| কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী |
| কোথা কৃষ্ণ-ধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি উনিশ শতকে প্রকাশিত কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির পদ। মাথুর-বিরহ বিভাস কোথা কৃষ্ণ-ধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব নিরখিব সে চান্দ-বয়ান। সাজাইয়া দিব হিয়া তাহাতে বসাব পিয়া জুড়াইব এ পাঁচ-পরাণ॥ হরি হরি কবে মোর হইবে সুদিন। পরাণ-নাথের সঙ্গে কৌতুকে ফিরব রঙ্গে সুখময় যমুনা-পুলিন॥ ধ্রু॥ ললিতা বিশাখা লৈয়া তাহারে ভেটিব যাঞা সাজাইয়া নানা-উপহার। এমন বিধির নাট ভাঙ্গিলে প্রেমের হাট লেশ-মাত্র না রাখিল তার॥ মোরে কৈল দীনহীন তারে কৈল উদাসীন বোল সখি কি হবে উপায়। শুকাইল সুখ-সিন্ধু না রাখিল এক বিন্দু শয়নে সপনে মনে ধায়॥ ছটফট করে হিয়া নিবারিব কিবা দিয়া বোল সখি কি হবে আমার। নরোত্তম দাসে কহে সদাই পরাণ দহে ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্র-কুমার॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হেদে রে পামর-মন কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি সাহিত্য পরিষদের ৪৯৬ সংখ্যক পুথির পদ। প্রার্থনা ॥ ধানশী॥ হেদে রে পামর-মন @@@@@@@@@ সাধু-সঙ্গ কর ভাল হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবে মহানন্দ সুখ পাবে নিতাই চৈতন্যের গুণ গায়্যা॥ ধ্রু॥ লক্ষ চৌরাশি জন্ম ভ্রমণ করিয়া শ্রম ভুল্যাছ দুর্ল্লভ জন্ম পায়্যা। মহান্তের দায় দিয়া ভক্তি-পথ না চিনিয়া বৃথায় জনম গেল বৈয়া॥ মাখালের ফল লাল দেখিতে সুন্দর ভাল ভাঙ্গিলে সে দেয় ফেলাইয়া। মালা-মুদ্রা করি বেশ ভ@নের নাহি লেশ ফিরি মুঞি লোক দেখাইয়া॥ চন্দন-তরুর পাশে যত বৃক্ষ লতা বৈসে মন মোহে বাতাসে লাগিয়া। মাধবী মালতী সার তার মধ্য মুঞি ছার বড়ই কুটিল মোর হিয়া॥ নরোত্তম দাসে বোলে পড়িলুঁ অসত-ভোলে মোর হবে কেমন উপায়। গুরু-পদে নাহি মতি বৈষ্ণবে না হৈল রতি মোর জন্ম হইল বৃথায়॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। ভ@নের - অপাঠ্য। সম্ভবত “ভাবনের” হবে। . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পরহ কৌপিন হও উদাসীন কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি সাহিত্য পরিষদের ৪৯৬ সংখ্যক পুথির পদ। প্রার্থনা ॥ ধানশী॥ পরহ কৌপিন হও উদাসীন তেজহ সংসার-মায়া। শ্রীনন্দ-নন্দন করহ ভাবন অবশ্য করিবে দয়া॥ শ্রীগুরু-চরণ করহ ভাবন শ্যাম-কুণ্ড-তটে থাক। দিবস রজনী বোল ঐ বাণী রাধে রাধে বলি ডাক॥ জগাই মাধাই তারা দুটি ভাই বড়ই পাতকী ছিল। জপি হরি-নাম পাইল মহা-জ্ঞান মহাভাগবত হৈল॥ মোর মোর করি রাত্র দিন মরি ভুলিয়া রহিলু ধনে। যখন শমন করিবে দমন জানিবে ত পরিণামে॥ নরোত্তম দাস কয় শ্রীগুরু-চরণে। হরি-নাম বিনে ধন নাহি ত্রিভুবনে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রাণের হরি এই বার করহ করুণা কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি সাহিত্য পরিষদের ৪৯৬ সংখ্যক পুথির পদ। প্রার্থনা ॥ ধানশী॥ প্রাণের হরি এই বার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি সফল হইবে আঁখি এই মোর মনের বাসনা॥ ধ্রু॥ নিদ-পদ শিরে দিবা নাহি মোরে উপেখিবা দুই পহুঁ করুণা-সাগর। দুহুঁ বিনে নাহি জানি এই দড় মনে মানি মুঞি অতি পতিত পামর। দুই পহুঁ কৃপা-সিন্ধু অধম জনার বন্ধু নিবেদন করহু চরণে। এবার পূরহ আশ দুঃখ মোর যাউ নাশ দেখি যেন জীবনে মরণে। পার রাধা-কৃষ্ণ কথা ঘুচিবে মনের বেথা দূরে যাবে এ-সব বিফল। নরোত্তম দাসে কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় তবে মুঞি হইব সফল॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি কবে মোর হেন দশা হব কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির পদ। প্রার্থনা ॥ ধানশী॥ হরি হরি কবে মোর হেন দশা হব। ললিতা বিশাখা সঙ্গে সেবন করিব রঙ্গে আপনা বলিয়া আজ্ঞা দিব॥ ধ্রু॥ বৃষভানু-কিশোরী গোরী তায় প্রিয় সহচরী সেই যুথে হইব গণন। নিকুঞ্জ-কুটীর বনে মিলাইব দুই জনে প্রেমানন্দে হইব মিলন॥ শ্রীমণিমঞ্জরী কবে সেবায় নিযুক্ত দিবে সময় বুঝিয়া অনুমানে। লীলা-পরিশ্রম জানি মলয়-চন্দন আনি লেপন করিব দুই জনে॥ মালা গাঁথি নানা-ফুলে দিব দোঁহাকার গলে মৃদু-মন্দ করিব বীজনে। কনক-সম্পুট করি কর্পূর তাম্বুল পূরি যোগাইব দোহার বদনে॥ শ্রীচৈতন্য শচী-সূত মোর প্রভু লোক-নাথ দয়া করি রাখ রাঙ্গা-পায়। শ্রীআচার্য্য শ্রীনিবাস রামচন্দ্র তার দাস নরোত্তম সঙ্গে সেবা চায়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি কত দিনে হেন দশা হব কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির পদ। প্রার্থনা ॥ ধানশী॥ হরি হরি কত দিনে হেন দশা হব। শ্রীমণিমঞ্জরী সঙ্গে শ্রীরূপমঞ্জরী রঙ্গে রূপের অনুগা-পদ পাব॥ ধ্রু॥ সুশীতল বৃন্দাবনে রত্ন বেদী সুশোভনে তাহে মণিময় সিংহাসন। হেম-নীল-কান্তি-ধর রাই কানু সুন্দর তাহাতে বসাব দুইজন॥ সখীর আদেশ হবে চামর ঢুলাব কবে তাম্বুল খাওয়াব চান্দ-মুখে। আনন্দিত হব তথা ডগমগি প্রেম-কথা দোহাঁর পিরিতি-রস-সুখে॥ মল্লিকা মালতি যুথি নানা ফুলে মালা গাঁথি পরাইব দোহাঁর গলায়। রসের আলাপ-কালে বসিব চরণ-তলে সেবন করিব দোহাঁকায়॥ রাধা-কৃষ্ণ প্রাণ পতি জীবনে মরমে গতি ইহা বহি অন্য নাহি মনে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাথ কর মোরে আত্মসাথ নরোত্তমের এই নিবেদনে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আহা মরি মরি যায্য ভানু-পুরী কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ। সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে ॥ কামোদ॥ আহা মরি মরি যায্য ভানু-পুরী কবে হব ভানু-সুতা। সখীর সহিতে বসি আনন্দিতে কৃষ্ণের সহিতে কথা॥ লৈয়া সখীগণ আনন্দিত মন কবে যাব রত্ন-ঘরে। শ্যাম-বামে যায়্যা আনন্দিত হৈয়া শ্যামেরে ধরিব করে॥ আমার উড়নি ধরি গুণ মণি কবে সে মারিবে টান। বন্ধুয়া বলিয়া সমুখে দাঁড়ায়্যা কবে সে সোঁপিব প্রাণ॥ কুলে দিয়া কালি কলঙ্কের ডালি কত দিনে লব মাথে। নরোত্তম দাস করে এই আশ থাকিব শ্যামের সাথে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |