শিরোনাম খবর কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
বিদ্যাসাগর মোড়ের মাথায় স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে ভেঙেছে বিশ্বাস, নারী মুক্তি কতগুলো শব্দবন্ধ। খবরের কাগজ খুলতে ভয় হয় রোজই ধর্ষিত নারীর পরিসংখ্যান গনতন্ত্রের নানান ব্যাকরণ বিচার হতে হতে ৭০ বছর পার হয়ে যায় আজ ও তিরিশ শতাংশ শিক্ষিত হয় নি। তাঁর এই নীরব প্রতিবাদ সইল না কারও কারও ভূলুণ্ঠিত হল তাঁর মূর্তি। তিনি লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতেই চাইছিলেন। বিদ্যাসাগর বি-হেডেড এইটা এই শতাব্দীর শিরোনাম খবর হয়ে রইল। আর সব ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
গণতন্ত্র কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
রাম এখন সাপের মুখে, একেবারে নীচে নেমে গেছে রহিম রামের লুডো খেলার পার্টনার ভূল চাল বোঝে নি রাম যেমন বোঝে নি গণতন্ত্রে ভোটটা টা কোন বাক্সে।
নির্ভূল ভোট নইলেই কুপোকাত, তুমিই তার শিকার বুঝতে বড় দেরী হয়ে গেছে ভাই। এরপর পাঁচটা বছর মনোস্তাপ। এ তো পশু রাজ্য নয় যে শিকার জানে সে কার খাদ্য।
এর নাম গণতন্ত্র, লুডোর চাল বুঝতে বুঝতেই একেবারে সাপের মুখে তারপর রাজনীতির প্যাঁচ অঙ্কের হিসেবে একেবারে গরমিল পুকুরের কোন গভীরে ঘাই মারবে মাছ না বুঝলে সবটাই ফাক্কা।
মুক্তি কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো। কবিকণ্ঠে এই কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন এখানে . . . তাঁর আরও কবিতা পাঠ শুনতে এখানেনান্দনিক YouTube Channel এ ক্লিক করুন . . .।
গরাদ দেওয়া জানালায় সুপ্তি দাঁড়িয়ে ছাদের চিলে কোঠায় মুক্তি এসো না ছাদে, ওখানে দাঁড়িয়ে কেন? শ্বাশুড়ি মা বকবেন। শ্বশুর বাড়িতে ইচ্ছা মত চলা যায় না মুক্তি প্রতিবাদ করে শ্বশুরবাড়ি বলছ কেন? বলো নিজের বাড়ি। মুক্তি লেখার খাতা নিয়ে বসে। শ্বশুরবাড়ি নিজের বাড়ি নয় কেন? মুক্তি জানতে চায় মাথায় ঘোমটা কেন তোমার? সুপ্তি দাঁড়িয়ে গরাদ দেওয়া জানলায় এটাই শ্বশুরবাড়ির রেওয়াজ। মুক্তি জানায় রেওয়াজ বলে কিছু নেই। তুমি যা করবে সেটাই রেওয়াজ। মুক্তি লিখতে বসে মেয়েরা পিন্জরবদ্ধ পাখি নয়। পাখিরা নিজের নীড় নিজেরাই গড়ে। সেখানেই তার বুলি ফোটে। তুমি কি লেখো খাতায়? সুপ্তি জানতে চায়। মুক্তি জানায় মনের কথা। তুমি মনের কথা কাকে জানাও সুপ্তি অবাক, মনের আবার কথা কি? মুক্তি লেখে মাটির কলস পুড়ে ঘনবদ্ধ হলে জল ভরতে হয়। কাঁচা মাটিতে জল ভরা যায় না। সুপ্তি জানে না নিজের কথা বলতে। তাই গরাদ দেওয়া জানলাই তার নির্ধারিত ভাগ্য।
নাগরিকত্ব কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
ভূমিষ্ঠ শিশু জন্মভূমির অধিকারকে সুদৃঢ় করে সুতীব্র গলায় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত তুলে।
এইভাবেই তার হাতে শোভিত হয় জাতীয় পতাকা। সেদেশের নাগরিকত্ব। সন্দিগ্ধ মানুষের তর্জনীর আস্ফালনকে মিথ্যে মনে করে আর জন্ম লগ্নেই পাঠায় তার ছাড়পত্র।
জন্মভূমির নাগরিকত্ব জন্ম লগ্নেই প্রোথিত হয় শিশু যখন মায়ের কোলে। চোখ মেলে দেখে জন্মভূমির আকাশ উপভোগ করে পৃথিবীর বাতাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে সুদৃঢ় হয় বেঁচে থাকার অধিকার। এ দেশের মাটিতে সে অভিষিক্ত নিয়তি নিয়ন্ত্রিত নাগরিক মাটির বুকে অঙ্কুরিত গাছের মত।
অনুপ্রেরণা--- কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
স্বপ্নের মধ্যে খুঁজে পেলাম এক স্মৃতির পালক দিনটা ছিল একুশে এপ্রিল দুই হাজার চার ক্যানভাসে আঁচড় কাটলাম রঙ ও তুলিতে ফুটে উঠল সূ্র্যমূখী অর্থাৎ সানফ্লাওয়ার ইচ্ছে হল ভ্যান গগ্ হবার।
এইভাবে গড়ে উঠল স্বপ্ন সৌধ একে একে তৈরি হল প্রকৃতি থেকে প্রতিকৃতি ক্যানভাস হল বর্ণময় রঙিন স্বপ্ন যখন আর স্বপ্ন নয় মনের মধ্যে তারা রঙিন বাতায়ন তখনই খুঁজে পেলাম ভ্যান গগ্ রসায়ন।
এইভাবেই চলতে চলতে আনন্দকে সাথী করে এগিয়ে যাওয়া ছবির সাথে মিত্রতা উদিত সূর্য রঙ ছড়ায় মনের গহনে চেতনা প্রত্যুষে করমর্দন হয় ভ্যান গগের সঙ্গে।
বিস্মৃতি কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
বার বার জানতে চাও তোমাকে ভূলেছি কিনা আমার বিড়ম্বিত জীবনে মুছে যাওয়া চাঁদের মত।
তোমাকে ভূলি কি করে আমি পথভ্রষ্ট বিহঙ্গ এক দিশাহীন পথে থাকি দিকভ্রান্ত হয়ে তোমাকে পেতে চাই কবিতা লেখার মত নিজেকে নিঃশেষ করে। তুমি থাক আমার অন্তস্থলে পূর্ণিমা চাঁদের মত উজ্জ্বল জোতিস্ক হয়ে।
অযাচিত স্বপ্ন কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
লোকটা চেয়েছিল স্বাধীনতা সত্তর বছর আগে পতাকার নীচে মাত্র কয়েকটি শর্তে খাদ্য, আশ্রয় আর শিক্ষা এক আকাশ রোদের নীচে মুক্ত বাতায়নে, বেঁচে থাকতে হবে বৈষম্য হীন বিশ্বে।
একটাই বিশ্বাস আজ সে মুক্ত বিহঙ্গ এক বুক আলো ভরা আকাশে উড়তে হবে তাকে স্বাধীন দেশের আলোতে।
সত্তর বছর পরে আজ ও দাঁড়ায় পতাকার নীচে স্বাধীন দেশে আজ ও শিশু কাঁদে খেতে না পেয়ে চোখে ঘুম নেই নিরাশ্রয় এক জীবন থেমে গেছে বিশ্বাস রয়ে গেছে আশ্বাস। পতাকার নীচে দাঁড়াতে হবে স্বাধীন দেশের নাগরিক সে।
আজ আর মুক্ত বিহঙ্গ নয় নীড় ভাঙা পাখি উড়তে শেখে নি আজও আশ্রয় হীন, শিক্ষা হীন বুভুক্ষ এক নাগরিক
আজ ও দাঁড়ায় সে পতাকার নীচে স্বাধীনতাই চেয়েছিল সে রোদে ভরা এক বিশ্বে।
অপেক্ষা কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
তুমি আসতে বাকী আরো আরো একদিন ভ্রনের রূপান্তরে শিশুর জন্ম তবু সদ্যোজাত হতে আরো অনেকদিন রাতের অন্ধকার চিড়ে আলোর রেখা ঘড়ি নিঃশব্দে প্রহর গোনে তবু অধৈর্য অপেক্ষা তুমি আসতে বাকী আরো আরো একদিন।
তুমি আসতে বাকী আরো আরো একদিন কুঁড়ি থেকে ফুল ফোঁটা পুষ্প চয়ন হয় এক এক করে এ ও তো এক প্রতীক্ষা ঢেউ আছড়ে পড়ে ডাঙায় জোয়ার আসলে পরে আসে জলচ্ছাস শুধু প্রতীক্ষা আমি থাকবো বসে আরো আরো একদিন তোমার অপেক্ষায়।
ভালোবাসি কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
ভালোবাসি মাত্র একটা শব্দ সমুদ্রের তল মাপা যায় না আকাশের পরিধি কতটা জানি না শুধু জানি আমি এখন ইথারাইজ্ পেসেন্ট আমার সব অনুভূতি চাওয়া পাওয়া তুচ্ছ শুধু একটা কথাই যথেষ্ট ভালোবাসি। এ আমার নিঃশব্দ নিবেদন গ্রহন করো নাকি অবহেলা সবই তুচ্ছ তবু আমি ভালোবাসি তোমাকেই।