| কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী |
| কদম্ব তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল কদম্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমে ভাল রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর কবি নরোত্তম দাস এই পদাংশটি “কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল” শির্ষক পদ থেকে নেওয়া। এই পদাংশটি, রামগোপাল দাস (গোপাল দাস) দ্বারা ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”- গ্রন্থের একাদশ কোরকে, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইভাবে উল্লিখিত রয়েছে। দীনবন্ধু দাসের সংকীর্ত্তনামৃত সংকলনে “রাইর দক্ষিণ কর ধরি পহুঁ গিরিধর” শিরোনামের একটি পদ রয়েছে যা নীচে দেওয়া হলো। এটাই "রাইর দক্ষিণ কর" পদ অথবা পদাংশের, যা "কদম্ব তরুর ডাল" পদের অংশের প্রাচীনতম প্রাপ্ত রূপ। তত্র পদং নরোত্তমঠাকুরস্য--- রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটাই "কদম্ব তরুর ডাল" পূর্ণ পদের প্রাপ্ত প্রাচীনতম রূপ। ॥ কামোদ রাগ নন্দন তালাভ্যাং॥ কদম্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমি ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বিরিদাঁবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি জায়। আগে পাছে সখিগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্রকরে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করজোরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখিগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভা রাই মুখ ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপ তরুরগণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুজন হেন জেন নরোত্তম মনোরথ পূর। এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৫শ পল্লব, সর্বকালোচিত নিত্য-রাস, ১০৭৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ একতাল ধরা॥ কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু-কর ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপ@@@@ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম-মনোরথ পূর। @ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৪৮৯-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ একতাল ধরা॥ কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিবা রূপ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি পহু গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে পুষ্প বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু-কর জোড়ি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে করে মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপ@@@@ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম-মনোরথ পূর। এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর পুথির ২৫।১৮-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ একতাল ধরা॥ কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। নৃত্যাবেশে বৈদগধি ধনি ধনি সুবদনি অভরণ বাজে অঙ্গে অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু-কর জুড়ি গতি চিত্র ফিরি ফিরি পরশে পুলক তনু ধরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে করে মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস কলা সুমধুর ভাষ লোচনে মোহন লীলা ধরু॥ দুহুঁ রূপ লাবণি হেম মরকত জিনি নরোত্তম মনোরথ ভরু। এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ রাগ নন্দন তালাভ্যাং॥ কদম্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভালে ভাল ফুল ফুটিআছে সারি সারি। পরিমলে পূরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাইকানু বিলসই রঙ্গে। কিএ দোহে লাবনি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ রাইয়ের দক্ষিণকর ধরি প্রিয় গদাধর মধুর মধুর চলি জায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিসণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসরস্থল চান্দ করে ঝলমল সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর জুড়ি নিত্য করে ফিরি ফিরি পরসে পুলকে অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখএ ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে দোহার মুখইন্দু অধরে মুরূলি নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কল্পতরুরগণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনখচিত হেমমন্দির সুন্দর জেন নরোত্তম মনোরথপূর। এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও আমরা তুলে দিয়েছি। ॥ করুণ ভাটিয়ালী রাগ॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি পহুঁ গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ দেখ সখি যুগলকিশোর। সুখময় বৃন্দাবন কলপতরুর গণ সুশীতল জোতি উজোর॥ দুহু অঙ্গে চিত্র বেশ কুসুম-রচিত কেশ সৌরভে ভরল অলিকুল। রতন-রচিত হোম- মঞ্জির-শিঞ্জিত মরোত্তম মনোরথ পূর॥ এই পদটি গৌরসুন্দর দাসের কীর্ত্তনানন্দ গ্রন্থের পদ। ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার, তাঁর সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” গ্রন্থের ৪৮৮-পৃষ্ঠায় এই পদটি কীর্ত্তনানন্দের পদ বলে উল্লিখিত। পাদটীকায় তিনি গৌরসুন্দর দাসের কীর্ত্তনানন্দ গ্রন্থের পাঠান্তর দিয়েছেন। আমরা সেই অনুয়ায়ী এখানে তা তুলে দিচ্ছি। শেষ চার চরণে পাঠান্তর রয়েছে। কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। নৃত্যাবেশে বৈদগধি ধনি ধনি সুবদনি অভরণ বাজে অঙ্গে অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু-কর জুড়ি গতি চিত্র ফিরি ফিরি পরশে পুলক তনু ধরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে করে মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রসকলা মধুর ভাষ লোচন মোহন লীলা ধরু॥ দুহু রূপ লাবণি হেম মরকতমণি নরোত্তম মনোরথ ভরু। এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ (২০০৬), ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ কদম্ব তরুর ডাল, ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুটিয়াছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বিরিদাঁবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু, রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল, চন্দ্র করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করজোড়ি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিষয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু অধরে মুরলী লহু বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন, কলপতরুগণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম, মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম মনোরথ পূর। এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্ব তরুর ডাল, নামিয়াছে ভূমে ভাল, ফুটিয়াছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলাসই রঙ্গে। কিবা রূপ লাবণি, বৈদগধি ধনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাধার দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসরস্থল, চন্দ্রকরে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করযোড়ি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ, বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম জল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস, সকল মধুর ভাষ, নরোত্তম মনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্রবেশ, কুসুমে রচিত কেশ, লোচন মোহনলীলা করু॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাসলীলা ॥ কেদার॥ কদম্ব তরুর ডাল, নামিয়াছে ভূমে ভাল, ফুটিয়াছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি, বৈদগধি ধনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল, চন্দ্র করে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করজোড়ি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ, বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম জল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস, সকল মধুর ভাষ, নরোত্তম মনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্র বেশ, কুসুমে রচিত কেশ, লোচন মোহনলীলা করু॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “রাই কানু বিলসই রঙ্গে” এবং “কদন্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমি ভাল” পদের শেষার্ধের সঙ্গে এই পদের মিল আশ্চর্য রকমের। ॥ পঠমঞ্জরী॥ রাইয়ের দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ দেখ সখি যুগল কিশোর। কুসুমিত বৃন্দাবন, কল্পতরুর গণ, সুশীতল জ্যোতি উজোর॥ ধ্রু॥ দুহুঁ অঙ্গে চিত্র বেশ, কুসুমে বিচিত্র কেশ, সৌরভে ভরল অলিকুল। রতন খচিত বেশ, হেম মঞ্জীর সঞ্চিত, নরোত্তম দাস মন পুর॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্ব তরুর ডাল, নামিয়াছে ভূমে ভাল, ফুটিয়াছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলাসই রঙ্গে। কিবা রূপ লাবণি, বৈদগধি ধনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাধার দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখিগণ, করে ফুল বরিষণ, কর সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসরস্থল, চন্দ্রকরে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করযোড়ি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন, করে করি সখীগণ, বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস, সকল মধুর ভাষ, নরোত্তম মনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্রবেশ, কুসুমে রচিত কেশ, লোচন মোহনলীলা করু॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ কদম্ব তরুর ডাল, নামিয়াছে ভূমিতল, ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি, বৈদগধি ধনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল, চন্দ্র করে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করজোড়ি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ, বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস, সকল মধুর ভাষ, নরোত্তম মনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্র বেশ, কুসুমে রচিত কেশ, লোচন মোহনলীলা করু॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ রাইয়ের দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ দেখ সখি যুগল কিশোর। কুসুমিত বৃন্দাবন, কল্পতরুর গণ, সুশীতল জ্যোতি উজোর॥ ধ্রু॥ দুহুঁ অঙ্গে চিত্র বেশ, কুসুমে বিচিত্র কেশ, সৌরভে ভরল অলিকুল। বেশ রতন খচিত, হেম মঞ্জীর সঞ্চিত, নরোত্তম দাস মন পূর॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্ব তরুর ডাল, নামিয়াছে ভূমিতল, ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলাসই রঙ্গে। কিবা রূপ লাবণি, বেদগধি ধনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখিগণ, করে ফুল বরিষণ, কর সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসরস্থল, চন্দ্রকরে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করযোড়ি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন, করে করি সখীগণ, বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ @ হাস বিলাস রস সকল মধুর ভাষ নরোত্তম মনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্রবেশ কুসুমে রচিত কেশ লোচন মোহন লীলা করু॥ @ - পাঠান্তরে,--- কুসুমিত বৃন্দাবন কল্পতরুর গণ, পরাগে ভরল অলিকুল। রতন খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন, নরোত্তম মনোরথ পূর। এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অভিসারিকা ॥ কামোদ॥ কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপ-তরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম-মনোরথ পূর॥ এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্ব তরুর ডাল, নামিয়াছে ভূমে ভাল ফুটিয়াছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিবা রূপ লাবণি, বৈদগধ-খনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাধার দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল, চন্দ্র-করে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করযোড়ি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরশে পুলকে তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন, করে করি’ সখীগণ, বরিখয়ে ফুল-গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস, সকল মধুর ভাষ, নরোত্তম মনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্র বেশ, কুসুমে রচিত কেশ, লোচনমোহন লীলা করু॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪০৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাসলীলা ॥ করুণ বরাড়ী - মধ্যম একতালা॥ কদম্ব-তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে সমীরণ ভরল শ্রীবৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে রূপ-লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাধার দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখিগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই-কানু-কর জোড়ি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক তনু ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখিগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ হাস বিলাস রস সকল মধুর ভাষ নরোত্তমমনোরথ ভরু। দুহুঁক বিচিত্র বেশ কুসুমে রচিত কেশ লোচনে মোহনে লীলা করু॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সর্ব্বকালোচিত নিত্যরাস ॥ কামোদ - একতাল ধরা॥ কদম্বতরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই মুখইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপতরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম মনোরথ পূর। এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, মহারাস, ৫৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ - একতালা॥ কদম্ব-তরুর ডাল, ভূমি নামিয়াছে ভাল, ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল, সকল বৃন্দাবন, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি, বৈদগধি ধনি ধনি, মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ রাইর দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল, চন্দ্র-করে সুশীতল, মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর ধরি, নৃত্য করে ফিরি ফিরি, পরসে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন, করে করি সখীগণ, বরিখয়ে ফুলগন্ধরাজে। শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু, শোভা করে মুখ-ইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন, কলপ-তরুর গণ, পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম, মন্দির সুন্দর যেন, নরোত্তম মনোরথ ভরু॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্বতরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা-ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে-পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র-করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই মুখ-ইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপতরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম মনোরথ পূর। এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৪৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্বতরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে রূপ লাবণি বৈদগধি-ধনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্রকরে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করে ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গে ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই-মুখইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপতরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতন রচিত হেম মঞ্জির শিঞ্জিত নরোত্তম মনোরথ পুর। এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৮৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্বতরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে রূপ লাবণি বৈদগধি-খনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্রকরে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু করে ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গে ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই-মুখইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপতরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতন রচিত হেম মঞ্জির শিঞ্জিত নরোত্তম মনোরথ পুর। এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৮১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাসলীলা কদম্বতরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই মুখইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপ-তরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম মনোরথ পূর। এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৮৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কদম্বতরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুল ফুটিয়াছে সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিয়ে দুহুঁ লাবণি বৈদগধি ধনি ধনি মণিময় আভরণ অঙ্গে॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র করে সুশীতল মণিময় বেদীর উপরে। রাই কানু কর ধরি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক অঙ্গ ভরে॥ মৃগমদ চন্দন করে করি সখীগণ বরিখয়ে ফুল গন্ধরাজে। শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভে রাই মুখইন্দু অধরে মুরলী নাহি বাজে॥ কুসুমিত বৃন্দাবন কলপতরুর গণ পরাগে ভরল অলিকুল। রতনে খচিত হেম মন্দির সুন্দর যেন নরোত্তম মনোরথ পূর। . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাইয়ের দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর কবি নরোত্তম দাস এই পদাংশটি, রামগোপাল দাস (গোপাল দাস) দ্বারা ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন "শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”- গ্রন্থের একাদশ কোরকে, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইভাবে উল্লিখিত রয়েছে। দীনবন্ধু দাসের সংকীর্ত্তনামৃত সংকলনে “রাইর দক্ষিণ কর ধরি পহুঁ গিরিধর” শিরোনামে পদটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবে রয়েছে, যা নীচে দেওয়া হলো। এটাই "রাইর দক্ষিণ কর" পদ অথবা পদাংশের, যা "কদম্ব তরুর ডাল" পদের অংশের প্রাচীনতম প্রাপ্ত রূপ। “রাই কানু বিলসই রঙ্গে” এবং “কদন্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমি ভাল” পদের শেষার্ধের সঙ্গে এই পদের মিল আশ্চর্য রকমের। সম্ভবত বিভিন্ন লিপিকার ও কীর্তন গায়কের মুখে মুখে ভিন্নবাভে প্রকাশিত হয়ে এসেছে। তত্র পদং নরোত্তমঠাকুরস্য--- রাইর দক্ষিণ কর ধরি প্রিয় গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও আমরা তুলে দিয়েছি। “রাই কানু বিলসই রঙ্গে” এবং “কদন্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমি ভাল” পদের শেষার্ধের সঙ্গে এই পদের মিল আশ্চর্য রকমের। ॥ করুণ ভাটিয়ালী রাগ॥ রাইর দক্ষিণ কর ধরি পহুঁ গিরিধর মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ দেখ সখি যুগলকিশোর। সুখময় বৃন্দাবন কলপতরুর গণ সুশীতল জোতি উজোর॥ দুহু অঙ্গে চিত্র বেশ কুসুম-রচিত কেশ সৌরভে ভরল অলিকুল। রতন-রচিত হোম- মঞ্জির-শিঞ্জিত মরোত্তম মনোরথ পূর॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “রাই কানু বিলসই রঙ্গে” এবং “কদন্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমি ভাল” পদের শেষার্ধের সঙ্গে এই পদের মিল আশ্চর্য রকমের। ॥ পঠমঞ্জরী॥ রাইয়ের দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ দেখ সখি যুগল কিশোর। কুসুমিত বৃন্দাবন, কল্পতরুর গণ, সুশীতল জ্যোতি উজোর॥ ধ্রু॥ দুহুঁ অঙ্গে চিত্র বেশ, কুসুমে বিচিত্র কেশ, সৌরভে ভরল অলিকুল। রতন খচিত বেশ, হেম মঞ্জীর সঞ্চিত, নরোত্তম দাস মন পুর॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ রাইয়ের দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয় গিরিধর, মধুর মধুর চলি যায়। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায়॥ দেখ সখি যুগল কিশোর। কুসুমিত বৃন্দাবন, কল্পতরুর গণ, সুশীতল জ্যোতি উজোর॥ ধ্রু॥ দুহুঁ অঙ্গে চিত্র বেশ, কুসুমে বিচিত্র কেশ, সৌরভে ভরল অলিকুল। বেশ রতন খচিত, হেম মঞ্জীর সঞ্চিত, নরোত্তম দাস মন পূর॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাই কানু বিলসই রঙ্গে কবি নরোত্তম দাস এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৫৮- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “কদন্ব তরুর ডাল নামিয়াছে ভূমি ভাল” শিরোনামের পদটির প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিয়ে বাকি অংশ, পাঠান্তর সহ। এ ছাড়া “রাইয়ের দক্ষিণ কর ধরি পহুঁ গিরিধর” পদটির সঙ্গে এই পদের শেষার্ধের মিল আশ্চর্য করমের। ॥ শ্রীরাগ॥ রাই কানু বিলসই রঙ্গে। কিবা রূপ লাবণি বৈদগধী ধনী ধনী মণিময় অভরণ অঙ্গে॥ ধ্রু॥ কদম্ব তরুর ডাল ভূমে নামিয়াছে ভাল ফুটিয়াছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবন কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী॥ পরাগে ধূসর স্থল চন্দ্র করে সুশীতল মণিময় বেদির উপরে। রাই কানু করযোড়ি নৃত্য করে ফিরি ফিরি পরশে পুলক তনুভরে॥ রাইয়ের দক্ষিণ কর ধরি পহুঁ গিরিধর মধুর মধুর চলি জায়। আগে পাছে সখীগণ করে ফুল বরিষণ কোন সখী চামর ঢুলায়॥ শ্রমজল বিন্দু বিন্দু শোভা করে মুখ ইন্দু অধরে মুরলী লহু বার। নরোত্তম দাসে কয় রাই কত সখীহয় অনুগতে রাখিহ সদায়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ওহে নাগর বর শুনহে মুরলী ধর হেদে হে নাগরবর শুন হে মুরলীধর হ্যাদে হে নাগর-বর শুন হে মুরলী-ধর কবি নরোত্তম দাস এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির এবং “কিবা সে তোমার প্রেম কতলক্ষ কোটি হেম” শির্ষক পদটির শেষ আটটি পংক্তি হুবহু এক। ॥ কল্যানী॥ ওহে নাগর বর, শুনহে মুরলী ধর, নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ নখর মণি, জনু চান্দের গাঁথুনি ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদামের সঙ্গে সঙ্গে, যখন তুমি যাওহে রঙ্গে, তখন আমি আঙ্গিনায় দাড়াঞা। মনে করি সঙ্গে যাই, গুরুজনার ভয় পাই, আঁখি রৈল তুয়া পথ চাঞা॥ যখন তোমায় পড়ে মনে, চাহি বৃন্দাবন পানে, আল্যাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধন শালাতে যাই, তুয়া বন্ধুর গুণ গাই, ধুমার ছলায় বসি কান্দি॥ মণি নও মাণিক্য নও, হিয়ায় পরিলে রও, ফুল নও যে কেশের করি বেশ। নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি, লইয়া ফিরিতাম দেশে দেশ॥ অগোর চন্দন হৈতাম, শ্যামাঙ্গে লেপিয়া রৈতাম, ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ, বামনের চান্দে হাত, বিহি কিয়ে পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয়, তোমার বিচিত্র নয়, তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া। যে দিন তোমার ভাবে, আমার এ প্রাণ যাবে, সেই দিন দিহ পদ ছায়া॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যানী॥ ওহে নাগর বর, শুনহে মুরলী ধর, নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ নখর মণি, জনু চান্দের গাঁথুনি, ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদামের সঙ্গে সঙ্গে, যখন তুমি যাওহে রঙ্গে, তখন আমি আঙ্গিনায় দাড়াঞা। মনে করি সঙ্গে যাই, গুরুজনার ভয় পাই, আঁখি রৈল তুয়া পথ চাঞা॥ যখন তোমায় পড়ে মনে, চাহি বৃন্দাবন-পানে, আল্যাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধন শালাতে যাই, তুয়া বন্ধুর গুণ গাই, ধুমার ছলায় বসি কান্দি॥ মণি নও মাণিক্য নও, হিয়ায় পরিলে রও, ফুল নও যে কেশের করি বেশ। নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি, লইয়া ফিরিতাম দেশে দেশ॥ অগোর চন্দন হৈতাম, শ্যামাঙ্গে লেপিয়া রৈতাম, ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ, বামনের চান্দে হাত, বিহি কিয়ে পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয়, তোমার বিচিত্র নয়, তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া। যে দিন তোমার ভাবে, আমার এ প্রাণ যাবে, সেই দিন দিহ পদ ছায়া॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী॥ ওহে নাগর বর শুনহে মুরলীধর নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ নখর মণি জনু চান্দের গাঁথনী ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদামের সঙ্গে সঙ্গে যখন তুমি যাওহে রঙ্গে তখন আমি আঙ্গিনায় দাঁড়াঞা। মনে করি সঙ্গে যাই গুরু জনার ভয় পাই আঁখি রৈল তুয়া পথ চাঞা॥ যখন তোমায় পড়ে মনে চাই বৃন্দাবন পানে এলাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধন শালায় যাই, তুয়া বন্ধুর গুণ গাই ধুমার ছলায় বসি কান্দি॥ মণি নও মাণিক্য নও হিয়ায় পরিলে রও ফুল নও যে কেশের করি বেশ। নারী না করিত বিধি তোমা হেন গুণ নিধি লইয়া ফিরিতাম দেশে দেশ॥ অগোর চন্দন হইতাম, শ্যামাঙ্গে লেপিয়া রইতাম ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ বামনের চাঁদে হাত বিহি কিয়ে পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয় তোমার বিচিত্র নয়, তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া। যে দিন তোমার ভাবে আমার এ প্রাণ যাবে সেই দিন দিও পদ ছায়া॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হ্যাদে হে নাগর-বর শুনহে মুরলী-ধর নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ-নখর মণি জনু চান্দের গাঁথনী ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে যখন বনে যাও রঙ্গে তখন আমি দুয়ারে দাঁড়ায়ে। মনে করি সঙ্গে যাই গুরুজনার ভয় পাই আঁখি রৈল তুয়া পানে চেয়ে॥ চাই কাল মেঘ পানে তুয়া বন্ধু পড়ে মনে এলাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধন শালেতে যাই তুয়া বন্ধুর গুণ গাই ধুয়ার ছলনা করি কান্দি॥ মণি নও মাণিক নও আঁচলে বান্ধিলে রও ফুল নহ কেশে করি বেশ। নারী না করিত বিধি তুয়া হেন গুণনিধি লইয়া ফিরিতাম দেশ দেশ॥ অগুরু চন্দন হইতাম তুয়া অঙ্গে মাখা রইতাম ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ বামন হৈয়ে চান্দে হাত বিহি কি সাধ পূরাবে আমায়॥ নরোত্তমদাসে কয় তোমার উচিত হয় তুমি আমায় না ছাড়িহ দয়া। যে দিন তোমার ভাবে আমার এ দেহ যাবে সেই দিনে দিহ পদ-ছায়া॥ এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হেদে হে নাগরবর, শুন হে মুরলীধর, নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ নখর মণি, জনু চাঁদের গাথনি, ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে, যখন বনে যাও রঙ্গে, তখন আমি দুয়ারে দাঁড়ায়ে। মনে করি সঙ্গে যাই, গুরুজনার ভয় পাই, আঁখি রইল তুয়া পানে চেয়ে॥ চাই নবীন মেঘপানে, তুয়া বঁধূ পড়ে মনে, এলাইলে কেশ নাহি বাঁধি। রন্ধনশালাতে যাই, তুয়া বঁধূ গুণ গাই, ধুঁয়ার ছলনা করি কান্দি॥ মণি নও মাণিক নও, আঁচলে বাঁধিলে রও, ফুল নও যে কেশে করি বেশ। নারী না করিত বিধি, তোমা হেন গুণনিধি, লইয়া ফিরিতাম দেশ দেশ॥ অগুরু চন্দন হৈতাম, তুয়া অঙ্গে মাখা রইতাম, ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ, বামন হ’য়ে চাঁদে হাত, বিধি কি সাধ পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয়, তোমার উচিত হয়, তুমি আমায় না ছাড়িহ দয়া। যে দিন তোমার ভাবে, আমার এ প্রাণ যাবে, সেইদিনে দিও পদছায়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ কল্যানী॥ ওহে নাগর বর শুনহে মুরলীধর নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ-নখর মণি জনু চান্দের গাঁথুনি ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদামের সঙ্গে সঙ্গে যখন তুমি যাওহে রঙ্গে তখন আমি আঙ্গিনায় দাড়াঞা। মনে করি সঙ্গে যাই গুরুজনার ভয় পাই আঁখি রৈল তুয়া পথ চাঞা॥ যখন তোমায় পড়ে মনে চাহি বৃন্দাবন পানে আল্যাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধন শালাতে যাই তুয়া বন্ধুর গুণ গাই ধুমার ছলায় বসি কান্দি॥ মণি নও মাণিক্য নও হিয়ার মাঝারে ধরি ফুল নও যে কেশের করি বেশ। নারী না করিত বিধি তোমা হেন গুণনিধি লইয়া ফিরিতাম দেশে দেশ॥ অগৌর চন্দন হৈতাম শ্যামাঙ্গ লেপিয়া রৈতাম ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ বামনের চান্দে হাত বিহি কিয়ে পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয় তোমার বিচিত্র নয় তুমি মোরে না ছাড়িও দয়া। যেদিন তোমার ভাবে আমার এ প্রাণ যাবে সেই দিন দিহ পদ ছায়া॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৪৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ওহে নাগর বর শুনহে মুরলীধর নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ নখর মণি, জনু চান্দের গাঁথনী ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদামের সঙ্গে সঙ্গে, যখন তুমি যাওহে রঙ্গে, তখন আমি আঙ্গিনায় দাঁড়াঞা। মনে করি সঙ্গে যাই, গুরুজনার ভয় পাই, আঁখি রৈল তুয়া পথ চাঞা॥ যখন তোমায় পড়ে মনে, চাহি বৃন্দাবন পানে এলাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধনশালায় ধাই, তুয়া বন্ধুর গুণ গাই ধুমার ছলায় বসি কান্দি॥ মণি নও মাণিক্য নও হিয়ায় পরিলে রও ফুল নও যে কেশের করি বেশ। নারী না করিত বিধি তোমা হেন গুণনিধি লইয়া ফিরিতাম দেশে দেশ॥ অগোর চন্দন হৈতাম, শ্যামাঙ্গে লেপিয়া রৈতাম ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ বামনের চাঁদে হাত বিহি কিয়ে পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয় তোমার বিচিত্র নয় তুমি মোরে না ছাড়িহ দয়া। যে দিন তোমার ভাবে আমার এ প্রাণ যাবে সেই দিন দিও পদ ছায়া॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৮৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ওহে নাগর বর শুনহে মুরলীধর নিবেদন করি তুয়া পায়। চরণ নখর মণি জনু চান্দের গাঁথুনি ভাল শোভে আমার গলায়॥ শ্রীদামের সঙ্গে সঙ্গে যখন তুমি যাওহে রঙ্গে তখন আমি আঙ্গিনায় দাড়াঞা। মনে করি সঙ্গে যাই গুরুজনার ভয় পাই আঁখি রৈল তুয়া পথ চাঞা॥ যখন তোমায় পড়ে মনে চাহি বৃন্দাবন পানে আল্যাইলে কেশ নাহি বান্ধি। রন্ধন শালাতে যাই তুয়া বন্ধুর গুণ গাই ধুমার ছলায় বসি কান্দি॥ মণি নও মাণিক্য নও হিয়ার মাঝারে ধরি ফুল নও যে কেশের করি বেশ। নারী না করিত বিধি তোমা হেন গুণনিধি লইয়া ফিরিতাম দেশে দেশ॥ অগৌর চন্দন হৈতাম শ্যামাঙ্গ লেপিয়া রৈতাম ঘামিয়া পড়িতাম রাঙ্গা পায়। কি মোর মনের সাধ বামনের চান্দে হাত বিহি কিয়ে পূরাবে আমায়॥ নরোত্তম দাসে কয় তোমার বিচিত্র নয় তুমি মোরে না ছাড়িও দয়া। যেদিন তোমার ভাবে আমার এ প্রাণ যাবে সেই দিন দিহ পদ ছায়া॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই বঁধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙায়ব সই কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম পল্লব, সর্বকালোচিত বিপ্রলব্ধা, ৩৬৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনি গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশা-ঘর। কোন কুমতিনি মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে পেলিয়া দিগান্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আসি এ বেশ বনাইলুঁ গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ- কিরণ উজোর গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনি আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পূরিল সই প্রিয়া বিনে কার মুখে দিব। এমন মালতী-মালা বৃথাই গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনি গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির পদসংখ্যা-৪৮২-এ এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনি গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশা-ঘর। কোন কুমতিনি মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে পেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আসি এ বেশ বনাইলুঁ গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ- কিরণ উজর গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনি আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পূরিল সই প্রিয়া বিনে কার মুখে দিব। এমন মালতী-মালা বৃথাই গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনি গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহাড়ি॥ বন্ধুরে লইএ কোরে রজনী গোঙাব গো সাধে নিরমিল আশা ঘর। কোন কুমতিনি মোর এ ঘর ভাঙ্গিলে গো আমারে ফেলিএ দিগান্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আসি এ বেশ বনাওল গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লএ গেল গো এবা দশাধীন জানি কোয়॥ গগন উপরে চাঁন্দ কিরণ উজর গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাঁতি। এমন রজনী আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাখি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খর্পর পূরিল গো প্রিয়া বিনে কার মুখে দিব। এ সব মালতীর মালা বৃথাই গাথিল গো কেমনে রজনী গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছএ কার আশে। ধৈরজ ধরহ ধনি ধাইএ চলিল গো কহে ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে, রজনী গোঙাব সই, সাধে নিরমিনু আশা-ঘর। কোন কুমতিনী মোর, এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল, আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি এ বেশ বনানু গো, সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর, কেবা লৈয়া গেল গো, এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ কিরণ উদয় গো, কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি, কেমনে পোহাব গো, পরাণ না হয় তার সাথী॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পূরিল সই, প্রিয় বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী-মালা বৃথাহি গাঁথিনু গো, কেমনে রজনী গোঙাব॥ এ পাপ পরাণ মোর, বাহির না হয় গো, এখনে আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিল গো, কহি ধায় নরোত্তমদাসে॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বিপ্রলব্ধা ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে, রজনী গোঙাব সই, সাধে নিরমিলুঁ আশা-ঘর। কোন কুমতিনি মোর, এঘর ভাঙ্গিয়া নিল, আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি, এ বেশ বনালুঁ গো, সকলি বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর, কেবা লৈয়া গেল গো, এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ, কিরণ উদয় গো, কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি, কেমনে পোহাব গো, পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া, খপুর পূরিল সই, প্রিয়া বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা, বৃথাহি গাঁথিলুঁ গো, কেমনে রজনী গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর, বাহির না হয় গো, এখনে আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি, ধাইয়া চলিলুঁ গো, কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে, রজনী গোঙাব সই, সাধে নিরমিনু আশা ঘর। কোন কুমতিনী মোর, এঘর ভাঙ্গিয়া নিল, আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি, এ বেশ বনানু গো, সকলি বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর, কেবা লৈয়া গেল গো, এবাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ, কিরণ উদয় গো, কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি, কেমনে পোহাব গো, পরাণ না হয় তার সাথী॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া, খপুর পূরিল সই, প্রিয়া বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা, বৃথাহি গাঁথিনু গো, কেমনে রজনী গোঙাব॥ এ পাপ পরাণ মোর, বাহির না হয় গো, এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি, ধাইয়া চলিল গো, কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে, রজনী গোঙাব সই, সাধে নিরমিলু আশা-ঘর। কোন কুমতিনি মোর, এঘর ভাঙ্গিয়া নিল, আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি, এ বেশ বনালু গো, সকলি বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর, কেবা লৈয়া গেল গো, এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ, কিরণ উদয় গো, কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি, কেমনে পোহাব গো, পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া, খপুর পূরিল সই, প্রিয়া বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা, বৃথাহি গাঁথিলু গো, কেমনে রজনী গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর, বাহির না হয় গো, এখনে আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি, ধাইয়া চলিলু গো, কহি, ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই সাধে নিরমিনু আশা-ঘর। কোন কুমতিনী মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি এ বেশ বনানু গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোরে কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ কিরণ উদয় গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথী॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পূরিল সই পিয়া বিনে কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা বৃথাহি গাঁথিনু গো কেমনে রজনী গোঁয়াব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিল গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে, রজনী গোঙাব সই, সাধে নিরমিনু আশা ঘর। কোন কুমতিনি মোর, এঘর ভাঙ্গিয়া নিল, আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি, এ বেশ বনানু গো, সকলি বিফল ভেল মোর। না জানি বন্ধুরে মোর, কেবা লৈয়া গেল গো, এবাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ, কিরণ উদয় গো, কোকিল, কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি, কেমনে পোহাব গো, পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া, খপুর পূরিল সই, প্রিয়া বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা, বৃথাহি গাঁথিনু গো, কেমনে রজনী গোঙাব॥ এপাপ পরাণ মোর, বাহির না হয় গো, এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরয ধর ধনি, ধাইয়ে চলিল গো, কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৪৪- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশা ঘর। কোন কুমতিনী মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি এ বেশ বনালুঁ গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ কিরণ উদয় গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথী॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপূর পূরিল সই পিয়া বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা বৃথাহি গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনী গোঙাব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, রুপানুরাগ, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার - দশকুশী॥ বঁধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙায়ব সই সাধে নিরমিলু আশা ঘর রে। কোন কুমতিনী মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে ফেলিয়া দিগন্তর রে॥ বঁধু সঙ্কেতে আমি এ বেশ বনাইলুঁ সকল বিফল ভেল মোয় রে। না জানি বঁধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয় রে॥ গগন উপরে চাঁদ কিরণ উদয় গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পূরিল সই পিয়া বিনে কার মুখে দিব গো। এমন মালতী মালা বৃথাহি গাঁথিলু গো কেমনে রজনী গোঙাইয় গো॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধরহ ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ২০৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই সাধে নিরমিনু আশা ঘর। কোন কুমতিনী মোর, এ ঘর ভাঙ্গিয়া দিল আমারে পেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্গেতে আমি এ বেশ বনানু গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ কিরণ উদয় গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনী আমি কেমনে পোহাব গো, পরাণ না হয় তার সাথী॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পূরিল সই প্রিয় বিনা কার মুখে দিব। এমন মালতী মালা বৃথাই গাঁথিনু গো, কেমনে রজনী গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরয ধর ধনি ধায়িয়ে চলিল গো কহি ধায় নরোত্তমদাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ পাহিড়া॥ বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশাঘর। কোন কুমতিনী মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে পেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি এ বেশ বনাইলুঁ গো- সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো- এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ- কিরণ উজোর গো- কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনি আমি কেমনে পোহাব গো- পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পুরিল সই পিয়া বিনে কার মুখে দিব। এ নব মালতী মালা বৃথাই গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনি গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৩১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশাঘর। কোন কুমতিনি মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আসি এ বেশ বনাইলু গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ- কিরণ উজোর গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনি আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পুরিল সই পিয়া বিনে কার মুখে দিব। এ নব মালতী মালা বৃথাই গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনী গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধরহ ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য”, ৪২৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনি গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশাঘর। কোন কুমতিনি মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে ফেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আসি এ বেশ বনাইলু গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ- কিরণ উজোর গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনি আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পুরিল সই পিয়া বিনে কার মুখে দিব। এ নব মালতী মালা বৃথাই গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনী গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধরহ ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বন্ধুরে লইয়া কোরে রজনী গোঙাব সই সাধে নিরমিলুঁ আশাঘর। কোন কুমতিনী মোর এ ঘর ভাঙ্গিয়া নিল আমারে পেলিয়া দিগন্তর॥ বন্ধুর সঙ্কেতে আমি এ বেশ বনাইলুঁ গো সকল বিফল ভেল মোয়। না জানি বন্ধুরে মোর কেবা লৈয়া গেল গো এ বাদ সাধিল জানি কোয়॥ গগন উপরে চান্দ কিরণ উজোর গো কোকিল কোকিলা ডাকে মাতি। এমন রজনি আমি কেমনে পোহাব গো পরাণ না হয় তার সাথি॥ কর্পূর তাম্বুল গুয়া খপুর পুরিল সই পিয়া বিনে কার মুখে দিব। এ নব মালতী মালা বৃথাই গাঁথিলুঁ গো কেমনে রজনি গোঙাইব॥ এ পাপ পরাণ মোর বাহির না হয় গো এখন আছয়ে কার আশে। ধৈরজ ধর ধনি ধাইয়া চলিলুঁ গো কহি ধায় নরোত্তম দাসে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |