কাঙাল হরিনাথের গান
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।  www.milansagar.com
*
হে (হরি) দিন তো গেল, সন্ধ্যা হল, পার কর আমারে |
তুমি পারের কর্তা, শুনে বার্তা, ডাকছি হে তোমারে ||
আমি আগে এসে, ঘাটে রইলাম বসে
( ওহে, আমায় কি পার করবে নাহে, আমায় অধম বলে )
যারা পাছে এল, আগে গেল, আমি রইলাম পড়ে ||
যাদের পথ-সম্বল, আছে সাধনার বল,
( তারা পারে গেল আপন বলে হে )
( আমি সাধনহীন তাই রইলেম পড়ে হে )
তারা নিজ বলে গেল চলে, অকুল পারাবারে ||
শুনি, কড়ি নাই যার, তুমি কর তারেও পার,
( আমি সেই কথা শুনে ঘাটে এলাম হে )
( দয়াময় ! নামে ভরসা বেঁধে হে )
আমি দীন ভিখারী, নাইক কড়ি, দেখ ঝুলি ঝেড়ে ||
আমার পারের সম্বল, দয়াল নামটি কেবল,
( তাই দয়াময় বলে ডাকি তোমায় হে )
( তাই অধমতারণ বলে ডাকি হে )
ফিকির কেঁদে আকুল, পড়ে অকূল সাঁতারে পাথারে ||

.                                       *************************                                
উপরে
*
*
দেখ ভাই জলের বুদ্ বুদ্, কিবা, অদ্ভুত, দুনিয়ার সব আজব খেলা ||
আজি কেউ পাদসা হয়ে, দোস্ত লয়ে, রংমহলে করছে খেলা ;
কাল আবার সব হারায়ে, ফকীর হয়ে, সার করেছে গাছের তলা |
আজি কেউ ধনগরিমায়, লোকের মাথায়, মারছে জুতা এরিতলা ;
কাল আবার কোপ্ নী প'রে, টুক্ নী ধরে, কাঁধে ঝোলে ভিক্ষার ঝোলা |
আজ রে যেখানে শহর, কত নহর, বসিয়াছে বাজার মেলা ;
কাল আবার তথায় নদী, নিরবধি, করছে রে তরঙ্গ-খেলা |
কাঙ্গাল কয় পাদ্ সা উজীর, কাঙাল ফকীর, সকলি ভাই ভোজের খেলা ;
মন তুমি যখন যা হও, ঠিক পথে রও, ধর্মকে ক'র না হেলা |

.                                      *************************                                
উপরে
দি ডাকার মতন পরিতাম ডাক্ তে |
তবে কি মা, এমন করে, তুমি লুকায়ে থাকতে পারতে ||
আমি নাম জানি নে,                ডাক জানিনে
আবার পারি না মা, কোন কথা বলতে ;
তোমায়, ডেকে দেখা পাইনে তাইতে, আমার জনম গেল কান্ তে ||
দুঃখ পেলে মা তোমায় ডাকি,
আবার, সুখ পেলে চুপ করে থাকি ডাকতে ;
তুমি মনে বসে, মন দেখ মা, আমায় দেখা দাও না তাইতে |
ডাকার মত ডাকা শিখাও,
না হয়, দয়া করে দেখা দাও আমাকে ;
আমি, তোমার খাই মা, তোমার পরি, কেবল ভুলে যাই নাম করতে ||
কাঙ্গাল যদি ছেলের মত,
মা তোর, ছেলে হত তবে পারতে জানতে ;
কাঙ্গাল, জোর ক'রে কোল কেড়ে নিত, নাহি মর্ ত বল্লে মর্ তে ||

.                                       *************************                                
উপরে
*
রূপের রূপের ফাঁদে, পড়ে কাঁদে, প্রাণ আমার দিবানিশি |
কাঁদলে নির্জনে বসে, আপনি এসে, দেখা দেয় সে রূপরাশি ;
সে যে কি অতুল্য রূপ, নয় অনুরূপ, শত শত সূর্য শশী |
যদি রে যাই আকাশে, মেঘের পাশে, সে রূপ আবার বেড়ায় ভাসি ;
আবার রে তারায় তারায়, ঘুড়ে বেড়ায়, ঝলক লাগে হৃদে আসি |
হৃদয় প্রাণ ভরে দেখি, বেঁধে রাখি, চিরদিন সেই রূপশশী ;
ওরে, তার থেকে থেকে, ফেলে ঢেকে, কুবাসনা-মেঘরাশি |
কাঙ্গাল কয় যে জন মোরে, দয়া করে দেখা দেয় রে ভালবাসি ;
আমি যে সংসার মায়ায়, ভুলিয়ে তাঁয়, প্রাণ ভরে কৈ ভালবাসি |

.                                       *************************                                
উপরে
*
দিন ত ফুরায়ে গেল, সেদিন এল,
উপায় কি রে হবে এখন |
সেই মাতৃগর্ভ হতে তোর পশ্চাতে, ফিরিতেছে যে কাল শম ;
সে ত রে কাল পাইয়ে, পাছ ছাড়িয়ে,
সম্মুখে দিল দরশন | ( পরমায়ু শেষ দেখিয়ে )
ওরে জীব! তাই যে সুধাই, ও কার দোহাই, দিবি কাল করিতে বারণ ;
শমন তোর পদ পদার্থ, ধন অর্থ,
কোন কথা করবে না শ্রবণ ( জাতিকুল বিদ্যা যশের )
হরির চরণ-নির্মাল্য, নাই তার তুল্য, শমন করিতে দমন ;
ফিকির কয় সেই অমূল্য, সুনির্মাল্য
মাল্য কণ্ঠে কর ধারণ, ( নইলে শমন-ভয় যাবে না )
কাঙ্গাল কয় রে নির্মাল্য, ছেড়ে মাল্য, অন্য মাল্য পরে যে জন ;
সে মাল্য শ্মশানতলে, ছিঁড়ে ফেলে,
তাতে হয় না শমন দমন | ( নির্মাল্য-মাল্য বিনে ) |

.                                       *************************                                
উপরে
*
চ্ছে ভবনদীর নিরবধি খরধার |
দেখ, ক্ষণকাল বিরাম নাই এই দরিয়ার ||
ডিঙ্গা ডেঙ্গি পিনাশ বজরা, মহাজনী নৌকায়,
পাপী তাপী সাধু ভক্ত, চড়নদার তার সমুদায় |
ভাসিছে দরিয়ার জলে, ইচ্ছামত নৌকা চলে ;
হাল ধরে তার সুকৌশলে, বসে আছে কর্ণধার || মন সবার,
কর্ণধারের ইচ্ছামত, কেহ চলে উজায়ে,
মনের সুখে জ্ঞান-মাস্তুলে, ভক্তিপাল উড়ায়ে |
কেহ আবার মনের দোষে, ভেটে নেতে যাচ্ছে ভেসে
পাকে ফেলে অবশেষে, ডুবায় তরি কর্ণধার || মন সবার,
কেহ আবার ক্রমাগত বলে বলে ভাটিয়ে,
অপার সাগরে, পড়ে নদীর মুখ ছাড়িয়ে |
সাগরের তরঙ্গ ভারি,                   স্থির নাহি থাকে তরি ;
লোনা জলে জীর্ণ করি, ডুবায় তরি কর্ণধার || মন সবার,
সাধু মহাজন যত, বাদাম তুলে দরিয়ায়,
সুবাতাসে চলে তারা, মুখে নামের সারি গায় |
ঠিক না থাকলে হালি, অমনি নৌকা করে গালি ;
গুপ্ত চড়ায় চোরা বালি, ডুবায় তরি কর্ণধার || মন সবার,
কাঙ্গাল বলে কাঙ্গালের পুঁজি পাটা যা ছিল,
বারে বারে ডুবে ভবে, সকলি ত খোয়াল |
খাবি খেয়ে অনেক কাল, আবার তুলে দিলাম পাল ;
সাবধানে ধর হাল, বিনয় করি কর্ণধার || মন সবার ||

.                                       *************************                                
উপরে
*
তাঁরে পাবিনে কখন ওরে মন, নাহি থিতালে
ওরে তোর হৃদয়-জল বড় ঘোলা,
ঢেউ উঠিয়া বাতাস তুলে ||    ( সংসার মেঘে )
দেখ দেখি মন সেই কথা মনে,
ওরে, নিজান জলে মুখ দেখা যায় সকলেই জানে ;
আবার পাড়ি-ভাঙ্গা ঘোলা পাঙ্গা দেখা যায় কি সেই জলে
                                 ( আপনার মুখ )
স্থির ভাবে মন থকরে বসিয়ে
যত কাদা মটি ক্রমেরে তোর যাবে নিযায়ে ;
তখন নিজের ঘরে সরোবরে দেখা পাবি ভাবিলে ||
                                  ( নির্মল জলে )
নড়িস নে মন, টলিস নে আর,
ওরে, সংসার মেঘে সদা আছে বাতাসের সঞ্চার ;
তুমি ঠিক না থাকলে, চঞ্চল হলে, দেখবে আঁধার চোক বুঝলে ||
                                   ( ঘোলা জলে )
কাঙ্গাল কয় সংসার-বাসনা
আমার ঘোলা জল, ঘোলা করে, থিতাতে দেয় না ;
আমায় ঘোলায় ঘোলায় দিন কেটে যায় হোলনা মোর কপালে
                                    ( জলে মুখ দেখা ) |

.                        *************************                                
উপরে
*
নন্ত রূপের সিন্ধু উঠলি উঠিল গো |
কিবা ভুবনমোহন, রূপের তরঙ্গে ভুবন ভুলাল গো |
হৃদে ছিল রূপবিন্দু ক্রমে সিন্ধু হ'ল গো ;
আহা নয়নে পশিয়ে, ধরণী ভাসায় হিমগিরি
                             ডুবিল গো |
রূপের তরঙ্গে আবার ভুবন ছাইল গো ;
আহা বিমল বাতাসে আকাশে আকাশে,
                     সে তরঙ্গ ছুটিল গো |
ভনু শশী সৌদামিনী সে রূপে ভাসিল গো ;
সংখ্যাশূণ্য তারাদলে রূপস্রোতঃ চলে, রূপমদে
                            পাতাল গো |
অনন্ত এ রূপসিন্ধু, নাহি ইহার কূল গো |
রূপে সন্তরণ দিয়ে কূল নাহি পেয়ে
                 মাতিয়ে রহিল গো | ( কাঙ্গাল ) |

.                        *************************                                
উপরে