কবি সব্যসাচী দেবের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

ভুতুড়ে গাছের ডালে একলা ঝুলে থাকে
মরা চাঁদ, শেষ রাতে ফাল্গুনের মাঠে
জীবনানন্দের পঙত্তি হাওয়ায় হাওয়ায়
উড়ে যায় ; এই মাঠে এক দিন ছিল
ধানের সোনালি গন্ধ, এখন সেখানে
রক্তের কালো ধারা গড়িয়ে নেমেছে |

তুমি হাঁটো সঙ্গে নিয়ে নরক-প্রহরী
চারপাশে ঘিরে থাকা সস্তা ভাঁড়েরা
তোমাকে বাহবা দেয় | শুভ্র পোষাকের
পবিত্রতা খুঁজে নেয় নিপুণ বিক্ষণে
মেতে ওঠে --- জয় প্রভু, শরণাগতকে
মনে রেখো, তুমি শিল্প, তুমি সংস্কৃতি |

তুমি উগড়ে দিতে থাক, মধুর হাসিতে
নরকের স্বস্তিবাণী, হঠাৎ কাঁপুনি
দস্তানা সরে যায়, তোমার দু'হাত
রক্তমাথা, শবগন্ধে স্তম্ভিত বাতাস |

আবার আকাশে ওঠে, ফাল্গুনের রাতে
পুরনো কাস্তের মত পুরনো সে-চাঁদ |


.        **************          
.                                                              
সূচিতে . . .    
.                               
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                        সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       

এই কবিতাটি মে ২০০৭ এ শ্রেয়া পাবলিকেশনস্ এর "নন্দীগ্রাম থেকে কলিঙ্গনগর" পুস্তিকায়
প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগর
*
বাঁচা মরা

তোমার হাতে শান্ত্রিসেপাই লাঠি বন্দুক যত
আমার শুধু রোগা দুহাত, খালি
এতটা দিন সেহাত জোড় করে কেবল নত
মুখে ঠুকেছি সেলাম আর তুমি
রাগ করেছ, সেলামটাও শিখিনি ঠিকমতো

এবারে তাই শেখাবে বলে আমারে সহবৎ
কখনো লাঠি, কোথাও গুলি ছুঁড়ে
আমাকে তুমি বোঝাতে চাও তুমিই ঈশ্বর
কাড়বে জমি, তবুও নাকে খৎ
দিইনি তাই বাঁচাটাকেই বাতিল করে দেবে !

গুলির পর গুলি ছুটছে, মেয়েটি পথে পড়ে
গুলির পর গুলি ছুটছে, ছেলেটি ধানখেতে
বাচ্চাটিরে হিঁচড়ে ধরে ছিঁড়েছ তার দেহ
নদীর জলে শরীর ভাসে, তাদের নাম নেই

তবুও বাঁচি ধানখেতের পাশে
তবুও বাঁচি পথের ধুলো মেখে
তবুও বাঁচি কবর আর চিতাভস্ম ছুঁয়ে
তবুও বাঁচি সিঙ্গুরে নন্দীগ্রামে

আমার বাঁচা আমার মরা নিজেরই ইচ্ছেয়
এবার দেখ ফিরিয়ে দিই তোমার মার যত

কীসের ছায়া তোমার মুখে ! তুমিও ভয় পাও !


.        **************          
.                                                                      
সূচিতে   
.                                     
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                              সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত       

এই কবিতাটি "পুর্বান্তর" পত্রিকায় মে-আগস্ট ২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগর
*


এ রকমই চেয়েছেন তিনি
মৃদুরবে বেজেছে শিঞ্জিণী

উদ্ভাসিত তার হাসিমুখ
তারই পাঠানো বন্দুক

বেপরোয়া খুব মজা হবে
ক্যাডারেরা মাতে উত্সবে

নামহীন ওরা শুধু "ওরা"
বলেছেন বাকিরা ক্যাওড়া

জেনেছে পুলিশ, ক্যাডারেরা
চারপাশে বুলেটের বেড়া

নরক নামুক আজ তবে
এরপর শুধু শিল্প হবে

চৈত্রের শুকনো বাতাসে
নুয়ে পড়ে রক্তমাখা ঘাসে

মেতে ওঠে শবসাধনায়
নরকের দরজা খুলে যায় |


.        **************          
.                                           
সূচিতে   
.          
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
. সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত    

এই কবিতাটি "লুব্ ধক" ২০০৭ এর পঁচিশে বৈশাখ
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগর
*
শবসাধনা  

নরক নেমেছে গ্রামে গ্রামে
টিভির চ্যানেলে তার ছবি

জীবনানন্দের কবিতায়
মেয়েটির জননেন্দ্র ফোঁড়ে

আজ তিনি প্রধান অতিথি
শিশুটির দু'পা ধরে ছিঁড়ে

সঙিনে বিঁধেছে কার দেহ
আমরাই শেষ সত্য, তিনি

ধর্ষণ বিষুদ্ধ শিল্প, তাও
আগুনে পবিত্র হয় সব

এখনো মানো যদি কথা
এর পর খাঁখাঁ জনপদ

এখন নদীও স্রোতহীন
পাড়াগাঁর বধূটির মুখ

সেই রক্তে হাত পোড়ে, তবু
নন্দনবিলাসী মহারাজ,