কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
কৌপিন খুলিয়া লেহ কপালে সিন্দুর দেহ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের
১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ।

সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে
॥ ধানশী॥

নাথ হে
কৌপিন খুলিয়া লেহ                      কপালে সিন্দুর দেহ
পরিবার দেহ নীল সাড়ি।
কঙ্কণ কেয়ূর দিয়া                         নিজ দাসী বানাইয়া
হাতে দেহ সুবর্ণের চুড়ি॥
হস্তেতে চন্দন লৈয়া                       তব অঙ্গে ছিটাইয়া
ফুল-মালা দিব তবে গলে।
তোমার নিকটে রৈয়া                        তাম্বুল বদনে দিয়া
তোমারে ধরিব নিজ-করে॥
দাস নাম ঘুচাইয়া                            দাসী নাম ধরাইয়া
রাখহ আপন-নিজ পাশে।
কহিয়া রসের কথা                          ঘুচাও মনের বেথা
মাখে দেহ সুচাচর কেশে॥
দাসী করি রাখ বামে                        শুনাহ বাঁশীর গানে
পূরাহ আমার মন-আশ।
দূর কর কুটি-নাটি                        মাথে দেহ সিঁথি-পাটি
ধর কর নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি কি মোর বাসনা হয় চিতে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ।

সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে
॥ ধানশী॥

হরি হরি কি মোর বাসনা হয় চিতে।
@@@ সঙ্গে করি                               চন্দন-কায়া পূরি
কবে যাব শামেরে ভেটিতে॥ ধ্রূ॥
নিকুঞ্জ-মন্দিরে যায়্যা                        শ্যামের নিকটে রৈয়া
চন্দন লেপিয়া দিব গায়।
তাম্বুল বদনে দিয়া                            কর-পুটে দাঁড়াইয়া
চামরে করিব সদা বায়॥
নীল-কান্তি-অঙ্গ দেখি                      জুড়াবে তাপিত আঁখি
বচন কহিব আঁখি-ঠারে।
প্রেমে হৈয়া উনমত                            নিজ-অঙ্গ-সুখ যত
সমর্পিব প্রাণ-বন্ধু তারে॥
ব্রজেন্দ্র-নন্দন হরি                             আপন হৃদয়ে করি
সদাই ভাসিব প্রেম রসে।
ইহা কি কপালে হবে                        নিজ-সুখ দূরে যাবে
কহে দীন নরোত্তম দাসে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি হরি মরি মরি মরি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের
১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ।

সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে
॥ ধানশী॥

হরি হরি হরি                        মরি মরি মরি
কবে সে হইব রাধা।
নিকুঞ্জে যাইয়া                     শ্যামেরে ভেটিয়া
ঘুচাব মনের ধাঁধা॥
শ্রীরাধা হইব                          কি সুখ পাইব
তাহাও নাহিক জানি।
যে রাধা লাগিয়া                        সন্ন্যাসী হইলা
আপনে শ্রীগৌর-মণি॥
সে রাধা হইব                        গৌরকে জানিব
গৌর-বরণ হব।
নিকুঞ্জে যাইয়া                      শ্যামেরে ভেটিয়া
শ্যামের নিকটে রব॥
গৌরকে জানিলে                      শ্যামেরে পাইব
শ্যামের বরণ বাস।
শ্রীরাধা হইয়া                        শ্যামেরে ভেটিব
কহে নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি কবে যাব নিকুঞ্জ-কুটীরে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের
১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ।

সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে
॥ ধানশী॥

হরি হরি কবে যাব নিকুঞ্জ-কুটীরে।
প্রেমে অঙ্গ ডগমগি                        শ্যাম-প্রেমে অনুরাগী
শ্যামেরে বান্ধিব নিজ-করে॥ ধ্রু॥
শ্যাম-চাঁদ প্রাণ-বঁধু                             তাহার বচন মধু
কত দিনে শ্রবণে শুনিব।
রতি-রস-কুতূহলে                          শ্যাম-ভুজ বাঁধি গলে
প্রাণ-নাথে পরাণ সোঁপিব॥
শ্যাম-চাঁদ গুণমণি                           তাহার মপলী-ধ্বনী
সেই রসে পরাণ জুড়াব।
শ্যামের সোন্দর্য্য দেখি                   জুড়াবে তাপিত আঁখি
শ্যাম-সুখে মগন হইব॥
নব নব সখী সঙ্গে                          করিয়া বিবিধ রঙ্গে
যন্ত্র আলাপন বহু সুখ।
নরোত্তম দাসে কয়ে                        যদি বা কপালে হয়
তবে সে ঘুচিবে মন-সুখ॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে “জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার” পদটি তিনটি
ভাগে আলাদা আলাদা পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উক্ত পদের দ্বিতীয় ভাগ।
এখানে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় মদন গোপাল বংশীধারী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠাম চরণমাধুরী॥
জয় জয় শ্রীগোবিন্দমূর্ত্তি মনোহর।
কোটি চন্দ্র জিনি যার বরণ সুন্দর॥
জয় জয় গোপীনাথ মহিমা প্রবল।
তমাল শ্যামল অঙ্গ পীন বক্ষঃস্থল॥
জয় জয় মথুরামণ্ডল কৃষ্ণধাম।
জয় জয় গোকুল যার গোলক আখ্যান॥
জয় জয় দ্বাদশবন কৃষ্ণলীলাস্থান।
শ্রীবন, লৌহ, ভদ্র, ভাণ্ডীর বন নাম॥
মহাবনে মহানন্দ পায় ব্রজবাসী।
যাহাতে প্রকট কৃষ্ণ স্বরূপ প্রকাশি॥
জয় জয় তালবন খদির বহুলা।
জয় জয় কুমুদ কাম্যবনে কৃষ্ণলীলা॥
জয় জয় মধুবন মধুপান স্থান।
যাঁহা মধুপানে মত্ত হৈলা বলরাম॥
জয় জয় সর্ব্বশ্রেষ্ঠু শ্রীবৃন্দাবন।
দেবের অগোচর স্থান কন্দর্পমোহন॥
জয় জয় ললিতাকুণ্ড জয় শ্যামকুণ্ড।
জয় জয় রাধাকুণ্ড প্রতাপ প্রচণ্ড॥
জয় জয় মানসগঙ্গা জয় গোবর্দ্ধন।
জয় জয় দানঘাট লীলা সর্ব্বোত্তম॥
জয় জয় নন্দঘাট জয় অক্ষয়বট।
জয় জয় চীরঘাট যমুনা নিকট॥
জয় জয় কেশীঘাট পরম মোহন।
জয় বংশীবট রাধাকৃষ্ণ মনোরম॥
জয় জয় রামঘাট পরম নির্জ্জন।
যাঁহা রাসলীলা কৈলা রোহিণীনন্দন॥
জয় জয় বিমলকুণ্ড জয় নন্দীশ্বর।
জয় জয় কৃষ্ণকেলি পাবন সরোবর॥
জয় জয় যাবট গ্রাম অভিমন্যালয়।
সখী সঙ্গে রাই যাঁহা সদা বিরাজয়॥
জয় জয় বৃষভানুপুর নামে গ্রাম।
জয় জয় সঙ্কেত রাধাকৃষ্ণ-লীলাস্থান॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তমদাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে “জয় জয় গুরু গোসাঞি শ্রীচরণ সার” পদটি তিনটি
ভাগে আলাদা আলাদা পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উক্ত পদের তৃতীয় ভাগ।
এখানে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

জয় জয় ব্রজবাসী শ্রেষ্ঠ নন্দরাজ।
জয় জয় ব্রজেশ্বরী শ্রেষ্ঠ গোপীমাঝ॥
জয় জয় রোহিণীনন্দন বলরাম।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ স্বয়ং রসধাম॥
জয় জয় রাধা সখী ললিতা সুন্দরী।
সখীর পরম প্রেষ্ঠ রূপের মাধুরী॥
জয় জয় শ্রীবিশাখা চম্পকলতিকা।
রঙ্গদেবী, সুদেবী, তুঙ্গবিদ্যা, ইন্দুরেখা॥
জয় জয় রাধানুজা অনঙ্গমঞ্জরী।
ত্রিভুবন জিনি যার অঙ্গের মাধুরী॥
জয় জয় পৌর্ণমাসী বলি যোগমায়া।
রাধাকৃষ্ণ লীলা করান যিনি আচ্ছাদিয়া॥
জয় জয় বৃন্দাদেবী কৃষ্ণপ্রিয়তমা।
জয় জয় বীরা সখী সর্ব্বমনোরমা॥
জয় জয় রত্নমণ্ডপ রত্নসিংহাসন।
জয় জয় রাধাকৃষ্ণ সঙ্গে সখীগণ॥
শুন শুন আরে ভাই করিয়ে প্রার্থনা।
ব্রজে রাধাকৃষ্ণসেবা করহ ভাবনা॥
ছাড়ি অন্য কর্ম্ম অসৎ আলাপনে।
ব্রজে রাধা কৃষ্ণচন্দ্র করহ ভাবনে॥
এই সব লীলাস্থান যে করে স্মরণ।
জন্মে জন্মে শিরে ধরুঁ তাঁহার চরণ।
শ্রীগুরু বৈষ্ণবপাদপদ্ম করি আশ।
নামসংকীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি দিব কি দিব বন্ধু মনে করি আমি।
যে ধন তোমারে গিব সেই ধন তুমি॥
তুমি ত আমার বন্ধু, সকলি তোমার।
তোমার ধন তোমায় দিব কি আছে আমার॥
এ সব দুঃখের কথা কাহারে কহিব।
তোমার ধন তোমায় দিয়া দাসী হৈয়া রব॥
নরোত্তমদাসে কহে শুন গুণমণি।
তোমার অনেক আছে আমার কেবল তুমি॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি কবে মোর হবে শুভদিন
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

হরি হরি কবে মোর হবে শুভদিন।
ফলমূল বৃন্দাবনে                        খাঞা দিবা অবসানে
ভ্রমিব হইয়া উদাসীন॥ ধ্রু॥
করঙ্গ কৌপীন লঞা                   ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়া
তেয়াগিয়া সকল বিষয়।
হরি অনুরাগ হবে                        ব্রজের নিকুঞ্জে কবে
যাইয়া করিব নিজালয়॥
শীতল যমুনাজলে                           স্নান করি কুতূহলে
প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিব।
বাহু উপরেতে তুলি                        বৃন্দাবনে কুলি কুলি
কৃষ্ণ বলি কান্দিয়া বেড়াব॥
দেখিব সভে কত স্থান                    জুড়াবে তাপিত প্রাণ
প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিব।
কাঁহা রাধা প্রাণেশ্বরী                        কাঁহা গিরিবরধারী
কাঁহা নাথ বলিয়া ডাকিব॥
মাধবী কুঞ্জ উপরি                          সুখে বসি শুকসারী
গাইবেক রাধাকৃষ্ণ রস।
তরুমূলে বসি ইহা                           শুনি জুড়াইব হিয়া
কবে সুখে গোঙাব দিবস॥
শ্রীগোবিন্দ গোপীনাথ                      শ্রীমতী রাধিকা সাথ
দেখিব রতন-সিংহাসনে।
দীন নরোত্তমদাস                            করয়ে দুর্লভ আশ
এমতি হইবে কত দিনে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি। হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণী॥ তারে না দেখিয়া
মোর মনে বড় তাপ। অনলে পশিব কিংবা জলে দিব ঝাঁপ॥ মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব
পাণ গুয়া। শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দনাদি চুয়া॥ বৃন্দাবনের ফুলের গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥ কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ॥ নরোত্তমদাস কহে
পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণি॥
এবারে না দেখিয়া মোর মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিংবা জলে দিব ঝাঁপ॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পাণগুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব এ চন্দন চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলেতে গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বাঁধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব এ চন্দন চাঁদ॥
নরোত্তমদাস কহে পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণী॥
তারে না দেখিয়া মোর মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিম্বা জলে দিব ঝাঁপ॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পাণ গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দনাদি চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলের গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব এ চন্দনের চাঁদ॥
নরোত্তমদাস কহে পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণী॥
তারে না দেখিয়া মোর মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিম্বা জলে দিব ঝাঁপ॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দনাদি চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলের গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ॥
নরোত্তমদাস কহে পিরীতির ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি
সাধক-কণ্ঠহার”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনস্তথৈব লালসা।

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণী॥
তারে না দেখিয়া মোর মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিংবা জলে দিব ঝাঁপ॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
ঘামেতে বাতাস দিব চন্দনাদি চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলের গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বাঁধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ॥
নরোত্তমদাস কহে পিরীতির ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এই বার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণী॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দনাদি চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলের গাথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ॥
নরোত্তম দাস কহে পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ
॥ ধানশী॥

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণি॥
এবারে না দেখিয়া মোর মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিংবা জলে দিব ঝাঁপ॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পাণ গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব এ চন্দন চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলেতে গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বাঁধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ॥
নরোত্তমদাস কহে পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৮৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এইবার পাইলে দেখা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে রাখি জুড়াব পরাণি॥
এবারে না দেখিয়া মোর মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিংবা জলে দিব ঝাঁপ॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পাণ গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব এ চন্দন চুয়া॥
বৃন্দাবনের ফুলেতে গাঁথিয়া দিব হার।
বিনাইয়া বাঁধিব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ॥
নরোত্তমদাস কহে পিরীতের ফাঁদ॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীরূপ মঞ্জরী দয়া করহ আমারে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ ধানশী॥

শ্রীরূপ মঞ্জরী দয়া করহ আমারে।
মিছা মায়াজালে পড়ি গেনু ছারে খারে॥
কবে হেন দশা হবে সখী সঙ্গ পাব।
বৃন্দাবনের ফুল গাঁথি দোঁহারে পরাব॥
সম্মুখে রহিয়া কবে চামর ঢুলাব।
অগুরু চন্দন গন্ধ দুহুঁ অঙ্গে দিব॥
সিন্দূর তিলক কবে দোঁহাকে পরাব।
সখীর আজ্ঞায় কবে তাম্বুল যোগাব॥
বিলাস কৌতুক কেলি দেখিব নয়নে।
চন্দ্রমুখ নিরখিব বসায়ে সিংহাসনে॥
সদা সে মাধুরী দেখি মনের লালসে।
কত দিনে হবে দয়া নরোত্তমদাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরূপ মঞ্জরী দয়া করহ আমারে।
মিছা মায়াজালে পড়ি গেনু ছারে খারে॥
কবে হেন দশা হবে সখী সঙ্গ পাব।
বৃন্দাবনের ফুল গাঁথি দোঁহারে পরাব॥
সম্মুখে রহিয়া কবে চামর ঢুলাব।
অগুরু চন্দন গন্ধ দুহুঁ অঙ্গে দিব॥
সিন্দূর তিলক কবে দোঁহাকে পরাব।
সখীর আজ্ঞায় কবে তাম্বূল যোগাব॥
বিলাস কৌতুক কেলি দেখিব নয়নে।
চন্দ্রমুখ নিরখিব বসায়ে সিংহাসনে॥
সদা সে মাধুরী দেখি মনের লালসে।
কত দিনে হবে দয়া নরোত্তমদাসে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৭৪-পৃষ্ঠায়, ভিন্ন প্রথম পংক্তি সহ (হা হা প্রভু কর দয়া করুণা তোমার) এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। আমরা এই পদটিকে পাঠকের সুবিধার জন্য একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলে
দিয়েছি।  

॥ পাহিড়া॥

হা হা প্রভু কর দয়া করুণা তোমার।
মিছা মায়া জালে তনু দহিছে আমার॥
কবে হেন দশা হবে সখী সঙ্গ পাব।
বৃন্দাবনে ফুল গাঁথি দোঁহাকে পরাব॥
সম্মুখে বসিয়া কবে চামর ঢুলাব।
অগুরু চন্দন গন্ধ দোঁহ অঙ্গে দিব॥
সখীর আজ্ঞায় কবে তাম্বুল যোগাব।
সিন্দূর তিলক কবে দোঁহাকে পরাব॥
বিলাস কৌতুক কেলি দেখিব নয়নে।
চন্দ্র মুখ নিরখিব বসায়ে সিংহাসনে॥
সদা সে মাধুরী দেখি মনের লালসে।
কত দিনে হবে দয়া নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৪৯-পৃষ্ঠায় ভিন্ন প্রথম পংক্তি সহ (হা হা প্রভু কর দয়া করুণা তোমার) এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। আমরা এই পদটিকে পাঠকের সুবিধার জন্য একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলে
দিয়েছি।

॥ পাহিড়া॥

হা হা প্রভু কর দয়া করুণা তোমার।
মিছা মায়া জালে তনু দহিছে আমার॥
কবে হেন দশা হবে সখী সঙ্গ পাব।
বৃন্দাবনে ফুল গাঁথি দোঁহাকে পরাব॥
সম্মুখে বসিয়া কবে চামর ঢুলাব।
অগুরু চন্দন গন্ধ দোঁহ অঙ্গে দিব॥
সখীর আজ্ঞায় কবে তাম্বুল যোগাব।
সিন্দূর তিলক কবে দোঁহাকে পরাব॥
বিলাস কৌতুক কেলি দেখিব নয়নে।
চাঁদ মুখ নিরখিব বসায়ে সিংহাসনে॥
সদা সে মাধুরী দেখি মনের লালসে।
কত দিনে হবে দয়া নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৫-পৃষ্ঠায় ভিন্ন প্রথম
পংক্তি সহ (হা হা প্রভু কর দয়া করুণা তোমার) এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা এই
পদটিকে পাঠকের সুবিধার জন্য একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলে দিয়েছি।

॥ ধানশী॥

হা হা প্রভু কর দয়া করুণাসাগর।
মিছা মায়াজালে তনু দহিছে আমার॥
কবে হেন দশা হবে সখী সঙ্গ পাব।
বৃন্দাবনে ফুল গাঁথি দোঁহারে পরাব॥
সম্মুখে রহিয়া কবে চামর ঢুলাব।
অগুরু চন্দন গন্ধ দুহুঁ অঙ্গে দিব॥
সখীর আজ্ঞায় কবে তাম্বুল যোগাব।
সিন্দূর তিলক কবে দোঁহাকে পরাব॥
বিলাস কৌতুক কেলি দেখিব নয়নে।
চন্দ্রমুখ নিরখিব বসায়ে সিংহাসনে॥
সদা সে মাধুরী দেখি মনের লালসে।
কত দিনে হবে দয়া নরোত্তমদাসে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর