কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
কি শোভা হইয়াছে আজু সুরধুনীতীরে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৩ -পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি শোভা হইয়াছে আজু সুরধুনীতীরে। গদাধর সঙ্গে পহু সদাই বিহরে॥
দুহুজন মেলি বৈঠল একাসনে। পুরূবে বৈঠল জেমন নিকুঞ্জকাননে॥
সহচরগণ সব মেলি চারিপাশ। নিজ নিজ ভাব করএ প্রকাশ॥
তুলনা দিবার নাহি রূপ দোঁহাকার। তারাগণ মাঝে শোভে যুগ শশধর॥
গদাধর রসময় গোউর বসিঁয়াঁ। রসেতে মাতল সব সঙ্গের সঙ্গীয়া॥
রসেতে বাদল ভেল হইল চারিভিত। নরেত্তম দাস এ না রসে হইল বঞ্চিত॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জিনি কনকাচল কান্তি উজিআর
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ তিমির অভিসার॥

জিনি কনকাচল কান্তি উজিআর। নিজ অঙ্গ হেরি গোরা করত বিচার॥
নিবিড় তিমির ভরু ঘোর আন্ধিআর। পারিষদে কহে শুন বচন আমার॥
মৃদমদে তনু মোর করহ লেপন। লখিতে না পারে জেন জত দূরজন॥
নীল বসন দেহ নীল ভূষণ। কৃষ্ণ দরশনে আমি করিব গমন॥
নরোত্তম দাস বলে রাই ভাবাযোগে। সুরধুনী জাবে গোরা না সহে বেয়াজে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানু অনুরাগে চলত বিভোর
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

কানু অনুরাগে চলত বিভোর। মদন দহন আগী সেই লেই ক্রোড়॥
শীতল ভূতল গরলম সম ভেল। বিদগদ ভাবে তঁহি দিগ করি চেল॥
হিমগুরুবাত বহই অনিবার। হরিগুণ বাতে তঁহি করত নিবার॥
হিমকরকিরণ হিম অনিবার। দিশি দিশি হিমগিরি পবন বিথার॥
চলিলা রমণী ধনি আকুল চিত। সঙ্কেত কেলি নিকুঞ্জে উপনীত॥
নরোত্তম দাসে কহে সব দুখ গেই। নিকুঞ্জমন্দির পর ভেঠল রাই॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনোদিনী কৈছনে তেজলি গৃহ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিনোদিনী কৈছনে তেজলি গৃহ। তনু অনুরোধ নাহি তোঁহারি সুনেহ॥
কম্পিত লম্বিত নহে হিমঋতু বাএ। মদনে দহন তব তাপিত গাএ॥
এক বসনে শীত আবরল দেহ। উনন্মদ তোমার প্রেম অম্বর সেহ॥
তুষারে বেথিত নহে যুগল চরণ। পদদুখহত তুয়া দরসে গমন॥
অবলা আরামে ভয় কিছু নাহি লাগি। হরি বলে পরিহরি সব ভয় তেগী॥
বলে শ্যাম বিকাইলাম তোমার প্রেমেতে। নরোত্তম বলে ধার নারিবে শুধিতে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন সুন গুণবতী রসময়ী রাধা
শুন শুন গুণবতি রসময়ি রাধা
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

সুন সুন গুণবতী রসময়ী রাধা।  কৈছে তেজলি গৃহ বহুবিধ বাধা॥
গগনে সঘন ঘন গরজন জারি। কুলিশ পতন ভেল মরম বিদারি॥
দশদিশ দামিনী দহন তরঙ্গ। লোচনহি উচকোই কাঁপই অঙ্গ॥
তিমির ছাপই রহু কতহ ভুজঙ্গ। কৈছে বাঢ়াঅলি পদ আয়লি কুঞ্জ॥
পঙ্কহি বাট ভরু কণ্টক মেলি। কমল চরণ বহি আয়লি চলি॥
কত দুখ পায়লি নাহি পরিমাণ। নরোত্তম দাসে কহে সব দুখ জান॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ২৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ শ্রীকৃষ্ণোক্তি॥

শুন শুন গুণবতি রসময়ি রাধা।  
কৈছে তেজলি গৃহ বহু বিধ বাধা॥
গগনে সঘন ঘন গরজন জারি।
কুলিশ পতন ভেল মরম বিদারি॥
দশ দিশ দামিনী দহন তরঙ্গ।
ন চলহি কোই উঠ কাঁপই অঙ্গ॥
তিমির ছাপই রহু কতহুঁ ভুজঙ্গ।
কৈছে বাঢ়াওলি পদ আওলি কুঞ্জ॥
পঙ্কহি বাট ভেল কণ্টক মেলি।
কোমল চরণ বহি আয়লি চলি॥
কত দুখ পায়লি নাহি পরিমাণ।
নরোত্তম দাসে কহে সব দুখ জান॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই প্রেমে আবৃত ভাবে বিভাবিত
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৯৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুরুষ বেশে অভিসার রাত্রৌ। তদুচিত শ্রীমহাপ্রভুঃ॥

রাই প্রেমে আবৃত    ভাবে বিভাবিত    সমুদিত গোরা দ্বিজরাজ।
নিকর পুলকিত    প্রলাপে প্রলাপিত    গতাবিত সুরধুনী সাজ॥
বিমল হেম জিনি    হেরি রূপলাবণি    যামিনী উজরল চন্দ।
সময় ঐছন    জতহি দুরজন    রাজবাটে পাতল দ্বন্দ্ব॥
নিজ বেশ পরিহরি    আপন বেশ ধরি    সোঙরি পূরব বিভাব।
মত্ত গজেন্দ্র জেন    প্রতিপদ গমন    না জানল পাষণ্ডীয় সব॥
নিজ ভাব বিথরই    নব অভিসারই    উপজই সরধুনী তীরে।
নরোত্তম দাস রত    তু না রূপ ভাবিত    তৃপিত নয়ানেতে হেরি॥

.                   ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিপরীত ভাব গোরার কহনে না জায়
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিপরীত ভ্রমাভিসার তথোচিত শ্রীমহাপ্রভু॥

বিপরীত ভাব গোরার কহনে না জায়। প্রলাপ বিভ্রম আদি চিত্তেন্দ্রিয় কায়॥
অঙ্গ ভূমে মলয়জ লেই কেশভারে। রচএ তিলকালক ওর পরিসরে॥
রতন কুসুম দাম চরণে বঞ্চিত। কনক নূপুর করে বাহুতে শোভিত॥
শ্রুতির কুণ্ডল দিল অঙ্গুলির মাঝে। রতন বলয়া নিয়ে শ্রুতিমূল সাজে॥
খেনে উচ্চস্বরে বলে সুরধুনী জাব। কৃষ্ণ প্রাণনাথ মোর তাহারে মিলিব॥
এতেক বলিএ গোরা চলে ভাবাবেশে। দূরে থেকে দেখে তাহা নরোত্তম দাসে॥

.                   ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তপাদিনে হেরে গোরা প্রভাত সময়
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কুজ্ঝটি অভিসার॥

তপাদিনে হেরে গোরা প্রভাত সময়। শীত কুজ্ঝটি বহু বাত অতিশয়॥
ঘোর আন্ধিয়ারে কুহু দিগ বেয়াপি। দিনমণি কাঁতি রহল সব ঝাঁপি॥
ঐছন সমএ পহু গোরা দ্বিজমণি। দুরজন বঞ্চিএ চলোত সুরধুনী॥
ইত প্রবল গতি ভাবাবেশে চলে। ত্রিপথাগাকূলে মিলে নরোত্তম বলে॥

.                   ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুরধুনী তীরে গোরা কীর্তনাভিলাষে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তীর্থাভিসার তদুচিত মহাপ্রভু॥

সুরধুনী তীরে গোরা কীর্তনাভিলাষে। রজনী হইল গতো না পূরে লালসে॥
কেনে গদাধর না আইল নরহরি। কি আনন্দে নিরানন্দ পোহাইল শর্বরী॥
অবিরত প্রেমধারা বহে দুনয়নে। পহুর দুখেতে ঝোরে পশু পাখিগণে॥
পূরব সোঙরি গোরা বিষাদিত মনে। হেথা গদাধর চলে পহু অন্বেষণে॥
মাঘ সঙ্কম দিন কুজ্ঝটি অতিশয়। মাঘ সিনানে গোরা ভেটিবারে জায়॥
মিলল গদাধর সুরধুনি তীরে। দোহে প্রেমানন্দ তাহা নরোত্তম হেরে॥

.                   ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তামাল ধরিএ ধনি মাগএ বিদায়
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১২০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তামাল ধরিএ ধনি মাগএ বিদায়। আর নাহি বৈঠব তোঁহার তলায়॥
আর নাহি করিব সো প্রিয়া সঙ্গ। জনম অবধি ভেল রস পরসঙ্গ॥
আর নাহি আসিব এ কুঞ্জকানন। বংশীর রব নাহি করিব শ্রবণ॥
ইথে জদি নাহি করে অবিচল বিধি। কানু সনে প্রেম মোর হইল অবুধি
উদাস হইএ ধনি মৌনে রহিল। নরোত্তম দাস দুখসাগরে পসিল॥

.                   ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর