কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
রাইক জীবন শেষ শুনি সহচরি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম ৪টি পংক্তি
বাদ দিয়ে অন্যান্য সংকলনে "শুন শুন মাধব বিদগধরাজ" শিরোনামে পদটি দেওয়া রয়েছে। আমরা তাই
পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলেছি পাঠকের সুবিধার জন্য।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
শ্রীরাধার আপ্তদূতী।
॥ কামোদ মঙ্গলরাগ - ছেট দশকুশী॥

রাইক জীবন,                         শেষ শুনি সহচরি,
বহু পরবোধল তায়।
ধৈরয ধরি পুন,                         কানু নিয়ড়ে চলু,
না দেখিয়া আন উপায়॥
মাধব নিলজহিঁ কহি পুন বেরি।
সো কুল কামিনী,                       নিচয় মরণ জানি,
কহইতে আওলু ফেরি॥ ধ্রু॥
শুন শুন মাধব বিদগধরাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বিয়াজ॥
নব কিশলয়দলে শুতলি গোরী।
বিষম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলাগুরু তুহুঁ সব জান॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু কি শোভারে বৃন্দাবনে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ২৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ কামোদ রাগ॥

আজু কি বা শোভারে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিল রতন সিংহাসনে॥
রতনের নির্ম্মিত বেদী মাণিকের গাঁথনী।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
হেম-বরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোনার কমলে যেন মিলিছে ভ্রমর॥
চৌদিগে যুবতীবৃন্দ বয়সে সমান।
কত সুধা বরখিয়ে নয়ানে নয়ান॥
এক এক তরুর তলে এক এক অবলা।
নীলগিরি বেঢ়ি যেন কনকের মালা॥
নিকুঞ্জের মাঝে ইহ কেলি-বিলাস।
দূরহি দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, রুপানুরাগ, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বিহাগ - তেওট॥

আজু কি শোভারে বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিলেন রত্ন সিংহাসনে॥
রতনে নির্ম্মিত বেদী মাণিকের গাঁথনি।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
হেম বরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে জনু মিলিছে ভ্রমর॥
চৌদিগে যুবতীবৃন্দ বয়েস সমান।
কত সুধা বরখিয়ে নয়ানে নয়ান॥
এক এক তরু তলে এক এক অবলা।
নীল গিরি বেড়ি জনু কনকের মালা॥
বেণী চূড়ায় ঘেরাঘেরি ফিরাফিরি বাহু।
শরদ পূর্ণিমা চাঁদে গরাসল রাহু॥
নিকুঞ্জের মাঝে ইহ কেলি বিলাস।
দূরহি দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই কানু বিলসই নিকুঞ্জ মাঝারে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন  পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৫৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী - একতালা॥

রাই কানু বিলসই নিকুঞ্জ মাঝারে।
সখীগণ ভাসল আনন্দ পাথারে॥
নয়নে নয়নে দোঁহার বয়ানে বয়ানে।
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁক বদনে॥
দুখ সঞে সুখ ভেল দুহুঁ অতি ভোর।
দুহুঁক নয়নে বহে আনন্দ লোর॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোঁহার কেলি বিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবরে নবরে নব দোঁহাকার প্রেম
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন  পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, মানপ্রকরণ, ৫৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ঝুমর - ধামালী॥

নবরে নবরে নব দোঁহাকার প্রেম।
দোঁহার পিরীতি খানি অতি অনুপাম॥
রাধাকুণ্ড তীরে আজু দোঁহার মিলন।
হেরি হেরি সখীগণ আনন্দে মগন॥
সখী সঙ্গে দুহুঁজনে হেরিয়া বিভোর।
(প্রেমে) ডুবল নরোত্তম না পাইল ওর॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আরে মোর রাম কানাই
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, মুরলী শিক্ষা, ৪২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুই - সমতাল॥

আরে মোর রাম কানাই।
কলিতে হইল দোঁহে চৈতন্য নিতাই॥
পঞ্চরসে মাতাইল অখিল ভুবন।
সে কৃপা নহিল ইহা জানিবে কোন জন॥
যে জন ডুবয়ে এই প্রেমরসে।
তার পদধূলি মাগে নরোত্তম দাসে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাস বিলাস মুগধ নটরাজ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, বাসন্তী রাসলীলা, ৬৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত - তেওট॥

রাস বিলাস মুগধ নটরাজ।
যূথহি যূথ রমণীগণ মাঝ॥
দুহুঁ দুহুঁ নয়ানে নয়ানে ভেল মেলি।
হেরি সখীগণ আনন্দ ভেলি॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁজন॥
নিকুঞ্জ মাঝারে দোঁহার কেলি বিলাস।
দূরে রহি নিরখত নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কপট বৈষ্ণব বেশে বেড়াইনু দেশে দেশে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা, ৬৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী - ধামালী॥

কপট বৈষ্ণব বেশে,                      বেড়াইনু দেশে দেশে,
উদর পূরণ আচরিতে।
না বুঝিলাম হরিনাম                        কিসে হবে পরিত্রাণ
ভেক ধরি লোক বুঝাইতে॥
প্রভু গো মো বড় পতিত দুরাচার।
মহতের নাম ধরি                          করি নানা ভারিভূরি
কপটেতে বেড়াইলাম সংসার॥ ধ্রু॥
বৈষ্ণব বলিয়া মোরে                       সর্ব্বজনে ভক্তি করে
মোর নাহি বৈষ্ণব আচার।
পর নারী পর ধন,                            ইহাতে মডিল মন,
নিরবধি এই মাত্র সার॥
শঠতা চাতুরী করি,                           দম্ভ করিয়া ফিরি,
লম্ফ ঝম্ফ রজনী দিবসে।
গ্রন্থ গীতা শাস্ত্র আদি,                        পড়ি শুনি নিরবধি,
মোর মনে কিছু না পরশে॥
আপনি বৈষ্ণব জ্ঞানে,                          ভুলাইনু জগজনে,
সে তরিল আমি যারে ভাঁড়ি।
কহে নরোত্তম দাস,                        মোর হইল সর্ব্বনাশ,
আপনি হইনু ছড়াহাঁড়ি॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধামাধব কুঞ্জ-গৃহে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৩৪৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তীরাস
॥ ঝুমুর॥

রাধামাধব কুঞ্জ-গৃহে।
হেরইতে রূপ মদন-মন মোহে॥
দুহুঁ জন বৈঠি কহয়ে রসভাস।
শ্রম-জলে দুহুঁক ভিগল বাস॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহাঁর কেলীবিলাস।
দূরে রহি নিরখত নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি বলব আর মদনমোহন হেরিব গো
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২০৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি বলব আর মদনমোহন হেরিব গো।
এইরূপে ব্রজের পথে চলিব গো॥ ধ্রু॥
যাব গো ব্রজেন্দ্রপুর,                        হব গো গোপিকা নূপুর,
তাদের চরণে মধুর মধুর বাজিব গো।
বিপিনে বিনোদ খেলা,                     সঙ্গেতে রাখালের মেলা,
(কৃষ্ণ বলরাম সহ) তীঁদের চরণে ধূলা মাখিব গো॥
অঞ্জলি অঞ্জলি করি,                       রাধাকৃষ্ণের রূপ মাধুরী,
হেরব দুনয়ন ভরি নিকুঞ্জের দ্বারে দ্বারী রহিব গো!
তোমরা সব ব্রজবাসী,                  পূরাও আমার অভিলাষ-ই,
আর কবে কৃষ্ণের বাঁশী শুনিব গো॥
এই দেহ অন্তিমকালে,                        রাখব শ্রীযমুনার জলে,
জয় রাধা শ্রীকৃষ্ণ বলে ভাসিব গো।
কহে নরোত্তম দাস,                             না পূরিল অভিলাষ,
আর কবে ব্রজ বাস করিব গো॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর