আমাদের ওয়েবসাইট মিলনসাগরে কবি নিরুপমা দেবীর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে।


কবি নিরুপমা দেবী ১ এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .
কবি নিরুপমা দেবী ২ এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .


উত্স :   
  • যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, "বঙ্গের মহিলা কবি", ১৯৩০
  • রাধারাণী দেবীনরেন্দ্র দেব সম্পাদিত "কাব্য দীপালি", ১৯২৭
  • ডঃ শিশিরকুমার দাশ, "সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী", ২০০৩
  • সুদেষ্ণা বসু, "যে জন রয়ে গেছেন অন্তরালে", আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৩.২.২০১৯।
  • ১৯৫৯ সালে সৌরেন্দ্রনাথ মিত্র দ্বারা প্রকাশিত, "শরত-তর্পণ" গ্রন্থ।
  • সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান", ২০১০।
  • নিরুপমা দেবী, “উচ্ছৃঙ্খল” গল্প, ১৮৯৭-৯৮।
  • নিরুপমা দেবী, “দিদি” উপন্যাস, ১৯১৫।
  • নিরুপমা দেবী, “শ্যামলী” উপন্যাস, ১৯১৯।
  • নিরুপমা দেবী, “যুগান্তরের কথা” উপন্যাস, ১৯৪০।
  • নমিতা চৌধুরীঅনিন্দিতা বসু সান্যাল সম্পাদিত, "দামিনী" কাব্য সংকলন, ২০১৩।   



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     




এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৮.১১.২০১৯।



...
কবি নিরুপমা দেবী এর পাতায় যেতে . . .
কবি নিরুপমা দেবী ও শরত্চন্দ্র   
কবি নিরুপমা দেবী নারীশিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ   
কবি নিরুপমা দেবীর স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান   
কবি নিরুপমা দেবীর রচনা সম্ভার   
কবি নিরুপমা দেবীর উপন্যাসের চলচিত্রায়ণ   
কবি নিরুপমা দেবীর কবিতা ও দ্বিতীয় কবি নিরুপমা দেবী   
নিরূপমা দেবীর প্রাপ্ত সম্মাননা   
কুন্তলীন পুরস্কার নিয়ে দুটি কথা    
কবি নিরুপমা দেবী ১ - জন্ম গ্রহণ
করেন মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে। পিতা
নফরচন্দ্র ভট্ট ও মাতা যোগমায়া দেবী।
পিতা ছিলেন গোঁড়া রক্ষণশীল হিন্দু ওবং বিদ্যাসগরের বিধবা বিবাহের ঘোর বিরোধী। নিজে অবশ্য
তিনবার বিবাহ করেছিলেন। প্রথমা স্ত্রী ছিলেন নিঃসন্তান। দ্বিতীয়া স্ত্রীর তিন ছেলে শশীভূষণ, ইন্দুভূষণ ও
বিনোদভূষণ। তৃতীয়া স্ত্রী যোগমায়া দেবী ছিলেন তাঁর ছয় সন্তানের জননী। তাঁরা ছিলেন বিভূতিভূষণ,
নিরুপমা, সুরেশ্বরী, পঞ্চানন, ক্ষণপ্রভা ও রাণী।

মাত্র দশ বছর বয়সে তাঁর বিবাহ হয় নদীয়া জেলার সাহাবাড়ীর নবগোপাল ভট্টর সঙ্গে। মাত্র চার বছর
পরে, ১৮৯৭ সালে, কবির ১৪ বছর বয়সে, যক্ষারোগে স্বামীর মৃত্যুর ফলে তিনি বিধবা হন এবং ফিরে যান
ভাগলপুরে তাঁর পিতৃগৃহে। পিতা নফরচন্দ্র তখন কর্মসূত্রে ভাগলপুরে থাকতেন। তিনি ছিলেন ভাগলপুরের-
সাবজজ।

বৈধব্যের পরে নিরুপমা দেবী নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। কারও সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
কবির বাল্যসখা, কবি ও সাহিত্যিক
অনুরূপা দেবীর এক পত্র পেয়ে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে
আসেন এবং কবিতা লেখা শুরু করেন। সেই পত্রে কবিকে
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের একটি কবিতাও লিখে
পাঠিয়েছিলেন।
অনুরূপা দেবী ছিলেন কবি নিরুপমা দেবীর গঙ্গাজল সই। ভাগলপুরে থাকার সূত্রে দাদা
বিভূতিভূষণ ভট্ট ও তাঁর বন্ধু সাহিত্যিক
শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্সাহ ও অনুপ্রেরণায় গল্প ও উপন্যাস
লেখা শুরু করেন। বিভূতিভূষণ ও
শরত্চন্দ্রের পরিচালিত হাতে-লেখা পত্রিকা “ছায়া”-তেই, কবিতা প্রকাশের
মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যজীবনের হাতেখড়ি হয়।

ভাগলপুরে থাকতেই তিনি বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন। জীবনের শেষ দশ বছর তিনি বৃন্দাবনে অন্যান্য
হতভাগ্য বিধবাদের মধ্যে কাটিয়েছেন। আজীবন মা যোগমায়া দেবীর সেবা সুশ্রুযা করেছেন। মায়ের মৃত্যু
হয় ১৯৪৯ সালে। কিন্তু কবিকে শেষ সময় দেখার কেউ ছিল না। দুবছর পরে ১৯৫১ সালের ৭ই জানুয়ারী
তারিখে, কবি নীরুপমা দেবীও পরলোক গমন করেন।
কবি নিরুপমা দেবী ও শরত্চন্দ্র -                                                       পাতার উপরে . . .  
ভাগলপুরে যেদিন কবির স্বামী নবগোপাল ভট্টর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হয়েছিল সেই দিনই তাঁর দাদা বিভূতিভূষণ
ভট্টের বন্ধু শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কবির প্রথম দেখা হয়।
শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে সাহিত্যের
মধ্যে, বিশেষত গদ্য সাহিত্যে, আত্ম-নিয়োজিত করতে অনুপ্রেরণা দেন।
শরত্চন্দ্রের উত্সাহদানে তিনি  
“উচ্ছৃঙ্খল” গল্পটি রচনার মধ্য দিয়ে গদ্য সাহিত্যে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত তিনি তাঁর  গঙ্গাজল সই
অনুরূপা দেবীর অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখে চলেছিলেন। ভাগলপুরে কবির দাদা বিভূতিভূষণ ভট্টর
সঙ্গে মিলে
শরত্চন্দ্র, হাতে-লেখা “ছায়া” পত্রিকাটি প্রকাশ করতেন। “ছায়া” পত্রিকাতে শরত্চন্দ্র St. C. Lara
ছদ্মনামে লিখতেন
@St=শরৎ, C=চট্টোপাধ্যায় ও Lara=ন্যাড়া, তাঁর ডাক নাম! এই পত্রিকাটির কোনও
সংখ্যাই আমরা যোগাড় করে উঠতে পারি নি।

কবির লেখাকে
শরত্চন্দ্র প্রশংসা করতেন, একটি সোনার কলম উপহারও দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন
পত্রিকার সম্পাদকদের অনুরোধ করতেন নিরুপমা দেবীর লেখা ছাপানোর জন্য। বর্মায় থাকাকালীন তিনি
কবির লেখার আশায় উন্মুখ হয়ে থাকতেন। কিন্তু তত্কালীন বাংলা সাহিত্য জগতে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ঝড়
উঠেছিল। রটেছিল কুত্সা।
নবনীতা দেবসেনের মা রাধারাণী দেবী জানিয়েছেন যে, শেষে নীরুপমা দেবী বাধ্য
হয়ে শরত্চন্দ্রকে চিঠিতে লেখেন, “আর এখানে আসিবেন না। আমাকে এভাবে নষ্ট করিবেন না।” পরবর্তিতে
দুজনের লেখাতেই এই ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে।

@ - উত্স - ১৯৫৯ সালে সৌরেন্দ্রনাথ মিত্র দ্বারা প্রকাশিত, শরত-তর্পণ গ্রন্থের ২৫৩-পৃষ্ঠা।
.
কবি নিরুপমা দেবী নারীশিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ -                                  পাতার উপরে . . .  
১৯০৭ সালে পিতা নফরচন্দ্রের মৃত্যুর পরে ২৪ বছর বয়সে, কবি ভাগলপুর থেকে চলে আসেন তাঁদের   
বহরমপুরের বাড়ীতে। সেখানে তিনি যথেষ্ট দাপটের সঙ্গে থেকেছেন। বাড়ীর পিছনের নারকেল, কাঠালাদি
ফলের বাগান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডেকে এছেন সেখানকার শিয়ালা ডাকাতকে! নারীশিক্ষার জন্য বাড়ী বাড়ী
চাঁদা তুলে প্রতিষ্ঠা করেছেন কাশীশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়, বন্ধু সুষমা সিংহের সঙ্গে। দাদা বিভূতিভূষণ ভট্টের
এক ছেলে বিষ্ণুযশাকে দত্তক নিয়েছিলেন। কিন্তু সে শৈশবেই মারা যায়। এই দুর্ঘটনাই তাঁর "পরের ছেলে"  
উপন্যাসের আকর বলে মনে করা হয়।
.
কবি নিরুপমা দেবীর স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান -                            পাতার উপরে . . .  
১৯২৭ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে তাঁর কোনও লেখা প্রকাশিত হয়নি। এই দীর্ঘ সময় তিনি ব্যস্ত ছিলেন  
স্বাধীনতা আন্দোলন ও সমাজের উন্নয়নের কাজকর্মে। তিনি মহিলা কংগ্রেসে যোগ দিতে কলকাতায় গিয়ে  
বিধবা বিবাহের প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলনে পতাকা কাঁধে মিছিলের নেতৃত্ব
দিয়েছেন। সে কালের বিপ্লবীদের পুলেশের হাত থেকে বাঁচাতে নিজের বাড়ীতে লুকিয়ে রেখেছেন।
.
কবি নিরুপমা দেবীর রচনা সম্ভার -                                                   পাতার উপরে . . .  
তাঁর রচনা সম্ভারে রয়েছে গল্প “প্রত্যাখান” (১৯০৪) যা তাঁকে কুন্তলীন পুরস্কার এনে দিয়েছিল, অনুপমা দেবী
ছদ্মনামে। রয়েছে “উচ্ছৃঙ্খল” (১৮৯৭ এর কিছু পরে লেখা)।  উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে “অন্নপূর্ণার মন্দির”  
(১৯১৩), “দিদি” (১৯১৫), “আলেয়া” (১৯১৭), “বিধিলিপি” (১৯১৯), “শ্যামলী” (১৯১৯), “বন্ধু” (১৯২১), “আমার  
ডায়েরী” (১৯২৭),  “যুগান্তরের কথা” (১৯৪০),  “অনুকর্ষ” (১৯৪১),  “পরের ছেলে” (১৯৫৪),  “দেবত্র” (১৯৫৫)
প্রভৃতি। নিরুপমা দেবী তাঁর দাদা বিভূতিভূষণ ভট্টের সঙ্গে লিখেছেন “অষ্টক”।
.
কবি নিরুপমা দেবীর উপন্যাসের চলচিত্রায়ণ -                                     পাতার উপরে . . .  
তাঁর লেখা একাধিক উপন্যাসের চলচিত্রায়ণ করা হয়। ১৯৫৩ সালে নিরুপমা দেবীর ‘শ্যামলী’ উপন্যাস নিয়ে
উত্তমকুমার ও সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ে তৈরি হয় ‘শ্যামলী’ নাটক। ১৯৫৬ সালে অজয় করের  
পরিচালনায় এই নাটককের চলচিত্র রূপ প্রকাশিত হয়। এর পরে নিরুপমা দেবীর লেখা উপন্যাস থেকে তৈরি
হয় “অন্নপূর্ণার মন্দির”, “দেবত্র”, “বিধিলিপি” মতো চলচ্চিত্র। কবির দুর্ভাগ্য এই যে তিনি তাঁর রচনার
চলচিত্রায়ণ দেখে যেতে  পারেন নি।
.
কবি নিরুপমা দেবীর কবিতা ও দ্বিতীয় কবি নিরুপমা দেবী -                   পাতার উপরে . . .  
এই নিরুপমা দেবীর সাহিত্যচর্চা শুরু হয়েছিল কবিতা রচনা দিয়ে।
শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্সাহে তিনি
“উচ্ছৃঙ্খল” শিরোনামের গল্প রচনার মধ্য দিয়ে গদ্য সাহিত্যে প্রবেশ করেন। যেহেতু এই গল্পটি রচনার সময়ে
তিনি কবিতা লিখতেন, তাই এই গ্রন্থে একাধিক কবিতা রয়েছে, যা আমরা এখানে তুলে দিয়েছি নিশ্চিতভাবে
তাঁরই লেখা কবিতা হিসেবে। তাঁর লেখা অন্যান্য উপন্যাসেও কিছু কবিতা রয়েছে। সেখান থেকেই আমরা
এই নিরুপমা দেবীর কবিতা এখানে তুলে দিয়েছি। তাঁর উপন্যাস ও গল্পের বাইরে, “ছায়া” পত্রিকা ছাড়া আর
কোন্ কোন্ পত্র-পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়েছে তা জানা যায় না। “ছায়া” পত্রিকাটির কোনও সংখ্যাই
আমরা যোগাড় করে উঠতে পারি নি। সেই পত্রিকাতে শরত্চন্দ্র
St. C. Lara ছদ্মনামে লিখতেন @St=শরৎ,
C=চট্টোপাধ্যায় ও Lara=ন্যাড়া, তাঁর ডাক নাম!

শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ৩৫তম জন্মদিনে কলকাতার ইুনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে গাইবার জন্য লেখেন
“তুমি যে মধুকর কমল বনে, আহরি আন মধু আপন মনে” গানটি। দুর্ভাগ্যবশত, এই গানটি আমরা যোগাড়
করে উঠতে পারিনি। তাঁর “যুগান্তরের কথা” উপন্যাসের “এলোরে দুরন্ত বান ডুবালো মাঠের ধান” কবিতাটি
সম্ভবত তাঁর নিজেরই লেখা, যদিও গানটি গ্রন্থে কোনও প্রচলিত গানের মতো লাগে।

অন্যদিকে রবীন্দ্রানুসারী কবি, “পরিচারিকা” পত্রিকার সম্পাদক
নিরুপমা দেবীও বহু পত্র-পত্রিকাতে কবিতা
রচনা করে গিয়েছেন। তাই বহু পত্র-পত্রিকায় নিরুপমা দেবী নামের কবির কবিতা থাকলেও তা যে এই
নিরুপমা দেবীর-ই লেখা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে দুজনের কবিতার ভাষা দেখে বিবেচনা করা
কঠিন হলেো অসম্ভব নয়। প্রাপ্ত, নিরুপমা দেবীর কবিতাগুলি কোন্ জনের তা বুঝতে গিয়ে আমাদেরও
বেশ বেগ পেতে হয়েছে অনেক সময়ে। তবুও নানা তথ্যনির্ভর যুক্তির মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করেছি যাঁর
যাঁর কবিতা তাঁর তাঁর পাতায় তুলতে। যদি তবুও কোনও ভুল-ত্রুটি চোখে পড়ে, তাহলে প্রমাণসহ জানালে
আমরা সংশোধন করে নেবো, প্রেরকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে।

@ - উত্স - ১৯৫৯ সালে সৌরেন্দ্রনাথ মিত্র দ্বারা প্রকাশিত, শরত-তর্পণ গ্রন্থের ২৫৩-পৃষ্ঠা।
.
এই নিরূপমা দেবীর প্রাপ্ত সম্মাননা -                                                  পাতার উপরে . . .  
১৯৩৬ সালে বর্ধমান সাহিত্য পরিষদ নিরুপমা দেবীকে সংবর্ধনা দেয়। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
তাঁকে ‘ভুবনমোহিনী’ স্বর্ণপদক ও ১৯৪৩ সালে ‘জগত্তারিণী’ স্বর্ণপদকে ভূষিত করে।
.
কুন্তলীন পুরস্কার নিয়ে দুটি কথা -                                                      পাতার উপরে . . .  
১৯৬১ সালে প্রকাশিত, গোপালচন্দ্র রায় তাঁর “শরত্চন্দ্র” ১ম খণ্ডের ৬০-পৃষ্ঠায় “কুন্তলীন পুরস্কার” নিয়ে  
লিখেছেন . . .
“কলকাতায় তখন এইচ্, বসু নামে একজন পারফিউমার বা গন্ধ তৈলাদির ব্যাবসায়ী ছিলেন! তাঁর দোকান  
ছিল বহুবাজারে, বর্তমান বিপিনবিহারী গাঙ্গুলী স্ট্রীট ও চিত্তরঞ্জন এভিনিউ-এর সংযোগস্থলের নিকটে।

এই এইচ্, বসু কুন্তলীন তৈল নামে একটি কেশ তৈরি করে বিক্রি করতেন। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি
বত্সর ছোট গল্পের এক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কুন্তলীন পুরস্কার নামে এক পুরস্কার দেওয়া ব্যবস্থা  
করেছিলেন। ঐ গল্প-প্রতিযোগিতার মূল বিষয়টি ছিল এই যে, গল্পের ভিতর দিয়ে কৌশলে কুন্তলীন তেলের
প্রচার করতে হবে, অথচ প্রত্যক্ষভাবে সেটা যে না কুন্তলীন তেলের বিজ্ঞাপন হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রতিযোগিতায় যে সব গল্প আসত, সেগুলির মধ্যে যেটি শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হত, সেই গল্পের লেখককে
কুন্তলীন পুরস্কার হিসেবে পঁচিশ টাকা পুরস্কার দেওয়া হ’ত। সাধারণতঃ কোন একজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের  
উপরই ঐ গল্পগুলি পড়ে বিচার করার ভার থাকত। কুন্তলীন পুরস্কার প্রতিযোগীতায় যে সব গল্প আসত,  
সেগুলিকে নিয়ে এইচ্ বসু প্রতি বত্সর একটি করে কুন্তলীন পুস্তকও বার করতেন।”

আমরা এর সাথে যোগ করতে চাই যে, “কুন্তলীন পুরস্কার”-টি কবিতার জন্যও দেওয়া হতো। মিলনসাগরে
তেমন কবির কবিতাও রয়েছে যাঁরা কবিতার জন্য কুন্তলীন পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাঁরা অনেকেই   
পরবর্তীতে খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক হয়েছিলেন। এইচ বসুর পুরো নাম ছিল হেমেন্দ্রমোহন বসু। তিনি
ছিলেন আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসুর বন্ধু ও সহপাঠী। তিনি বাঙালীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাবসায়ের অগ্র-
পথিক ছিলেন। বাংলায় সাইকেল, মোটরগাড়ী ও অন্যান্য ব্যাবসার তিনি পথিকৃত।

১৯৬২ সালে প্রকাশিত বাবিদবরণ ঘোষ সম্পাদিত “কুন্তলীন গল্প-শতক” গল্প-সংকলনের ভূমিকাটি কুন্তলীন
পুরস্কার ও তাঁর প্রবর্তক এইচ বোস বা হেমেন্দ্রমোহন বসু সম্বন্ধে প্রণিধানযোগ্য প্রবন্ধ। এ নিয়ে আমাদের,  
মিলনসাগরে, ভবিষ্যতে একটি বিস্তারিত আলেখ্য প্রকাশ করার ইচ্ছা রইল।
.