| কবি নিরুপমা দেবী ২ এর কবিতা |
| জীবনের মালিক কবি নিরুপমা দেবী ১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রেম পর্যায়ের কবিতা। কতবার সাধ যায় দেখাতে তোমারে, সমস্ত জীবনখানি নয়ন সমুখে আনি’ গেঁথে বুনে তুলে ধরি মণিময় হারে। এতটি জীবন মোর কেটেছে কেমনে কেন তুমি দেখিলে না, কি হরষ কি বেদনা, তাই ভাবি খেদ আসে আপনার মনে। আজ মুখে বলি’ তাহা বুঝান কি যায়? সে হরষে সুখ নাই, সে বেদনা হ’ল ছাই, ---বাসি ফুলরাশি দিয়ে মালা গাঁথা দায়। সে যদি দেখিতে প্রিয় বুঝিতে কি ভুল? বুঝিতে কি মোর মনে কোথা আছে সঙ্গোপনে মণিময় একখানি হৃদয় অতুল? চির দিবসের এই আঁখি-জলধার তোমার ও আঁখিদ্বয় করিত কি অশ্রুময়, আকুল করিত না কি হৃদয় তোমার? বারেক বুঝিতে যদি অশান্ত পরাণ চরম শান্তির আশে এসেছে তোমার পাশে, স্নিগ্ধতায় হত নাকি আঁখিতারা ম্লান? তুমি কি ভেবেছ প্রিয় এ জীবনে মোর উলটি পালটি খুলি’ নিমেষে নয়ন তুলি’ সবটুকু দেখে ল’বে, বুঝে ল’বে ওর? এত তুচ্ছ নয় প্রাণ, এত খেলা নয়, নহে আলসের ধন, বুঝিবারে এ জীবন সমস্ত জীবন চাই, সমস্ত হৃদয়। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ছাড়াছাড়ি কবি নিরুপমা দেবী ১৯২৮ সালে প্রকাশিত কবির “ধূপ” কাব্যগ্রন্থের, প্রেম পর্যায়ের কবিতা। এতদিন যত কথা বলিয়াছ কাণে কাণে, যত হাসি গান, আমার নিকটে থেকে দেখাতে পারনি তব সমস্ত পরাণ। আজ দূরে গিয়ে তাই তোমার পরশ পাই সর্ব্ব দেহময়, আমার হৃদয় মাঝে অবাধে মিশিছে তব সমস্ত হৃদয়। যে আঁখি নীরব ছিল সকল হৃদয় ভ’রে সেই কালো আঁখি মৌন নীরবতা ভাঙ্গি’ কুহু কুহু কুহু রবে উঠে ডাকি ডাকি। হৃদয়ের বনরাজি পল্লবে কুসুমে নব পত্র পুষ্পময়, তোমার বিরহে আজ আমার সর্ব্বাঙ্গে হ’ল বসন্ত উদয়। কাছে থেকে পাইয়াছি যতটুকু পাওয়া যায় ধরাছোঁয়া মাঝে, দূরে গিয়ে দাঁড়ায়েছ নিখিল ভুবনে তব মূরতি বিরাজে। দিবসের আলো তব নয়নের দিঠি দিয়ে ধুয়ে দেয় মন, রজনীর অন্ধকার বহে আনে দু’হাতের মৃদু আলিঙ্গন। দূরে যাহা পাই নাই কাছে তাহা পাইয়াছি, কাছে যাহা দূরে, তোমার বিরহ তাই ভরিল মনের তার কোন্ সুরে সুরে! নানাদিক্ হ’তে আজ তোমারে যে পাইয়াছি মোর গীতে গানে, বিরহের দুখ মাঝে প্রেমের মাধুরী ধারা উথলে পরাণে। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |