কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী
*
কি কহব দুহুঁ দুরভাণ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ সুহই॥

কি কহব দুহুঁ দুরভাণ।
না হেরসি দুহুঁ পরিণাম॥
অবহুঁ চলু মঝু সাথ।
উহ করুণা রাখব বাত॥
শুনি পহুঁ আনন্দিত ভেলা।
নাসা পরশি সঙ্গে চলি গেলা॥
থাড়ি রহল রাই পাশে।
দুহুঁ মুখ হেরি হাসে॥
হিয়ে ধরি চুম্বন কান।
পাওল দুহুঁ জীউ দান॥
মদন কলহ দুহুঁ ভাষ।
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কি ক দুহুঁ দুর ভাণ।
না হেরসি দুহুঁ পরিণাম॥
অবহুঁ চলু মঝু সাথ।
উহ করুণা রাখব বাত॥
শুনি পহুঁ আনন্দিত ভেলা।
নাসা পরশি সঙ্গে চলি গেলা॥
থাড়ি রহল রাই পাশে।
দুহুঁ মুখ হেরি হাসে॥
হিয়ে ধরি চুম্বন কান।
পাওল দুহুঁ জীউ দান॥
মদন কলহ দুহুঁ ভাষ।
দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”
গ্রন্থের ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত কমলাকান্ত
দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির পদ।

মানান্ত মিলন
॥ সুহই॥

কি কহব দুহুঁ-দুরভান।
না হেরসি দুহুঁ পরিণাম॥
অবহুঁ চলহ মঝু সাথ।
উহ্নক না রাখব বাত॥
শুনি পহুঁ আনন্দিত ভেল।
নাসা পরসি চলি গেল॥
থাড়ি রহল রাই-পাশে।
দুহুঁ-মুখ হেরি দুহুঁ হাসে॥
হিয়ে ধরি চুম্বন কান।
পাওল দুহুঁ জিউ-দান॥
মদন কলহ দুহুঁ-ভাষ।
দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু  
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ১৫শ পল্লব, কলহান্তরিতা, ৪৬১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহিঁ ভোর।
কানু কমল-করে মোছাই লোর॥
মান-জনিত দুঃখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহাঁর কেলি-বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত
এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য়
খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, বাসন্তী-রাস-লীলা, ১৫০৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
মান-জনিত দুঃখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহাঁর কেলি-বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির পদসংখ্যা-
৬৫০-এ এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহিঁ ভোর।
কানু কমল-করে মোছাই লোর॥
মান-জনিত দুঃখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁর কেলি-বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”,
২৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বিহাগড়া তাল যথা॥

রাই হেরল জব সো মুখ ইন্দু। উছলল মন মাহা আনন্দ সিন্ধু॥
মান জনিত দুঃখ সব দূর গেল। দুহুঁ মুখ দরসনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ। আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহুর কেলিবিলাস। দূরহু দূরে রহুঁ নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

রাই হেরল যব সোমুখ ইন্দু। উছলল মন মাহা আনন্দ সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর। কানু কমল করে মুছই লোর॥
মান জনিত দুঃখ সব দূর গেল। দুহু মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ। আনন্দে মগন ভেল দেখি দুইজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহে কেলি বিলাস। দূরহু দূরেরহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু। উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥ ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল-করে মোছাইল লোর॥ মান-জনিত দুখ সব দূরে গেল। দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ
ভেল॥ ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ। আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥ নিকুঞ্জের
মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস। দূরহি দূরে রহু নরোত্তমদাস॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল-করে মোছাই লোর॥
মান-জনিত দুঃখ সব দূরে গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহি দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদ নহি ভোর।
কানু কমল করে মোছাইল লোর॥
মান-জনিত সুখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহি দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল-করে মোছাই লোর॥
মান-জনিত দুঃখ সব দূরে গেল।
দুহুঁ দুহুঁ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহিদূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

রাই হেরল যব সো মুখ ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল করে মুছই লোর॥
মান-জনিত দুঃখ সব দূরে গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখ দুইজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোঁহে কেলি বিলাস।
দুরহু দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদ নহি ভোর।
কানু কমল করে মোছাইল লোর॥
মান-জনিত সুখ সব দূরে গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুইজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহি দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদন হি ভোর।
কানু কমল-করে মোছাইল লোর॥
মান-জনিত সুখ সব দূরে গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুইজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দূরহি দূরে রহুঁ নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, কলহান্তরিতা, ২৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী - জপতাল॥

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল-করে মোছই লোর॥
মান জনিত দুখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখ দুই জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি-বিলাস।
দুরহি দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ ধানশী॥

রাই হেরল যব সো মুখ ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ-সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহিঁ ভোর।
কানু কমলকরে মোছাই লোর॥
মানজনিত দুখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুইজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহাঁর কেলি-বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৪৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দসিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল-করে মোছাই লোর॥
মান জনিত দুখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী সাহিত্য”, ৪৪৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই হেরল যব সো মুখ-ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দসিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহি ভোর।
কানু কমল-করে মোছাই লোর॥
মান জনিত দুখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুহুঁ জন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দুহুঁ কেলি বিলাস।
দূরহি নেহারত নরোত্তম দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই হেরল যব সো মুখ ইন্দু।
উছলল মন মাহা আনন্দ সিন্ধু॥
ভাঙ্গল মান রোদনহিঁ ভোর।
কানু কমলকরে মোছাই লোর॥
মানজনিত দুখ সব দূর গেল।
দুহুঁ মুখ দরশনে আনন্দ ভেল॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ।
আনন্দে মগন ভেল দেখি দুইজন॥
নিকুঞ্জের মাঝে দোহাঁর কেলি বিলাস।
দূরহিঁ দূরে রহু নরোত্তম দাস॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রবাস
॥ পঠমঞ্জরী ॥

মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন।
আমারে ছাড়িয়া তুমি,               মধুপুর যাবে জানি,
তবে আমি তেজিব পরাণ॥
নহেত আনল খাব,                  কিবা বনে প্রবেশিব,
এই আমি দঢ়ায়াছি চিতে।
লইয়া তোমার নাম,                গলায় গাঁথিয়া শ্যাম,
প্রবেশ করিব যমুনাতে॥
কুলবতী হৈয়া যেন,             কেহ ত না করে প্রেম,
পিরীতি করহ এই রীতে।
যে জন চতুর হয়,                   প্রেম রস কভু নয়,
রস হৈলে হয় বিপরীতে॥
বুঝিনু ঐছন কাজ,                 তুমি সে নাগর রাজ,
যুবতী জনের প্রাণ লৈতে।
নরোত্তম দাস কয়,              না জানি কি জানি হয়,
নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী ॥

মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন।
আমারে ছাড়িয়া তুমি,               মধুপুর যাবে জানি,
তবে আমি তেজিব পরাণ॥
নহেত আনল খাব,                কিবা বনে প্রবেশিব,
এই আমি দঢ়ায়াছি চিতে।
লইয়া তোমার নাম,                 গলায় গাঁথিয়া শ্যাম,
প্রবেশ করিব যমুনাতে॥
কুলবতী হৈয়া যেন,               কেহ ত না করে প্রেম,
পিরীতি করহ এই রীতে।
যে জন চতুর হয়,                     প্রেম রস কভু নয়,
রস হৈলে হয় বিপরীতে॥
বুঝিনু ঐছন কাজ,                   তুমি সে নাগর রাজ,
যুবতী জনের প্রাণ লৈতে।
নরোত্তম দাস কয়,                না জানি কি জানি হয়,
নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাবী বিরহ
॥ পঠমঞ্জরী ॥

মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন।
আমারে ছাড়িয়া তুমি               মধুপুর যাবে জানি
তবে আমি তেজিব জীবন॥
নহেত আনল খাব                কিংবা বনে প্রবেশিব
এই আমি দঢ়ায়্যাছি চিতে।
লইয়া তোমার নাম                  গলায় গাঁথিয়া শ্যাম
প্রবেশ করিব যমুনাতে॥
কুলবতী হৈয়া যেন                কেহ ত না করে প্রেম
পিরীতি করহ এই রীতে।
যে জন চতুর হয়                      প্রেম রস কভু নয়
রস হৈলে হয় বিপরীতে॥
বুঝিনু ঐছন কাজ                    তুমি সে নাগর রাজ
যুবতী জনের প্রাণ লৈতে।
নরোত্তম দাস কয়                 না জানি কি জানি হয়
নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৯৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন।
আমারে ছাড়িয়া তুমি মধুপুর যাবে
জানি তবে আমি তেজিব জীবন॥
নহেত আনল খাব কিংবা বনে প্রবেশিব
এই আমি দঢ়ায়্যাছি চিতে।
লইয়া তোমার নাম গলায় গাঁথিয়া শ্যাম
প্রবেশ করিব যমুনাতে॥
কুলবতী হৈয়া যেন কেহ ত না করে
প্রেম পিরীত করহ এই রীতে।
যে জন চতুর হয় প্রেম রস কভু নয়
রস হৈলে হয় বিপরীতে॥
বুঝিনু ঐছন কাজ তুমি সে নাগর
রাজ যুবতী জনের প্রাণ লৈতে।
নরোত্তম দাস কয় না জানি কি জানি
হয় নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৩৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ঐশান্য ধানশী রাগ দশকোশী তালৌ॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারি। তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা। মোর দুখে দুখী নও ইহা গেল জানা॥
দাব দগধি ধিক ছট ফটি এহ। এছার নিলজ প্রাণ নাছাড়এ দেহ॥
কাহ্ণু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল। কেমনে গোঙাব আমি এদিন সকল॥
এবড় শেল আমার হৃদয়ে রহিল। মরণ সময়ে তাঁরে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি। পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তাঁর সতি। শ্যাম সুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল)) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১১শ পল্লব, দশ দশা, ১৯৫৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব-দগধ ধিক ছট ফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ-সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম-সুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ (২০০৬), ২৬০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নও ইহা গেল জানা॥
দাবদগধি ধিক্ ছট ফটি এহ।
এ ছার নিলাজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড, ক্ষণ, পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুই যাঙ্ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম সুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী। তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥ আমারে
মরিতে সখি কেন কর মানা। মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥ দাব-দগধ ধিক ছট ফটি
এহ। এ ছার নিলজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥ কানু বিনে নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল। কেমনে
গোঙাব আমি এ দিন সকল॥ এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল। মরণ সময়ে তারে
দেখিতে না পাইল॥ বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি। পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাউ
মরি॥ নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি। শ্যাম সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব-দগধ ধিক ছট ফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণ না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহিল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব-দগধ ধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনে নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঁয়াব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাউ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম-সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব-দগধ ধিক ছট ফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণ না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহিল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব-দগধ ধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণ না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনে নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঁয়াব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ সময় তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাউ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব-দগধ ধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনে নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড়ি শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ সময় তারে দেখিতে না পাল্য॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাউ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম-সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কাব্য-রত্নমালা”, ২১৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ ইহা গেল জানা॥
দাব দগধ ধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনে নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঁয়াব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙারি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাউ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দশ দশা
॥ সুহই॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ তাহা গেল জানা॥
দাবদগধ ধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণ না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এদিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহিল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার মতি।
শ্যামসুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - একতালা॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমাহেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ তাহা গেল জানা॥
দাব-দগধধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণে না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনে নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এদিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহিল।
মরণ-সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম-সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২৫৯-পৃষ্ঠায় পুনঃ এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশী - যপতালা॥

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ তাহা গেল জানা॥
দাব দগধ ধিক ছট-ফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণ না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এদিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার সতি।
শ্যাম-সুধা না মিলিলে সবার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৮১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখি নও ইহা গেল জানা॥
দাবদগধি ধিক্ ছটফটি এহ।
এ ছার নিলাজ প্রাণ না ছাড়এ দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল আমার হৃদয়ে রহিল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তাঁর মতি।
শ্যামসুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী সাহিত্য”, ৪৯৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখি নও ইহা গেল জানা॥
দাবদগধি ধিক্ ছটফটি এহ।
এ ছার নিলাজ প্রাণ না ছাড়এ দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এ দিন সকল॥
এ বড় শেল আমার হৃদয়ে রহিল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তাঁর মতি।
শ্যামসুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
"বৈষ্ণব পদাবলী", ৩০০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম বন্ধুর কত আছে আমা হেন নারী।
তার অকুশল কথা সহিতে না পারি॥
আমারে মরিতে সখি কেন কর মানা।
মোর দুখে দুখী নহ তাহা গেল জানা॥
দাবদগধ ধিক ছটফটি এহ।
এ ছার নিলজ প্রাণ না ছাড়য়ে দেহ॥
কানু বিনু নাহি যায় দণ্ড ক্ষণ পল।
কেমনে গোঙাব আমি এদিন সকল॥
এ বড় শেল মোর হৃদয়ে রহিল।
মরণ সময়ে তারে দেখিতে না পাইল॥
বড় মনে সাধ লাগে সো মুখ সোঙরি।
পিয়ার নিছনি লৈয়া মুঞি যাঙ মরি॥
নরোত্তম যাই তথা জানুক তার মতি।
শ্যামসুধা না মিলিলে সভার সেই গতি॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৩৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শুদ্ধধানশী রাগপ্রতি চঞ্চুপুট তালৌ॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ। আনলে পশিব কিবা যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
ইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি। হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া। শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন চুয়া॥
মালতি ফুলের গাথিয়া দিব মাল। বনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তল ভার॥
কপালে চন্দন দিব তীলক চাঁদ। নরোত্তম দাস কহে পিরিতির ফাঁদ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, অর্দ্ধ-বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৬৫৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
আনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণী॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেত বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী-ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চূড়া কুন্তল-ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরিতির ফান্দ॥

ই পদটি এই পদটি পুনরায় আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন)
সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের
(১৯১৮ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১১শ পল্লব, অর্দ্ধ-বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৯৫৯-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
আনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেত বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলেরে গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চূড়া কুন্তল-ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরিতির ফান্দ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
৮৮২-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
আনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে লাগি চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেত বাতাস দিব সচন্দন চুয়া॥
শ্রীবৃন্দাবনের ফুলে গাঁথি দিব হার।
বনাইয়া বান্ধব চূড়া কুন্তলের ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরীতির ফান্দ॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ (২০০৬), ২৬২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
আনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে লাগি চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুই জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছাব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তল ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরীতির ফান্দ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ। অনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥ এবার পাইলে
রাঙ্গা চরণ দুখানি। হিয়ার মাঝারে থুই জুড়াব পরাণী॥ মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান
গুয়া। শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥ মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল। বনাইয়া
বান্ধব চুড়া কুন্তল-ভার॥ কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ। নরোত্তমদাস কহে পিরীতের
ফান্দ॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
আনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চুড়া কুন্তল-ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরীতির ফান্দ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুই জুড়াব পরাণী॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেত বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চূড়া কুন্তল ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ।
নরোত্তম দাস কহে পিরীতের ফান্দ॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
আনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চুড়া কুন্তল-ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরীতির ফান্দ॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুই জুড়াব পরাণী॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বানাইয়া বান্ধব চূড়া কুন্তল ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ।
নরোত্তম দাসে কহে পিরীতের ফান্দ॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীকৃষ্ণ উদ্দেশ্যে আক্ষেপ॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কিয়ে যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুই জুড়াব পরাণী॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পানগুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের আর গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধিব চূড়া কুন্তল-ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তমদাস কহে পিরীতের ফান্দ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলেরে গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চুড়া কুন্তল ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তমদাস কহে পিরীতির ফান্দ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৮১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চুড়া কুন্তল ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরিতের ফান্দ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী সাহিত্য”, ৪৯৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তোমা না দেখিয়া শ্যাম মনে বড় তাপ।
অনলে পশিব কি যমুনায় দিব ঝাঁপ॥
এইবার পাইলে রাঙ্গা চরণ দু’খানি।
হিয়ার মাঝারে থুইয়া জুড়াব পরাণি॥
মুখের মুছিব ঘাম খাওয়াব পান গুয়া।
শ্রমেতে বাতাস দিব চন্দন আর চুয়া॥
মালতী ফুলের গাঁথিয়া দিব মাল।
বনাইয়া বান্ধব চুড়া কুন্তল ভার॥
কপালে তিলক দিব চন্দনের চান্দ।
নরোত্তম দাস কহে পিরিতের ফান্দ॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নব ঘন শ্যাম অহে প্রাণ আমি
নবঘন শ্যাম ওহে পরাণ বন্ধুয়া
নবঘন শ্যাম ওহে প্রাণ বন্ধুয়া
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৯৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ পঠমঞ্জর রাগ রূপক তালভ্যাং॥

নবঘন শ্যাম অহে প্রাণ আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন শশি আমিয়া মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি হৃদয়ে লিখিওঁ যদি তবে তোমা দেখিওঁ সদাই।
এমন গুণের নিধি হরিয়া লইলে বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিল তোরে পরাণ কেমন করে কি কহব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিল সখি জিবন সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব,
অর্দ্ধ-বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৬৫৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী ॥

নবঘন-শ্যাম                          অহে প্রাণ-বন্ধুয়া
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন-শশী                 আমিয়া-মধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আকৃতি          হৃদয়ে লিখিতাম যদি
তবে তোমা দেখিতাম সদাই।
এমন গুণের নিধি                     হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয়                 পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে                  পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখি                পরাণ-সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ                বিধাতা করিলে বাজ
নরোত্তম-জীবন অপায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৪৫০-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ পঠমঞ্জরী ॥

নবঘন-শ্যাম                  অহে প্রাণ-বন্ধুয়া
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন-শশী          আমিয়া-মধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামে আদি      হৃদয়ে লিখিতাম যদি
তবে তোমা দেখিতাম সদাই।
এমত গুণের নিধি           হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয়        কানুরে আনিয়া দেয়
তবে মোর নয়ন জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে        পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখি        পরাণ-সংশয় দেখি
মনে মোর কিছুই না ভায়।
যে কিছু মনের সাধ      বিধাতা করিলে বাজ
নরোত্তম-জীবন আপায়॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী পঠমঞ্জরী। তাল রূপক॥

নবঘন শ্যাম অহে প্রাণ আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদনশশী আমিআ মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি হৃদএ লিখিতু জদি তবে তোমা দেখিতু সদাই।
এমন গুণের নিধি হরিআ লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয় পিআরে আনিয়ে দেয় তবে মোর পরাণ জুড়াঅ।
মরম কহিল তোরে পরাণ কেমন করে কি কহব কহনে না জায়॥
এবে সে বুঝিল সখী জীবন সংশয় দেখি মনে মোর কিছুই না ভায়।
জে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিল বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী ॥

নব ঘন শ্যাম,                        অহে প্রাণ,
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন শশী,        আমিঞা মধুর হাসি,
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি,       হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি,
তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই।
এমন গুণের নিধি,             হরিয়া লইল বিধি,
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয়,        পিয়ারে আনিয়া দেয়,
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিনু তোরে,          পরাণ কেমন করে,
কি কহিব কহনে না যায়॥
এবে সে বুঝিলু সখি,        জীবন সংশয় দেখি,
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ,        বিধাতা করিলে বাদ,
নরোত্তম জীবন আপায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী ॥

নবঘন-শ্যাম,                   ওহে প্রাণ-বন্ধুয়া,
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদনশশী,          আমিয়া মধুর হাসি,
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি,       হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি,
তবে তোমা দেখিতুঁই।
এমন গুণের নিধি,           হরিয়া লইল বিধি,
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমন বেথিত হয়,        পিয়ারে আনিয়া দেয়,
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিনু তোরে,        পরাণ কেমন করে,
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিনু সখি,        পারণ-সংশয় দেখি,
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ,       বিধাতা করিলে বাদ,
নরোত্তম-জীবন আপায়॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

নব ঘন শ্যাম,                        অহে প্রাণ,
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন শশী,        আমিয় মধুর হাসি,
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি,      হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি,
তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই।
এমন গুণের নিধি,            হরিয়া লইল বিধি,
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয়,        পিয়ারে আনিয়া দেয়,
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিনু তোরে,        পরাণ কেমন করে,
কি কহিব কহনে না যায়॥
এবে সে বুঝিলু সখি,        জীবন সংশয় দেখি,
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ,        বিধাতা করিলে বাদ,
নরোত্তম জীবন আপায়॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী ॥

নবঘনশ্যাম                        ওহে পরাণ বন্ধুয়া
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদনশশী        আমিয়া মধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি                হৃদয়ে লিখিতু যদি
তবে তোমা দেখি মুঁই।
এমন গুণের নিধি        হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমন বেথিত হয়        পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিনু তোরে        পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিনু সখি        পরাণ-সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ        বিধাতা করিলে বাধ
নরোত্তম জীবন অপায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ
॥ পঠমঞ্জরী ॥

নবঘনশ্যাম ওহে                    পরাণ বন্ধুয়া তুমি
আমি তোমা পসরিতে নারি।
তোমার বদনশশী                   আমিয়ামধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আকূতি         হৃদয়ে লিখিতাম যদি
তবে তোমা দেখিতাম সদাই।
এমন গুণের নিধি                   হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয়              পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে               পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখি              পরাণ-সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ            বিধাতা পাড়িলে বাজ
নরোত্তম-জীবন অপায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী - আড়াসমতাল॥

নবঘন শ্যাম                          ও হে পরাণ বঁধুয়া
আমি তোমা পসরিতে নারি।
তোমার বদন শশী                   আমিয়া মধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি              হৃদয়ে লিখিতাম যদি
তবে তোমা দেখিতাম সদাই।
এমন গুণের নিধি                     হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত ব্যথিত হয়                  পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে                  পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখী                 পরাণ সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ                বিধাতা করিলে বাদ
নরোত্তম জীবন অপায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
১৮১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবঘনশ্যাম অহে প্রাণ!
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন-শশী             আমিয়া মধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি           হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি
তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই।
এমন গুণের নিধি                 হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমন বেথিত হয়              পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে             পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখি             পরাণ সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ            বিধাতা করিলে বাদ
নরোত্তম জীবন অপায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য”,
৪৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


নবঘনশ্যাম অহে প্রাণ!
আমি তোমা পাসরিতে নারি।
তোমার বদন-শশী                  আমিয়া মধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আদি                হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি
তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই।
এমন গুণের নিধি                    হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমন বেথিত হয়                 পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে                 পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখি               পরাণ সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ               বিধাতা করিলে বাদ
নরোত্তম জীবন অপায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৯৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবঘনশ্যাম ওহে পরাণ বন্ধুয়া তুমি
আমি তোমা পসরিতে নারি।
তোমার বদনশশী আমিয়ামধুর হাসি
তিল আধ না দেখিলে মরি॥
তোমার নামের আকূতি হৃদয়ে
লিখিতাম যদি
তবে তোমা দেখিতাম সদাই।
এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি
এবে তোমা দেখিতে না পাই॥
এমত বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয়
তবে মোর পরাণ জুড়ায়।
মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে
কি কহিব কহন না যায়॥
এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ সংশয় দেখি
মনে মোর কিছু নাহি ভায়।
যে কিছু মনের সাধ বিধাতা পাড়িলে
বাজ নরোত্তম-জীবন অপায়॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কবে কৃষ্ণধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণপ্রিয়া,
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে, কবে বা ফিরিব রঙ্গে,
সুখময় যমুনাপুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাঁহারে ভেটিব গিয়া, সাজাইয়া নানা উপহার। সদয়
হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিলমাত্র
না রাখিল তার। কহে নরোত্তম দাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

কবে কৃষ্ণধন পাব,                    হিয়ার মাঝারে থোব,
জুড়াইব এ পাপ পরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া,                     বসাইব প্রাণ প্রিয়া,
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে,                  কবে বা ফিরিব রঙ্গে,
সুখময় যমুনা পুলিন॥
ললিতা বিশাখা নিয়া,                 তাহারে ভেটিব গিয়া,
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি,                        মিলাইবে গুণনিধি,
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট,                    ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট,
তিল মাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তম দাস,                   কি মোর জীবনে আশ,
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্র কুমার॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কবে কৃষ্ণধন পাব,                   হিয়ার মাঝারে থোব,
জুড়াইব এ পাপ পরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া,                       বসাইব প্রাণপ্রিয়া,
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে,                  কবে বা ফিরিব রঙ্গে,
সুখময় যমুনাপুলিন॥
ললিতা বিশাখা নিয়া,                 তাঁহারে ভেটিব গিয়া,
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি,                        মিলাইবে গুণনিধি,
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট,                    ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট,
তিলমাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তম দাস,                   কি মোর জীবনে আশ,
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

কবে কৃষ্ণধন পাব,                   হিয়ার মাঝারে থোব,
জুড়াইব এ পাপ পরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া,                     বসাইব প্রাণ প্রিয়া,
নিরখিব সে চন্দ্র-বয়ান॥
হরি হরি কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে,                 কবে বা ফিরিব রঙ্গে,
সুখময় যমুনা পুলিন॥
ললিতা বিশাখা নিয়া,                 তাহারে ভেটিব গিয়া,
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি,                        মিলাইবে গুণনিধি,
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট,                    ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট,
তিল মাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তম দাস,                   কি মোর জীবনে আশ,
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্র কুমার॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব,
জুড়াইব এ পাপ পরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণপ্রিয়া,
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি, কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে কবে বা ফিরিব রঙ্গে
সুখময় যমুনা পুলিন॥
ললিতা বিশাখা নিয়া, তাঁহারে ভেটিব গিয়া
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি,
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট,
তিল মাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তমদাস, কি মোর জীবনে আশ
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”,
২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর বিরহোচিত দর্শন-লালসা।

কবে কৃষ্ণধন পাব,                 হিয়ার মাঝারে থোব,
জুড়াইব এ পাপ পরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া,                     বসাইব প্রাণপ্রিয়া,
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি! কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে,                 কবে বা ফিরিব রঙ্গে,
সুখময় যমুনাপুলিন॥
ললিতা বিশাখা নিয়া,                তাঁহারে ভেটিব গিয়া,
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি,                        মিলাইবে গুণনিধি,
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট,                    ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট,
তিল মাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তম দাস,                   কি মোর জীবনে আশ,
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কবে কৃষ্ণধন পাব                 হিয়ার মাঝারে থোব
জুড়াইব এ পাপপরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া                     বসাইব প্রাণপ্রিয়া
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে                  কবে বা ফিরিব রঙ্গে
সুখময় যমুনা-পুলিন॥ ধ্রু॥
ললিতা বিশাখা নিয়া                তাঁহারে ভেটিব গিয়া
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি                        মিলাইবে গুণনিধি
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট                    ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট
তিলমাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তমদাস                   কি মোর জীবনে আশ
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কামোদ॥

কবে কৃষ্ণধন পাব                  হিয়ার মাঝারে থোব
জুড়াইব এ পাপপরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া                     বসাইয়া প্রাণপিয়া
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে                  কবে বা ফিরিব রঙ্গে
সুখময় যমুনাপুলিন॥ ধ্রু॥
ললিতা বিশাখা নিয়া                 তাঁহারে ভেটিব গিয়া
সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি                        মিলাইবে গুণনিধি
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট                    ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট
তিলমাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তমদাস                   কি মোর জীবনে আশ
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৮৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কবে কৃষ্ণধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব
জুড়াইব এ পাপপরাণ।
সাজাইয়া দিব হিয়া বসাইয়া প্রাণপিয়া
নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥
হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন।
সে প্রাণনাথের সঙ্গে কবে বা ফিরিব রঙ্গে
সুখময় যমুনাপুলিন॥
ললিতা বিশাখা নিয়া তাঁহারে ভেটিব
গিয়া সাজাইয়া নানা উপহার।
সদয় হইয়া বিধি মিলাইবে গুণনিধি
হেন ভাগ্য হইবে আমার॥
দারুণ বিধির নাট ভাঙ্গিল  প্রেমের হাট
তিলমাত্র না রাখিল তার।
কহে নরোত্তমদাস কি মোর জীবনে আশ
ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ
সুন সুন মাধব বিদগদরাজ
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী রাগ যতি তালৌ॥

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ। ধনি যদি পেখবি না কর বিআজ॥ ধ্রু॥
নব কিশলয় দলে সূতলি নারি। বিষম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি। জীবন ধরব এ তুয়া দরশক লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ। না জানিএ অব কিএ ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান। রসিক কলাগুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ৪র্থ পল্লব, বসন্তকালোচিত বিপ্রলব্ধা, ৩২১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শূতলি নারী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর-আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস-পহুঁ নাগর কান।
রসিক-কলা-গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত পদরত্নাকর পুথির
১৯|১৫-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনি যদি দেখবি না কর বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শূতিয়াছে নারী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দ পবন বহে আগি।
জীউ ধরয়ে তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহে আখর-আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস-পহু নাগর কান।
রসিক-কলা-গুরু উহ সব জান॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে
প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”,
১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী রাগ। যতি তালো॥

সুন সুন মাধব বিদগদরাজ। ধনি জদি দেখবি না কর বেয়াজ॥ ধ্রু॥
নব কিশলয়দলে সুতলি নারী। বিষম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দ্র পবন ভেল আগি। জীবন ধরএ তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক জতনে কহ আঁখর আধ। না জানিএ অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহু নাগর কান। রসিক কলাগুরু তুঁহু সব জান॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ। ধনী যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥ নব কিশলয়-দলে শুতলি
নারী। বিষম কুসুম-শর সহই না পারি॥ হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি। জীবন
ধরয়ে তুয়া দরশন লাগি॥ অনেক যতনে কহ আখর আধ। না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল
পরমাদ॥ নরোত্তমদাস পহুঁ নাগর কান। রসিক কলা-গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
সখী-উক্তি
॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনী যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শুতলি বর নারী।
বিষম কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশক লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অবকিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলাগুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনী যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শূতলি নারী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অবকিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলা-গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনী যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শুতলি বর নারী।
বিষম কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশক লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অবকিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলাগুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনী যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শুতলি নারী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলা গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ১২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী-সংবাদ
(শ্রীরাধার আপ্ত-দূতী)
॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শুতলি গোরী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তমদাস-পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলা-গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥        

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শুতলি বর-নারী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশক লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তমদাস-পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলা-গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯২৬ সালে, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”
গ্রন্থের ১০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত কমলাকান্ত
দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির পদ।

মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ বরাড়ী॥

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
শিতল নিকুঞ্জ-বনে শুতি বর নারী।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চঁদন পবন বহে আগি।
জীউ রহত তুয়া দরশন লাগি॥
কতহি যতনে কহে আখর-আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস-পহুঁ নাগর-কান।
রসিক কলা-গুরু সব রস জান॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, অভিসারোত্কণ্ঠা, ৫৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী - মধ্যম একতালা॥

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শূতলি নারি।
বিষম-কুসুম-শর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর-আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস-পহুঁ নাগর কান।
রসিক-কলা-গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, কলহান্তরিতা, ৩০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - জপতালা॥

শুন শুন মাধব বিদগধ-রাজ।
ধনি যদি পেখবি না কর বিয়াজ॥ ধ্রু॥
নব কিশলয় দলে শূতলি নারী।
বিষম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশক লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিএ অব কিএ ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস-পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলা গুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তকালোচিত বিপ্রলব্ধা
॥ ধানশী॥

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়দলে শূতলি নারি।
বিষম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলাগুরু তুহুঁ সব জান॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বিয়াজ॥
নব কিশলয়-দলে শুতলি নারী।
বিগম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধর এ তুয়া দরশন লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানি এ অব কি এ ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক-কলা গুরু তুহুঁ সবজান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন মাধব বিদগধ রাজ।
ধনি যদি দেখবি না সহে বেয়াজ॥
নব কিশলয়দলে শূতলি নারি।
বিষম কুসুমশর সহই না পারি॥
হিমকর চন্দন পবন ভেল আগি।
জীবন ধরয়ে তুয়া দরশর @ লাগি॥
অনেক যতনে কহ আখর আধ।
না জানিয়ে অব কিয়ে ভেল পরমাদ॥
নরোত্তম দাস পহুঁ নাগর কান।
রসিক কলাগুরু তুহুঁ সব জান॥

@ - দরশর - সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ, দরশন হবে।

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়
শ্যাম নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৩৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ অর্দ্ধ বাহ্য দশা॥
॥ ঐশান্য ধানশী রাগ বিজয়ানন্দ তালাভ্যাং॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়। না দেখিয়া চান্দ মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ দিব্যাঞ্জন মোর নয়ান অভিরাম। কোটীন্দু শীতল কাঁহা নবঘন শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন। পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাঁহা মুরলী বদন॥
দূরেত তমাল তরু করি দরশন। উনমতি হৈয়া ধায় চায় আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ। হেরইতে পশু পাখি করএ বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর। নরোত্তম দাসক দুঃখ নাহি ওর॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১১শ পল্লব, দশ দশা, ১৯৪৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ততো দশমী-দশায়াং নিবৃত্তায়াং
অর্দ্ধবাহ্য-দশায়াং প্রলাপং নিবেদয়তি
॥ তিরোতা ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ-মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ দিব্যাঞ্জন মোর নয়নাভিরাম।
কোটিন্দু-শীতল কাহাঁ নবঘন-শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাহাঁ মুরলী-বদন॥
দূরেত তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ২৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়। না দেখিয়া চাঁদমুখ কান্দে উভরায়॥ কাহাঁ মোর
দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম। কোটীন্দু শীতল কাহাঁ নবঘনশ্যাম॥ অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি
চন্দন। পঞ্চেন্দ্রিয়-কর্ষ কাহাঁ মুরলী বদন॥ দূরেতে তমাল তরু করি দরশন। উনমত হৈয়া
ধায় চাহে আলিঙ্গন॥ কি কহব রাইক ধো উনমাদ। হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥ পুন
পুন চেতন পুন পুন ভোর। নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
সখী-উক্তি
॥ তিরোতা-ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ মোর দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু শীতল কাহাঁ নব ঘন শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়া-কর্ষ কাহাঁ মুরলী বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমত হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ মোর দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম।
কোটিন্দু শীতল কাহাঁ নবঘনশ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়-কর্ষ কাহাঁ মুরলী বদন॥
দূরেত তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা--ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ মোর দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু শীতল কাহাঁ নব-ঘন-শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়া-কর্ষ কাহাঁ মুরলী বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমত হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ মোর দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু শীতল কাহাঁ নবঘনশ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়-কর্ষ কাহাঁ মুরলী বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমত হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু সাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ-মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ মোর দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু-শীতল কাহাঁ নবঘন-শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয় কর্ষ কাহাঁ মুরলী-বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমত হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা ধানশী॥

শ্যাম নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চান্দ-মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ মোর দিব্যাঞ্জন নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু-শীতল কাহাঁ নবঘনশ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি-চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়-কষ কাহাঁ মুরলী-বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমত হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তমদাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মথুরায় দূতীর উক্তি
॥ তিরোথা - ধানশী॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদমুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ দিব্যাঞ্জন মোর নয়নাভিরাম।
কোটীন্দুশীতল কাহাঁ নবঘন-শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাহাঁ মুরলী-বাদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোথা ধানশী - একতালা॥

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদ-মুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ দিব্যাঞ্জন মোর নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু-শীতল কাহাঁ নবঘন-শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাহাঁ মুরলী-বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশুপাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৮৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদমুখ কান্দে উভরায়॥
কাঁহা দিব্যাঞ্জন মোর নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু-শীতল কাঁহা নবঘনশ্যাম॥
অমৃতের সার কাঁহা সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাঁহা মুরলী-বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখি করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী সাহিত্য”, ৫০২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদমুখ কান্দে উভরায়॥
কাঁহা দিব্যাঞ্জন মোর নয়নাভিরাম।
কোটীন্দু-শীতল কাঁহা নবঘনশ্যাম॥
অমৃতের সার কাঁহা সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাঁহা মুরলী-বদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখি করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৯৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুয়া নামে প্রাণ পাই সব দিশ চায়।
না দেখিয়া চাঁদমুখ কান্দে উভরায়॥
কাহাঁ দিব্যাঞ্জন মোর নয়নাভিরাম।
কোটীন্দুশীতল কাহাঁ নবঘন শ্যাম॥
অমৃতের সার কাহাঁ সুগন্ধি চন্দন।
পঞ্চেন্দ্রিয়াকর্ষ কাহাঁ মুরলী বাদন॥
দূরেতে তমাল তরু করি দরশন।
উনমতি হৈয়া ধায় চাহে আলিঙ্গন॥
কি কহব রাইক যো উনমাদ।
হেরইতে পশু পাখী করয়ে বিষাদ॥
পুন পুন চেতন পুন পুন ভোর।
নরোত্তম দাসক দুখ নাহি ওর॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এতক্ষণে রাই ধনী ঘুমাইল
কবি নরোত্তম দাস
এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৫২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগল রূপ
॥ ললিত॥

এতক্ষণে রাই ধনী ঘুমাইল। ধ্রু।
দুই বাহু রাহু যেন চান্দে গরাসল।
কনক লতিকা যেন তমালে বেঢ়ল॥
চাঁদ বদন বদন চাঁদ ইন্দু বদন শশী।
দুই চান্দে এক যেন চান্দে মিশামিশি॥
শ্যাম নাসার নিশ্বাসেতে রাইর মতি দোলে।
জাহ্নবীর জলে যেন কনক মালা খেলে॥
দূরেহুঁ দূরে গেও যত সখীগণ।
নরোত্তম দাস কহে যুগল মিলন॥

ই পদটি  ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের
৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

এতক্ষণে রাই ধনী ঘুমাইল। ধ্রু।
দুই বাহু রাহু যেন চান্দে গরাসল।
কনক লতিকা যেন তমালে বেঢ়ল॥
চাঁদ বদন বদন চাঁদ ইন্দু বদন শশী।
দুই চান্দে এক যেন চান্দে মিশামিশি॥
শ্যাম-নাসার নিশ্বাসেতে রাইর মতি দোলে।
জাহ্নবীর জলে যেন কনক মালা খেলে॥
দূরেহুঁ দূরে গেও যত সখীগণ।
নরোত্তম দাস কহে যুগল মিলন॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, মহারাস, ৫৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কেদার - জপতাল॥

এতক্ষণে রাই ঘুমাওল।
দুই বাহু রাহু যেন চাঁদে গরাসল।
কনক লতিকা যেন তমালে বেঢ়িল॥
চাঁদ বদন বদন চাঁদ ইন্দু বদন শশী।
দুই চাঁদে এক যেন চাঁদে মিশামিশি॥
শ্যাম-নাসা নিশ্বাসে রাইয়ের মোতি দোলে।
জাহ্নবীর জলে যেন কনক মালা খেলে॥
দূরেহু দূরেগেও যত সখিগণ।
নরোত্তম দাস কহে শয়ন-মিলন॥

.                 ***********               

.                                                                                  
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর