কবি নিরুপমা দেবী ১ এর কবিতা
*
প্রাবৃট ও শরৎ
কবি নিরুপমা দেবী
ভারতী পত্রিকা, ভাদ্র ১৩১৮ সংখ্যা (অগাস্ট ১৯১১) থেকে নেওয়া। “দিদি” উপন্যাসের
রচয়িতা কবি নিরপমা দেবীর সেই সময়ে ২৮ বছর বয়স। তিনিই এই কবিতার রচয়িতা।
অপর নিরুপমা দেবীর তখন মাত্র ১৬ বছর বয়স।

নির্ব্বাপিত বহ্নিকুণ্ড, তাপ দগ্ধ কায়
ভরি উঠে বিটপীর শ্যামল শোভায়,
আধিক্ষীণা গিরিবালা যজ্ঞ ভস্ম শেষ
মাখি অঙ্গে,---ধায় খুঁজি সাগর উদ্দেশ!
সাঙ্গ হ’ল পঞ্চতপ, নিবৃত্ত গো, উমা!
মুঞ্চ মুক্ত মেখলায় অতপ-অরুণা!
সিদ্ধ মা সাধনা,---চাহ গগনের পানে,
শোন’ কার বরযাত্রা বার্ত্তা পশে কানে।
বাজে ওই গুরুগুরু ডমরুর ধ্বনি
লীলায়িত সিতিকণ্ঠে মুহু দীপ্ত ফণি!
ছায় ব্যোম জটা ঘটা অসিত পিঙ্গল,
ঝরে ঝর ঝর প্রেম মন্দাকিনী জল!
মত্ত ভূত দ্বন্দ্বে নাচে হাসে খল খল,
ভূত সঙ্গে ভূতপতি আনন্দে-বিহ্বল!

শিব সুপ্রসন্ন মেঘ,---রজত ভূধর
শুভ্র বরকান্তি হেরি মুগ্ধ চরাচর।
ভালে শিশুশশী, ওষ্ঠে সৌম্য শান্তহাস!
মধুর মঙ্গল রূপে দিক্ সুপ্রকাশ।
আবরি কাঞ্চন-কান্তি হরিদ অঞ্চলে
বধূবেশে নবনেত্রা, কোকনদ দলে
রাখি রক্ত পা-দুখানি, শিশিরাশ্রু দুটি
শেফালিকাসহ ঝরে লাজমানে ছুটি!
স্তব্ধকাল,---ছত্রসম ধরি নীলাম্বর,
নারিকেল শীর্ষ নাড়ি ঢুলায় চামর
নন্দী-বায়ু কভু রসে দুলাইছে কাশে
শিশুসম, হেরি মৌন মৃদুমন্দ হাসে
বধুর অধরে ফুটে ভূচম্পক দল!
গাহে বিশ্ব শিব-শিবা মিলন মঙ্গল!

.        ***************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ
কবি নিরুপমা দেবী
ভারতী পত্রিকা, জৈষ্ঠ ১৩১৮ সংখ্যা (মে ১৯১১) থেকে নেওয়া। “দিদি” উপন্যাসের রচয়িতা
কবি নিরপমা দেবীর সেই সময়ে ২৮ বছর বয়স। তিনিই এই কবিতার রচয়িতা। অপর
নিরুপমা দেবীর তখন মাত্র ১৬ বছর বয়স।

.                ১

জ্বলিছে পিঙ্গল জটা পূর্ব্বাকাশ শিরে
তেজঃপুঞ্জ মহাযোগী বসি যোগাসনে!
ধ্যানান্তে বিশাল নেত্র উন্মিলেন ধীরে,
সভয়ে দ্যুলোকবাসী নতশিরে নমে!
সম্মুখে সুস্নাতা---করে অক্ষ বীজ মালা,
ভূষিতা আরক্ত পদ্ম চম্পকের দলে,
পরিচর্য্যা তরে নমা ক্ষৌমবস্ত্রা বালা,
করবী মেখলা মুহু স্রস্ত পদতলে!
যোগীর সে ব্রহ্ম জ্যোতি হেরিয়া নয়নে
সহসা স্পন্দন এল নিমেষের ভরে,
বালার সুলজ্জ নম রঞ্জিত বদনে,
মুগ্ধ দৃষ্টি স্তব্ধ স্থির ক্ষণেকের তরে!
জাগিল ললাট বহ্নি ঈশৎ কম্পনে
নিশ্চল অনঙ্গ দূরে তুলি শরাসনে!

.                ২
হে রুদ্র হে ভয়ঙ্কর সংহর সংহর
প্রচণ্ড ললাট বহ্নি মহা বিশ্বনাশী,
লেলিহ উত্তপ্ত শ্বাস সম্বর সম্বর
নিমেষে অনঙ্গ ওই হ’ল ভস্মরাশি!
আর্ত্ত রতি বিলাপেতে বিশ্ব ভরি ওঠে,
দিক্ হ’তে দিগন্তরে জাগিছে ক্রন্দন,
মূর্চ্ছিতা প্রকৃতি রুদ্রপদতলে লোটে,
স্তম্ভিত বিশ্বের বক্ষে নীরব স্পন্দন!
দিগন্ত বিস্তৃত বক্র ভীম জটা ভার,
ভালে দীপ্ত অগ্নি সূর্য্য করাল পিনাকী,
ব্যাপী শূন্য উড়ে ধূম---“মার” দগ্ধ ক্ষার,
বর্ষিছে অনল শিখা আরক্ত ত্রি আঁখি!
আর্ত্তনাদে অন্তরীক্ষ “বিরম বিরম”,
হে কাল করাল বেশী! --- নমো নমো নমঃ।

.              ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শিবরাত্রি
কবি নিরুপমা দেবী
ভারতী পত্রিকা, চৈত্র ১৩১৮ সংখ্যা (মার্চ ১৯১২) থেকে নেওয়া। “দিদি”
উপন্যাসের রচয়িতা কবি নিরপমা দেবীর সেই সময়ে ২৯ বছর বয়স। তিনিই এই
কবিতার রচয়িতা। অপর নিরুপমা দেবীর তখন মাত্র ১৭ বছর বয়স।

জীবন অরণ্যে মন লুব্ধকের বেশে
ছিল মত্ত মৃগয়ায়, এবং লব্ধ ভার
স্কন্ধে সুদুর্বহ সম, দুঃখ নিশা এসে
তৃষ্ণা রক্ত যুগ্ম চক্ষে ঢালে অন্ধকার।
আশ্রয় সংসার তরু আঁকড়ি দুহাতে
ধরি আছে ভীত মনা, আর্ত্ত বিকম্পিত,
ব্যথিত নয়ন হ’তে শুষ্ক পত্র সাথে
মুহু মোহ অশ্রু ধারা হয় বিগলিত।
সে কণ্টকী বৃক্ষতলে ওগো মহেশ্বর!---
তুমি যে জাগিয়া আছ জানে না অজ্ঞান!
সে শুষ্ক পল্লব দল সে অশ্রু নির্ঝর
তোমার পূজার আজ শ্রেষ্ঠ উপাদান!
শুভা এই রাত যাহে শোক মোহ তার
পূজ রূপে পরশেছে চরণ তোমার!

.           ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হোরী খেলা
কবি নিরুপমা দেবী
২/১ সাউথ রোড্, এলাহাবাদ থেকে শ্রী অনাথনাথ ঘোষ দ্বারা প্রকাশিত, প্রবাসী পত্রিকা,
চৈত্র ১৩১৪ বঙ্গাব্দ (১৯১০)। ইনি ঔপন্যাসিক নিরুপমা দেবী। অপর নিরুপমা দেবী এই
কবিতা প্রকাশের সময় মাত্র ১৫ বছর বয়স ছিল।

ভাল লুকাইয়া বসি, হে লীলাচতুর,
খেল আজ হোরী খেলা! শ্যামা দিগ্বধুর
সুনীল অঞ্চল খানি ফাগে লালে লাল।
রক্ত কিশলয় শোভী শৃঙ্গক বিশাল
উন্নত, সে উত্স মুখে হ’তেছে বর্ষিত
ফল্গু চ্যুতাঙ্কুর চূর্ণ, করিয়া ব্যথিত
ধরণীর পাণ্ডু গণ্ড। আচ্ছন্ন আবিরে
অশোক কিংশুক তরু। মদমত্ত ফিরে
চঞ্চল দক্ষিণা বায়ু “হোরী হ্যায়” রবে,
উড়ায়ে বাসন্তী বাস। শ্রান্ত অলি সবে
গুঞ্জরে সখেদে কারে খুঁজি বৃথা বনে।
হেরে শুধু ফল্গু চিহ্ন ; দিগঙ্গণা গণে
“চোখ্ গেল” “চোখ্ গেল” করি “উহু” “উহু”
কুঙ্কুম আঘাতে কার কাঁদে মুহু মুহু।

.           ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আষাঢ়ে
কবি নিরুপমা দেবী
ভারতী পত্রিকা, আষাঢ় ১৩১৮ সংখ্যা (জুন ১৯১১) থেকে পাওয়া।

নবীন ধূমল মেঘে মেদুর অম্বর।
গিরি কটিদেশ বেড়ি গর্জ্জি গুরু গুরু
নিয়ে তপোবনশির ছায় ঘনতর
আশ্রম পালিত মৃগ কাঁপে দুরু দুরু।
যজ্ঞ সাধে ত্রস্তে ঋষি পশিছে কুটীরে
হোমধূম মিশে যায় নীরদের গায়
চঞ্চল বলাকা মালা শোভে অদ্রি শিরে,
হোমধেনু সচকিতে আস্রমেতে ধায়।
রুক্ষ্ম কেশ সনে উড়ে বল্কল অঞ্চল
প্রত্যসন্ন মেঘগাত্রে রাখি নেত্র দুটি
অঙ্কেতে আশ্রিত মৃগ শাবক চঞ্চল
রুদ্রাক্ষ বলয় পড়ে শ্লথ হয়ে টুটি
মণিবন্ধ হ’তে, তপঃক্ষীণ তনুলতা
শুনে মেঘমন্দ্রে আজি আশায় বারতা।

.           ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমার কবিতা
কবি নিরুপমা দেবী
১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র  
চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৩৯-পৃষ্ঠা।

শত জনমের মোর সাধনার ধন,
পূণ্যের অটুট ফল জন্ম-জন্মান্তের,
হে মোর সর্ব্বস্ব! অয়ি মহার্ঘ রতন
আঁধার খনির! মোর চির-জনমের
সর্ব্বোত্তম সফলতা! বল কি বলিয়ে
তোমারে সম্বোধি? যত চাই বলিবারে,
নিব্বাক্ রসনা তত ভাষা দীন হয়ে
জড়ত্ব লভিছে যেন সঙ্কোচে কাতরে!
জ্ঞানীর পরম পদ! ভকতের প্রেম!
প্রণয়ীর হৃদয়ের ইপ্সিতা প্রেয়সী!
গৃহীর গৃহিণী নারী! কৃপণের হেম!
অয়ি মোর জীবনের সবার প্রয়সী!---
তুমি কি আমার! আমি প্রকাশিতে চাই
মোর বাতুলতা, হেরি হাসিছ কি তাই?

.           ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সাগ্নিকের পূজা
কবি নিরুপমা দেবী
১৯১৯ সালে নিরুপমা দেবীর লেখা “শ্যামলী” উপন্যাসের উত্সর্গ-কবিতা।

বক্ষের আঁধার গর্ভগৃহে অনির্ব্বাণ যে আলোক---
দগ্ধ করি অন্তরের যত কামনা কালিমা মোহ শোক,
চারিদিকে জটিল তিমির, অন্ধ বর্ত্তমান ভবিষ্যৎ,
অচপল সেই স্নিগ্ধ জ্যোতি দেখাইয়া দেয় লক্ষ্যপথ।

ওগো মোর দীপ্ত প্রাণশিখা, কবে জ্বলেছিলে সে গুহায়
নিভেও গিয়েছে কবে, তবু তোমারি পরশ-জ্যোতি ভায়
সাগ্নিকের অগ্নিসম সেথা, চলে হোম রাত্রি-দিনদান,
তাহারি আহুতি এই গীতি, এই অর্ঘ্য, এই সামগান॥

.           ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
উচ্ছৃঙ্খল
কবি নিরুপমা দেবী
১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৩৯-পৃষ্ঠা।

অতৃপ্ত উদ্দাম সেই উচ্ছূঙ্খল প্রাণ,
ধরিবারে চায় পাপিয়ার গান।
মেটে না পিপাসা, তারে শুধু ভালবাসি।
উন্মাদ বিকল হেরি তড়িতের হাসি!
বিফল ব্যসন বুকে আঘাতিয়া যায়,
তারকারে করে কভু ছুঁইবারে ধায়।
অতৃপ্ত হৃদয় শুধু প্রতিঘাতে চূর,
নিষ্ফল বাসনা, তারা তবু তত দূর!
কায়ার ছায়ারে চাহি কেঁদে গেল দিন,
ক্লান্ত শ্রান্ত হৃদি তার ক্রমে হ’ল ক্ষীণ,
অশ্রান্ত সপ্রেম চোখে চাহি দিন রাত,
হায় দেবী! বেড়াইলে মিছে সাথে সাথ।
তোমারে চেয়েছে, তুমি চিরসাথী ছিলে,
তোমারেই চেনে নাই কোন্ মহাভুলে।

.           ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ক্ষণসঙ্গী
কবি নিরুপমা দেবী
১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৫১-পৃষ্ঠা।


আগমনী কাছে নিয়ে আসে              বিজয়ার শোক-অস্রু-জল
জীবন, সে পূর্ণতার শেষে                পরিণত মরণে কেবল!
চির-বিদায়ের দেশ এ যে                কানে কানে সেই কথা কয়!

ক্ষণেকের পরিচিতি! তবু                 দুটো কথা শোধোবার আছে,
এ দুদিন শত স্মৃতিতলে                  নিতান্ত কি পড়ে রবে পাছে?
ধরণীর রঙ্গভূমির মাঝে                   এতো দুদিনেরই অভিনয়
হেথা, কেবা চির-সাথী কার               কার সনে চির-পরিচয়?
তবু এই জীবনের পথে                    সেই ক্ষণ-পরিচিত মুখে?
*        *        *        *        *        *        *        *        *
পরিচিত স্বজনের মাঝে                   মনে ক’রো দুদিনের সাথী,
মনে রেখো,---যদি মনে পড়ে              ম্লান হয় অধরের ভাতি!
হাসির উচ্ছ্বাস-মাঝে যদি                  মনে পড়ে চোখে আসে জল---
তবু মনে রেখো,---যদি স্মৃতি              হয়ে আসে নিতান্ত দুর্ব্বল!
এ ক’টি কালের রেখাপরে                 রেখো আঁখি অবসর ক্ষণে
বিস্মৃত সে দুদিনের সাথী,                 তবুও কি হবে না স্মরণে?

.                          ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
একটি শৈলের বুকে কয়টি নিঝর
কবি নিরুপমা দেবী
১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৫৫-পৃষ্ঠা।

একটি শৈলের বুকে কয়টি নিঝর
.                মিশে একটিরই মত রয়।
ক্ষীণ ক’টি পরাণেতে একটি পরাণ
.                গঠনের সম্পূর্ণতা লয়।
কঠিন উপল দেয় করি ভিন্নপথ
.                ভিন্ন পথে ধায় ছিন্ন ধারা
তখন বুঝিতে পারে, এক দেহ, তবু
.                তাহে ছিল ক’টি প্রাণ তারা!
আজি এই জীবনের প্রথম উষায়
.                ভিন্ন মোরা এখনই বুঝিনু,
তাই ওরে আকুল বেদনা ভরা প্রাণে
.                তুই গেলি আমিও চলিনু!
জানি না এ জীবনেতে খেলিবে কি কভু
.                মধুময়ী পূর্ণিমার রাতি?
হয় ত জাগিবে ঝঞ্ঝা-মেঘ বজ্র সাথে
.                আসিবে সঘন অমারাতি!
কভু কেঁদে কভু হেসে মহা অন্ধোচ্ছ্বাসে
.                দুকূল প্লাবিত করি ধেয়ে,
কভু বা মরিয়া, এসে নিদাঘ দিবসে
.                আপনাতে আপনি মিলায়ে,
চলিব কি অন্তকাল ধরি অবিরাম?
.                এ গতির হবে নাকি শেষ?
কিবা কোন মহামরুমাঝে গিয়ে মিশে
.                এ বারির নাহি রবে লেশ!
*        *        *        *        *        *
তবু মনে রবে এই নিস্তব্ধ নিঝুম
.                শৈল গৃহ স্নেহ বুক পাতি,
তবু মনে রবে এই খণ্ড প্রাণ ক’টি,
.                এই চির শৈশবের সাথী!
একটি ঊষার শৈল স্নেহ যে মোদের
.                প্রাণরূপে দেহ মাঝে ঘূরে,
প্রাণে থেকে দেহে নাই হৃদয়ের সাথী,
.                কাছে থেকে তবু রব দূরে!
প্রভাতে নিঝর এক গেছে ভিন্ন পথে
.                কোন্ নদী কোনে দেশে বয়,
সাগরে মিশাবে কিবা কে কোথা শুকাবে
.                আর কি তাদের দেখা হয়!

.                          ***************  
.                                                                           
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর