারে গোরা উদ্ধারিল,
তাঁরা হইল পতিত পাবন॥
গোরা দ্বিজ নটরাজে,             বান্ধহ হৃদয় মাঝে,
কি করিব সংসার শমন।
নরোত্তমদাসে কহে,              গৌরসম কেহ নহে,
না ভজিতে দেয় প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

আরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গ চরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুখে,              ডুবি গৃহ-বিষকূপে,
দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে,               অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ সদা হয় অচেতন।
রিপু বশ ইন্দ্রিয় হৈল,           গোরা পদ পাশরিল,
বিমুখ হৈল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,              ছাড়ি সব লাজ ভয়,
কায়মনে লহরে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,            তারে গোরা উদ্ধারিল,
তাঁরা হইল পতিত পাবন॥
গোরা দ্বিজ নটরাজে,               বান্ধহ হৃদয়-মাঝে,
কি করিবে সংসার শমন।
নরোত্তম দাসে কহে,             গৌর সম কেহ নহে,
না ভজিতে দেয় প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অরে ভাই ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুখে,              ডুবি গৃহ-বিষকূপে,
দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে,              অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ সদা হয় অচেতন।
রিপু বশ ইন্দ্রিয় হৈল,            গোরাপদ পাশরিল,
বিমুখ হৈল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,                ছাড়ি সব লাজভয়,
কায়মনে লহরে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,             তারে গোরা উদ্ধারিল,
তাঁরা হৈল পতিত পাবন॥
গোরা দ্বিজ নটরাজে,                বান্ধহ হৃদয় মাঝে,
কি করিব সংসার শমন।
নরোত্তমদাসে কহে,               গৌরসম কেহ নহে,
না ভজিতে দেয় প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা।
মনঃশিক্ষা।

অরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গচরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুঃখে,              ডুবি গৃহ-বিষ-কূপে,
দগ্ধ হৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে,                 অহর্নিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ সদা হয় অচেতন।
রিপুবশ ইন্দ্রিয় হৈল,                গোরাপদ পাসারল,
বিমুখ হৈল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,                  ছাড়ি সব লাজভয়,
কায়মনে লহরে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,                তারে গোরা উদ্ধারিল,
তারা হৈল পতিতপাবন॥
গোরা দ্বিজ নটরাজে,                   বান্ধহ হৃদয় মাঝে,
কি করিবে সংসার শমন।
নরোত্তম দাসে কহে,                গোরা সম কেহ নহে,
না ভজিতে দেন প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মনঃশিক্ষা।

আরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ চরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুঃখে,           ডুবি গৃহ-বিষ-কূপে,
দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপত্রয় বিষানলে,           দিবানিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ সদা হয় অচেতন।
রিপু বশ ইন্দ্রিয় হৈল,           গোরা পদ পাসরিল,
বিমুখ হইল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,             ছাড়ি সব লাজ ভয়,
কায় মনে লহরে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,          তারে গোরা উদ্ধারিল,
তারা হৈল পতিত পাবন॥
গোরা দ্বিজ নটরাজে,             বান্ধহ হৃদয় মাঝে,
কি করিবে সংসার-সমন।
নরোত্তম দাসে কহে,           গৌর সম কেহ নহে,
না ভজিতে দেয় প্রেমধন॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা, ৭১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী - বড় দশকুশী॥

আরে ভাই! ভজ মোর গৌরাঙ্গ চরণ।
না ভজিয়া মৈনু দুখে              ডুবি গৃহ-বিষ কূপে,
দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ॥
তাপ-ত্রয় বিষানলে,           অহনিশি হিয়া জ্বলে,
দেহ হয় সদা অচেতন।
রিপু বশ ইন্দ্রিয় হৈল,           গোরাপদ পাশরিল,
বিমুখ হইল হেন ধন॥
হেন গৌর দয়াময়,             ছাড়ি সব লাজ ভয়,
কায় মনে লহ রে শরণ।
পামর দুর্ম্মতি ছিল,          তারে গোরা উদ্ধারিল,
তারা হইল পতিতপাবন॥
গোরা-দ্বিজ নট-রাজে,             বান্ধহ হৃদয় মাঝে,
কি করিবে সংসার শমন।
নরোত্তম দাসে কহে,           গৌর সম কেহ নহে,
না ভজিতে দেয় প্রেম-ধন॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর