কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
কঞ্জ নয়নে বহে সুরধুনী ধারা
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রী নিত্যানন্দচন্দ্র
॥ বড়ারী॥

কঞ্জ নয়নে বহে সুরধুনী ধারা।
নাহি জানে দিবা নিশি প্রেমে মাতোয়ারা॥
নাচত পহুঁ মোর নিতাই রঙ্গিয়া।
পূরব বিলাসিত সঙ্গে সব রঙ্গিয়া॥
বাজত দৃমি দৃমি মৃদঙ্গ সুনাদ।
দৃমি দৃমি উনমত সঙ্গে উনমাদ॥
শির পর পাগুড়ি বান্ধএ নটপটিয়া।
কটি আঁটি পরিপাটি পরে নীল ধটিয়া॥
আবেশে অবশ অঙ্গ চলন ধীরে ধীরে।
ভাইয়ার ভাবে গদগদ আঁখি নাহি মেলে॥
অজানুলম্বিত ভুজ করি কর শুণ্ডে।
কনক খচিত দণ্ড দলন পাষণ্ডে॥
তুমি ত দয়ার নিতাই অবনী পরকাশ।
শুনি আনন্দিত ভেল নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

কঞ্জ নয়নে বহে সুরধুনী ধারা।
নাহি জানে দিবা নিশি প্রেমে মাতোয়ারা॥
নাচত পহুঁ মোর নিতাই রঙ্গিয়া।
পূরব বিলাসিত সঙ্গে সব রঙ্গিয়া॥
বাজত দৃমি দৃমি মৃদঙ্গ সুনাদ।
দৃমি দৃমি উনমত সঙ্গে উনমাদ॥
শির পর পাগুড়ি বান্ধএ নটপটিয়া।
কটি আঁটি পরিপাটি পরে নীল ধটিয়া॥
আবেশে অবশ অঙ্গ চলন ধীরে ধীরে।
ভাইয়ার ভাবে গদগদ আঁখি নাহি মেলে॥
অজানুলম্বিত ভুজ করি-কর-শুণ্ডে।
কনক খচিত দণ্ড দলন পাষণ্ডে॥
তুমি ত দয়ার নিতাই অবনী পরকাশ।
শুনি আনন্দিত ভেল নরোত্তম দাস॥

.                 ***********

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী
মিললি কুঞ্জে রাই কমলিনী
মিলল রাই নিকুঞ্জে রাই কমলিনী
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব, অভিসারোত্কণ্ঠা, ১০২১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোহে দোহাঁ পায়ল পরশ-মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস-সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন-তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৪৫০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোহে দোহাঁ পায়ল পরশ-মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস-সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উছলল দুহুঁ মন মদন-তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ নেহারই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী। দোহে দোঁহা পাওল পরসক মণি॥
দরসনে দুহু দুহু ভনহি ভোর। নয়নে ঝোরএ দোঁহার আনন্দলোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ। উথলিল দোহু মনে মদনতরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস। দোহু মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী। দোহে দোঁহা পাওল পরসক মণি॥
দরসনে দুহু দুহু ভনহি ভোর। নয়নে ঝোরএ দোঁহার আনন্দলোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ। উথলিল দোহু মনে মদনতরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস। দোহু মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই যথা তালৌ॥

মিলল রাই নিকুঞ্জে রাই কমলিনী। দোঁহে দোহা পাওল পরেশমণি॥
দরসনে দুহু মুখ দু পহুঁ প্রেমে ভোর। নয়নে ঝুরএ দোঁহার আনন্দলোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ। উথলল দোঁহ মন মদনতরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দ ভাস। দোঁহ মুখ হেরয়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
২৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই-কমলিনী। দোঁহে দোঁহে পায়ল পরশমণি॥
দরশনে দোহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর। নয়নে ঝরয়ে দোহার আনন্দ নোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজিল রঙ্গ। উখলল দুহুঁ মনে মদন-তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস। দুঁহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ মিলন
॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহে পাঅল পরশমণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়ন ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোহেঁ পায়ল পরশ-মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দুহাঁর আনন্দ লোর॥
সরস-সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
   
॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহে পাঅল পরশমণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়ন ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোহে দোহে পাওল পরশ মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহু মন মদন তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহু মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহে পায়ল পরশ-মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেম ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দুহাঁর আনন্দ-লোর॥
সরম সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহু মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহে পায়ল পরশ-মণি॥

দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দুহাঁর আনন্দ-লোর॥

সরম সম্ভাষণ উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন প্রেম-তরঙ্গ॥

সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহে পায়ল পরশ-মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দুহাঁর আনন্দ-লোর॥
সরম সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন কতহুঁ তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ সুহই॥

মিললি কুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহে পায়ল পরশ-মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দুহাঁর আনন্দ-লোর॥
সরম সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মনে রসের তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সবে আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই - একতালা॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহা পায়ল পরশ মণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন-তরঙ্গ॥
সহচরী-গণে সভে আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ১৮৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগল মিলন
॥ সুহই - একতালা॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহা পায়ল পরশমণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন-তরঙ্গ॥
সহচরীগণে সভে আনন্দ ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৪৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোঁহে দোঁহা পায়ল পরশমণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোঁহার আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মন মদন-তরঙ্গ॥
সহচরীগণ সব আনন্দে ভাষ।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ সুহই॥

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোহেঁ দোহাঁ পায়ল পরশমণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোহাঁর আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মনে মদনতরঙ্গ॥
সহচরিগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিললি নিকুঞ্জে রাই কমলিনী।
দোহেঁ দোহাঁ পায়ল পরশমণি॥
দরশনে দুহুঁ মুখ দুহুঁ প্রেমে ভোর।
নয়নে ঝরয়ে দোহাঁর আনন্দ লোর॥
সরস সম্ভাষণে উপজল রঙ্গ।
উথলল দুহুঁ মনে মদনতরঙ্গ॥
সহচরিগণ সব আনন্দে ভাস।
দুহুঁ মুখ হেরই নরোত্তম দাস॥

.              ***********

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ কুঞ্জ ভবনে
আরে দুহুঁ কুঞ্জ ভবনে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

    ॥ কেদার॥

দুহুঁ কুঞ্জ ভবনে।
সৌদামিনী অঙ্গ সোঁপিল নবঘনে॥
হেম বরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে জনু মিলল ভ্রমর॥
নব গোরোচনা গোরী শ্যাম ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাঁচে বেড়া কাঞ্চন কাঞ্চনে বেড়া কাঁচে।
রাই কানু দোঁহ তনু একই হইয়াছে॥
ললিতা বিশাখা দোহেঁ চামর ঢুলায়।
নরোত্তম দাস দোহাঁর বলিহারী যায়॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
   
    ॥ কেদার॥

দুহুঁ কুঞ্জ ভবনে।
সৌদামিনী-অঙ্গ সোঁপিল নবঘনে॥
হেম-বরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে জনু মিলল ভ্রমর॥
নব গোরোচনা গোরী শ্যাম ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাঁচে বেড়া কাঞ্চন কাঞ্চনে বেড়া কাঁচে।
রাই কানু দোঁহ তনু একই হইয়াছে॥
ললিতা বিশাখা দোহেঁ চামর ঢুলায়।
নরোত্তম দাস দোহাঁর বলিহারী যায়॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ কুঞ্জ ভবনে।
সৌদামিনী অঙ্গসপল নবঘনে॥
হেম বরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে জনু মিলল ভ্রমর॥
নব গোরোচনা গোরী শ্যাম ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাঁচে বেঢ়া কাঞ্চন কাঞ্চনে বেড়া কাঁচে।
রাই কাণু দুহঁ তনু এক হইয়াছে॥
ললিতা বিশাখা দোঁহে চামর ঢোলায়।
নরোত্তম দাস দোহাঁর বলি হারি যায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, রূপানুরাগ, ৫৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কেদার - ছোট দুঠুকী॥

আরে দুহুঁ কুঞ্জ ভবনে।
সৌদামিনী অঙ্গ সোঁপিল নবঘনে॥
হেমবরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে যনু মিলল ভ্রমর॥
নব গোরোচনা গোরী শ্যাম ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কাচ বেড়া কাঞ্চন রে কাঞ্চন বেড়া কাচে।
রাই কানু দুহুঁ তনু একই হইয়াছে॥
রাই সে প্রেমের নদী তরঙ্গ অপার।
রসময় নাগর তাতে দিতেছে সাঁতার॥
নিকুঞ্জের ঘর বেঢ়ি গুঞ্জরিছে অলি।
তার মাঝে রাই কানু সুখে করে কেলি॥
ললিতা বিশাখা আদি চামর ঢুলায়।
নরোত্তম দাস দোহাঁর বলিহারি যায়॥

.              ***********

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ
দুহু দোহে দরশনে পুলকিত অঙ্গ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ৪র্থ পল্লব, বসন্তকালোচিত বিপ্রলব্ধা, ৩২৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনিক বিরহ-তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ-জরে লুঠল রাই।
তৈছন অমিয়া-সাগরে অবগাই॥
দুহু মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনি চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ-কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

দুহু দোহে দরশনে পুলকিত অঙ্গ। দূরে গেও রজনীক বিরহ-তরঙ্গ॥
জৈছে বিরহ জ্বরে লুঠল রাই। তৈছন অমিয়াসায়রে অবগাই॥
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি। আনন্দে দুহুঁ জন করূ নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁন্দ উজোর। কুহ রত কোকিল আনন্দে ভোর॥
বিকসিত কুসুম মলয় সমীর। ঝলমল ঝলমল কুঞ্জকুটির॥
বিহরই রাধামাধব রঙ্গে। নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনীক বিরহ তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ জ্বরে লুঠল রাই।
তৈছন অমিয়া সাগরে অবগাই॥
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁদ উজোর।
কুহুরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত কুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল করতহি কুঞ্জ কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনীক বিরহ-তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ-জরে লুঠল রাই।
তৈছন অমিয়া-সাগরে অবগাই॥
দুহু মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনি চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ-কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
   
॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনীক বিরহ তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ জ্বরে লুঠল রাই।
তৈছন অমিয়া সাগরে অবগাই॥
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁদ উজোর।
কুহুরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত কুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল করতহিঁ কুঞ্জ কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনীক বিরহ-তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ-জ্বরে লুঠল রাই।
তৈছনে অমিয়া-সাগরে অবগাই॥
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁদ উজোর।
কুহুরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত কুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল করত কুঞ্জ কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৩৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনিক বিরহ-তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ-জরে লুঠল রাই।
তৈছনে অমিয়া-সাগরে অবগাই॥
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ-কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ ললিত॥

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনিক বিরহতরঙ্গ॥
যৈছে বিরহজরে লূঠল রাই।
তৈছন অমিয়া সাগরে অবগাই॥
দুহু মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনি চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ-কুটীর॥
বিহরই রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৩২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনিক বিরহ-তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ-জ্বরে লুঠল রাই।
তৈছন অমিয়া সাগরে অবগাই॥
দুহু মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দ বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ কুটীর॥
বিহরয়ে রাধা মাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী সাহিত্য”, ৪২৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনিক বিরহ-তরঙ্গ॥
যৈছে বিরহ-জ্বরে লুঠল রাই।
তৈছন অমিয়া সাগরে অবগাই॥
দুহু মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনী চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দ বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ কুটীর॥
বিহরয়ে রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তমদাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ দোহাঁ দরশনে পুলকিত অঙ্গ।
দূরে গেও রজনিক বিরহতরঙ্গ॥
যৈছে বিরহজরে লূঠল রাই।
তৈছন অমিয়া সাগরে অবগাই॥
দুহুঁ মুখ চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি।
আনন্দে দুহুঁ জন করু নানা কেলি॥
সুখময় যামিনি চাঁদ উজোর।
কুহরত কোকিল আনন্দে বিভোর॥
বিকসিত সুকুসুম মলয় সমীর।
ঝলমল ঝলমল কুঞ্জ-কুটীর॥
বিহরই রাধামাধব রঙ্গে।
নরোত্তম দাস হেরি পুলকিত অঙ্গে॥

.              ***********

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
*
কিবা শোভারে মধুর বৃন্দাবনে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কিবা শোভারে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিল রতন সিংহাসনে॥
রতনে নির্ম্মিত বেদি মাণিকের গাঁথনি।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
হেম বরণি রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে জনু মিলিছে ভ্রমর॥
চৌদিগে যুবতীবৃন্দ বয়েস সমান।
কত সুধা বরিখয়ে নয়ানে নয়ান॥
এক এক তরুর তলে এক এক অবলা।
নীলগিরি বেড়ি জনু কনকের মালা॥
বেনী চূড়ায় ঘেরা ঘেরি ফিরাফিরি বাহু।
শরদ পূর্ণিমার শশী গরাসল রাহু॥
নিকুঞ্জের মাঝে ইহ কেলি বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কিবা শোভারে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিল রতন সিংহাসনে॥
রতনে নির্ম্মিত বেদি মাণিক্য গাঁথনি।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
হেম-বরণি রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে জনু মিলিছে ভ্রমর॥
চৌদিগে যুবতীবৃন্দ বয়েস সমান।
কত সুধা বরিখয়ে নয়ানে নয়ান॥
এক এক তরুর তলে এক এক অবলা।
নীলগিরি বেড়ি জনু কনকের মালা॥
বেনী চূড়ায় ঘেরা ঘেরি ফিরাফিরি বাহু।
শরদ পূর্ণিমার শশী গরাসল রাহু॥
নিকুঞ্জের মাঝে ইহ কেলি বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত "অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”
গ্রন্থের ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ
দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির পদ।

যুগল-রূপ
॥ কেদার॥

কিবা শোভারে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিয়াছে রত্ন-সিংহাসনে॥
রতনে নির্ম্মিত বেদী মাণিকের গাঁথনি।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
এক এক তরুর মুলে এক এক অবলা।
নীল-গিরি বেড়ি যেন কনকের মালা॥
হেম-বরণী রাই কালিয়া নাগর।
সোণার কমলে যেন মিলিল ভ্রমর॥
নব-গোরচনা গোরী শ্যাম @@@@।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাচ বেড়া কাঞ্চন কাঞ্চন কেড়া কাচে।
রাই-কানু দোহঁ তনু একই হৈয়াছে॥
ললিতা বিশাখা দোহেঁ চামর ঢুলায়।
নরোত্তম দাসে দোহাঁর বলিহারি যায়॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.              ***********

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কুসুম আসন হেরি বামে কিশোরী গোরী
কুসুম আসনে হরি বামে কিশোরী গোরি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস,
১২৭৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কুসুম-আসন হেরি            বামে কিশোরি গোরি
বৈঠল কুঞ্জ-কুটীরে।
চিবুকে দক্ষিণ কর                ধরি প্রিয় গিরিধর
মুখানি নিছিয়া লেই শিরে॥
দেখ সখি অপরূপ ছান্দে।
প্রেম-জলধি মাঝে                       ডূবল দুহুঁ জন
মনমথ পড়ি গেও ফান্দে॥
রতন পালঙ্ক পর                        শেজ বিরাজিত
শূতল যুগল কিশোর।
স্মের মধুর মুখ-                        পঙ্কজ মনোহর
মরকত কাঞ্চন জোর॥
প্রিয় নর্ম্ম সহচরি                      বীজন করে ধরি
বীজই মারুত মন্দ।
শ্রম-জল সকল                         কলেবর মীটল
হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস                         আশ পদ-পঙ্কজ-
সেবন-মধুরিম-পানে।
নিজ নিজ কুঞ্জে                     নিন্দ গেও সখিগণ
প্রিয়জন সেবই বিধানে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ রাগ তাল পরিমিত॥

কুসুম আসনে হরি বামে কিশোরী গোরি বৈঠল কুঞ্জকুটিরে।
চিকুরে দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মুখানি নিছিয়া লেয় শিরে॥
দেখ সখি অপরূপ ছান্দে।
প্রেম জলধি মাহা ডুবল দুহু জন মন্মথ পড়ি গেও ফান্দে॥
রতন পালঙ্কপর সেজ বিরাজিত সুতল যুগলকিশোর।
স্মের মধুর মুখ পঙ্কজ মনোহর মরকত কাঞ্চন জোড়॥
প্রিয় নর্ম সহচরী চামর করে ধরি বিজই মারুত মন্দ।
শ্রমজল সকল কলেবর মিটল হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস আশ পদপঙ্কজ সেবল মধুরিম পানে।
নিজনিজ কুঞ্জে নিন্দ গেও সখীগণ প্রিয়জন সেবল বিধানে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কুসুম আসন হেরি,            বামে কিশোরী গোরী,
বৈঠল কুঞ্জ কুটীরে।
চিবুকে দক্ষিণ কর,                ধরি প্রিয় গিরিধর,
মুখানি নিছিয়া লেই শিরে॥
দেখ সখি, অপরূপ ছান্দে।
প্রেম জলধি মাঝে,                     ডুবল দুহুঁ জন,
মনমথ পড়ি গেও ফাঁদে॥
রতন পালঙ্ক পর,                     শেজ বিরাজিত,
শুতল যুগল কিশোর।
স্মের মধুর মুখ,                        পঙ্কজ মনোহর,
মরকত কাঞ্চন যোড়॥
প্রিয় মর্ম্ম সহচরী,                   বীজন করে ধরি,
বীজই মারুত মন্দ।
শ্রম জল সকল,                        কলেবর মীটল,
হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস আশ,                    দুহুঁ পদ পঙ্কজ,
সেবন মধুরিম পানে।
নিজ নিজ কুঞ্জে,                  নিন্দ গেও সখীগণ,
প্রিয়জন সেবই বিধানে॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কুসুম আসন হেরি,            বামে কিশোরী গোরী,
বৈঠল কুঞ্জ কুটীরে।
চিবুকে দক্ষিণ কর,                ধরি প্রিয় গিরিধর,
মুখানি নিছিয়া লেই শিরে॥
দেখ সখি, অপরূপ ছান্দে।
প্রেম জলধি মাঝে,                     ডুবল দুহুঁ জন,
মনমথ পড়ি গেও ফাঁদে॥
রতন পালঙ্ক পর,                     শেজ বিরাজিত,
শুতল যুগল কিশোর।
স্মের মধুর মুখ,                       পঙ্কজ মনোহর,
মরকত কাঞ্চন যোড়॥
প্রিয় মর্ম্ম সহচরী,                    বীজন করে ধরি,
বীজই মারুত মন্দ।
শ্রম জল সকল,                        কলেবর মীটল,
হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস আশ,                    দুহুঁ পদ পঙ্কজ,
সেবন মধুরিম পানে।
নিজ নিজ কুঞ্জে,                  নিন্দ গেও সখীগণ,
প্রিয়জন সেবই বিধানে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শরত্কালীয় মহারাস
॥ কামোদ॥

কুসুম আসন হেরি            বামে কিশোরি গোরি
বৈঠল কুঞ্জকুটীরে।
চিবুকে দক্ষিণ কর                ধরি প্রিয় গিরিধর
মুখানি নিছিয়া লেই শিরে॥
দেখ সখি অপরূপ ছান্দে।
প্রেমজলধি মাঝে                     ডূবল দুহুঁ জন
মনমথ পড়ি গেল ফান্দে॥
রতন পালঙ্ক পর                     শেজ বিরাজিত
শূতল যুগল কিশোর।
স্মের মধুর মুখ-                     পঙ্কজ মনোহর
মরকত কাঞ্চন জোড়॥
প্রিয় নর্ম্মসহচরি                    বীজন করে ধরি
বীজই মারুত মন্দ।
শ্রমজল সকল                        কলেবর মীটল
হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস                        আশ পদ-পঙ্কজ
সেবন মধুরিমপানে।
নিজ নিজ কুঞ্জে                   নিন্দ গেও সখিগণ
প্রিয়জন সেবই বিধানে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, মহারাস, ৫৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ - দশকুশী॥

কুসুম আসন হেরি,            বামে কিশোরি গোরী
বৈঠল কুঞ্জ কুটীরে।
চিবুকে দক্ষিণ কর,                ধরি প্রিয় গিরিধর,
মুখানি নিছিয়া লেই শিরে॥
দেখ সখি অপরূপ ছাঁন্দে।
প্রেম জলধি মাঝে,                       ডুবল দুহুঁজন,
মনমথ পড়ি গেল ফাঁন্দে॥
রতন পালঙ্ক পর,                     শেজ বিরাজিত,
শূতল যুগল কিশোর।
স্মের মধুর মুখ-                     পঙ্কজ মনোহর,
মরকত কাঞ্চন জোর॥
প্রিয় নর্ম্ম সহচরী,                    বীজন করে ধরি,
বীজই মারুত মন্দ।
শ্রমজল সকল,                        কলেবর মীটল,
হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস,                        আশ পদ-পঙ্কজ,
সেবন মধুরিম পানে।
নিজ নিজ কুঞ্জে,                  নিন্দ গেও সখিগণ,
প্রিয়জনে সেবই বিধানে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৮৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুম আসন হেরি বামে কিশোরি
বৈঠল কুঞ্জকুটীরে।
চিবুকে দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর
মুখানি নিছিয়া লেই শিরে॥
দেখ সখি অপরূপ ছান্দে।
প্রেমজলধি মাঝে ডূবল দুহুঁ জন
মনমথ পড়ি গেল ফান্দে॥
রতন পালঙ্ক পর শেজ বিরাজিত
শূতল যুগল কিশোর।
স্মের মধুর মুখ পঙ্কজ মনোহর
মরকত কাঞ্চন জোড়॥
প্রিয় নর্ম্মসহচরি বীজন করে ধরি
বীজই মারুত মন্দ।
শ্রমজল সকল কলেবর মীটল
হেরই পরম আনন্দ॥
নরোত্তম দাস আশ পদ পঙ্কজ
সেবন মধুরিমপানে।
নিজ নিজ কুঞ্জে নিন্দ গেও সখিগণ
প্রিয়জন সেবই বিধানে॥

.              ***********             

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃন্দাবন রম্যস্থান কোটি চিন্তামণি ধাম
বৃন্দাবন রম্যস্থান দিব্য চিন্তামণি ধাম
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব,
বাসন্তী-রাস-লীলা প্রকারান্তর, ১৫২০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্য স্থান              কোটি-চিন্তামণি-ধাম
রতন-মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী-জলে           রাজহংস কেলি করে
কনক-কমল উতপল॥
তার মধ্যে হেম-পৃষ্ঠ                  অষ্টদলে বেষ্টিত
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসন                  বসিলেন দুই জন
শ্যাম গোরী সুন্দরী রাধিকা॥
ও রূপ লাবণ্য-রাশি            অমিয়া পড়িছে খসি
হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়                  নিত্যানন্দ সুখময়
সদাই সোঙরুক মোর মনে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৬৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কানড়া॥

বৃন্দাবন রম্য স্থান                কোটি-চিন্তামণি-ধাম
রতন-মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী-জলে           রাজহংস কেলি করে
কনক-কমল উতপল॥
তার মধ্যে হেম-পৃষ্ঠ                  অষ্টদলে বেষ্টিত
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসন                  বসিয়াছে দুই জন
শ্যাম গোরী সুন্দরী রাধিকা॥
ও রূপ লাবণ্য-রাশি             অমিয়া পড়িছে খসি
হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়                 নিত্যানন্দ সুখময়
সদাই স্মরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর পুথির ৪৩।৪৮-পদ-সংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্য স্থান              কোটি-চিন্তামণি-ধাম
রতন-মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী-জলে           রাজহংস কেলি করে
কনক-কমল উতপল॥
তার মধ্যে অষ্ট প্রেষ্ঠ                  অষ্টদলে বেষ্টিত
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রম্যস্থানে              বসিয়াছে দুই জনে
শ্যাম গোরী সুন্দরী রাধিকা॥
সে রূপ লাবণ্য-রাশি           অমিয়া পড়িছে খসি
সহাস মধুর সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়                  নিত্যানন্দ সুখময়
সদাই সোঙরুক মোর মনে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

বৃন্দাবন রম্যস্থান কোটী চিন্তামণিধাম রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী জলে রাজহংস কেলি করে কনক কমল উত্পল॥
তার মধ্যে হেম পৃষ্ঠ অষ্টদলে বেষ্টিত অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসন বসিয়াছে দুইজন শ্যাম গোরি সুন্দরী রাধিকা॥
ওরূপ লাবণ্যরাশি অমিয়া পড়িছে খসি হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয় নিত্যানন্দ সুখময় কৃপাকরি রাখহ চরণে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৃন্দাবন রম্যস্থান, দিব্য চিন্তামণি ধাম, রতন মন্দির মনোহর। আবৃত কালিন্দী নীরে, রাজহংস কেলি করে,
তাহে শোভে কনক কমল॥ তার মধ্যে হেম পীঠ, অষ্ট দলেতে বেষ্টিত, অষ্টদলে প্রধান নায়িকা। তার মধ্যে
রত্নাসনে, বসি আছেন দুই জনে, শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥ ওরূপ লাবণ্য রাশি, অমিয় পড়িছে খসি, হাস্য
পরিহাস সম্ভাষণে। নরোত্তম দাস কয়, নিত্যলীলা সুখময়, সদাই স্ফুরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্যস্থান,                   দিব্য চিন্তামণি ধাম,
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী জলে,           রাজহংস কেলি করে,
কনক কমল উত্পল॥
তার মধ্যে হেম পীঠ,              অষ্ট দলেতে বেষ্টিত,
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসনে,             বসি আছেন দুই জনে,
শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥
ও রূপ লাবণ্যরাশি,                অমিয়া পড়িছে খসি,
হাস্য পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়,                  নিত্য লীলা সুখময় ;
সদাই সোঙরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৃন্দাবন রম্যস্থান,              দিব্য চিন্তামণি ধাম,
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী নীরে,        রাজহংস কেলি করে,
তা হে শোভে কনক কমল॥
তার মধ্যে হেম পীঠ,       অষ্ট দলেতে বেষ্টিত, @
অষ্টদলে প্রধান নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসনে,         বসি আছেন দুই জনে,
শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥
ওরূপ লাবণ্যরাশি,             অমিয়া পড়িছে খসি,
হাস্য পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়,                নিত্যলীলা সুখময়,
সদাই স্ফুরুক মোর মনে॥

@ - “অষ্ট দলেতে বেষ্টিত” - এই অংশটি অপাঠ্য।

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্যস্থান,                 দিব্য চিন্তামণি ধাম,
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী-জলে,           রাজহংস কেলি করে,
কনক কমল উত্পল॥
তার মধ্যে হেম-পীঠ,              অষ্ট দলেতে বেষ্টিত,
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসনে,            বসি আছেন দুই জনে,
শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥
ও রূপ লাবণ্যরাশি,              অমিয়া পড়িছে খসি,
হাস্য পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়,                নিত্য লীলা সুখময় ;
সদাই সোঙরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্য স্থান                 কোটি চিন্তামণি ধাম
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী জলে           রাজহংস কেলি করে
কনক কমল উতপল॥
তার মধ্যে হেম পীঠ                   অষ্টদল বেষ্টিত
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসন                   বসিলেন দুই জন
শ্যাম গৌরী সুন্দরী রাধিকা॥
ওরূপ লাবণ্য রাশি               অমিয়া পড়িছে খসি
হাস পরিহাস সম্ভাষণ।
নরোত্তম দাস কয়                   নিত্যানন্দ রসময়
সদাই সোঙরু মোর মনে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৃন্দাবন রম্যস্থান,                        দিব্য চিন্তামণি ধাম,
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দীনীরে,                   রাজহংস কেলি করে,
তাহে শোভে কনক কমল॥
তার মধ্যে হেমপীঠ,                       অষ্টদলেতে বেষ্টিত,
অষ্টদলে প্রধান নায়িকা।
মধ্যে রত্নাসনে,                         বসিআছেন দুই জনে,
শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥
ওরূপ লাবণ্য রাশি,                     অমিয়া পড়িছে খসি,
হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তমদাস কয়,                          নিত্যলীলা সুখময়,
সদাই স্ফুরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্যস্থান                কোটি চিন্তামণি ধাম
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী জলে           রাজহংস কেলি করে
কনক কমল উতপল॥
তার মধ্যে হেম পীঠ                 অষ্ট দলে বেষ্টিত
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসনে               বসিয়াছে দুই জনে
শ্যাম সঙ্গে সুন্দর রাধিকা॥
ও রূপ লাবণ্যরাশি              অমিয়া পড়িছে খসি
হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়                   নিত্যানন্দ রসময়
সদাই স্মরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বৃন্দাবন রম্যস্থান,                         দিব্য চিন্তামণি ধাম,
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী নীরে,                   রাজহংস কেলি করে,
তাহে শোভে কনক কমল॥
তার মধ্যে হেমপীঠ,                       অষ্টদলেতে বেষ্টিত,
অষ্টদলে প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসনে,                     বসি আছেন দুইজনে,
শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥
ওরূপ লাবণ্যরাশি,                        অমিয় পড়িছে খসি,
হাস্য পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তমদাস কয়,                           নিত্যলীলা সুখময়,
সদাই স্ফুরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, অভিসারোত্কণ্ঠা, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ বরাড়ি - মধ্যম একতালা॥

বৃন্দাবন রম্য স্থান,                          দিব্য চিন্তামণি-ধাম,
রতন মন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দী জলে,                   রাজহংস কেলি করে,
কনক কমল উতপল॥
তার মধ্যে হেম পীঠ,                         অষ্ট দলে বেষ্টিত,
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
মধ্যে রত্না সিংহাসনে,                      বসিয়াছে দুই জনে,
শ্যাম সঙ্গে সুন্দরী রাধিকা॥
ওরূপ লাবণ্য রাশি,                       অমিয়া পড়িছে খসি,
হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়,                           নিত্য লীলা সুখময়,
সদাই স্ফুরুক মোর মনে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্ত-রাস-লীলা প্রকারান্তর
॥ শ্রীরাগ॥

বৃন্দাবন রম্য স্থান               কোটি চিন্তামণি-ধাম
রতনমন্দির মনোহর।
আনন্দে কালিন্দীজলে           রাজহংস কেলি করে
কনককমল উতপল॥
তার মধ্যে হেমপীঠ                  অষ্টদলে বেষ্টিত
অষ্ট সখী প্রধানা নায়িকা।
তার মধ্যে রত্নাসন                   বসিলেন দুই জন
শ্যাম গোরী সুন্দরী রাধিকা॥
ও রূপ লাবণ্যরাশি              অমিয়া পড়িছে খসি
হাস পরিহাস সম্ভাষণে।
নরোত্তম দাস কয়                 নিত্যানন্দ সুখময়
সদাই সোঙরুক মোর মনে॥

.              ***********             

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১৪শ পল্লব, প্রকারান্তর সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ২০১৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনি কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দুর দেয়ল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণি ললীত।
কুঙ্কুম কুচযুগে করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জিবন নিছই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৪৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিনী ধানশ্রী। তালোচিত॥

আনন্দে সুবদনি কছু নাহি জান। বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দূর দেওল সিথ শোঙরি। ভালহি মৃগমদ পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণী ললিত। কুঙ্কুমে কুচযুগ করয়ে রচিত॥
জাবক লেখল রাতুল চরণে। জীবন নিছাই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজী বদন মাহা দেল। পুনপুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ। কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চিবুক পরিপূরিত দুহু অভিলাষ। হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান। বেশ বনায়ত নাগর কান॥ সিন্দূর দেয়ল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥ চিকুরে বনাওল বেণী ললিত। কুঙ্কুমে কুচযুগে করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে। জীবন নিছই লেওল তছু শরণে॥ তাম্বুল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥ কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ। কো কহ তাকর
মরমক কাজ॥ চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ। হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১২-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দুর দেয়ল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণী ললিত।
কুঙ্কুমে কুচযুগ করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দুর দেওল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণী ললিত।
কুঙ্কুম কুচযুগে করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জিবন নিছই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরি পূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৮-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

  ॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কিছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দুর দেয়ল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণী ললিত।
কুঙ্কুমে কুচযুগ করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,”
কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দূর দেওল সিঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণি ললীত।
কুঙ্কুমে কুচযুগে করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর নরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দুর দেওল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥
চিকুর বনাওল বেণী ললিত।
কুঙ্কুম হিয়া পর করল রচিত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া-মাঝ।
কো কহ তাকর ধরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

স্বাধীন ভর্ত্তৃকা
॥ ধানশী॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দূর দেয়ল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ-পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণি ললীত।
কুঙ্কুম কুচযুগে করল রচীত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছাই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বূল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দূর দেয়ল সিঁথি সজারি।
ভালহি মৃগমদ পত্রক সারি॥
চিকুরে বনায়ল বেণী ললীত।
কুঙ্কুমে কুচযুগ করল রচীত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছাই দেয়ল তছু শরণে॥
তাম্বুল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৮৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আনন্দে সুবদনী কছু নাহি জান।
বেশ বনায়ত নাগর কান॥
সিন্দূর দেয়ল সীঁথি সঙারি।
ভালহি মৃগমদ পত্রক সারি॥
চিকুরে বনাওল বেণি ললীত।
কুঙ্কুম কুচযুগে করল রচীত॥
যাবক লেখল রাতুল চরণে।
জীবন নিছাই লেওল তছু শরণে॥
তাম্বূল সাজি বদন মাহা দেল।
পুন পুন হেরইতে আরতি না গেল॥
কোরে আগোরি রাখল হিয়া মাঝ।
কো কহ তাকর মরমক কাজ॥
চির পরিপূরিত দুহুঁ অভিলাষ।
হেরই নিয়ড়ে নরোত্তম দাস॥

.              ***********             

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা মাধব বিহরই বনে
রাধামাধব বিজয়ী বলে
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ১ম পল্লব, রূপাভিসার, ২৭৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধা মাধব বিহরই বনে।
নিমগন দুহুঁ জন সুরত-রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলন সহচরি মেলি॥
নিভৃত কুঞ্জ-গৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৯ -পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধামাধব বিজয়ী বলে। নিমগন দোহ জনু সুরতক বলে॥
দোহ উঠি বৈঠে কতএ করু কেলি। বহুবিধ খেলল সহচরী মেলি॥
নিভৃত নিকুঞ্জবনে কতহু বিলাস। হেরত দুহু রূপ নরোত্তম দাস॥


ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

রাধা মাধব বিহরই বনে।
নিমগন দুহুঁ জন সুরত রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলল সহচরী মেলি॥
নিভৃত নিকুঞ্জ গৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধা মাধব বিহরই বনে।
নিমগন দুহুঁ জন সুরত রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলন সহচরী মেলি॥
নিভৃত নিকুঞ্জ-গৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

রাধা মাধব বিহরই বনে।
নিমগন দুহুঁ জন সুরত রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলল সহচরী মেলি॥
নিভৃত নিকুঞ্জ গৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধা মাধব বিহরই বনে।
নিমগন দুহুঁ জন সুরত রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলল সহচরী মেলি॥
নিভৃত নিকুঞ্জ-গৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ কেদার॥

রাধামাধব বিহরই বনে।
নিমগণ দুহুঁ জন সুরত রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলন সহচরি মেলি॥
নিভৃত কুঞ্জগৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধামাধব বিহরই বনে।
নিমগণ দুহুঁ জন সুরত রণে॥
দুহুঁ উঠি বৈঠি কতয়ে করু কেলি।
বহুবিধ খেলন সহচরি মেলি॥
নিভৃত কুঞ্জগৃহে করত বিলাস।
হেরত দুহুঁ রূপ নরোত্তম দাস॥

.              ***********             

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৪র্থ পল্লব, স্বয়ং-দৌত্য-সম্ভোগ,
৬৫৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই-কানু-পিরিতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন                      ক্ষণে মুখ চুম্বন
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আউলায়্যা চাঁচর কেশ                করে বহুবিধ বেশ
সিন্দুর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম                  আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন-অঞ্চলে॥
দাসীগণ-করে হৈতে                   চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই-মুখ-শশী                সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরি নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি                 রাইয়ের সজল আঁখি
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি                  দুহুঁ চুম্বে মুখ-শশী
দুহুঁ-প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ-মন্দির মাঝে                  শুতল কুসুম-শেজে
দোহেঁ দোঁহা বান্ধি ভুজ-পাশে।
আর যত সখীগণ                     সভে করে নিরীক্ষণ
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির পদসংখ্যা-১১২৮-এ এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিহাগড়া॥

রাই-কানু-পিরিতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন                     ক্ষণে মুখ চুম্বন
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলুয়্যা চাঁচর কেশ                  করে বহুবিধ বেশ
সিন্দুর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম                  আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন-অঞ্চলে॥
দাসীগণ-কর হৈতে                   চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই-মুখ-শশী               সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরি নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি                রাইয়ের সজল আঁখি
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি                  দুহুঁ চুম্বে মুখ-শশী
দুহুঁ-প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ-মন্দির মাঝে                  শুতল কুসুম-শেজে
দোহেঁ দোঁহা বান্ধি ভুজ-পাশে।
আর যত সখীগণ                    সভে করে নিরীক্ষণ
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৯ -পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই কানুর পিরিতীর বালাই লয়ে মরি।
খেনে করে আলিঙ্গন        খেনে মুখচুম্বন                খেনে রাখে হিয়ার উপরি॥
এলঞে চাঁচর কেশ        করে বহুবিধ বেশ        সিন্দুর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁন্দ দেখি ঘাম        আকুল হয়েছে শ্যাম        মোছহায়ই বসনঅঞ্চলে॥
দাসীগণ করে হইতে        চামর লইআ হাথে        আপনে করএ মৃদু বার।
দেখি রাই মুখশশী        সুধা ঝোরে রাশি রাশি        হেরি নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি        রেএর সজল আঁখি        বাহু পসারিঞা করে কোর।
দোহ হিয়ায় দুহু রাখি        দোহু চুম্বে মুখশশী        দুহু প্রেমে দুহু ভেল ভোর॥
কুঞ্জমন্দির মাঝে        শীতল কুসুম সেজে        দোহে দোঁহা বান্ধি ভুজপাশে।
আর জত সখীগণ        সভে করে নিরীক্ষণ        দূরে রহু নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ২৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি। ক্ষণে করে আলিঙ্গন, ক্ষণে মুখ চুম্বন, ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলাঞা চাঁচর কেশ, করে বহুবিধ বেশ, সিন্দূর চন্দন দেই ভালে। মুখচাঁদে দেখি ঘাম, আকুল হইয়া শ্যাম,
মোছায়ই বসন-অঞ্চলে॥ দাসীগণ কর হৈতে, চামর লইয়া হাতে, আপনে করয়ে মৃদু বায়। দেখি রাই মুখ-
শশী, সুধা ঝরে রাশি রাশি, হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥ ঐছন আরতি দেখি, রাইয়ের সজল আঁখি, বাহু
পসারিয়া করে কোরে। দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি, দুহুঁ চুম্বে মুখ-শশী, দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥ নিকুঞ্জ মন্দির
মাঝে, শুতল কুসুম শেজে, দুহুঁ দোঁহা বান্ধি ভুজ পাশে। আর যত সখীগণ, সবে করে নিরীক্ষণ, দূরে রহুঁ
নরোত্তমদাসে॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন,                   ক্ষণে মুখ চুম্বন,
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলাঞা চাঁচর কেশ,                করে বহুবিধ বেশ,
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম,                  আকুল হইয়া শ্যাম,
মোছায়ই বসন-অঞ্চলে॥
দাসীগণ কর হৈতে,                  চামর লইয়া হাতে,
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই মুখশশী,               সুধা ঝরে রাশি রাশি,
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি,              রাইয়ের সজল আঁখি,
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ার দুহুঁ রাখি,                 দুহুঁ চুম্বে মুখশশী,
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে,                শুতল কুসুম শেজে,
দুহুঁ দোঁহা বান্ধি ভুজ পাশে।
আর যত সখীগণ,                   সবে করে নিরীক্ষণ,
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন,                   ক্ষণে মুখ চুম্বন,
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলাঞা চাঁচর কেশ,                করে বহুবিধ বেশ,
সিন্দুর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদ দেখি ঘাম,                  আকুল হইয়া শ্যাম,
মোছায়ই বসন অঞ্চলে॥
দাসীগণ কর হৈতে,                  চামর লইয়া হাতে,
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই মুখশশী,               সুধা ঝরে রাশি রাশি,
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি,              রাইয়ের সজল আঁখি,
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি,                  দুহুঁ চুম্বে মুখশশী,
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে,                শুতল কুসুম শেজে,
দুহুঁ দোঁহা বান্ধি ভুজপাশে।
আর যত সখীগণ,                  সবে করে নিরীক্ষণ,
দূরে রহুঁ নরোত্তমদাসে॥

ই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন,                   ক্ষণে মুখ চুম্বন,
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলাঞা চাঁচর কেশ,                করে বহুবিধ বেশ,
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম,                  আকুল হইয়া শ্যাম,
মোছায়ই বসন-অঞ্চলে॥
দাসীগণ কর হৈতে,                  চামর লইয়া হাতে,
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই মুখশশী,               সুধা ঝরে রাশি রাশি,
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি,               রাইয়ের সজল আঁখি,
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ার দুহুঁ রাখি,                  দুহুঁ চুম্বে মুখশশী,
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে,                শুতল কুসুম শেজে,
দুহুঁ দোঁহা বান্ধি ভুজ পাশে।
আর যত সখীগণ,                  সবে করে নিরীক্ষণ,
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
২৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন,                   ক্ষণে মুখ চুম্বন,
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলাঞা চাঁচর কেশ,                করে বহুবিধ বেশ,
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদ দেখি ঘাম,                  আকুল হইয়া শ্যাম,
মোছায়ই বসন অঞ্চলে॥
দাসীগণ কর হৈতে,                  চামর লইয়া হাতে,
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই মুখশশী,               সুধা ঝরে রাশি রাশি,
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি,               রাইয়ের সজল আঁখি,
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ার দুহুঁ রাখি,                 দুহুঁ চুম্বে মুখশশী,
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে,                শুতল কুসুম শেজে,
দুহুঁ দোঁহা বান্ধি ভুজপাশে।
আর যত সখীগণ,                  সবে করে নিরীক্ষণ,
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


“রাই-কানু-পিরিতির বালাই লৈয়া মরি”
@
আউলাঞা চাঁচর কেশ                করে বহুবিধ বেশ
সিন্দুর চন্দন দেই ভালে।
মুখ-চাঁদে দেখি ঘাম                  আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন অঞ্চলে॥
দাসীগণ করে হৈতে                  চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই মুখ-শশী               সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
@@
আর যত সখীগণ                  সভে করে নিরীক্ষণ
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

@ - এখানে দ্বিতীয় পংক্তিটি দেওয়া নেই।
@@ - এখানে তিনটি পংক্তিটি দেওয়া নেই।

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা

“রাই-কানু-পিরীতির বালাই লৈয়া মরি”
@
আলাঞা চাঁচর কেশ                  করে @@@ বেশ
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম                  আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন-অঞ্চলে॥
দাসীগণ-কর হৈতে                  চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই-মুখ-শশী               সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
ঐছন আরতি দেখি              রাইয়ের সজল আঁখি
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
[ আর যত সখীগণ                  সবে করে নিরীক্ষণ ]
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

@ - এখানে দ্বিতীয় পংক্তিটি দেওয়া নেই।

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৩৪৪ ও ৪৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন                   ক্ষণে মুখ চুম্বন
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আলায়্যা চাঁচর কেশ                করে বহুবিধ বেশ
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদ দেখি ঘাম                  আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন অঞ্চলে॥
দাসীগণ কর হৈতে                  চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাই মুখশশী               সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরে নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি                রাইয়ের সজল আঁখি
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি                  দুহুঁ চুম্বে মুখ-শশী
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
@
আর যত সখীগণ                  সভে করে নিরীক্ষণ
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

@ - এখানকার পংক্তিটি দেওয়া নেই।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ বিহাগড়া॥

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন                       ক্ষণে মুখচুম্বন
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আউলায়্যা চাঁচর কেশ                করে বহুবিধ বেশ
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম                    আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন অঞ্চলে॥
দাসীগণ করে হৈতে                    চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাইমুখশশী                  সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরি নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি                 রাইয়ের সজল আঁখি
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি                     দুহুঁ চুম্বে মুখশশী
দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে                    শুতল কুসুমশেজে
দোহেঁ দোহাঁ বান্ধি ভুজপাশে।
আর যত সখীগণ                     সভে করে নিরীক্ষণ
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৯৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই কানু পিরীতির বালাই লৈয়া মরি।
ক্ষণে করে আলিঙ্গন ক্ষণে মুখচুম্বন
ক্ষণে রাখে হিয়ার উপরি॥
আউলায়্যা চাঁচর কেশ করে বহুবিধ বেশ
সিন্দূর চন্দন দেই ভালে।
মুখচাঁদে দেখি ঘাম আকুল হইয়া শ্যাম
মোছায়ই বসন অঞ্চলে॥
দাসীগণ করে হৈতে চামর লইয়া হাতে
আপনে করয়ে মৃদু বায়।
দেখি রাইমুখশশী সুধা ঝরে রাশি রাশি
হেরি নাগর অনিমিখে চায়॥
ঐছন আরতি দেখি রাইয়ের সজল আঁখি
বাহু পসারিয়া করে কোরে।
দুহুঁ হিয়ায় দুহুঁ রাখি দুহুঁ চুম্বে
মুখশশী দুহুঁ প্রেমে দুহুঁ ভেল ভোরে॥
নিকুঞ্জ মন্দির মাঝে শুতল
কুসুমশেজে দোহেঁ দোহাঁ বান্ধি ভুজপাশে।
আর যত সখীগণ সভে করে নিরীক্ষণ
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাসে॥

.              ***********             

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর