যদি কোনোদিন ঝরা বকুলের গন্ধে হও তুমি আনমনা, জেনো ওগো গরবিনী, সে নহে সুরভি, সে মন গো এই মিলন তিথির কামনা || রাত জাগা এক পাখি হয়তো সেদিন হারানো সাথীরে কাঁদিয়া ফিরিবে ডাকি----- সে নহে কূজন, সে যেন গো এই মিলন তিথির কামনা || উতলা মাধবী রাতে স্মৃতি যদি ব্যথা আনে ( তুমি ) কেঁদো না গো অভিমানে | যদি কোনো অবসরে কিছু ব্যথা আর কিছু গান নিয়ে বাতাস বিলাপ করে--- সে নহে রোদন, সে যেন গো এই মিলন তিথির কামনা ||
কথা- গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার সুর ও শিল্পী- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছবি - স্বরলিপি
যে বাঁশি ভেঙে গেছে তারে কেন গাইতে বল ? কেন আর মিছেই তবে সুরের খেয়া বাইতে বল ? আজ সোনার খাঁচায় বন্দী পাখির কন্ঠে যে সেই সুর, আজ যেন সেই বনের ছায়া সে তো অনেক দূর | তাকে হারিয়ে যাওয়া ফাগুনেরে ফিরে কেন চাইতে বল ? একদা সুরে সুরে দিত যে হৃদয় ভরে দেখ তার গানের বীণা ধূলায় পড়ে | আজ সব হারানোর নীরব ব্যথায় কাঁদে গো যার প্রাণ, বলো ওগো কেমন করে গাইবে সে তার গান | মিছে ফাগুন বেলার হাসিতে তার সুরের ভুবন ছাইতে বল ||
সূর্য ডোবার পালা আসে যদি আসুক বেশ তো---- গোধূলির রঙে হবে এ ধরণী স্বপ্নের দেশ তো || তারপর পৃথিবীতে আঁধারের ধূপছায়া নামবেই মৌমাছি ফিরে গেলে জানি তার গুঞ্জন থামবেই ; সে আঁধার নামুক না, গুঞ্জন থামুক না--- কানে তবু রবে তার রেশ তো || তারপরে সারারাত দু’জনেই একা একা ভাববো---- হৃদয়ের লিপিকাতে কে যেন লিখেছে এক কাব্য | জোনাকিরা দীপ জ্বেলে আমাদের সাথে রাত জাগবেই, দু’টি প্রাণে চুপে চুপে নতুন সে সুর এক লাগবেই ; জোনাকিরা জাগুক না, প্রাণে সুর লাগুক না----- চাওয়াতে পাওয়াতে হবে শেষ তো ||
এলো না সে তো এলো না, তাই ডুবুরি ডুবুরি মন ডুবেও মুক্তা পেল না | মন পেল কি না পেল ----নাই পাক | এখনি তখনি যখনই ভাবি না মন পাব কিনা পাব, মেনেও মানি না জেনেও জানি না,ভুলে যাব কিনা যাব চোখের ঝিনুকে ব্যথার মুকুতা শুধু ঝরে যেতে চায়, একন কি করি উপায় | মন পেল কি না পেল ---- নাই পাক | কি ছিল কি আছে, কি হবে কি রবে, কারে ডেকে আর বলি, কে জানে কে মানে কি ব্যথা এ প্রাণে, একি জ্বালাতে যে জ্বলি, ফণীর মনে কি মেলে গো কখনো বিষে দেহ জ্বলে যায়, এমন কি করি উপায় ||
নীলাঞ্জনা রে, এই মধুর নাম, একি আমার বধূর নাম না কিসের নাম আমি জানি না, ওরে নীলাঞ্জনা রে, একি পাখির নাম, না ফুলের নাম না নদীর নাম ---- আমি জানি না | তার আকাশ আকাশ চোখ যখন নালাঞ্জনে নীল, আমার ছন্দ দোলা আহা পায় রে খুঁজে মিল, ও নীলাঞ্জনা রে | ওরে পাখি নয়, নদী নয়, ফুল নয়, তারা নয় তবে সে কি তাকে তবু যে ডাকি, নীলাঞ্জনা রে | যখন জোনাক জোনাক রাত দূরে নীল তারাদের ভিড়, তার চোখের তারার ওই কত স্বপ্ন বাঁধে নীড়, ও নীলাঞ্জনা রে | আহা নাম তার যাই হোক, তার দু’টি নীল চোখ চেয়ে যে দেখি তাকে তাই তো ডাকি ----- নীলাঞ্জনা রে | তাকে মধুর নাম ধ’রে, আমার বধূর নাম ধরে, আমার দেয়া এ নামে তোমায় ডাকব নীলাঞ্জনা গো ||
বেশ তো না হয় সপ্তঋষির অস্ত যাওয়ার প্রহরে হাওয়া, কথাগুলো সব ক্লান্ত হবে, তবুও তুমি আমারই রবে | বেশতো না হয় হাসনুহানার গন্ধ ছড়ানো আবেশ ভরানো এই যে রাত্রি বিদায় লবে, তবুও তো তুমি--- তবুও জানো কি জানো না ফুলেরই এ মালা কি হবে না ভুলেরই সে জ্বালা হয়ত দ্বিধায় দাও গো বিদায়, এইটুকু শুধু রবে | আর রবো কি রবো না এত কাছাকাছি, তুমি আছ বলে আমিও তো আছি, আসুক আড়াল রবে চিরকাল, হৃদয়ের অনুভবে | বেশ তো---
রাত হল নিঝুম ফুলের দু’চোখে ঘুম, চাঁদ ঐ জেগে রয় আজ শুধু কথা কয়, রাত হল নিঝুম----- মন নাই প্রেম নাই আপনারে যেন তাই কত একা মনে হয় হাওয়া শুধু কথা কয় , রাত হল---- নিবু নিবু হল তারার প্রদীপ গো আপনার সাথে একা একা কথা কই এই মালা এই ফুল মনে হয় সবই ভুল, আমি যেন কারো নয় হাওয়া শুধু কথা কয় | রাত হল---
আমি উকিল না হ’য়ে যদি কোকিল হতাম কুহু কুহু কুহু সুরে গান শোনাতাম আর নথিপত্র যদি ওগো প্রেমপত্র হোতো প্রেমের সাগরে দোঁহে ডুবে মরতাম || আমি ছিলাম বাজপড়া একটি মরাগাছ . নদী হ’য়ে তাকে তুমি বাঁচালে কেন আর আদালতটা যদি হোতো প্রেমের বৃন্দাবন প্রেমের খেলায় নাগর হ’য়ে বাঁশী বাজাতাম || গোলাপ তো নয় ছিলাম-আমি একটি ঘেটুফুল . ফুলদানিতে তাকে তুমি সাজালে কেন প্রেম যদি বাঘা ওল আমি যে তেঁতুল . রসেরই চাট্ নি তাতে বানালে কেন্ আর গোপিনীরা হোতো যদি মুঁহুরী পিওন . তাদের নিয়ে যমুনাতে কেলী করতাম |