কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ - জন্মগ্রণ করেন পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশ) বরিশাল জেলার
আমানত গঞ্জ রেডক্রস হাসপাতালে। পিতা ডাঃ শেখ ওয়ালিউল্লাহ ও মাতা শিরিয়া বেগম। তাঁদের বাড়ি
বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাহেবের মাঠ গ্রামে।

১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি, নারীবাদী লেখিকা এবং
কবি তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ
হন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এর পরেই তিনি খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করা
শুরু করেন এবং নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেয়া বন্ধ করে দেন। ফলে তার পাকস্থলিতে ক্ষত তৈরি হয়।
১৯৯১ সালের ২১ জুন নিজের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার
মিঠাখালিতে তাঁর মামার বাড়িতে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।

কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকা ওয়েস্ট এণ্ড হাইস্কুল থেকে। সেখান থেকেই তিনি ১৯৭৪ সালে এস.এস.সি.
পরীক্ষা পাশ করেন, চারটি বিষয়ে লেটার মার্ক্স নিয়ে প্রথম বিভাগে। এর পরে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে
১৯৭৬ সালে এইচ.এস.সি. পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৮০
সালে সম্মানসহ বি.এ. এবং ১৯৮৩ সালে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন।

কবি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং
জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা এবং যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৭৫ সালের পরের সবকটি সরকারবিরোধী ও
স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ,
গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা তার কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত। এছাড়া স্বৈরতন্ত্র ও
ধর্মীয় গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে তাঁর ছিল সোচ্চার লেখনী। তাঁর স্বকণ্ঠে কবিতাপাঠও ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছিলো।
গীতিকার-সুরকার হিসেবেও তিনি সুনাম অর্জন করেছিলেন। তাঁর রচিত ও সুরারোপিত “ভিতরে বাহিরে
অন্তরে অন্তরে” গানটি প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা লাভ করে। গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে আজকের
ইন্টারনেট-যুগে তাকে নির্ঘাৎ “ভাইরাল” বলা হতো।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “উপদ্রুত উপকূল” (১৯৭৯), “ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম” (১৯৮১), “মানুষের
মানচিত্র” (১৯৮৪), “ছোবল” (১৯৮৬), “গল্প” (১৯৮৭), “দিয়েছিলে সকল আকাশ” (১৯৮৮), “মৌলিক মুখোশ”  
(১৯৯০) প্রভৃতি। এ ছাড়া তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ১৯৯২ সালে প্রকাশ হয় কাব্যগ্রন্থ “এক গ্লাস  
অন্ধকার”, নাট্যকাব্য “বিষ বিরিক্ষের বীজ”, “রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র” প্রভৃতি।

কবির মাত্র ১৬ বছর বয়সে, চৈত্র ১৩৭৮ (মার্চ ১৯৭২) থেকে জ্যৈষ্ঠ ১৩৭৯ (মে ১৯৭২) এর মধ্যে লালবাগে
থাকাকালীন রচিত কবিতায় আমরা স্পষ্ট রবীন্দ্রনাথের ছায়া দেখতে পাই, সুরে, ছন্দে, ভাবে, ভাষায়,   
শব্দচয়নে। সেই কবিতাগুলির মধ্যে উ
ল্লেখযোগ্য হলো “এই বাসর এ লগন” (৮ই চৈত্র ১৩৭৮, লালবাগ),
“আলোছায়া” (২রা বৈশাখ ১৩৭৯ লালবাগ), “নির্লিপ্তা” (২রা বৈশাখ ১৩৭৯ লালবাগ), “মালা বদল” (১২ বৈশাখ
১৩৭৯, লালবাগ), “মন-মানসী” (১২ বৈশাখ ১৩৭৯, লালবাগ), “মায়াডোর” (১৩ বৈশাখ ১৩৭৯, লালবাগ),  
“প্রেয়সী” (৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৭৯, লালবাগ),  “আত্ম তৃপ্তি” প্রভৃতি। তার কিছুদিনের মধ্যেই আমরা কবিকে তাঁর  
নিজস্ব বলিষ্ঠ প্রকাশভঙ্গিমায় দেখতে পাই। ১৯৭৭ সালে রচনা করেন “বাতাসে লাশের গন্ধ”।

তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় ও বিখ্যাত কবিতা, ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত “উপদ্রুত উপকূল” কাব্যগ্রন্থের কবিতা  
“বাতাসে লাশের গন্ধ”। স্বাধীনতার পর দেশের অরাজকতা দেখে কবি প্রতিবাদ করেন এই কবিতায়। ১৯৭৮
সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অরণি গোষ্ঠী আয়োজিত টাঙ্গাইলের দুদিনব‍্যাপী সাহিত‍্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে  
“বাতাসে লাশের গন্ধ” কবিতাটি তিনি পাঠ করে ছিলেন
কবি শামসুর রহমান, কবি রফিক আজাদ, কবি
নির্মলেন্দু গুণ, কবি মহাদেব সাহা সহ শতাধিক কবির উপস্থিতিতে।

এখানে উল্লেখযোগ্য হলো কবির বানান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা। তাঁর মতে যেহেতু বাংলা ভাষায় মুর্ধন্য “ণ”
ধ্বনি ব্যবহৃত হয় না, তাই তিনি তাঁর কবিতায় “ণ” এর যায়গায় “ন” ব্যবহার করেছেন। কিন্তু “তৃষ্ণা” বা
“কণ্ঠ” এর মতো শব্দগুলিতে “ণ” এর ব্যবহারে কোনো বদল করেন নি। অর্থাৎ এই শব্দগুলির ক্ষেত্রে  
বাংলাভাষায় প্রচলিত বানানই রেখেছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে অসীম সাহা তাঁর সম্পাদিত “রুদ্র মুহম্মদ  
শহিদুল্লাহর রচনা সমগ্র” গ্রন্থের ভূমিকায় একথা উল্লেখ করে লিখেছেন . . .
“. . . সে তার মূল পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে বানান লিখেছে, আমরা ঠিক সে-ভাবেই বানান রক্ষার চেষ্টা করেছি।”

আমরাও মিলনসাগরে কবির বানান পদ্ধতি মেনে কবিতা তুলেছি। প্রসঙ্গত, আমরা মিলসাগরে যে কোনো  
কবির বানানকে তাঁর মতো রেখেই প্রকাশিত করি। কোনো সংশোধন করি না। কবি অনুরোধ করলে, তখন
সংশোধন করা হয়।

কবি ১৯৮০ সালে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হন।

মিলনসাগরে কবির প্রায় ৩৭০টির বেশী কবিতা তোলা হলো।

এই পাতা  
মিলনসাগরে  কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


উত্স -   





কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     



০টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১১.৯.২০২২
.                                                                                                                      
 ^^ উপরে ফেরত   





...