ফুলপাখি বন্ধু আমার ছিল কথা- গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার সুর - নচিকেতা ঘোষ শিল্পী- মান্না দে ছবি - চিরদিনের
ফুলপাখি বন্ধু আমার ছিল, আর মেঘ নদী বন্ধু আমার ছিল তারা কোথায় গেল, কোথায় গেল হারিয়ে কোথায় গেল, কোথায় হারিয়ে গেল ॥ চাঁদ তারা বন্ধু আমার ছিল, আর ঝর্ণা পাহাড় বন্ধু আমার ছিল---- কোথায় বা সেই সোনা রোদের দিন, কে জানে গো কেমন করে কাটছে ওদের দিন । কে যে আমায় অমন করে কেড়ে যে আজ নিল, ওরা সব কোথায় গেল ॥ কোথায় বা সেই জোনাক জ্বলা রাত ওদের সুখ-দুঃখের গল্প বলা রাত, তবে কিগো ওরা আমায় পর করে আজ দিল, ওরা সব কোথায় গেল ।
কেউ বা করছেন ব্যারিস্টারী কেউ বা করছেন ম্যাজিস্টারি কথা- গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার সুর - অনিল বাগচী শিল্পী- মান্না দে ছবি - এ্যান্টনী ফিরিঙ্গী
ভোলাময়রা --- কেউ বা করছেন ব্যারিস্টারী কেউ বা করছেন ম্যাজিস্টারি এলেমের জোরে কেউ বা করছেন জজগিরি আর এ ব্যাটা পূজোর বাড়ি ভোজে লোভে নাচতে এসেছে ॥ পেদরু ফিরিঙ্গির বেটা পেরু কাটা বেটা ছিল ভালো সাহেব ছিল হোলো বাঙালী আর কবির দলে এসে মিলে পেটের কাঙালী । জন্ম যেমন যার কর্ম তেমন তার ও বেটা ভেড়ের ভেড়ে নিমক ছেড়ে কবির ব্যবসা ধরেছে ॥
অ্যান্টনী ফিরিঙ্গী --- যে শক্তি হতে উত্পত্তি তোমার পত্নী কি কারণ কহ দেখি শুনি এর বিশেষ বিবরণ । সমুদ্র মন্থনকালে বিষ পান করেছিলে . তখন ডেকেছিলে দুর্গা বলে সেদিন কি ভুলেও তাহারে বলেছিলে জননী !
ভোলাময়রা --- আমি সেই ভোলানাথ নইরে সে ভোলানাথ নই আমি ময়রা ভোলা হরুর চেলা বাগবাজারে রই আমি যদি সে ভোলানাথ হই সবাই ভজে ভোলার চরণ আমার চরণ পূজে কই ॥
অ্যান্টনী ফিরিঙ্গী --- প্রশ্নটা যে এড়িয়ে গেলি ওরে ভোলানাথ ভেবেছিস উলটাপালটা কথা বলে করবি আসরমাত শোনরে ভোলা তোরে আমি একটি কথা বলি, নিজের ফাঁদে পড়ে এবার নিজেই যে তুই মলি, জয় জয় যোগেন্দ্রজায়া অসীম দয়া তাঁর, সেই চরণে ঠাঁই নিস তো ( ভোলা ) তবেই হবি পার ॥
ভোলাময়রা --- তুই জাত ফিরিঙ্গি জবরজঙ্গী, তোকে পারবে না মা তরাতে । শোনরে ভ্রষ্ট বলি স্পষ্ট, তুই রে নষ্ট মহাদুষ্ট তোর কি ইষ্ট কালীকৃষ্ট ভজগে তুই যীশুখৃষ্ট
অ্যান্টনী ফিরিঙ্গী --- সত্য বটে আমি জেতেতে ফিরিঙ্গি ঐহিকে লোক ভিন্ন ভিন্ন অন্তিমে সব একাঙ্গী ॥
ভোলাময়রা --- দারোগারই চেয়ে দেখছি চৌকিদারের হাঁক বেশী, সূর্য থেকে বালিরই তাপ অধিক সে ভাই কোন দেশী ? সানাইটা না গর্জে যত তর্জেরে তার পো-এর দল বালুচরেও দাঁড়িয়ে বলে হ্যাঁ এখানে হাঁটুজল ।
অ্যান্টনী ফিরিঙ্গী --- জয় হোলো তোমার ভোলা কার সাধ্য তোমায় হারাতে এবার তুমি থাকো গিয়ে ফুলবাবুদের পাড়াতে । স্বয়ং বিদ্যেসাগর মশাই তোমায় ঠাঁই দিয়েছেন মাথাতে , তোমার মত কবি কে আর আছে এ কোলকাতাতে আমার জন্য থাকুক না হয় শুধুই কাঁটার জ্বালা সবার মাঝে তোমার গলায় পরিয়ে দিলাম মালা ।
শোন একটি মুজিবরের থেকে কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬) সুর ও শিল্পী - অংশুমান রায়। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বাজানো হয় এই গান। এই গানটি পরে “মিলিয়ন মুজিবর সিঙ্গিং” নামে অনুদিত হয় ইংরেজিতে।
শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।
সেই সবুজের বুকে চেরা মেঠো পথে আবার যে ফিরে যাব আমার হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাব শিল্পে-কাব্যে কোথায় আছে হায়রে এমন সোনার খনি। শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।
বিশ্ব কবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ জীবনানন্দের রূপসী বাংলা রূপের যে তার নেই কো শেষ, বাংলাদেশ। জয় বাংলা বলতে মন রে আমার এখনও কেন ভাবো আবার হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাব অন্ধকারের পূর্বাকাশে উঠবে আবার দিনমণি। শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।
মাগো ভাবনা কেন কবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার (৫.১২.১৯২৪ - ২০.৮.১৯৮৬) সুর ও শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭২-এর ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। বাংলাদেশ রেডিয়োর জন্য লিখেছিলেন এই গানটি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে সে গান বাংলার আকাশ বাতাস মুখরিত করেছিল।
মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা হারবো না হারবো না তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বো না আমরা হারবো না হারবো না তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বো না আমরা পাঁজর দিয়ে দুর্গ ঘাঁটি গড়তে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা পরাজয় মানবো না দুর্বলতায় বাঁচতে সুধু জানবো না আমরা পরাজয় মানবো না দুর্বলতায় বাঁচতে সুধু জানবো না আমরা চির দিনই হাসি মুখে মরতে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
আমরা অপমান সইবো না ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইবো না আমরা অপমান সইবো না ভীরুর মতো ঘরের কোণে রইবো না আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে জ্বলতে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
মাগো ভাবনা কেন আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি
কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার সুর, সঙ্গীত ও শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছায়াছবি: প্রতিমা। গানটি আমরা পেয়েছি ফেসবুকের জনপ্রিয় গানের লিরিক্স-Popular Songs Lyrics Groups এর Sudhanya Mandol এর পোস্ট থেকে। সেই পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি তবে বামুন বলে মিথ্যে কেন গর্বে শুধু ফাটি মরলে সবাই মাটি।
জাতের বালাই নেইকো আমার মানুষ সবাই বামুন,চামার কেন ছোট বড়র প্রশ্ন তুলে মিথ্যে কাটাকাটি মরলে সবাই মাটি
কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি। চামড়া দিয়ে মোড়া আছে ক'খানা এই হাড় চোখ বুজলেই সবই তো শেষ নেই যে কিছু আর নেই যে কিছু আর।
দু'দিনের এই ভবে এসে মানুষকে যাও ভালোবেসে মানুষকে যে ভালোবাসে সেই তো আসল খাঁটি মরলে সবাই মাটি কবর দাও বা চিতায় পোড়াও মরলে সবাই মাটি।
কাঙালের অশ্রুতে যে রক্ত ঝরে গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার শিল্পী : সাবিত্রী ঘোষ, সুর: অনুপম ঘটক। গানটি কৃতজ্ঞ Saroj Sanyal YouTube Channel এর কাছে কারণ গানটি আমরা পেয়েছি সেখান থেকেই। সেই পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
কাঙালের অশ্রুতে যে রক্ত ঝরে ভগবান, ও ভগবান দেখেও তুমি দেখো না। ওরা যে সেই পাঁজরে প্রাসাদ গড়ে ভগবান ও ভগবান দেখেও তুমি দেখো না। মিনতি শুনে হায় পাষাণও গলে যায় তুমি তো দেখোনা গো চেয়ে বেদনা পেয়ে আমরা কাঁদি ওদের ক্ষেতে হাসির ফসল ঝরে গো।। মোদের এ ভাগ্য যেন খেলার পাশা। ওদেরই চরণছায়ে বাঁধে বাসা। এ ব্যথা শোধে গো আঁধাবে বোধে গো জানি না আমাদেব কী দাম আছে আলোরই কাছে আমরা যেন প্রদীপ শিখা। নিয়তি যে ধবে গো॥
বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার শিল্পী : সাবিত্রী ঘোষ, সুর: অনুপম ঘটক। গানটি কৃতজ্ঞ গানেরপাতা.কম ওয়েবসাইটের কাছে কারণ গানটি আমরা পেয়েছি সেখান থেকেই। সেই পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালী॥
তিতুমীর, ঈসা খাঁ, সিরাজ সন্তান এই বাংলাদেশের। ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, নেতাজী সন্তান এই বাংলাদেশের। এই বাংলার কথা বলতে গিয়ে বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিল কার সে কণ্ঠস্বর, মুজিবর, সে যে মুজিবর, "জয় বাংলা" বল রে ভাই॥
ছয়টি ছেলে বাংলা ভাষার চরণে দিল প্রাণ, তাঁরা বলে গেল ভাষাই ধর্ম, ভাষাই মোদের মান।
মাইকেল, বিশ্বকবি, নজরুল সন্তান এই বাংলাদেশের। কায়কোবাদ, বিবেকানন্দ, অরবিন্দ সন্তান এই বাংলাদেশের। এই বাংলার কথা বলতে গিয়ে বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিল কার সে কণ্ঠস্বর, মুজিবর, সে যে মুজিবর, "জয় বাংলা" বল রে ভাই॥