কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
ভজ পতিত উদ্ধারণ শ্রীগৌরহরি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটিতে গোবিন্দ দাস ও  
নরোত্তম দাস, দুজনেরই ভণিতা রয়েছে। ব্রজমোহন দাস তাঁর “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি” গ্রন্থে জানিয়েছেন যে এই গোবিন্দ দাস ছিলেন ঈশ্বর
পুরীর শিষ্য।

ভোজনকালোচিত শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গের মধ্যাহ্ন আরতি।

ভজ পতিত উদ্ধারণ শ্রীগৌরহরি।
শ্রীগৌর হরি, নবদ্বীপ বিহারী॥
জয় জয় দীন দয়াময় হিতকারী॥ ধ্রু॥
শুন শুন শচীসূত কর অবধান।
ভোগ মন্দিরে প্রভু করহ পয়ান॥
বামেতে অদ্বৈত প্রভু দক্ষিণে নিতাই।
মধ্য আসনে বৈসেন চৈতন্য গোসাঞি॥
অদ্বৈত ঘরণী আর শান্তিপুর নারী।
হুলু হুলু দেই সবে গোরামুখ হেরি॥
চৌষট্টি মহান্ত আর দ্বাদশ গোপাল।
ছয় চক্রবর্ত্তী আর অষ্ট কবিরাজ॥
শাক সুকুতা নানা উপহার।
আনন্দে ভোজন করেন শচীর কুমার॥
দধি দুগ্ধ ঘৃত ছানা আর লুচী পুরী।
আনন্দে ভোজন করেন নদীয়া বিহারী॥
ভোজন করিয়া প্রভু কৈল আচমন।
সুবর্ণ খড়িকায় কৈল দন্তের শোধন॥
বসিতে আসন দিল রত্ন সিংহাসনে।
কর্পূর তাম্বুল যোগায় প্রিয় ভক্তগণে॥
ফুলের চৌআরি ঘর ফুলের কেয়ারী।
ফুলের রত্ন সিংহাসনে চাঁদুয়া মশারি॥
ফুলের মন্দিরে প্রভু করিলা শয়ন।
গোবিন্দ দাস করে পাদ সম্ভাষণ॥
ফুলের পাপড়ী প্রভুর উড়ি পড়ে গায়।
তার মাঝে মহাপ্রভু সুখে নিদ্রা যায়॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসের অনুদাস।
সেবা অভিলাষ মাগে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মধ্যকালীন সংক্ষিপ্ত ভোগ আরতি।

ভজ পতিত উদ্ধারণ শ্রীগৌরহরি।
শ্রীগৌরহরি নবদ্বীপবিহারী,
দীন দয়াময় হিতকারী॥ ধ্রুঃ॥
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু কর অবধান।
ভোগ মন্দিরে প্রভু করহ পয়ান॥
বামেতে অদ্বৈত প্রভু দক্ষিণে নিতাই।
মধ্যাসনে বসিলেন চৈতন্য গোসাঞি॥
চৌষট্টি মহান্ত আর দ্বাদশ গোপাল।
ছয় চক্রবর্ত্তী আর অষ্ট কবিরাজ॥
ভোজনের দ্রব্য যত রাখি সারি সারি।
তাহার উপরে দিলা তুলসী মঞ্জরী॥
শাক সুকুতা নানা উপহার।
আনন্দে ভোজন করেন শচীর কুমার॥
দধি দুগ্ধ ঘৃত ছানা আর লুচি পুরী।
আনন্দে ভোজন করেন নদীয়া বিহারী॥
ভোজন করিয়া প্রভু কৈলা আচমন।
সুবর্ণ খড়িকায় কৈলা দন্তের শোধন॥
বসিতে আসন দিল রত্ন সিংহাসনে।
কর্পূর তাম্বুল যোগায় প্রিয় ভক্তগণে॥
ফুলের চৌয়ারী ঘর ফুলের কেওয়ারী।
ফুলের রত্ন সিংহাসন চাঁদোয়া মশারী॥
ফুলের মন্দিরে প্রভু করিলা শয়ন।
গোবিন্দ দাস করে পাদ সম্বাহন॥ @
ফুলের পাপড়ী সব উড়ি পড়ে গায়।
তার মাঝে মহাপ্রভু সুখে নিদ্রা যায়॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসের অনুদাস।
সেবা অভিলাষ মাগে নরোত্তম দাস॥

@ - শ্রীপাদ ঈশ্বর পুরীর শিষ্য।

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার
চৌত্রিশ পদাবলী
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। বৈষ্ণবগণের কার্ত্তিকমাসের নামসংকীর্ত্তন। এই পদটি যে কোনো দশকর্মা-
ভাণ্ডারে প্রাপ্ত "শ্রীশ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম" পুস্তিকায় "
চৌত্রিশ পদাবলী" নামে খ্যাত।

॥ যথারাগ॥

ক,        কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার।
খ,        খেলিবার প্রবন্ধে কৈল খোল করতাল॥
গ,        গড়াগড়ি যান প্রভু নিজ সংকীর্ত্তনে।
ঘ,        ঘরে ঘরে হরিনাম দেন সর্ব্বজনে॥
ঙ,        উচ্চৈঃস্বরে কাঁদে প্রভু জীবের লাগিয়া।
চ,        চেতন করান প্রভু কৃষ্ণনাম দিয়া॥
ছ,        ছল ছল করে আঁখি নয়নের জলে।
জ,        জহত পবিত্র কৈল গৌরকলেবরে॥
ঝ,        ঝল ঝল মুখ যেন পূর্ণ শশধর।
ঞ,        এমত ত দেখি নাই দয়ারসাগর॥
ট,        টলমল করে অঙ্গ ভাবেতে বিভোল।
ঠ,        ঠমকে ঠমকে চলে বলে হরিবোল॥
ড,        ডোরহি কৌপীন ক্ষীণ কোটির উপরে।
ঢ,        ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে গদাধরের ক্রোড়ে॥
ণ,        আন পরসঙ্গ গোরা না শুনে শ্রবণে।
ত,        তান মান গান রসে মজাইয়া মনে॥
থ,        থির নাহি হয় প্রভুর নয়নের জল।
দ,        দীনহীন জনেরে ধরিয়া দেয় কোল॥
ধ,        ধেয়াইয়া পূরব পিরীতি পরসঙ্গ।
ন,        না জানি কাহার ভাবে হইলা ত্রিভঙ্গ॥
প,        প্রেমরসে ভাসাইয়া অখিল সংসার।
ফ,        ফুটল শ্রীবৃন্দাবন সুরধুনী ধার॥
ব,        ব্রহ্মা মহেশ্বর যারে করে অন্বেষণ।
ভ,        ভাবিয়া না পান যাঁরে সহস্রলোচন॥
ম,        মত্তমাতঙ্গ-গতি মধুর মৃদু হাস।
য,        যশোমতি মাতা যাঁর ভুবনে প্রকাশ॥
র,        রতিপতি জিনি রূপ অতি মনোরম।
ল,        লীলা লাবণ্য যাঁর অতি অনুপম॥
ব,        বসুদেবসুত সেই শ্রীনন্দনন্দন।
শ,        শচীর নন্দন এবে বলে সর্ব্বজন॥
ষ,        ষড়ভুজ রূপ হৈলা অত্যাশ্চর্য্যময়।
স,        সাবধান প্রাণনাথ গোরা রসময়॥
হ,        হরি হরি বল ভাই কর মহাযজ্ঞ।
ক্ষ,        ক্ষিতিতলে জন্মি কেহ না হৈয় অবিজ্ঞ
.          এ চৌত্রিশ পদাবলী যে করে কীর্ত্তন।
.          দাস নরোত্তম মাগে তাহার চরণ॥

টীকা -
এই পদ ও পরবর্ত্তী চারিটী পদ, বৈষ্ণবেরা কার্ত্তিকমাসে নামসংকীর্ত্তনরূপ দ্বারে দ্বারে খঞ্জরি
ও করতাল সহ গান করিয়া থাকেন, অতএব আমরা এই পাঁচটী পদ এই স্থানে গ্রহণ
করিলাম।---জগবন্ধু ভদ্র, মৃণালকান্তি ঘোষ, গৌরপদ-তরঙ্গিণী, ৩৬৩-পৃষ্ঠা॥

সেই পাঁচটি পদ হল - প্রেমদাসের “অশেষ গুণের নিধি গৌরাঙ্গসুন্দর”, নরোত্তম দাসের
“কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার”, শচীনন্দনের “জয় জয় গৌরহরি শচীনন্দন”, দ্বিজ
হরিদাসের “ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী উদরে” এবং নরোত্তম দাসের “প্রণমহ কলিযুগ
সর্ব্বযুগসার”।

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর
ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী-উদরে
শ্রীকৃষ্ণের পাঁচালী, অষ্টোত্তর শতনাম
কবি নরোত্তম দাস
বর্তমানে বিভিন্ন দশকর্মা ভাণ্ডারে প্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণের পাঁচালীর বইয়ে এইরূপে পাওয়া গেছে।
এই পদটি দ্বিজ হরিদাসের ভণিতায়, “ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী-উদরে”
শিরোনামে,  ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬৫-পৃষ্ঠায় বেশ কিছু
পাঠান্তর সহ (নীচে) দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।
কৃষ্ণচন্দ্র কর কৃপা করুণাসাগর॥
জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল বনমালী।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারি॥
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দ নাম বিনে।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে॥
দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণাবিন্দে॥
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছে মায়ায় বদ্ধ হয়ে বৃক্ষসম হইনু॥
ফলরূপে পুত্র-কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষ বাসা করে॥

যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে॥
বসুদেব রাখি এল নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে॥
শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন। ১
যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন॥ ২
উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল। ৩
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল॥ ৪
সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।  ৫
শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই॥ ৬
ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী। ৭
কালসোনা নাম রাখে রাধা-বিনোদিনী॥ ৮
কুব্জা রাখিল নাম পতিত-পাবন হরি। ৯
চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন-বংশীধারী॥ ১০
অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া। ১১
কৃষ্ণ নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া॥ ১২
কণ্বমুনি নাম রাখে দেব-চক্রপাণি। ১৩
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী ॥ ১৪
গজদন্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন। ১৫
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ণ॥ ১৬
পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ। ১৭
দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু॥ ১৮
সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন। ১৯
ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন॥ ২০
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর। ২১
পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর॥ ২২
যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর। ২৩
বিদুর রাখিল নাম কাঙাল ঈশ্বর॥ ২৪
বাসুকি রাখিল নাম দেব-সৃষ্টি-স্থিতি। ২৫
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি॥ ২৬
নারদ রাখিল নাম ভক্ত প্রাণধন। ২৭
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ॥ ২৮
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি। ২৯
জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি॥ ৩০
বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার । ৩১
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার॥ ৩২
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি। ৩৩
পঞ্চমুখে রামনাম গান ত্রিপুরারি॥ ৩৪
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী। ৩৫
প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারি ॥ ৩৬
বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মনোহর। ৩৭
বিশ্বাবসু নাম রাখে নব-জলধর॥ ৩৮
সম্বর্ত্তক রাখে নাম গোবর্দ্ধনধারী। ৩৯
প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী॥ ৪০
অদিতি রাখিল নাম অরাতি-সূদন । ৪১
গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জ্জুন॥ ৪২
মহাযোদ্ধা নাম রাখে ভীম মহাবল। ৪৩
দয়ানিধি নাম রাখে দরিদ্র সকল॥ ৪৪
বৃন্দাবনচন্দ্র নাম রাখে বৃন্দাদূতী । ৪৫
বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি॥ ৪৬
বাণীপতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি। ৪৭
লক্ষ্মীপতি নাম রাখে সুমন্ত্র-সারথি॥ ৪৮
সন্দীপনী নাম রাখে দেব অন্তর্যামী। ৪৯
পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী॥ ৫০
পদ্মযোনি নাম রাখে অনাদির আদি। ৫১
নট-নারায়ণ নাম রাখিল সম্পাতি॥ ৫২
হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম। ৫৩
ললিতা রাখিল নাম দূর্ব্বাদল শ্যাম॥ ৫৪
বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন। ৫৫
সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন॥ ৫৬
আয়ান রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ। ৫৭
চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন॥ ৫৮
জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি। ৫৯
গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম-ঘরণী ॥ ৬০
ভক্ত গণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ। ৬১
দুর্ব্বাসা রাখেন নাম অনাথের নাথ॥ ৬২
রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী । ৬৩
সর্ব্বযজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী ॥ ৬৪
উদ্ধব রাখিল নাম মিত্র-হিতকারী। ৬৫
অক্রূর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী ॥ ৬৬
গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস। ৬৭
সর্ব্ববেত্তা নাম রাখে দ্বৈপায়ন ব্যাস ॥ ৬৮
অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর। ৬৯
সুরলোকে নাম রাখে অখিলের সার॥ ৭০
বৃষভানু নাম রাখে পরম-ঈশ্বর। ৭১
স্বর্গবাসী নাম রাখে সর্ব্ব পারাত্পর॥ ৭২
পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা। ৭৩
রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা॥ ৭৪
চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি-দমন। ৭৫
পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন॥ ৭৬
কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর। ৭৭
ভান্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ শশধর॥ ৭৮
সুমালী রাখিল নাম পুরুষ-প্রধান। ৭৯
পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ-প্রাণ॥ ৮০
রজকিনী নাম রাখে নন্দের দুলাল। ৮১
আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের গোপাল ॥ ৮২
দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি। ৮৩
জ্যোতির্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি॥ ৮৪
অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর। ৮৫
গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর॥ ৮৬
মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত । ৮৭
জ্ঞানাতীত নাম রাখে সৌনকাদি-সুত॥ ৮৮
রুদ্রগণ নাম রাখে দেব মহাকাল । ৮৯
বসুগণ নাম রাখে ঠাকুর দয়াল॥ ৯০
সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন । ৯১
সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন॥ ৯২
ভাগুরি রাখিল নাম অগতির গতি। ৯৩
মত্স্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি॥ ৯৪
শুক্রাচার্য্য রাখে নাম অখিল-বান্ধব। ৯৫
বিষ্ণুলোকে নাম রাখে শ্রীমাধব॥ ৯৬
যদুগণ নাম রাখে যদুকুলপতি। ৯৭
অশ্বিনীকুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি ॥ ৯৮
অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ। ৯৯
সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন॥ ১০০
পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমর-ভ্রমরী । ১০১
ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচরী ॥ ১০২
বঙ্কচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জরী । ১০৩
মাধুরী রাখিল নাম গোপী-মনোহারী ॥ ১০৪
মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্ট পূরণ। ১০৫
কুটিলা রাখিল নাম মদনমোহন ॥ ১০৬
মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মবন্ধ-নাশ। ১০৭
ব্রজবধূ নাম রাখে পূর্ণ অভিলাষ॥ ১০৮

দৈত্যারি দ্বারকানাথ দারিদ্য-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ॥
স্বরূপে সবার হয় গোলোকেতে স্থিতি।
বৈকুন্ঠে বৈকুন্ঠনাথ কমলার পতি॥
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম॥
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম-ঈশ্বর॥
কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিত-পাবন গুরু জ্ঞান উপদেশ॥
চিন্তামণি চতুর্ভূজদেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকীনন্দন যদুমণি॥
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা॥
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের মহিমা অপার॥
শতভার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান॥
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি ।
নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি॥
শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্ত্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন॥
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর॥
ব্রহ্মা-আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায় ।
সে ধনে বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়॥
হিরণ্যকশিপুর উদর-বিদারণ।
প্রহ্লাদে করিলা রক্ষা দেব নারায়ণ॥
বলীরে ছলিতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ॥
অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা-কৃষ্ণের চরণ॥
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ কর নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংস-ধ্বংস লঙ্কায় রাবণ॥
বকাসুর বধ আদি কালিয় দমন।
নরোত্তম কহে এই নাম সংকীর্ত্তন॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬৩-পৃষ্ঠায় দ্বিজ
হরিদাসের ভণিতায় বিবিধ পাঠান্তসহ এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী-উদরে।
জন্মিলেন কৃষ্ণচন্দ্র শ্রীমথুরাপুরে॥
শিশুরূপে আলো করে কারা অন্ধকারে।
মথুরায় দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে॥
বসুদেব থুইলা নিয়া নন্দঘোষের ঘরে।
নন্দের আলয়ো কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে॥

নন্দঘোষ খুইলা নাম শ্রীনন্দনন্দন।
যশোদা রাখিলেন নাম যাদু বাছাধন॥
উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল॥
সুবল রাখিলা নাম ঠাকুর কানাই।
শ্রীদাম রাখিলা নাম রাখালরাজা ভাই॥
ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।
কেলেসোনা নাম রাখে রাধা বিনোদিনী॥
কুব্জা রাখিলা নাম পতিতপাবন হরি।
চন্দ্রাবলী থুইলা নাম মোহন বংশীধারী॥
অনন্ত রাখিলা নাম অন্ত না পাইয়া।
কৃষ্ণনাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া॥
কণ্বমুণি নাম রাখে দেব চক্রপাণি।
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী॥
গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ণ॥
পুরন্দর নাম রাখেন দেব শ্রীগোবিন্দ।
কুন্তীদেবী রাখে নাম পাণ্ডব-আনন্দ॥
দ্রৌপদী রাখিলা নাম দেব দীনবন্ধু।
পাপী তাপী নাম রাখে করুণার সিন্ধু॥
সুদাম রাখিলা নাম দারিদ্র্যভঞ্জন।
ব্রজবাসী নাম রেখে ব্রজের জীবন॥
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর।
পশুপতি নাম রাখে খগরাজবীর॥
যুধিষ্ঠীর নাম রাখে দেব যদুবর।
বিদুর রাখিলা নাম কাঙ্গালের ঠাকুর॥
বাসুকী রাখিলা নাম দেব সৃষ্টিস্থিতি।
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি॥
নারদ রাখিলা নাম ভক্ত-প্রাণধন।
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ॥
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি।
জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি॥
বিশ্বামিত্র রাখে নাম সংসারের সার।
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার॥
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।
পঞ্চমুখে রামনাম জপে ত্রিপুরারি॥
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলি সদাচারী।
প্রহ্লাদ রাখিলা নাম নৃসিংহ মুরারি॥
দ্যৈত্যারি দ্বারকানাথ দারিদ্র্য-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণ॥
স্বরূপে সভার হয় গোলোকেতে স্থিতি।
বৈকুণ্ঠে ক্ষীরোদশায়ী কমলার পতি॥
রসময় নাগরিক নাগর অনুপাম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম॥
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর॥
কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিতপাবন গুরু জ্ঞান উপদেশ॥
চিন্তামণি চতুর্ভুজ দেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকীনন্দন যদুমণি॥
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা॥
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার॥
শঙ্খভরি সুবর্ণ১ গোকোটি কর২ দান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণনামের সমান॥
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি॥*
ব্রহ্মা আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়।
সে হরি বঞ্চিত হৈলে কি হবে উপায়॥
হিরণ্যকশিপুর উদরবিদারণ।
প্রহ্লাদে করিলা রক্ষা দেব নারায়ণ॥
বলিরে ছলিতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ॥
অষ্টোত্তর শত নাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা-কৃষ্ণের চরণ॥
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ কর নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংসধ্বংস লঙ্কায় রাবণ॥
বকাসুর বধ আদি কালিয়দমন।
দ্বিজহরিদাস কহে নাম সংকীর্ত্তন॥

টীকা - পাঠান্তর -
১। শততার সুবর্ণ।
২। কন্যা - পাঠান্তর।
*   এই চিহ্নের পর কোন কোন গ্রন্থে এই চারি পংক্তি আছে :---
শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্ত্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন॥
কৃষ্ণ নাম ভজ জীব আর সব মিছে।
পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে॥---জগবন্ধু ভদ্র, মৃণালকান্তি ঘোষ, গৌরপদতরঙ্গিণী,
৩৬৬-পৃষ্ঠা॥

এই পদ ও পরবর্ত্তী চারিটী পদ, বৈষ্ণবেরা কার্ত্তিকমাসে নামসংকীর্ত্তনরূপ দ্বারে দ্বারে খঞ্জরি
ও করতাল সহ গান করিয়া থাকেন, অতএব আমরা এই পাঁচটী পদ এই স্থানে গ্রহণ
করিলাম।---জগবন্ধু ভদ্র, মৃণালকান্তি ঘোষ, গৌরপদ-তরঙ্গিণী, ৩৬৩-পৃষ্ঠা॥
সেই পাঁচটি পদ হল - প্রেমদাসের “অশেষ গুণের নিধি গৌরাঙ্গসুন্দর”, নরোত্তম দাসের
“কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার”, শচীনন্দনের “জয় জয় গৌরহরি শচীনন্দন”, দ্বিজ
হরিদাসের “ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী উদরে” এবং নরোত্তম দাসের “প্রণমহ কলিযুগ
সর্ব্বযুগসার”।

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রণমহ কলিযুগে সর্ব্বযুগসার
হাটপত্তন
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হাটপত্তন।
বন্দেহং শ্রীগুরোঃশ্রীযুতপদকমলং শ্রীগুরুন্ বৈষ্ণবাংশ্চ
শ্রীরূপ সাগ্রজাতং সহগণরঘুনাথান্বিতং তং সজীবম্।
সাদ্বৈতং সাবধুতং পরিজনসহিতং কৃষ্ণচৈতন্যদেবং
শ্রীরাধাকৃষ্ণপাদান্ সহগণললিতান্ স্রীবিশাখান্বিতাংশ্চ॥

প্রণমহ কলিযুগে সর্ব্বযুগসার।
হরিনাম-সঙ্কীর্ত্তন যাহাতে প্রচার॥
কলি ঘোর পাপাচ্ছন্ন অন্ধকারময়।
পূর্ণ শশধর ভেল চৈতন্য তাহায়॥
শচীগর্ভসিন্ধুমাঝে চন্দ্রের প্রকাশ।
পাপ তাপ দূরে গেল তিমির বিনাশ॥
ভকত-চকোর তায়, মধুপান কৈল।
অমিয়া মাখিয়া তাহা বিস্তার করিল॥
পূর্ণকুম্ভ-নিত্যানন্দ অবধৌত রায়।
ইচ্ছা ভরি পান কৈল অদ্বৈত তাহায়॥
ঢাসিয়া ঢালিয়া খায় আর যত জন।
প্রেমদাতা নিতাইচাঁদ পতিতপাবন॥
নদী নালা সব আসি হৈল এক ঠাঁই।
প্রেমের সমুদ্র ভেল চৈতন্যগোঁসাঞি॥
পরিপূর্ণ হঞা বহে প্রেমামৃতধারা।
হরিদাস পাতিল তাহে নাম-নৌকা পারা॥
সঙ্কীর্ত্তন-ঢেউ তাহে তরঙ্গ বাড়িল।
ভকত-মকর তাহে ডুবিঞা রহিল॥
তৃণরূপী ভাসে যত পাষণ্ডীর গণে।
ফাঁপরে পড়িয়া তারা ভাবে মনে মনে॥
হরিনামের নৌকা করি নিতাই সাজিল।
দাঁড় ধরি হরিদাস বাহিয়া চলিল॥
প্রেমের পাথারে নৌকা ছাড়ি দিল যবে।
কূল পাব বলি কেহ নৌকা ধরে লোভে॥
চৈতন্যের ঘাটে নৌকা চাপিল যখন।
হাটের পত্তন নিতাই রচিল তখন॥
ঘাটের উপরে হাট থানা বসাইল।
পাষণ্ডদলন নাম নিশান গাড়িল॥
চারিদিকে চারি রস কুঠরি পুরিয়া।
হরিনাম দিল তার চৌদিকে বেড়িয়া॥
চৌকিদার হরিদাস ফুকারে ঘনেঘন।
হাট করি বেচ কিন যার যেই মন॥
হাটে বসি রাজা হৈল প্রভু নিত্যানন্দ।
মুচ্ছদ্দি হইল তাহে মুরারি মুকুন্দ॥
ভাণ্ডারী চৈতন্য ভেল আর গদাধর।
অদ্বৈত মুন্ সী ভেল পরখাই দামোদর॥
প্রেমের রমণী ভেল দাস নরহরি।
চৈতন্যের হাটে ফিরে লইয়া গাগরী॥
ঠাকুর অভিরাম আইলা হাসিয়া হাসিয়া।
কৃষ্ণপ্রেমে মত্ত হঞা ফিরেন গর্জ্জিয়া॥
আর যত ভক্ত আইল মণ্ডলী করিয়া।
হাট মধ্যে বৈসে সব সদাগর হঞা॥
দাঁড়ী ধরি গৌরীদাস পণ্ডিত ঠাকুর।
তৌল করি ফিরেন প্রেম যার যত দূর॥
শ্রীবাস শিবানন্দ লিখেন দুই জন।
এইমত প্রেমসিন্ধু হাটের পত্তন॥
সঙ্কীর্ত্তনরূপ মদ হাটে বিকাইল।
রাজ-আজ্ঞা শিরে ধরি সবে পান কৈল॥
পান করি মত্ত সবে হইল বিভোর।
নিতাই চৈতন্যের হাটে হরি হরি বোল॥
দীন হীন দুরাচার কিছু নাহি মানে।
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ প্রেম দিলা জনে জনে॥
এইমত গৌড়দেশে হাট বসাইয়া।
নীলাচলে বাস কৈলা সন্ন্যাস করিয়া॥
তাঁহা যাঞা কৈল প্রভু প্রতাপ প্রচুর।
সার্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্যের দর্প কৈলা চূর॥
প্রতাপরুদ্রেরে কৃপা কৈলা গৌরহরি।
রামানন্দ সঙ্গে দেখা তীর্থ গোদাবরী॥
হাট করি লেখা জোখা তুমার করিয়া।
রামানন্দের কণ্ঠে থুইলা ভাণ্ডার পূরিয়া॥
সনাতন রূপ যবে আসিয়া মিলিল।
ভাণ্ডার স্মঙরি রূপ মোহর করিল॥
মোহর লইয়া রূপ করিল গমন।
প্রভু পাঠাইল তাঁরে শ্রীবৃন্দাবন॥
তাঁহা যাঞা কৈলা রূপ টাকশাল পত্তন।
কারিগর আইলা যত স্বরূপের গণ॥
কারিকর লঞা রূপ অলঙ্কার কৈল।
ঠাকুর বৈষ্ণব যত হৃদয়ে ধরিল॥
সোহাগা মিশ্রিত কৈল রস পরকীয়া।
গলিত কাঞ্চন ভেল প্রকাশ নদীয়া॥
পাঁজা করি শ্রীরূপ গোঁসাঞি যবে থুইলা।
শ্রীজীব গোসাঞি তাহা গড়ন করিলা॥
থরে থরে অলঙ্কার বহুবিধ কৈল।
সদাগর হৈয়া কেহ বিতরণ কইল॥
নরোত্তম দাস আর ঠাকুর শ্রীনিবাস।
অলঙ্কার ঝালাইয়া করিলা প্রকাশ॥
এই রস বশ দেখি সর্ব্বশাস্ত্রে কয়।
লোভ অনুসারে মিলে রূপের কৃপায়॥
শ্রীগুরু-কৃপায় ইহা মিলিবে সর্ব্বথা।
সঙ্ক্ষেপে কহিল কিছু এই সব কথা॥
প্রেমের হাট প্রেমের বাট প্রেমের তরঙ্গ।
প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র পূর্ব্বলীলারঙ্গ॥
প্রেমের সাগরে হংস শ্রীরূপ হইল।
ক্ষীর নীর রত্ন মণি পৃথক করিল॥
মুঞি অতি ক্ষুদ্র জীব অতি মন্দ ছার।
কি জানি চৈতন্যলীলা সমুদ্র পাথার॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপদ হৃদয়েতে ধরি।
চৈতন্যের হাটে নিত্য ঝাড়ুগিরি করি॥
করুণাসাগর মোর গৌর-নিত্যানন্দ।
দাস নরোত্তম কহে হাটের প্রবন্ধ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

বৈষ্ণবগণের কার্ত্তিকমাসের নামসংকীর্ত্তন
॥ যথারাগ॥

প্রণমহ কলিযুগ সর্ব্বযুগসার।
হরিনাম সংকীর্ত্তন যাহাতে প্রচার॥
কলি ঘোর-পাপাচ্ছন্ন অন্ধকারময়।
পূর্ণশশধর ভেল চৈতন্য তাহায়॥
শচী-গর্ভসিন্ধু মাঝে চন্দ্রের প্রকাশ।
পাপ তাপ দূরে গেল তিমিরবিনাশ॥
ভকত-চকোর তায় মধুপান কৈল।
অমিয়া মথিয়া তাহা বিস্তার করিল॥
পূর্ণকুম্ভ নিত্যানন্দ অবধৌতরায়।
ইচ্ছা ভরি পান কৈলা অদ্বৈত তাহায়॥
ঢাসিয়া ঢালিয়া খায় আর যত জন।
প্রেমদাতা নিতাইচাঁদ পতিতপাবন॥
প্রেমের সমুদ্র ভেল চৈতন্য গোসাঞী।
নদী নালা সব আসি হৈল একঠাঁই॥
পরিপূর্ণ হৈয়া বহে প্রেমামৃত ধারা।
হরিদাস পাতিল তাহে নাম নৌকা পারা॥
সংকীর্ত্তন-ঢেউ তাহে তরঙ্গ বাড়িল।
ভকত-মকর তাহে ডুবিয়া রহিল॥
তৃণকপি ভাসে যত পাষণ্ডীর গণ।
ফাঁফরে পড়িয়া তারা ভাবে মনে মন॥
হরিনামের নৌকা করি নিতাই সাজিল।
দাঁড় ধরি হরিদাস বাহিয়া চলিল॥
প্রেমের পাথারে নৌকা ছাড়ি গেল যবে।
কূল পাব বলি কেহ নৌকা ধরে লোভে॥
চৈতন্যের ঘাটে নৌকা চলিল যখন।
হাটের পত্তন নিতাই রচিল তখন॥
ঘাটের উপরে হাট খানা বসাইল।
পাষণ্ড দলন নাম নিশান গাড়িল॥
চারিদিকে চারিরস কুঠরি পূরিয়া।
হরিনাম দিল তার চৌদিকে বেড়িয়া॥
চৌকিদার হরিদাস ফুকারে ঘনে ঘন।
হাট করি বেচে কিনে যার যেই মন॥
হাটে বসি রাজা হৈল প্রভু নিত্যানন্দ।
মুচ্ছদ্দি হইল তাহে মুরারি মুকুন্দ॥
চৈতন্য ভাণ্ডারী আর পণ্ডিত গদাই।
অদ্বৈত মুন্ সি ভেল দামোদর পরখাই॥
প্রেমের রমণী ভেল দাস নরহরি।
চৈতন্যের হাটে ফিরে লইয়া গাগরী॥
ঠাকুর অভিরাম আইলা হাসিয়া হাসিয়া।
কৃষ্ণপ্রেমে মত্ত হৈয়া ফিরেন গর্জ্জিয়া॥
আর যত ভক্ত আইল মণ্ডলি করিয়া।
হাট মধ্যে বৈসে সব সদাগর হইয়া॥
দাঁড়ি ধরি গৌরীদাস পণ্ডিত ঠাকুর।
তৌল করি ফিরেন প্রেম যার যত দূর॥
শ্রীবাস শিবানন্দ লিখেন দুই জন।
এইমত প্রেম-সিন্ধু-হাটের পত্তন॥
সংকীর্ত্তনরূপ মদ হাটে বিকাইল।
রাজ-আজ্ঞামতে বংশী-আদি পান কৈল॥
পান করি মত্ত সবে হইল বিভোল।
নিতাই চৈতন্যের হাটে হরি হরি বোল॥
দীনহীন দুরাচার কিছু নাহি মানে।
ব্রহ্মার দুর্লভ প্রেম দিলা জনে জনে॥
এই মত গৌড়দেশে হাট বসাইয়া।
নীলাচলে বাস কৈলা সন্ন্যাস করিয়া॥
তাহা যাঞা কৈল প্রভু প্রতাপ প্রচুর।
সার্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্যের দর্প কৈলা চূর॥
প্রতাপরুদ্রেরে কৃপা কৈলা গৌরহরি।
রামানন্দ সঙ্গে দেখা তীর্থ গোদাবরী॥
হাট করি লেখা জোখা তুমার করিয়া।
রামানন্দের কণ্ঠে থুইল ভাণ্ডার পূরিয়া॥
সনাতন রূপ যবে আসিয়া মিলিলা।
ভাণ্ডার স্মউরি রূপ মোহর করিলা॥
মোহর লইয়া রূপ করিলা গমন।
প্রভু পাঠাইল তারে শ্রীবৃন্দাবন॥
তাঁহা যাঞা কৈলা রূপ টাকশাল পত্তন।
কারিগর আইলা যত স্বরূপের গণ॥
কারিগর হৈঞা রূপ অলঙ্কার কৈলা।
ঠাকুর বৈষ্ণব যত হৃদয়ে ধরিলা॥
সোহাগা মিশ্রিত কৈলা রস পরখিয়া।
গলিত কাঞ্চন ভেল প্রকাশ নদীয়া॥
পাঁজা করি শ্রীরূপ গোসাঞী যবে থুইলা।
শ্রীজীব গোসাঞী তাহা গড়ন করিলা॥
থরে থরে অলঙ্কার বহুবিধ কৈল।
সদাগর হৈয়া কেহ বেতন লইল॥
নরোত্তমদাস আর শ্রীশ্রীনিবাস।
অলঙ্কার ঝালাইয়া করিল প্রকাশ॥
এই রস বশ দেখি সর্ব্বশাস্ত্রে কয়।
লোক অনুসারে মিলে রূপের কৃপায়॥
শ্রীগুরুকৃপায় ইহা মিলিবে সর্ব্বথা।
সংক্ষেপে কহিব কিছু এই সব কথা॥
প্রেমের হাট প্রেমের বাট প্রেমের তরঙ্গ।
প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র পূর্ব্বলীলারঙ্গ॥
প্রেমের সাগরে হংস শ্রীরূপ হইল।
ক্ষীর নীর রত্নমণি পৃথক্ করিল॥
মুঞি অতি ক্ষুদ্র জীব অতিমন্দ ছার।
কি জানি চৈতন্যলীলা সমুদ্র পাথার॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণব পদ হৃদয়েতে ধরি।
চৈতন্যের হাটে নিত্য ঝাড়ুগিরি করি॥
করুণাসাগর মোর গৌর নিত্যানন্দ।
দাস নরোত্তম কহে হাটের প্রবন্ধ॥

টীকা -
এই পদ ও পরবর্ত্তী চারিটী পদ, বৈষ্ণবেরা কার্ত্তিকমাসে নামসংকীর্ত্তনরূপ দ্বারে দ্বারে খঞ্জরি
ও করতাল সহ গান করিয়া থাকেন, অতএব আমরা এই পাঁচটী পদ এই স্থানে গ্রহণ
করিলাম।---জগবন্ধু ভদ্র, মৃণালকান্তি ঘোষ, গৌরপদ-তরঙ্গিণী, ৩৬৩-পৃষ্ঠা॥

সেই পাঁচটি পদ হল - প্রেমদাসের “অশেষ গুণের নিধি গৌরাঙ্গসুন্দর”, নরোত্তম দাসের
“কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার”, শচীনন্দনের “জয় জয় গৌরহরি শচীনন্দন”, দ্বিজ
হরিদাসের “ভাদ্রকৃষ্ণা-অষ্টমীতে দেবকী উদরে” এবং নরোত্তম দাসের “প্রণমহ কলিযুগ
সর্ব্বযুগসার”।

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মহামহা মহোত্সব সম্পূর্ণ কারণ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দধি মঙ্গল।
॥ যথারাগ॥

মহামহা মহোত্সব সম্পূর্ণ কারণ।
সর্ব্ব মঙ্গল আনাইলেন শ্রীশচীনন্দন॥
গৌরীদাস কীর্ত্তনীয়ার করেতে ধরিয়া।
কহিলেন মহাপ্রভু কান্দিয়া কান্দিয়া॥
গোলকের সম্পদ হরিনাম সংকীর্ত্তন।
কেমনে বিদায় দিব মহান্তেরগণ॥
এত শুনি নিত্যানন্দ আইলা ধাইয়া।
ভূমিতে ফেলিল ভাণ্ড আছাড় মারিয়া॥
দ্বাদশ গোপাল গেল আপন ভবন।
চৌষট্টি মহান্ত দেল নিজ নিকেতন॥
নিত্যানন্দ চলি গেল আপনার বাস।
ভূমিতে পড়িয়া কান্দে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৯০ -পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দধি মঙ্গল।

মহা মহা মহোত্সব সম্পূর্ণ কারণ।
দধিমঙ্গল আনাইলেন শ্রীশচী-নন্দন॥
গৌরীদাস কীর্ত্তনীয়ার করেতে ধরিয়া।
কহিছেন মহাপ্রভু কান্দিয়া কান্দিয়া॥
গোলকের সম্পদ হরিনাম সংকীর্ত্তন।
কেমনে বিদায় দিব মহান্তেরগণ॥
এত শুনি নিত্যানন্দ আইলা ধাইয়া।
ভূমেতে ফেলিল ভাণ্ড আছাড় মারিয়া॥
দ্বাদশ গোপাল গেল আপন ভবন।
চৌষট্টি মহান্ত গেল নিজ নিকেতন॥
নিত্যানন্দ চলি গেল আপনার বাস।
ভূমিতে পড়িয়া কান্দে নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরয়ে নমঃ, কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।
যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ॥
গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।
গিরিধারী গোপীনাথ মদনমোহন॥
শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত সীতা।
হরি গুরু বৈষ্ণব ভাগবত গীতা॥
শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোসাঞের করি চরণ বন্দন।
যাঁহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্টপূরণ॥
এই ছয় গোঁসাই যাঁর, মুই তাঁর দাস।
তাঁ সবার পদরেণু মোর পঞ্চগ্রাস॥
তাঁদের চরণসেবি ভক্তাসনে বাস।
জনমে জনমে হয় এই অভিলাষ॥
এই ছয় গোসাঞি যবে ব্রজে কৈলা বাস।
রাধা-কৃষ্ণ নিত্যলীলা করিলা প্রকাশ॥
আনন্দে বলহ হরি, ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপদে মজাইয়া মন॥
শ্রীগুরু বৈষ্ণবপাদপদ্ম করি আশ।
নাম-সংকীর্ত্তন কহে নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা গীত শেষ করিয়া এই গানটি করিতে হয়
॥ রাগিণী ইমন মিশ্র - তাল ছুটা॥

হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।
যাদবায় মাধবায় কেপবায় @ নমঃ॥
গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।
গিরিধারী গোপীনাথ মদনমোহন॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ অদ্বৈত সীতা।
হরি গুরু বৈষ্ণব ভাগবত গীতা॥
জয় রূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোঁসাইয়ের করি চরণ বন্দন।
যাহা হৈতে বিঘ্ন নাশ অভীষ্ট পূরণ॥
এই ছয় গোসাঞি যাঁর তার মুঞি দাস।
তা সবার পদরেণু মোর পঞ্চ গ্রাস॥
এই ছয় গোসাঞি সেবি ব্রজভূমে বাস।
জনমে জনমে মোর এই অভিলাষ॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পদে মজাইয়া মন॥
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পাদ-পদ্ম করি আশ।
নাম সংকীর্ত্তন কহে নরোত্তম দাস॥

প্রাচীন পদ্ধতি অনুসারে এই পর্য্যন্ত গাহিতে হইবে।
@ কেপবায় - সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ, “কেশবায়” হবে।

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪৩৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নাম-সংকীর্ত্তন
॥ তথারাগ॥

হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।
যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ॥
হরি গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।
গিরিধারী গোপীনাথ মদনমোহন॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ অদ্বৈত সীতা।
হরি গুরু বৈষ্ণব ভাগবত গীতা॥
শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ॥
এই ছয় গোঁসাইর করি চরণ বন্দন।
যাঁহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট-পূরণ॥
এই ছয় গোঁসাই যবে ব্রজে কৈলা বাস।
রাধাকৃষ্ণনিত্যলীলা করিলা প্রকাশ॥
এই ছয় গোঁসাই যাঁর মুই তাঁর দাস।
তা সবার পদরেণু মোর পঞ্চগ্রাস॥
মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপায়ে মজাইয়ে মন॥
শ্রীগুরু বৈষ্ণবপাদপদ্ম করি আশ।
(হরি) নাম-সংকীর্ত্তন করে নরোত্তমদাস॥
হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল॥

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মূরতিশিঙ্গারিনী রাসবিহারিনী
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম আট পংক্তির শেষে
গোবিন্দ দাসের ভণিতা রয়েছে। এই অবধি পদটি নিশ্চিতভাবে গোবিন্দদাসের।

এর পরের আট পংক্তি, নরোত্তম দাস ভণিতাযুক্ত “রাই অঙ্গ ছটায় উদিত ভেল দশদিশ”
শিরোনামের পদ, সম্পূর্ণ রূপে। গ্রন্থের সম্পাদনার ত্রুটির জন্য এই দুটি পদ
একত্রে প্রকাশিত হয়ে থাকতে পারে। পদটির সংগ্রহের প্রায় ৪৮ বছর পরে গ্রন্থটি
সম্পাদনা করে প্রকাশিত করা হয়েছিল। আমরা তবুও এইরূপে পদটি এখানে কবি
নরোত্তম দাসের পাতায় প্রকাশিত করলাম।

দাক্ষিণাত্য শ্রী।

মূরতিশিঙ্গারিনী রাসবিহারিনী, মণিময় ভূষিত অঙ্গ।
মধুরিম হাসিনী রসময় ভাষিণী দসন কিরণ মণি মোতিম রঙ্গী॥
জয় জয় জয় বৃষভানু কিশোরী।
গোরচন রুচি চোরণ গোরী॥ ধ্রু॥
চমকিত খঞ্জন, গতি জিনি লোচন, মনমথ মনোমত ভাঁতি।
সতত রঙ্গিনী, ভাঙ ভুজঙ্গিনী, কালীয়দমন মদনমদে মাতি॥
শ্যাম মনোহর, মনমথ কুঞ্জর, কুচ কনকাচলে বিহরত দেখি।
নীল নিচোল ভালে ঝাঁপে বান্ধল গোবিন্দ দাস যুগতি না উপেখি॥
রাই অঙ্গ ছটায় উদিত ভেল দশদিগ, শ্যাম ভেল গৌর আকার।
গৌর ভেল সখীগণ, গৌর ভেল কুঞ্জবন, রাইরূপ চৌদিগে পাথার॥
গৌর ভেল শুকশারী, গৌর ভ্রমরা ভ্রমরী, গৌরপাখে বসি ডাকে ডালে।
গৌর কোকিলাগণ, গৌর শ্রীবৃন্দাবন, গৌর তরু গৌর ফল ফুলে॥
গৌর যমুনা জল, গৌর ভেল জলচর, গৌর সারস চক্রবাক।
গৌর আকাশ দেখি, গৌর চান্দ তার সাখি, গৌর তারা বেড়ি লাখে লাখ॥
গৌর অবনী ভেল, গৌরময় সব হইল, রাইরূপ চৌদিগে ঝম্পিত।
নরোত্তম দাসে কয়, অদ্ভুত রূপ হয়, দুহুঁ তনু একই মিলিত॥

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কৃষ্ণ অনুরাগে হিয়া থির নাহি ধরে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৯ -পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৃষ্ণ অনুরাগে হিয়া থির নাহি ধরে। পূরব সোঙরি গোরা সাজে অভিসারে॥
বিচিত্র বসন অঙ্গে বিচিত্র ভূষণ। কস্তুরি চন্দন চুয়া অঙ্গেরি লেপন॥
চাঁচর চিকুরে শোভে মালতীর মাল। নীলমণি মালা গলে সাজিআছে ভাল॥
তপত কাঞ্চন অঙ্গ নবীন যৌবন।
চঞ্চল নয়ানে গোরা দশদিগ চায়। কৃষ্ণগুণ সোঙরিয়া পদ বাহিরায়॥
পারিসত মেলি পুহু সরধনি চলে। নরোত্তম দাস তাহা দূরেতে নেহারে॥

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দোঁহঁ তিরপিত ভেল দোঁহঁ নিবেদনে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬১ -পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দোঁহঁ তিরপিত ভেল দোঁহঁ নিবেদনে। অমিএ বরিখে যেন দোঁহাঁর বচনে॥
রসিক মুরারি তাথে রাই রসিকিনী। কি দিব তুলনা দোঁহার দোঁহঁ রসখনি॥
বাঢ়িল রজনী অঙ্গ হইল অধর। অলসের ভরে ধনি হইল কাতর॥
সুতল বিনোদ কোড়ে বিনোদ নাগরী। নরোত্তম দাস তাহা দুরেতে নেহারি॥

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিজ গৃহে বসি গোরারায়
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৩ -পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিজ গৃহে বসি গোরারায়। প্রিয় সহচরগণে কয়॥
বিচলিত পূরব সুঙারি। নিজভাব কহএ উহারি॥
পুলকে ভরল সব অঙ্গ। বিথরই ভাবের তরঙ্গ॥
নয়ানে বহএ প্রেমধার। জেন সুরধুনী অবতার॥
শ্রমজল বহে অনিবার। ভিঁগেও নীল অম্বর॥
কহইতে গদগদ ভাষ। হেরই নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর