সেলিব্রেটি
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)
২০১৩ সালে প্রকাশিত, কবির “বুলেটপ্রুফ কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে এই
পাতায় প্রকাশ ১৬.৯.২০২২।
 কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায়
পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .




রোজই যখন কাগজ বা টিভি খুলি
সেলিব্রেটিদের দেখতে পাই
যেমন একটা মশা একটা ব্যাঙের
ক্যাসেট ও সিডি বাজারে ছাড়লো
তিনটে কেঁদো শুয়োর এবং দুটো
ফিমেল কাকড়াবিছে
কোনো ফিল্মের মহরতে
একটা টিকটিকি কবিতা পড়ছে
শুনছে মুগ্ধ মাকড়সা
এবং বেশিরভাগ স্থির ও অচল দৃশ্যে
মন্ত্রীদের দেখা যায়--- ব্যস্ত মাছি।
কচ্ছপ, বাঁদর, আর্মাডিলো, শকুন
ও চামচিকেদেরও দেখা যায়
নানা ক্ষেত্রে সেলিব্রেটি ওরা
যেরকম সেলিব্রেটি তেমনটি মাসোহারা

সব থেকে বিস্ময়কর হল
এই সেলিব্রেটিদের পেছনে যে
ডাইনোসর রয়েছে
তাকে খুবই কম দেখা যায়
তার বন্ধু অজগরকে তো
দেখাই যায় না।

.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য-এর কবিতা
*
লালগড়
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)
২০১৩ সালে প্রকাশিত, কবির “বুলেটপ্রুফ কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। লালগড়
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে লেখা কবিতা। মিলনসাগরে এই পাতায় প্রকাশ ১৬.৯.২০২২।

কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .


মেঘের মুখোশে ঢাকা চাঁদ
যাকে কালও রাস্তায় আটকে থাকা
কোলা বোতলের ছিপি বলেছিল কেউ
আজ রাতে
শ্বাসরুদ্ধ গরমের তেতে ওঠা হাওয়াতে
মনে হচ্ছে লুকনো টিফিন কৌটো
বিস্ফোরক সম্ভাবনা নিয়ে
খুঁজলে হয়তো ইলেকট্রিক তারও চোখে পড়ে যাবে

গ্রেহাউন্ড, কোবরার ট্রাক
পিষে যাবে, মিশে যাবে, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে
থুড়থুড়ে বুড়ো, শণ-চুলে অপুষ্টির শিশু,
ক্লান্ত, জীর্ণ প্রায় অশরীর মা
প্রকৃতির পাতা নিতে ওরা আর জঙ্গলে ঢুকতে পারে না
মরদরা দিয়েছে গাঢাকা
পরবেতে নেচে ওঠা মাঠগুলো ফাঁকা
ছত্রধরের সঙ্গে ডুয়েল লড়তে এসেছে ছত্রপতি
তাই থেকে থেকে
তোতলাচ্ছে ইনস্যাস, ৯ এম. এম., এ কে!

হে মেঘ, আড়াল-মেঘ, বার্তাবহ মেঘ, কামোফ্লাজ মেঘ
কবে তুমি ছুঁড়ে দেবে লক্ষ লক্ষ তীক্ষধার বৃষ্টির তীর
ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে এই রাষ্ট্ররূপী ভাঁড়েদের ভিড়?

যেভাবেতে গুমরোয় ধিকি ধিকি তুষ
সেভাবেই জ্বলে যাবে বুটে চাপা পড়া
মা-মাটি-মানুষ?

মক্ শো-তে টক্-শোতে
যদি ভাবে বেঁচে যাবে ঘর
চলছে চলবে এই প্রসিদ্ধ ক্লাউনদের সার্কাস
যদি ভাব বিজ্ঞাপিত নিরোরাই টেনে যাবে বেহালার ছড়

তাহলে এলার্ম টানো
থামাতে এ বিস্ফোরক ট্রেন
রক্তচক্ষু জ্বালবে না কোনো প্ল্যাটফর্ম
এ হল---
lull before the storm
লালগড়!

.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
৯ ১ ৯
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)। কবিতাটি জুন ১৯৯১ সালে
“ম্যানিফেস্টো” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমরা পেয়েছি “ভাষাবন্ধন প্রকাশনী”
থেকে, কবির মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে, রাজীব চৌধুরী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত
“নবারুণ ভট্টাচার্য অগ্রন্থিত কবিতা” কাব্য-সংকলনে থেকে। মিলনসাগরে এই পাতায়
প্রকাশ ১৬.৯.২০২২।
 কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে
এখানে ক্লিক করুন . . .


ভীষণ রাগে, কণ্ঠরুদ্ধ শোকে বা ভাবলেশহীন নির্লিপ্ততায়
যেভাবেই দেখি না কেন গত তিন বছরে ২৮টি বন্ধ কারখানায়
শ্রমিকের মৃত্যুসংখ্যা ৯১৯ যার মধ্যে ৪১টি আত্মহত্যা / আত্মহত্যা
মহাপাপ--- এই সব কথাগুলো এবারে বাতিল করতে হবে বোধহয়
কারণ এমন কোনো ভরসা নেই যাতে করে আমি এই
ছাব্বিশে বৈশাখ বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে ৯১৯কে ৯২০
হতে দেব না, হয়তো হয়েই গেছে বা ৪২ নম্বর আত্মহত্যার সময়
হাত থেকে কেড়ে নেব অ্যাসিড বা ফলিডলের শিশি, থামিয়ে দেব
ইলেকট্রিক ট্রেন বা আটকাতে পারব না আরও একটি কারখানা
বন্ধ হয়ে যাওয়া
এত অপমান বহন করে বাঁচতে হয়
এত ছোট, এত অকিঞ্চিৎকর হয়ে বাঁচার ভান করতে হয়
এত হারতে হয়, হারতে হয়
কাল ছিল পঁচিশে বৈশাখ / ভোটের বাজার বলেই এবার অলিতে গলিতে রাস্তায়
গলতায় দেদারে রবীন্দ্রপ্রেমী গুছিয়ে নেমেছিল, যাই হোক কোথায় যেন স্পিকারে
গমগম করে চলছিল ক্যাসেট : আমার জীর্ণ পাতা যাবার বেলায় ডাক দিয়ে
যায় বারে বারে / অকস্মাৎ ধ্বংসের এক স্মৃতি মনে পড়ে গেল--- ইন্দোনেশিয়ায়
১৯৬৫-র সেই কমিউনিস্ট-কোতলে, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক কমিউনিস্ট নেতা
ওই গান গেয়ে উঠেছিলেন---
ডাক দিয়ে যায় বারে বারে
নতুন পাতার দ্বারে দ্বারে

হঠাৎ মনে পড়ে গেল ১৯১৭, ১৯৪৯, ১৯৫৮, ১৯৭০ কয়েকটা ম্যাজিক
সংখ্যা যাই হোক ৯১৯+দের কথা এখন কে ভাববে যখন গান্ধিবাদ, বিষাক্ত
পদ্মফুল বা বিষাক্ত মার্কসবাদী নেতার একমাত্র আশ্রয় হেলিকপ্টার / যখন কোটি
কোটি টাকায় ফ্লুরোসেন্ট লেখায় সিটি অফ জয় ছয়লাপ / যখন নানাবিধ
বিশেষণে, স্বর্গীয় অলৌকিক জ্ঞোতিতে, সিদ্ধার্থের বুদ্ধবাণীতে আকাশবাতাস
মশগুল / যখন ফিল্মস্টার থেকে ক্রিকেটার থেকে বডিবিল্ডার থেকে মাফিয়া
লিডার সবাই দেশকে বাঁচাতে উদগ্রীব / এত দেশপ্রেমিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল উড়ছে
যে চাঁদ তারা কিছুই দেখা যাচ্ছে না

মেট্রোরেল থেকে পেট্রোডলার
টালাট্যাঙ্ক থেকে সুইস ব্যাঙ্ক
---এক জব্বর হিসেব

অপারগ হতে পারি কিন্তু অকৃতজ্ঞ নই
ভীতু, ধুড় হতে পারি কিন্তু সত্যি কথা মিনমিন করে
হলেও বলব
এই সংসদীয় ধনতন্ত্রে তিলমাত্র বিশ্বাস করি না
বিশ্বাস করি মানবিকতায়, সহমর্মিতায়, গণতন্ত্রে
যা অসম্পূর্ণ হলেও অনাহারে মৃত্যু বা আত্মহত্যা
অন্তত ঠেকাতে পারে
একটা কাঁধের পাশে আরেকটা কাঁধ এনে একটা
বাঁধ বাঁধতে পারে মৃত্যু, হতাশা ও দুঃস্বপ্নের বিরুদ্ধে
অন্তত এটুকুই হোক
আপাতত এটুকুই কিভাবে করা যায়
পরের কথা দেখা যাবে পরে
বসস্তে নতুন পাতা আসে, শীতে পাতা ঝরে

.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কামদুনি
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)। কবিতাটি ২০১৩ সালে “ভাষাবন্ধন,
উত্সব” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমরা পেয়েছি “ভাষাবন্ধন প্রকাশনী” থেকে, কবির
মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে, রাজীব চৌধুরী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “নবারুণ ভট্টাচার্য
অগ্রন্থিত কবিতা” কাব্য-সংকলনে থেকে।
মিলনসাগরে এই পাতায় প্রকাশ ১৬.৯.২০২২।  
কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .

ধর্ষণের পর
দু-পা ধরে একটি মেয়েকে
চিরে ফেলা যায়
তৈরি হতে পারে
অভাবনীয় এক মৃত্যুর জ্যামিতি
কোণের বিভাজন
যে কোণ থেকে
মহেঞ্জোদড়োর মুদ্রায়
আমরা তরুলতা
জন্মাতে দেখেছি
মহেঞ্জোদড়োর লিপি
পাঠ করা যায়নি
বোঝা যায়নি
কী ভেবেছিল ধর্ষক
অসাড় দর্শক
কাগজে ও টিভিতে
সব জেনে ফেলে
ক্লোরোফর্ম করা অক্ষরে ও ছবিতে
মর্গে থাকে বলে
কারও কঙ্কালঢাকা মাংস
পচে যায় না
অবিকৃত, অবিকল থেকে যায়


.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখছি কবিতায়
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)।
কবিতাটি প্রকাশিত হয় “এবং সায়ক” পত্রিকায়, প্রকাশকাল জানা যায়নি । আমরা
পেয়েছি “ভাষাবন্ধন প্রকাশনী” থেকে, কবির মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে, রাজীব চৌধুরী
দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “নবারুণ ভট্টাচার্য অগ্রন্থিত কবিতা” কাব্য-সংকলনে
থেকে।
মিলনসাগরে এই পাতায় প্রকাশ ১৬.৯.২০২২।  কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী
কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .


এক
ওই দেখো জতুগৃহ
ওই দেখো কারবালা
মাথা ঠাণ্ডা করে ভাবো
এরপর কার পালা?

দুই
গুলি চালানো ভালো নয়
মানুষের ওপর
পুলিশ গুলি চালায়
দাঙ্গাবাজদের ওপরে
গুলি চালাবার জন্যে
বদলি হয়ে যায়
পুলিশ অফিসার


তিন
একদিকে কোটিপতি
অন্যদিকে কোটি পতঙ্গ
এরই মধ্যে বেশ থাকি
জব্দ হয়ে, ডানার সঙ্গে

চার
শয়তান এই টেবিলে খায়
শয়তান এই চেয়ারে বসে
বুশ আর ব্রেয়ার

শয়তান তেলে ডুবিয়ে মানুষ খাচ্ছে
শুরু হতে চলেছে--- তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ


.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নেতা
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)। কবিতাটি ১৯৮৯ সালে “সীমান্ত”
পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমরা পেয়েছি “ভাষাবন্ধন প্রকাশনী” থেকে, কবির মৃত্যুর পর
২০১৫ সালে, রাজীব চৌধুরী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “নবারুণ ভট্টাচার্য অগ্রন্থিত
কবিতা” কাব্য-সংকলনে থেকে
। মিলনসাগরে এই পাতায় প্রকাশ ১৬.৯.২০২২।     
কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .

অবশ্যই আমরা যারা গরিবগুরবো
থ্যাঁতলানো, আধসেদ্ধ, আধপোড়া বা তিরিক্ষে
কখনো খচ্চর, প্রায়ই হারামি
আমাদের একজন নেতা চাই

কিন্তু তিনি অতিমানব না হলেই ভালো
তার আশ্চর্য বীরত্ব, দক্ষতা বা চরিত্রগুণ
এই নিয়ে ছাপানো গল্প আমরা চাই না
অত কিছু হলে তিনি কি
আমাদের মতো হাঘরে, ফক্কড়, রগচটা, এলেবেলেদের
নেতৃত্ব দিতে আসতেন

আমরা বুঝে গেছি
কোনো নেতাই একযুগ এগিয়ে ভাবতে পারে না
বরং তাঁরা আখের গুছনো গুবলেট করে
আমাদের সব আখের খেত ভোগে চলে যায়
অনেক অনেক নেতাকে দেখে
শেষমেশ আমরা এই সিদ্ধান্তে এসেছি


রাখাল যেমন ছাগল বা গোরুদের পেছনে থাকে
তিনিও সেরকম হবেন
সামনে কোনো বাঁশিওয়ালা আমরা চাই না
উপরন্তু সামনের দিকেই যখন গুলিটুলি
খাবার সম্ভাবনা

আমরা একজন সাধারণ নেতা চাই
যার বুদ্ধির একটা রেশ থাকবে
যিনি বড়জোর এককাঠি বেশি সরেশ হবেন
যিনি ভুল করলে আমরা ক্যাঁক করে চেপে ধরব
এবং অবশাই তাঁকে বোবা, কালা, মাতাল, লম্পট
বা চোর হলে চলবে না

.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বুলেট হল বুলেট
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)। কবিতাটি ১৯৯০ সালে “শারদীয়া
পরিচয়” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমরা পেয়েছি “ভাষাবন্ধন প্রকাশনী” থেকে, কবির
মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে, রাজীব চৌধুরী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “নবারুণ ভট্টাচার্য
অগ্রন্থিত  কবিতা”  কাব্য-সংকলনে থেকে।
মিলনসাগরে  এই  পাতায়  প্রকাশ  
১৬.৯.২০২২।  
কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে এখানে
ক্লিক করুন . . .


জরায়ুর মধ্যে বুলেট খেয়েছিলাম বলে
আমি জন্মাতে পারিনি
তাই বলতে পারব না কোন দলের লোক
কোন জমানার পুলিশ গুলি করেছিল
বলতে পারব না আমার মা
বিপ্লবী বা প্রতিবিপ্লবী--- কোন দলের
সমর্থক ছিলেন

বুলেট কোনো বাধার তোয়াক্কা করে না
সে কোনো চর্মাচ্ছাদন, সুক্ষ্ম বিল্লির স্লেহ
এবং জন্মজলকে খাতির করে না
বুলেটের কোনো বুদ্ধি নেই, নৈতিকতা নেই
চূড়ান্ত বিশ্লেষণে কোনো যথার্থতা
বা অব্যক্ত অর্থও নেই
বুলেট হল বুলেট
তাকে অন্ধ ঘাতক বলে ভাবলে
দৃষ্টিহীন অপমানিত হবে
হত্যাকারীও মানবিকতা হারাবে
যাই হোক, জরায়ুর মধ্যে বুলেট খেয়েছিলাম বলে
আমি জন্মাতে পারিনি
আমি কে আমি জানি না
জানার সময় পাইনি

জানার সময় আমি আর কখনো পাব না
আমি কালা, বোবা, অন্ধ ও অচেতন

এবার পুলিশ, নেতা, মাফিয়া, উর্দিপরা, উর্দি না পরা
সবাই আমাকে খুঁজতে বেরোতে পারো
নির্ভয়ে এসো, নির্মম হয়ে এসো
সেবার আমি স্তম্ভিত হয়েছিলাম
এবার তোমাদের স্তম্ভিত হওয়ার পালা

তোমরা সন্ধান চালাও বুলেট নিয়ে
কিন্তু মনে রেখো
বুলেটের কোনো বুদ্ধি নেই, নৈতিকতা নেই
চূড়ান্ত বিশ্লেষণে কোনো যথার্থতা
বা অব্যক্ত অর্থও নেই
বুলেট হল বুলেট
বুলেট এক গেলাস, জল বা মদ
বা একটা সিগারেট নয়

না জন্মালেও অন্ধকারে এক একটা
প্রশ্নের ঢেউ ওঠাই
ঢেউ ফিরে যায়
আমার, না জন্মানো আমার
এত প্রশ্নের পাথর পাষাণ অন্ধকার
চূর্ণ করতে বিস্ফোরণে
হতভম্ব বুলেট কী জানে
বিদগ্ধ, সত্যনিষ্ঠ পাঠক
তুমি কী জানো এত অসম্ভব জিজ্ঞাসার মানে


.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সাধের আসন
কবি নবারুণ ভট্টাচার্য (২৩.৬.১৯৪৮ - ৩১.৭.২০১৫)। কবির একটি অপ্রকাশিত কবিতা।
আমরা পেয়েছি “ভাষাবন্ধন প্রকাশনী” থেকে, কবির মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে, রাজীব
চৌধুরী দ্বারা সংকলিত ও সম্পাদিত “নবারুণ ভট্টাচার্য অগ্রন্থিত কবিতা” কাব্য-সংকলনে
থেকে।
 কবিতাটি মিলনসাগরের প্রতিবাদী কবিতার দেয়ালিকায় পড়তে এখানে ক্লিক
করুন . . .


ফুটপাথের শিশুটি মারা গেছে আন্ত্রিক অসুখে
ফুটপাথের মা এখনও হতভম্ব বসে
শিশুটি যার ওপর ঘুমোতো সেই দোকানের ছেঁড়া পলিথিন
বিছোনো আছে এখনও
বিছোনো আছে সাধের আসন।

চারিদিকে ঘুছে ফিরছে টহলদার যান্ত্রিক শহর
এই শহরের ফুটপাতে আর সেই শিশুটি
খেলা করবে না কুকুর ও রোদ্দুরের সঙ্গে
এই শহরে আর কোনোদিন বাংলায় কবিতা লেখা হবে না
গান গাইবে না ভোরের পাখি।

ডিজেল সন্ধ্যা ভেসে গেল ওভারব্রিজের দিকে
ওপারের আকাশে উঠেছে সেরামিক চাঁদ
শোনা যাচ্ছে অন্ধকার ট্রেনের শব্দ
আকাশের তলায় পেতে রাখা আছে সাধের আসন।


ফুটপাথের শিশুটি মারা গেছে আন্তরিক অসুখে
ফুটপাথের মা এখনও ঝিরঝির বৃষ্টিতে বসে আছে
শিশুটি যার ওপর ঘুমোতো
দোকানের সেই ছেঁড়া পলিথিন
বাতাসের ঝাপটায় একটু একটু সরছে।

জোর হাওয়া দিলে
উড়ে চলে যাবে সাধের আসন
ফুটপাথের মা চুপ করে বসে থাকবে
বাতাসে ভর করে মুখ বুজে চলে যাবে
সাধের আসন।


.                  ******************     
.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*