| কবি সুরমাসুন্দরী দেবীর কবিতা যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে। www.milansagar.com |
| প্রকৃতির প্রতি কবি সুরমাসুন্দরী ঘোষ ঘোড়ামারা, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রচন্দ্র সাহা এবং ব্রজসুন্দর সান্ন্যাল সম্পাদিত “উত্সাহ” পত্রিকার (সম্ভবত) কার্তিক ১৩০৭ (অক্টোবর ১৯০০) সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৭.২০২০। যখন যে ভাবে দেখি, মুগ্ধ তোর রূপে লো সুরসুন্দরি, অতুল লাবণ্যলীলা একি মরি মরি ! প্রভাতে সজল আঁখি অবাক্ চাহিয়ে থাকি, তোমার তরুণী মূর্ত্তি হেরি নির্নিমেষে। শিশির সলিলে নাও, সিথিঁতে সিন্দূর দাও, সরমে ফুটিয়া উঠ নববধূ-বেশে। দেখিতে দেখিতে-ফুল্ল যৌবন বিকাশি অঙ্গে অঙ্গে তোর, পরাণ কাড়িয়া নিস্ রে পরাণ-চোর ! রূপরাশি টল্ মল্ নাই সীমা নাই তল দেখি দেখি ঢুলে আলে শ্রান্ত দু'নয়ন ; দহিয়া আপন তাপে আচম্বিতে কি সন্তাপে সর্ব্বাঙ্গে ঢাকিয়া দাও তিমির বসন। সেকি সাধ জেগে ছিল লো প্রকৃতি'তোর জীবন প্রভাতে, তরুণ স্বপন রাগে আভাতে শোভাতে। আহা, কোন্ ভাগ্যধরে খুঁজি’ লোক-লোকান্তরে ফিরে এলে মালা হাতে পাওনি সন্ধান, পরাণে আগুণ ল’য়ে তবু খোঁজ মত্ত হয়ে বাতাসে নিশ্বাস-বিষ করে যাও দান। মর্ম্মাহত জীবনের সকরুণ ধ্বনি বাজে চরাচরে, জলে স্থলে মেঘে মেঘে আধ চাপা স্বরে। চন্দ্র তারকায় মিশে প্রকাশিছে দিশে দিশে সে নীরব হাহাকার শুনিবারে পাই ! শেষে যবে ম্লান মুখে লুকাস্ আঁধার বুকে আমিও আঁধার লয়ে ঘরে ফিরে যাই। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বাল্য-স্মৃতি কবি সুরমাসুন্দরী ঘোষ ঘোড়ামারা, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রচন্দ্র সাহা এবং ব্রজসুন্দর সান্ন্যাল সম্পাদিত “উত্সাহ” পত্রিকার (সম্ভবত) কার্তিক ১৩০৭ (অক্টোবর ১৯০০) সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৭.২০২০। পেরেছ মুছিতে, সখি, বাল্য-ইতিহাস নিয়তির চঞ্চল আঁচলে? আমি দেখি সব আছে তুমি শুধু নাই কাছে ; দূরে, বহু দূরে গেছ চলে ; খুঁজে মরি মিছে হৃদি-তলে ! পড়ে আছে সোহাগের সোণার পিঞ্জর, ছিন্ন ভিন্ন মায়ার শিকল ; ছাড়ায়ে বাঁধন-ডোর, নিদয় পরাণ-চোর, উড়ে গেছে মোহি’ নভস্তল সেই এক পক্ষিণী পাগল ! হাসে না শারদ-শশী উদার গগনে, ম্লান আজি কোটি কোটি তারা ; বাতাস হতাস ভরে, কি ব্যথা প্রচার করে? দোয়েলা কোয়েলা কেঁদে সারা ; তার মাঝে আমি আত্মহারা ! কাণে আসে অতীতের উষ্ণ দীর্ঘ শ্বাস গদগদ আঁখি জল-সনে ; হায় রে! এমনি রাতে এক সাথে হাতে হাতে বেড়াতাম দুটিতে কাননে, সুকুমার কুমারী-জীবনে ! প্রভাতে প্রতাহ দোঁহে যেতাম বাগানে, ফিরিতাম ভরি’ দুটি ডালা ; আধ-ফুট’ চাঁপা তুলে পরিতাম এলো চুলে ; মনে পড়ে মনে পড়ে, বালা, দু'টি সদ্য সেফালির মালা? কবে কোন্ বন্যা আসি লইল ডাকিয়া, চলিলাম ভেসে নিরুদ্দেশে ; কল কল টল মল ছুটিল তরঙ্গ-দল ; যাত্রাপথ ফুরাল নিমেষে ; উতরিনু অতি দূর দেশে। তুমি ত পেয়েছ শান্তি সাঁতারি’ পাথার, আছ সুখস্বপনে মগন ! বসন্তের ছায়াতলে যৌবনের মায়া-বলে গড়িয়াছ নূতন জীবন ; ত্যজিয়াছ জীর্ণ পুরাতন। ভোলা ভালো। ভয় নাই ! তুলিব না কথা ; খেদ-গীত আর শুনাব না ! এই মুছিলাম আঁখি অতীত রাখিব ঢাকি, কোথা যদি থাকে এক কণা মুগুধারে করিও মার্জ্জনা। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |