এ তো নয় শুধু গান---- এ যেন আমার কিছু অনুরাগ আর কিছু অভিমান || হয়তো বা তুমি আমার গানের এ ভাষারে যাবে ভুলে প্রেমালাপে নেবে তুলে----- তবু জেনে রাখো মোর প্রেম কভু চায় নি তো প্রতিদান || কী কথা যে আজ জানাই তোমায় এ গানের সুরে সুরে আজ নয় জানি বুঝিবে গো তুমি চলে যাবে দূরে | সেদিন যদি বা ফাগুনের মতো আমার ভুবন ঘিরে আস তুমি ওগো ফিরে----- চেয়েছি যে নদী দেখিবে মরুতে হয়ে গেছে অবসান ||
রাত দুপুরে দুষ্টু বাঁশি বাজে, বাঁশি মধুর মধুর বাজে---- তবু তোমার ওই লজ্জা ভাঙে না যে || এবার চুপটি করে ঘরের কপাট খোলো, দাঁড়ের টিয়া, তাকেই শুধু বোলো--- ‘এ কি আমার হলো ?’ ঘরে থাকা আর কি বলো সাজে || লোকে না হয় অনেক কথাই ক’বে, কলংকেরই ভয় কি বলো তবে--- যেতেই যদি হবে | ভালোবেসে ভয় কি লোকলাজে ||
শেষ দেখা এই রাতে আমি একা এই রাতে--- আছে কিছু তারই আবেশ, সেই প্রথম, সেই তো শেষ | কথা ভরা সেই দু’জনের আলাপন---- আরও কিছু ছিল, ভুলে গেছে মন, এইটুকু আজ শুধু মনে পড়ে | কতবারই আমি মনকে শুধালাম, মালতী কী মাধবী, ভুলে গেছি নাম, এইটুকু আজ শুধু মনে পড়ে ||
রিনিক ঝিনি ঝিনি চিনি তারে চিনি সুর ঝরালো মন ভরালো ( তার ) কঙ্কন কিঙ্কিনী || বুঝি সে সাঁঝের ছায় জল নিতে ঘাটে যায় নূপুর বাজে পায় সে ফিরে ফিরে চায়--- এমন করে সাড়া কভু দেয়নি কোনোদিনই || ময়ূরগুলো তার পানে ওই শুধু চেয়ে থাকে, মন বলে ইশারাতে আমায় কাছে ডাকে | কেন যে অকারণ উতলা হল মন ---- কত কী যে চাই ভাবি শুধু তাই, আমায় যেন কত ঋণে করলো সে আজ ঋণী ||
তোমার চোখের কাজলে আমার ভালোবাসার কথা লেখা থাকবে---- আমায় ভালোবাসবে আর মনে রাখবে | তোমার প্রীতির আঁচলে আমার প্রেমের প্রদীপখানি জানি ঢাকবে || জীবনের এক দিকে ভাঙন আর একদিকে সৃষ্টি, পাহাড়ের একদিকে রোদ্দুর আর একদিকে বৃষ্টি--- এই বৃষ্টি রোদে ভিজে তুমি আমায় পিছু ডাকবে || প্রেমেরই একটি নাম হাসি আবার আর একটি নাম দুঃখ, চলার এই পথ কোথা সহজ আবার কোথায় বা সে রুক্ষ--- সেই কান্নাহাসির আলোছায়ায় আমার ছবি আঁকবে ||
ওগো শুনি তব বাঁশি, কাছে যেতে কত বাধা--- তুমি মোর শ্যাম, ওগো আমি যে তোমারই রাধা || আঁধারের মাঝে অলক মিলায়ে যায়, ফুলের সুরভি বাতাসে মিশিতে চায়--- তারই সুরে যেন এ দুটি হৃদয় সাধা || বেদনার জ্বালা এ মোর মালাতে নাই, মনে মনে দীপ নীরবে জ্বালাতে চাই--- অলখ বাঁধনে তুমি আর আমি বাঁধা ||
ওগো বর্ষা, তুমি ঝরো না গো অমন জোরে, কাছে সে আসবে তবে কেমন করে | এলে না হয় ঝরো তখন অঝোর ধারে যাতে সে যেতে চেয়েও যেতে নাহি পারে || মেঘ তুমি চাঁদকে ঢেকো যদি ওঠে চন্দ্রমল্লিকা যেন না ফোটে, আমারই চাঁদ আমার থাকুক, কেউ যেন না দেখে তারে || যেন তার পায়ের নূপুর বাজে রুমঝুম এত রাতেও ভ্রমর কেন করো গুনগুন, লক্ষ্মী ভ্রমর চুপ করো না, আসছে সে আজ আমার দ্বারে ||
কত দূরে আর নিয়ে যাবে বলো কোথায় পথের প্রান্ত---- ঠিকানা হারানো চরণের গতি হয় নি কি তবু ক্লান্ত ? পিছনের পথে উঠেছে ধূলির ঝড় সমুখে অন্ধকার---- বলো তবে ওগো কবে হবে অভিসার | তৃষিত আশারে কোরো না গো তুমি ভ্রান্ত || তবুও তো যেতে হবে---- কাঁটা বিঁধে পায়ে যদি গো রক্ত ঝরে, অশ্রুতে মোর তবু হাসি ছুঁয়ে রবে | প্রদীপের পায়ে প্রজাপতি তার প্রেম করে গো সমর্পণ, সে তো মরণের কাছে জীবনের নিবেদন---- ঝড় চলে গেলে পৃথিবী যে হয় শান্ত ||
যদি কাগজে লেখ নাম কাগজ ছিঁড়ে যাবে, পাথরে লেখ নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে, হৃদয়ে লেখ নাম সে নাম রয়ে যাবে || হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে, প্রতিটি মানুষেরই জীবনে প্রেম আসে | কেউ কি ভেবেছিল শ্যামকে ভালোবেসে রাধার ভালোবাসা কাহিনী হয়ে যাবে || গভীর হয় গো যেখানে ভালোবাসা মুখে তো সেখানে থাকে না কোনো ভাষা | চোখের আড়ালে মাটির নীচে ওই ফল্গু চিরদিনই নীরবে বয়ে যাবে ||