কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার
জয় জয় গোসাঞি শ্রীচরণ সার
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড,
৪র্থ শাখা-২য় ভাগ,  ৩৪শ পল্লব,  নাম-সংকীর্ত্তন,  ২৯৫৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার।
যাহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু-বৈষ্ণব-পায়ে মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপালভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞির করি চরণ-বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ন-নাশ অভীষ্ট-পূরণ॥
জয় রস-নাগরী জয় নন্দলাল।
জয় জয় মোহন মদনগোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গসুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞি।
যাহার করুণা-বলে গোরা-গুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীনিবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌর-ভক্ত-বৃন্দ দয়া কর মোরে।
সভার চরণ-রেণু ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচল-চন্দ্র জগন্নাথ।
মো পাপীরে দয়া করি কর অত্ম-সাথ॥
জয় সাক্ষী-গোপাল দেব ভকত-বত্সল।
নব-ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞির লাগি যার নাম খির-চোর॥
জয় জয় মদনগোপাল বংশী-ধারী।
ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিমা ঠাম চরণ-মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দ মূর্ত্তি মনোহর।
কোটি-চন্দ্র জিনি যার বদন সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল-শ্যামল-অঙ্গ পীন-বক্ষঃ-স্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণ-ধাম।
জয় জয় গোকুল গোলক-আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণ-লীলা-স্থান।
শ্রীবন লোহ-ভদ্র ভাণ্ডীর-বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পান ব্রজ-বাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তাল-বন খদির-বহুলা।
জয় জয় কুমুদ-কাম্য বনে কৃষ্ণ-লীলা॥
জয় জয় মধু-বন মধু-পান-স্থান।
যাহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্প-মোহন॥
জয় জয় ললিতা-কুণ্ড জয় শ্যাম-কুণ্ড।
জয় জয় রাধা-কুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানস-গঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দান-ঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দ-ঘাট জয় অক্ষয়-বট।
জয় জয় চীর-ঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশী-ঘাট পরম মোহন।
জয় বংশী-বট রাধাকৃষ্ণ-মনোরম॥
জয় জয় রাস-ঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাস-লীলা কৈলা রোহিণী-নন্দন॥
জয় জয় বিমল-কুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণ-কেলি-পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট-ঘাট অভিমন্ব্যালয়।
সখী-সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধা-কৃষ্ণ-লীলা-স্থান॥
জয় জয় ব্রজ-পুর-শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপী মাঝ॥
জয় জয় রোহিণী-নন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রস-ধাম॥
জয় জয় রাধা-সখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম প্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥
জয় জয় বিশাখিকা চম্পক-লতিকা।
রঙ্গদেবী সুদেবী তুঙ্গবিদ্যা ইন্দু-লেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গমঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ-লীলা করান মায়া আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণ-প্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্ব-মনোরমা॥
জয় জয় রত্ন-মণ্ডপ রত্ন-সিংহাসন।
জয় জয় রাধা কৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ-সেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসত-সঙ্গ আলাপনে।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ-চন্দ্রে করহ ভজনে॥
এই সব লীলা-স্থান যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে শিরে ধরোঁ তাহার চরণ॥
শ্রীগুরু-বৈষ্ণব-পাদ-পদ্ম করি আশ।
নাম-সঙ্কীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় গুরু গোসাঞির শ্রীচরণ সার। যাহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন। শ্রীগুরু-বৈষ্ণব-পায়ে মজাইয়া মন॥ জয় রূপ সনাতন
ভট্ট রঘুনাথ। শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥ এই ছয় গোসাঞির করি চরণ বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট পূরণ॥ জয় রস নাগরী জয় নন্দলাল। জয় জয় মোহন
মদনগোপাল॥ জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গসুন্দর। জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥ জয়
জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞি। যাহার করুণা বলে গোরা গুণ গাই॥ জয় জয় শ্রীবাস জয়
গদাধর। জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥ জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ। জয় জয়
রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥ জয় গৌরভক্ত বৃন্দ দয়া কর মোরে। সবার চরণ ধূলি ধরি নিজ
শিরে॥ জয় জয় নীলাচল চন্দ্র জগন্নাথ। মো পাপীরে দয়া করি কর অত্মসাথ॥ জয় জয়
গোপাল দেব ভকত বত্সল। নব-ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥ জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ
মোর। পুরী গোসাঞির লাগি যার নাম ক্ষীর চোর॥ জয় জয় মদনগোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা ঠাম চরণ-মাধুরী॥ জয় জয় শ্রীগোবিন্দ মূর্ত্তি মনোহর। কোটিচন্দ্র জিনি যার
বদন সুন্দর॥ জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল। তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন-বক্ষঃস্থল॥ জয়
জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণ-ধাম। জয় জয় গোলক-আখ্যান॥ জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণ লীলা স্থান।
শ্রীবন লোহ-বন-ভাণ্ডীর-বন নাম॥ মহাবনে মহানন্দ পায় ব্রজবাসী। যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ
স্বরূপ প্রকাশি॥ জয় জয় তালবন খদির বহুলা। জয় জয় কুমুদ-কাম্যবনে কৃষ্ণ-লীলা॥ জয়
জয় মধু বন মধু-পান স্থান। যাহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥ জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন
। বেদের অগোচর স্থান কন্দর্প-মোহন॥ জয় জয় ললিতা-কুণ্ড জয় শ্যাম কুণ্ড। জয় জয়
রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥ জয় জয় মানসগঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন। জয় জয় দান-ঘাট লীলা
সর্ব্বোত্তম॥ জয় জয় নন্দ-ঘাট জয় অক্ষয় বট। জয় জয় চীর-ঘাট যমুনা নিকট॥ জয় জয়
কেশী-ঘাট পরম মোহন। জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ মনোরম॥ জয় জয় রাসঘাট পরম নির্জ্জন
। যাহাঁ রাসলীলা কৈলা রোহিণী-নন্দন॥ জয় জয় বিমল-কুণ্ড জয় নন্দীশ্বর। জয় জয় কৃষ্ণ-
কেলি-পাবন সরোবর॥ জয় জয় যাবটঘাট অভিমন্যালয়। সখী-সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়
॥ জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম। জয় জয় সঙ্কেত রাধা-কৃষ্ণ লীলাস্থান॥ জয় জয়
ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ। জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপী মাঝ॥ জয় জয় রোহিণী-নন্দন
বলরাম। জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রস ধাম॥ জয় জয় রাধাসখী ললিতা সুন্দরী। সখীর
পরম শ্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥ জয় জয় বিশাখিকা চম্পক-লতিকা। রঙ্গদেবী সুদেবী তুঙ্গবিদ্যা
ইন্দুরেখা॥ জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গমঞ্জরী। ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥ জয় জয়
পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া। রাধাকৃষ্ণ লীলা করান মায়া আচ্ছাদিয়া॥ জয় জয় বৃন্দা দেবী
কৃষ্ণ-প্রিয়তমা। জয় জয় বীরা সখী সর্ব্ব-মনোরমা॥ জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্ন সিংহাসন। জয়
জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥ শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা। ব্রজে রাধাকৃষ্ণ-সেবা
করহ ভাবনা॥ ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ-আলাপনে। ব্রজে রাধাকৃষ্ণচন্দ্রে করহ ভাবনে॥ এই
সব লীলাস্থানে যে করে স্মরণ। জন্মে জন্মে শিরে ধরো তাঁহার চরণ। শ্রীগুরু-বৈষ্ণব
পাদপদ্ম করি আশ। নাম সঙ্কীর্ত্তন কহে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে প্রকাশিত রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম
দাস” সংকলনের ১২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নামসংকীর্ত্তন
॥ গুর্জ্জরী॥
    
জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার।
যাঁহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পায়ে মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞির করি চরণ বন্দন।
যাঁহা হৈতে বিঘ্ন নাশ অভিষ্ট পূরণ॥
জয় রস নাগরী জয় নন্দলাল।
জয় জয় মোহন মদন গোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গ সুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞি।
যাঁহার করুণা বলে গোরা গুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌর ভক্তবৃন্দ দয়া কর মোরে।
সবার চরণ ধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচল-চন্দ্র জগন্নাথ।
মো পাপীরে দয়া করি কর অত্মসাথ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকত বত্সল।
নব-ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞির লাগি যার নাম ক্ষীর চোর॥
জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠাম চরণ-মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দ মূর্ত্তি মনোহর।
কোটিচন্দ্র জিনি যাঁর বদন সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরা মণ্ডল কৃষ্ণধাম।
জয় জয় গোকুল গোলক আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণলীলা স্থান।
শ্রীবন লোহভদ্র ভাণ্ডার বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পান ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির বহুলা।
জয় জয় কুমুদ-কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্পমোহন॥
জয় জয় ললিতাকুণ্ড জয় শ্যামকুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানস গঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দান ঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দঘাট জয় অক্ষয় বট।
জয় জয় চীরঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশীঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ মনোরম॥
জয় জয় রাসঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণী নন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণ-কেলি-পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট গ্রাম অভিমন্যালয়।
সখী-সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধাকৃষ্ণ লীলাস্থান॥
জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপী মাঝ॥
জয় জয় রোহিণীনন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রসধাম॥
জয় জয় রাধাসখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম প্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥
জয় জয় বিশাখা চম্পক-লতিকা।
রঙ্গদেবী সুদেবী তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গ মঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ লীলা করান মায়া আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণ প্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্বমনোরমা॥
জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্ন সিংহাসন।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ সেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ আলাপনে।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণচন্দ্রে করহ ভাবনে॥
এই সব লীলাস্থান যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে শিরে ধরোঁ তাঁহার চরণ।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পাদপদ্ম করি আশ।
নাম সঙ্কীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বন্দনা।

জয় জয় গোসাঞির শ্রীচরণ সার।
যাহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু-বৈষ্ণব-পায়ে মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপালভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞির করি চরণ-বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট পূরণ॥
জয় রস নাগরী জয় নন্দ লাল।
জয় জয় মোহন মদনগোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গসুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞি।
যাহার করুণা বলে গোরা গুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌরভক্ত বৃন্দ দয়া কর মোরে।
সভার চরণ ধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচল জয় জগন্নাথ।
মো পাপীরে দয়া করি কর অত্মসাথ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকতবত্সল।
নব-ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞির লাগি যার নাম ক্ষীর চোর॥
জয় জয় মদনগোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা ঠাম চরণ মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দ মূর্ত্তি মনোহর।
কোটী চন্দ্র জিনি যার বদন সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল-অঙ্গ পীন-বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণ-ধাম।
জয় জয় গোলক-আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণ লীলাস্থান।
শ্রীবন লৌহ-বন-ভাণ্ডীরবন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পান ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির-বহুলা।
জয় জয় কুমুদ-কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈল বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
বেদের অগোচর স্থান কন্দর্প-মোহন॥
জয় জয় ললিতা কুম্ভ জয় শ্যাম কুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানস গঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দান ঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দ-ঘাট জয় অক্ষয় বট।
জয় জয় চীর-ঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশী ঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ মনোরম॥
জয় জয় রাসঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণীনন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণ-কেলি-পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবটঘাট অভিমন্ব্যালয়।
সখী-সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধা-কৃষ্ণ লীলাস্থান॥
জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপী মাঝ॥
জয় জয় রোহিণীনন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রস-ধাম॥
জয় জয় রাধাসখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম প্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥
জয় জয় বিশাখিকা চম্পক-লতিকা।
রঙ্গদেবী সুদেবী তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গমঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ লীলা করান মায়া আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণ প্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্বমনোরমা॥
জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্ন সিংহাসন।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ সেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ আলাপনে।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণচন্দ্রে করহ ভাবনে॥
এই সব লীলাস্থানে যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে ফিরে ধরো তাঁহার চরণ॥
শ্রীগুরু-বৈষ্ণব পাদপদ্ম করি আশ।
নাম সঙ্কীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥
    
জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার।
যাঁহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মহানন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পায়ে মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞির করি চরণ বন্দন।
যাঁহা হৈতে বিঘ্ন নাশ অভিষ্ট পূরণ॥
জয় রস নাগরী জয় নন্দলাল।
জয় জয় মোহন মদন গোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গ সুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞি।
যাঁহার করুণা বলে গোরা গুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌর ভক্তবৃন্দ দয়া কর মোরে।
সবার চরণ ধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচল-চন্দ্র জগন্নাথ।
মো পাপীরে দয়া করি কর অত্মসাথ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকত-বত্সল।
নব-ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞির লাগি যার নাম ক্ষীরচোর॥
জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠাম চরণ-মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দ মূর্ত্তি মনোহর।
কোটিচন্দ্র জিনি যাঁর বদন সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরা মণ্ডল কৃষ্ণধাম।
জয় জয় গোকুল গোলক আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণলীলা স্থান।
শ্রীবন লোহভদ্র ভাণ্ডার বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পান ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির বহুলা।
জয় জয় কুমুদ-কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্পমোহন॥
জয় জয় ললিতাকুণ্ড জয় শ্যামকুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানস গঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দান ঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দঘাট জয় অক্ষয় বট।
জয় জয় চীরঘাট যমুনা-নিকট॥
জয় জয় কেশীঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ মনোরম॥
জয় জয় রাসঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণী-নন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণ-কেলি-পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট গ্রাম অভিমন্যালয়।
সখী-সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধাকৃষ্ণ লীলাস্থান॥
জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপীমাঝ॥
জয় জয় রোহিণীনন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রসধাম॥
জয় জয় রাধাসখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম প্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥
জয় জয় বিশাখা চম্পক-লতিকা।
রঙ্গদেবী সুদেবী তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গ-মঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যাঁর অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ লীলা করান মায়া আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণ-প্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্বমনোরমা॥
জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্ন সিংহাসন।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ সেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ আলাপনে।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণচন্দ্রে করহ ভাবনে॥
এই সব লীলাস্থান যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে শিরে ধরি তাঁহার চরণ।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পাদপদ্ম করি আশ।
নাম সঙ্কীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥
    
জয় জয় গুরু গোসাঞির শ্রীচরণ সার।
যাহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব-পায়ে মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞির করি চরণ-বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভিষ্ট পূরণ॥
জয় রস নাগরী জয় নন্দ লাল।
জয় জয় মোহন মদনগোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গ সুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞি।
যাহার করুণা বলে গোরা গুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌরভক্তবৃন্দ দয়া কর মোরে।
সবার চরণধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচল জয় জগন্নাথ।
মো পাপীরে দয়া করি কর অত্মসাথ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকতবত্সল।
নব-ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞি লাগি যার নাম ক্ষীরচোর॥
জয় জয় মদনগোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠাম চরণ-মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দ মূর্ত্তি মনোহর।
কোটী চন্দ্র জিনি যার বদন সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণ-ধাম।
জয় জয় গোলক-আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণ লীলাস্থান।
শ্রীবন লৌহ-বন-ভাণ্ডীর বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পায় ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির-বহুলা।
জয় জয় কুমুদ-কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈল বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
বেদের অগোচর স্থান কন্দর্প-মোহন॥
জয় জয় ললিতা কুম্ভ জয় শ্যাম কুণ্ড।
জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানস গঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দান ঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দ-ঘাট জয় অক্ষয় বট।
জয় জয় চীর ঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশী ঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ বিনোদন॥
জয় জয় রাসঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণীনন্দন॥
জয় জয় বিমল-কুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণ কেলি-পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবটঘাট অভিমন্বালয়।
সখী-সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধা কৃষ্ণ লীলাস্থান॥
জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপী মাঝ॥
জয় জয় রোহিণীনন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রসধাম॥
জয় জয় রাধাসখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম শ্রেষ্ঠ রসের মাধুরী॥
জয় জয় বিশাখিকা চম্পক-লতিকা।
রঙ্গদেবী সুদেবী তুঙ্গবিদ্যা ইন্দুরেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গমঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ লীলা করান মায়া আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণ প্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্বমনোরমা॥
জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্ন সিংহাসন।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ সেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ আলাপন।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণচন্দ্রে করহ ভাবন॥
এই সব লীলাস্থানে যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে ফিরে ধরো তাঁহার চরণ।
শ্রীগুরু-বৈষ্ণব পাদপদ্ম করি আশ।
নাম সঙ্কীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি তিনটি ভাগে আলাদা আলাদা পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।
আমরা পদের পরবর্তী দুটি ভাগ এখানে দেবার সাথে সাথে দুটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলে
দিয়েছি।

॥ গুর্জ্জরী॥
    
জয় জয় গুরু গোসাঞী-শ্রীচরণ সার।
যাঁহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পায় মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞীর করুম চরণ বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্টপূরণ॥
জয় রসনাগরী জয় নন্দলাল।
জয় জয় মদনমোহন শ্রীগোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গসুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞী।
যাহার করুণাবলে গোরাগুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌর-ভক্তবৃন্দ দয়া কর মোরে।
সবার চরণধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচলচন্দ্র জগন্নাথ।
মো পাপীরে দয়া করি কর অত্মসাথ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকতবত্সল।
নব ঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞির লাগি যার নাম ক্ষীরচোর@॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণব-পাদপদ্ম করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তমদাস॥

@ - পাদটীকা -
রেমুণায় গোপীনাথ পরম মোহন। ভক্তি করি কৈল প্রভু তার দরশন॥ মহাপ্রসাদ
ক্ষীর লোভে রহিলা প্রভু তথা। পূর্ব্বে ঈশ্বরপুরী তাহে কহিয়াছেন কথা॥ ক্ষীরচোরা
গোপীনাথ প্রসিদ্ধ তার নাম। ভক্তগণে কহে প্রভু সেইত আখ্যান॥ পূর্ব্বে মধবপুরী লাগি  
ক্ষীর কৈলা  চুরি। অতএব নাম হৈল ক্ষীরচোরা করি॥ চৈ, চ, মধ্যখণ্ড ৪র্থ পরিচ্ছেদ।
---জগবন্ধু ভদ্র, মৃণালকান্তি ঘোষ, গৌরপদতরঙ্গিণী॥

ই স্থান থেকে পদটি দ্বিতীয় স্বতন্ত্র পদ হিসেবে গৌরপদতরঙ্গিণীতে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠাম চরণমাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দমূর্ত্তি মনোহর।
কোটি চন্দ্র জিনি যার বরণ সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণধাম।
জয় জয় গোকুল যার গোলক আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশবন কৃষ্ণলীলাস্থান।
শ্রীবন, লৌহ, ভদ্র, ভাণ্ডীর বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পায় ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির বহুলা।
জয় জয় কুমুদ কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠু শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্পমোহন॥
জয় জয় ললিতাকুণ্ড জয় শ্যামকুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানসগঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দানঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দঘাট জয় অক্ষয়বট।
জয় জয় চীরঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশীঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ মনোরম॥
জয় জয় রামঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণীনন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণকেলি পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট গ্রাম অভিমন্যালয়।
সখী সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধাকৃষ্ণ-লীলাস্থান॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তমদাস॥


ই স্থান থেকে পদটি তৃতীয় স্বতন্ত্র পদ হিসেবে গৌরপদতরঙ্গিণীতে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপীমাঝ॥
জয় জয় রোহিণীনন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রসধাম॥
জয় জয় রাধা সখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম প্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীবিশাখা চম্পকলতিকা।
রঙ্গদেবী, সুদেবী, তুঙ্গবিদ্যা, ইন্দুরেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গমঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ লীলা করান যিনি আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণপ্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্বমনোরমা॥
জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্নসিংহাসন।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণসেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ আলাপনে।
ব্রজে রাধা কৃষ্ণচন্দ্র করহ ভাবনে॥
এই সব লীলাস্থান যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে শিরে ধরুঁ তাঁহার চরণ।
শ্রীগুরু বৈষ্ণবপাদপদ্ম করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নাম সংকীর্ত্তন
॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার।
যাহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পায় মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞীর করু চরণ বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভিষ্টপূরণ॥
জয় রসনাগরী জয় নন্দলাল।
জয় জয় মদনমোহন শ্রীগোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গসুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞী।
যাহার করুণাবলে গোরাগুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌরভক্তবৃন্দ দয়া কর মোরে।
সবার চরণধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচলচন্দ্র জগন্নাথ।
মো পাপীয়ে দয়া করি কর অত্মসাৎ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকতবত্সল।
নবঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞীর লাগি যার নাম ক্ষীরচোর॥
জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা ঠাম চরণমাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দমূর্ত্তি মনোহর।
কোটি চন্দ্র জিনি যার বরণ সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণধাম।
জয় জয় গোকুল যার গোলক আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণলীলাস্থান।
শ্রীবন লৌহ ভদ্র ভাণ্ডীর বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পায় ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির বহুলা।
জয় জয় কুমুদ কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্পমোহন॥
জয় জয় ললিতাকুণ্ড জয় শ্যামকুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানসগঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দানঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দঘাট জয় অক্ষয়বট।
জয় জয় চীরঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশীঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণমনোরম॥
জয় জয় রামঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণীনন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণকেলি পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট গ্রাম অভি@@@@য়।
সখী সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধাকৃষ্ণ-লীলাস্থান॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার।
যাহা হৈতে হব পার এ ভব সংসার॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পায় মজাইয়া মন॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞীর করু চরণ বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভিষ্টপূরণ॥
জয় রসনাগরী জয় নন্দলাল।
জয় জয় মদনমোহন শ্রীগোপাল॥
জয় জয় শচীসুত গৌরাঙ্গসুন্দর।
জয় নিত্যানন্দ পদ্মাবতীর কোঙর॥
জয় জয় সীতানাথ অদ্বৈত গোসাঞী।
যাহার করুণাবলে গোরাগুণ গাই॥
জয় জয় শ্রীবাস জয় গদাধর।
জয় স্বরূপ রামানন্দ প্রেমের সাগর॥
জয় জয় সনাতন জয় শ্রীরূপ।
জয় জয় রঘুনাথ প্রাণের স্বরূপ॥
জয় গৌরভক্তবৃন্দ দয়া কর মোরে।
সবার চরণধূলি ধরি নিজ শিরে॥
জয় জয় নীলাচলচন্দ্র জগন্নাথ।
মো পাপীয়ে দয়া করি কর অত্মসাৎ॥
জয় জয় গোপাল দেব ভকতবত্সল।
নবঘন জিনি তনু পরম উজ্জ্বল॥
জয় জয় গোপীনাথ প্রভু প্রাণ মোর।
পুরী গোসাঞীর লাগি যার নাম ক্ষীরচোর॥
জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা ঠাম চরণমাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দমূর্ত্তি মনোহর।
কোটি চন্দ্র জিনি যার বরণ সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণধাম।
জয় জয় গোকুল যার গোলক আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশ বন কৃষ্ণলীলাস্থান।
শ্রীবন লৌহ ভদ্র ভাণ্ডীর বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পায় ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির বহুলা।
জয় জয় কুমুদ কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্পমোহন॥
জয় জয় ললিতাকুণ্ড জয় শ্যামকুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানসগঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দানঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দঘাট জয় অক্ষয়বট।
জয় জয় চীরঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশীঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণমনোরম॥
জয় জয় রামঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণীনন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণকেলি পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট গ্রাম অভিমণ্ম্যালয়।
সখী সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধাকৃষ্ণ-লীলাস্থান॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর