| কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী |
| কৌপিন খুলিয়া লেহ কপালে সিন্দুর দেহ কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ। সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে ॥ ধানশী॥ নাথ হে কৌপিন খুলিয়া লেহ কপালে সিন্দুর দেহ পরিবার দেহ নীল সাড়ি। কঙ্কণ কেয়ূর দিয়া নিজ দাসী বানাইয়া হাতে দেহ সুবর্ণের চুড়ি॥ হস্তেতে চন্দন লৈয়া তব অঙ্গে ছিটাইয়া ফুল-মালা দিব তবে গলে। তোমার নিকটে রৈয়া তাম্বুল বদনে দিয়া তোমারে ধরিব নিজ-করে॥ দাস নাম ঘুচাইয়া দাসী নাম ধরাইয়া রাখহ আপন-নিজ পাশে। কহিয়া রসের কথা ঘুচাও মনের বেথা মাখে দেহ সুচাচর কেশে॥ দাসী করি রাখ বামে শুনাহ বাঁশীর গানে পূরাহ আমার মন-আশ। দূর কর কুটি-নাটি মাথে দেহ সিঁথি-পাটি ধর কর নরোত্তম দাস॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি কি মোর বাসনা হয় চিতে কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ। সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে ॥ ধানশী॥ হরি হরি কি মোর বাসনা হয় চিতে। @@@ সঙ্গে করি চন্দন-কায়া পূরি কবে যাব শামেরে ভেটিতে॥ ধ্রূ॥ নিকুঞ্জ-মন্দিরে যায়্যা শ্যামের নিকটে রৈয়া চন্দন লেপিয়া দিব গায়। তাম্বুল বদনে দিয়া কর-পুটে দাঁড়াইয়া চামরে করিব সদা বায়॥ নীল-কান্তি-অঙ্গ দেখি জুড়াবে তাপিত আঁখি বচন কহিব আঁখি-ঠারে। প্রেমে হৈয়া উনমত নিজ-অঙ্গ-সুখ যত সমর্পিব প্রাণ-বন্ধু তারে॥ ব্রজেন্দ্র-নন্দন হরি আপন হৃদয়ে করি সদাই ভাসিব প্রেম রসে। ইহা কি কপালে হবে নিজ-সুখ দূরে যাবে কহে দীন নরোত্তম দাসে॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি হরি মরি মরি মরি কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ। সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে ॥ ধানশী॥ হরি হরি হরি মরি মরি মরি কবে সে হইব রাধা। নিকুঞ্জে যাইয়া শ্যামেরে ভেটিয়া ঘুচাব মনের ধাঁধা॥ শ্রীরাধা হইব কি সুখ পাইব তাহাও নাহিক জানি। যে রাধা লাগিয়া সন্ন্যাসী হইলা আপনে শ্রীগৌর-মণি॥ সে রাধা হইব গৌরকে জানিব গৌর-বরণ হব। নিকুঞ্জে যাইয়া শ্যামেরে ভেটিয়া শ্যামের নিকটে রব॥ গৌরকে জানিলে শ্যামেরে পাইব শ্যামের বরণ বাস। শ্রীরাধা হইয়া শ্যামেরে ভেটিব কহে নরোত্তম দাস॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি কবে যাব নিকুঞ্জ-কুটীরে কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” গ্রন্থের ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির পদ। সাধ্য-সাধন-লালসা সিদ্ধ-রূপে ॥ ধানশী॥ হরি হরি কবে যাব নিকুঞ্জ-কুটীরে। প্রেমে অঙ্গ ডগমগি শ্যাম-প্রেমে অনুরাগী শ্যামেরে বান্ধিব নিজ-করে॥ ধ্রু॥ শ্যাম-চাঁদ প্রাণ-বঁধু তাহার বচন মধু কত দিনে শ্রবণে শুনিব। রতি-রস-কুতূহলে শ্যাম-ভুজ বাঁধি গলে প্রাণ-নাথে পরাণ সোঁপিব॥ শ্যাম-চাঁদ গুণমণি তাহার মপলী-ধ্বনী সেই রসে পরাণ জুড়াব। শ্যামের সোন্দর্য্য দেখি জুড়াবে তাপিত আঁখি শ্যাম-সুখে মগন হইব॥ নব নব সখী সঙ্গে করিয়া বিবিধ রঙ্গে যন্ত্র আলাপন বহু সুখ। নরোত্তম দাসে কয়ে যদি বা কপালে হয় তবে সে ঘুচিবে মন-সুখ॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি হরি কবে মোর হবে শুভদিন কবি নরোত্তম দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি কবে মোর হবে শুভদিন। ফলমূল বৃন্দাবনে খাঞা দিবা অবসানে ভ্রমিব হইয়া উদাসীন॥ ধ্রু॥ করঙ্গ কৌপীন লঞা ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়া তেয়াগিয়া সকল বিষয়। হরি অনুরাগ হবে ব্রজের নিকুঞ্জে কবে যাইয়া করিব নিজালয়॥ শীতল যমুনাজলে স্নান করি কুতূহলে প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিব। বাহু উপরেতে তুলি বৃন্দাবনে কুলি কুলি কৃষ্ণ বলি কান্দিয়া বেড়াব॥ দেখিব সভে কত স্থান জুড়াবে তাপিত প্রাণ প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিব। কাঁহা রাধা প্রাণেশ্বরী কাঁহা গিরিবরধারী কাঁহা নাথ বলিয়া ডাকিব॥ মাধবী কুঞ্জ উপরি সুখে বসি শুকসারী গাইবেক রাধাকৃষ্ণ রস। তরুমূলে বসি ইহা শুনি জুড়াইব হিয়া কবে সুখে গোঙাব দিবস॥ শ্রীগোবিন্দ গোপীনাথ শ্রীমতী রাধিকা সাথ দেখিব রতন-সিংহাসনে। দীন নরোত্তমদাস করয়ে দুর্লভ আশ এমতি হইবে কত দিনে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |