| কবি নরোত্তম দাস-এর পদাবলী |
| হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৪৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৪৬-পদসংখ্যায় হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে যাব বৃন্দাবন-ধামে এই মনে কব়্যার্ছি ভরসা॥ ধ্রু॥ ধন জন পুত্র দারে এ সব করিয়া দূরে একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুখ পারিহরি বৃন্দাবনে বাস করি মাধুকরি মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন অমৃত সমান হেন কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধা-কুণ্ড-জলে স্নান করি কুতূহলে নাম শ্যাম-কুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে রাস-কেলি যেই স্থানে প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে ব্রজ-বাসিগণ স্থানে নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে নয়নে দর্শন হবে আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন নরোত্তম দাসের মন আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪৩।৩৬-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা- পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে যাব বৃন্দাবন-ধামে এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধ্রু॥ ধন জন পুত্র দারে সকল করিয়া দূরে একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুখ পারিহরি ব্রজপুর বাস করি মাধুকরি মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন অমৃত সমান হেন কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধা-কুণ্ডে করি স্নান হয়্যা কুতূহল মন শ্যাম-কুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে রাস-কেলি যেই স্থানে প্রেমে গড়াগড়ি তায় দিয়া। সুধাইব জনে জনে ব্রজ-বাসিগণ স্থানে নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে লোচনে দর্শন হবে আর কত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন নরোত্তম দাসের মন আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিব দশা। এ সব করিয়া বামে, যাব বৃন্দাবন-ধামে, এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধন জন পুত্র দারে, এ সব করিয়া দূরে, একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন, অমৃত সমান হেন, কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ড-জলে স্নান, করি কুতূহলে নাম, শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রাসকেলি যেইস্থানে, প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে, ব্রজবাসিগণ স্থানে, নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে, নয়নে দর্শন হবে, আর যত আছে উপবন। তার সাঝে বৃন্দাবন, নরোত্তমদাসের মন, আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে, যাব বৃন্দাবন ধামে, এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধন জন পুত্র দারে, এ সব করিয়া দূরে, একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন, অমৃত সমান হেন, কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ড জলে স্নান, করি কুতূহলে নাম, শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রাস কেলি যেই স্থানে, প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে, ব্রজবাসীগণ স্থানে, নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে, নয়নে দর্শন হবে, আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন, নরোত্তম দাসের মন, আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে, যাব বৃন্দাবন-ধামে, এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধন জন পুত্র দারে, এ সব করিয়া দূরে, একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন, অমৃত সমান হেন, কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ড-জলে স্নান, করি কুতূহলে নাম, শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রাস কেলি যেই স্থানে, প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে, ব্রজবাসিগণ স্থানে, নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে, নয়নে দর্শন হবে, আর যত আছে উপবন। তার সাঝে বৃন্দাবন, নরোত্তম দাসের মন, আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে, যাব বৃন্দাবন ধামে, এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধন জন পুত্র দারে, এ সব করিয়া দূরে, একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন, অমৃত সমান হেন, কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ড জলে স্নান, করি কুতূহলে নাম, শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রাস কেলি যেই স্থানে, প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে, ব্রজবাসিগণ স্থানে, নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে, নয়নে দর্শন হবে, আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন, নরোত্তম দাসের মন, আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে, যাব বৃন্দাবন-ধামে, এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধন জন পুত্র দারে, এ সব করিয়া দূরে, একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন, অমৃত সমান হেন, কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ড-জলে স্নান, করি কুতূহলে নাম, শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রাস কেলি যেই স্থানে, প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে, ব্রজবাসিগণ স্থানে, নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে, নয়নে দর্শন হবে, আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন, নরোত্তম দাসের মন, আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সাধক দেহোচিত শ্রীবৃন্দাবনবাস-লালসা। হরি হরি! আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে, যাব বৃন্দাবন ধামে, এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধন জন পুত্র দারে, এ সব করিয়া দূরে, একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন, অমৃত সমান হেন, কবে পিব উদর পূরিয়া। কবে রাধাকুণ্ড জলে স্নান করি কুতূহলে, শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রসকেলি যে যে স্থানে, প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে, ব্রজবাসিগণ স্থানে, নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে, নয়নগোচর হবে, আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন, নরোত্তম দাসের মন, আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে যাব বৃন্দাবনধামে এই মনে করিয়াছি আশা॥ ধ্রু॥ ধন জন পুত্র দারে এসব করিয়া দূরে একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুঃখ পারিহরি বৃন্দাবনে বাস করি মাধুকরী মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন অমৃত সমান হেন কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ডজলে স্নান করি কুতূহলে নাম শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে রাসকেলি যেই স্থানে প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে ব্রজবাসিগণ স্থানে নিবেদিব চরণ ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান যবে নয়নে দর্শন হবে আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন নরোত্তমদাসের মন আশা করে যুগলচরণ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৪৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ পাহিড়া॥ হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে যাব বৃন্দাবন-ধামে এই মনে কব়্যার্ছি ভরসা॥ ধ্রু॥ ধন জন পুত্র দারে এ সব করিয়া দূরে একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুখ পারিহরি বৃন্দাবনে বাস করি মাধুকরি মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন অমৃত সমান হেন কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ডজলে স্নান করি কুতূহলে নাম শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ ভ্রমিব দ্বাদশ বনে রসকেলি যেই স্থানে প্রেমাবেশে গড়াগড়ি দিয়া। সুধাইব জনে জনে ব্রজবাসিগণ স্থানে নিবেদিব চরণে ধরিয়া॥ ভোজনের স্থান কবে নয়নে দর্শন হবে আর যত আছে উপবন। তার মাঝে বৃন্দাবন নরোত্তম দাসের মন আশা করে যুগল চরণ॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৩০১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হরি হরি আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিয়া বামে যাব বৃন্দাবন ধামে এই মনে কব়্যাছি ভরসা॥ ধন জন পুত্র দারে এ সব করিয়া দূরে একান্ত করিয়া কবে যাব। সব দুখ পারিহরি বৃন্দাবনে বাস করি মাধুকরি মাগিয়া খাইব॥ যমুনার জল যেন অমৃত সমান হেন কবে খাব উদর পূরিয়া। রাধাকুণ্ডজলে স্নান করি কুতূহলে নাম শ্যামকুণ্ডে রহিব পড়িয়া॥ @ @ - এই গ্রন্থে এই পদটি এই অবধি ভণিতাহীন অবস্থায় রয়েছে। . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রভু মোর মদন গোপাল গোবিন্দ গোপীনাথ মোর প্রভু মদনগোপাল গোবিন্দ গোপীনাথ প্রভু মোর মদনমোহন গোবিন্দ গোপীনাথ মদনগোপাল প্রভু গোবিন্দ গোপীনাথ কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০১৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ প্রভু মোর মদনগোপাল গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার-সাগর মাঝে পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপা-ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি দয়ার ঠাকুর তুমি শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মধুপুরী লেহ মোর চুলে ধরি শ্রীযমুনা দেহ পদ-ছায়া। অনেক দিবসের আশ নহে যেন নৈরাশ দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি আপন আপন করি পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ-প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫২৬-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ বিভাষ॥ প্রভু মোর মদনগোপাল গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার-সাগর মাঝে পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপা-ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি দয়ার ঠাকুর তুমি শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মধুপুরী লেহ মোরে কেশে ধরি শ্রীযমুনা দেহ পদ-ছায়া। অনেক দিবসের আশ নহে যেন নৈরাশ দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য যে দেহ ধরি মোর মোর করি মরি পাছে পাছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে এ ভয় রাত্রি দিনে পাছে ব্রজ-প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ প্রভু মোর মদনগোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ, দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার-সাগর মাঝে পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপা ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে, বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মধুপুরী, লেহ মোরে কেশে ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিবসের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য যে দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে পাছে শমনের ভয়। নরোত্তমদাস মনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ- প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মোর প্রভু মদনগোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ, দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার-সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপাডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এ বড় ভরসা মনে, লৈঞা ফেল বৃন্দাবনে, বংশীবট যেন দেখি সুখে॥ কৃপা কর আগু গুরি, লহ মোরে কেশ ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিনের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে পাছে শমনের ভয়। নরোত্তমদাস ভণে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ- প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ প্রভু মোর মদন গোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ, দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপা ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে, বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মধুপুরী, লেহ মোরে কেশে ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদ ছায়া। অনেক দিনের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য যে দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে পাছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ প্রভু মোর মদনগোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপা ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে, বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মধুপুরী, লেহ মোর কেশ ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদ ছায়া। অনেক দিবসের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য যে দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ-প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মোর প্রভু মদনগোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ, দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার-সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপাডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, লৈয়া ফেল বৃন্দাবনে, বংশীবট যেন দেখি সুখে॥ কৃপা কর আগু গুরী, লেহ মোরে কেশ ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিনের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তমদাস ভণে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ-প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ প্রভু মোর মদন গোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ, দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপা ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে, বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর আগুসারি, লেহ মোরে কেশে ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদ ছায়া। অনেক দিনের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য শরীর ধরি, আপন আপন করি, পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস-মনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি-দিনে, পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ প্রভু মোর মদনগোপাল, গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপা ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে, বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মধুপুরী, লেহ মোরে কেশেধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদ ছায়া। অনেক দিবসের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য যে দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা। দৈন্যবোধিকা। মোর প্রভু মদন গোপাল। গোবিন্দ গোপীনাথ, দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসার-সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপা ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, লৈঞা ফেল বৃন্দাবনে, বংশীবট যেন দেখি সুখে॥ কৃপা করি আগু গুরি, লহ মোরে কেশে ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিনের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি, আপন আপন করি, পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস ভনে, প্রাণ কান্দে রাত্রিদিনে, পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস॥ প্রভু মোর মদন গোপাল গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুই অধমেরে। সংসারসাগর মাঝে পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপা-ডোরে বাঁধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি দয়ার ঠাকুর তুমি শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় আশা মনে ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে বংশীবট যেন দেখি সুখে॥ কৃপা করি মধুপুরী লেহ মোরে কেশে ধরি যমুনাজী দেহ পদ ছায়া। অনেক দিবসের আশ নহে যেন নৈরাশ দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য যে দেহ ধরি আপন আপন করি পাছে পাছে শমনের ভয়। নরোত্তমদাস মনে প্রাণ কাঁদে রাত্র দিনে পাছে ব্রজপ্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ খৃষ্টাব্দের সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, প্রার্থনা, ৬৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাস - মধ্যম ডশপাহিড়া॥ প্রভু মোর মদনমোহন গোবিন্দ গোপীনাথ দয়াকর মুঞি অধমে রে। সংসার সাগর মাঝে, পড়িয়া রৈয়াছি নাথ, কৃপা-ডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি, দয়ার ঠাকুর তুমি, শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে, ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে, বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর আগুগুড়ী, লেহ মোরে কেশ ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিনের আশ, নহে যেন নৈরাশ, দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি, মিছা আপন আপন করি, পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাসের মেনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ ধানশী॥ মদনগোপাল প্রভু গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসারসাগর মাঝে পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপাডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি দয়ার ঠাকুর তুমি শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মুধুপুরী লেহ মোর চুলে ধরি শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিবসের আশ নহে যেন নৈরাশ দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি আপন আপন করি মরি পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে পাছে ব্রজ-প্রাপ্তি নাহি হয়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মদনগোপাল প্রভু গোবিন্দ গোপীনাথ দয়া কর মুঞি অধমেরে। সংসারসাগর মাঝে পড়িয়া রৈয়াছি নাথ কৃপাডোরে বান্ধি লেহ মোরে॥ অধম চণ্ডাল আমি দয়ার ঠাকুর তুমি শুনিয়াছি বৈষ্ণবের মুখে। এই বড় ভরসা মনে ফেল লৈয়া বৃন্দাবনে বংশীবট দেখি যেন সুখে॥ কৃপা কর মুধুপুরী লেহ মোর চুলে ধরি শ্রীযমুনা দেহ পদছায়া। অনেক দিবসের আশ নহে যেন নৈরাশ দয়া কর না করিহ মায়া॥ অনিত্য এ দেহ ধরি আপন আপন করি মরি পাছে আছে শমনের ভয়। নরোত্তম দাস মনে প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রভু হে এইবার করহ করুণা কবি নরোত্তম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৭৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল-চরণ দেখি সফল করিব আঁখি এই বড় মনের বাসনা॥ ধ্রু॥ নিজ-পদ-সেবা দিবা নাহি মোরে উপেখিবা দুহুঁ পহুঁ করুণা-সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো এই বড় ভাগ্য মানো মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা-আদেশ পাঞা চরণ সেবিব যাঞা প্রিয়-সখী সঙ্গে হর্ষ-মনে। দুহুঁ দাতা-শিরোমণি অতি দীন মোরে জানি নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ-পা ঘুচিবে মনের ঘা দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাসে কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৫৭৯-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল-চরণ দেখি সফল করিব আঁখি এই বড় মনের বাসনা॥ ধ্রু॥ নিজ-পদ-সেবা দিবা নাহি মোরে উপেখিবা দুহুঁ পহুঁ করুণা-সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো এই বড় ভাগ্য মানো মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা-আদেশ পাঞা চরণ সেবিব যাঞা প্রিয়-সখী সঙ্গে হর্ষ-মনে। দুহুঁ দাতা-শিরোমণি অতি দীন মোরে জানি নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ-পা ঘুচিবে মনের ঘা দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাসে কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় দেহ প্রাণ সফল সকল॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি, সফল করিব আঁখি, এই মোর মনের কামনা॥ নিজপদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেখিবা, দুহুঁ পঁহু করুণাসাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো, এই বড় ভাগ্যে মানো, মুই বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা, চরণ সেবিব যাঞা, প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতা-শিরোমণি, অতি দীন মোরে জানি, নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধা কৃষ্ণ পা, ঘুচিবে মনের ঘা, দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তমদাসে কয়, এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয়, দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯০২ সালে রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি, সফল করিব আঁখি, এই বড় মনের বাসনা॥ নিজ পদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেক্ষিবা, দুহুঁ পহুঁ করুণা সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো, এই বড় ভাগ্য মানো, মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা, চরণ সেবিব যাঞা, প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি, অতি দীন মোরে জানি, নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ পা, ঘুচিবে মনের ঘা, দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাস কয়, এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয়, দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৩৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি, সফল করিব আঁখি, এই বড় মনের বাসনা॥ নিজ পদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেখিবা, দুহুঁ পহুঁ করুণা সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো, এই বড় ভাগ্য মানো, মুই বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা, চরণ সেবিব যাঞা, প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি, অতি দীন মোরে জানি, নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধা কৃষ্ণ পা, ঘুচিবে মনের ঘা, দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তমদাসে কয়, এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয়, দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯১৪ সালে সুরেন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “নরোত্তম দাস” সংকলনের ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদারা॥ প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি, সফল করিব আখি, এই বড় মনের বাসনা॥ নিজ পদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেক্ষিবা, দুহুঁ পহুঁ করুণা সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো, এই বড় ভাগ্য মানো, মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা, চরণ সেবিব যাঞা, প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি, অতি দীন মোরে জানি, নিকট চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ পা, ঘুচিবে মনের ঘা, দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাস কয়, এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয়, দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন, ”কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি সফল করিব আঁখি এই বড় মনের কামনা॥ নিজপদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেখিবা দুহুঁ পঁহু করুণা সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো এই বড় ভাগ্যে মানো মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা চরণ সেবিব ধাঞা প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি অতি দীন মোরে জানি নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধা কৃষ্ণ পা ঘুচিবে মনের ঘা দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাসে কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, “শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার”, ২২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণে বিজ্ঞপ্তিঃ। প্রভু হে! এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ রেখি, সফল করিব আঁখি, এই মোর মনের কামনা॥ নিজ পদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেখিবা, দুঁহু পঁহু করুণাসাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো, এই বড় ভাগ্যে মানো, মুই বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা, চরণ সেবিব যাঞা, প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতাশিরোমণি, অতি দীন মোরে জানি, নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ পা, ঘুচিবে মনের ঘা, দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাসে কয়, এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয়, দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন ”শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ প্রভু হে এইবার করহ করুণা। যুগল চরণ দেখি সফল করিব আঁখি এই বড় মনের বাসনা॥ ধ্রু॥ নিজ পদসেবা দিবা নাহি মোরে উপেখিবা দুহুঁ পহুঁ করুণাসাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো এই বড় ভাগ্য মানো, মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা চরণ সেবিব ধাঞা প্রিয় সখী সঙ্গে হয় মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি অতি দীন মোরে জানি নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ পা ঘুচিবে মনের ঘা দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তমদাস কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় দেহ প্রাণ তবেত সফল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৫১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ তথা রাগ॥ প্রভু হে এইবার করহে করুণা। যুগল চরণ দেখি সফল করিব আঁখি এই বড় মনের বাসনা॥ ধ্রু॥ নিজ পদসেবা দিবা নাহি মোরে উপেখিবা তুহুঁ পহু করুণা সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো এই বড় ভাগ্য মানো মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা চরণ সেবিব যাঞা প্রিয় সখী সঙ্গে হর্ষ মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি অতি দীন মোরে জানি নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ পা ঘুচিবে মনের ঘা দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাসে কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় দেহ প্রাণ সকল সফল॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৯৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রভু হে এইবার করহে করুণা। যুগল চরণ দেখি সফল করিব আঁখি এই বড় মনের বাসনা॥ নিজ পদসেবা দিবা নাহি মোরে উপেখিবা তুহুঁ পহুঁ করুণা সাগর। দুহুঁ বিনু নাহি জানো এত বড় ভাগ্য মানো মুঞি বড় পতিত পামর॥ ললিতা আদেশ পাঞা চরণ সেবিব যাঞা প্রিয় সখী সঙ্গে হর্ষ মনে। দুহুঁ দাতা শিরোমণি অতি দীন মোরে জানি নিকটে চরণ দিবে দানে॥ পাব রাধাকৃষ্ণ পা ঘুচিবে মনের ঘা দূরে যাবে এ সব বিকল। নরোত্তম দাসে কয় এই বাঞ্ছা সিদ্ধি হয় দেহ প্রাণ সকল সফল॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |