| কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী |
| মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন কবি নরোত্তম দাস এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রবাস ॥ পঠমঞ্জরী ॥ মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন। আমারে ছাড়িয়া তুমি, মধুপুর যাবে জানি, তবে আমি তেজিব পরাণ॥ নহেত আনল খাব, কিবা বনে প্রবেশিব, এই আমি দঢ়ায়াছি চিতে। লইয়া তোমার নাম, গলায় গাঁথিয়া শ্যাম, প্রবেশ করিব যমুনাতে॥ কুলবতী হৈয়া যেন, কেহ ত না করে প্রেম, পিরীতি করহ এই রীতে। যে জন চতুর হয়, প্রেম রস কভু নয়, রস হৈলে হয় বিপরীতে॥ বুঝিনু ঐছন কাজ, তুমি সে নাগর রাজ, যুবতী জনের প্রাণ লৈতে। নরোত্তম দাস কয়, না জানি কি জানি হয়, নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী ॥ মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন। আমারে ছাড়িয়া তুমি, মধুপুর যাবে জানি, তবে আমি তেজিব পরাণ॥ নহেত আনল খাব, কিবা বনে প্রবেশিব, এই আমি দঢ়ায়াছি চিতে। লইয়া তোমার নাম, গলায় গাঁথিয়া শ্যাম, প্রবেশ করিব যমুনাতে॥ কুলবতী হৈয়া যেন, কেহ ত না করে প্রেম, পিরীতি করহ এই রীতে। যে জন চতুর হয়, প্রেম রস কভু নয়, রস হৈলে হয় বিপরীতে॥ বুঝিনু ঐছন কাজ, তুমি সে নাগর রাজ, যুবতী জনের প্রাণ লৈতে। নরোত্তম দাস কয়, না জানি কি জানি হয়, নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভাবী বিরহ ॥ পঠমঞ্জরী ॥ মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন। আমারে ছাড়িয়া তুমি মধুপুর যাবে জানি তবে আমি তেজিব জীবন॥ নহেত আনল খাব কিংবা বনে প্রবেশিব এই আমি দঢ়ায়্যাছি চিতে। লইয়া তোমার নাম গলায় গাঁথিয়া শ্যাম প্রবেশ করিব যমুনাতে॥ কুলবতী হৈয়া যেন কেহ ত না করে প্রেম পিরীতি করহ এই রীতে। যে জন চতুর হয় প্রেম রস কভু নয় রস হৈলে হয় বিপরীতে॥ বুঝিনু ঐছন কাজ তুমি সে নাগর রাজ যুবতী জনের প্রাণ লৈতে। নরোত্তম দাস কয় না জানি কি জানি হয় নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মাধব তুমি আমার নিধনিয়ার ধন। আমারে ছাড়িয়া তুমি মধুপুর যাবে জানি তবে আমি তেজিব জীবন॥ নহেত আনল খাব কিংবা বনে প্রবেশিব এই আমি দঢ়ায়্যাছি চিতে। লইয়া তোমার নাম গলায় গাঁথিয়া শ্যাম প্রবেশ করিব যমুনাতে॥ কুলবতী হৈয়া যেন কেহ ত না করে প্রেম পিরীত করহ এই রীতে। যে জন চতুর হয় প্রেম রস কভু নয় রস হৈলে হয় বিপরীতে॥ বুঝিনু ঐছন কাজ তুমি সে নাগর রাজ যুবতী জনের প্রাণ লৈতে। নরোত্তম দাস কয় না জানি কি জানি হয় নিশ্চয় কহিলাঙ প্রাণনাথে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নব ঘন শ্যাম অহে প্রাণ আমি নবঘন শ্যাম ওহে পরাণ বন্ধুয়া নবঘন শ্যাম ওহে প্রাণ বন্ধুয়া কবি নরোত্তম দাস এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ অথ পঠমঞ্জর রাগ রূপক তালভ্যাং॥ নবঘন শ্যাম অহে প্রাণ আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন শশি আমিয়া মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি হৃদয়ে লিখিওঁ যদি তবে তোমা দেখিওঁ সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইলে বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিল তোরে পরাণ কেমন করে কি কহব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিল সখি জিবন সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, অর্দ্ধ-বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৬৫৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী ॥ নবঘন-শ্যাম অহে প্রাণ-বন্ধুয়া আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন-শশী আমিয়া-মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আকৃতি হৃদয়ে লিখিতাম যদি তবে তোমা দেখিতাম সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ-সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাজ নরোত্তম-জীবন অপায়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৪৫০-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পঠমঞ্জরী ॥ নবঘন-শ্যাম অহে প্রাণ-বন্ধুয়া আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন-শশী আমিয়া-মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামে আদি হৃদয়ে লিখিতাম যদি তবে তোমা দেখিতাম সদাই। এমত গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয় কানুরে আনিয়া দেয় তবে মোর নয়ন জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ-সংশয় দেখি মনে মোর কিছুই না ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাজ নরোত্তম-জীবন আপায়॥ এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, ১৯৮২ সালে প্রকাশিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী পঠমঞ্জরী। তাল রূপক॥ নবঘন শ্যাম অহে প্রাণ আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদনশশী আমিআ মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি হৃদএ লিখিতু জদি তবে তোমা দেখিতু সদাই। এমন গুণের নিধি হরিআ লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয় পিআরে আনিয়ে দেয় তবে মোর পরাণ জুড়াঅ। মরম কহিল তোরে পরাণ কেমন করে কি কহব কহনে না জায়॥ এবে সে বুঝিল সখী জীবন সংশয় দেখি মনে মোর কিছুই না ভায়। জে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিল বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী ॥ নব ঘন শ্যাম, অহে প্রাণ, আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন শশী, আমিঞা মধুর হাসি, তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি, হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি, তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই। এমন গুণের নিধি, হরিয়া লইল বিধি, এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয়, পিয়ারে আনিয়া দেয়, তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিনু তোরে, পরাণ কেমন করে, কি কহিব কহনে না যায়॥ এবে সে বুঝিলু সখি, জীবন সংশয় দেখি, মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ, বিধাতা করিলে বাদ, নরোত্তম জীবন আপায়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী ॥ নবঘন-শ্যাম, ওহে প্রাণ-বন্ধুয়া, আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদনশশী, আমিয়া মধুর হাসি, তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি, হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি, তবে তোমা দেখিতুঁই। এমন গুণের নিধি, হরিয়া লইল বিধি, এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমন বেথিত হয়, পিয়ারে আনিয়া দেয়, তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিনু তোরে, পরাণ কেমন করে, কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিনু সখি, পারণ-সংশয় দেখি, মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ, বিধাতা করিলে বাদ, নরোত্তম-জীবন আপায়॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ নব ঘন শ্যাম, অহে প্রাণ, আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন শশী, আমিয় মধুর হাসি, তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি, হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি, তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই। এমন গুণের নিধি, হরিয়া লইল বিধি, এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয়, পিয়ারে আনিয়া দেয়, তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিনু তোরে, পরাণ কেমন করে, কি কহিব কহনে না যায়॥ এবে সে বুঝিলু সখি, জীবন সংশয় দেখি, মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ, বিধাতা করিলে বাদ, নরোত্তম জীবন আপায়॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী ॥ নবঘনশ্যাম ওহে পরাণ বন্ধুয়া আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদনশশী আমিয়া মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি হৃদয়ে লিখিতু যদি তবে তোমা দেখি মুঁই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমন বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিনু তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিনু সখি পরাণ-সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাধ নরোত্তম জীবন অপায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ ॥ পঠমঞ্জরী ॥ নবঘনশ্যাম ওহে পরাণ বন্ধুয়া তুমি আমি তোমা পসরিতে নারি। তোমার বদনশশী আমিয়ামধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আকূতি হৃদয়ে লিখিতাম যদি তবে তোমা দেখিতাম সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ-সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা পাড়িলে বাজ নরোত্তম-জীবন অপায়॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী - আড়াসমতাল॥ নবঘন শ্যাম ও হে পরাণ বঁধুয়া আমি তোমা পসরিতে নারি। তোমার বদন শশী আমিয়া মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি হৃদয়ে লিখিতাম যদি তবে তোমা দেখিতাম সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত ব্যথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখী পরাণ সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৮১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নবঘনশ্যাম অহে প্রাণ! আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন-শশী আমিয়া মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমন বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য”, ৪৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নবঘনশ্যাম অহে প্রাণ! আমি তোমা পাসরিতে নারি। তোমার বদন-শশী আমিয়া মধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আদি হৃদয়ে লিখিতুঁ যদি তবে তোমা দেখিতুঁ সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমন বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা করিলে বাদ নরোত্তম জীবন অপায়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নবঘনশ্যাম ওহে পরাণ বন্ধুয়া তুমি আমি তোমা পসরিতে নারি। তোমার বদনশশী আমিয়ামধুর হাসি তিল আধ না দেখিলে মরি॥ তোমার নামের আকূতি হৃদয়ে লিখিতাম যদি তবে তোমা দেখিতাম সদাই। এমন গুণের নিধি হরিয়া লইল বিধি এবে তোমা দেখিতে না পাই॥ এমত বেথিত হয় পিয়ারে আনিয়া দেয় তবে মোর পরাণ জুড়ায়। মরম কহিলুঁ তোরে পরাণ কেমন করে কি কহিব কহন না যায়॥ এবে সে বুঝিলুঁ সখি পরাণ সংশয় দেখি মনে মোর কিছু নাহি ভায়। যে কিছু মনের সাধ বিধাতা পাড়িলে বাজ নরোত্তম-জীবন অপায়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কবে কৃষ্ণধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব কবি নরোত্তম দাস এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণপ্রিয়া, নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে, কবে বা ফিরিব রঙ্গে, সুখময় যমুনাপুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাঁহারে ভেটিব গিয়া, সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিলমাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তম দাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণ প্রিয়া, নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে, কবে বা ফিরিব রঙ্গে, সুখময় যমুনা পুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাহারে ভেটিব গিয়া, সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিল মাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তম দাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্র কুমার॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণপ্রিয়া, নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে, কবে বা ফিরিব রঙ্গে, সুখময় যমুনাপুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাঁহারে ভেটিব গিয়া, সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিলমাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তম দাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণ প্রিয়া, নিরখিব সে চন্দ্র-বয়ান॥ হরি হরি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে, কবে বা ফিরিব রঙ্গে, সুখময় যমুনা পুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাহারে ভেটিব গিয়া, সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিল মাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তম দাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্র কুমার॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণপ্রিয়া, নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি, কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে কবে বা ফিরিব রঙ্গে সুখময় যমুনা পুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাঁহারে ভেটিব গিয়া সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিল মাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তমদাস, কি মোর জীবনে আশ ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মাথুর বিরহোচিত দর্শন-লালসা। কবে কৃষ্ণধন পাব, হিয়ার মাঝারে থোব, জুড়াইব এ পাপ পরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া, বসাইব প্রাণপ্রিয়া, নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি! কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে, কবে বা ফিরিব রঙ্গে, সুখময় যমুনাপুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া, তাঁহারে ভেটিব গিয়া, সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট, ভাঙ্গিল প্রেমের হাট, তিল মাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তম দাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ কবে কৃষ্ণধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব জুড়াইব এ পাপপরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া বসাইব প্রাণপ্রিয়া নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে কবে বা ফিরিব রঙ্গে সুখময় যমুনা-পুলিন॥ ধ্রু॥ ললিতা বিশাখা নিয়া তাঁহারে ভেটিব গিয়া সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি মিলাইবে গুণনিধি হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট ভাঙ্গিল প্রেমের হাট তিলমাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তমদাস কি মোর জীবনে আশ ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ কামোদ॥ কবে কৃষ্ণধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব জুড়াইব এ পাপপরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া বসাইয়া প্রাণপিয়া নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে কবে বা ফিরিব রঙ্গে সুখময় যমুনাপুলিন॥ ধ্রু॥ ললিতা বিশাখা নিয়া তাঁহারে ভেটিব গিয়া সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি মিলাইবে গুণনিধি হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট ভাঙ্গিল প্রেমের হাট তিলমাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তমদাস কি মোর জীবনে আশ ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৮৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবে কৃষ্ণধন পাব হিয়ার মাঝারে থোব জুড়াইব এ পাপপরাণ। সাজাইয়া দিব হিয়া বসাইয়া প্রাণপিয়া নিরখিব সে চন্দ্রবয়ান॥ হে সজনি কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সঙ্গে কবে বা ফিরিব রঙ্গে সুখময় যমুনাপুলিন॥ ললিতা বিশাখা নিয়া তাঁহারে ভেটিব গিয়া সাজাইয়া নানা উপহার। সদয় হইয়া বিধি মিলাইবে গুণনিধি হেন ভাগ্য হইবে আমার॥ দারুণ বিধির নাট ভাঙ্গিল প্রেমের হাট তিলমাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তমদাস কি মোর জীবনে আশ ছাড়ি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |