উদ্বাস্তু শিবির কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
যুদ্ধের সাইরেন বেজে উঠল টিভি র পর্দায় পঁচাশি বছরের বৃদ্ধা নাকের ডগায় আনত চশমা সরালেন দুই হাতে সামনে তরকারি কাটার বটি এ তো যুদ্ধের কাড়া নাকাড়া শুনি একই জীবনে আর কত যুদ্ধ দেখব। এবার ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ। পৃথিবীটাকে খান্ডবদাহন হতে দেখেছেন বারবার তাই বুকের পাঁজর ভাঙা আর্তনাদ গোটা মানবজাতি তো ছিন্নমূল মানুষের উদ্বাস্তু শিবির হয়ে গেল। এ তো ক্ষমতা মাতাল মানুষের উন্মত্ত পদধ্বনি রক্তহিম করা মহাভারত কতবার রচিত হবে। পঁচাশি বছরের ছানি পড়া চোখে মেপে চলেছেন বৃদ্ধা মানবতা আজ অস্তগামী জীবন মানে শজারুর কাঁটা হয়ে বেঁচে থাকা।
প্রতিদ্বন্দ্বী কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
রৌদ্রের তাপদাহে বাতাস অগ্নি রূপ বর্ষার বারিধারা একনাগাড়ে একঘেয়ে শীতের কাঁপনে নিস্তরঙ্গ পৃথিবী তবু বসন্ত আসে শেখায় পৃথিবীর মায়া।
প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় ঋতু সঙ্গে নিয়ে আসে প্রকৃতির ব্যাভিচারিতা তবু বসন্ত যায় না মন থেকে পূর্ন চাঁদের মত তার নিত্য আসা যাওয়া
প্রকৃতি কখনো দিকভ্রান্ত কখনো করোনা কখনো প্লেগ মহামারী কন্টকিত স্বপ্নের দিনগুলি প্রকৃতি পাঠালো মৃত্যুর পরোয়ানা তবু মনে মনে উদাত্ত আকাশে মনের কোনে উদ্দাম সমুদ্র ডাক দেয় মানুষ আলিঙ্গন করে স্বপ্ন জড়িত জীবনের মুক্তি।
ফটো কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
জীবনটা যখন চলছে একই ছন্দে সময় চলছে এগিয়ে ঘড়িতে মিনিটের কাঁটায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে তখন পেলাম তোমার ফটো ডেকে উঠলে চিৎকার করে শুনতে পেলাম তুমি ডাকছ, সময় ফিরে এলো স্মৃতির হাত ধরে সময়কে মুঠো করে সরিয়ে দিয়ে ক্যামেরার সামনে এসে বসলে আটপৌরে শাড়ি পড়ে তিন্নি, বাবান তোমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে। রকি লাফিয়ে কোলে তুমি হাসছে স্বকীয় ভঙ্গিতে ফটোয় তোলা তুমি, আমাদের মা অতীতের সরণী বেয়ে সামনে এসে দাঁড়ালে তোমাকে না পাওয়ার বেদনা মুছে গেল নিমেষে আমরা আবার একসঙ্গে বন্দী হলাম বতর্মানের অ্যালবামে।
জীবন দর্শন মহুয়া ভট্টাচার্য মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৬.২০২২। কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
লোকটা ভেবেছিল অর্থ উপার্জন করলেই সে পৌঁছে যাবে আকাশচুম্বী অট্টালিকায়। তারপর বিশ্বভ্রমণ হবে সে বিশ্ব নাগরিক। অর্থ ই তো জীবনের উত্তাপ। তাকে মুঠোয় আনাটাই তো স্বপ্ন। করতে পেরেছিল সে। অরন্য সরে গেছে কোনঠাসা হয়ে। এখন অট্টালিকা সর্বগ্রাসী ধনী দরিদ্র সীমারেখা স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর। কিন্তু প্রকৃতি মুক্তি দিল না তাকে। সে আজ করোনাক্রান্ত ধ্বংসকারী মানুষের চেয়ে ও বিধ্বংসী। অর্থের উত্তাপ এখন অর্থহীন পরষ্পর পরষ্পরের কাছ থেকে উত্তাপ বাঁচিয়ে চলাই জীবনের শর্ত। জীবন দর্শন বদলে দিল নতুন ভাইরাস। . **************** . সূচীতে . . .
ভালবাসা মহুয়া ভট্টাচার্য মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৬.২০২২। কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
জীবনকে জেনেছি ধ্রুবক বার বার ফিরি তার কাছে। গোলাপকে জেনেছি সুন্দর সৌন্দর্যের কাছে আসি দয়িতের মত। ঝরনার কাছে উপনীত হই মরমিয়া কবির মত। চাঁদের কাছে ফিরি জোৎস্নার স্নিগ্ধতায় স্নাত হতে সমুদ্রের কাছে যাই তারুণ্যকে আলিঙ্গন করতে পদ্মবনে ঘুরি ভ্রমরের মত চুম্বক হতে। কবিতার পান্ডুলিপি জুড়ে শুধু তোমাকে দেখি সন্ধাতারার মত জ্বলজ্বল করো। এইভাবেই সঞ্চারিত হয় অনুভূতি। শিশির বিন্দুর মত তির তির করে। কবিতার পাতায়। . **************** . সূচীতে . . .
আগন্তুক কবি মহুয়া ভট্টাচার্য কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো। আমাকে ভেবেছিলে নিষ্প্রভ, নিষ্পন্দ ভেতরে আমার জ্বলছে অগ্নির স্ফুলিঙ্গ, তুবড়ির আগুন জ্বললে তুমি স্তব্ধ হয়ে দেখো।
আমার ঠোঁট দুটো এখন কুরুশ কাঁটায় বন্দী রাষ্টের দন্ড তোমার হাতে খুলবে যখন সময় মাত্র দু মিনিট তুমি বধির হয়ে থেকো।
কালবৈশাখী আসলে পরে কাঁচের শার্সিতে আঘাত হানবে আমি ঝড়ের ঝাপটায় বুঝিয়ে দেবো আমার রোষ তুমি দেখোনি এমন করে।
আমি নকশিকাঁথা হয়ে বাঁচতে চাই সূঁচ হয়ে এফোড় ওফোঁড় বিদ্ধ করে ফুল ফোঁটাবো কাঁথা জুড়ে তুমি চিনবে আমায় নতুন করে। . **************** . সূচীতে . . .