হায় রে লেখা কবি মোহিনী চৌধুরী হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত সম্পাদিত “বঙ্গশ্রী” পত্রিকার চৈত্র ১৩৫২ ( এপ্রিল ১৯৪৬ ) সংখ্যায় প্রকাশিত।
সন্ধ্যা নামে-নামে . নাম-না-জানা গ্রামে ! আমার হাতে গানের খাতা . গান লিখেছি দু’টি, শেষ হ’য়েছে কল্পলোকের খানিক ছুটোছুটি ; . ছুটির দিনের শেষে ফিরছি তখন গাঁয়ের পথে সহরতলীর ‘মেসে’ ।
আমার চেয়ে বয়সে-বড়ো গাঁয়ের ছেলে কোনো . ব’ললে ডেকে’ : ‘শোনো --- ক্ষেত নিড়ানীর কাজে ব’সে গেলাম কেবল দেখে কাগজ-কলম নিয়ে কী-যে ক’র্ ছো তখন থেকে ?’ . চোখের ওপর মেলে দিলেম খাতা, খাতার পাতা কাঁপলো হাওয়ায়, . কাঁপলো চোখের পাতা ।
মনে হোল ভুল ক’রেছি, আমার লেখাপড়া . ওদের কাছে গোষ্পদে চাঁদ ধরা ! মুখের কথা বুঝবে ভেবে ব’লে গেলাম মুখে যে-গান দু’টি কালির টানে লেখা খাতার বুকে । . তবুও যেন বুঝলো না সে কিছু, ফিরে গেল আপন ঘরে মুখটি ক’রে নিচু । হায় রে লেখা, হায় রে বড়াই, হায় রে কবির আশা । একই দেশের মানুষ তবু ব্যর্থ আমার ভাষা ।
শান্তি ও শাস্তি কবি মোহিনী চৌধুরী সচ্চিদানন্দ ভট্টাচার্য সম্পাদিত “বঙ্গশ্রী” পত্রিকার মাঘ ১৩৪৬( ফেব্রুয়ারী ১৯৪০ ) সংখ্যায় প্রকাশিত ।
শান্তি ছিল সেইদিন,---যবে তপোবনে, জীবন বহিত সদা সংযমের স্রোতে, উদাত্ত মন্ত্রের ধ্বনি উঠিত পবনে, পূর্ণ ছিল মনঃপ্রাণ মহা পূর্ণব্রতে ।
. শান্তি ছিল সেইদিন.—যবে দেশমাঝে . ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিল, ছিল সত্য ঋষি, . স্বার্থহীন সেবা ছিল ধর্ম্মে ও সমাজে, . ন্যায়ের মর্য্যাদা ছিল, মহত্ত্বের কৃষি ।
. ব্রাহ্মণ ‘ব্রাহ্মণ’ ছিল ----পূজ্য দেবসম, . বৈশ্যের প্রবৃত্তি ছিল প্রতারণাহীন, . ক্ষত্রিয়ের তেজোবীর্য্য ছিল শুদ্ধতম,--- . মানুষের প্রাণে ছিল শান্তি সেইদিন ।