প্রাবৃট ও শরৎ কবি নিরুপমা দেবী ভারতী পত্রিকা, ভাদ্র ১৩১৮ সংখ্যা (অগাস্ট ১৯১১) থেকে নেওয়া। “দিদি” উপন্যাসের রচয়িতা কবি নিরপমা দেবীর সেই সময়ে ২৮ বছর বয়স। তিনিই এই কবিতার রচয়িতা। অপর নিরুপমা দেবীর তখন মাত্র ১৬ বছর বয়স।
বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ কবি নিরুপমা দেবী ভারতী পত্রিকা, জৈষ্ঠ ১৩১৮ সংখ্যা (মে ১৯১১) থেকে নেওয়া। “দিদি” উপন্যাসের রচয়িতা কবি নিরপমা দেবীর সেই সময়ে ২৮ বছর বয়স। তিনিই এই কবিতার রচয়িতা। অপর নিরুপমা দেবীর তখন মাত্র ১৬ বছর বয়স।
শিবরাত্রি কবি নিরুপমা দেবী ভারতী পত্রিকা, চৈত্র ১৩১৮ সংখ্যা (মার্চ ১৯১২) থেকে নেওয়া। “দিদি” উপন্যাসের রচয়িতা কবি নিরপমা দেবীর সেই সময়ে ২৯ বছর বয়স। তিনিই এই কবিতার রচয়িতা। অপর নিরুপমা দেবীর তখন মাত্র ১৭ বছর বয়স।
জীবন অরণ্যে মন লুব্ধকের বেশে ছিল মত্ত মৃগয়ায়, এবং লব্ধ ভার স্কন্ধে সুদুর্বহ সম, দুঃখ নিশা এসে তৃষ্ণা রক্ত যুগ্ম চক্ষে ঢালে অন্ধকার। আশ্রয় সংসার তরু আঁকড়ি দুহাতে ধরি আছে ভীত মনা, আর্ত্ত বিকম্পিত, ব্যথিত নয়ন হ’তে শুষ্ক পত্র সাথে মুহু মোহ অশ্রু ধারা হয় বিগলিত। সে কণ্টকী বৃক্ষতলে ওগো মহেশ্বর!--- তুমি যে জাগিয়া আছ জানে না অজ্ঞান! সে শুষ্ক পল্লব দল সে অশ্রু নির্ঝর তোমার পূজার আজ শ্রেষ্ঠ উপাদান! শুভা এই রাত যাহে শোক মোহ তার পূজ রূপে পরশেছে চরণ তোমার!
হোরী খেলা কবি নিরুপমা দেবী ২/১ সাউথ রোড্, এলাহাবাদ থেকে শ্রী অনাথনাথ ঘোষ দ্বারা প্রকাশিত, প্রবাসী পত্রিকা, চৈত্র ১৩১৪ বঙ্গাব্দ (১৯১০)। ইনি ঔপন্যাসিক নিরুপমা দেবী। অপর নিরুপমা দেবী এই কবিতা প্রকাশের সময় মাত্র ১৫ বছর বয়স ছিল।
আমার কবিতা কবি নিরুপমা দেবী ১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৩৯-পৃষ্ঠা।
উচ্ছৃঙ্খল কবি নিরুপমা দেবী ১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৩৯-পৃষ্ঠা।
অতৃপ্ত উদ্দাম সেই উচ্ছূঙ্খল প্রাণ, ধরিবারে চায় পাপিয়ার গান। মেটে না পিপাসা, তারে শুধু ভালবাসি। উন্মাদ বিকল হেরি তড়িতের হাসি! বিফল ব্যসন বুকে আঘাতিয়া যায়, তারকারে করে কভু ছুঁইবারে ধায়। অতৃপ্ত হৃদয় শুধু প্রতিঘাতে চূর, নিষ্ফল বাসনা, তারা তবু তত দূর! কায়ার ছায়ারে চাহি কেঁদে গেল দিন, ক্লান্ত শ্রান্ত হৃদি তার ক্রমে হ’ল ক্ষীণ, অশ্রান্ত সপ্রেম চোখে চাহি দিন রাত, হায় দেবী! বেড়াইলে মিছে সাথে সাথ। তোমারে চেয়েছে, তুমি চিরসাথী ছিলে, তোমারেই চেনে নাই কোন্ মহাভুলে।
ক্ষণসঙ্গী কবি নিরুপমা দেবী ১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৫১-পৃষ্ঠা।
আগমনী কাছে নিয়ে আসে বিজয়ার শোক-অস্রু-জল জীবন, সে পূর্ণতার শেষে পরিণত মরণে কেবল! চির-বিদায়ের দেশ এ যে কানে কানে সেই কথা কয়!
ক্ষণেকের পরিচিতি! তবু দুটো কথা শোধোবার আছে, এ দুদিন শত স্মৃতিতলে নিতান্ত কি পড়ে রবে পাছে? ধরণীর রঙ্গভূমির মাঝে এতো দুদিনেরই অভিনয় হেথা, কেবা চির-সাথী কার কার সনে চির-পরিচয়? তবু এই জীবনের পথে সেই ক্ষণ-পরিচিত মুখে? * * * * * * * * * পরিচিত স্বজনের মাঝে মনে ক’রো দুদিনের সাথী, মনে রেখো,---যদি মনে পড়ে ম্লান হয় অধরের ভাতি! হাসির উচ্ছ্বাস-মাঝে যদি মনে পড়ে চোখে আসে জল--- তবু মনে রেখো,---যদি স্মৃতি হয়ে আসে নিতান্ত দুর্ব্বল! এ ক’টি কালের রেখাপরে রেখো আঁখি অবসর ক্ষণে বিস্মৃত সে দুদিনের সাথী, তবুও কি হবে না স্মরণে?
একটি শৈলের বুকে কয়টি নিঝর কবি নিরুপমা দেবী ১৮৯৭ সালের এর কিছু পরে, নিরুপমা দেবীর বিধবা হওয়ার পরে, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় লেখা “উচ্ছৃঙ্খল” গল্পের চরিত্র “প্রমোদ”-এর কবিতা, ৫৫-পৃষ্ঠা।
একটি শৈলের বুকে কয়টি নিঝর . মিশে একটিরই মত রয়। ক্ষীণ ক’টি পরাণেতে একটি পরাণ . গঠনের সম্পূর্ণতা লয়। কঠিন উপল দেয় করি ভিন্নপথ . ভিন্ন পথে ধায় ছিন্ন ধারা তখন বুঝিতে পারে, এক দেহ, তবু . তাহে ছিল ক’টি প্রাণ তারা! আজি এই জীবনের প্রথম উষায় . ভিন্ন মোরা এখনই বুঝিনু, তাই ওরে আকুল বেদনা ভরা প্রাণে . তুই গেলি আমিও চলিনু! জানি না এ জীবনেতে খেলিবে কি কভু . মধুময়ী পূর্ণিমার রাতি? হয় ত জাগিবে ঝঞ্ঝা-মেঘ বজ্র সাথে . আসিবে সঘন অমারাতি! কভু কেঁদে কভু হেসে মহা অন্ধোচ্ছ্বাসে . দুকূল প্লাবিত করি ধেয়ে, কভু বা মরিয়া, এসে নিদাঘ দিবসে . আপনাতে আপনি মিলায়ে, চলিব কি অন্তকাল ধরি অবিরাম? . এ গতির হবে নাকি শেষ? কিবা কোন মহামরুমাঝে গিয়ে মিশে . এ বারির নাহি রবে লেশ! * * * * * * তবু মনে রবে এই নিস্তব্ধ নিঝুম . শৈল গৃহ স্নেহ বুক পাতি, তবু মনে রবে এই খণ্ড প্রাণ ক’টি, . এই চির শৈশবের সাথী! একটি ঊষার শৈল স্নেহ যে মোদের . প্রাণরূপে দেহ মাঝে ঘূরে, প্রাণে থেকে দেহে নাই হৃদয়ের সাথী, . কাছে থেকে তবু রব দূরে! প্রভাতে নিঝর এক গেছে ভিন্ন পথে . কোন্ নদী কোনে দেশে বয়, সাগরে মিশাবে কিবা কে কোথা শুকাবে . আর কি তাদের দেখা হয়!