কবি নিরুপমা দেবী ২ এর কবিতা
*
বর্ষাছবি
কবি নিরুপমা দেবী
১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রকৃতি পর্যায়ের কবিতা।

শাওণ-মেঘে গগন যেন নিঝুম হ’য়ে আসে,
বিষাদ সম আকাশটিরে জড়ায়ে আশে পাশে।
বিপহ-হৃদি-মথন-করা পবন বহে’ যায়
শিহর-জাগা শীকর-ঝরা বর্ণের বীথিকায়।
নীপের শাখে হাওয়ায় ডাকে ঝুলন ঝুলে পড়ে।
পাগল সম বেণুর বনে হরিৎ পাতা নড়ে!
বেতসলতা আছাড়ি পড়ে জলের ধারেধার,
বনের সুরে মনের সুরে হ’লরে একাকার!

কেতকীবনে মাতাল হ’ল পাগল হাওয়া আজ,
রঙ্গন ফুলে রঙ্গীন হ’ল পুলক-ভরা লাজ।
হরষ যেন সরস হ’ল জম্বু বনে বনে,
সরম যেন শ্যামল হ’ল দুর্ব্বাতৃণাসনে।
রভস যেন গভীর হ’ল তমাল ডালে ডালে,
মিলন যেন রুচির হ’ল কৃষ্ণচূড়া-ভালে,
চপল হ’ল ঊর্ম্মিলীলা রেবার বারিধার,
বনের সুরে মনের সুরে হ’লরে একাকার!

.        ***************  
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রথম চুম্বন
কবি নিরুপমা দেবী
১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রেম পর্যায়ের কবিতা।

আমার যৌবন-কুঞ্জে ফুটাইয়া সহস্র গোলাপ,
আমার এ নীলাকাশ ভাসাইয়া মুখর হাসিতে,
আমার এ বসন্তেরে সাজাইয়া কুসুম রাশিতে,
আমার পিকের কণ্ঠে জাগাইয়া করুণ আলাপ,
জীবনের নবজাত কিশলয়ে করিয়া সবুজ,
দিবসে নিশীথে মোর মাখাইয়া শ্যাম স্নিগ্ধ ছায়া,
আমার এ কল্পলোকে কে এনেছে সুগভীর মায়া?
সংযত যৌবনে মোর কে করিল উদ্দাম অবুঝ?
কোন্ স্বর্ণ-মায়া-দণ্ড জীবনেরে করেছে মধুর?
রঙ্গীন করেছে মোর ম্লান, পাণ্ডু, বিরস ভূবন?
গানের তানের মত হৃদয়েরে করি পরিপূর
কে জাগাল যৌবনের আধজাগা গোলাপী স্বপন?
সন্ধ্যা শেষে ক্ষীণালোকে লাজভীত জীবন-বঁধুর
শঙ্কিত, কম্পিত, দীর্ঘ, স্নিগ্ধ, ঘন, প্রথম চুম্বন।

.        ***************  
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জীবনের মালিক
কবি নিরুপমা দেবী
১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রেম পর্যায়ের কবিতা।


কতবার সাধ যায় দেখাতে তোমারে,
সমস্ত জীবনখানি                               নয়ন সমুখে আনি’
গেঁথে বুনে তুলে ধরি মণিময় হারে।

এতটি জীবন মোর কেটেছে কেমনে
কেন তুমি দেখিলে না,                        কি হরষ কি বেদনা,
তাই ভাবি খেদ আসে আপনার মনে।

আজ মুখে বলি’ তাহা বুঝান কি যায়?
সে হরষে সুখ নাই,                          সে বেদনা হ’ল ছাই,
---বাসি ফুলরাশি দিয়ে মালা গাঁথা দায়।

সে যদি দেখিতে প্রিয় বুঝিতে কি ভুল?
বুঝিতে কি মোর মনে                   কোথা আছে সঙ্গোপনে
মণিময় একখানি হৃদয় অতুল?

চির দিবসের এই আঁখি-জলধার
তোমার ও আঁখিদ্বয়                        করিত কি অশ্রুময়,
আকুল করিত না কি হৃদয় তোমার?

বারেক বুঝিতে যদি অশান্ত পরাণ
চরম শান্তির আশে                      এসেছে তোমার পাশে,
স্নিগ্ধতায় হত নাকি আঁখিতারা ম্লান?

তুমি কি ভেবেছ প্রিয় এ জীবনে মোর
উলটি পালটি খুলি’                         নিমেষে নয়ন তুলি’
সবটুকু দেখে ল’বে, বুঝে ল’বে ওর?

এত তুচ্ছ নয় প্রাণ, এত খেলা নয়,
নহে আলসের ধন,                         বুঝিবারে এ জীবন
সমস্ত জীবন চাই, সমস্ত হৃদয়।

.        ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ছাড়াছাড়ি
কবি নিরুপমা দেবী
১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রেম পর্যায়ের কবিতা।


এতদিন যত কথা                বলিয়াছ কাণে কাণে,
যত হাসি গান,
আমার নিকটে থেকে              দেখাতে পারনি তব
সমস্ত পরাণ।
আজ দূরে গিয়ে তাই               তোমার পরশ পাই
সর্ব্ব দেহময়,
আমার হৃদয় মাঝে                অবাধে মিশিছে তব
সমস্ত হৃদয়।
যে আঁখি নীরব ছিল                  সকল হৃদয় ভ’রে
সেই কালো আঁখি
মৌন নীরবতা ভাঙ্গি’                   কুহু কুহু কুহু রবে
উঠে ডাকি ডাকি।
হৃদয়ের বনরাজি                      পল্লবে কুসুমে নব
পত্র পুষ্পময়,
তোমার বিরহে আজ               আমার সর্ব্বাঙ্গে হ’ল
বসন্ত উদয়।
কাছে থেকে পাইয়াছি              যতটুকু পাওয়া যায়
ধরাছোঁয়া মাঝে,
দূরে গিয়ে দাঁড়ায়েছ                   নিখিল ভুবনে তব
মূরতি বিরাজে।
দিবসের আলো তব                   নয়নের দিঠি দিয়ে
ধুয়ে দেয় মন,
রজনীর অন্ধকার                    বহে আনে দু’হাতের
মৃদু আলিঙ্গন।
দূরে যাহা পাই নাই                 কাছে তাহা পাইয়াছি,
কাছে যাহা দূরে,
তোমার বিরহ তাই                    ভরিল মনের তার
কোন্ সুরে সুরে!
নানাদিক্ হ’তে আজ              তোমারে যে পাইয়াছি
মোর গীতে গানে,
বিরহের দুখ মাঝে                  প্রেমের মাধুরী ধারা
উথলে পরাণে।

.        ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মিলন ও বিরহ
কবি নিরুপমা দেবী
১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রেম পর্যায়ের কবিতা।

তোমার মিলন মোরে করে মধুময়,
নয়নে বচনে দেয় মধু মধুরিমা,
জীবনে মাখায়ে দেয় জয়ের গরিমা,
পুলকে ভরিয়া রাখে সমস্ত হৃদয়।
তোমার মিলন-ঘন-আঙ্গন-ডোর
হৃদয়ে জড়ায়ে দেয় ফুলময় হার,
খুলে দেয় অনন্তের আনন্দ দুয়ার,
হাসির নির্ঝর ধারা ঝ’রে পড়ে মোর।

তোমার বিরহ করে সুধা-পরিপূর,
পাওয়া আর না পাওয়ার সব মধু দিয়া,
একেবারে পরিপূর্ণ করে মোর হিয়া
দিয়ে মৌন বেদনার নব নব সুর।
তোমার মিলন যেন দিবসের প্রাণ,
বিরহ সে গীতিময়ী রজনীর গান।

.        ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সন্ধ্যা
নিরুপমা দেবী
১৯৯১ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সম্পাদিত বাংলা কবিতা সমুচ্চয় ১ম খণ্ড, থেকে
কবিতাটি আমরা পেয়েছি। সংকলনের শেষে দেওয়া সংক্ষিপ্ত কবি-পরিচিতিতে
রয়েছে যে ইনি “ধূপ” ও “গোধূলি” কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা।


দিবসের শ্রান্ত আলো বিধবার হাসি সম ম্লান,
নীড়ে ফেরা বিহগের বন্ধ হল আনন্দের গান।
মুমূর্ষ আশা সম শেষ আলো পড়িয়াছে হেলি
সন্ধ্যাসতী নামে ধীরে অন্ধকারে অঞ্চলটি মেলি।
বিহগীর দীর্ঘশ্বাস কাঁপাইল স্থির তরু শির
.                বহিল সমীর।

নেবু ফুল গন্ধ আসে, সন্ধ্যার সে অলকের বাস।
কুমুদ উঠেছে ফুটি পূর্ণিমার ব্যগ্র নব আশ ;
কামিনীর ঝরা দলে পূর্ণ আজ শ্যাম তরু-বীথি,
জীবনের অবসানে এ যেন গো শৈশবের স্মৃতি।
গোলাপ উঠেছে ফুটি শিশুর সে প্রাণখোলা হাসি
.                সৌরকর রাশি।

পশ্চিমের লাল আলো---শিশু দেখে মার স্নেহ মুখ,
তারই তলে আছে যেন মায়েরই যতনভরা বুক,
আকাশের তারা দেখে মানবেরে সোদরের স্নেহে,
অশরীরী স্পর্শ যেন বুলাইয়া দেয় সর্ব দেহে!
কণা কণা স্নেহাশিস ঝরিতেছে সাঁঝের আলোকে
.                দিযুলোক ভূলোকে!

যে কেঁদেছে সারাদিন সন্ধ্যাদেবী মুছাবে সে আঁখি
তাহার লেগেছে ধূলা সে ধূলা আপনি লবে মাখি,
শান্তিহারা হৃদয়ের ঝিল্লীরবে বলিবেরে “ঘুমা”
শোক-পাণ্ডু অধরেতে দিবে আঁকি কি নিবিড় চুমা,
আশ্রয়হীনেরে লবে কোলে তুলি, দিবে দোল ধীরে
.                স্নেহাঞ্চল ঘিরে।

.                   ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দেশবন্ধু
কবি নিরুপমা দেবী
দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ সম্পাদিত “কল্লোল” পত্রিকার, শ্রাবণ ১৩৩২ বঙ্গাব্দ
সংখ্যায় (জুলাই ১৯২৫) প্রকাশিত কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি বৈশাখ ১৪২৩
বঙ্গাব্দে (এপ্রিল ২০১৬) মিত্র ও ঘোষ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, অরুণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত, “কল্লোল কবিতা সমগ্র” কাব্য সংকলন থেকে। দুই নিরুপমা দেবীই জাতীয়
কংগ্রেসে যোগদান করে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। দল ও দেশের নেতা
দেশবন্ধুর প্রয়াণে তাই তাঁরা দুজনেই কবিতা লিখে থাকতে পারেন।

.                        (গান)

গৌরীশঙ্কর শৃঙ্গে শৃঙ্গে ঈশান বিষাণ বাজে
ধবল অদ্রি কাঞ্চন-গিরি মলিন ধূসর সাজে।
.        ছড়ায়ে গগনে মহা জটাজাল
.        ত্রিশূল হস্তে দাঁড়াইয়া কাল
বঙ্গ-চিত্তরঞ্জন-মণি দীপিছে অঙ্কের মাঝে।
.        পদতলে পড়ি মূর্চ্ছিতা দীনা
.        জননী বঙ্গ শোক-মলিনা
বক্ষে নিহিত তীব্র বেদনা ললাটে অশনি গাজে।
.        চরণে সাগর ঘোষিছে উথলি
.        উঠ মা উঠ মা দেখ আঁখি মেলি
কালজয়ী আজি সন্তান তব দীপ্ত তপন সাজে।
.        মৃত্যুর মাঝে অমৃত হইয়া
.        রঞ্জন তব বলিছে হাসিয়া
“আছি আছি র’ব চিত্তে তোমার সকল কর্মে কাজে।”
.        জাগো জাগো আজি বঙ্গের প্রাণ
.        গেয়োনা গোয়োনা শুধু শোক-গান
বন্ধুরে তব বরণ করিয়া লহ বক্ষের মাঝে।
.        চল চল সবে চেয়ে তাঁরি পথে
.        দাও দাও প্রাণ সেই মহাব্রতে
নহিলে এ গান শুধু মিছা ভান মিলাইবে চিরলাজে।
.        ফুকারি বিষাণ হাঁকিছে ঈশান
.        তোদেরি জাগাতে এ মহা আহ্বান
“ওঠো জাগো, কেন এখনো শয়ান” সঘনে বজ্রে গাজে।

.                   ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সহজ
কবি নিরুপমা দেবী
দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ সম্পাদিত “কল্লোল” পত্রিকার, বৈশাখ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ
সংখ্যায় (এপ্রিল ১৯২৭) প্রকাশিত কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি বৈশাখ ১৪২৩
বঙ্গাব্দে (এপ্রিল ২০১৬) মিত্র ও ঘোষ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, অরুণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত, “কল্লোল কবিতা সমগ্র” কাব্য সংকলন থেকে।

.                        (গান)

ত্যাগের ব্যথা বাজ্ বে না আর প্রাণে যবে,
সেদিন আমার তোমায় পাওয়া সহজ হবে।
.        অধিকারের নিগঢ় খু’লে
.        হাল্কা সুখের দোলায় দু’লে
.        অশান্ত প্রাণ লুটবে ধূলায়
.        আপন-ভোলা তোমার ভবে,
সেদিন আমার তোমায় পাওয়া সহজ হবে।
.        চাওয়ার পালা সাঙ্গ ক’রে
.        রিক্তভারে বক্ষে ধ’রে
.        শঙ্করেরই ডঙ্কা তালে
.        শঙ্কটেরে বক্ষে লবে ;
সেদিন আমার তোমায় পাওয়া সহজ হবে।
.        দারুণতম পরম ক্ষতি
.        জ্বাল্ বে সেদিন চিতার জ্যোতি,
.        নির্বাণেরই আশায় হৃদয়
.        চরণতলে চেয়ে র’বে ;
সেদিন আমার তোমায় পাওয়া সহজ হবে।

.                   ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অনন্ত পারাবার
কবি নিরুপমা দেবী
দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ সম্পাদিত “কল্লোল” পত্রিকার, চৈত্র ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ
সংখ্যায় (মার্চ ১৯২৮) প্রকাশিত কবিতা। আমরা কবিতাটি পেয়েছি বৈশাখ
১৪২৩ বঙ্গাব্দে (এপ্রিল ২০১৬) মিত্র ও ঘোষ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, অরুণ মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত, “কল্লোল কবিতা সমগ্র” কাব্য সংকলন থেকে।


আমার মাঝারে অন্তর-পারে
.        আছে এক পারাবার,
অন্তবিহীন অনন্তে লীন
.        সীমা কোথা আছে তার!
তরঙ্গ তারো ভাঙ্গিতেছে কূলে কূলে
রজশিভ্র ফেণাময় ফুলে ফুলে,
আমার বুকের তটে তটে দুলে দুলে
.        কাঁপিছে বারম্বার।
গভীরে গোপনে আমার এ মনে
.        আছে এক পারাবার।

প্রহরে প্রহরে কত রং ধরে
.        কত নব রূপ ফলে,
কভু উচ্ছল চলচঞ্চল
.        যৌবন কোলাহলে.
কভু সে শান্ত কভু অশান্তময়
নীলে নীলে গায় গম্ভীর নীলিমাময়,
অরূপ স্বরুপে চির একাকার লয়
.        অসীমের কোলে কোলে ;
আমারও সাগরে প্রহরে প্রহরে প্রহরে
.        কত নব রং ফলে!

তারো তটভূমি বহিয়াছে চুমি
.        স্বেত বালুকার চর,
সারা দিন রাতি মনে মনে গড়ি
.        বালু দিয়ে খেলাঘর!
কত যে শুক্তি মুক্তা মানিক কত
তারা কূলে কূলে পড়ে আছে শত শত,
প্রবাল কুড়ায়ে ফিরি যে শিশুর মত
.        শুনি সেই মর্মর!
কত সারা বেলা মনে মনে খেলা
.        অসীম বালুর ’পর!

সে সাগরও হায় নিতে নাহি চায়
.        ছোট সুখ ছোট প্রাণ,
ঢেউ ঠেলে ঠেলে ছুঁড়ে দেয় ফেলে
.        ভেঙ্গে করে খান্ খান্।

অমৃত আছে তাহারো অতল ভরি’
তারি তলে আমি ডুবে ডুবে স্নান করি,
বেদনার বীণা কেঁদে গাহে মরি মরি
.        মন হারাবার গান,
নিজে যে অপার সে কি চাহে আর
.        ছোট সুখ ছোট প্রাণ!

.                   ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দেশবন্ধু-শ্রাদ্ধ দিবসীয় স্বস্তি সঙ্গীত
কবি নিরুপমা দেবী
বিজয়চন্দ্র মজুমদার ও দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত "বঙ্গবাণী" পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৩২
বঙ্গাব্দের সংখ্যায় (অগাস্ট ১৯২৫) প্রকাশিত, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের প্রয়াণে লেখা নিরুপমা
দেবীর কবিতা। তাই এই কবিতাটি “পরিচারিকা” পত্রিকার সম্পাদক নিরুপমা দেবীর লেখা
হতে পারে। দুই নিরুপমা দেবীই জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ
গ্রহণ করেছিলেন। দল ও দেশের নেতা দেশবন্ধুর প্রয়াণে তাই তাঁরা দুজনেই কবিতা লিখে
থাকতে পারেন।


দেশবন্ধু ভারতইন্দু বঙ্গগগন সূর্য্য হে
মৃত্যুঞ্জয় জয় তব জয় বাজিছে আজি তূর্য্য হে!
.        করিলে মাতার অযশ অন্ত
.        সুবাস বিলায়ে দিকদিগন্ত
বঙ্গ-নন্দন-চন্দনতরু-পূত পাদপ তূর্য্য হে!
.        দাঁড়ায়ে আজিকে বিরজার তীরে
.        তব রসো বলে রাখ দেশে ঘিরে
গোলোক হইতে বিতর আলোক হে অমর নরধীর্য্য হে॥

.                   ***************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর